ছন্দে শুধু কান রাখো
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ
কবিতা
ছন্দে শুধু কান রাখো
কবি
অজিত দত্ত
পাঠ
প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
ধরন
ছন্দ ও প্রকৃতি বিষয়ক
সম্পূর্ণ কবিতা
ছন্দে শুধু কান রাখো✍️ ছন্দে শুধু কান রাখো
কবিতার সারাংশ ও মূলভাব
মূলভাব: "ছন্দে শুধু কান রাখো" কবিতায় কবি অজিত দত্ত জীবনের সর্বত্র ছন্দের উপস্থিতি অনুভব করার কথা বলেছেন। কবির মতে, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ছন্দে ভরা—প্রকৃতির ঝড়-বাদল, জ্যোৎস্না, পাখির ডাক, ঝিঁঝি পোকার ডাক, নদীর কলতান, এমনকি যানবাহনের চাকা ও ঘড়ির কাঁটার মধ্যেও ছন্দ বিদ্যমান। যারা মন ও কান উন্মুক্ত রেখে এই ছন্দ ধরতে পারে, তারাই সৃষ্টির সুরে সমগ্র ভুবনকে চিনতে পারে এবং জীবন হয়ে ওঠে পদ্যময়। কবিতাটিতে ছন্দের মাধ্যমে প্রকৃতি ও মানব-জীবনের অপূর্ব বন্ধনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় চেতনা: মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারলে জীবনের সবকিছুতেই ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।
১. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (অনুধাবনমূলক)
৫ টি২. বিশেষ্য-বিশেষণ পরিবর্তন ও বাক্য রচনা
| বিশেষ্য | বিশেষণ | উদাহরণ বাক্য |
|---|---|---|
| বড় | বড়ত্ব | আমার সকল বন্ধুর থেকেই তাঁর বড়ত্ব বেশি। |
| মন | মানসিক | নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়। |
| ছন্দ | ছান্দসিক | রবীন্দ্রনাথ একজন অসাধারণ ছান্দসিক কবি। |
| দিন | দৈনন্দিন | এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প। |
| সুর | সুরেলা | কোকিলের সুরেলা ডাকে মন ভরে যায়। |
| সংকেত | সাংকেতিক | তিনি সাংকেতিক ভাষায় কথা বললেন। |
| মজা | মজাদার | গল্পটা খুব মজাদার ছিল। |
| ছন্দহীন | ছন্দহীনতা | জীবনে ছন্দহীনতা থাকলে মন খারাপ হয়। |
| পদ্যময় | পদ্যময়তা | প্রকৃতির এই পদ্যময়তা সকলকে মুগ্ধ করে। |
| সহজ | সহজতা | তাঁর ব্যবহারে এক অদ্ভুত সহজতা আছে। |
৩. শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ (দুই করে বাক্য)
অর্থ ১: খারাপ, নিকৃষ্ট
উদাহরণ: মন্দ কথায় কান দিও না।
অর্থ ২: ধীর, মৃদু
উদাহরণ: মন্দ বাতাস বইছে নদীর ধারে।
অর্থ ১: ফোঁটা, এক ফোঁটা জল
উদাহরণ: পদ্মপাতায় জলের বিন্দু জমেছে।
অর্থ ২: শূন্য, কিছুই না
উদাহরণ: আকাশে মেঘের বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই।
অর্থ ১: ছন্দ, সঙ্গত রাখা
উদাহরণ: তবলার তালে তাল মিলিয়ে নাচছে।
অর্থ ২: এক প্রকার ফল (পাম ফল)
উদাহরণ: গ্রামের মেলায় তালের পিঠে খেয়েছি।
