মেঘ-চোর

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'মেঘ-চোর' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

মেঘ-চোর

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কল্পবিজ্ঞান গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • চতুর্থ পাঠ

মেঘ চুরি কল্পবিজ্ঞান জলবায়ু রহস্য

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪ - ২০১২)

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার ও সাহিত্য সম্পাদক। 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক' প্রভৃতি ছদ্মনামে তিনি সাহিত্যচর্চা করতেন। 'কৃত্তিবাস' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি বাংলা কবিতায় আধুনিকতার জোয়ার আনেন। তাঁর বিখ্যাত কাহিনী-চরিত্র 'কাকাবাবু' বাংলা শিশুসাহিত্যে এক কিংবদন্তি। 'সেই সময়' ও 'প্রথম আলো'র মতো ঐতিহাসিক উপন্যাস তাঁকে এনে দিয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। 'মেঘ-চোর' গল্পটি তাঁর কল্পবিজ্ঞানমূলক ছোটোগল্প।

📝

গল্প

মেঘ-চোর

👤

লেখক

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

📚

পাঠ

চতুর্থ পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

কল্পবিজ্ঞান (Science Fiction)

গল্পের সারাংশ ও মূলভাব

গল্পের সারসংক্ষেপ: "মেঘ-চোর" সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি চমৎকার কল্পবিজ্ঞানমূলক গল্প। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পূর্ণেন্দু চৌধুরী (ডাকনাম পূরণ) পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করছেন। সাহারা মরুভূমিতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা আরও উচ্চাভিলাষী—অ্যান্ডিজ পর্বতমালার মাউন্ট চিম্বোরাজোর বিশাল হিমবাহ (গ্লেসিয়ার) গলিয়ে এক বিশাল মেঘের সৃষ্টি করে সেটিকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে সাইবেরিয়ায় বৃষ্টি ঘটানো।

এই পরীক্ষার সঙ্গী হয় অসীমা, যে নিজেকে ইতিহাসের ছাত্রী বলে পরিচয় দেয়। আকাশে উড়ন্ত রকেটে বসে পূরণ অসীমাকে তার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা বুঝিয়ে বলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, অসীমা আসলে কার্পভ নামক অপর এক বিজ্ঞানীর মেয়ে এবং কিছুটার বিশেষজ্ঞ। সে পূরণের পুরো পরিকল্পনাটাই নস্যাৎ করে দেয় এবং বলে—"পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমনই থাকুক।"

মূলভাব: বিজ্ঞানের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই গল্পে তা কল্পনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রকৃতিকে নিজের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ভয়ানক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

৫. 'ওয়ালা' এবং 'দার' অনুসর্গ যোগে নতুন শব্দ

'ওয়ালা' যোগে'দার' যোগে
ফেরিওয়ালাব্যবসাদার
দোকানওয়ালাজমিদার
রিকশাওয়ালাদোকানদার
ছবিওয়ালাহিসাবদার
দুধওয়ালাবাড়িওয়ালা / ক্ষমতাদার

৬. শব্দবন্ধের শ্রেণিবিভাগ

শ্রেণিউদাহরণ
দ্বিরুক্তি-অর্থেমেঘ-মেঘ, হা-হা, সত্য-সত্য, মাঝে মাঝে, উড়িয়ে উড়িয়ে, কিছু কিছু
উচ্চরিত অর্থে/সাদৃশ্যইই, হইচই, চাঁচামেচি, মুচকি-মুচকি
প্রকৃত শব্দ + বিকৃত শব্দগাছ পালা, বোমা-টোমা, জানলাটালা, জন্ননা-কন্ননা
সমার্থক শব্দবর্গখোঁজাখুঁজি, খোঁড়াখুঁড়ি, আত্মীয়স্বজন
বিপরীতার্থক শব্দবর্গযোগ-বিয়োগ, কমে-বাড়ে, এদিক-ওদিক
ধ্বন্যাত্মক/অনুকারাত্মকহা-হা, হিহি, ঝকঝক
অন্যান্যখালবিল, জীবজন্তু, একটু একটু, নিজে নিজে, পের পের, কোথাও কোথাও

