দিন ফুরোলে

শঙ্খ ঘোষ রচিত 'দিন ফুরোলে' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

দিন ফুরোলে

শঙ্খ ঘোষ কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • নবম পাঠ

সূর্যাস্ত শৈশব ঘরে ফেরা রঙের খেলা মনখারাপ

শঙ্খ ঘোষ (জন্ম ১৯৩২ - ২০২১)

বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক। প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দিনগুলি রাতগুলি'। এছাড়াও লিখেছেন 'নিহিত পাতাল ছায়া', 'বাবরের প্রার্থনা', 'পাঁজরের দাঁড়ের শব্দ' ইত্যাদি। ছোটদের জন্য লিখেছেন—'ছোট্ট একটা স্কুল', 'অন্বয়স কম্বয়স', 'শব নিয়ে খেলা', 'সকালবেলার আলো', 'সুপুরিবনের সারি', 'শহর পথের ধুলো' ইত্যাদি। সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

📝

কবিতা

দিন ফুরোলে

👤

কবি

শঙ্খ ঘোষ

📚

পাঠ

নবম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

শৈশব ও প্রকৃতি বিষয়ক

সম্পূর্ণ কবিতা

দিন ফুরোলে

✍️ দিন ফুরোলে

দিন ফুরোলে, সূর্য নামার আগেই আকাশ জুড়ে লক্ষ রঙের দৃশ্য। লক্ষ, বা তা হতেও পারে অযুত নিরেট রঙের বান্নি। আমরা কি আর দেখতে পাব সে-সব? রাস্তা ছেড়ে খেলার মাঠও ছেড়ে কে-ই বা খুলে দেখেছে রঙের বান্নি? বাপ-মায়েরা যাবেই তবে মুচ্ছা! কাক-শালিখ সবই গেছে উড়ে বাসায়-বাসায় ফিরছে ডানা মেলে, আমাদের ঠ্যাং চলেছে টনটনিয়ে নিজের নিজের মনখারাপের গর্ত্তে। বাবা বলবেন—এতক্ষণ কোথায়? মা-ই বা ফিরলে কী যে বলেন, তাই এক গঙ্গা জল দিয়ে ধুয়ে পা এক আকাশ ধুলো মুছে ফেলি গায়ে।

কবিতার সারাংশ ও মূলভাব

মূলভাব: "দিন ফুরোলে" কবিতাটি একদল কিশোর-কিশোরীর গোধূলিবেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত। সারাদিন খেলাধুলা করে সন্ধ্যার সময় যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন আকাশ জুড়ে রঙের যে বিপুল সমারোহ ঘটে—লক্ষ-অযুত রঙের বান ডাকে—সেই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয় না তাদের। কারণ তখনই তাদের তাড়া লাগে বাড়ি ফেরার—বাবা-মা বকবেন, তাই তাড়াতাড়ি পা ধুয়ে, গা মুছে ঘরে ঢুকতে হবে। খেলার আনন্দ শেষে ঘরে ফেরার এই অনিচ্ছা, বকুনির ভয় আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারার আক্ষেপ—এই নিয়েই কবিতাটি রচিত।

কেন্দ্রীয় চেতনা: শৈশবের সরল আনন্দ আর দায়িত্বের টানাপোড়েনের মধ্যে এক অপূর্ব মাধুর্য আছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপেক্ষা করে ফিরে আসতে হয় বাস্তবে।

১. কবিতাটির 'ছ' টি শব্দার্থ ও বাক্য রচনা

ফুরোলে: শেষ হলে, সমাপ্ত হলে
বাক্য: খেলা ফুরোলে সবাই বাড়ি চলে গেল।
অযুত: দশ হাজার, বহু সংখ্যক
বাক্য: আকাশে অযুত তারা মিটমিট করে জ্বলছে।
নিরেট: খাঁটি, একেবারে অবিমিশ্র
বাক্য: রামধনুতে নিরেট সাতটি রঙ দেখা যায়।
বান্নি: বান, প্লাবন, ঢল
বাক্য: রঙের বান্নি দেখে মনটা আনন্দে ভরে গেল।
ঠ্যাং: পা, পায়ের অংশ
বাক্য: সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে আমার ঠ্যাং ধরে এসেছে।
মুচ্ছা: ক্রুদ্ধ হওয়া, রেগে যাওয়া
বাক্য: দেরি করলেই মা মুচ্ছা যাবেন।

