মাকু (লীলা মজুমদার)

লীলা মজুমদার রচিত সপ্তম শ্রেণির 'মাকু' উপন্যাসের (সহায়ক পাঠ) সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং প্রশ্নোত্তর।

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের সহায়ক পাঠ হিসেবে নির্ধারিত লীলা মজুমদার রচিত 'মাকু' উপন্যাসের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও Broad Questions) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

১. উপন্যাসের বিষয়সংক্ষেপ

মাকু লীলা মজুমদারের লেখা একটি চমৎকার কিশোর-উপন্যাস বা ফ্যান্টাসি গল্প। গল্পের প্রধান দুই চরিত্র সোনা এবং টিয়া নামের দুই ছোট্ট বোন। তাদের পিসির খোকার জন্য নতুন খেলনা (প্যাঁ-প্যাঁ পুতুল) আসায় এবং তাদের কেউ পাত্তা না দেওয়ায়, তারা অভিমানে বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা চলে যায় ভয়ংকর 'কালিয়ার বনে'।

পথের মধ্যে তাদের সাথে দেখা হয় ঘড়িওলার, যে সতেরো বছর ধরে কারখানার বাতিল যন্ত্রপাতি দিয়ে 'মাকু' নামের একটি অদ্ভুত কলের মানুষ বানিয়েছে। মাকু হাঁটতে, গাইতে, নাচতে এবং অনেক কাজ করতে পারে, কিন্তু সে হাসতে বা কাঁদতে পারে না। সার্কাসের জাদুকরের দেখানো 'পরিদের রানি'কে বিয়ে করার জন্য মাকু বায়না ধরে এবং কাঁদার কল চেয়ে ঘড়িওলাকে খুঁজতে থাকে। এদিকে ঘড়িওলার নামে চুরির হুলিয়া জারি থাকায় সে বনের মধ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

কালিয়ার বনে সোনা-টিয়ার সাথে মাকুর দেখা হয়। তারা বনের মধ্যে বটতলার সরাইখানায় গিয়ে হাজির হয়। সেখানে হোটেলওলার সাথে তাদের ভাব হয়। হোটেলওলা আসলে সার্কাস পার্টির পালানো অধিকারী 'নোটো মাস্টার'। পুলিশ বা পেয়াদার ভয়ে পুরো সার্কাস পার্টিই এই বনে গা ঢাকা দিয়ে আছে। বনের মধ্যে নানা মজার ঘটনা ঘটে—সোনা-টিয়ার সঙ্গে সঙের ভাব হয়, তারা জাদুকর এবং বন্য পশুদের খেলা দেখে। একসময় মাকুর চাবি ফুরিয়ে গেলে টিয়া মামনির সিঁদুরকাঠি দিয়ে তাকে দম দেয়। পরিশেষে সোনা নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে একটি জ্যামের টিন ও নলের সাহায্যে মাকুর মাথায় কাঁদার কল বসিয়ে দেয়। মাকু কেঁদে ও হেসে ওঠে এবং পরিদের রানির সাথে তার মহা ধুমধামে বিয়ে হয়। গল্প শেষে জানা যায় যে পেয়াদা বা পুলিশটি আসলে সোনা-টিয়ার পিসেমশাই, যিনি তাদের খুঁজতে এসেছিলেন। তিনি জানান নোটো মাস্টারের আর কোনো ভয় নেই। সবাই মিলে আনন্দে বাড়ি ফিরে যায়।

২. লেখক পরিচিতি

লীলা মজুমদার (১৯০৮-২০০৭): বাংলা শিশু ও কিশোর সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র লীলা মজুমদার কলকাতার রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন তাঁর কাকা এবং সুকুমার রায় ছিলেন তাঁর খুড়তুতো দাদা। তাঁর লেখায় এক অদ্ভুত মায়াবী, হাস্যরসাত্মক এবং ফ্যান্টাসির জগৎ ফুটে ওঠে, যা শিশুদের মনকে সহজেই আকর্ষণ করে। তাঁর রচিত বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে রয়েছে— 'পদি পিসির বর্মি বাক্স', 'হলদে পাখির পালক', 'টং লিং', 'মাকু', 'বদ্যিনাথের বড়ি', 'দিন দুপুরে', 'বাতাস বাড়ি' ইত্যাদি। তিনি তাঁর সাহিত্যকীর্তির জন্য আনন্দ পুরস্কার, বিদ্যাসাগর পুরস্কার এবং ভারত সরকারের 'পদ্মশ্রী' সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

৩. উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশের তাৎপর্য

"মাকু কী তবে একটা ঘড়ি? ঘড়ির ভয়ে কেউ পালায়? ঘড়ি হাঁটতে পারে নাকি?"
তাৎপর্য: ঘড়িওলা যখন মাকুর ভয়ে পালানোর কথা বলে, তখন ছোট্ট সোনার মনে এই কৌতূহল জাগে। তার শিশুমন ঘড়ির সাথে মাকুর মিল বুঝতে পারে না। ঘড়িওলা তখন জানায় যে মাকু কোনো সাধারণ ঘড়ি নয়, সে ঘড়ির কল দিয়ে ঠাসা একটি কলের মানুষ, যে অনেক কাজ করতে পারে কিন্তু হাসতে বা কাঁদতে পারে না।
"ওমা, তার ওপর যে আমার বড়ো মায়া। তার কাছ থেকে পালিয়ে পালিয়ে যে আমার গেঁটো ধরে গেছে।"
তাৎপর্য: ঘড়িওলা সতেরো বছর ধরে অনেক কষ্টে মাকুকে তৈরি করেছে, তাই মাকুর প্রতি তার গভীর মায়া বা ভালোবাসা রয়েছে। কিন্তু মাকু কাঁদার কল চেয়ে ঘড়িওলাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে বলে সে বাধ্য হয়ে নিজের সৃষ্টির হাত থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এটি স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে এক অদ্ভুত সম্পর্কের চিত্র।
"তা কালিয়ার বনে যেতে ভয় করছে না?" - "না, আমরা যে স্কুলে ভরতি হয়েছি, ভয় পাই না।"
তাৎপর্য: সোনা-টিয়া ছোটো হলেও তাদের মনে কোনো ভয় নেই। 'স্কুলে ভরতি হয়েছি'—এই কথাটির মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায় যে তারা এখন আর ছোটো নেই, তারা বড়ো ও সাহসী হয়ে উঠেছে। শিশুদের এই সরল ও নির্ভীক মানসিকতাই তাদের কালিয়া বনের মতো ভয়ংকর জায়গায় যেতে সাহস জুগিয়েছিল।
"স্বর্গের সুরুয়া আর হাতের রুটি। একবার চেখে দেখলে অন্য কিছু খেতেও ইচ্ছে করবে না!"
তাৎপর্য: বটতলার সরাইখানায় হোটেলওলা এই কথা বলেছিল। হোটেলওলার রান্না করা সুরুয়া বা স্যুপ এতটাই সুস্বাদু ছিল যে সার্কাসের লোকরা এর নাম দিয়েছিল 'স্বর্গের সুরুয়া'। মজার ব্যাপার হলো, এই সুরুয়ার আসল স্বাদ বা রহস্য লুকিয়ে ছিল হোটেলওলার খসে পড়া দাড়ি-গোঁফের মধ্যে, যা সোনা-টিয়া পরে আবিষ্কার করেছিল।
"আমি যোগ-বিয়োগ জানি, ছোটো নদী, দিনরাত জানি। তাছাড়া কাঁদার কলের জিনিসপত্র সবই আমার সঙ্গে আছে।"
তাৎপর্য: সোনার এই উক্তি তার বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়। সে মাকুর মাথায় কাঁদার কল বসানোর দায়িত্ব নেয়। স্কুলের সামান্য জ্ঞান এবং পুঁটলিতে থাকা সাধারণ জিনিস (জ্যামের টিন, রবারের নল) ব্যবহার করেই সে যে মাকুকে কাঁদাতে পারবে, এই বিশ্বাস শিশুদের অসীম কল্পনাশক্তির প্রমাণ দেয়।

৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৫০+ টি প্রশ্ন

১. 'মাকু' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
(ক) আশাপূর্ণা দেবী (খ) লীলা মজুমদার (গ) মহাশ্বেতা দেবী (ঘ) সুকুমার রায়
উত্তর: (খ) লীলা মজুমদার
২. সোনা ও টিয়া সম্পর্কে কে হয়?
(ক) দুই বন্ধু (খ) মাসি-ভাইঝি (গ) দুই বোন (ঘ) দুই পিসি
উত্তর: (গ) দুই বোন
৩. সোনা ও টিয়ার বয়স কত?
(ক) আট ও ছয় বছর (খ) দশ ও আট বছর (গ) ছ-বছর ও পাঁচ বছর (ঘ) পাঁচ ও তিন বছর
উত্তর: (গ) ছ-বছর ও পাঁচ বছর
৪. সোনা-টিয়া বাড়ি থেকে কোথায় পালিয়েছিল?
(ক) শহরে (খ) কালিয়া বনে (গ) মামাবাড়িতে (ঘ) মেলায়
উত্তর: (খ) কালিয়া বনে
৫. সোনা-টিয়া কেন বাড়ি থেকে পালিয়েছিল?
(ক) খেলতে যাওয়ার জন্য (খ) পিসির খোকার জন্য নতুন খেলনা আসায় অভিমানে (গ) বকুনি খাওয়ায় (ঘ) স্কুল যাওয়ার ভয়ে
উত্তর: (খ) পিসির খোকার জন্য নতুন খেলনা আসায় অভিমানে
৬. বাপির ধাইমার নাম কী ছিল?
(ক) ঠামু (খ) পিসি (গ) আম্মা (ঘ) আয়া
উত্তর: (গ) আম্মা
৭. কালিয়া বনে সোনা-টিয়া কী কিনতে গিয়েছিল?
(ক) পুতুল (খ) খাবার (গ) প্যাঁ-প্যাঁ পুতুল (ঘ) ঘড়ি
উত্তর: (গ) প্যাঁ-প্যাঁ পুতুল
৮. গোরস্থানের ফটকের কাছে সোনা-টিয়ার কার সঙ্গে দেখা হয়েছিল?
(ক) সঙের (খ) ঘড়িওলার (গ) জাদুকরের (ঘ) হোটেলওলার
উত্তর: (খ) ঘড়িওলার
৯. ঘড়িওলা কী তৈরি করেছিল?
(ক) ঘড়ি (খ) পুতুল (গ) মাকু (কলের মানুষ) (ঘ) গাড়ি
উত্তর: (গ) মাকু (কলের মানুষ)
১০. ঘড়িওলার মাকুকে তৈরি করতে কত বছর সময় লেগেছিল?
(ক) দশ বছর (খ) বারো বছর (গ) পনেরো বছর (ঘ) সতেরো বছর
উত্তর: (ঘ) সতেরো বছর
১১. মাকু কী করতে পারত না?
(ক) নাচতে ও গাইতে (খ) অঙ্ক কষতে (গ) হাসতে ও কাঁদতে (ঘ) সেলাই কল চালাতে
উত্তর: (গ) হাসতে ও কাঁদতে
১২. মাকু কাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল?
(ক) টিয়াকে (খ) সোনাকে (গ) পরিদের রানিকে (ঘ) মেমকে
উত্তর: (গ) পরিদের রানিকে
১৩. ঘড়িওলার কাছে মাকু কী চেয়েছিল?
(ক) হাসির কল (খ) কাঁদার কল (গ) নতুন পোশাক (ঘ) টাকা
উত্তর: (খ) কাঁদার কল
১৪. মাকুর চাবির মেয়াদ কত দিনের ছিল?
(ক) এক বছরের (খ) ছ মাসের (গ) পনেরো দিনের (ঘ) এক মাসের
উত্তর: (ক) এক বছরের (যার মধ্যে সাড়ে এগারো মাস কেটে গেছে)
১৫. মাকুর চাবির ছ্যাঁদা কোথায় ছিল?
(ক) পেটে (খ) পিঠের মধ্যিখানে (গ) মাথায় (ঘ) হাতে
উত্তর: (খ) পিঠের মধ্যিখানে
১৬. বনের মধ্যে সোনা-টিয়া কাকে জল খেতে দেখেছিল?
(ক) বাঘকে (খ) সং ও সার্কাসের জানোয়ারদের (গ) ঘড়িওলাকে (ঘ) জাদুকরকে
উত্তর: (খ) সং ও সার্কাসের জানোয়ারদের
১৭. সং সোনা-টিয়াকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?
(ক) গুহায় (খ) বটতলার সরাইখানায় (গ) সার্কাসের তাঁবুতে (ঘ) মেলায়
উত্তর: (খ) বটতলার সরাইখানায়
১৮. বটতলার সরাইখানার মালিক কে ছিল?
(ক) জাদুকর (খ) ঘড়িওলা (গ) হোটেলওলা (নোটো মাস্টার) (ঘ) সং
উত্তর: (গ) হোটেলওলা (নোটো মাস্টার)
১৯. হোটেলওলার রান্নার বিশেষত্ব কী ছিল?
(ক) মাংসের কোর্মা (খ) স্বর্গের সুরুয়া (গ) ভুনিখিচুড়ি (ঘ) পায়েস
উত্তর: (খ) স্বর্গের সুরুয়া
২০. 'স্বর্গের সুরুয়া'র আসল রহস্য কী ছিল?
(ক) বিশেষ মশলা (খ) জাদুকরের জাদু (গ) হোটেলওলার দাড়ি-গোঁফ সুরুয়ায় পড়ে রান্না হয়ে যাওয়া (ঘ) ভালো সবজি
উত্তর: (গ) হোটেলওলার দাড়ি-গোঁফ সুরুয়ায় পড়ে রান্না হয়ে যাওয়া
২১. সার্কাসের দলের অধিকারীর নাম কী ছিল, যে পালিয়ে গিয়েছিল?
(ক) জাদুকর (খ) নোটো মাস্টার (গ) ঘড়িওলা (ঘ) পেয়াদা
উত্তর: (খ) নোটো মাস্টার
২২. হোটেলওলা আসলে কে ছিল?
(ক) জাদুকর (খ) ঘড়িওলা (গ) পালানো নোটো মাস্টার (ঘ) পুলিশ
উত্তর: (গ) পালানো নোটো মাস্টার
২৩. সং সপ্তাহে তিনবার পোস্টাপিসে কেন যেত?
(ক) চিঠি পাঠাতে (খ) লটারির টিকিটের খবর আনতে (গ) টাকা জমা দিতে (ঘ) খবরের কাগজ আনতে
উত্তর: (খ) লটারির টিকিটের খবর আনতে
২৪. সোনা-টিয়া রাতে কোথায় ঘুমিয়েছিল?
(ক) মাটিতে (খ) গুহায় (গ) গেছো-ঘরে (গাছের ডালের তক্তায়) (ঘ) সরাইখানায়
উত্তর: (গ) গেছো-ঘরে (গাছের ডালের তক্তায়)
২৫. সোনা রাতে মাকুকে কী দিয়ে বেঁধে রেখেছিল?
(ক) দড়ি দিয়ে (খ) সেফটিপিন দিয়ে নিজের ফ্রকের সঙ্গে (গ) শিকল দিয়ে (ঘ) কাপড় দিয়ে