৭. সমার্থক শব্দ লেখো

শব্দসমার্থক শব্দ
জলবারি, নীর, সলিল, পানি, উদক
নির্দেশআদেশ, নির্দেশনা, হুকুম, আজ্ঞা
কারবারব্যবসা, ধান্দা, রোজগার
লুপ্তবিলীন, অন্তর্হিত, অদৃশ্য, ধ্বংসপ্রাপ্ত
নিখুঁতনির্ভুল, নিখাদ, একদম ঠিক
কৃত্রিমনকল, বানানো, অপ্রাকৃতিক
ধ্বংসবিনাশ, সর্বনাশ, নিপাত, বিলয়
শ্রদ্ধাভক্তি, সম্মান, মর্যাদা
অনুগ্রহদয়া, কৃপা, করুণা, প্রসাদ
স্থিরঅচল, নিশ্চল, অনড়, থির

৮. শব্দগুলির ভিন্নার্থে বাক্য রচনা

শব্দপ্রথম অর্থে বাক্যদ্বিতীয় অর্থে বাক্য
কাণ্ডএটি একটি অভূতপূর্ব কাণ্ড। (ঘটনা)গাছটির কাণ্ড খুব মোটা। (গুঁড়ি)
বলতোমার হাতে অনেক বল। (শক্তি)খেলার বলটি হারিয়ে গেছে। (খেলনা)
যোগঅঙ্কে যোগ খুব সহজ। (গণিত)তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। (সংযোগ)
আলাপতোমার সঙ্গে আলাপ করে ভালো লাগলো। (পরিচয়)গায়ক রাগ আলাপ করছেন। (সঙ্গীত)
ব্যাপারব্যাপারটা কী বুঝিয়ে বলো। (বিষয়)বড়ো ব্যাপার হয়ে গেছে। (ঘটনা)
অঙ্কআমার অঙ্ক ভীষণ প্রিয়। (গণিত)তার অঙ্ক কষা শেষ হয়নি। (হিসাব)
পরপরের জিনিস নিতে নেই। (অন্যের)তার পর কী হল? (পরে/বাংলা ক্রিয়াবাচক)
ধারছুরিটার ধার খুব ধারালো। (অগ্রভাগ)আমি টাকাটা ধার নিয়েছি। (ঋণ)
ছলেছলনায় ভরা তার কথা। (ছলনা)এই জমিতে কোন ছলে দাগা। (গাছ)
জলগ্লাসে জল ঢেলে দাও। (পানি)মুখে জল চলে এসেছে। (লালা/ক্ষুধার্থে)

৯. সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দে বাক্য

শব্দ জোড়াপ্রথম বাক্যদ্বিতীয় বাক্য
চাপা - ঠাপামাটি চাপা পড়েছে ধন।তারে ঠাপা দিয়ে এগিয়ে চলো।
যোগ - যুগযোগ করো শীঘ্র।এটি আধুনিক যুগ।
লক্ষ - লক্ষ্যতিনি লক্ষ টাকা দান করেছেন।আমার লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া।
ছেশ - দেশতার কাজে ছেশ নেই। (ছল/অন্ত)ভারত আমার দেশ।
চুরি - চুড়িচুরি করা মহাপাপ।মেয়েটি চুড়ি পরে এসেছে।
কাটা - কাঁটাআঙুলটা কাটা পড়েছে।গোলাপ গাছে কাঁটা আছে।

১০. কারক-বিভক্তি নির্ণয়

বাক্যআন্ডারলাইনকৃত পদকারকবিভক্তি
আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে।বিশ্ববিদ্যালয়েঅধিকরণ কারক'এ' (সপ্তমী)
অসীমা ইতিহাসের ছাত্রী হলেও ভূগোলও বেশ ভালোই জানে।ইতিহাসেরসম্বন্ধ কারক'র' (ষষ্ঠী)
তার মধ্যে আশি হাজার কিউবিক মাইলই যায় সমুদ্র থেকে।সমুদ্র থেকেঅপাদান কারক'থেকে' (পঞ্চমী)
সাইবেরিয়ায় বড়জোর এক ইঞ্চি বেশি বরফ জমবে।সাইবেরিয়ায়অধিকরণ কারক'য়' (সপ্তমী)
তাঁর নিজস্ব রকেট নিয়ে অসীমাকে নিয়ে তিনি জায়গায় ঘুরছেন।অসীমাকেকর্ম কারক'কে' (দ্বিতীয়া)