২. ছকটি সম্পূর্ণ করো

শব্দবিশেষণবিশেষ্য
লক্ষলক্ষ (সংখ্যাবাচক বিশেষণ)রঙ
নিরেটনিরেট (গুণবাচক বিশেষণ)রঙ
অযুতঅযুত (সংখ্যাবাচক বিশেষণ)রঙ
এক গঙ্গাএক গঙ্গা (পরিমাণবাচক বিশেষণ)জল
এক আকাশএক আকাশ (পরিমাণবাচক বিশেষণ)ধুলো
মনখারাপেরমনখারাপের (সম্বন্ধবাচক বিশেষণ)গর্ত

৩. 'লক্ষ' শব্দটির দুই পৃথক অর্থে বাক্য

৩ 'লক্ষ' — দুই অর্থে বাক্য ও পার্থক্য

অর্থ ১: 'লক্ষ' (লাখ) — সংখ্যা, ১,০০,০০০
বাক্য: গ্রামের মেলায় লক্ষ লক্ষ লোক সমাগম হয়েছিল।

অর্থ ২: 'লক্ষ' (লক্ষ্য) — উদ্দেশ্য, নজর, মনোযোগ
বাক্য: পড়াশোনায় লক্ষ রেখে চলতে হবে।

পার্থক্য সহ নতুন বাক্য: তার জীবনের লক্ষ (লক্ষ্য) ছিল এমন কিছু করা যাতে লক্ষ (লাখ) মানুষ উপকৃত হয়।

৪. বাম ও ডান দিক মিলিয়ে শব্দবন্ধ তৈরি করো

বাম দিকডান দিকশব্দবন্ধঅর্থ
এক মাথাচিনিএক মাথা চিনিপ্রচুর চিন্তার বোঝা
এক ক্লাসতারাএক ক্লাস তারাশ্রেষ্ঠ ছাত্রছাত্রী
আমপায়েসএক কাঁড়া পায়েসবিপুল আয়োজন
এক আকাশধুলোএক আকাশ ধুলোসারা গায়ে প্রচুর ধুলো
এক ঘরধানএক ঘর ধানপ্রচুর ধান, প্রাচুর্য
এক কাঁড়াহাসিএক কাঁড়া হাসিপ্রচুর হাসি
এক ঝুড়িছাতএক ঝুড়ি ছাতপ্রচুর ছাত (ছত্রাক)
এক হাঁড়িজলএক হাঁড়ি জলএকটি হাঁড়ি ভর্তি জল
এক মুঠোটাকাএক মুঠো টাকাহাত ভর্তি টাকা
এক মুখলোকএক মুখ লোকপ্রচুর লোক
এক কাহনগল্পএক কাহন গল্পবহু গল্প, গল্পের ঝুলি

৫. বিশেষ্যের আগে উপযুক্ত বিশেষণ বসিয়ে বাক্য রচনা

  • লাল সূর্য: লাল সূর্য ধীরে ধীরে পাটে নামছে।
  • অপরূপ দৃশ্য: সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।
  • রঙিন বান্নি: আকাশ জুড়ে রঙিন বান্নি নেমেছে।
  • ব্যস্ত বাপ-মা: ব্যস্ত বাপ-মা সন্তানের জন্য সময় পান না।
  • অন্ধকার গর্ত: সাপটা অন্ধকার গর্তে ঢুকে গেল।
  • ক্লান্ত ঠ্যাং: ক্লান্ত ঠ্যাং নিয়ে আর হাঁটা যায় না।
  • লাল গাদা: বাগানে লাল গাদা ফুল ফুটেছে।
  • ছোট্ট ঘর: আমাদের ছোট্ট ঘরটি খুব সুন্দর।
  • সোনালি ধান: ক্ষেতে সোনালি ধান দুলছে।
  • স্বচ্ছ জল: নদীর স্বচ্ছ জলে মাছ দেখা যায়।