অর্থ ১: পাখি বা প্রাণীর স্বর
উদাহরণ: ভোরে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল।
অর্থ ২: চিঠি বা ডাক পরিষেবা
উদাহরণ: আজ ডাকপিয়ন চিঠি নিয়ে এলো।
অর্থ ১: শব্দ হয়, ধ্বনিত হয়
উদাহরণ: মন্দিরে সকালে ঘন্টা বাজে।
অর্থ ২: খারাপ, অকাজের
উদাহরণ: বাজে কথা বলা উচিত নয়।
অর্থ ১: শিশুপদ্য বা ছোটো কবিতা
উদাহরণ: শিশুরা ছড়া শুনতে ভালোবাসে।
অর্থ ২: ছড়ানো বা বিক্ষিপ্ত করা
উদাহরণ: সে বীজগুলো ক্ষেতে ছড়া দিয়ে দিল।
অর্থ ১: আনন্দ, হাস্যরস
উদাহরণ: গল্পটা শুনে খুব মজা পেলাম।
অর্থ ২: জমাট, পুঞ্জীভূত (বাংলা আঞ্চলিক)
উদাহরণ: শীতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে মজা করে বসে থাকতে ইচ্ছে করে।
অর্থ ১: না (অস্বীকার বা নঞর্থক)
উদাহরণ: এটা আমার বই নয়।
অর্থ ২: সংখ্যা ৯ (নয়)
উদাহরণ: আমার নয়টি কলম প্রয়োজন।
৪. মূল শব্দ নির্ণয়
| শব্দ | মূল শব্দ |
|---|---|
| জোছনা | জ্যোৎস্না (চাঁদের আলো) |
| চাকা | চক্র (চাকা) |
| কান | কর্ণ (শ্রবণেন্দ্রিয়) |
| দুপুর | দ্বিপ্রহর (মধ্যাহ্ন) |
| ঝিঁঝি | ঝিল্লী (ঝিঁঝি পোকা) |
৫. কবিতার ভাষা থেকে মৌখিক (চলিত) ভাষায় রূপান্তর
| কবিতার ভাষা | মৌখিক/চলিত ভাষা |
|---|---|
| ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে | ঝড়-তুফান বা বৃষ্টির মধ্যেও ছন্দ আছে। |
| ছন্দ বাঁধা রাতি দিন | রাত আর দিন ছন্দ দিয়ে বাঁধা বা নিয়ন্ত্রিত। |
| কিছুই নয় ছন্দহীন | ছন্দহীন এমন কিছুই নেই, অর্থাৎ সবকিছুতেই ছন্দ আছে। |
| চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতে | ছন্দের সুর ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে তারা গোটা পৃথিবীকে চিনতে পারবে। |
| কান না দিলে ছন্দ জেনে / পদ্য লেখা সহজ নয় | যদি কান দিয়ে ছন্দ না শেখো, তাহলে কবিতা লেখা সহজ হবে না। |
৬. "কান" শব্দটির পাঁচটি ভিন্ন অর্থে বাক্য
| অর্থ | বাক্য |
|---|---|
| শ্রবণেন্দ্রিয় (Ear) | তোমার কান দুটি খুব সুন্দর। |
| মনোযোগ দেওয়া | শিক্ষকের কথায় কান দাও। |
| কলঙ্ক বা দাগ | চরিত্রে কোনো কান নেই তাঁর। |
| শস্যের শীষ (Corn ear) | ক্ষেতে ধানের কান বেরিয়েছে। |
| কলার মোচা | বাগানে কলাগাছের কান ধরেছে। |
অন্যান্য ব্যাকরণ অনুশীলনী (৭-১৬)
উত্তর:
- আগুন-পানি (পরস্পরবিরোধী)
- সুখ-দুঃখ
- রাত-দিন
- আলো-আঁধার
- জল-স্থল
- নদী-নালা
- মেঘ-রোদ
যানবাহনের চলার নিজস্ব ছন্দ আছে:
- বাস: ভোঁ ভোঁ করে ইঞ্জিনের আওয়াজ ও ঝাঁকুনি।
- সাইকেল: ঘণ্টির টিংটিং আওয়াজ ও টায়ারের মসৃণ শব্দ।
- মেট্রো: ঝমঝম করে লাইনের ওপর চলার নির্দিষ্ট ছন্দ।
