স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • অষ্টম পাঠ
রচনা
স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী
লেখিকা
কমলা দাশগুপ্ত
পাঠ
অষ্টম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
ধরন
প্রবন্ধ / জীবনী
রচনার সারাংশ ও মূলভাব
সারসংক্ষেপ: "স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী" প্রবন্ধে কমলা দাশগুপ্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের গৌরবময় ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষত ননীবালা দেবী ও দুর্গাবালা দেবীর আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা এখানে বর্ণিত হয়েছে।
ননীবালা দেবী (জন্ম ১৮৮৮, হাওড়া জেলার বালিতে) অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর দেশমাতৃকার টানে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। ভাতৃস্পুত্র অমরেন্দ্র চ্যাটার্জির কাছে বিপ্লবের দীক্ষা নিয়ে তিনি পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন, অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন, এমনকি জেলের মধ্যে স্ত্রী সেজে গোপন তথ্যও সংগ্রহ করতেন। পুলিশের অত্যাচার, জেল, নির্জন কারাবাস—কিছুই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। এমনকি জেল সুপার গোল্ডির মুখে চড় মেরে তিনি দেখিয়েছিলেন বাঙালি নারীর অদম্য সাহস।
মূলভাব: এই প্রবন্ধ আমাদের শেখায়—স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু পুরুষদের নয়, নারীরাও সমানে সমানে লড়াই করেছেন। তাঁদের ত্যাগ, বীরত্ব ও দেশপ্রেম আজও প্রেরণার উৎস। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই লেখিকার লক্ষ্য।
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো
৭ টি| প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
|---|---|
| ১.১ ননীবালা দেবী বিপ্লবের দীক্ষা পেয়েছিলেন | অমরেন্দ্র চ্যাটার্জি-র কাছে |
| ১.২ ননীবালা দেবী ________ অমর চ্যাটার্জি ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে আশ্রয় দেন। | রিষড়াতে |
| ১.৩ চন্দননগর থেকে পালিয়ে ননীবালা দেবী যান | পেশোয়ারে |
| ১.৪ কাশীর ডেপুটি পুলিশ সুপার ________ ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন। | জিতেন ব্যানার্জি |
| ১.৫ পুলিশ সুপার গোল্ডির কাছে ননীবালা দেবী ________-র কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। | সারদামণি দেবী (রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী)-র কাছে |
| ১.৬ দুর্গাবালা দেবী বিপ্লবের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন | ভাই (বিপ্লবী নিবারণ ঘটক)-এর কাছ থেকে |
| ১.৭ বিপ্লবী হরিদাস দত্ত ________-র ছদ্মবেশে পিস্তল চুরি করেন। | খালাসি-র |
২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
৮ টিরামচন্দ্র মজুমদার গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তাঁর 'মসার' পিস্তলটি কোথায় রেখেছিলেন তা পুলিশকে জানাননি। ননীবালা দেবী তখন বিধবা হয়েও রামবাবুর স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে রামবাবুর সঙ্গে দেখা করেন এবং গোপনে পিস্তলের খবর জেনে নেন। ১৯১৫ সালের সমাজে একজন বিধবা নারীর পক্ষে অন্য পুরুষের স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার মতো সাহসী কাজ কেউ কল্পনাও করতে পারত না।