উত্তর: (খ) সেফটিপিন দিয়ে নিজের ফ্রকের সঙ্গে
২৬. হোটেলওলা খরগোশ ধরতে কী পেতেছিল?
(ক) জাল (খ) বাঘধরার ফাঁদ (গ) দড়ি (ঘ) খাঁচা
উত্তর: (খ) বাঘধরার ফাঁদ
২৭. বাঘের ফাঁদে কে পড়েছিল?
(ক) ঘড়িওলা (খ) সোনা (গ) পেয়াদা (ঘ) মাকু
উত্তর: (গ) পেয়াদা
২৮. ঘড়িওলা কেন পুলিশের ভয়ে পালাচ্ছিল?
(ক) সে চুরি করেছিল বলে (খ) ঘড়ির দোকানের বাতিল কলকব্জা নিয়ে মাকুকে তৈরি করেছিল বলে (গ) সে কাউকে খুন করেছিল বলে (ঘ) সে লটারি জিতেছিল বলে
উত্তর: (খ) ঘড়ির দোকানের বাতিল কলকব্জা নিয়ে মাকুকে তৈরি করেছিল বলে
২৯. হোটেলওলার জন্মদিনের ভোজে সোনা-টিয়াকে কে নতুন জামা দিয়েছিল?
(ক) মাকু (খ) মেম (গ) সং (ঘ) ঘড়িওলা
উত্তর: (গ) সং
৩০. সং জানোয়ারদের ভিটামিনের বদলে ভুল করে কী খাইয়ে দিয়েছিল?
(ক) বিষ (খ) কড়া জোলাপ (গ) ঘুমের ওষুধ (ঘ) মিষ্টি
উত্তর: (খ) কড়া জোলাপ
৩১. হোটেলওলার জন্মদিনের সার্কাসে রিং-মাস্টার কে হয়েছিল?
(ক) ঘড়িওলা (খ) সং (গ) মাকু (ঘ) হোটেলওলা
উত্তর: (ঘ) হোটেলওলা
৩২. সোনা-টিয়া সার্কাসে কী গান গেয়েছিল?
(ক) আয় বৃষ্টি ঝেঁপে (খ) ছোটো শিশু মোরা (গ) ফুল কলি আসে অলি গুন্ গুন্ গুঞ্জনে (ঘ) আমরা সবাই রাজা
উত্তর: (গ) ফুল কলি আসে অলি গুন্ গুন্ গুঞ্জনে
৩৩. জাদুকর শূন্য থেকে দড়ি ছুঁড়ে কাকে নামিয়ে এনেছিল?
(ক) পেয়াদাকে (খ) পরিদের রানিকে (গ) মাকুকে (ঘ) সংকে
উত্তর: (খ) পরিদের রানিকে
৩৪. পরিদের রানি আসলে কে সেজেছিল?
(ক) টিয়া (খ) মেম (গ) দড়াবাজির ছোকরা (ঘ) জাদুকর
উত্তর: (গ) দড়াবাজির ছোকরা
৩৫. সার্কাসে কার সঙ্গে পরিদের রানির বিয়ে হয়েছিল?
(ক) সঙের (খ) মাকুর (গ) জাদুকরের (ঘ) ঘড়িওলার
উত্তর: (খ) মাকুর
৩৬. মাকু কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল?
(ক) নদীতে (খ) বাঁশ বনে খরগোশ ধরবার ফাঁদে আটকে (গ) গাছে (ঘ) গুহায়
উত্তর: (খ) বাঁশ বনে খরগোশ ধরবার ফাঁদে আটকে
৩৭. মাকুর চাবি ফুরিয়ে গেলে টিয়া কী দিয়ে চাবি ঘুরিয়েছিল?
(ক) পিন দিয়ে (খ) মামনির সিঁদুর পরবার রুপোর কাঠি দিয়ে (গ) কানখুশকি দিয়ে (ঘ) কাঁচি দিয়ে
উত্তর: (খ) মামনির সিঁদুর পরবার রুপোর কাঠি দিয়ে
৩৮. সোনা মাকুর মাথায় কীসের কাঁদার কল বসিয়েছিল?
(ক) ঘড়ির কল (খ) ফুটো জ্যামের টিন ও রবারের নল দিয়ে (গ) প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে (ঘ) স্প্রিং দিয়ে
উত্তর: (খ) ফুটো জ্যামের টিন ও রবারের নল দিয়ে
৩৯. মাকুর নাকের কোন কল টিপলে মাকু ঘুমিয়ে পড়ে?
(ক) টিপকল (খ) সুইচ (গ) বোতাম (ঘ) চাবি
উত্তর: (ক) টিপকল
৪০. কাঁদার কল লাগানোর পর মাকু কাঁদলে কী ধুয়ে গড়াচ্ছিল?
(ক) ঘাম (খ) গালের নতুন লাগানো লাল রং (গ) ময়লা (ঘ) কালি
উত্তর: (খ) গালের নতুন লাগানো লাল রং
৪১. পেয়াদা কী খবর নিয়ে এসেছিল?
(ক) ঘড়িওলাকে ধরার (খ) সং লটারি জিতেছে, সেই খবর (গ) হোটেলওলাকে ধরার (ঘ) সোনা-টিয়াকে খোঁজার
উত্তর: (খ) সং লটারি জিতেছে, সেই খবর
৪২. সঙের লটারির টিকিটের আধখানা কোথায় ছিল?
(ক) পকেটে (খ) টিয়ার কাছে, যা সে মাকুর চাবিকাঠি বানিয়েছিল (গ) হারিয়ে গেছিল (ঘ) হোটেলওলার কাছে
উত্তর: (খ) টিয়ার কাছে, যা সে মাকুর চাবিকাঠি বানিয়েছিল
৪৩. সোনা-টিয়াকে খুঁজতে বনে কারা এসেছিল?
(ক) পুলিশ (খ) ঘড়িওলা (গ) মামনি ও বাপি (ঘ) সং
উত্তর: (গ) মামনি ও বাপি
৪৪. পেয়াদাটি আসলে কে ছিল?
(ক) আসল পেয়াদা (খ) পুলিশসাহেব পিসেমশাই (গ) বাপি (ঘ) চোর
উত্তর: (খ) পুলিশসাহেব পিসেমশাই
৪৫. ঘড়িওলা আর হোটেলওলার মধ্যে সম্পর্ক কী ছিল?
(ক) বন্ধু (খ) মামা-ভাগ্নে (গ) দুই ভাই (ঘ) শত্রু
উত্তর: (গ) দুই ভাই
৪৬. ঘড়িওলা টাকা পেলে কোথায় ফিরে যেতে চেয়েছিল?
(ক) কারখানায় (খ) মায়ের কাছে (গ) বিদেশে (ঘ) শহরে
উত্তর: (খ) মায়ের কাছে
৪৭. জাদুকর সোনা-টিয়াকে কী উপহার দিয়েছিল?
(ক) পুতুল (খ) দুটো সাদা খরগোশের বাচ্চা (গ) মিষ্টি (ঘ) ফুল
উত্তর: (খ) দুটো সাদা খরগোশের বাচ্চা
৪৮. পিসির খোকার নাম কী ছিল?
(ক) রিংকু (খ) বোম্বা (গ) টিকু (ঘ) নোনো
উত্তর: (খ) বোম্বা
৪৯. সোনা-টিয়ার কুকুরটির নাম কী ছিল?
(ক) টমি (খ) বাঘা (গ) নোনো (ঘ) ভুলো
উত্তর: (গ) নোনো
৫০. 'মাকু' উপন্যাসটি মূলত কাদের জন্য লেখা?
(ক) বয়স্কদের (খ) শিশু-কিশোরদের (গ) বিজ্ঞানীদের (ঘ) ঐতিহাসিকদের
উত্তর: (খ) শিশু-কিশোরদের

৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ৪০+ টি প্রশ্ন

১. 'মাকু' উপন্যাসটি কার লেখা?
উত্তর: 'মাকু' উপন্যাসটি প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক লীলা মজুমদারের লেখা।
২. সোনা ও টিয়া কেন বাড়ি থেকে পালিয়েছিল?
উত্তর: পিসির খোকার জন্মদিনে নতুন খেলনা আসায় এবং সোনা-টিয়াকে কেউ গুরুত্ব না দেওয়ায় তারা অভিমানে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল।
৩. সোনা ও টিয়া বাড়ি থেকে কোথায় যাচ্ছিল?
উত্তর: সোনা ও টিয়া বাড়ি থেকে সোজা কালিয়া বনে যাচ্ছিল প্যাঁ-প্যাঁ পুতুল কেনার জন্য।
৪. ঘড়িওলা কে এবং সে কোথায় সোনা-টিয়ার সাথে দেখা করেছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা হলো মাকুর সৃষ্টিকর্তা বা কারিগর। গোরস্থানের ফটকের কাছে সোনা-টিয়ার সাথে তার দেখা হয়েছিল।
৫. মাকু কী?
উত্তর: মাকু হলো ঘড়িওলার তৈরি ঘড়ির কলকব্জা দিয়ে ঠাসা একটি কলের মানুষ, যে মানুষের মতো অনেক কাজ করতে পারে কিন্তু হাসতে বা কাঁদতে পারে না।
৬. ঘড়িওলা মাকুকে তৈরি করতে কত বছর সময় নিয়েছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা সতেরো বছর ধরে অনেক কষ্টে মাকুকে তৈরি করেছিল।
৭. ঘড়িওলা কেন মাকুর কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল?
উত্তর: মাকু জাদুকরের দেখানো পরিদের রানিকে বিয়ে করার জন্য ঘড়িওলার কাছে কাঁদার কল চেয়ে বায়না ধরেছিল, যা দেওয়া ঘড়িওলার পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
৮. ঘড়িওলা সোনা-টিয়াকে কী দিয়ে সাবধান করেছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা সোনা-টিয়াকে একটি গোলাপি হ্যান্ডবিল দিয়ে সাবধান করেছিল, যাতে মাকুর পরিচয় লেখা ছিল।
৯. কালিয়া বনে সোনা-টিয়া কাকে জল খেতে দেখেছিল?
উত্তর: কালিয়া বনে সোনা-টিয়া সং এবং সার্কাসের জানোয়ারদের (ঘোড়া, বাঁদর, ছাগল, ভাল্লুক, কুকুর) নদীর জলে জল খেতে দেখেছিল।
১০. সং সোনা-টিয়াকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: সং সোনা-টিয়াকে বটতলার সরাইখানায় বা হোটেলে নিয়ে গিয়েছিল খাওয়ার জন্য।
১১. বটতলার হোটেলের মালিক কে ছিল?
উত্তর: বটতলার হোটেলের মালিক ছিল ছাই রঙের দাড়ি-গোঁফওয়ালা হোটেলওলা, যে আসলে সার্কাস পার্টির পালানো অধিকারী 'নোটো মাস্টার'।
১২. হোটেলওলার রান্নার বিশেষত্ব কী ছিল?
উত্তর: হোটেলওলার রান্না করা 'স্বর্গের সুরুয়া' এবং হাতের রুটি ছিল অত্যন্ত সুস্বাদু।
১৩. 'স্বর্গের সুরুয়া' এত সুস্বাদু হওয়ার আসল কারণ কী ছিল?
উত্তর: হোটেলওলার খসে পড়া দাড়ি-গোঁফ সুরুয়ার মধ্যে পড়ে রান্না হয়ে যাওয়াই ছিল স্বর্গের সুরুয়া সুস্বাদু হওয়ার গোপন কারণ।
১৪. সং সপ্তাহে তিনবার পোস্টাপিসে কেন যেত?
উত্তর: সং তার কেনা লটারির টিকিটের ফল জানতে বা সে জিতেছে কি না তার খবর নিতে সপ্তাহে তিনবার পোস্টাপিসে যেত।
১৫. সার্কাস পার্টি কেন বনের মধ্যে লুকিয়ে ছিল?
উত্তর: সার্কাস পার্টির অধিকারী নোটো মাস্টার জিনিসপত্রের দাম না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় দোকানদাররা পুলিশে খবর দেয়। তাই পুলিশের (পেয়াদার) ভয়ে পুরো সার্কাস পার্টি বনে লুকিয়ে ছিল।
১৬. সোনা-টিয়া রাতে কোথায় ঘুমিয়েছিল?
উত্তর: সোনা-টিয়া রাতে গাছের ডালপালার মধ্যে তক্তা দিয়ে তৈরি 'গেছো-ঘরে' ঘুমিয়েছিল।
১৭. সোনা রাতে মাকুকে কী দিয়ে বেঁধে রেখেছিল এবং কেন?
উত্তর: মাকু যাতে রাতে পালিয়ে না যায়, তাই সোনা সেফটিপিন দিয়ে নিজের ফ্রকের সঙ্গে মাকুর জামার কোণটা বেঁধে রেখেছিল।
১৮. বাঘধরার ফাঁদ আসলে কী ছিল?
উত্তর: বাঘধরার ফাঁদ আসলে ছিল বুনো শুয়োর ধরার জন্য তৈরি গভীর গর্ত, যার উপর লতাপাতা দিয়ে ঢাকা থাকত।
১৯. বাঘের ফাঁদে কে পড়েছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা ও সার্কাসের লোকদের ধরতে আসা পেয়াদা বাঘের ফাঁদে পড়েছিল।
২০. ঘড়িওলা কেন পুলিশের ভয়ে পালাচ্ছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা ঘড়ির দোকানের গুদাম থেকে বাতিল কলকব্জা চুরি করে মাকুকে তৈরি করেছিল বলে পুলিশের ভয়ে পালাচ্ছিল।
২১. হোটেলওলার জন্মদিনের ভোজে সোনা-টিয়াকে কে নতুন জামা উপহার দিয়েছিল?
উত্তর: সং সোনা-টিয়াকে একটি গোলাপি ও একটি ফিকে বেগুনি রঙের নতুন জামা উপহার দিয়েছিল।
২২. সার্কাসের জানোয়াররা কেন নেতিয়ে পড়েছিল?
উত্তর: সং ভুল করে জানোয়ারদের ভিটামিনের বদলে কড়া জোলাপ খাইয়ে দেওয়ায় তারা দুর্বল হয়ে নেতিয়ে পড়েছিল।
