গাধার কান

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'গাধার কান' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

গাধার কান

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • নবম পাঠ (প্রথম গল্প)

ফুটবল ম্যাচ প্রতিযোগিতা বন্ধুত্ব কুসংস্কার

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯ - ১৯৭০)

বিহারের পূর্ণিয়ায় জন্ম। 'গৌড় মল্লার', 'তুঙ্গভদ্রার তীরে', 'তুমি সন্ধ্যার মেঘ' প্রভৃতি ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সীর ডিটেকটিভ কাহিনিগুলি শরদিন্দু-র স্মরণীয় সৃষ্টি। বড়োদের গল্প-উপন্যাস রচনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর লেখালিখির পরিমাণও কম নয়। শিশু সাহিত্যে তাঁর একটি স্মরণীয় নায়ক চরিত্র 'সদাশিব'। পরিণত বয়সে অনেকটা সময় মুম্বাই ও পুণেতে কাটান। শিবাজী-র প্রথম জীবনের নানা ধরনের বিচিত্র রেসের কাহিনি ধরা দিয়েছে তাঁর ভোটাগেণ।

📖

গল্প

গাধার কান

👤

লেখক

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

📚

পাঠ

নবম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

কিশোর গল্প (ফুটবল)

গল্পের সারাংশ ও মূলভাব

গল্পের মূল বিষয়: "গাধার কান" গল্পটি একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে রচিত। টাউন স্কুল ও মিশন স্কুলের মধ্যে কাপ ফাইনাল খেলা হবে। এই দুই স্কুলের মধ্যে চিরকালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। টাউন স্কুলের সমরেশ গাধার কান মলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়, কারণ তার বিশ্বাস—গাধার কান মলতে পারলে খেলা জেতা যাবে। কিন্তু সে সারা দুপুর খুঁজেও কোনো গাধা পায় না।

খেলা শুরু হলে মিশন স্কুল প্রথম গোল করে। টুন নামের ছোট্ট কিন্তু তুখোড় খেলোয়াড় ছেলেটি খোঁড়াতে-খোঁড়াতেও অসাধারণ খেলা দেখায় এবং পরপর গোল করে টাউন স্কুলকে জিতিয়ে দেয়। শেষে দেখা যায়, খেলার আগে সমরেশ রাগ করে টুনের কান মলে দিয়েছিল। গল্পের শেষে সবাই হেসে ওঠে—গাধার কান মলতে না পারলেও টুনের কান মলাই জয়ের কারণ হয়েছে।

মূলভাব: কুসংস্কার নয়, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও সাহসই জীবনে সাফল্য আনে।

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো

১.১ \'শহরের মধ্যে বেশ একটু সাড়া পড়ে গেছে\' — এই \'সাড়া পড়ার\' কারণ কী?
শহরের মধ্যে সাড়া পড়ার কারণ ছিল টাউন স্কুল ও মিশন স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কাপ ফাইনাল ফুটবল ম্যাচ। এই দুই স্কুলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল চিরকালের, তাই ম্যাচটি নিয়ে সবার মধ্যে দারুণ উত্তেজনা ও কৌতূহল ছিল।
১.২ \'এই দুই স্কুলের ছেলেদের মধ্যে চিরকালের রেষারেষি\' — কোন দুই স্কুলের কথা বলা হয়েছে?
এখানে টাউন স্কুল ও মিশন স্কুলের কথা বলা হয়েছে। এই দুই স্কুলের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা রেষারেষি।
১.৩ \'হিঃ হিঃ— তুকু করা হলো না\' — বক্তা কে? কাকে সে একথা বলেছে? কখন বলেছে?
বক্তা: টুন।
যাকে বলা হয়েছে: সমরেশকে।
কখন: সমরেশ সারা দুপুর গাধার কান মলতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরেছে এবং টুনকে তার হাসির কারণ জিজ্ঞাসা করলে, টুন বলেছিল যে গাধা না পাওয়ায় সমরেশের তুকু (কুসংস্কারমূলক ক্রিয়া) করা সম্ভব হয়নি।
১.৪ গল্পে ফুটবল খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকটি শব্দ রয়েছে, যেমন— হাফ-ব্যাক, রাইট-ইন, গোলকিপার, সেন্টার ফরোয়ার্ড, ব্যাক-এরিয়া ইত্যাদি। আরও কয়েকটি শব্দ তুমি গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো। এছাড়াও নিজস্ব কয়েকটি সংযোজনও করতে পারো।

