দেবতাত্মা হিমালয়

প্রবোধকুমার সান্যাল রচিত 'দেবতাত্মা হিমালয়' ভ্রমণকাহিনির সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

দেবতাত্মা হিমালয়

প্রবোধকুমার সান্যাল ভ্রমণকাহিনি

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • একাদশ পাঠ
উৎস: 'দেবতাত্মা হিমালয়' প্রথম খণ্ডের 'কালিম্পং' অধ্যায়

হিমালয় তিব্বত যাত্রা রবীন্দ্রনাথ টেলিফোন কাহিনি ঐতিহাসিক

প্রবোধকুমার সান্যাল (১৯০৫ - ১৯৬৩)

বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক এবং ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা। 'কল্লোল' পত্রিকার লেখকদের অন্যতম। প্রথম উপন্যাস 'যাযাবর'। 'মহাপ্রস্থানের পথ' নামে বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি লিখে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। 'দেবতাত্মা হিমালয়' (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড) তাঁর অমর সৃষ্টির একটি উজ্জ্বল পরিচয়। এছাড়া 'প্রিয়বারী', 'নদ ও নদী', 'নিহংসী' প্রভৃতি উপন্যাস এবং 'অপুর উত্তরায়ণ', 'দিকবিদিক' প্রভৃতি গল্পগ্রন্থের রচয়িতা।

📝

রচনা

দেবতাত্মা হিমালয়

👤

লেখক

প্রবোধকুমার সান্যাল

📚

পাঠ

একাদশ পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

ভ্রমণকাহিনি

পাঠ্যের সারাংশ ও মূলভাব

মূলভাব: "দেবতাত্মা হিমালয়" ভ্রমণকাহিনির এই অংশে লেখক কালিম্পং শহরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ২৫ বৈশাখের জন্মদিন পালনের এক স্মরণীয় ঘটনা বর্ণনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে 'যুগান্তর' পত্রিকা আয়োজন করেছিল একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের—কবি কলকাতা থেকে টেলিফোনে কালিম্পংবাসীকে তাঁর নবরচিত কবিতা শোনাবেন। এই আয়োজনকে ঘিরে টেলিফোন লাইন বসানো থেকে শুরু করে অনুষ্ঠান সম্প্রচার—এক অসাধারণ কাহিনি ফুটে উঠেছে।

পাশাপাশি লেখক সেই সময়ে তিব্বত যাওয়ার প্রাচীন পথ এবং যেসব মহান বাঙালি—শরৎচন্দ্র দাস, রামমোহন রায়, বিবেকানন্দ প্রমুখ এই পথে গিয়েছেন, তাঁদের কথা স্মরণ করেছেন। হিমালয়ের এই দেবতুল্য মহিমা আর মানুষের অসামান্য প্রচেষ্টার এক জীবন্ত দলিল এই রচনা।

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো

৫ টি
১.১ লামারা রাজকীয় সম্বর্ধনা জানিয়েছিলেন রাজপুরুষ —

লামারা রাজকীয় সম্বর্ধনা জানিয়েছিলেন রাজপুরুষ কুমার রক্ষিত-কে।

১.২ তিব্বতীদের প্রধান ব্যবসা —

তিব্বতীদের প্রধান ব্যবসা পশম-এর। পশমের বাণিজ্যই তিব্বতের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।

১.৩ কালিম্পং-এর ল্যান্ডমার্ক —

কালিম্পং-এর ল্যান্ডমার্ক হলো বড়া গির্জা। এটি শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

১.৪ রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখক তুলে দিয়েছিলেন —

রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখক তুলে দিয়েছিলেন যুগান্তর পত্রিকার 'রবীন্দ্র জয়ন্তী সংখ্যা'।

১.৫ নবরচিত একটি কবিতা গড়গড় করে আবৃত্তি করতে রবীন্দ্রনাথের সময় লেগেছিল —

রবীন্দ্রনাথের নবরচিত কবিতা আবৃত্তি করতে সময় লেগেছিল পনেরো মিনিট।

২. ঘটে-যাওয়া ঘটনার ক্রম অনুযায়ী সাজাও

সঠিক ক্রম:

  1. ২.৩ ২৫ বৈশাখের সময় জম্মদিন উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ দেশবাসীর উদ্দেশে একটি কবিতা পাঠ করবেন।
  2. ২.২ কবি তাঁর ঘরে আসেন বোস টেলিফোনে কবিতা পাঠ করবেন।
  3. ২.৭ কবির জন্মদিনের কবিতাপাঠের জন্য কলকাতা-কালিম্পংয়ের মধ্যে টেলিফোনের ব্যবস্থা হলো।
  4. ২.৫ সেজন্য পাহাড়ে-পাহাড়ে টেলিফোনের খুঁটি বসানো এবং তার খাটানো হলো কঠিন ধরে।
  5. ২.৬ বেতার-কতৃপক্ষ কবির কৃতিত্বটি ধরে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রচার করবেন, তাই এই ব্যবস্থা।
  6. ২.৪ প্রভুর নির্দিষ্ট সময় নিয়ে মথল বসামনা চেয়ামি বোস কয়েকবার ডাকলুম, হলো না কলকাতা... হলো না....?
  7. ২.১ কলকাতা থেকে তৎক্ষণাৎ জবাব এল—'ও.কে'।