২৩. হোটেলওলার জন্মদিনের সার্কাসে রিং-মাস্টার কে হয়েছিল?
উত্তর: হোটেলওলার জন্মদিনের সার্কাসে খোদ হোটেলওলাই রিং-মাস্টার হয়েছিল।
২৪. সার্কাসে সোনা-টিয়া কী গান গেয়েছিল?
উত্তর: সার্কাসে সোনা-টিয়া "ফুল কলি আসে অলি গুন্ গুন্ গুঞ্জনে" গানটি গেয়েছিল।
২৫. জাদুকর শূন্য থেকে দড়ি ছুঁড়ে কাকে নামিয়ে এনেছিল?
উত্তর: জাদুকর শূন্য থেকে দড়ি ছুঁড়ে পরিদের রানিকে নামিয়ে এনেছিল।
২৬. পরিদের রানি আসলে কে সেজেছিল?
উত্তর: পরিদের রানি আসলে দড়াবাজির দলের একটি ছোটো ছোকরা সেজেছিল।
২৭. সার্কাসে কার সঙ্গে পরিদের রানির বিয়ে হয়েছিল?
উত্তর: সার্কাসে মহা ধুমধামের সাথে মাকুর সঙ্গে পরিদের রানির বিয়ে হয়েছিল।
২৮. মাকু কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: মাকু বাঁশ বনে খরগোশ ধরবার ফাঁদে আটকে পড়ে চাবি ফুরিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল।
২৯. মাকুর চাবি ফুরিয়ে গেলে টিয়া কী দিয়ে তাকে দম দিয়েছিল?
উত্তর: মাকুর চাবি ফুরিয়ে গেলে টিয়া তার পুঁটলিতে থাকা মামনির সিঁদুর পরবার রুপোর কাঠি দিয়ে মাকুকে দম দিয়েছিল।
৩০. সোনা মাকুর মাথায় কীসের কাঁদার কল বসিয়েছিল?
উত্তর: সোনা মাকুর মাথায় ফুটো জ্যামের টিন, রবারের নল এবং গেলাসের জল দিয়ে একটি অদ্ভুত কাঁদার কল বসিয়েছিল।
৩১. মাকুর নাকের কোন কল টিপলে মাকু ঘুমিয়ে পড়ে?
উত্তর: মাকুর নাকের টিপকল টিপলে সে হাই তুলে ঘুমিয়ে পড়ে।
৩২. কাঁদার কল লাগানোর পর মাকু কাঁদলে কী ধুয়ে গড়াচ্ছিল?
উত্তর: কাঁদার কল লাগানোর পর মাকু কাঁদলে তার গালের নতুন লাগানো লাল রং ধুয়ে গড়াচ্ছিল।
৩৩. পেয়াদা কী খবর নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: পেয়াদা খবর নিয়ে এসেছিল যে সং লটারি জিতেছে এবং তার টিকিটটা আপিসে জমা দিলেই সে পাঁচ হাজার টাকা পাবে।
৩৪. সঙের লটারির টিকিটের আধখানা কোথায় ছিল?
উত্তর: সঙের লটারির টিকিটের আধখানা টিয়ার কাছে ছিল, যা সে কুড়িয়ে পেয়ে মাকুর চাবিকাঠির মোড়ক বানিয়েছিল।
৩৫. সোনা-টিয়াকে খুঁজতে বনে কারা এসেছিল?
উত্তর: সোনা-টিয়াকে খুঁজতে তাদের মামনি এবং বাপি বনে এসেছিল।
৩৬. পেয়াদাটি আসলে কে ছিল?
উত্তর: পেয়াদাটি আসলে ছিল সোনা-টিয়ার পিসেমশাই, যিনি একজন পুলিশসাহেব।
৩৭. ঘড়িওলা আর হোটেলওলার মধ্যে সম্পর্ক কী ছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা আর হোটেলওলা আসলে ছিল দুই ভাই।
৩৮. ঘড়িওলা টাকা পেলে কোথায় ফিরে যেতে চেয়েছিল?
উত্তর: ঘড়িওলা টাকা পেলে ধার শোধ করে নিজের মায়ের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিল।
৩৯. জাদুকর সোনা-টিয়াকে কী উপহার দিয়েছিল?
উত্তর: জাদুকর সোনা-টিয়াকে দুটো সাদা খরগোশের বাচ্চা উপহার দিয়েছিল।
৪০. পিসির খোকার নাম কী ছিল?
উত্তর: পিসির খোকার নাম ছিল বোম্বা।

৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ১০ টি প্রশ্ন

১. 'মাকু' উপন্যাসে মাকু কে? তার বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি আলোচনা করো।

উত্তর: লীলা মজুমদার রচিত 'মাকু' উপন্যাসের নামচরিত্র মাকু কোনো সাধারণ মানুষ নয়, সে হলো ঘড়িওলার তৈরি একটি কলের মানুষ বা যন্ত্রমানব।

বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি: ঘড়িওলা সতেরো বছর ধরে কারখানার বাতিল যন্ত্রপাতি দিয়ে মাকুকে তৈরি করেছিল। মাকুকে দেখতে অবিকল মানুষের মতো— লম্বাটে, কোঁকড়া চুল, ছাই রঙের চোখ এবং নাকের ডগায় একটি কালো তিল আছে (যার নীচে একটি টিপকল বা সুইচ লুকানো)। মাকু যন্ত্রের তৈরি হলেও সে অনেক কঠিন ও সূক্ষ্ম কাজ করতে পারে। সে অনায়াসে হাঁটতে, চলতে, কথা বলতে, অঙ্ক কষতে, সেলাই কল চালাতে, পেরেক ঠুকতে, এমনকি নাচতে ও গাইতে পারে। তার গায়ের জোর অসীম।
তবে মাকুর প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল যে সে সাধারণ মানুষের মতো হাসতে বা কাঁদতে পারত না। এই না-পারাটাই তার মনে দুঃখের জন্ম দেয়। জাদুকরের দেখানো 'পরিদের রানি'কে বিয়ে করার জন্য সে ঘড়িওলার কাছে কাঁদার কল চেয়ে বায়না ধরে। শেষ পর্যন্ত ছোট্ট সোনার উপস্থিত বুদ্ধিতে জ্যামের টিন ও জলের সাহায্যে তার মাথায় কাঁদার কল বসানো হয়। মাকু আসলে যন্ত্র ও মানবিক আবেগের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।

২. সোনা ও টিয়া কেন বাড়ি থেকে পালিয়েছিল? কালিয়া বনে গিয়ে তাদের কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?

