রাস্তায় ক্রিকেট খেলা

সত্যজিৎ রায় রচিত 'রাস্তায় ক্রিকেট খেলা' গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

রাস্তায় ক্রিকেট খেলা

সত্যজিৎ রায় গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE)

ক্রিকেট বৃষ্টির খেলা রাস্তার খেলা শৈশব স্মৃতি বিদেশি গল্প

সত্যজিৎ রায় (১৯২১ - ১৯৯২)

বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক, সাহিত্যিক, চিত্রকর ও সঙ্গীতজ্ঞ। কলকাতায় জন্ম। তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ফেলুদা ও প্রফেসর শঙ্কু বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে। 'পথের পাঁচালী' চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। অস্কার পুরস্কার (সম্মানসূচক), ভারতরত্ন, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার-সহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর লেখা গল্প ও উপন্যাস আজও সমান জনপ্রিয়।

📝

গল্প

রাস্তায় ক্রিকেট খেলা

👤

লেখক

সত্যজিৎ রায়

📚

পাঠ্যবই

সাহিত্য মেলা (WBBSE)

🎯

ধরন

দেশি-বিদেশি গল্প

গল্পের সারাংশ ও মূলভাব

মূলভাব: "রাস্তায় ক্রিকেট খেলা" গল্পটি সত্যজিৎ রায় অনূদিত একটি বিদেশি গল্প। গল্পটির পটভূমি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদ। ফুটপাথে ছেলেদের ক্রিকেট খেলা এবং বৃষ্টির আকস্মিক আগমনের মধ্য দিয়ে কাহিনি আবর্তিত হয়েছে।

গল্পের কথক 'সেনো' ও তার বন্ধু 'ভানর' (ভার্নন)—এরা দুজনে বৃষ্টির মধ্যেও ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যায়। কথকের ভেতরে বাজ-বিদ্যুতের ভয় কাজ করলেও, বন্ধুর ডাকে সে আবার খেলায় ফেরে। গল্পটিতে রাস্তার খেলার আনন্দ, বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই, বন্ধুত্বের টান আর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও শৈশবের সরল আনন্দের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে।

১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো

৫ টি
১.১ বর্ণিত স্থানটি এমনই ছিল —

বর্ণিত স্থানটি এমনই ছিল ময়ারো। এটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদের একটি স্থান। সেখানকার আকাশ প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকত।

১.২ 'নবুব পাতায় করমচা / হে বৃষ্টি, ______ যা।' —

শূন্যস্থানে হবে স্পেনে। সম্পূর্ণ ছড়াটি: 'নবুব পাতায় করমচা / হে বৃষ্টি, স্পেনে যা'। এটি একটি লোকপ্রচলিত ছড়া যা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসেও উল্লেখ আছে।

১.৩ ______ মনে মনে বললাম।

শূন্যস্থানে হবে নিকুচি। কথক সেনো যখন বৃষ্টির জন্য মন খারাপ করে ঘরে ফিরে যায়, তখন মনে মনে বলে 'নিকুচি!'—অর্থাৎ, ক্রিকেট খেলার আর রক্ষা নেই।

১.৪ ভেতরে-ভেতরে ______ আবহাওয়াকে আমি ভয় পেতাম।

শূন্যস্থানে হবে হিংস্র। কথক ভেতরে-ভেতরে হিংস্র আবহাওয়াকে ভয় পেত—বিশেষ করে বাজ-বিদ্যুৎ আর ঝড়ের ভয়ঙ্কর রূপকে সে প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা বলে মনে করত।

১.৫ অ্যামি ডাকে ______।

শূন্যস্থানে হবে টেড। অ্যামি (Amy) টেড (Ted)-কে ডাকে। এরা গল্পের অন্য চরিত্র।

২. কার্য-কারণ সম্পর্ক অনুযায়ী পাশাপাশি বাক্য লেখো

২.১ বর্ণিত স্থানে রাস্তায় ক্রিকেট খেলার সুযোগ মিলত অল্পই।

কারণ: ময়ারোর আকাশ প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকত এবং মেঘ থেকে বৃষ্টি নেমে এলে ছেলেদের তাড়া করে ফিরে যেতে হতো। তাই সেখানে রাস্তায় ক্রিকেট খেলার সুযোগ মিলত অল্পই।