৩. দাগ-দেওয়া শব্দের অনুরূপ শব্দ পাঠ্যাংশে খুঁজে বাক্য লেখো

৩.১ শরৎচন্দ্র দাসের ভ্রমণ-বিবরণ থেকেই প্রথম তিব্বতের কথা জানা যায়।

পাঠ্যাংশে অনুরূপ শব্দ: ভ্রমণবৃত্তান্ত — শরৎচন্দ্র দাসের ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকেই প্রথম তিব্বত সম্বন্ধে বিস্তারিত জানা যায়।

৩.২ এই পথে তিনজন বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি তিব্বতে গিয়েছিলেন।

পাঠ্যাংশে অনুরূপ শব্দ: প্রখ্যাত — এই পথে তিনজন প্রখ্যাত বাঙালি তিব্বতে গিয়েছিলেন।

৩.৩ সবার অগোচরে আত্মগোপনের জন্য অন্যরকম পোশাক পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র একদিন কলকাতা ছেড়ে গিয়েছিলেন।

পাঠ্যাংশে অনুরূপ শব্দ: ছদ্মবেশে — সবার অগোচরে ছদ্মবেশে আত্মগোপনের জন্য অন্যরকম পোশাক পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র একদিন কলকাতা ছেড়ে গিয়েছিলেন।

৩.৪ ভুল মানুষেরই হতে পারে, তবে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার সাহসও থাকা উচিত।

পাঠ্যাংশে অনুরূপ শব্দ: ত্রুটি — ভুল মানুষেরই হতে পারে, তবে নিজের ত্রুটি স্বীকার করে নেওয়ার সাহসও থাকা উচিত।

৩.৫ যাদের ওপর পরিচালনার ভার, এ-কাজের জন্য আগে তাদের দায়িত্ব-ত্যাগের প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

পাঠ্যাংশে অনুরূপ শব্দ: ছাড়পত্র — যাদের ওপর পরিচালনার ভার, এ-কাজের জন্য আগে তাদের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

৩.৬ যাঁরা নিজের নামেই বিখ্যাত, ভারতের সেই বরণীয় মানুষদেরই সম্মাননার আয়োজন হয়েছে এই সভায়।

পাঠ্যাংশে অনুরূপ শব্দ: স্বনামখ্যাত — যাঁরা স্বনামখ্যাত, ভারতের সেই বরণীয় মানুষদেরই সম্মাননার আয়োজন হয়েছে এই সভায়।

৪. ইংরেজি শব্দের বদলে বাংলা শব্দ বসিয়ে বাক্য লেখো

মূল বাক্যবাংলা প্রতিশব্দ
ডাক্তার গৃহিণীর ডাইনিং হলে প্রাতরাশ সারা হলো।খাবারঘর — ডাক্তার গৃহিণীর খাবারঘরে প্রাতরাশ সারা হলো।
এত বড় এপিক পৃথিবীর কোনো কালের কোনো সাহিত্য নেই।মহাকাব্য — এত বড় মহাকাব্য পৃথিবীর কোনো কালের কোনো সাহিত্য নেই।
কালিম্পং-এ টেলিফোন ছিল না।দূরভাষ — কালিম্পং-এ দূরভাষ ছিল না।
বেতার-কতৃপক্ষ তাঁর কৃতিত্বের সঙ্গে সঙ্গে রেডিও করবেন।সম্প্রচার — বেতার-কতৃপক্ষ তাঁর কৃতিত্বের সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রচার করবেন।
ভোরে আমার ড্রাইভার এল গাড়ি নিয়ে।গাড়িচালক — ভোরে আমার গাড়িচালক এল গাড়ি নিয়ে।
একটা বুজার বেল বাজল।ঘণ্টা — একটা বুজার ঘণ্টা বাজল।
ল্যান্ডমার্ক হলো কালিম্পং-এর লায়ামাক।পথিনেদেশক চিহ্ন — পথিনেদেশক চিহ্ন হলো কালিম্পং-এর লায়ামাক।