১১. এক-দুটি বাক্যে উত্তর দাও

Q \'মেঘ-চোর\'-এর মতো তোমার পঠিত দু-একটি কল্পবিজ্ঞানের গল্পের নাম বলো।
\'প্রোফেসর শঙ্কু\'-র গল্প (সত্যজিৎ রায়), \'ব্যোমযাত্রীর ডায়েরি\' (সত্যজিৎ রায়) প্রভৃতি।
Q এই গল্পে কজন চরিত্র? তাদের নাম কী?
দুজন প্রধান চরিত্র—পূর্ণেন্দু চৌধুরী (পূরণ) এবং অসীমা। এছাড়া কার্পভ নামে আরেক বিজ্ঞানীর নাম উল্লেখ আছে।
Q \'মেঘ-চোর\' কাকে বলা হয়েছে?
পূর্ণেন্দু চৌধুরীকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কার্পভ \'মেঘ-চোর\' বলে সম্বোধন করেছেন। কারণ তিনি এক দেশের মেঘ সরিয়ে অন্য দেশে নিয়ে যেতে চান।
Q পূর্ণেন্দুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
পূর্ণেন্দু চৌধুরী (ডাকনাম পূরণ) একজন বিশ্ববিখ্যাত বৃষ্টিবিজ্ঞানী। তাঁর বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, মুখ গোল, চোখের মণি নীল। সাহারা মরুভূমিতে কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটিয়ে তিনি বিখ্যাত।
Q অসীমা সম্পর্কে দু-একটি বাক্য লেখো।
অসীমা পরিচয় দিয়েছিল ইতিহাসের ছাত্রী হিসেবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে কার্পভের মেয়ে এবং কিছুটা বিশেষজ্ঞ। সে সাহসী, বুদ্ধিমতী ও ধরিত্রীকে ভালোবাসে।
Q পূরণ কী সাহসী কাজ করেছিলেন?
পূরণ অ্যান্ডিজ পর্বতের মাউন্ট চিম্বোরাজোর বিশাল হিমবাহ গলিয়ে এক বিরাট মেঘ তৈরি করে তা সাইবেরিয়ায় নিয়ে বৃষ্টি ঘটাতে চেয়েছিলেন।
Q রাশিয়ায় বিভিন্ন দেশ কী দাবি তুলেছিল?
নানা দেশ রাশিয়ার কাছে (কার্পভের পরীক্ষার বিরুদ্ধে) প্রতিবাদ জানিয়েছিল যে কেউ যেন অন্য দেশের মেঘ চুরি করতে না পারে। (এটি কার্পভ-পূরণের দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে)।
Q হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। (গল্পের একটি প্রসঙ্গে উল্লেখ আছে)।
Q পূর্ণেন্দুর মুখটা হাঁ হয়ে গেল কেন?
অসীমা যখন বলে যে রকেটটা বায়ুমণ্ডলের বাইরে চলে এসেছে এবং লেকটাকে আর দেখা যাচ্ছে না, তখন পূরণ বুঝতে পারেন তাঁর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে—তাই তাঁর মুখ হাঁ হয়ে যায়।
Q জ্ঞান ফিরে পূর্ণেন্দু অবাক হয়েছিলেন কেন?
জ্ঞান ফিরে পূরণ অবাক হয়েছিলেন অসীমার বুদ্ধি ও সাহস দেখে। এত সুন্দরী একটি মেয়ের মাথায় এত বুদ্ধি, এবং তাঁর পুরো পরিকল্পনা সে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