হুলিয়া অর্থ—পুলিশের তালিকাভুক্ত ওয়ান্টেড আসামি, যাঁর মাথায় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
এঁরা কারা: যাদুগোপাল মুখার্জি, অমর চ্যাটার্জি, অতুল ঘোষ, ভোলানাথ চ্যাটার্জি, নীলিনীকান্ত কর, বিনয়ভূষণ দত্ত ও বিজয় চক্রবর্তী—এই সাতজন বিপ্লবী পলাতক।
আশ্রয়দাত্রী: ননীবালা দেবী।
চলাফেরা: তাঁরা সারাদিন দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতর কাটাতেন। শুধু রাতে সুবিধামতো বেরিয়ে পড়তেন। নিশাচরের মতো জীবনযাপন করতেন। পুলিশ এসে পড়লেই তাঁরা নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যেতেন।
পালানোর কারণ: চন্দননগরে বিভিন্ন বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও বিপ্লবীদের পলায়নের পর ননীবালা দেবীকে আর সেখানে রাখা নিরাপদ হল না। পুলিশ তাঁকে ধরার জন্য তৎপর হয়ে উঠল।
কোথায় গেলেন: বাল্যবন্ধুর দাদা প্রেবাধ মিত্র পেশোয়ারে কর্মরত ছিলেন। সেই সূত্রে ননীবালা দেবী পলাতক অবস্থায় পেশোয়ারে গিয়েছিলেন।
অসুখ: তিনি পেশোয়ারে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন।
যা অস্বীকার করতেন: কাশীর জেলে ডেপুটি পুলিশ সুপার জিতেন ব্যানার্জি প্রতিদিন তাঁকে জেরা করে বিপ্লবীদের নাম ও তথ্য জানতে চাইতেন। ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন, বলতেন কাউকেই চেনেন না, কিছুই জানেন না।
ফলশ্রুতি: এর জন্য তাঁকে নির্মম শাস্তি দেওয়া হতো। কাশীর জেলের 'পানিশমেন্ট সেল'-এ (শাস্তি-কুঠুরি) তালাবন্দ করে রাখা হতো। সেটি ছিল সম্পূর্ণ অন্ধকার, আলো-বাতাসহীন একটি ভূগর্ভস্থ কুঠুরি। তৃতীয় দিনে ৪৫ মিনিট বন্দি রেখে দরজা খুলে দেখা যায় তিনি জ্ঞানশূন্য হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন।
পানিশমেন্ট সেলের অবস্থা: এটি ছিল প্রাচীরের বাইরে মাটির নীচে অবস্থিত একটি শাস্তি-কুঠুরি। দরজা মাত্র একটি, কিন্তু আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য কোনো জানালা বা দরজা ছিল না। সম্পূর্ণ অন্ধকার ও বাতাসহীন একটি ভয়ংকর কুঠুরি।
অত্যাচার: জিতেন ব্যানার্জি ননীবালা দেবীকে তিনদিন ধরে প্রায় আধঘণ্টা করে এই সেলে তালাবন্দ করে রাখতেন। তৃতীয় দিন ৪৫ মিনিট বন্ধ রাখার পর দরজা খুলে দেখা যায় তিনি অর্ধমৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন, কিন্তু তবুও মুখ দিয়ে স্বীকারোক্তি বের করতে পারেননি।
কাকে দরখাস্ত: প্রেসিডেন্সি জেলে আই.বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট গোল্ডিকে।
বিষয়বস্তু: ননীবালা দেবী দরখাস্তে লিখেছিলেন—তাঁকে বাগবাজারের রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রী সারদামণি দেবীর কাছে রেখে দেওয়া হোক।
পরিণতি: গোল্ডি দরখাস্তটি নিয়ে প্রথমে ছিঁড়ে দলা পাকিয়ে ছেঁড়া কাগজের টুকরিতে ফেলে দেন। এতে ননীবালা দেবী ক্ষিপ্ত হয়ে গোল্ডির মুখে এক চড় মারেন। দ্বিতীয় চড় মারার আগেই অন্য কর্মচারীরা তাঁকে আটকান।
উত্তর: দুর্গাবালা দেবী তাঁর স্বামীকে (বা বিপ্লবী সহযোগীকে) এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য তিনি বিপ্লবী দলে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। দেশমাতৃকার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার তীব্র ইচ্ছা থেকেই তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন।