৫ ও ৬. বিশেষ্য-বিশেষণ প্রয়োগ

৫ বিশেষণের সঙ্গে উপযুক্ত বিশেষ্য বসিয়ে বাক্য রচনা: মম্ময়, ভীষণ, মায়াময়, সুখী, দীপ্ত, অগম্য, বিপুল, বুভুক্ষু
  • মম্ময়: হিমালয়ের মম্ময় সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
  • ভীষণ: পাহাড়ি পথে ভীষণ দুর্ঘটনা ঘটল।
  • মায়াময়: কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াময় রূপ দেখে চোখ ফেরানো যায় না।
  • সুখী: সুখী মানুষ সবসময় হাসিখুশি থাকে।
  • দীপ্ত: সকালের দীপ্ত সূর্য পাহাড়কে সোনালি করে দিয়েছে।
  • অগম্য: হিমালয়ের অগম্য পথে কেউ সহসা যেতে পারে না।
  • বিপুল: রবীন্দ্রনাথের বিপুল সৃষ্টি সম্ভার বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
  • বুভুক্ষু: বুভুক্ষু মানুষ খাদ্যের খোঁজে ছুটে বেড়ায়।
৬ বিশেষ্যের আগে উপযুক্ত বিশেষণ বসিয়ে বাক্য রচনা: কতৃর্ত্ব, স্বপ্নলোক, ব্যক্তি, আশঙ্কা, ইতিবৃত্ত, কীর্তি, রেখাচিত্র, দিগ্বলয়
  • অসাধারণ কতৃর্ত্ব: রবীন্দ্রনাথের অসাধারণ কতৃর্ত্ব আজও বিস্ময় জাগায়।
  • রঙিন স্বপ্নলোক: শিশুদের রঙিন স্বপ্নলোক কোনোদিন ফুরায় না।
  • মহান ব্যক্তি: স্বামী বিবেকানন্দ একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন।
  • গভীর আশঙ্কা: টেলিফোন লাইন কাজ না করবার গভীর আশঙ্কা সবার মনে ছিল।
  • পূর্ণ ইতিবৃত্ত: এটি কালিম্পং-এর পূর্ণ ইতিবৃত্ত নয়, কিছু স্মৃতিমাত্র।
  • অপূর্ব কীর্তি: তিব্বত যাত্রা এক অপূর্ব কীর্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
  • বিশেষ রেখাচিত্র: সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আঁকা সেই বিশেষ রেখাচিত্রটি 'যুগান্তর'-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
  • সুদূর দিগ্বলয়: হিমালয়ের সুদূর দিগ্বলয় রহস্যে মোড়া।

৭. দাগ-দেওয়া শব্দ কী জাতীয়? নতুন বাক্য রচনা করো

৭.১ শীতের হাওয়া ছিল কনকনে।

জাতি: বিশেষণ (ভাববাচক বিশেষণ — শীতলতা ও বেদনার অনুভূতি বোঝাচ্ছে)
নতুন বাক্য: কনকনে ঠাণ্ডায় পাখিরা নীড়ে ঢুকে গেল।

৭.২ বিরির করে বৃষ্টি হয়েই চলেছে।

জাতি: বিশেষ্য (প্রাকৃতিক ঘটনার নাম)
নতুন বাক্য: সারা রাত ধরে বৃষ্টি হয়ে চলেছে।

৭.৩ পায়ের নীচে কালিস্পঙ খবখব করতে লাগল কিনা আর মনে রইল না।

জাতি: বিশেষ্য (স্থানের নাম — কালিম্পং শহর)
নতুন বাক্য: কালিস্পঙ শহরটি পাহাড়ের কোলে অবস্থিত।

৮. তারতম্যসূচক শব্দ খুঁজে বের করো

বাক্যশব্দতুলনার ধরননতুন বাক্য
পৃথিবীর উচ্চতম শিখর তিনি।উচ্চতমবহুর মধ্যে তুলনা (Superlative)এভারেস্ট পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ।
এর চেয়ে মহত্তর উদ্যোগ আর দেখিনি।মহত্তরদুটির মধ্যে তুলনা (Comparative)গতবারের চেয়ে এবারের শোভাযাত্রা মহত্তর হয়েছে।
বাংলার এই পথই সর্বোত্তম।সর্বোত্তমবহুর মধ্যে তুলনা (Superlative)এটিই আমার মতে সর্বোত্তম উপায়।
পাশের গলিটি সংকীর্ণতর হয়ে এসেছে।সংকীর্ণতরদুটির মধ্যে তুলনা (Comparative)নতুন ঘরটি আগেরটির চেয়ে সংকীর্ণতর মনে হলো।
অল্প আয়োজনে শুরু হলো দীর্ঘতম যাত্রা।দীর্ঘতমবহুর মধ্যে তুলনা (Superlative)এটাই আমাদের জীবনের দীর্ঘতম যাত্রা।

৯. সংখ্যাবাচক শব্দ খুঁজে বের করো

বাক্যসংখ্যাবাচকঅনির্দেশকপূরণবাচক
গ্যাংটক থেকে নাথুলা গিরিসংকট মাত্র ছাব্বিশ মাইল।ছাব্বিশ——
তিন তেত্রিশ বছর সেখানে বাস করেছিলেন।তেত্রিশ——
দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন আধুনিক ভারতের কুলগুরু রাজা রামমোহন রায়।——দ্বিতীয়
শরৎচন্দ্র দাস গিয়েছিলেন উনিশ শতকের শেষ ভাগে।———
অষ্টম শতাব্দীতে রাজপুরুষ তিব্বত যান।——অষ্টম
বিমানে গেলে কলকাতা থেকে দিল্লি সোয়াটে সাড়ে তিন ঘণ্টা...তিন——
একটু আধো দেখে বড়াতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগল।—একটু, ঘণ্টাখানেক—
মনে পড়ে সেই ২৫ বৈশাখের অপারূ।——২৫ (তারিখ)
যেখানে বছর চোদ্দ আগে একটি রাত কাটিয়ে গিয়েছিলাম।চোদ্দএকটি—
কবি মাঝ পনেরো মিনিটকাল তাঁর কবিতা পাঠ করবেন।পনেরো——

ব্যাকরণ অনুশীলনী (১০-১৩)