২.২ ওরা চেঁচাতে লাগল, 'নবুব পাতায় করমচা / হে বৃষ্টি, স্পেনে যা'

কারণ: ঝমঝম করে যখন বৃষ্টি নামল, তখনও ওরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আনন্দ করছিল। বৃষ্টিকে তাড়ানোর জন্য এবং খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছায় ওরা এই ছড়া কেটে চেঁচাতে লাগল।

২.৩ ভেতরে ভেতরে হিংস্র আবহাওয়াকে আমি ভয় পেতাম।

কারণ: কথক সেনো বৃষ্টির ভয়, বাজ-বিদ্যুতের ভয়, উপকূলে আছড়ানো সমুদ্রের ভয়, ঘুর্ণিঝড়ের ভয়—সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই ভয় পেত। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর সবকিছু মরার মতো হয়ে থাকার দৃশ্যও তাকে ভীত করত। তাই ভেতরে ভেতরে সে হিংস্র আবহাওয়াকে ভয় পেত।

২.৪ লজ্জিত হয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে।

কারণ: যখন সেনোর মা তাকে বাজ পড়ার ভয়ে ভীত ও কাঁপতে দেখলেন, তখন সে নিজের ভীরুতার জন্য লজ্জিত হলো। মায়ের সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ায় সে লজ্জায় মাটির দিকে তাকিয়ে রইল।

২.৫ গলা মেজাজে বলে 'নে সেনো, তুইই আগে ব্যাট কর্'।

কারণ: বৃষ্টি থামার পর ভানর আবার খেলার জন্য ডাক দিল। সেনো যখন বাইরে এল, তখন ভানর আগ্রহের সঙ্গে গলা মেজাজে (হুকুমের সুরে নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ চাপাচাপি করে) বলল যে তুইই আগে ব্যাট কর্—কারণ ভানর চাইছিল সেনো তাড়াতাড়ি খেলায় যোগ দিক।

২.৬ ওর চোখের কোণে জল চিকচিক করে দেখতে পাই।

কারণ: এই বর্ণনাটি এসেছে সেই মুহূর্ত থেকে যখন দুই বন্ধুর মধ্যে খেলা নিয়ে তর্ক বা মান-অভিমানের কিছু ঘটেছিল। ভানরের চোখে জল চিকচিক করছিল আবেগ বা দুঃখের কারণে।

৩. বাক্যাংশগুলি কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করছে লেখো

৩.১ বাতাস ছুটে এসে বদমেজাজ বাপট মারত।

বিশেষ অর্থ: এখানে বাতাসকে মানবীয় গুণ আরোপ করা হয়েছে (Personification)। বাতাস যেন বদমেজাজি মানুষের মতো এসে চড়-থাপ্পড় মারছে—এটি রূপকধর্মী প্রকাশ। এর মাধ্যমে প্রকৃতির প্রচণ্ডতা ও নিষ্ঠুরতাকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।

৩.২ জামাকাপড় জুবজুবে।

বিশেষ অর্থ: 'জুবজুবে' একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ যা সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়ার অবস্থা বোঝাচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে জামাকাপড় থেকে জল গড়িয়ে পড়ার যে অবস্থা, সেই ভাবার্থ প্রকাশ করে এটি। শব্দটি গল্পের পরিবেশে বাস্তবতার ছোঁয়া এনে দিয়েছে।

৩.৩ বৃষ্টির ভয়ানক হাতুতি পড়তে লাগল।

বিশেষ অর্থ: 'হাতুতি' অর্থ হাতুড়ির আঘাতের মতো শব্দ। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ছাদের ওপর এমন জোরে পড়ছিল যেন কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে। এটি উপমা ও ধ্বন্যাত্মক প্রকাশ—বৃষ্টির প্রচণ্ডতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

৩.৪ তার মুখ উল্লাসিত।

বিশেষ অর্থ: 'উল্লাসিত' হলো বিশেষণ যা আনন্দে উজ্জ্বল হওয়া বোঝাচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়া ও পুনরায় খেলার সম্ভাবনায় ভানরের মুখে যে খুশির ঝিলিক লেগেছিল, তা প্রকাশ করতে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।