গল্প থেকে পাওয়া: গোল, রেফারি, বাঁশি, ফাউল, অফসাইড, পেনাল্টি, হাফ-টাইম, গোল-এরিয়া, মাঠ, বল, শুট।

নিজস্ব সংযোজন: স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার, ডিফেন্ডার, কর্নার কিক, ফ্রি কিক, থ্রো-ইন, ইয়োলো কার্ড, রেড কার্ড, ড্রিবল, পাস, হেডার।

২. নীচের শব্দগুলি কোন মূল শব্দ থেকে এসেছে

শব্দমূল শব্দ
ভুরুভ্রূ (চোখের ওপরের লোমরেখা)
গাধাগর্দভ (গৃহপালিত পশুবিশেষ)
দুপুরদ্বিপ্রহর (মধ্যাহ্ন)
চোখচক্ষু (দর্শনেন্দ্রিয়)
বাঁশিবংশী (বাঁশের তৈরি বাদ্যযন্ত্র)
পাঁচপঞ্চ (সংখ্যা ৫)

৩. পদ পরিবর্তন করো

শব্দবিশেষ্য → বিশেষণ / বিশেষণ → বিশেষ্য
সন্দেহসন্দেহজনক (বিশেষ্য → বিশেষণ)
সজ্জিতসজ্জা (বিশেষণ → বিশেষ্য)
বিনাশবিনাশী (বিশেষ্য → বিশেষণ)
উপস্থিতউপস্থিতি (বিশেষণ → বিশেষ্য)
মজবুতমজবুতি (বিশেষণ → বিশেষ্য)
ক্ষীণক্ষীণতা (বিশেষণ → বিশেষ্য)

৪. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো

শব্দবিপরীতার্থক শব্দ
রেষারেষিবন্ধুত্ব / সম্প্রীতি
ক্ষীণস্থূল / মোটা
বিষমসমান / সম
উৎসাহনিরুৎসাহ / অনাগ্রহ
জয়পরাজয়

৫. সন্ধি বিচ্ছেদ করো

শব্দসন্ধি বিচ্ছেদসন্ধির নিয়ম
আশ্চর্যআ + চর্যস্বরসন্ধি (আ + অ = আ)
দুশ্চিন্তাদুঃ + চিন্তাবিসর্গসন্ধি (ঃ + চ = শ্চ)
উপস্থিতউপ + স্থিতব্যঞ্জনসন্ধি

৬. কথা বলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধ্বন্যাত্মক শব্দ

৬ 'ফিস ফিস করে বলল' অর্থ অতিশয় আস্তে/নিচু গলায় বলা বোঝায়। 'কথা বলা'র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, এমন কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ লেখো।

উত্তর:

  • গুনগুন করে বলা — অস্পষ্ট স্বরে মনে মনে বলা
  • বিড়বিড় করে বলা — নিজের মনে অস্পষ্টভাবে কথা বলা
  • কানাকানি করা — কানে কানে চুপিচুপি কথা বলা
  • তীরতির করে বলা — দ্রুত ও উত্তেজিত গলায় বলা
  • গলগল করে বলা — গলা দিয়ে ঘড়ঘড়ে আওয়াজে বলা
  • হিঃহিঃ করে বলা — চাপা হাসির শব্দে বলা
  • চিঁচিঁ করে বলা — তীক্ষ্ণ পাতলা গলায় বলা

৭. একবচন থেকে বহুবচনের পাঁচটি কৌশল

কৌশলএকবচনবহুবচন
১. 'রা' যোগেছেলেছেলেরা
২. 'গণ' যোগেখেলোয়াড়খেলোয়াড়গণ
৩. 'বৃন্দ' যোগেশিক্ষকশিক্ষকবৃন্দ
৪. 'গুলি' যোগেবইবইগুলি
৫. 'সকল' যোগেমানুষসকল মানুষ
৬. শব্দের দ্বিত্বকরণেলোকলোকজন

