গাধার কান
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • নবম পাঠ (প্রথম গল্প)
গল্প
গাধার কান
লেখক
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ
নবম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
ধরন
কিশোর গল্প (ফুটবল)
গল্পের সারাংশ ও মূলভাব
গল্পের মূল বিষয়: "গাধার কান" গল্পটি একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে রচিত। টাউন স্কুল ও মিশন স্কুলের মধ্যে কাপ ফাইনাল খেলা হবে। এই দুই স্কুলের মধ্যে চিরকালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টাউন স্কুলের সমরেশ গাধার কান মলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়, কারণ তার বিশ্বাস—গাধার কান মলতে পারলে খেলা জেতা যাবে। কিন্তু সে সারা দুপুর খুঁজেও কোনো গাধা পায় না।
খেলা শুরু হলে মিশন স্কুল প্রথম গোল করে। টুন নামের ছোট্ট কিন্তু তুখোড় খেলোয়াড় ছেলেটি খোঁড়াতে-খোঁড়াতেও অসাধারণ খেলা দেখায় এবং পরপর গোল করে টাউন স্কুলকে জিতিয়ে দেয়। শেষে দেখা যায়, খেলার আগে সমরেশ রাগ করে টুনের কান মলে দিয়েছিল। গল্পের শেষে সবাই হেসে ওঠে—গাধার কান মলতে না পারলেও টুনের কান মলাই জয়ের কারণ হয়েছে।
মূলভাব: কুসংস্কার নয়, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও সাহসই জীবনে সাফল্য আনে।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
যাকে বলা হয়েছে: সমরেশকে।
কখন: সমরেশ সারা দুপুর গাধার কান মলতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছে এবং টুনকে তার হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে, টুন বলেছিল যে গাধা না পাওয়ায় সমরেশের তুকু (কুসংস্কারমূলক ক্রিয়া) করা সম্ভব হয়নি।
গল্প থেকে পাওয়া: গোল, রেফারি, বাঁশি, ফাউল, অফসাইড, পেনাল্টি, হাফ-টাইম, গোল-এরিয়া, মাঠ, বল, শুট।
নিজস্ব সংযোজন: স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডার, কর্নার কিক, ফ্রি কিক, থ্রো-ইন, ইয়োলো কার্ড, রেড কার্ড, ড্রিবল, পাস, হেডার।
২. নীচের শব্দগুলি কোন মূল শব্দ থেকে এসেছে
| শব্দ | মূল শব্দ |
|---|---|
| ভুরু | ভ্রূ (চোখের ওপরের লোমরেখা) |
| গাধা | গর্দভ (গৃহপালিত পশুবিশেষ) |
| দুপুর | দ্বিপ্রহর (মধ্যাহ্ন) |
| চোখ | চক্ষু (দর্শনেন্দ্রিয়) |
| বাঁশি | বংশী (বাঁশের তৈরি বাদ্যযন্ত্র) |
| পাঁচ | পঞ্চ (সংখ্যা ৫) |
৩. পদ পরিবর্তন করো
| শব্দ | বিশেষ্য → বিশেষণ / বিশেষণ → বিশেষ্য |
|---|---|
| সন্দেহ | সন্দেহজনক (বিশেষ্য → বিশেষণ) |
| সজ্জিত | সজ্জা (বিশেষণ → বিশেষ্য) |
| বিনাশ | বিনাশী (বিশেষ্য → বিশেষণ) |
| উপস্থিত | উপস্থিতি (বিশেষণ → বিশেষ্য) |
| মজবুত | মজবুতি (বিশেষণ → বিশেষ্য) |
| ক্ষীণ | ক্ষীণতা (বিশেষণ → বিশেষ্য) |
৪. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো
| শব্দ | বিপরীতার্থক শব্দ |
|---|---|
| রেষারেষি | বন্ধুত্ব / সম্প্রীতি |
| ক্ষীণ | স্থূল / মোটা |
| বিষম | সমান / সম |
| উৎসাহ | নিরুৎসাহ / অনাগ্রহ |
| জয় | পরাজয় |
৫. সন্ধি বিচ্ছেদ করো
| শব্দ | সন্ধি বিচ্ছেদ | সন্ধির নিয়ম |
|---|---|---|
| আশ্চর্য | আ + চর্য | স্বরসন্ধি (আ + অ = আ) |
| দুশ্চিন্তা | দুঃ + চিন্তা | বিসর্গসন্ধি (ঃ + চ = শ্চ) |
| উপস্থিত | উপ + স্থিত | ব্যঞ্জনসন্ধি |
৬. কথা বলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধ্বন্যাত্মক শব্দ
উত্তর:
- গুনগুন করে বলা — অস্পষ্ট স্বরে মনে মনে বলা