উত্তর: পালানোর কারণ: সোনা এবং টিয়া দুই ছোট্ট বোন। তাদের পিসির খোকার জন্মদিনে অনেক নতুন খেলনা (প্যাঁ-প্যাঁ পুতুল) আসে, কিন্তু সোনা-টিয়াকে কেউ কোনো খেলনা দেয় না বা তাদের পাত্তা দেয় না। এই অভিমানে এবং প্যাঁ-প্যাঁ পুতুলের খোঁজে তারা আম্মাকে লুকিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা চলে যায় ভয়ংকর 'কালিয়ার বনে'।

কালিয়া বনের অভিজ্ঞতা: কালিয়া বনে গিয়ে তাদের এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়। পথে তাদের দেখা হয় ঘড়িওলার সঙ্গে, যে মাকুর ভয়ে পালাচ্ছিল। এরপর তারা বনে সার্কাসের জানোয়ারদের জল খেতে দেখে এবং সঙের সাথে তাদের আলাপ হয়। সং তাদের নিয়ে যায় বটতলার সরাইখানায়, যেখানে হোটেলওলার 'স্বর্গের সুরুয়া' খেয়ে তারা তৃপ্ত হয়। বনে তারা গেছো-ঘরে রাত কাটায়, মাকুকে খুঁজে পায়, এবং সার্কাসের দলের নানা মজার ও রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী হয়। এই বনটি তাদের কাছে কোনো ভয়ংকর জায়গা নয়, বরং এক ফ্যান্টাসি বা জাদুর জগতে পরিণত হয়েছিল।

৩. 'স্বর্গের সুরুয়া' কী? এটি কীভাবে রান্না করা হতো এবং এর আসল রহস্য কী ছিল?

উত্তর: স্বর্গের সুরুয়া: লীলা মজুমদারের 'মাকু' উপন্যাসে কালিয়া বনের মধ্যে বটতলার সরাইখানায় হোটেলওলা যে বিশেষ ধরনের স্যুপ বা ঝোল রান্না করত, সার্কাসের লোকেরা তার নাম দিয়েছিল 'স্বর্গের সুরুয়া'। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ছিল।

রান্না ও রহস্য: হোটেলওলা বড়ো পেতলের হাঁড়িতে কাঠের জ্বালে এই সুরুয়া তৈরি করত। প্রথমে তার হাতের সুরুয়া কেউ খেতে চাইত না। কিন্তু একদিন রান্না করার সময় অসাবধানতাবশত হোটেলওলার নকল দাড়ি-গোঁফ খুলে হাঁড়ির ফুটন্ত সুরুয়ার মধ্যে পড়ে যায় এবং তার সঙ্গেই রান্না হয়ে যায়। মজার ব্যাপার হলো, সেই দাড়ি-গোঁফ মেশানো সুরুয়া খেয়েই সবাই তার সুখ্যাতি করে এবং জাদুকর এর নাম দেয় 'স্বর্গের সুরুয়া'। এরপর থেকে হোটেলওলা লুকিয়ে লুকিয়ে প্রতিদিন তার দাড়ি-গোঁফ সুরুয়ার হাঁড়িতে ফেলে রান্না করত। এই অদ্ভুত ও হাস্যকর ব্যাপারটিই ছিল স্বর্গের সুরুয়া সুস্বাদু হওয়ার আসল রহস্য, যা সোনা-টিয়া আবিষ্কার করেছিল।

৪. হোটেলওলা আসলে কে ছিল? সে বনের মধ্যে হোটেল চালাত কেন?

উত্তর: হোটেলওলার পরিচয়: কালিয়া বনের বটতলায় যে লোকটি নকল দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে হোটেল চালাত, সে আসলে কোনো সাধারণ হোটেলওলা ছিল না। সে ছিল সার্কাস পার্টির পালানো অধিকারী 'নোটো মাস্টার'। সে এবং ঘড়িওলা ছিল সম্পর্কে দুই ভাই।

বনের মধ্যে হোটেল চালানোর কারণ: নোটো মাস্টার তার সার্কাসের জন্য নতুন তাঁবু, ঝাড়বাতি এবং সবার নতুন পোশাক বানিয়েছিল। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার আগেই সে এসব জিনিসের দাম না দিয়ে পালিয়ে আসে। ফলে দোকানদাররা পুলিশে (থানায়) খবর দেয় এবং তার নামে হুলিয়া জারি হয়। পুলিশের (পেয়াদার) হাত থেকে বাঁচতেই নোটো মাস্টার কালিয়া বনের গভীরে গা ঢাকা দেয়। সার্কাস পার্টির অন্য লোকেরাও তার সাথে বনে লুকিয়ে ছিল। তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্যই নোটো মাস্টার ছদ্মবেশে বটতলার সরাইখানা বা হোটেলটি চালাত এবং সেখান থেকে উপার্জিত টাকা দিয়ে ধার শোধ করার চেষ্টা করত।

৫. মাকু কীভাবে কাঁদতে পেরেছিল তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উত্তর: মাকু ছিল একটি কলের মানুষ, তাই তার হাসার বা কাঁদার ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু সে পরিদের রানিকে বিয়ে করার জন্য কাঁদার কল চেয়ে ঘড়িওলাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। অবশেষে ছোট্ট সোনা তার শিশুসুলভ বুদ্ধি দিয়ে মাকুকে কাঁদাতে সক্ষম হয়।

হোটেলওলার জন্মদিনের দিন, সোনা মাকুর নাকের টিপকল টিপে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। ঘড়িওলা মাকুর মাথার খুলি (চাঁদি) খুলে দেয়, যার ভেতরে কলকব্জার মাঝে ফাঁকা জায়গা ছিল। সোনা তার পুঁটলি থেকে একটি ফুটো জ্যামের টিন, একটি কেরোসিন তেল ঢালবার ফোঁদল এবং রবারের নল বের করে। সে জ্যামের টিনটি মাকুর মাথায় বসিয়ে তার তলায় ফোঁদল ও রবারের নল লাগিয়ে নলের অন্য প্রান্তটি মাকুর দুই চোখের মাঝখানে গুঁজে দেয়। তারপর টিনে জল ঢেলে মাকুর খুলি বন্ধ করে তাকে জাগিয়ে তোলে। মাকু উঠে বসার সাথে সাথেই টিনের ফুটো দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল তার চোখ দিয়ে পড়তে শুরু করে। এভাবেই সোনার সাধারণ বুদ্ধিতে মাকু সত্যিকারের মানুষের মতো অঝোরে কাঁদতে শুরু করে এবং তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হয়।

৬. 'মাকু' উপন্যাসে পেয়াদা চরিত্রটির ভূমিকা কী? সে কীভাবে বাঘের ফাঁদে পড়েছিল?