১০ বিশেষ্যকে বিশেষণে বদলে লেখো: প্রণাম, অনুরোধ, পৃথিবী, উদ্দীপন, পূজা, উদ্বেগ, পুলক, আশঙ্কা
বিশেষ্যবিশেষণ
প্রণামপ্রণম্য
অনুরোধঅনুরুদ্ধ
পৃথিবীপার্থিব
উদ্দীপনউদ্দীপিত
পূজাপূজিত / পূজনীয়
উদ্বেগউদ্বিগ্ন
পুলকপুলকিত
আশঙ্কাআশঙ্কিত
১১ বিশেষণকে বিশেষ্যে বদলে লেখো: বৈদান্তিক, নবরচিত, অভিজাত, উচ্ছ্বসিত, প্রখ্যাত, প্রচলিত, প্রচুর, প্রধান
বিশেষণবিশেষ্য
বৈদান্তিকবেদান্ত
নবরচিতনবরচনা
অভিজাতঅভিজাত্য
উচ্ছ্বসিতউচ্ছ্বাস
প্রখ্যাতপ্রখ্যাতি
প্রচলিতপ্রচলন
প্রচুরপ্রাচুর্য
প্রধানপ্রাধান্য
১২ শুদ্ধ করে লেখো: শশাক্ষ, হিমালয়, সবাংশেপক্ষা, অন্যান্য, রক্তিমাভা, যুগান্তর, মায়াচ্ছন্ন, অপরাচু, সবাংিধক, রথীন্দ্র, নুপেন্দ্র, স্বীকারাক্তি, শয়ান, সম্বধনা, উন্নিত, অপরিচ্ছন্ন, দ্বিদ্বলয়, বারশ্বার, উদ্ধোধন, উচছ্বসিত
ভুলশুদ্ধ
শশাক্ষসাক্ষাৎ
হিমালয়হিমালয় (শুদ্ধ)
সবাংশেপক্ষাসম্বৎসর
অন্যান্যঅন্যান্য (শুদ্ধ)
রক্তিমাভারক্তিমাভা (শুদ্ধ)
যুগান্তরযুগান্তর (শুদ্ধ)
মায়াচ্ছন্নমায়াচ্ছন্ন
অপরাচুঅপরাহু
স্বীকারাক্তিস্বীকারোক্তি
শয়ানশয়ন
সম্বধনাসম্বর্ধনা
উন্নিতউন্নীত
অপরিচ্ছন্নঅপরিচ্ছন্ন (শুদ্ধ)
দ্বিদ্বলয়দিগ্বলয়
বারশ্বারবরাবর
উদ্ধোধনউদ্বোধন
উচছ্বসিতউচ্ছ্বসিত
১৩ প্রতিটি শব্দের মধ্যে দৃঢ় করে শব্দ আছে, বুঝে নিয়ে লেখো: জগৎপ্রখ্যাত, গিরিসংকট, কুলগুরু, ঠাকুরবাড়ি, ভ্রমণবৃত্তান্ত, রাজপুরুষ, ছদ্মবেশ, কুটিরবাড়ি, অর্থব্যয়, নবরচিত, মহাকবি, ভারতবরণ্য, স্বনামখ্যাত, স্বপ্নলোক, জন্মদিন
  • জগৎপ্রখ্যাত = জগৎ + প্রখ্যাত
  • গিরিসংকট = গিরি + সংকট
  • কুলগুরু = কুল + গুরু
  • ঠাকুরবাড়ি = ঠাকুর + বাড়ি
  • ভ্রমণবৃত্তান্ত = ভ্রমণ + বৃত্তান্ত
  • রাজপুরুষ = রাজ + পুরুষ
  • ছদ্মবেশ = ছদ্ম + বেশ
  • কুটিরবাড়ি = কুটির + বাড়ি
  • অর্থব্যয় = অর্থ + ব্যয়
  • নবরচিত = নব + রচিত
  • মহাকবি = মহা + কবি
  • ভারতবরণ্য = ভারত + বরণ্য
  • স্বনামখ্যাত = স্ব + নাম + খ্যাত
  • স্বপ্নলোক = স্বপ্ন + লোক
  • জন্মদিন = জন্ম + দিন

১৪. কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো

বাক্যাংশকারকবিভক্তি
তিব্বতবাসীরা তাঁর মূর্তিকে আজও বোধিসত্ত্ব নামে পূজা করে।কর্মকারককে বিভক্তি (মূর্তি + কে)
তিনি ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন তিব্বতে।অধিকরণ কারকএ বিভক্তি (তিব্বত + এ)
কবি তাঁর ঘরে আসেন বোস টেলিফোনে কবিতা পাঠ করবেন।অধিকরণ কারকএ বিভক্তি (টেলিফোন + এ)
কবি সেদিন আমাকে বাক্য পেয়েছিলেন।কর্মকারককে বিভক্তি (আমা + কে)
শরৎ দাসের ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকেই তিনি সর্বাধিক সাহায্য লাভ করেছিলেন।অপাদান কারকথেকে (বৃত্তান্ত + থেকে)