৩.৫ ভানর ড্যাবড্যাব করে চায়।

বিশেষ অর্থ: 'ড্যাবড্যাব করে চায়'—এখানে ধ্বন্যাত্মক ধাতু ব্যবহার করে ফ্যালফ্যাল করে বা হতভম্বভাবে তাকিয়ে থাকার ভাব প্রকাশ করা হয়েছে। খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার দুঃখে বা কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ভানরের এমন ভাব হয়েছিল।

৪. বিশেষ্যে বিশেষণে এবং বিশেষণে বিশেষ্যে বদলে বাক্য রচনা

গম্ভীর, হুজুগে, চিৎকার, সাহসী, অভিনব — শব্দগুলির রূপান্তর
মূল শব্দজাতিরূপান্তরনতুন বাক্য
গম্ভীরবিশেষণগাম্ভীর্য (বিশেষ্য)তাঁর কথার গাম্ভীর্য সবাইকে মুগ্ধ করল।
হুজুগেবিশেষণহুজুগ (বিশেষ্য)গ্রামে পুজোর হুজুগ লেগে আছে।
চিৎকারবিশেষ্যচিৎকারিত (বিশেষণ)চিৎকারিত শব্দে ঘর কেঁপে উঠল।
সাহসীবিশেষণসাহস (বিশেষ্য)বিপদের মুখে তার অসীম সাহস দেখে সবাই তাজ্জব।
অভিনববিশেষণঅভিনবত্ব (বিশেষ্য)উদ্ভাবনটির অভিনবত্ব সবার নজর কেড়েছে।

৫. কোন কোন শব্দের বচন কীভাবে নির্দেশিত হয়েছে তা লেখো

৫.১ ওরা হাসছে।

'ওরা' সর্বনামটির মাধ্যমে বহুবচন নির্দেশিত হয়েছে। ব্যক্তিবাচক সর্বনামের বহুবচন এখানে 'রা' বিভক্তি যোগে গঠিত (ও + রা = ওরা)। বোঝা যাচ্ছে একাধিক ব্যক্তি হাসছিল।

৫.২ উড়ে-পড়া মেঘগুলো ঘন কালো হয়ে উঠত।

'মেঘগুলো' শব্দটিতে 'গুলো' নির্দেশকটি বহুবচন নির্দেশ করছে। একাধিক মেঘকে বোঝাতে বিশেষ্যের সঙ্গে 'গুলো' যুক্ত হয়েছে (মেঘ + গুলো = মেঘগুলো)।

৫.৩ অ্যামি আমাকে উঠানে।

এখানে 'আমাকে' সর্বনামটি একবচন নির্দেশ করছে। এক ব্যক্তিকে (উত্তম পুরুষ) বোঝাতে 'কে' বিভক্তি-যুক্ত একবচন সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে।

৫.৪ এমন সময় কলজেটা যেন লাফ দিয়ে উঠল।

'কলজেটা' শব্দটিতে 'টা' নির্দেশকটি একবচন নির্দেশ করছে। একটিমাত্র কলজের (হৃদপিণ্ড) কথা বোঝাতে এভাবে একবচন ব্যবহৃত হয়েছে।

৫.৫ পকেট থেকে একটা পেনি বার করে বলে 'টস কর্'।

'একটা পেনি' বলতে 'একটি' সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়ে একবচন নির্দেশ করছে। একটি মাত্র মুদ্রার কথা বলা হয়েছে।

৬. নিম্নরেখ অংশের কারক ও বিভক্তি নির্ধারণ করো

বাক্যাংশকারকবিভক্তি
সবে দৌড়ে ফিরেছি বৃষ্টি থেকে।অপাদান কারকথেকে (পঞ্চমী)
আর মুখ একেবারে ভেজা।কর্তৃকারকশূন্য বিভক্তি
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।কর্তৃকারকশূন্য বিভক্তি
আমি ছিটকে চলে গেলাম খাটের তলায়।অধিকরণ কারকয় (সপ্তমী)
ভানর রাস্তা থেকে চেঁচিয়ে ডাকে।কর্তৃকারকশূন্য বিভক্তি

৭. বাক্যগুলি থেকে উপযুক্ত প্রশ্ন তৈরি করো

৭.১ রাস্তায় ক্রিকেট খেলাতে ওদের যত আনন্দ, ঝমঝম বৃষ্টিতেও যেন তত।

প্রশ্ন: বৃষ্টিতেও কি ওদের আনন্দ কম হতো?