উত্তর: পেয়াদার ভূমিকা: 'মাকু' উপন্যাসে পেয়াদা বা পুলিশ চরিত্রটি একটি অত্যন্ত মজার এবং রহস্যময় চরিত্র। সার্কাসের লোকেরা এবং ঘড়িওলা সবসময় এই পেয়াদার ভয়ে তটস্থ থাকত, কারণ তারা ভেবেছিল পেয়াদা তাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছে। কিন্তু উপন্যাসের শেষে জানা যায় যে, এই পেয়াদা আসলে কোনো পুলিশ নয়, সে হলো সোনা-টিয়ার পিসেমশাই। তিনি ছদ্মবেশে সোনা-টিয়াকে খুঁজতে এবং সং যে লটারি জিতেছে সেই সুখবরটি দিতে বনে এসেছিলেন।

বাঘের ফাঁদে পড়া: সোনা-টিয়া যখন বনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন তারা পেয়াদাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। পেয়াদাও তাদের ডাকতে ডাকতে তাদের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করে। সোনা-টিয়া আগে থেকেই বুনো শুয়োর বা বাঘ ধরার একটি পুরোনো ফাঁদের (গভীর গর্তের) কথা জানত এবং তার ওপর থেকে সাবধান করার বাঁশের খুঁটিটি সরিয়ে রেখেছিল। পেয়াদা সোনা-টিয়ার পিছু নিতে গিয়ে না দেখে সেই লতাপাতায় ঢাকা গর্তের মধ্যে ধড়াম করে পড়ে যায়। এভাবেই সে বাঘের ফাঁদে আটকে পড়েছিল।

৭. সঙের লটারির টিকিটের আধখানা কীভাবে হারিয়েছিল এবং কীভাবে তা খুঁজে পাওয়া গেল?

উত্তর: হারানোর ঘটনা: সার্কাস পার্টির সং লটারি জিতেছিল কি না তা জানার জন্য সপ্তাহে তিনবার পোস্টাপিসে যেত। সে তার কেনা লটারির টিকিটের আধখানা প্রমাণস্বরূপ হোটেলওলার কাছে রাখতে দিয়েছিল। হোটেলওলা সেটি নিজের কানের কাছে গুঁজে রেখেছিল। কিন্তু রান্নাবান্নার ঝক্কি এবং বনের মধ্যে হুড়োহুড়ির সময় টিকিটের সেই আধখানা তার কান থেকে কোথায় যেন পড়ে হারিয়ে যায়।

খুঁজে পাওয়ার ঘটনা: উপন্যাসের শেষে যখন পেয়াদা (পিসেমশাই) এসে খবর দেয় যে সং লটারি জিতেছে এবং টিকিট দেখালে পাঁচ হাজার টাকা পাবে, তখন সবাই হারিয়ে যাওয়া টিকিটের জন্য হাহাকার করতে থাকে। হঠাৎ সোনা দেখতে পায় যে সঙের পকেট থেকে উঁকি মারা টিকিটের গোলাপি রঙের সাথে টিয়ার তৈরি করা মাকুর চাবিকাঠির মোড়কের রঙের মিল আছে। আসলে টিয়া বনে কুড়িয়ে পাওয়া সেই গোলাপি টিকিটের আধখানা দিয়েই মামনির সিঁদুরকাঠি মুড়িয়ে মাকুর চাবি বানিয়েছিল। সোনা টিয়ার পুঁটলি থেকে সেই চাবিকাঠি বের করে তার গোলাপি মোড়কটি খুলে হোটেলওলার হাতে দেয় এবং এভাবেই সঙের লটারির টিকিটের হারানো আধখানা খুঁজে পাওয়া যায়।

৮. হোটেলওলার জন্মদিনের ভোজে সার্কাসের খেলা কেমন হয়েছিল তা বর্ণনা করো।

উত্তর: হোটেলওলার (নোটো মাস্টার) জন্মদিনের ভোজে কালিয়া বনের ঘাসজমিতে এক জাঁকজমকপূর্ণ সার্কাসের আসর বসেছিল।

রাতের অন্ধকারে ঘাসজমি বড়ো বড়ো ডে-লাইট বাতির আলোয় সেজে উঠেছিল। গাছের ডালপালায় ঘেরা সেই প্রাকৃতিক মঞ্চে প্রথমে দশটা কুকুর পেছনের পায়ে দাঁড়িয়ে করতাল বাজাতে বাজাতে ঢোকে। তারপর বাঁদররা টুপি মাথায় দিয়ে ঘোড়া হাঁকিয়ে আসে। সং মজার মজার ডিগবাজি খেয়ে এবং উলটো কথা বলে দর্শকদের হাসিয়ে লুটোপুটি খাওয়ায়। দড়াবাজির ছেলেরা শূন্যে দোলনায় নানা কসরত দেখায়। সোনা ও টিয়াও মাঝখানে দাঁড়িয়ে "ফুল কলি আসে অলি" গান গেয়ে নেচে সবাইকে মুগ্ধ করে।
এরপর ঘড়িওলা মাকুকে নিয়ে আসে এবং মাকু মানুষের মতো কাঠের বাক্সে পেরেক ঠোকে, সাইকেল চালায়, টাইপরাইটারে চিঠি লেখে। সবশেষে জাদুকর তার জাদুর সাহায্যে শূন্য থেকে দড়ি ছুঁড়ে 'পরিদের রানি'কে (আসলে দড়াবাজির এক ছোকরা) নামিয়ে আনে। ঘাসজমির এই সার্কাস যেন এক மாயাবী ও স্বপ্নের জগতের ছবি তুলে ধরে।

৯. পরিদের রানির সঙ্গে মাকুর বিয়ের দৃশ্যটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উত্তর: হোটেলওলার জন্মদিনের সার্কাসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল পরিদের রানির সঙ্গে মাকুর বিয়ে।