১৫. এক বাক্যে উত্তর দাও

10 টি
১৫.১ প্রাচীন পথ ধরে কোন তিনজন প্রখ্যাত বাঙালি অতীতে তিব্বত গিয়েছিলেন?
শরৎচন্দ্র দাস, রাজা রামমোহন রায় এবং স্বামী বিবেকানন্দ—এই তিনজন প্রখ্যাত বাঙালি প্রাচীন পথ ধরে তিব্বত গিয়েছিলেন।
১৫.২ কোন প্রাচীন পথের রেখা ধরে তাঁরা গিয়েছিলেন?
কালিম্পং হয়ে নাথুলা-জেলেপ লা গিরিসংকট ধরে প্রাচীন যে রেশম-পথ তিব্বত অবধি চলে গেছে, সেই পথের রেখা ধরেই তাঁরা তিব্বত গিয়েছিলেন।
১৫.৩ এখনকার পর্যটকরা এই প্রাচীন পথটি পরিহার করেন কেন?
পথটি এখন চিনা অধিকারে চলে গেছে। পর্যটনের জন্য এটি নিষিদ্ধ (বর্তমানে এই পথে যাতায়াত বন্ধ), তাই এখনকার পর্যটকরা এ পথ পরিহার করেন।
১৫.৪ কোন দুই বিখ্যাত বাঙালি তিব্বত গিয়ে বোধিসত্ত্ব উপাধি লাভ করেছিলেন?
শরৎচন্দ্র দাস এবং কুমার রক্ষিত—তিব্বতে গিয়ে বোধিসত্ত্ব উপাধি লাভ করেছিলেন। তিব্বতবাসীরা তাঁদের মূর্তিকে আজও পূজা করে।
১৫.৫ ছদ্মবেশে কে গিয়েছিলেন তিব্বত?
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪১ সালে ছদ্মবেশে তিব্বত গিয়েছিলেন।
১৫.৬ স্যার ক্ল্যান্স ইয়াংহাজবেন্ডকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল তিব্বত-বিষয়ক কোন বইটি?
শরৎচন্দ্র দাসের লেখা তিব্বত-বিষয়ক ভ্রমণবৃত্তান্ত (বাংলা \'তিব্বত ভ্রমণ\' বই) ইংরেজ তিব্বত-অভিযাত্রী স্যার ক্ল্যান্স ইয়াংহাজবেন্ডকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল।
১৫.৭ কালিম্পং-এর কোথায় পড়াশোনা করে অস্ট্রেলিয়া, ইতালিয়ান ও ইংরেজ অনাথ ছেলেমেয়েরা?
কালিম্পং-এর \'ডক্টর গ্রাহামস হোমস\'-এ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়া, ইতালিয়ান ও ইংরেজ অনাথ ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে।
১৫.৮ গৌরীপুর প্রসাদে কারা ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী?
গৌরীপুর প্রসাদে রবীন্দ্রনাথের ভাইপো রথীন্দ্রনাথ এবং ভ্রাতুষ্পুত্র নুপেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী।
১৫.৯ লেখকের অনুরোধে কোন পত্রিকার জন্য অনেকবার লেখা দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ?
লেখকের অনুরোধে \'যুগান্তর\' পত্রিকার জন্য অনেকবার লেখা দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৫.১০ ২৫ বৈশাখের সেই বিশেষ দিনটি যে ছিল শুক্লপক্ষ, লেখা থেকে সেকথা জানতে পারো কেমন করে?
লেখায় উল্লেখ আছে যে ২৫ বৈশাখে রাতের আকাশে \'কোরা চাঁদ\' (একফালি নতুন চাঁদ) উঠেছিল। অমাবস্যার পর নতুন চাঁদ ওঠে শুক্লপক্ষেই। সেখান থেকেই বোঝা যায় দিনটি শুক্লপক্ষের (শুক্লা প্রতিপদ বা দ্বিতীয়া) ছিল।