৮. গল্প অনুসরণে নিজের ভাষায় উত্তর দাও

৮.১ \'আজকের খেলাটা যে খুব জমবে তাতে সন্দেহ নেই।\' — কোন বিশেষ দিনের কথা এখানে বলা হয়েছে? সেইদিনের সেই \'খেলা\'র মাঠের দৃশ্যটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

এখানে টাউন স্কুল ও মিশন স্কুলের মধ্যে অনুষ্ঠিত কাপ ফাইনাল ফুটবল ম্যাচের দিনের কথা বলা হয়েছে।

মাঠের দৃশ্য: পাঁচটায় খেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চারটে বাজতে-না-বাজতেই মাঠ লোক জমতে শুরু করে। দুই স্কুলের ছেলেরা মাঠের দু-ধারে কাতার দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। দর্শকদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। চারিদিকে হইচই আর গুঞ্জন। শহরের মধ্যভাগে এই খেলা নিয়ে বেশ সাড়া পড়ে গিয়েছিল। দুই স্কুলের চিরকালের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সেদিনকার খেলা যে দারুণ জমবে, তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না।

৮.২ \'সমরেশদা কোথায় গেছে?\' — এই সমরেশদার পরিচয় দাও। সে কোথায়, কোন উদ্দেশ্যে গিয়েছিল? তার উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল কি?

পরিচয়: সমরেশ টাউন স্কুলের ছাত্র এবং ফুটবল দলের হাফ-ব্যাক পজিশনে খেলে। সে গিরীন ও টুনের দলনেতা ও বন্ধু।

কোথায় গিয়েছিল: সে সারা দুপুর শহরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছিল।

উদ্দেশ্য: গাধার কান মলা। তার বিশ্বাস ছিল—গাধার কান মলতে পারলে নিশ্চয় খেলা জেতা যাবে। এটি তার কুসংস্কার।

সফল হয়েছিল কি: না, তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি। সে সারা দুপুর খুঁজেও একটি গাধাও পায়নি। শেষে হতাশ হয়ে ফিরে আসে।

৮.৩ \'এই সময় মাঠে রেফারির বাঁশি বেজে উঠল\' — \'রেফারি\' টি কে? তাঁর সম্পর্কে ছেলেদের ধারণা কীরূপ ছিল? খেলার মাঠে তিনি কেমন ভূমিকা পালন করলেন?

রেফারি: দিব্যেন্দুবাবু।

ছেলেদের ধারণা: স্কুলের ছেলেরা সবাই জানত যে, দিব্যেন্দুবাবু জিলিপি থেকে খেতে ভালোবাসেন। আরও জানত যে খেলার আগে যে পক্ষ তাঁকে জিলিপি খাওয়ায়, তিনি সেই পক্ষকে জিতিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ, তিনি পক্ষপাতদুষ্ট রেফারি।

খেলায় ভূমিকা: মিশন স্কুল নিশ্চয় তাঁকে জিলিপি খাইয়েছিল। খেলার সময় টুনের ওপর ফাউল হওয়া সত্ত্বেও তিনি টাউন স্কুলের বিরুদ্ধে অফসাইড দিয়ে বসেন। অর্থাৎ, তিনি পক্ষপাতমূলক আচরণই করেছিলেন।

৮.৪ খেলায় যে ফলাফল হলো, তাতে তুমি কি খুশি হলে? তোমার উত্তরের সমর্থনে যুক্তি দাও।

হ্যাঁ, আমি ফলাফলে খুব খুশি হয়েছি। টাউন স্কুল প্রথমে পিছিয়ে থাকলেও শেষপর্যন্ত ৪-১ গোলে জয়লাভ করে।

যুক্তি:

  • টাউন স্কুলের জয় ছিল সম্পূর্ণ ন্যায্য।
  • মিশন স্কুল প্রথমে কু-কৌশল (রেফারিকে জিলিপি খাওয়ানো) অবলম্বন করেছিল।
  • আহত পায়েও টুন যে অসাধারণ খেলা দেখিয়েছিল, তারই পুরস্কার এই জয়।
  • গল্পটি প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও পরিশ্রম কুসংস্কার ও কু-কৌশলকে হারিয়ে দেয়।
৮.৫ গল্পে যে ফলাফলের কথা বলা হয়েছে, তার বিপরীত যদি ঘটত, তাহলে গল্পের উপসংহার কেমন হতো তা নিজের ভাষায় লেখো।