৬. সমার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে বের করো

প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ (কবিতা থেকে)
বারিজল
অরুণসূর্য
অম্বরআকাশ
পেটিকাবাসা (পেটিকা = পেটি, বাক্স → বাসস্থান অর্থে বাসা)
অজ্ঞানমুচ্ছা (মূর্ছা → জ্ঞান হারানো অর্থে)
গোছাকাঁড়া (গোছা = আঁটি, কাঁড়া = গুচ্ছ)
বিবাদবকুনি (বিবাদ = ঝগড়া, বাবা-মায়ের বকা অর্থে)
কন্দরগর্ত
পাঠ্যাং
বিশ্রীমনখারাপ (কিম্তিৎ → কুৎসিত, বিরাগ)

৭. বিপরীতার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নাও

প্রদত্ত শব্দবিপরীতার্থক শব্দ (কবিতা থেকে)
ভালোমনখারাপ
মিথ্যানিরেট (নিরেট = খাঁটি, সত্য, অবিমিশ্র)
বাইরেরনিজের (নিজের নিজের = অন্তরের, ব্যক্তিগত)
বুড়োছোট্ট/কিশোর (কবিতায় কথকরা কিশোর — 'বুড়ো'-র বিপরীত)
সুখীমনখারাপ (মনখারাপ = দুঃখী)

৮. কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো

বাক্যাংশপদকারকবিভক্তি
চমকে দেবেন লক্ষ রঙের দৃশ্য।লক্ষ রঙের দৃশ্যকর্মকারকশূন্য
বাপ মায়েরা যাবেই তবে মুচ্ছা।বাপ মায়েরাকর্তৃকারকরা (বহুবচন)
কে-ই বা খুলে দেখেছে রঙের বান্নি।রঙের বান্নিকর্মকারকশূন্য
নিজের নিজের মন খারাপের গর্ত্তে।গর্ত্তেঅধিকরণ কারকএ (সপ্তমী)
এক গঙ্গা জল দিয়ে তাই ধুয়ে পা।জল দিয়েকরণ কারকদিয়ে (তৃতীয়া)