Q দিগ্বিজয়ী কারা ছিলেন?
পৃথিবীতে যুগে যুগে যেসমস্ত পরাক্রমী রাজা-বাদশাহ অন্য দেশ জয় করেছেন, প্রকৃতিকে শাসন করতে চেয়েছেন, তাঁরাই \'দিগ্বিজয়ী\' নামে পরিচিত।
Q গল্পের ঘটনা যখন ঘটেছে তখন চিম্বোরাজো কোথায় ছিল?
চিম্বোরাজো ছিল অ্যান্ডিজ পর্বতমালায়। বর্তমানে এটি ইকুয়েডর দেশে অবস্থিত।
Q ইগলুর পরিবর্তে সেখানে তখন কী দেখা যাচ্ছিল?
বায়ুমণ্ডলের বাইরে রকেটে বসে অসীমা ও পূরণ পৃথিবীর দৃশ্য দেখছিল—আগে যেখানে ইগলু ছিল, বর্তমানে সেখানে অন্য ভৌগোলিক পরিবর্তন চোখে পড়ছিল।
Q কেন বলা হয়েছে অসীমা \'ভূগোলও বেশ ভালো জানে\'?
কারণ অসীমা শুধু ইতিহাস নয়, ভূগোল ও আবহাওয়া-বিজ্ঞান নিয়েও পড়াশোনা করেছিল। পূরণের সঙ্গে হিমবাহ, জলচক্র ইত্যাদি নিয়ে সে খুব সহজেই কথা বলতে পেরেছিল।
Q কে কোথা থেকে কোথায় মেঘ এনেছিল?
পূরণ অ্যান্ডিজ পর্বতের চিম্বোরাজো হিমবাহ থেকে মেঘ এনে সাইবেরিয়ায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
Q \'তুষার যুগ\' কাকে বলে?
পৃথিবীর ইতিহাসে যে সময় বিস্তীর্ণ এলাকা বরফে ঢাকা ছিল এবং তাপমাত্রা এখনকার চেয়ে অনেক কম ছিল, তাকে বলে তুষার যুগ (Ice Age)। শেষ তুষার যুগ শেষ হয়েছিল দশ-পনেরো হাজার বছর আগে।
Q পৃথিবী থেকে কত জল সারাবছর বাষ্প হয়ে মেঘে উড়ে যায়?
পঁচানব্বই হাজার কিউবিক মাইল জল সারাবছর বাষ্প হয়ে পৃথিবী থেকে মেঘে উড়ে যায়।
Q মানুষের জন্য বেশি বৃষ্টি দরকার কেন?
পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফসল ফলাতে, জল সরবরাহ করতে বর্তমান বৃষ্টির থেকে বেশি বৃষ্টি দরকার। পূরণের এই পরিকল্পনাও ছিল সেই প্রয়োজন মেটাতে।
Q আটলান্টিস কী?
আটলান্টিস হল কথিত এক ডুবন্ত মহাদেশ বা দ্বীপ, যা প্লেটোর লেখায় উল্লেখ আছে। এটি রহস্যময় ও বিতর্কিত, কেউ কেউ বিশ্বাস করে বাস্তবে ছিল, কেউ বলে কল্পকাহিনী মাত্র।
Q পূরণের মতে আটলান্টিসের অবস্থান কোথায়?
পূরণের মতে, আটলান্টিস সেই লেকের তলাতেই চাপা পড়ে আছে, যে লেকটাকে শুকিয়ে তিনি মেঘ বানাতে চান। অবশ্য এটি রসিকতা এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়।
Q সাইবেরিয়া কোথায়?
সাইবেরিয়া রাশিয়ার সুবিশাল এলাকা, যা এশিয়ার উত্তরাংশে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম শীতলতম অঞ্চল।
Q অসীমা কেন পূরণকে \'ফেরিওয়ালা\' বলে ব্যঙ্গ করেছিল?