- বিড়বিড় করে বলা — নিজের মনে অস্পষ্টভাবে কথা বলা
- কানাকানি করা — কানে কানে চুপিচুপি কথা বলা
- তীরতির করে বলা — দ্রুত ও উত্তেজিত গলায় বলা
- গলগল করে বলা — গলা দিয়ে ঘড়ঘড়ে আওয়াজে বলা
- হিঃহিঃ করে বলা — চাপা হাসির শব্দে বলা
- চিঁচিঁ করে বলা — তীক্ষ্ণ পাতলা গলায় বলা
৭. একবচন থেকে বহুবচনের পাঁচটি কৌশল
| কৌশল | একবচন | বহুবচন |
|---|---|---|
| ১. 'রা' যোগে | ছেলে | ছেলেরা |
| ২. 'গণ' যোগে | খেলোয়াড় | খেলোয়াড়গণ |
| ৩. 'বৃন্দ' যোগে | শিক্ষক | শিক্ষকবৃন্দ |
| ৪. 'গুলি' যোগে | বই | বইগুলি |
| ৫. 'সকল' যোগে | মানুষ | সকল মানুষ |
| ৬. শব্দের দ্বিত্বকরণে | লোক | লোকজন |
৮. গল্প অনুসরণে নিজের ভাষায় উত্তর দাও
এখানে টাউন স্কুল ও মিশন স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠিত কাপ ফাইনাল ফুটবল ম্যাচের দিনের কথা বলা হয়েছে।
মাঠের দৃশ্য: পাঁচটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চারটে বাজতে-না-বাজতেই মাঠ লোক জমতে শুরু করে। দুই স্কুলের ছেলেরা মাঠের দু-ধারে কাতার দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। দর্শকদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চারিদিকে হইচই আর গুঞ্জন। শহরের মধ্যভাগে এই খেলা নিয়ে বেশ সাড়া পড়ে গিয়েছিল। দুই স্কুলের চিরকালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সেদিনকার খেলা যে দারুণ জমবে, তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না।
পরিচয়: সমরেশ টাউন স্কুলের ছাত্র এবং ফুটবল দলের হাফ-ব্যাক পজিশনে খেলে। সে গিরীন ও টুনের দলনেতা ও বন্ধু।
কোথায় গিয়েছিল: সে সারা দুপুর শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছিল।
উদ্দেশ্য: গাধার কান মলা। তার বিশ্বাস ছিল—গাধার কান মলতে পারলে নিশ্চয় খেলা জেতা যাবে। এটি তার কুসংস্কার।
সফল হয়েছিল কি: না, তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি। সে সারা দুপুর খুঁজেও একটি গাধাও পায়নি। শেষে হতাশ হয়ে ফিরে আসে।
রেফারি: দিব্যেন্দুবাবু।
ছেলেদের ধারণা: স্কুলের ছেলেরা সবাই জানত যে, দিব্যেন্দুবাবু জিলিপি থেকে খেতে ভালোবাসেন। আরও জানত যে খেলার আগে যে পক্ষ তাঁকে জিলিপি খাওয়ায়, তিনি সেই পক্ষকে জিতিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ, তিনি পক্ষপাতদুষ্ট রেফারি।
খেলায় ভূমিকা: মিশন স্কুল নিশ্চয় তাঁকে জিলিপি খাইয়েছিল। খেলার সময় টুনের ওপর ফাউল হওয়া সত্ত্বেও তিনি টাউন স্কুলের বিরুদ্ধে অফসাইড দিয়ে বসেন। অর্থাৎ, তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণই করেছিলেন।
হ্যাঁ, আমি ফলাফলে খুব খুশি হয়েছি। টাউন স্কুল প্রথমে পিছিয়ে থাকলেও শেষপর্যন্ত ৪-১ গোলে জয়লাভ করে।
যুক্তি:
- টাউন স্কুলের জয় ছিল সম্পূর্ণ ন্যায্য।
- মিশন স্কুল প্রথমে কু-কৌশল (রেফারিকে জিলিপি খাওয়ানো) অবলম্বন করেছিল।
- আহত পায়েও টুন যে অসাধারণ খেলা দেখিয়েছিল, তারই পুরস্কার এই জয়।
- গল্পটি প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও পরিশ্রম কুসংস্কার ও কু-কৌশলকে হারিয়ে দেয়।
যদি গল্পের ফলাফল বিপরীত হতো অর্থাৎ মিশন স্কুল জিতত, তাহলে উপসংহারটি হতো এরকম:
মিশন স্কুল ৪-১ গোলে টাউন স্কুলকে পরাজিত করল। সমরেশ হতাশ হয়ে ভাবতে লাগল—গাধার কান মলতে না পারার জন্যই এমন পরাজয় হলো। টুন কেঁদে ফেলল, কারণ তার চোট পাওয়া পায়ের ব্যথা সত্ত্বেও সে শেষ পর্যন্ত লড়েছিল। সবাই বলাবলি করতে লাগল দিব্যেন্দুবাবুর পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের কথা। শেষে গিরীন বলল, কুসংস্কার আর অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই, নিজেদের খেলার উন্নতি করতে হবে, তবেই আগামী বছর জেতা সম্ভব।