৯. এক কথায় উত্তর দাও

10 টি
৯.১ সূর্য ডুবে যাওয়ায় কথকরা \'দুচ্ছাই\' বলেছে কেন?
সূর্য ডুবে যাওয়ায় কথকরা \'দুচ্ছাই\' বলেছে কারণ দিন ফুরোলো—এবার খেলা থামিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। \'দুচ্ছাই\' অবজ্ঞা ও বিরক্তি সূচক ধ্বনি—এখানে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার খেদ প্রকাশ করেছে।
৯.২ কে এক্ষুণি আকাশ জুড়ে লক্ষ রঙের দৃশ্য চমকে দেবেন?
সূর্যাস্তের সময় প্রকৃতিই এক্ষুণি আকাশ জুড়ে লক্ষ রঙের দৃশ্য চমকে দেবেন। যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন আকাশে লাল-কমলা-বেগুনি-হলুদ—হাজারো রঙের সমারোহ ঘটে।
৯.৩ কথকরা কেন সেই দৃশ্য দেখতে পাবে না?
কথকরা (কিশোর-কিশোরীর দল) সেই দৃশ্য দেখতে পাবে না কারণ সূর্য ডুবলেই তাদের বাড়ি ফিরতে হবে। বাবা-মা অপেক্ষা করছেন, দেরি করলে বকুনি খেতে হবে—তাই তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকতে গিয়ে আকাশের সেই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় তাদের থাকবে না।
৯.৪ কথকরা কেন বলেছে, \'কে-ই বা খুলে দেখেছে রঙের বান্নি\'?
কথকরা বলেছে এটা এক ধরনের আক্ষেপ ও বাস্তবতা বোঝানোর জন্য। খেলার মাঠ ছেড়ে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে কারোরই সময় হয় না বা কেউ কখনো থেমে আকাশের রঙের বান (প্লাবন) দেখে না। অর্থাৎ, শৈশবের ব্যস্ততায় প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপেক্ষিত থেকে যায়।
৯.৫ বাপ মায়েরা কী হলে \'মুচ্ছা\' যাবেন?
কথকরা দেরি করে বাড়ি ফিরলে বা সন্ধ্যার পরেও বাইরে খেলাধুলা করে বেড়ালে বাপ-মায়েরা \'মুচ্ছা\' (রাগে অস্থির, ক্রুদ্ধ) যাবেন। বিশেষ করে বাবা বলবেন—\'এতক্ষণ কোথায় ছিলি?\' মাও বিরক্ত হবেন।
৯.৬ পাখিরা কোথা থেকে কোথায় উড়ে যায়?
পাখিরা (কাক-শালিখ) সারাদিন বাইরে কাটিয়ে সন্ধ্যার সময় আকাশপথে উড়ে যায—তাদের বাসা থেকে বাসায়, অর্থাৎ যার যার নিজের বাসায় ফিরে যায়।
৯.৭ কথকরা কেন বলেছে তাদের \'নিজের নিজের মনখারাপের গর্ত্তে\' ফিরতে হবে?
খেলা শেষে বাড়ি ফেরার অনিচ্ছা থেকে কথকদের মন খারাপ হয়। এই মনখারাপটা যেন একটা গর্ত—প্রত্যেকেরই নিজস্ব। সেই \'মনখারাপের গর্ত্তে\' ফেরা মানে হলো বাস্তবে ফিরে আসা, খেলার আনন্দ ছেড়ে দায়িত্বের জগতে প্রবেশ করা। প্রকৃতির সৌন্দর্য না দেখতে পাওয়ার দুঃখও এতে মিশে আছে।
৯.৮ বাবা কী বলবেন?
বাবা বলবেন—\'এতক্ষণ কোথায় ছিলি?\' অর্থাৎ, সারা বিকেল খেলে কাটিয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরায় বাবা জিজ্ঞাসা করবেন ছেলেমেয়েরা এতক্ষণ কোথায় ছিল—এটা বকুনির সুরেই বলা হবে।
৯.৯ মা-ই বা বাড়ি ফিরলে কী বলবেন?
মা বাড়ি ফিরলে কী বলবেন তা স্পষ্ট করে কবিতায় না বললেও বোঝা যায়, তিনিও বিরক্তির সুরে কিছু বলবেন—হয়তো \'এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকা হয়?\', \'পা ধুয়ে ঘরে আয়\' জাতীয় বকুনি বা তিরস্কার।
৯.১০ কথকরা কেন \'এক গঙ্গা জল দিয়ে\' পা ধুয়েছে?
\'এক গঙ্গা জল দিয়ে\' অর্থে প্রচুর পানি দিয়ে পা ধোয়া। সারাদিন মাঠেঘাটে খেলাধুলা করে পা ধুলোয় ময়লা হয়ে গেছে। তাই ঘরে ঢোকার আগে ভালো করে পা ধুতে হবে—মায়ের বকুনি এড়াতে। তাছাড়া \'এক গঙ্গা জল\' একটি বাগ্ধারা যার অর্থ বিপুল পরিমাণ জল।

১০. ব্যাখ্যা করো

4 টি
১০.১ "সূর্য নামার আগেই......আকাশ জুড়ে লক্ষ রঙের দৃশ্য।"
সরলার্থ: দিন শেষে যখন সূর্য ডুবতে যায়, ঠিক সেই সময় আকাশের বুকে লক্ষ লক্ষ রঙের এক বিশাল সমারোহ ঘটে—লাল, কমলা, গোলাপি, বেগুনি—হাজারো রঙ ছড়িয়ে পড়ে।

তাৎপর্য: প্রকৃতির এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য এতই বিপুল যে কবি তাকে সংখ্যা দিয়ে মাপতে চেয়েও পারেননি—লক্ষ, অযুত, কত যে রঙ! এটি প্রকৃতির প্রাচুর্য ও সৌন্দর্যের অপরিমেয়তার প্রকাশ।
১০.২ "আকাশ জুড়ে......লক্ষ রঙের দৃশ্য।"
সরলার্থ: গোটা আকাশটা জুড়ে যেন এক ছবির প্রদর্শনী—তাতে আছে লক্ষ (লাখো) রঙের মেলা। সূর্যাস্তের সেই দৃশ্য সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো।