বিরাট মেঘ নিয়ে দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা শুনে অসীমা পূরণকে ব্যঙ্গ করে বলেছিল যে তিনি নাকি আকাশে আকাশে ফেরিওয়ালার মতো ঘুরবেন আর দেশে-দেশে জিজ্ঞেস করবেন—\'বৃষ্টি নেবেন? বৃষ্টি নেবেন?\'
Q অ্যালয় কী?
অ্যালয় (Alloy) হল দুটি বা ততোধিক ধাতুর সংকর। গল্পে পূরণের তৈরি গোলকটিতে একটি বিশেষ ধাতুর সংকর ছিল যা বায়ুমণ্ডলের বাইরেও অক্ষত থাকতে পারে।
Q পূর্ণেন্দুর তৈরি গোলকটিতে আছে এমন কোনো ধাতুর নাম গল্পে পেলে?
না, গল্পে কোনো নির্দিষ্ট ধাতুর নাম বলা হয়নি। লেখক \'অ্যালয়\' বা সংকর ধাতুর কথা বলেছেন, কিন্তু সেটি কী উপাদানে তৈরি তা উল্লেখ করেননি।
১১.২৫ পূর্ণেন্দুর তৈরি গোলকটি এয়ারটাইট রাখতে হয় কেন?
গোলকটি এয়ারটাইট না হলে বায়ুমণ্ডলে বাস্প ছড়িয়ে পড়ত। ফলে পুরো পরীক্ষাই ব্যর্থ হত। এটি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী করে রাখা আবশ্যক ছিল।
১১.২৬ "প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটা অপরাধ" — কে, কাকে, কখন বলেছে?
অসীমা পূর্ণেন্দু চৌধুরীকে এই কথা বলেছিল। যখন পূরণ তাঁর কৃত্রিম মেঘ সৃষ্টি করে সাইবেরিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা খুলে বলছিলেন, তখন অসীমা প্রকৃতির সঙ্গে এমন খেলা করার নিন্দা করে এই কথা বলেছিল।
১১.২৭ অসীমার প্রকৃত পরিচয় কী?
অসীমা প্রকৃতপক্ষে কার্পভের মেয়ে, একজন বিজ্ঞানী-কন্যা। কার্পভ ছিলেন পূরণের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানী, যিনি অন্য দেশের মেঘ চুরিকে অন্যায় বলে প্রতিবাদ করতেন। অসীমাও কিছুটাতে বিশেষজ্ঞ।
১১.২৮ "তাহলে আমার গুঁড়ো হয়ে যাবে"— কে, কাকে, কেন বলেছে?
অসীমা পূরণকে বলেছে। সে বলেছিল—যদি রকেটের জানালা খোলা হয়, তাহলে বাইরের শূন্যতার চাপে রকেটের ভেতরকার বাতাস বেরিয়ে যাবে এবং অসীমা গুঁড়ো হয়ে যাবে (মৃত্যু ঘটবে)।
১১.২৯ অসীমার বিশেষ আগ্রহ কোন বিষয়ে?
অসীমা শুধু ইতিহাসের ছাত্রীই নয়, কিছুটা (Computer)-এ তার বিশেষ আগ্রহ। সে আগে থেকে কম্পিউটার প্রোগ্রাম করে রেখেছিল বলেই পূরণের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছিল।
১১.৩০ \'পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমনই থাকুক\' —কে কখন এই কথা বলেছে?
অসীমা এই কথা বলেছে। পূরণের তৈরি গোলকটি মহাকাশে ফেলে দিয়ে সে বলে—পৃথিবীর জলের ভারসাম্য নষ্ট করা ঠিক হবে না, প্রকৃতিকে যেমন আছে তেমন থাকতে দেওয়াই উচিত।

