ছন্দে শুধু কান রাখো

অজিত দত্ত রচিত 'ছন্দে শুধু কান রাখো' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | সপ্তম শ্রেণি

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 19 December 2025 Last Update: 31 May 2026

ছন্দে শুধু কান রাখো

অজিত দত্ত কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (সপ্তম শ্রেণি, WBBSE) • প্রথম পাঠ

ছন্দের জাদু কান রাখার গুরুত্ব প্রকৃতির ছন্দ অনুভব

অজিত দত্ত (১৯০৭ - ১৯৭৯)

জন্ম ঢাকার বিজ্ঞমপুরে। বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতার একজন বিশিষ্ট কবি। বন্ধু বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে তরুণ বয়সেই সম্পাদনা করেন 'প্রগতি' পত্রিকা। 'কল্লোল' সাহিত্য গোষ্ঠীর অন্যতম লেখক অজিত দত্ত 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা লগ্নেই যুক্ত হন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ: 'কুসুমের মাস', 'পাতালকন্যা', 'নষ্টচাঁদ', 'পুনর্বার', 'ছড়ার বই', 'ছায়ার আলপনা' প্রভৃতি।

📝

কবিতা

ছন্দে শুধু কান রাখো

👤

কবি

অজিত দত্ত

📚

পাঠ

প্রথম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

🎯

ধরন

ছন্দ ও প্রকৃতি বিষয়ক

সম্পূর্ণ কবিতা

ছন্দে শুধু কান রাখো

✍️ ছন্দে শুধু কান রাখো

মন্দ কথায় মন দিবয়া না ছন্দ শুধু কান রাখো, ঘনু ভুলে মন না দিলে ছন্দ শোনা যায় নাকো। ছন্দ আছে ঝড়-বাদলে ছন্দ আছে জ্যোৎস্নাতে, দিন দুপুরে পাখির ডাকে ঝিঁঝির ডাকে ঘোর রাতে। নদীর ভাষাতে ছন্দ যদি মনের মধ্যে শুনতে পাও দেখবে তখন তেমন ছড়া কেউ লেখেনি আর কোথাও। ছন্দ বাজে মোটরের চাকায় ছন্দ চলে রেলগাড়ি, জলের ছন্দ তাল মিলিয়ে নৌকো জাহাজ দেয় পাড়ি। ছন্দ চলে ঘড়ির কাঁটা ছন্দ বাঁধা রাতি-দিন, কান পেতে যা শুনতে পাবে কিছুই নয় ছন্দহীন। সকল ছন্দ শুনবে যারা কান পেতে আর মন পেতে চিনবে তারা ভুবনটাকে ছন্দ সুরের সংকেতে। মনের মধ্যে জমবে মজা জীবন হবে পদ্যময়, কান না দিলে ছন্দ জেনে পদ্য লেখা সহজ নয়।

কবিতার সারাংশ ও মূলভাব

মূলভাব: "ছন্দে শুধু কান রাখো" কবিতায় কবি অজিত দত্ত জীবনের সর্বত্র ছন্দের উপস্থিতি অনুভব করার কথা বলেছেন। কবির মতে, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ছন্দে ভরা—প্রকৃতির ঝড়-বাদল, জ্যোৎস্না, পাখির ডাক, ঝিঁঝি পোকার ডাক, নদীর কলতান, এমনকি যানবাহনের চাকা ও ঘড়ির কাঁটার মধ্যেও ছন্দ বিদ্যমান। যারা মন ও কান উন্মুক্ত রেখে এই ছন্দ ধরতে পারে, তারাই সৃষ্টির সুরে সমগ্র ভুবনকে চিনতে পারে এবং জীবন হয়ে ওঠে পদ্যময়। কবিতাটিতে ছন্দের মাধ্যমে প্রকৃতি ও মানব-জীবনের অপূর্ব বন্ধনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় চেতনা: মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারলে জীবনের সবকিছুতেই ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়।

১. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (অনুধাবনমূলক)