অভিযোগ: দুর্গাবালা দেবী বিপ্লবীদের হয়ে গোপনে অস্ত্র সরবরাহ ও পাচারের কাজ করতেন। এছাড়াও তিনি জেলে বন্দি বিপ্লবীদের কাছে গোপনে টাকা পৌঁছে দিতেন। এই অভিযোগেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
শাস্তি: বিচারে দুর্গাবালা দেবীর দু বছর কারাদণ্ড হয়।
৩. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও
২ টিউত্তর: আমি সম্পূর্ণ একমত যে ননীবালা দেবী ও দুর্গাবালা দেবীর অবদান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে কোনোভাবেই সামান্য নয়।
- জীবনের বাজি রেখে কাজ: ননীবালা দেবী বিধবা হওয়ার পর যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। রিষড়া থেকে চন্দননগর, চন্দননগর থেকে পেশোয়ার—সর্বত্র তিনি পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দিয়েছেন।
- অমানবিক অত্যাচার সহ্যঃ কাশী জেলের অন্ধকার 'পানিশমেন্ট সেলে' জ্ঞান হারিয়ে ফেলেও তিনি কারও নাম বলেননি। এ ধরনের মানসিক দৃঢ়তা বিরল।
- স্ত্রী সেজে গোপন মিশন: যে যুগে বিধবাদের ঘর থেকে বেরোনো কঠিন ছিল, সেই যুগে তিনি অন্য পুরুষের স্ত্রী সেজে জেলে গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
- দুর্গাবালার ভূমিকা: গোপনে অস্ত্র পাচার ও বন্দিদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়া ছিল বিপ্লব আন্দোলনের মেরুদণ্ড। দুর্গাবালা দেবী সেই কাজ করেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
খালি বোমা ফাটানো বা গুলি চালানোই বিপ্লব নয়—নীরব, নিভৃত, জীবনপণ লড়াইও সমান মূল্যবান। এঁরা ছিলেন সেই লড়াইয়ের অকথিত সৈনিক।
উত্তর: কমলা দাশগুপ্ত নিজেই লিখেছেন—"আজকের সমাজ ও সেদিনকার সমাজ, আজকের মেয়ে ও সেদিনকার মেয়ের মধ্যে আছে বিশাল সাগরের ব্যবধান।" এই ব্যবধান ঘোচানোর পেছনে ননীবালা ও দুর্গাবালার মতো বিপ্লবী নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।
- সামাজিক বাধা ভেঙে দেওয়া: ননীবালা দেবী বিধবা হয়েও, মেয়ে হয়েও, স্ত্রী সেজে জেলে গিয়েছেন—এ কাজের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে নারীরা কোনো বাধাকেই বাধা মানেন না। এটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
- অত্যাচারের মুখে নত না হওয়া: কাশী জেলের বন্দিজীবন ও গোল্ডির মুখে চড় মারার ঘটনা পরবর্তী নারী বিপ্লবীদের শিখিয়েছে—আত্মসম্মান সবচেয়ে বড়ো।
- পথিকৃৎ হিসেবে ভূমিকা: "সেদিনকার নারী তৈরি করে দিয়ে গেছেন পরবর্তী যুগের বিপ্লবী নারীকে—তিনি পথ দেখিয়েছেন, ভিত্তি গেঁথে গেছেন।"—লেখিকার এই উক্তি থেকেই বোঝা যায়, ননীবালা ও দুর্গাবালা ছিলেন অগ্রদূত।
সুতরাং, আজকের নারীরা যে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেন, তার পেছনে এই অকুতোভয় নারীদের জীবন উৎসর্গিত রয়েছে।
৫. ঘটনার ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো
সঠিক ক্রম:
- ভাইপো অমরেন্দ্র চ্যাটার্জির কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী। (৫.৭)
- অমর চ্যাটার্জি ও তাঁর সহকর্মীদের রিষড়াতে দু'মাস আশ্রয় দিলেন ননীবালা দেবী। (৫.৫)
- রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ননীবালা দেবী সংগ্রহ করলেন পিস্তলের গুপ্ত খবর। (৫.৮)
- চন্দননগরে যাদুগোপাল মুখার্জি, অমর চ্যাটার্জি, অতুল ঘোষ প্রমুখ বিপ্লবীদের আশ্রয় দান এবং সেখান থেকে পলায়ন করলেন ননীবালা দেবী। (৫.১)