১৬. চার-পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও

8 টি
১৬.১ কীভাবে গিয়ে পৌঁছানো যায় কালিম্পং-এর ডক্টর গ্রাহামস হোম-এ। এই হোমটির বিশেষত্ব কী?
লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, কালিম্পং-এ থেকে আরও দু-তিন মাইল চড়াই পথ উঠে \'ডক্টর গ্রাহামস হোমস\' পৌঁছানো যায়। এটি পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। এই হোমের প্রধান বিশেষত্ব হলো—এটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের (যেমন অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইংল্যান্ড) অনাথ ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে থেকে পড়াশোনা করে।
১৬.২ ২৫ বৈশাখের \'যুগান্তর\' পত্রিকার প্রথম পাতায় সত্যেন্দ্রনাথের আঁকা যে বিশেষ রেখাচিত্রটি প্রকাশ হয়েছিল, তার বিষয় কী ছিল? রবীন্দ্র-জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে ছবির এই বিষয়টি তোমার যথার্থ মনে হয় কিনা, লেখো।
২৫ বৈশাখের \'যুগান্তর\' পত্রিকার প্রথম পাতায় সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আঁকা বিশেষ রেখাচিত্রটির বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথের গৌরীপুর প্রাসাদের (বাগানবাড়ি) একটি শিল্পিত স্কেচ বা রেখাচিত্র। হ্যাঁ, রবীন্দ্র-জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে ছবির এই বিষয়টি যথার্থ বলে মনে হয়। কারণ, গৌরীপুর প্রাসাদ রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান যেখানে কবি অনেকবার এসেছেন, সাহিত্যচর্চা করেছেন, এমনকি কোনো কোনো জন্মদিনও কাটিয়েছেন বলে ইতিহাস বলে।
১৬.৩ "কাজটি দুরূহ, অনেকদিন সময় লাগবে"— কোন কাজটি সম্পন্ন করার ইচ্ছে লেখককে জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ? কোন সে-কাজ করার ইচ্ছে হয়েছিল তাঁর? কার সাহায্য প্রত্যাশা করেছেন ওই কাজ?
কাজটি ছিল কালিম্পং শহরকে নিয়ে একটা কিছু লেখা—হয়তো একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ বা দীর্ঘ রচনা। রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছে ছিল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই ছোট্ট মনোরম শহরটির ওপর একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিকের রচনা করবেন। কিন্তু এজন্য দীর্ঘ সময় ও তথ্য-সংগ্রহ আবশ্যক, তাই তিনি বলেছিলেন \'কাজটি দুরূহ, অনেক সময় লাগবে\'। এই কাজের জন্য তিনি লেখক প্রবোধকুমার সান্যালের সাহায্য প্রত্যাশা করেছিলেন—বিশেষ করে কালিম্পং-এর বিবরণ ও অতীত ইতিহাসের খুঁটিনাটি তথ্যের জন্য।
১৬.৪ "এ ছাড়া আর ঠাকুরবাড়ি কোথায় আছে?"— কোন প্রসঙ্গে এই পরিহাস রবীন্দ্রনাথের?
\'যুগান্তর\' পত্রিকার আয়োজনে রবীন্দ্র-জন্মদিনে যখন ঠাকুর পরিবারের বহু সদস্যই কালিম্পং-এ উপস্থিত—রথীন্দ্রনাথ, নুপেন্দ্রনাথ ছাড়াও আরও অনেকে—তখনই এই পরিহাসের প্রসঙ্গ। কালিম্পং-এ একসঙ্গে এতজন ঠাকুর পরিবারের সদস্যকে দেখে বা সেখানে ঠাকুর-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান আয়োজন প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ সকৌতুকে মন্তব্য করেছিলেন, \'এ ছাড়া আর ঠাকুরবাড়ি কোথায় আছে?\' অর্থাৎ, ঠাকুরবাড়ি বলতে তো কলকাতার জোড়াসাঁকোই—কালিম্পং-এ আবার আলাদা করে ঠাকুরবাড়ি গড়ে উঠল নাকি?
১৬.৫ "কবি সেদিন আমাকে বাক্য পেয়েছিলেন।" \'বাক্য পাওয়া\'— এই বিশেষ ক্রিয়াপদটির অর্থ কী? তাঁকে কবির \'বাক্য পাওয়া\'র কী পরিচয় রেখেছিলেন সেইদিন?
\'বাক্য পাওয়া\' একটি আভিজাত্যপূর্ণ বাংলা বাগ্ধারা যার অর্থ \'কথা দেওয়া\' বা \'প্রতিশ্রুতি দান করা\' (Promise given)। রবীন্দ্রনাথ সেদিন টেলিফোনের অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ করে লেখক প্রবোধকুমার সান্যালকে কথা দিয়েছিলেন যে, তিনি ভবিষ্যতে কালিম্পং নিয়ে নিশ্চয়ই কিছু লিখবেন, যথাসময়ে পাণ্ডুলিপি পাঠাবেন \'যুগান্তর\'-এর জন্য। তাঁর এই প্রতিশ্রুতিটিই \'বাক্য পাওয়া\'র মাধ্যমে পরিচয় বহন করেছিল—একজন মহৎ কবির তাঁর বন্ধু বা সহযোগীর প্রতি রাখা অঙ্গীকারবদ্ধতার।
১৬.৬ "কালিম্পং-এ টেলিফোন ছিল না, এই উপলক্ষে তার প্রথম উদ্দীপন"— কোন বিশেষ উপলক্ষে, কীভাবে এই উদ্দীপন সম্পন্ন হলো?
বিশেষ উপলক্ষটি হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন (২৫ বৈশাখ)। এই দিনটিতে \'যুগান্তর\' পত্রিকা এবং বেতারকেন্দ্র আয়োজন করেছিল অভিনব এক অনুষ্ঠান: রবীন্দ্রনাথ কলকাতা থেকে টেলিফোনে কালিম্পংবাসীকে নবরচিত কবিতা শোনাবেন। কিন্তু কালিম্পং-এ তখনও টেলিফোন ব্যবস্থা চালু হয়নি। তাই এই উপলক্ষে প্রথম পাহাড়ে-পাহাড়ে টেলিফোনের খুঁটি বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হলো। কলকাতা-কালিম্পং টেলিফোন ট্রাঙ্কলাইন চালু করে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি মহাসমারোহে উদ্দীপন হয়েছিল।
১৬.৭ "কিন্তু নুপেন্দ্রবাবুর ফরমাশ শুনতেই হলো"— নুপেন্দ্রবাবু কে? কী ছিল তাঁর ফরমাশ? কীভাবে তা শুনেছিলেন লেখক?
নুপেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র যিনি কালিম্পং-এর গৌরীপুর প্রাসাদে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। তাঁর ফরমাশ ছিল—প্রবোধকুমার সান্যালকে লেখার জন্য চাপ দেওয়া বা বিশেষ কোনো সাহিত্যিক কাজের জন্য তাগিদ জানানো। লেখক লিখেছেন যে নুপেন্দ্রবাবুর এই ফরমাশ অগ্রাহ্য করা যায়নি—অর্থাৎ, অত্যন্ত সৌজন্যমূলক ভঙ্গিতে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি লেখককে অনুরোধটা জানিয়েছিলেন। ঠাকুর পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে তাঁর এই অনুরোধ ছিল লেখকের কাছে ফরমাশের সমান মর্যাদাপূর্ণ।
১৬.৮ জন্মদিনে কবির স্বকণ্ঠে বেতার-সম্প্রচারিত কবিতা শোনাবার মুহূর্তটি কীভাবে ধরা দিয়েছিল তাঁর ভ্রাতাদের চেতনায়?
রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে টেলিফোনে কবিতাপাঠের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তাঁর ভাইপো রথীন্দ্রনাথ ও ভ্রাতুষ্পুত্র নুপেন্দ্রনাথের চেতনায় ধরা দিয়েছিল এক অবিস্মরণীয় আবেগময় দৃশ্য হিসেবে। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, প্রযুক্তির সঙ্গে সাহিত্যের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটছে—স্বয়ং বিশ্বকবি বসে আছেন কালিম্পং-এর বাগানবাড়িতে আর তাঁর কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে বেতারে, টেলিফোনে। এই ঘটনা শুধু পারিবারিক আনন্দ নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির কাছে একটি ঐতিহাসিক সম্পদ হয়ে থাকবে—এই উপলব্ধি তাঁদের চেতনায় গভীর রেখাপাত করেছিল।