জাদুকর যখন শূন্য থেকে জাদুর সাহায্যে সাদা পোশাকে সাজা 'পরিদের রানি'কে নামিয়ে আনে, তখন গাঁয়ের লোকেরা অবাক হয়ে যায়। পরিদের রানি নামতেই মাকু অধিকারীর কাছে গিয়ে কী যেন বলে এবং বাজনার তালে তালে নাচতে শুরু করে দেয়। ঘড়িওলা মাকুকে রানির সামনে দাঁড় করায়। সং বেতের ঝুড়িতে দুটি মোটা গোড়ে-মালা এবং বরের মাথার টোপর নিয়ে আসে। জোরে জোরে বাজনা বাজতে শুরু করে এবং দড়াবাজির ছেলেরা গাছের ডাল থেকে রাশি রাশি লাল-হলুদ ফুল ছুঁড়তে থাকে। এই আনন্দমুখর ও মায়াবী পরিবেশে মহা ধুমধামের সাথে মাকুর এবং পরিদের রানির বিয়ে সম্পন্ন হয়। দর্শকদের সাথে সোনা-টিয়াও আনন্দে কাঁদতে ও হাসতে থাকে। এটি ছিল উপন্যাসের অন্যতম একটি চমৎকার ও ফ্যান্টাসিতে ভরা দৃশ্য।

১০. 'মাকু' উপন্যাসটিকে একটি সার্থক কিশোর ফ্যান্টাসি বা রূপকথার গল্প বলা যায় কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর: লীলা মজুমদার রচিত 'মাকু' উপন্যাসটি বাংলা কিশোর সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ এবং একে একটি সার্থক ফ্যান্টাসি বা আধুনিক রূপকথার গল্প বলা যায়।

ফ্যান্টাসি বা রূপকথার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বাস্তবের সাথে অবাস্তব বা কল্পনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। 'মাকু' উপন্যাসে আমরা দেখি সোনা ও টিয়া নামের দুই ছোট্ট বোন এক অজানা ও ভয়ংকর 'কালিয়া বনে' পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা কোনো বিপদে পড়ে না, বরং তাদের দেখা হয় ঘড়িওলার সাথে, যে এমন এক 'কলের মানুষ' (মাকু) তৈরি করেছে যে সব কাজ করতে পারে। বনের মধ্যে সার্কাসের পশুদের জল খাওয়া, জাদুকরের শূন্য থেকে পরিদের রানিকে নামিয়ে আনা, হোটেলওলার দাড়ি-গোঁফ মেশানো 'স্বর্গের সুরুয়া' বা সোনার বুদ্ধিতে কলের মানুষের কেঁদে ওঠা—এই প্রতিটি ঘটনাই শিশুদের কল্পনার জগতকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
এখানে ভয়ের চেয়ে আনন্দ বেশি, লজিকের চেয়ে ম্যাজিক বেশি। পেয়াদা বা পুলিশ যে আসলে তাদের পিসেমশাই, তা উপন্যাসের শেষে এক মজার মোড় নিয়ে আসে। শিশুদের সরল মনস্তত্ত্ব, অসীম কল্পনাশক্তি এবং ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজমের এক চমৎকার মিশেল থাকার কারণেই 'মাকু' একটি সার্থক ও হৃদয়গ্রাহী কিশোর ফ্যান্টাসি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

৭. ব্যাকরণ ও নির্মিতি (Grammar & Composition) সিলেবাস অনুযায়ী

কারক ও অকারক সম্পর্ক

  • সোনা টিয়া হাসতে লাগল। - কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • আমরা কালিয়ার বনে যাচ্ছি। - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
  • জাদুকরের কী হাসি! - সম্বন্ধ পদে 'এর' বিভক্তি।
  • টিয়া পুঁটলি খুলে একটা ছোটো কাঁচি বের করল। - কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
  • স্কুড্রাইভার দিয়ে ওর গায়ের কোনো দু-টুকরো একসঙ্গে রাখব না। - করণ কারকে 'দিয়ে' অনুসর্গ।
  • গাছের ডাল থেকে একটা প্রকাণ্ড বড়ো ডে-লাইট বাতি ঝুলছে। - অপাদান কারকে 'থেকে' অনুসর্গ।

সমাস নির্ণয়

  • ঘড়িওলা: ঘড়ির ওলা (মালিক) (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস) / ঘড়ি আছে যার (বহুব্রীহি)।
  • সরাইখানা: সরাইয়ের খানা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
  • দড়াবাজি: দড়ির বাজি (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।
  • হাত-পা: হাত ও পা (দ্বন্দ্ব সমাস)।
  • গেছো-ঘর: গাছে অবস্থিত ঘর (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
  • রাজদণ্ড: রাজার দণ্ড (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)।

বাক্য ও বাচ্য পরিবর্তন

  • বাক্য: সোনা-টিয়াকে কোলে করে নামিয়ে এনে আবার খাবারের বাটির সামনে বসিয়ে দিল। (যৌগিক বাক্যে)
    উত্তর: সোনা-টিয়াকে কোলে করে নামিয়ে আনল এবং আবার খাবারের বাটির সামনে বসিয়ে দিল।
  • বাক্য: টিয়া কাঁদবে বলে হাঁ করেছে, ঠিক সেই সময় হট্টগোল করতে করতে জাদুকর এসে উপস্থিত। (জটিল বাক্যে)
    উত্তর: যখন টিয়া কাঁদবে বলে হাঁ করেছে, ঠিক সেই সময় হট্টগোল করতে করতে জাদুকর এসে উপস্থিত।
  • বাচ্য: সোনা-টিয়া হাসতে লাগল। (ভাববাচ্যে)
    উত্তর: সোনা-টিয়ার দ্বারা হাসা হতে লাগল।
  • বাচ্য: জাদুকর পরিদের রানিকে নামাবে। (কর্মবাচ্যে)
    উত্তর: জাদুকরের দ্বারা পরিদের রানিকে নামানো হবে।

নির্মিতি (অনুশীলনের জন্য)

  • কাল্পনিক সংলাপ: মাকু এবং পরিদের রানির মধ্যে বিয়ের পর একটি মজাদার কাল্পনিক সংলাপ রচনা করো।
  • প্রতিবেদন রচনা: "স্থানীয় মেলায় সার্কাসের খেলা দেখতে উপচে পড়া ভিড়" - এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।
  • প্রবন্ধ রচনা: "আমার প্রিয় একটি গল্পের বই" অথবা "শৈশবের কল্পনা ও বাস্তব"।

মাকু উপন্যাস সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)

মাকু উপন্যাসটি প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক লীলা মজুমদারের লেখা।

মাকু কোনো সাধারণ মানুষ ছিল না, সে ছিল ঘড়িওলার তৈরি একটি কলের মানুষ বা যন্ত্রমানব, যে অনেক কাজ করতে পারত কিন্তু হাসতে বা কাঁদতে পারত না।

পিসির খোকার জন্য নতুন খেলনা আসায় অভিমানে সোনা-টিয়া প্যাঁ-প্যাঁ পুতুল কেনার খোঁজে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভয়ংকর কালিয়া বনে চলে গিয়েছিল।

হোটেলওলার খসে পড়া নকল দাড়ি-গোঁফ সুরুয়ার মধ্যে পড়ে রান্না হয়ে যাওয়াই ছিল স্বর্গের সুরুয়া সুস্বাদু হওয়ার আসল রহস্য।

ছোট্ট সোনা মাকুর মাথার খুলি খুলে তার মধ্যে ফুটো জ্যামের টিন ও রবারের নল বসিয়ে জল ঢেলে দিয়েছিল, যার ফলে মাকু মানুষের মতো কাঁদতে পেরেছিল।
```eof