- পেশোয়ার থেকে গ্রেপ্তার করে কাশীতে পাঠানো হল ননীবালা দেবীকে এবং আলো-বাতাসহীন বন্দি ঘরে তালাবন্দ করে শাস্তি দেওয়া হতো। (৫.২)
- বাগবাজারের মা সারদার কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে দরখাস্ত লিখলেন ননীবালা দেবী। (৫.৩)
- আই.বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট গোল্ডি ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন। (৫.৪)
- পুলিশ সুপার গোল্ডি দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলায় ক্ষিপ্ত ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে। (৫.৬)
৬. কে, কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তা মিলিয়ে লেখো
| বিপ্লবী | আন্দোলন |
|---|---|
| শ্রীমতিলা ওয়াদ্দেদার | ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ |
| মাতঙ্গিনী হাজরা | আইন অমান্য আন্দোলন |
| সরোজিনী নাইডু | লবণ সত্যাগ্রহ |
| বাঁশির রানি লক্ষ্মীবাই | সিপাহী বিদ্রোহ |
ব্যাখ্যা:
- শ্রীমতিলা ওয়াদ্দেদার (প্রীতিলতা): চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পর ১৯৩২ সালে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন এবং শহিদ হন।
- মাতঙ্গিনী হাজরা: তমলুকের বীরাঙ্গনা, ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন।
- সরোজিনী নাইডু: 'ভারতের কোকিল' নামে পরিচিত, গান্ধীজির নেতৃত্বে ডান্ডি অভিযান ও লবণ সত্যাগ্রহে অংশ নেন।
- রানি লক্ষ্মীবাই: ঝাঁসির রানি, ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে বীরত্বের সঙ্গে লড়ে শহিদ হন।
৭. ব্যক্তিদের সম্পর্কে দু-চার কথা লেখো
ননীবালা দেবীর ভাতৃস্পুত্র। বিপ্লবী। ননীবালা দেবীকে বিপ্লবের দীক্ষা দিয়েছিলেন। রিষড়ায় ও চন্দননগরে পলাতক অবস্থায় ছিলেন।
ননীবালা দেবীর বাল্যবন্ধুর দাদা। পেশায় কর্মরত ছিলেন। ননীবালা দেবীকে সপরিবারে পেশোয়ারে নিয়ে যান।
কাশীর ডেপুটি পুলিশ সুপার। ননীবালা দেবীকে প্রতিদিন জেরা করতেন। 'পানিশমেন্ট সেল'-এ আটকে রেখে অমানুষিক অত্যাচার করতেন।
আই.বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট। প্রেসিডেন্সি জেলে ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন। দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলায় ননীবালা দেবী তাঁকে চড় মারেন।
বিপ্লবী। দুর্গাবালা দেবীর ভাই। দুর্গাবালা দেবী তাঁর কাছ থেকেই বিপ্লবের অনুপ্রেরণা পান।
বিপ্লবী। খালাসির ছদ্মবেশে রেল কোম্পানি থেকে পিস্তল চুরি করে এনেছিলেন। দুর্গাবালা দেবী তাঁকে আশ্রয় দেন।
৮. অর্থ লেখো ও বাক্য রচনা করো
| শব্দ | অর্থ | উদাহরণ বাক্য |
|---|---|---|
| হুলিয়া | পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকা; ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা | বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের মাথায় দশ হাজার টাকার হুলিয়া ছিল। |
| মসার (Mauser) | এক ধরনের জার্মান পিস্তল | বিপ্লবীরা গোপনে জাহাজ থেকে মসার পিস্তল সংগ্রহ করতেন। |
| দরখাস্ত | আবেদনপত্র, প্রার্থনাপত্র | চাকরিটির জন্য আমি গতকালই দরখাস্ত জমা দিয়েছি। |
| কারাদণ্ড | জেলের সাজা | বিচারে তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। |
| নিশাচর | যে রাতে চলাফেরা করে; রাতের প্রাণী | পেঁচা একটি নিশাচর পাখি। |