১৭. দশটি বাক্যের মধ্যে উত্তর দাও

3 টি
১৭.১ এ-লেখায় একটা হারিয়ে-যাওয়া সময়ের ছবি আছে, ভারতবর্ষ তথা বাংলার শ্রেষ্ঠ কয়েকজন সন্তানের কথা আছে, যাঁদের সঙ্গে একসময় তিব্বতের নিবিড় যোগ রচিত হয়েছিল। লেখাটি অনুসরণ করে বাংলার ওই শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো সম্বন্ধে তোমার যে ধারণা হয়েছে, নিজের ভাষায় লেখো।
প্রবোধকুমার সান্যালের \'দেবতাত্মা হিমালয়\' থেকে জানা যায়, বাংলার কয়েকজন শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন যাঁরা তিব্বতের সঙ্গে নিবিড় যোগ রেখে চলতেন। এঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন:

• শরৎচন্দ্র দাস: উনিশ শতকের শেষভাগে তিব্বত গমন করে সেখানকার ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে অসামান্য গবেষণা করেন। তিনি \'বোধিসত্ত্ব\' উপাধি পান এবং তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত ইংরেজ অভিযাত্রী স্যার ইয়াংহাজবেন্ডকেও তিব্বত অভিযানে সাহায্য করেছিল।

• রাজা রামমোহন রায়: আধুনিক ভারতের কুলগুরু, যিনি তিব্বত যান বৌদ্ধ দর্শন ও তিব্বতি পুঁথির খোঁজে। তাঁর অগাধ পান্ডিত্য ও ধর্মসংস্কারক সত্তার কারণেই তাঁকে বরণীয় মনে করা হয়।

• স্বামী বিবেকানন্দ: তরুণ বয়সে সন্ন্যাসী অবস্থায় তিনিও হিমালয়ের এই প্রাচীন পথে তিব্বত অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর এই কঠিন যাত্রা আধ্যাত্মিক সাধনার পথ সুগম করেছিল।

• নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রয়োজনে একদিন ছদ্মবেশে এই পথেই তিব্বত হয়ে দেশত্যাগ করেন।

এছাড়া কুমার রক্ষিত-এর নামও বিশেষভাবে স্মরণীয়, যিনি রাজপুরুষ হিসেবে তিব্বত গিয়ে সেখানকার লামাদের সম্মান অর্জন করেছিলেন। এঁদের প্রত্যেকের জীবনে হিমালয় ও তিব্বত ছিল পুণ্যতীর্থ।
১৭.২ এই লেখার একটি প্রধান চরিত্র রবীন্দ্রনাথ আর তাঁর ব্যক্তিময় উপস্থিতি। কালিম্পং শহরে অতিবাহিত তাঁর একটি বিশেষ জন্মদিন উদ্যাপনের সম্পূর্ণ ছবিটি যেভাবে এখানে ফুটে উঠেছে, তার পরিচয় দাও।
কালিম্পং শহরে রবীন্দ্রনাথের ২৫ বৈশাখের বিশেষ জন্মদিনটি যে পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছিল, প্রবোধকুমার সান্যাল তার চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন:

১) দিনটি ছিল শুক্লপক্ষ, রাতে উঠেছিল কোরা চাঁদ—প্রকৃতিও যেন কবির জন্মদিনে সেজে উঠেছিল।

২) এই জন্মদিন উপলক্ষে \'যুগান্তর\' পত্রিকা বিশেষ \'রবীন্দ্র জয়ন্তী সংখ্যা\' প্রকাশ করে, যার প্রচ্ছদে ছিল সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আঁকা গৌরীপুর প্রাসাদের রেখাচিত্র।

৩) প্রধান আকর্ষণ ছিল—কলকাতা থেকে টেলিফোনে কবিতা পাঠের অভিনব আয়োজন। পাহাড়ে-পাহাড়ে টেলিফোনের খুঁটি বসিয়ে বিশেষ ট্রাঙ্কলাইন স্থাপন করা হলো। বেতারকেন্দ্র সেই কবিতাপাঠ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করল।