১২. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও

৬ টি
১২.১ এই গল্পে কাকে কেন 'মেঘ-চোর' বলা হয়েছে? তার মেঘ চুরির কৌশলটি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর: পূর্ণেন্দু চৌধুরী বা পূরণকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানী কার্পভ 'মেঘ-চোর' বলে সম্বোধন করেন। কারণ পূরণ এক দেশের মেঘ কেড়ে (প্রকৃতির জলচক্র পরিবর্তন করে) অন্য দেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তার মেঘ চুরির কৌশল:

  1. প্রথমে অ্যান্ডিজ পর্বতের মাউন্ট চিম্বোরাজোর বিশাল হিমবাহকে বিশেষ গোলকের (অ্যালয়) সাহায্যে গলানো।
  2. গলিত জল থেকে এক বিশাল কৃত্রিম মেঘ তৈরি করা, যা সম্পূর্ণ এয়ারটাইট গোলকে রাখা।
  3. ওই মেঘভর্তি গোলকটি রকেটে করে আকাশে তুলে নিয়ে যাওয়া।
  4. তারপর সেটিকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে সাইবেরিয়ায় বৃষ্টি ঘটানো।

এইভাবে পূরণ দশ হাজার বছরের প্রাকৃতিক জলচক্রকে মাত্র পাঁচ মিনিটে সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন, যা ছিল এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক পরিকল্পনা।

১২.২ "বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অমিত বল, কিন্তু অযোগ্য মানুষের হাতে সেই ক্ষমতা হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক এবং প্রাণঘাতী" — প্রদত্ত গল্পটি অবলম্বনে উদ্ধৃতিটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: এ উক্তিটি গল্পের কেন্দ্রীয় বক্তব্যকেই তুলে ধরে।

বিজ্ঞানের অমিত ক্ষমতা: পূরণ চৌধুরী যে কল্পবিজ্ঞানের আশ্রয় নিয়েছেন, তাতে তিনি মাত্র পাঁচ মিনিটে দশ হাজার বছরের জলচক্র সম্পন্ন করতে পারছেন। এটি বিজ্ঞানের এক ভয়ংকর ক্ষমতা—যা তাত্ত্বিকভাবে মানুষকে প্রকৃতির ওপর প্রভুত্ব দিতে পারে।

অযোগ্য হাতে বিপদ: কিন্তু পূরণের মধ্যে ছিল এক ধরনের পাগলামি ও প্রতিহিংসা—কার্পভের 'মেঘ-চোর' অপবাদ শোধ করতে তিনি সাইবেরিয়ায় বৃষ্টি পাঠাতে চান। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে এক দেশকে জল দিয়ে আরেক দেশকে শুকিয়ে মারার চিন্তা বিজ্ঞানের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।

গল্পের শিক্ষা: অসীমাই শেষ পর্যন্ত এই অমানবিক পরীক্ষা নস্যাৎ করে দিয়ে প্রমাণ করে—প্রকৃতিকে ধ্বংস করা এক মারাত্মক অপরাধ। বিজ্ঞানের অগ্রগতি তখনই সার্থক যখন তা মানব কল্যাণে ব্যবহার হয়। অযোগ্য, স্বার্থান্বেষী বা পাগল কারও হাতে এলে তা হতে পারে ভয়াবহ ধ্বংসের কারণ।

১২.৩ পূর্ণেন্দু চৌধুরীর চরিত্রটি তোমার কেমন বলে মনে হয়েছে— বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: পূর্ণেন্দু চৌধুরী বা পূরণের চরিত্র একইসঙ্গে মেধাবী বিজ্ঞানী ও উন্মাদ প্রায় মানুষ।

  • মেধা ও প্রতিভা: তিনি সারাজীবন জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করেছেন। পৃথিবীর প্রতিটি পাহাড়, নদী, পুকুরের জলের হিসাব জানতেন। সাহারায় কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটিয়ে বিশ্বসেরা হয়েছেন।
  • অহংকার ও আত্মম্ভরিতা: নিজেকে তিনি 'ইন্দ্র' অর্থাৎ বৃষ্টির দেবতা ভাবতে শুরু করেন। নিজের নাম 'পূরণ' নিয়ে অহংকার ছিল—ইনি বৃষ্টি দেওয়া-না-দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
  • প্রতিহিংসা ও পাগলামি: কার্পভের সমালোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাইবেরিয়ায় বৃষ্টি পাঠানোর প্রতিজ্ঞা করেন—এটা নিছক মানবকল্যাণ নয়, ছিল শোধ তোলার মনোভাব।
  • বিজ্ঞানের প্রতি অগাধ আস্থা (কিন্তু প্রকৃতির প্রতি অবহেলা): প্রকৃতিকে ধ্বংস করলেই যে কী ভয়াবহ বিপর্যয় আসতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত অসীমার কাছে তাঁর পরাজয় ঘটে—যা প্রমাণ করে যে প্রকৃতি বিজ্ঞানীর চেয়েও শক্তিশালী এবং প্রকৃতিকে কেউ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