যদি গল্পের ফলাফল বিপরীত হতো অর্থাৎ মিশন স্কুল জিতত, তাহলে উপসংহারটি হতো এরকম:

মিশন স্কুল ৪-১ গোলে টাউন স্কুলকে পরাজিত করল। সমরেশ হতাশ হয়ে ভাবতে লাগল—গাধার কান মলতে না পারার জন্যই এমন পরাজয় হলো। টুন কেঁদে ফেলল, কারণ তার চোট পাওয়া পায়ের ব্যথা সত্ত্বেও সে শেষ পর্যন্ত লড়েছিল। সবাই বলাবলি করতে লাগল দিব্যেন্দুবাবুর পক্ষপাতদুষ্ট রেফারিংয়ের কথা। শেষে গিরীন বলল, কুসংস্কার আর অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই, নিজেদের খেলার উন্নতি করতে হবে, তবেই আগামী বছর জেতা সম্ভব।

৮.৬ গল্পে বলা হয়েছে— \'আজ টুনই আমাদের হিরো।\' — তোমার টুনু চরিত্রটিকে কেমন লাগল? সত্যিই কি নায়কের সম্মান তার প্রাপ্য?

টুন ছিল ছোটখাটো, রোগা-পটকা কিন্তু তুখোড় ফুটবলার। বল তার পায়ে পড়লে তাকে আটকানো ছিল অসম্ভব। খেলার সময় ব্যথা পাওয়া পা নিয়েও সে লড়াই চালিয়ে গেল এবং একাই দলকে জিতিয়ে দিল।

হ্যাঁ, নায়কের সম্মান সম্পূর্ণ তার প্রাপ্য। যে আত্মত্যাগ, সাহস ও খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব দেখিয়ে দলকে জেতানো সম্ভব, তারই স্বীকৃতি নায়ক সম্মান। টুনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও লড়াই করার মানসিকতা তাকে সত্যিকারের নায়কে পরিণত করেছে।

৮.৭ গিরীন কীভাবে খেলার মাঠে টুনকে ক্রমাগত উৎসাহ আর সাহস জুগিয়েছিল তা আলোচনা করো।

গিরীন ছিল টাউন স্কুল দলের প্রকৃত নেতা। খেলার মাঠে সে টুনকে নানাভাবে উৎসাহ দিয়েছিল:

  • যখন টুন অভিযোগ করল তার বুড়ো আঙুল ভেঙে গেছে, তখন গিরীন বলল—\'তা যাক। কিকে গোল দেওয়া চাই-ই।\' অর্থাৎ, ব্যথাকে উপেক্ষা করে খেলে যেতে উৎসাহ দিয়েছিল।
  • যখন টুন দিব্যেন্দুবাবুর পক্ষপাতিত্ব ও জিলিপি খাওয়ার কথা বলতে গেল, তখন গিরীন বলল—\'এখন ওসব কথা নয়, নিজের জায়গায় যা।\' অর্থাৎ, বাইরের বিষয় নিয়ে না ভেবে নিজের কাজে মন দিতে বলেছিল।
  • গিরীনের \'তোমার গোল দিতেই হবে\' কথা টুনের মনে সাহস জুগিয়েছিল।
  • খেলা শেষে গিরীনই টুনকে কাঁধে তুলে \'হিপ হিপ হুররে\' ধ্বনি দিয়ে সবার সামনে সম্মানিত করেছিল।
৮.৮ \'অশ্বসংস্কারের প্রতি আনুগত্যের জোরে নয়, প্রবল প্রচেষ্টা আর মানসিক জোরেই জীবনে সাফল্য আসে\' — \'গাধার কান\' গল্পটি অনুসরণে উক্তিটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।

\'গাধার কান\' গল্পটি পুরোপুরি এই উক্তিটির সত্যতা প্রমাণ করে:

কুসংস্কারের ব্যর্থতা: সমরেশ বিশ্বাস করত গাধার কান মলতে পারলে খেলা জেতা যাবে। সে সারা দুপুর ঘুরেও গাধা পায়নি, অথচ তার দল জিতেছে। অর্থাৎ, কুসংস্কার বা তুক-তাক কোনো কাজে আসেনি।

প্রচেষ্টা ও মানসিক জোরের জয়: টুনের পায়ে চোট ছিল, রেফারি পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন, তবু সে হাল ছাড়েনি। তার প্রবল প্রচেষ্টা ও মনের জোর তাকে সফল করেছে। চারটি গোল দিয়ে সে প্রমাণ করেছে যে লড়াই করলে জয় আসবেই।

তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ—জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি কুসংস্কার নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মানসিকতা।

৯. চিঠি লেখো

৯ তোমার দেখা/খেলা কোনো ফুটবল ম্যাচের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখো।

নমুনা চিঠি:

নিজ ঠিকানা
তারিখ: ___________

প্রিয় সুদীপ,

কেমন আছিস? অনেক দিন তোর চিঠি পাই না। আজ তোকে একটা দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানাবো। গত রবিবার আমাদের পাড়ার মাঠে এক জমাটি ফুটবল ম্যাচ দেখলাম। আমাদের পাড়ার দল বনাম পাশের পাড়ার দল—চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী!

খেলার শুরুতে আমাদের দল ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ল। সবাই ভাবছিল হার নিশ্চিত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের সেন্টার ফরোয়ার্ড রাজু অসাধারণ খেলা দেখাল। দুটো গোল করে দলকে সমতায় ফেরাল। পুরো মাঠ জুড়ে দর্শকদের চিৎকার আর উল্লাস—কী যে রোমাঞ্চকর ব্যাপার! শেষ পাঁচ মিনিটে আমাদের দলের মিডফিল্ডার রানা এক অসাধারণ গোল করে দলকে জিতিয়ে দিল। ৩-২ গোলে আমরা জিতেছি!

তুই থাকলে আরও মজা হতো। দলনেতা জয়ের পর বলল—'হার-জিত বড় কথা নয়, লড়াই করাটাই আসল।' কথাটা সত্যি! আচ্ছা, তোদের পাড়ায় খেলা হয়? তাহলে জানাস। ভালো থাকিস।

ইতি,
তোর বন্ধু
[তোমার নাম]

গল্প থেকে শিক্ষা

মনে রেখো: লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এই গল্পের মাধ্যমে দেখিয়েছেন—কুসংস্কার ও তুক-তাক দিয়ে জীবনে সফল হওয়া যায় না। সফলতা আসে কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও লড়াই করার মানসিকতা থেকে। টুনের চরিত্র আমাদের শেখায় পায়ে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও, অন্যায় রেফারির সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও—হাল ছেড়ো না এবং নিজের সেরাটা দাও।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'গাধার কান\' গল্পটি প্রখ্যাত বাঙালি কথাসাহিত্যিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭০) রচিত। তিনি ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজের ডিটেকটিভ কাহিনির জন্যও বিখ্যাত। এই গল্পটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত।

এই গল্পের মূলভাব হল—কুসংস্কার বা তুক-তাক নয়, বরং প্রবল প্রচেষ্টা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক জোরই জীবনে সাফল্য আনে। \'গাধার কান\' গল্পে সমরেশ গাধার কান মলতে না পেরে দুশ্চিন্তায় থাকলেও শেষপর্যন্ত টুনের খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব ও লড়াইয়ের মানসিকতা দলকে জিতিয়ে দেয়।

গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো: টুন — টাউন স্কুলের তুখোড় ফুটবলার, ছোটখাটো কিন্তু অসাধারণ খেলোয়াড়; সমরেশ — হাফ-ব্যাক, যে কুসংস্কারে বিশ্বাসী; গিরীন — দলনেতা, যে টুনকে সবসময় উৎসাহ দেয়; এবং দিব্যেন্দুবাবু — পক্ষপাতদুষ্ট রেফারি, যিনি জিলিপি খেতে ভালোবাসেন।