৫ টি
১.১ "মন্দ কথায় কান দিব্যা না" — মন্দ কথার প্রতি কবির কীরূপ মনোভাব কবিতায় ব্যক্ত হয়েছে?
মন্দ কথার প্রতি কবির সম্পূর্ণ উপেক্ষার মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে। কবি বলেছেন, মন্দ কথায় কোনোদিন কান না দিতে, অর্থাৎ মন্দ কথায় কর্ণপাত না করে সবার ভালো কথা ও ছন্দময় সুর শুনতে।
১.২ "কেউ লেখেনি আর কোথাও" — কোন লেখার কথা এখানে বলা হয়েছে?
এখানে তেমন সুন্দর ছড়ার কথা বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মৌলিক ও অভূতপূর্ব। কবি বলছেন—কারও মনের মধ্যে যদি নদীর ভাষার ছন্দ বেজে ওঠে, তাহলে সে এমন অসাধারণ ছড়া লিখতে পারবে, যা ইতিপূর্বে কেউ কোথাও লেখেনি।
১.৩ "চিনবে তারা ভুবনটাকে" — কারা কীভাবে ভুবনটাকে চিনবে?
যারা কান ও মন উন্মুক্ত রেখে সকল ছন্দ শুনবে, তারাই ছন্দ সুরের সংকেতে (ইঙ্গিতে) সমগ্র ভুবন বা পৃথিবীকে চিনতে পারবে। অর্থাৎ, ছন্দের মাধ্যমেই জগৎকে প্রকৃতভাবে জানা ও বোঝা সম্ভব।
১.৪ "পদ্য লেখা সহজ নয়" — পদ্য লেখা কখন সহজ হবে বলে কবি মনে করেন?
কবির মতে, আগে কান পেতে ও মন পেতে ছন্দ জেনে নিতে হবে। অর্থাৎ, ছন্দ কী, তা ভালোভাবে শুনে ও বুঝে তবেই পদ্য (কবিতা) লেখা সহজ হবে। ছন্দের জ্ঞান ছাড়া কবিতা রচনা সম্ভব নয়।
১.৫ "ছন্দ শোনা যায় নাকো" — কখন কবির ভাবনায় আর ছন্দ শোনা যায় না?
যখন মানুষ ঘনু ভুলে (গভীর ভুলে বা অন্যমনস্কতায়) মন না দেয়, অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে না শোনে, তখন আর ছন্দ শোনা যায় না। গভীর মনোযোগই ছন্দ উপলব্ধির পূর্বশর্ত।

২. বিশেষ্য-বিশেষণ পরিবর্তন ও বাক্য রচনা

বিশেষ্যবিশেষণউদাহরণ বাক্য
বড়বড়ত্বআমার সকল বন্ধুর থেকেই তাঁর বড়ত্ব বেশি।
মনমানসিকনিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়।
ছন্দছান্দসিকরবীন্দ্রনাথ একজন অসাধারণ ছান্দসিক কবি।
দিনদৈনন্দিনএটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প।
সুরসুরেলাকোকিলের সুরেলা ডাকে মন ভরে যায়।
সংকেতসাংকেতিকতিনি সাংকেতিক ভাষায় কথা বললেন।
মজামজাদারগল্পটা খুব মজাদার ছিল।
ছন্দহীনছন্দহীনতাজীবনে ছন্দহীনতা থাকলে মন খারাপ হয়।
পদ্যময়পদ্যময়তাপ্রকৃতির এই পদ্যময়তা সকলকে মুগ্ধ করে।
সহজসহজতাতাঁর ব্যবহারে এক অদ্ভুত সহজতা আছে।

৩. শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ (দুই করে বাক্য)

মন্দ শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: খারাপ, নিকৃষ্ট
উদাহরণ: মন্দ কথায় কান দিও না।

অর্থ ২: ধীর, মৃদু
উদাহরণ: মন্দ বাতাস বইছে নদীর ধারে।

বিন্দু শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: ফোঁটা, এক ফোঁটা জল
উদাহরণ: পদ্মপাতায় জলের বিন্দু জমেছে।

অর্থ ২: শূন্য, কিছুই না
উদাহরণ: আকাশে মেঘের বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই।

তাল শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: ছন্দ, সঙ্গত রাখা
উদাহরণ: তবলার তালে তাল মিলিয়ে নাচছে।

অর্থ ২: এক প্রকার ফল (পাম ফল)
উদাহরণ: গ্রামের মেলায় তালের পিঠে খেয়েছি।

ডাক শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: পাখি বা প্রাণীর স্বর
উদাহরণ: ভোরে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল।

অর্থ ২: চিঠি বা ডাক পরিষেবা
উদাহরণ: আজ ডাকপিয়ন চিঠি নিয়ে এলো।

বাজে শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: শব্দ হয়, ধ্বনিত হয়
উদাহরণ: মন্দিরে সকালে ঘন্টা বাজে।

অর্থ ২: খারাপ, অকাজের
উদাহরণ: বাজে কথা বলা উচিত নয়।

ছড়া শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: শিশুপদ্য বা ছোটো কবিতা
উদাহরণ: শিশুরা ছড়া শুনতে ভালোবাসে।

অর্থ ২: ছড়ানো বা বিক্ষিপ্ত করা
উদাহরণ: সে বীজগুলো ক্ষেতে ছড়া দিয়ে দিল।

মজা শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: আনন্দ, হাস্যরস
উদাহরণ: গল্পটা শুনে খুব মজা পেলাম।

অর্থ ২: জমাট, পুঞ্জীভূত (বাংলা আঞ্চলিক)
উদাহরণ: শীতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে মজা করে বসে থাকতে ইচ্ছে করে।

