🕊️ উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা
বিমলচন্দ্র ঘোষ
গান / কবিতা
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • গান
দুপুরের রোদ
পায়রা
অনন্ত আকাশ
প্রকৃতি দর্শন
বিমলচন্দ্র ঘোষ (১৯১২-১৯৮১)
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট কবি ও গীতিকার। রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের বাংলা কবিতায় তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি প্রগতিশীল এবং মানবতাবাদী চেতনার অধিকারী ছিলেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে "উলুখড়", "দক্ষিণায়ন" প্রভৃতি অন্যতম। প্রকৃতি এবং জীবনের সুন্দর রূপ তাঁর কবিতায় অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে।
📚
পাঠ
সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি)
সারাংশ: "উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা" একটি অপূর্ব সুন্দর চিত্রকল্পময় কবিতা বা গান। কবি দেখেছেন, চৈত্র মাসের দুপুরের প্রখর রোদে অনন্ত নীল আকাশে এক ঝাঁক সাদা, বাদামি (পিঙ্গল) ও কালো রঙের পায়রা ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। এই মহাকাল এবং বিশাল সৃষ্টি বড়ই গম্ভীর ও উদাসীন। এই নিস্তব্ধ ও উদাসীন প্রকৃতির মাঝে যখন আর কারও অস্তিত্ব চোখে পড়ে না, তখন আকাশে উড়ন্ত এই পায়রাগুলিকেই যেন মনে হয় শূন্যে ফুটে থাকা কোনো রঙিন ফুলের কম্পিত পাপড়ি। তারা যেন জীবনের এক জীবন্ত প্রতীক।
কেন্দ্রীয় চেতনা: অনন্ত ও উদাসীন মহাকালের বুকে ব্যক্তি মানুষের অস্তিত্ব খুবই তুচ্ছ। কিন্তু এই নিস্তব্ধ ও বিশাল শূন্যতার মাঝে এক ঝাঁক উড়ন্ত পায়রা জীবন, আনন্দ ও গতির বার্তা বহন করে আনে।
উজ্জ্বল আলোকিত, দীপ্তিময়
নিঃসীম সীমাহীন, যার শেষ নেই
অম্বর আকাশ
গম্ভীর ভারী, শান্ত ও চিন্তাশীল
প্রশান্ত অত্যন্ত শান্ত
মন্থর ধীর গতির
অবকাশ অবসর বা ফাঁকা সময়
উদাসীন অনাসক্ত, যার কোনো কিছুতে ভ্রুক্ষেপ নেই
উদ্দাম বাঁধনহারা, অদম্য
উল্লাস আনন্দ, আনন্দোচ্ছ্বাস
শ্বেত সাদা রং
পিঙ্গল বাদামি বা তামাটে রং
কৃষ্ণ কালো রং
কম্পিত কাঁপছে এমন
১. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
| প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
| ১.১ পায়রাগুলি কোথায় উড়ছে? (নীল শূন্যে / গাছের ডালে / ঘরের চালে) | নীল শূন্যে |
| ১.২ আকাশটি কেমন? (ঘনকালো / ঘননীল / মেঘে ঢাকা) | ঘননীল |
| ১.৩ মহাকাল এবং সৃষ্টিকে কবি কেমন বলেছেন? (উদাসীন / চঞ্চল / আনন্দিত) | উদাসীন (বা গম্ভীর) |
| ১.৪ পায়রাগুলির গায়ের রং কী কী? (লাল-নীল-সবুজ / শ্বেত-পিঙ্গল-কৃষ্ণ / হলুদ-সাদা-কালো) | শ্বেত-পিঙ্গল-কৃষ্ণ |
২. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
৩ টি
২.১ কবিতাটিতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
কবিতাটিতে চঞ্চল ডানা মেলে আকাশে উড়ে বেড়ানো এক ঝাঁক উজ্জ্বল পায়রার কথা বলা হয়েছে।
২.২ পায়রাগুলি কোন সময়ের রৌদ্রে উড়ছে?
পায়রাগুলি চৈত্র মাসের দুপুরের ঝলমলে এবং উদ্দাম রৌদ্রে আকাশে উড়ছে।
২.৩ "তুমি নেই, আমি নেই, কেউ নেই" - বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
অনন্ত মহাকাল এবং এই বিশাল আকাশ বড়োই উদাসীন। এই নিস্তব্ধ ও বিশাল শূন্যতার মাঝে সাধারণ মানুষের অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী বা তুচ্ছ। তাই দুপুরের এই নির্জনতায় কবি আর কারও অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছেন না।
৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (রচনাধর্মী)
৩.১ "আকাশি ফুলের শ্বেত পিঙ্গল কৃষ্ণ / কম্পিত শত শত উড়ন্ত পাপড়ি" - পঙ্ক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: চৈত্র মাসের প্রখর দুপুরে অনন্ত নীল আকাশে এক ঝাঁক সাদা (শ্বেত), বাদামি (পিঙ্গল) ও কালো (কৃষ্ণ) রঙের পায়রা ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে। এই দৃশ্যটি দেখে কবির মনে এক অপূর্ব কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে, নীল আকাশটি যেন একটি বিশাল ফুল আর ওই উড়ন্ত রঙিন পায়রাগুলি হলো সেই আকাশ-ফুলের শত শত রঙিন পাপড়ি। পায়রাগুলির ডানা ঝাপটানো দেখে মনে হচ্ছে যেন পাপড়িগুলি বাতাসে কাঁপছে।
৩.২ "দুপুরের ঝলমলে জীবন্ত রৌদ্রে / ওড়ে শুধু এক ঝাঁক পায়রা।" - উড়ন্ত পায়রাগুলিকে কবি 'জীবন্ত' বা জীবনের প্রতীক হিসেবে দেখেছেন কেন?
উত্তর: এই অনন্ত মহাকাল এবং বিশ্বসৃষ্টি বড়োই গম্ভীর ও উদাসীন। দুপুরের প্রখর রোদে চারিদিক যখন একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন মনে হয় যেন পৃথিবীতে আর কারও অস্তিত্ব নেই। কিন্তু এই নিস্তব্ধতা ও শূন্যতার বুক চিরে যখন এক ঝাঁক রঙিন পায়রা চঞ্চল ডানা মেলে উড়ে যায়, তখন তা নীরবতার মাঝে এক প্রাণের স্পন্দন বয়ে আনে। এই কারণেই কবি এই উড়ন্ত পায়রাগুলিকে নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে জীবনের বা গতির এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে দেখেছেন।
কবিতার শিক্ষা
\"উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা\" কবিতাটি আমাদের শেখায় যে, প্রকৃতির এই বিশাল ও উদাসীন বিস্তৃতির মাঝেও জীবনের আনন্দ লুকিয়ে থাকে। আমাদের উচিত প্রকৃতির প্রতিটি ছোটোখাটো সৌন্দর্যকে, যেমন আকাশে উড়ন্ত পাখিদের স্বাধীন রূপকে, উপভোগ করা এবং জীবনের গতিশীলতাকে সম্মান করা।