তাৎপর্য: \'চমকে দেওয়া\' ক্রিয়াটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ ছেলেমেয়েরা খেলা নিয়ে এতটাই মগ্ন যে আকাশের দিকে তাকানোর সময় তাদের নেই। কিন্তু প্রকৃতি চমকে দিয়ে, সজোরে ডেকে তাদের জানান দেয় তার উপস্থিতি—তবু তারা তা উপেক্ষা করে।
১০.৩ "লক্ষ, বা তা হতেও পারে......রঙের বান্নি।"
সরলার্থ: আকাশে এত রঙ জমেছে যে তাকে শুধু \'লক্ষ\' বললেও কম বলা হয়—হতে পারে অযুত অর্থাৎ দশ হাজার বা তারও বেশি। সে এক নিরেট (খাঁটি) রঙের বান্নি—অর্থাৎ এতটাই বিশাল যে যেন রঙের ঢল নেমেছে।

তাৎপর্য: কবি ভাষার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছেন—প্রকৃতির এই সৌন্দর্য সংখ্যাতীত, নিরেট, অপরিমেয়। বান্নি অর্থাৎ বান বা প্লাবন—রঙ যেন প্লাবনের মতো ভেসে আসছে। এতে প্রকৃতির অপার মহিমার প্রতি বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে।
১০.৪ "আমরা কি আর......যাবেই তবে মুচ্ছা।"
সরলার্থ: আমরা কী আর সেই দৃশ্য দেখতে পাব? রাস্তা ছেড়ে, খেলার মাঠ ছেড়ে কে-ই বা কখনও থেমে আকাশের রঙের বান দেখেছে? বাপ-মায়েরা তবে নিশ্চয়ই রেগে যাবেন!

তাৎপর্য: এই পঙ্ক্তিগুলো শৈশবের এক করুণ বাস্তবতা তুলে ধরে—প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখার সময় নেই, কারণ দায়িত্ব ও বাস্তবতা টানে। \'মুচ্ছা\' অর্থে মূর্ছা যাওয়া—বাবা-মায়ের রাগ এতটাই প্রকট হবে যে তারা যেন জ্ঞান হারাবেন। অথচ শিশুমন জানতে চায়—সত্যিই কি কেউ কখনো খেলা ছেড়ে আকাশ দেখেছে? নেই। দায়িত্বই শেষ কথা।

১১. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও

2 টি
১১.১ কবিতাটি অবলম্বনে তোমার দেখা একটি গোধূলির রূপ বর্ণনা করো।
গতকাল সন্ধ্যায় আমি আমাদের ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে এক অসাধারণ গোধূলি দেখলাম।

সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশের দিকে নামছে—ঠিক যেন একটা লাল টকটকে বল ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ছে। আকাশের রং বদলাতে শুরু করল—প্রথমে হালকা হলুদ, তারপর কমলা, তারপর গাঢ় লাল, শেষে বেগুনি।

মনে হচ্ছিল যেন কেউ আকাশটাকে রঙিন ক্যানভাস বানিয়ে ছবি আঁকছে। শালিখ পাখির দল উড়ে যাচ্ছে নিজেদের বাসার দিকে—ঠিক যেন কবিতায় বলা হয়েছে, \'কাক-শালিখ সবই গেছে উড়ে বাসায়-বাসায় ফিরছে ডানা মেলে\'।

ধীরে ধীরে রঙ মিলিয়ে গেল, চারপাশে নেমে এল গাঢ় অন্ধকার। আকাশে একে একে তারা ফুটতে শুরু করল। তখনই মনে পড়ল শঙ্খ ঘোষের কবিতার কথা—কী অপরূপ দৃশ্য! আর কিশোর-কিশোরীরা সত্যিই হয়তো খেলার মাঠ ছেড়ে এই দৃশ্য দেখার সময় পায় না।
১১.২ কবিতাটিতে ছোট ছেলেমেয়েদের কাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে? সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ফেরাকে \'মনখারাপের গর্তে\' ফেরা বলে কেন মনে হয়েছে? খেলা থেকে সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফেরার দুঃখ নিয়ে তোমার অনুভূতি লেখো।
কবিতায় ছোট ছেলেমেয়েদের তুলনা করা হয়েছে পাখিদের (কাক-শালিখ) সঙ্গে। পাখিরা যেমন সারাদিন বাইরে ঘুরে সন্ধ্যায় বাসায় ফেরে, ছেলেমেয়েরাও তেমনই সারাদিন খেলে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরে। কিন্তু পার্থক্য হলো—পাখিদের কেউ বকুনি দেয় না, তাদের জন্য অপেক্ষা করে বাসা। আর ছেলেমেয়েদের জন্য অপেক্ষা করে বাবা-মায়ের বকুনি।