১২.৪ গল্পটি অবলম্বনে অসীমা চরিত্রটি সম্পর্কে তোমার মতামত জানাও।

উত্তর: অসীমা চরিত্রটি অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, সাহসী ও দূরদর্শী।

  • বুদ্ধিমত্তা: সে নিজেকে ইতিহাসের ছাত্রী বলে পরিচয় দিলেও বাস্তবে ভূগোল, আবহাওয়া-বিজ্ঞান ও কিছুটা নিয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখে। পূরণের কোনো কথাতেই সে বিচলিত হয়নি, বরং তর্ক করে গেছে পূর্ণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে।
  • পূর্ব-প্রস্তুতি: অসীমার সবচেয়ে বড়ো গুণ ছিল অগ্রিম প্রস্তুতি। আগে থেকেই কম্পিউটার প্রোগ্রাম করে রাখায় সে পূরণের পুরো পরীক্ষাটাই ব্যর্থ করে দিতে সমর্থ হয়।
  • সাহস: একজন সুন্দরী তরুণী, রকেটে একজন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর সঙ্গে একা, তবু কোনো ভয় তার মধ্যে ছিল না। বরং পূরণের গোলক কেড়ে নিয়ে মহাকাশে ফেলে দিয়ে সে আপন ঝুঁকি নিয়েছে।
  • প্রকৃতি-প্রেম ও দায়িত্ববোধ: শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্য ছিল—"পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমন থাকুক।" অর্থাৎ, প্রকৃতির সঙ্গে খেলতে নেই এবং বিজ্ঞান অপব্যবহারের আগেই তা রুখে দেওয়া কর্তব্য।

অসীমা চরিত্রের মাধ্যমেই গল্পকার দেখিয়েছেন—প্রকৃতির সুরক্ষাই সবচেয়ে বড়ো দায়িত্ব।

১২.৫ পূরণ এবং অসীমা আসলে দুই পক্ষ এবং পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞান-চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেছে। কে, কোন ধারণার প্রতিনিধিত্ব করছেন জেনে তুমি এদের মধ্যে কাকে কেন সমর্থন করো বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: পূরণ ও অসীমা প্রকৃতপক্ষে দুই বিপরীত বিজ্ঞান-চেতনার প্রতিনিধি।

পূরণের চেতনা: "বিজ্ঞানই সব, প্রকৃতি জয় করতে পারাই বিজ্ঞানীর কাজ।"

  • তিনি প্রকৃতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের পক্ষপাতী। দশ হাজার বছরের জলচক্র পাঁচ মিনিটে শেষ করতে চাওয়া উচিত।

অসীমার চেতনা: "প্রকৃতিকে ধ্বংস করা বিজ্ঞান নয়, অপরাধ।"

  • বিজ্ঞানের কাজ প্রকৃতিকে ধ্বংস করা নয়, বরং তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলা।

আমি অসীমাকে সমর্থন করি। কারণ:

  1. পরিবেশ রক্ষা: পূরণের পরীক্ষা সফল হলে সাইবেরিয়ায় বন্যা হত, অন্যান্য জায়গা শুকিয়ে মরুভূমি হত।
  2. নীতিবোধ: বিজ্ঞানের সীমা থাকে, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেলে বিজ্ঞান বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই দেয় না।
  3. সহযোগিতা: পূরণ ছিলেন প্রতিহিংসাপরায়ণ ও অহংকারী, অন্যদিকে অসীমা ছিল দায়িত্বশীল।