টুন ছিল ছোটখাটো, রোগা-পটকা কিন্তু তুখোড় ফুটবলার। বল তার পায়ে পড়লে তাকে আটকানো ছিল অসম্ভব। খেলার সময় ব্যথা পাওয়া পা নিয়েও সে লড়াই চালিয়ে গেল এবং একাই দলকে জিতিয়ে দিল।
হ্যাঁ, নায়কের সম্মান সম্পূর্ণ তার প্রাপ্য। যে আত্মত্যাগ, সাহস ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব দেখিয়ে দলকে জেতানো সম্ভব, তারই স্বীকৃতি নায়ক সম্মান। টুনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও লড়াই করার মানসিকতা তাকে সত্যিকারের নায়কে পরিণত করেছে।
গিরীন ছিল টাউন স্কুল দলের প্রকৃত নেতা। খেলার মাঠে সে টুনকে নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছিল:
- যখন টুন অভিযোগ করল তার বুড়ো আঙুল ভেঙে গেছে, তখন গিরীন বলল—\'তা যাক। কিকে গোল দেওয়া চাই-ই।\' অর্থাৎ, ব্যথাকে উপেক্ষা করে খেলে যেতে উৎসাহ দিয়েছিল।
- যখন টুন দিব্যেন্দুবাবুর পক্ষপাতিত্ব ও জিলিপি খাওয়ার কথা বলতে গেল, তখন গিরীন বলল—\'এখন ওসব কথা নয়, নিজের জায়গায় যা।\' অর্থাৎ, বাইরের বিষয় নিয়ে না ভেবে নিজের কাজে মন দিতে বলেছিল।
- গিরীনের \'তোমার গোল দিতেই হবে\' কথা টুনের মনে সাহস জুগিয়েছিল।
- খেলা শেষে গিরীনই টুনকে কাঁধে তুলে \'হিপ হিপ হুররে\' ধ্বনি দিয়ে সবার সামনে সম্মানিত করেছিল।
\'গাধার কান\' গল্পটি পুরোপুরি এই উক্তিটির সত্যতা প্রমাণ করে:
কুসংস্কারের ব্যর্থতা: সমরেশ বিশ্বাস করত গাধার কান মলতে পারলে খেলা জেতা যাবে। সে সারা দুপুর ঘুরেও গাধা পায়নি, অথচ তার দল জিতেছে। অর্থাৎ, কুসংস্কার বা তুক-তাক কোনো কাজে আসেনি।
প্রচেষ্টা ও মানসিক জোরের জয়: টুনের পায়ে চোট ছিল, রেফারি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন, তবু সে হাল ছাড়েনি। তার প্রবল প্রচেষ্টা ও মনের জোর তাকে সফল করেছে। চারটি গোল দিয়ে সে প্রমাণ করেছে যে লড়াই করলে জয় আসবেই।
তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ—জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি কুসংস্কার নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মানসিকতা।
৯. চিঠি লেখো
নমুনা চিঠি:
নিজ ঠিকানা
তারিখ: ___________
প্রিয় সুদীপ,
কেমন আছিস? অনেক দিন তোর চিঠি পাই না। আজ তোকে একটা দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানাবো। গত রবিবার আমাদের পাড়ার মাঠে এক জমাটি ফুটবল ম্যাচ দেখলাম। আমাদের পাড়ার দল বনাম পাশের পাড়ার দল—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী!
খেলার শুরুতে আমাদের দল ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ল। সবাই ভাবছিল হার নিশ্চিত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সেন্টার ফরোয়ার্ড রাজু অসাধারণ খেলা দেখাল। দুটো গোল করে দলকে সমতায় ফেরাল। পুরো মাঠ জুড়ে দর্শকদের চিৎকার আর উল্লাস—কী যে রোমাঞ্চকর ব্যাপার! শেষ পাঁচ মিনিটে আমাদের দলের মিডফিল্ডার রানা এক অসাধারণ গোল করে দলকে জিতিয়ে দিল। ৩-২ গোলে আমরা জিতেছি!
তুই থাকলে আরও মজা হতো। দলনেতা জয়ের পর বলল—'হার-জিত বড় কথা নয়, লড়াই করাটাই আসল।' কথাটা সত্যি! আচ্ছা, তোদের পাড়ায় খেলা হয়? তাহলে জানাস। ভালো থাকিস।
ইতি,
তোর বন্ধু
[তোমার নাম]