সন্ধ্যায় ঘরে ফেরাকে \'মনখারাপের গর্তে ফেরা\' বলা হয়েছে কারণ:
১) খেলার স্বাধীনতা শেষ হয়
২) বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের সময় ফুরোয়
৩) দায়িত্ব আর বাস্তবতার জগতে ফিরে আসতে হয়
৪) বকুনি খাওয়ার ভয় থাকে
৫) আকাশের সুন্দর দৃশ্যটা উপভোগ করা হয় না

আমার নিজের অনুভূতি: ছোটবেলায় বিকেলে পাড়ার মাঠে যখন ক্রিকেট খেলতাম, সন্ধ্যা নামলেই বুকটা ধড়ফড় করত। বাড়ি ফিরতেই হবে—মা অপেক্ষা করছেন, বাবা বকবেন। খেলা ছেড়ে ওঠার সেই মুহূর্তটা ভারী কষ্টের হতো। রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় দেখতাম আকাশের রং বদলাচ্ছে, কিন্তু উপভোগ করার মতো মানসিক অবস্থা থাকত না। আবার পরের দিনের খেলার আশায় মনকে সান্ত্বনা দিতাম—ঠিক যেন চক্রাকারে ঘুরতাম \'মনখারাপের গর্ত\' থেকে বেরিয়ে আবার সেই গর্তেই ফিরতে হতো।

কবিতার শিক্ষা

মনে রেখো: শঙ্খ ঘোষের 'দিন ফুরোলে' কবিতা শুধু গোধূলির সৌন্দর্যের গল্প নয়—এটা শৈশব, স্বাধীনতা আর বাস্তবতার টানাপোড়েনের গল্প। আমরা সবাই কোনো না কোনো 'মনখারাপের গর্তে' ফিরতে বাধ্য হই। কিন্তু আকাশের রঙের বান্নি দেখার মতো চোখ যদি থাকে, তাহলে হয়তো দায়িত্ব আর সৌন্দর্য—দুটোই একসঙ্গে বাঁচে।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'দিন ফুরোলে\' কবিতাটি জ্ঞানপীঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ (১৯৩২-২০২১) রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকের নবম পাঠ।

কবিতাটিতে একদল কিশোর-কিশোরীর গোধূলিবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। সূর্য ডুবে গেলে আকাশজুড়ে লক্ষ-অযুত রঙের বান্নি (প্লাবন) দেখা দেয়—কিন্তু খেলায় মত্ত ছেলেমেয়েরা সেই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না। কারণ সন্ধ্যা নামলেই তাদের বাড়ি ফিরতে হবে—বাবা-মা বকবেন বলে তাড়াতাড়ি পা ধুয়ে ঘরে ঢুকতে হবে। শৈশবের স্বাধীনতা শেষে বাস্তবে ফেরার অনিচ্ছা আর মনখারাপের অনুভূতি নিয়েই কবিতাটি রচিত।

\'এক গঙ্গা জল\' একটি বাগ্ধারা যার অর্থ বিপুল পরিমাণ জল। কবিতায় কথকরা সারাদিন খেলাধুলা করে পা ধুলোয় ময়লা করে ফেলেছে। বাড়ি ফিরে মায়ের বকুনি এড়াতে তারা প্রচুর জল দিয়ে (\'এক গঙ্গা জল দিয়ে\') পা ধুয়ে নেয়। একইভাবে, \'এক আকাশ ধুলো\' বলতেও সারা গায়ে লেগে থাকা প্রচুর ধুলো বোঝানো হয়েছে যা মুছে ফেলতে হয়।