৯. স্থলাক্ষর অংশগুলির কারক ও বিভক্তি নির্ণয়
| বাক্য | স্থলাক্ষর অংশ | কারক | বিভক্তি |
|---|---|---|---|
| ৯.১ বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জির কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী। | অমরেন্দ্র চ্যাটার্জির কাছে | অপাদান কারক | 'এর কাছে' (অপাদানে ৫মী) |
| ৯.২ ১৯১৫ সালে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। | চন্দননগরে | অধিকরণ কারক | 'এ' (সপ্তমী) |
| ৯.৩ স্মৃতির শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। | স্মৃতির শক্তিকে | কর্ম কারক | 'কে' (দ্বিতীয়া) |
| ৯.৪ এগুলি ছিল রেল কোম্পানি থেকে চুরি করে আনা মাল। | রেল কোম্পানি থেকে | অপাদান কারক | 'থেকে' (পঞ্চমী) |
| ৯.৫ ছিনানো গাড়ি তিনি রেল কোম্পানির গুদামে পৌঁছে দেন। | রেল কোম্পানির গুদামে | অধিকরণ কারক | 'এ' (সপ্তমী) |
| ৯.৬ তল্লাশিতে পাওয়া যায় সাতটা মসার পিস্তল। | তল্লাশিতে | অধিকরণ কারক | 'তে' (সপ্তমী) |
| ৯.৭ শত চেষ্টাতেও ও মাসিমার মুখ থেকে বের করতে পারল না। | মাসিমার মুখ থেকে | অপাদান কারক | 'থেকে' (পঞ্চমী) |
১০. এককথায় প্রকাশ
| অর্থ | এককথায় |
|---|---|
| পলায়ন করেছেন যিনি | পলাতক |
| একসঙ্গে কাজ করেন যিনি | সহকর্মী |
| বাজ পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি | বাজদৃষ্টি |
| বাল্যকালের বন্ধু | বাল্যবন্ধু |
| আবেদন জানিয়ে লিখিত পত্র | দরখাস্ত |
| মহান কর্মে রত নারী | মহীয়সী |
| এগিয়ে থাকেন যিনি/অগ্র গমন করেন যিনি | অগ্রদূত/অগ্রগামী/অগ্রণী |
গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| গ্রেপ্তার | আটক, বন্দি করা |
| তল্লাশি | খোঁজা, অনুসন্ধান |
| স্বীকারোক্তি | জবানবন্দি, দোষ স্বীকার |
| ট্রাইবুনাল | বিচারসভা |
| জেরা | জবাবদিহি, প্রশ্ন করে তথ্য বের করা |
| জেটি সরকার | বন্দরে বা ঘাটে মালপত্র ওঠানামার হিসেব রাখেন যিনি |
| পানিশমেন্ট সেল | শাস্তি প্রদানের জন্য নির্মিত বিশেষ কুঠুরি |
| কারারুদ্ধ | জেলে বন্দি |
| খালাসি | জাহাজ বা ট্রেনের মুটে/শ্রমিক |
| দীক্ষা | গুরুমন্ত্র, শিক্ষাগ্রহণ |
আরও কয়েকজন মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী (প্রশ্ন ৪-এর জন্য)
| নাম | অবদান |
|---|---|
| প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার | চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন; ১৯৩২ সালে ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণে শহিদ |
| কল্পনা দত্ত | চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের অন্যতম বিপ্লবী; কারাবরণ করেন |
| বীণা দাস | বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে গুলি করেন |
| মাতঙ্গিনী হাজরা | তমলুকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন; গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ |
| অ্যানি বেসান্ত | হোমরুল আন্দোলনের নেত্রী |
| সরোজিনী নাইডু | লবণ সত্যাগ্রহ ও আইন অমান্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ |
| আরুণা আসফ আলি | ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে ভূগর্ভস্থ নেত্রী |
| কস্তুরবা গান্ধী | মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী; অসহযোগ আন্দোলন ও আইন অমান্য আন্দোলনে সক্রিয় |