৭.২ ভানর আলসের তলায় আঙিনা নিয়েছিল।

প্রশ্ন: ভানর কোথায় আঙিনা নিয়েছিল?

৭.৩ আবার কী ভয়ংকর বজ্রপাতের শব্দে আকাশ কেঁপে উঠল।

প্রশ্ন: কীসের শব্দে আকাশ কেঁপে উঠল?

৭.৪ দৌড়ে যাই যেখানে ভানরের ব্যাট আর বল রেখেছিলাম।

প্রশ্ন: তুমি দৌড়ে কোথায় গেলে?

৭.৫ আমি অনেকবার ঠিক করেছি সাহসী হব, কিন্তু যখনই বাজ পড়ত অমনি ছিটকে যেতাম খাটের তলায়।

প্রশ্ন: সাহসী হওয়ার সিদ্ধান্ত কখন ভেঙে যেত?

৮. উদ্ধৃতি চিহ্ন পরিহার করে বাক্যগুলি নিজের ভাষায় লেখো

৮.১ 'আমি দুই-নম্বর ব্যাট', ভানর বলে।

পরোক্ষ উক্তি: ভানর জানিয়ে দিল যে সে দুই-নম্বর ব্যাট করবে।

৮.২ সে বলে 'সেনো, ব্যাট আর বল কোথায়?'

পরোক্ষ উক্তি: সে সেনোকে জিজ্ঞাসা করল ব্যাট আর বল কোথায় আছে।

৮.৩ 'ভানর', সে চেঁচিয়ে ডাকে, 'এই ভানর, দ্যাখ, সেনো।'

পরোক্ষ উক্তি: ভানরকে চেঁচিয়ে ডেকে সে সেনোর দিকে লক্ষ্য করতে বলল।

৯. কোনটি কোন দেশের মুদ্রা উল্লেখ করো

মুদ্রার নামদেশ
পেনিযুক্তরাজ্য (United Kingdom) — ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষুদ্রতম একক
ডলারমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA), অস্ট্রেলিয়া, কানাডা-সহ বহু দেশ
পেসোমেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, ফিলিপাইন-সহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ
রুবলরাশিয়া
টাকাবাংলাদেশ, ভারত (ভারতে 'রুপি', বাংলাদেশে 'টাকা')

১০. একটি বাক্যে উত্তর দাও

5 টি
১০.১ তোমার রাজ্যের কোন দিকে সমুদ্র রয়েছে?
আমার রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর রয়েছে।
১০.২ খেলাধুলা নিয়ে লেখা তোমার পড়া বা শোনা একটি গল্পের নাম লেখো।
খেলাধুলা নিয়ে লেখা আমার পড়া একটি গল্পের নাম \'ক্রিকেট-মার্কা মজা\' (লেখক: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়) অথবা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের \'আম আঁটির ভেঁপু\'তে বর্ণিত ছেলেদের খেলার কাহিনি।
১০.৩ ঘরের ভেতরের ও বাইরের দুটি খেলার নাম লেখো।
ঘরের ভেতরের খেলা: দাবা, ক্যারাম। ঘরের বাইরের খেলা: ক্রিকেট, ফুটবল।
১০.৪ তোমার রাজ্যের একজন বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড়ের নাম লেখো।
পশ্চিমবঙ্গের একজন বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড় হলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কও ছিলেন।
১০.৫ তোমার জানা খেলা বিষয়ক যে কোনো একটি ছড়ার প্রথম পঙ্ক্তি লেখো।
\'নবুব পাতায় করমচা / হে বৃষ্টি, স্পেনে যা\' — এটি খেলা বিষয়ক একটি লোকপ্রচলিত ছড়ার প্রথম পঙ্ক্তি।