৪) অনুষ্ঠানের দিন প্রথমে টেলিফোন সংযোগ পেতে কিছুটা বিলম্ব হলো। লেখক কয়েকবার \'হ্যালো, কলকাতা\' বলে ডাকলেন—অবশেষে সংযোগ স্থাপিত হলে রবীন্দ্রনাথ গড়গড় করে টানা পনেরো মিনিট ধরে নবরচিত কবিতা আবৃত্তি করলেন।

৫) কবির পাশে ছিলেন রথীন্দ্রনাথ ও নুপেন্দ্রনাথ ঠাকুর। অনুষ্ঠান শেষে কবি লেখককে কথা দিলেন—\'\'কালিম্পং নিয়ে নিশ্চয়ই লিখব।\'\'

এই সম্পূর্ণ চিত্রায়ণে প্রযুক্তির সঙ্গে কবিত্বের মিলন ঘটেছিল যা সেদিনের কালিম্পংবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
১৭.৩ ইতিহাস-ভূগোলের ইতিবৃত্তে জড়ানো কালিম্পং নামে একটা শহরকে নতুন করে চিনতে তোমার কেমন লাগল, একটা অনুচ্ছেদ তা লেখো।
\'দেবতাত্মা হিমালয়\' পাঠ করে কালিম্পং শহর সম্বন্ধে আমার ধারণা আমূল বদলে গেছে। আগে নামটি শুধু শুনেছিলাম—একটি পাহাড়ি শৈলশহর মাত্র। কিন্তু পড়তে পড়তে বুঝলাম, ইতিহাসের কত গভীর স্রোত বয়ে গেছে এই শহরের বুক দিয়ে।

জানলাম, এটি ছিল তিব্বত যাওয়ার প্রাচীন \'রেশমপথ\'-এর অন্যতম প্রবেশদ্বার। শরৎচন্দ্র দাস থেকে নেতাজি—বাংলার কত শ্রেষ্ঠ মানুষ এই পথে হেঁটে গেছেন। ডক্টর গ্রাহামস হোমস-এর মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত, যেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্তের অনাথ শিশুরা পড়াশোনা করে।

আর সবচেয়ে বিস্মিত হয়েছি সেই টেলিফোন কবিতাপাঠের কাহিনি শুনে—রবীন্দ্রনাথ যেখানে বসে টেলিফোনে কবিতা শুনিয়েছিলেন কালিম্পংবাসীকে, যেখানে \'যুগান্তর\'-এর জন্মদিন সংখ্যা বেরিয়েছিল, যেখানে গৌরীপুর প্রাসাদে ঠাকুর পরিবারের সান্নিধ্যে কেটেছিল অপরাহ্ণ—সে এক স্বপ্নলোকের ছবি।

এখন মনে হয়, কালিম্পং শুধু ভৌগোলিক স্থান নয়, এ যেন বাংলার সংস্কৃতির এক তীর্থক্ষেত্র। কবে যাব সেই \'মায়াচ্ছন্ন স্বপ্নলোক\' দেখতে, জানি না।

হিমালয়ের শিক্ষা

মনে রেখো: প্রবোধকুমার সান্যালের এই ভ্রমণকাহিনি শুধু পাহাড়-পর্বতের বর্ণনা নয়—এটা মানুষের ইতিহাস, সাহস ও সৃষ্টির কাহিনি। তিব্বত যাওয়া সেইসব মহান বাঙালিদের কথা ভেবে দেখা যায়—প্রতিকূলতা কখনোই মানুষের পথ আটকাতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথের টেলিফোন কবিতাপাঠ যেন সেই বিশ্বাসেরই প্রতীক: মানুষ তার সৃষ্টিশীলতায় জয় করে নেয় অসম্ভবকেও।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'দেবতাত্মা হিমালয়\' ভ্রমণকাহিনিটি বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ও ভ্রমণকাহিনি রচয়িতা প্রবোধকুমার সান্যাল (১৯০৫-১৯৬৩) রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকের একাদশ পাঠ। পাঠ্যাংশটি \'দেবতাত্মা হিমালয়\'-এর প্রথম খণ্ডের \'কালিম্পং\' অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে।

এই রচনায় প্রধানত দুটি বিষয় ফুটে উঠেছে: (১) তিব্বত যাওয়ার প্রাচীন পথ এবং সেই পথে যাওয়া বাঙালি মনীষীদের (শরৎচন্দ্র দাস, রামমোহন রায়, বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ) কথা, (২) কালিম্পং শহরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ২৫ বৈশাখের জন্মদিনে কলকাতা থেকে টেলিফোনে কবিতাপাঠের এক ঐতিহাসিক ও অভিনব অনুষ্ঠানের রোমাঞ্চকর বর্ণনা।

২৫ বৈশাখের জন্মদিনে \'যুগান্তর\' পত্রিকা ও বেতারকেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে অভিনব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। কালিম্পং-এ তখন টেলিফোন ছিল না, তাই বিশেষভাবে পাহাড়ে-পাহাড়ে টেলিফোনের খুঁটি বসিয়ে কলকাতা-কালিম্পং ট্রাঙ্কলাইন চালু করা হয়। কবি গৌরীপুর প্রাসাদ থেকে টেলিফোনে টানা পনেরো মিনিট ধরে নবরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন যা বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।