- বিমান: ইঞ্জিনের ভোঁ দীর্ঘ গর্জন ও মাটিতে অবতরণের ট্যাক্সি ছন্দ।
- ঘোড়ার গাড়ি: টগবগ করে ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ।
প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনাতেই ছন্দ লুকিয়ে আছে। যেমন—
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা: নির্দিষ্ট সময় অন্তর আসে।
- ঋতু পরিবর্তন: গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত-বসন্ত চক্রাকারে ফিরে আসে।
- দিন-রাত: নিয়মিত ছন্দে পৃথিবী ঘুরছে।
- বৃষ্টি পড়া: টুপটাপ ছন্দে ঝরে পড়ে।
- ঝরনার জলপ্রপাত: অবিরাম শব্দ ও গতি।
উত্তর:
- জল: বারি, সলিল, নীর, পানি, উদক।
- দিন: দিবস, অহ্ন, দিবা, রোজ।
- রাতি: রাত্রি, নিশি, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী।
- নদী: তটিনী, স্রোতস্বিনী, গাঙ্গ, সরিৎ, আপগা।
- ভুবন: পৃথিবী, ধরিত্রী, জগৎ, বিশ্ব, দুনিয়া, ধরণী।
| দিন: দিবস (সারাদিন) | দীন: গরিব (দীন-দুঃখী) |
| মন: হৃদয় বা অন্তর (মন ভালো নেই) | মণ: ওজন পরিমাপের একক (৪০ সের = ১ মণ) |
| সূর: সুর বা ধ্বনি (গানের সুর) | শূর: বীর বা সাহসী (শূর বীর) |
| সকল: সব, সমস্ত (সকলেই এসেছে) | শকল: ফোঁটা, অংশ (এক শকল চাঁদের আলো) |
উত্তর: সাপেক্ষ শব্দ বা নিত্য সম্পর্কযুক্ত জোড়:
- যে-সে
- যেমন-তেমন
- যখন-তখন
- যেখানে-সেখানে
- যত-তত
উত্তর: কবিতায় ব্যবহৃত তিনটি সর্বনাম:
- যারা (সকল ছন্দ শুনবে যারা...)
- তারা (ভুবনটাকে চিনবে তারা...)
- কেউ (কেউ লেখেনি আর কোথাও...)
উত্তর: সম্বন্ধ পদ বা সম্বন্ধসূচক কর্মকারক:
- ঝড়-বাদলে (বাদের মধ্যে)
- পাখির ডাকে
- মোটরের চাকায়
- ছন্দ সুরের সংকেতে
| বাক্য | উদ্দেশ্য | বিধেয় |
|---|---|---|
| ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে | ছন্দ | আছে ঝড়-বাদলে |
| দেখবে তখন তেমন ছড়া / কেউ লেখেনি আর কোথাও | (তুমি) | দেখবে তখন তেমন ছড়া, কেউ লেখেনি আর কোথাও |
| জলের ছন্দ তাল মিলিয়ে / নৌকো জাহাজ দেয় পাড়ি | নৌকো জাহাজ | জলের ছন্দ তাল মিলিয়ে দেয় পাড়ি |
| চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতে | তারা | ছন্দ সুরের সংকেতে ভুবনটাকে চিনবে |
| অংশ | কারক | বিভক্তি |
|---|---|---|
| ছন্দ শুধু কান রাখো | অধিকরণ কারক | 'এ' (কানে) → শূন্য বিভক্তি (কান + এ) |
| ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে | অধিকরণ কারক | 'এ' বিভক্তি (বাদল + এ) |
| দিন দুপুরে পাখির ডাকে | অধিকরণ কারক | 'এ' বিভক্তি (ডাক + এ) |
| ছন্দ চলে রেলগাড়ি | কর্তৃকারক | শূন্য বিভক্তি (রেলগাড়ি) |
| চিনবে তারা ভুবনটাকে | কর্মকারক | 'কে' বিভক্তি (ভুবনটা + কে) |