১১. দুই/একটি বাক্যে উত্তর দাও

5 টি
১১.১ মাঠের খেলাধুলার সঙ্গে রাস্তার খেলাধুলার ফারাকগুলি লেখো।
মাঠের খেলাধুলা সাধারণত পরিকল্পিত, নিয়মতান্ত্রিক ও পর্যাপ্ত জায়গাযুক্ত হয়; সেখানে নির্দিষ্ট পোশাক ও সরঞ্জাম থাকে। অন্যদিকে রাস্তার খেলাধুলা অস্থায়ী, স্থান সংকীর্ণ, নিয়মের বাঁধন শিথিল এবং প্রায়ই প্রাকৃতিক বাধার (যেমন যানবাহন, বৃষ্টির পানি) মুখোমুখি হয়। তবু রাস্তার খেলায় এক স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ আছে যা মাঠের খেলায় অনেক সময় পাওয়া যায় না।
১১.২ সমুদ্রের ধারে ঝড় কীভাবে ভয়ংকর হয়ে ওঠে?
সমুদ্রের ধারে ঝড় অত্যন্ত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড বেগে হাওয়া বইতে থাকে, সমুদ্রের জল ফুলে-ফেঁপে উঁচু ঢেউ তোলে, ঢেউগুলো প্রচণ্ড শব্দে উপকূলে আছড়ে পড়ে। গাছপালা উপড়ে পড়ে, ঘরের চাল উড়ে যায়। আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে যায় আর বাজ পড়ে চারদিক কেঁপে ওঠে—যেন প্রকৃতি ধ্বংসের তাণ্ডব নাচছে।
১১.৩ গল্পের নায়ক কীভাবে কিশোর চরিত্রের স্বীকৃতি পেল? গল্পের একমাত্র বয়স্ক চরিত্রটি কে?
গল্পের নায়ক সেনো তার স্বভাব ও আচরণের মাধ্যমে কিশোর চরিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে—বৃষ্টির ভয় পাওয়া সত্ত্বেও বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আবার খেলতে যাওয়া, ক্রিকেট নিয়ে তার উন্মাদনা ইত্যাদি কিশোরসুলভ। গল্পের একমাত্র বয়স্ক চরিত্রটি হলেন সেনো ও ভানরের মা (যিনি পাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে)।
১১.৪ সেনো ভানরের কাছ থেকে বল কেন ও কোথায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল?
সেনো রাগ করে বা খেলায় কোনো অমীমাংসিত বিবাদের জেরে ভানরের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল। বলটি ছুঁড়ে ফেলার স্থান ছিল সম্ভবত পাশের বাড়ির আঙিনার দিকে বা ঝোপেঝাড়ে যাতে বলটি আর পাওয়া না যায়।
১১.৫ তাদের বিবাদ কীভাবে মিটে গেল?
তাদের বিবাদ মিটে যায় বৃষ্টি থামার পর। ভানর রাস্তা থেকে হেসে হেসে সেনোকে ডাক দিল—\'\'সেনো! সেনো! প্রথমে তোরই ব্যাট!\'\' এই আন্তরিক ডাকে সেনোর সব রাগ-অভিমান ভেঙে গেল এবং সে আবার ব্যাট হাতে খেলতে বেরিয়ে এল। বন্ধুত্বের টানই শেষ পর্যন্ত বিবাদ মিটিয়ে দিল।

১২ ও ১৩. গল্প বিশ্লেষণ

১২ 'রাস্তায় ক্রিকেট খেলা' গল্পটি পড়ে কোন কোন অনুসঙ্গে মনে হলো যে গল্পটি বিদেশি গল্প?

গল্পটি পড়ে নিম্নলিখিত অনুসঙ্গগুলি থেকে বোঝা যায় এটি একটি বিদেশি গল্প:

  • স্থানের নাম: 'ময়ারো'—এটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদের একটি জায়গার নাম। এটি বাংলা বা ভারতীয় কোনো স্থান নয়।
  • চরিত্রের নাম: ভানর (Vernon), সেনো (Seno), অ্যামি (Amy), টেড (Ted)—এই নামগুলি স্পষ্টত ইংরেজি বা স্প্যানিশ প্রভাবিত, বাংলা নাম নয়।
  • মুদ্রার নাম: গল্পে 'পেনি' (Penny) মুদ্রার উল্লেখ আছে যা ব্রিটিশ মুদ্রাব্যবস্থার অংশ। ভারত বা বাংলাদেশে পেনি চলে না।
  • প্রাকৃতিক পরিবেশ: নারকেলগাছ, উপকূলে সমুদ্রের ধারে ঝড়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া—এগুলো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
  • ছড়ার উল্লেখ: 'নবুব পাতায় করমচা / হে বৃষ্টি, স্পেনে যা'—''স্পেন'' দেশের নাম যা ইউরোপে অবস্থিত এবং লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
১৩ তোমার নিজের চেনা পরিবেশ ও চরিত্রের সঙ্গে গল্পের মিলগুলি সুবাক্যে লেখো। শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে দেশটির অবস্থান দেখে নাও।

মিলগুলি:

  • রাস্তায় খেলা: আমাদের শৈশবেও আমরা রাস্তায় ক্রিকেট, ফুটবল খেলেছি। গল্পের মতোই বৃষ্টি এলে আমাদেরও তাড়াতাড়ি ছুটতে হতো, আবার বৃষ্টি থামলে পুনরায় খেলায় নামতাম।
  • বৃষ্টির ভয় ও আনন্দ: সেনোর মতো আমরাও বাজ-বিদ্যুতে ভয় পেতাম, তবু বৃষ্টিতে ভিজে খেলার মজাই ছিল আলাদা।
  • বন্ধুত্বের টান: গল্পে যেমন ভানর আর সেনোর মধ্যে অভিমান-বিবাদ মিটে গিয়ে আবার খেলা শুরু হয়, আমাদের বেলাতেও বন্ধুদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে।
  • মায়ের ডাক: পাশের বাড়ি থেকে মা যেমন এসে ভানর আর অ্যামিকে নিয়ে গেলেন, ঠিক তেমনই আমাদের মায়েরাও বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ডেকে নিয়ে যেতেন।

দেশটির অবস্থান: ত্রিনিদাদ ও টোবাগো মধ্য আমেরিকার ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে এর অবস্থান। শিক্ষকের সাহায্যে পৃথিবীর মানচিত্রে এটি খুঁজে দেখতে হবে।

গল্পের শিক্ষা

মনে রেখো: সত্যজিৎ রায়ের অনূদিত এই বিদেশি গল্পটি শুধু ক্রিকেট খেলার কাহিনি নয়—এটা শৈশব, বন্ধুত্ব ও প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প। বৃষ্টি-বাদল-বাজের ভয় থাকা সত্ত্বেও খেলার নেশা আর বন্ধুর ডাকই যে কোনো কিশোরের কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি। রাস্তার খেলার যে আনন্দ, তা হয়তো বড় মাঠের পরিকল্পিত খেলাতেও নেই।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

\'রাস্তায় ক্রিকেট খেলা\' গল্পটি বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২) অনূদিত একটি বিদেশি গল্প। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির \'সাহিত্য মেলা\' পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্গত। মূল গল্পটির পটভূমি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ত্রিনিদাদ।

গল্পটি বিদেশি—এর প্রমাণ গল্পেরই নানা উপাদানে ছড়িয়ে আছে। যেমন: (১) স্থানের নাম \'ময়ারো\'—ত্রিনিদাদের একটি জায়গা, (২) চরিত্রদের নাম—ভানর, সেনো, অ্যামি, টেড—স্পষ্টত ইংরেজি/স্প্যানিশ, (৩) মুদ্রা হিসেবে \'পেনি\'-র উল্লেখ, (৪) নারকেলগাছ, উপকূলের ধারের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়, (৫) ছড়ায় \'স্পেন\'-এর মতো ইউরোপীয় দেশের উল্লেখ।

গল্পের প্রধান দুই চরিত্র হলো \'সেনো\' (যে গল্পের কথক) এবং \'ভানর\' (তার বন্ধু ভার্নন)। এছাড়া পার্শ্বচরিত্র হিসেবে আছে অ্যামি, টেড এবং তাদের মা। গল্পের কেন্দ্রে আছে দুই কিশোর বন্ধুর ক্রিকেট খেলার নেশা, বৃষ্টির বাধা এবং সেই বাধাকে উপেক্ষা করে তাদের খেলায় ফিরে আসার কাহিনি।