নয় শব্দটির দুই অর্থে বাক্য

অর্থ ১: না (অস্বীকার বা নঞর্থক)
উদাহরণ: এটা আমার বই নয়।

অর্থ ২: সংখ্যা ৯ (নয়)
উদাহরণ: আমার নয়টি কলম প্রয়োজন।

৪. মূল শব্দ নির্ণয়

শব্দমূল শব্দ
জোছনাজ্যোৎস্না (চাঁদের আলো)
চাকাচক্র (চাকা)
কানকর্ণ (শ্রবণেন্দ্রিয়)
দুপুরদ্বিপ্রহর (মধ্যাহ্ন)
ঝিঁঝিঝিল্লী (ঝিঁঝি পোকা)

৫. কবিতার ভাষা থেকে মৌখিক (চলিত) ভাষায় রূপান্তর

কবিতার ভাষামৌখিক/চলিত ভাষা
ছন্দ আছে ঝড়-বাদলেঝড়-তুফান বা বৃষ্টির মধ্যেও ছন্দ আছে।
ছন্দ বাঁধা রাতি দিনরাত আর দিন ছন্দ দিয়ে বাঁধা বা নিয়ন্ত্রিত।
কিছুই নয় ছন্দহীনছন্দহীন এমন কিছুই নেই, অর্থাৎ সবকিছুতেই ছন্দ আছে।
চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতেছন্দের সুর ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে তারা গোটা পৃথিবীকে চিনতে পারবে।
কান না দিলে ছন্দ জেনে / পদ্য লেখা সহজ নয়যদি কান দিয়ে ছন্দ না শেখো, তাহলে কবিতা লেখা সহজ হবে না।

৬. "কান" শব্দটির পাঁচটি ভিন্ন অর্থে বাক্য

অর্থবাক্য
শ্রবণেন্দ্রিয় (Ear)তোমার কান দুটি খুব সুন্দর।
মনোযোগ দেওয়াশিক্ষকের কথায় কান দাও।
কলঙ্ক বা দাগচরিত্রে কোনো কান নেই তাঁর।
শস্যের শীষ (Corn ear)ক্ষেতে ধানের কান বেরিয়েছে।
কলার মোচাবাগানে কলাগাছের কান ধরেছে।

অন্যান্য ব্যাকরণ অনুশীলনী (৭-১৬)

৭ 'ঝড়-বাদল'-এর মতো সমার্থক বা প্রায়-সমার্থক শব্দ দিয়ে পাঁচটি শব্দ লেখো।

উত্তর:

  • আগুন-পানি (পরস্পরবিরোধী)
  • সুখ-দুঃখ
  • রাত-দিন
  • আলো-আঁধার
  • জল-স্থল
  • নদী-নালা
  • মেঘ-রোদ
৮ পরিচিত আরও কয়েকটি যানবাহনের চলার ছন্দ উল্লেখ করো।

যানবাহনের চলার নিজস্ব ছন্দ আছে:

  • বাস: ভোঁ ভোঁ করে ইঞ্জিনের আওয়াজ ও ঝাঁকুনি।
  • সাইকেল: ঘণ্টির টিংটিং আওয়াজ ও টায়ারের মসৃণ শব্দ।
  • মেট্রো: ঝমঝম করে লাইনের ওপর চলার নির্দিষ্ট ছন্দ।
  • বিমান: ইঞ্জিনের ভোঁ দীর্ঘ গর্জন ও মাটিতে অবতরণের ট্যাক্সি ছন্দ।
  • ঘোড়ার গাড়ি: টগবগ করে ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ।
৯ নানা প্রাকৃতিক ঘটনায় কীভাবে প্রকৃতির ছন্দ ধরা পড়ে?

প্রকৃতির প্রতিটি ঘটনাতেই ছন্দ লুকিয়ে আছে। যেমন—

  • সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা: নির্দিষ্ট সময় অন্তর আসে।
  • ঋতু পরিবর্তন: গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত-বসন্ত চক্রাকারে ফিরে আসে।
  • দিন-রাত: নিয়মিত ছন্দে পৃথিবী ঘুরছে।
  • বৃষ্টি পড়া: টুপটাপ ছন্দে ঝরে পড়ে।
  • ঝরনার জলপ্রপাত: অবিরাম শব্দ ও গতি।
১০. সমার্থক শব্দ লেখো: জল, দিন, রাতি, নদী, ভুবন।

উত্তর:

  • জল: বারি, সলিল, নীর, পানি, উদক।
  • দিন: দিবস, অহ্ন, দিবা, রোজ।
  • রাতি: রাত্রি, নিশি, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী।
  • নদী: তটিনী, স্রোতস্বিনী, গাঙ্গ, সরিৎ, আপগা।
  • ভুবন: পৃথিবী, ধরিত্রী, জগৎ, বিশ্ব, দুনিয়া, ধরণী।
১১. শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য দেখাও।
দিন: দিবস (সারাদিন)দীন: গরিব (দীন-দুঃখী)
মন: হৃদয় বা অন্তর (মন ভালো নেই)মণ: ওজন পরিমাপের একক (৪০ সের = ১ মণ)
সূর: সুর বা ধ্বনি (গানের সুর)শূর: বীর বা সাহসী (শূর বীর)
সকল: সব, সমস্ত (সকলেই এসেছে)শকল: ফোঁটা, অংশ (এক শকল চাঁদের আলো)
১২. 'যারা-তারা'-র মতো তিনটি সাপেক্ষ শব্দজোড় তৈরি করো।

উত্তর: সাপেক্ষ শব্দ বা নিত্য সম্পর্কযুক্ত জোড়:

  • যে-সে
  • যেমন-তেমন
  • যখন-তখন
  • যেখানে-সেখানে
  • যত-তত
১৩. কবিতা থেকে তিনটি সর্বনাম খুঁজে লেখো।

উত্তর: কবিতায় ব্যবহৃত তিনটি সর্বনাম:

  • যারা (সকল ছন্দ শুনবে যারা...)
  • তারা (ভুবনটাকে চিনবে তারা...)
  • কেউ (কেউ লেখেনি আর কোথাও...)
১৪. কবিতায় রেয়েছে এমন চারটি 'সম্বন্ধ পদ' উল্লেখ করো।

উত্তর: সম্বন্ধ পদ বা সম্বন্ধসূচক কর্মকারক:

  • ঝড়-বাদলে (বাদের মধ্যে)
  • পাখির ডাকে
  • মোটরের চাকায়
  • ছন্দ সুরের সংকেতে
১৫. নীচের বাক্য/বাক্যাংশের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদা করে দেখাও।
বাক্যউদ্দেশ্যবিধেয়
ছন্দ আছে ঝড়-বাদলেছন্দআছে ঝড়-বাদলে
দেখবে তখন তেমন ছড়া / কেউ লেখেনি আর কোথাও(তুমি)দেখবে তখন তেমন ছড়া, কেউ লেখেনি আর কোথাও
জলের ছন্দ তাল মিলিয়ে / নৌকো জাহাজ দেয় পাড়িনৌকো জাহাজজলের ছন্দ তাল মিলিয়ে দেয় পাড়ি
চিনবে তারা ভুবনটাকে / ছন্দ সুরের সংকেতেতারাছন্দ সুরের সংকেতে ভুবনটাকে চিনবে
১৬. নিম্নলিখিত অংশগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো।
অংশকারকবিভক্তি
ছন্দ শুধু কান রাখোঅধিকরণ কারক'এ' (কানে) → শূন্য বিভক্তি (কান + এ)
ছন্দ আছে ঝড়-বাদলেঅধিকরণ কারক'এ' বিভক্তি (বাদল + এ)
দিন দুপুরে পাখির ডাকেঅধিকরণ কারক'এ' বিভক্তি (ডাক + এ)
ছন্দ চলে রেলগাড়িকর্তৃকারকশূন্য বিভক্তি (রেলগাড়ি)
চিনবে তারা ভুবনটাকেকর্মকারক'কে' বিভক্তি (ভুবনটা + কে)

ছন্দের শিক্ষা

মনে রেখো: কবি অজিত দত্ত বলেছেন—শুধু কান দিয়ে শোনাই যথেষ্ট নয়, মন দিয়েও শুনতে হয়। তাহলেই বোঝা যায় পৃথিবীর সর্বত্র ছন্দ আর সুর ছড়িয়ে আছে। এই জ্ঞান জীবনকে করে তোলে পদ্যময় ও আনন্দময়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'ছন্দে শুধু কান রাখো' কবিতাটি বিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট আধুনিক বাংলা কবি অজিত দত্ত (১৯০৭-১৯৭৯) রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) সপ্তম শ্রেণির 'সাহিত্য মেলা' পাঠ্যপুস্তকের প্রথম পাঠ।

এই কবিতার মূলভাব হল: আমাদের চারপাশের সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ছন্দে ভরা। প্রকৃতির ঝড়, বৃষ্টি, পাখির ডাক থেকে শুরু করে যানবাহনের চাকা পর্যন্ত সবকিছুতেই ছন্দ আছে। মন দিয়ে শুনতে পারলে এই ছন্দ অনুভব করা যায় এবং জীবন পদ্যময় হয়ে ওঠে।

কবিতায় ঝড়-বাদল, জ্যোৎস্না, পাখির ডাক, ঝিঁঝি পোকার ডাক, নদীর ভাষা, মোটরের চাকা, রেলগাড়ি, জলের ছন্দে নৌকো-জাহাজ এবং ঘড়ির কাঁটার ছন্দের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।