তাই অসীমার "পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমন থাকুক" উক্তিটিই এ গল্পের আসল শিক্ষা।

১২.৬ গল্পটিতে যতগুলি স্থাননাম আছে তার একটি তালিকা বানিয়ে প্রতিটি স্থান সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

স্থানবর্ণনা
সাহারা মরুভূমিউত্তর আফ্রিকার এক বিশাল মরুভূমি। পূরণ এখানে কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটিয়েছিলেন।
অ্যান্ডিজ পর্বতদক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম পর্বতমালা। মাউন্ট চিম্বোরাজো এখানেই অবস্থিত।
মাউন্ট চিম্বোরাজোইকুয়েডরের একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, বরফাচ্ছন্ন চূড়া যা পূরণ গলাতে চেয়েছিলেন।
লেক শেরভাতুষার যুগের এক কাল্পনিক হিমবাহগলিত হ্রদ। পূরণ এর জল শুকিয়ে মেঘ বানাতে চেয়েছিলেন।
সাইবেরিয়ারাশিয়ারএশিয়ার সুবিশাল শীতল এলাকা; পূরণ এখানে বৃষ্টি পাঠাতে চেয়েছিলেন।
আমেরিকা (হার্ভার্ড)বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। গল্পের চরিত্র এখানে পড়েছেন বা গবেষণা করেছেন।
আটলান্টিসকথিত ডুবন্ত মহাদেশ বা দ্বীপ যা নিয়ে কিংবদন্তি আছে। পূরণের ধারণায় এটি লেকের তলায় আছে।

গল্পের চরিত্র পরিচিতি

চরিত্রপরিচয়গল্পে ভূমিকা
পূর্ণেন্দু চৌধুরী (পূরণ)বিশ্ববিখ্যাত বৃষ্টিবিজ্ঞানী, বয়স ৫০, নীল চোখ, গোল মুখঅ্যান্ডিজের হিমবাহ গলিয়ে মেঘ চুরির পরিকল্পনা করেন; 'মেঘ-চোর' নামে পরিচিত
অসীমাকার্পভের মেয়ে, ইতিহাসের ছাত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়, কিছুটা-বিশেষজ্ঞপূরণের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে প্রকৃতিকে রক্ষা করে
কার্পভপ্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানী, অসীমার পিতা (নাম-মাত্র উল্লেখ)পূরণকে 'মেঘ-চোর' বলে প্রতিবাদ জানান

গল্পের শিক্ষা

মনে রেখো: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "মেঘ-চোর" শুধু একটি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান গল্প নয়, এটি পরিবেশ সচেতনতার এক জোরালো বার্তা। মানুষ আজ কীভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে, গল্পে তারই ইঙ্গিত আছে। পূরণের মতো অহংকারী বিজ্ঞানীরা ভাবেন—তাঁরা প্রকৃতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু অসীমার মতো সচেতন তরুণ প্রজন্মই জানে—"পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমন থাকুক।" প্রকৃতিকে ধ্বংস করা মানে নিজের ধ্বংস ডেকে আনা। দরকার প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের মধ্যে এক শুভ সমন্বয়, যা মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখবে।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'মেঘ-চোর' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা একটি কল্পবিজ্ঞানমূলক ছোটোগল্প। এটি WBBSE সপ্তম শ্রেণির 'সাহিত্য মেলা' পাঠ্যপুস্তকের চতুর্থ পাঠে অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞানী পূর্ণেন্দু চৌধুরী বা পূরণকে 'মেঘ-চোর' বলা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী বিজ্ঞানী কার্পভের মতে, এক দেশের মেঘ সরিয়ে অন্য দেশে পাঠানো চুরি করার শামিল, তাই পূরণ হলেন মেঘ-চোর।

অসীমা কার্পভের মেয়ে এবং একজন বুদ্ধিমতী তরুণী। সে পূরণের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয় এবং বলে—'পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমন থাকুক।' তার মাধ্যমে গল্পটি প্রকৃতি রক্ষার বার্তা দেয়।