হাবুর বিপদ

শিশু ও কিশোর সাহিত্যিক অজেয় রায় রচিত “হাবুর বিপদ” গল্পের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🏫 হাবুর বিপদ

অজেয় রায় গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • দ্বাবিংশ পাঠ

স্কুল জীবন মাস্টারমশাই উপস্থিত বুদ্ধি বাংলা রচনা

অজেয় রায় (১৯৩৭ - ২০০৮)

তিনি শান্তিনিকেতনে বসবাস করতেন। শিশু ও কিশোরদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ও দুঃসাহসিক অভিযানের গল্প লেখায় তিনি বিশেষ দক্ষ ছিলেন। সন্দেশ, কিশোর ভারতী, শুকতারা প্রভৃতি জনপ্রিয় ছোটোদের পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন। বাংলার গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পরিচয় ছিল এবং সুঅভিনেতা হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলি হলো— মুঞ্জু, কেল্লাপাহাড়ের গুপ্তধন, আমাজনের গহনে ইত্যাদি।

📖

গল্প

হাবুর বিপদ

✍️

লেখক

অজেয় রায়

🧠

মূলভাব

উপস্থিত বুদ্ধি ও মৌলিকতা

📚

পাঠ

দ্বাবিংশ পাঠ

গল্পের সারাংশ

“হাবুর বিপদ” গল্পটি একটি মজার অথচ শিক্ষামূলক বিদ্যালয়-জীবনের কাহিনি। হাবু স্কুলের বাংলা শিক্ষক সুধীরবাবুকে খুব ভয় পেত, কারণ তিনি ক্লাসের কাজে কোনো অবহেলা সহ্য করতেন না। একদিন সুধীরবাবু ক্লাসে “বাংলাদেশে বর্ষাকাল” নামক একটি রচনা শুনতে চান। হাবু রচনাটি লিখে আনেনি। শাস্তি এড়ানোর জন্য হাবু তার একটি বীজগণিতের খাতা খুলে এমনভাবে তাকাল যেন সে তা দেখেই পড়ছে, এবং নিজের বুদ্ধি ও গ্রামীণ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে অনর্গল একটি চমৎকার রচনা বানিয়ে বানিয়ে বলে গেল। সুধীরবাবু প্রথমে তা বুঝতে না পারলেও পরে খাতাটি হাতে নিয়ে দেখেন সেটি একটি অঙ্কের খাতা। তিনি বুঝতে পারেন যে হাবু এতক্ষণ না দেখেই অনবদ্য রচনা বলেছে। বাইরে থেকে কড়া মাস্টারমশাই হলেও, ভেতরে ভেতরে সুধীরবাবু হাবুর এই উপস্থিত বুদ্ধি ও মৌলিক সাহিত্যিক প্রতিভার জন্য তাকে প্রশংসা করেন। তবে স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি হাবুকে পরের দিন রচনাটি লিখে আনার নির্দেশ দেন।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থশব্দঅর্থ
ভারিক্কিরাশভারী / গম্ভীর প্রকৃতিরকারণ দর্শিয়েকী কারণে আসেনি তা জানিয়ে
দশাসইলম্বা চওড়া / বিশাল চেহারারমুদ্রাদোষভাবভঙ্গির বা কথা বলার অস্বাভাবিক অভ্যাস
মৌলিকঅবিভাজ্য / নিজস্ব বা অকৃত্রিমসন্ধানীসন্ধানকারী / যে খোঁজ করছে
বিস্ফারিতবিকশিত / প্রসারিতবেমালুমবোঝা যায় না এমনভাবে / অনায়াসে
পৌরাণিক আখ্যানপুরাণের গল্প বা কাহিনিউদ্ধারখুঁজে বের করা

হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)

১. লেখক পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১.১ অজেয় রায়ের লেখা একটি জনপ্রিয় বইয়ের নাম লেখো।
অজেয় রায়ের লেখা একটি জনপ্রিয় বইয়ের নাম হলো “কেল্লাপাহাড়ের গুপ্তধন” (অথবা আমাজনের গহনে / মুঞ্জু)।
১.২ তিনি কোন কোন পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন?
তিনি সন্দেশ, কিশোর ভারতী এবং শুকতারা প্রভৃতি জনপ্রিয় ছোটোদের পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন।

২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর লেখো:

২.১ প্রফুল্লর রচনা সুধীরবাবুর কেন পছন্দ হয়নি?
কারণ প্রফুল্ল তার রচনাটি নিজের ভাষায় না লিখে, দে সরকারের রচনার বই থেকে হুবহু টুকে এনেছিল, তাই তা সুধীরবাবুর পছন্দ হয়নি।
২.২ নিতাই শাস্তি পেল কেন?
নিতাই রচনা লিখে আনেনি এবং মাস্টারমশাইয়ের কাছে তার মায়ের মিথ্যে অসুখের বাহানা দিয়েছিল, তাই সে শাস্তি পেল।
২.৩ সুধীরবাবু কোন অন্যায়কে ক্ষমা করেন না?
সুধীরবাবু পড়াশোনা এবং ক্লাসের কাজে অবহেলা করার মতো কোনো অন্যায়কে ক্ষমা করেন না।
২.৪ সুধীরবাবুর কপালের ভাঁজ কীসের চিহ্ন?
সুধীরবাবুর কপালের মাঝখানের ভাঁজটি তাঁর অসন্তোষ বা তিনি যে বিশেষ খুশি হননি, তারই চিহ্ন।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর লেখো:

৩.১ তিনকড়ি হাঁ করে হাবুর খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল কেন?
হাবু খাতা খুলে অনর্গল সুন্দর ভাষায় রচনা বলে যাচ্ছিল। কিন্তু পাশে বসা তিনকড়ি লক্ষ করেছিল যে হাবুর খাতার পাতাগুলোতে কোনো রচনাই লেখা নেই, সেটি আসলে একটি অন্য বিষয়ের খাতা। হাবুর এই অসাধারণ বানিয়ে বলার ক্ষমতা দেখেই তিনকড়ি হাঁ করে তার খাতার দিকে তাকিয়ে ছিল।
৩.২ “ছেলেটা চর্চা রাখলে বড় হয়ে নির্ঘাত সাহিত্যিক হবে।”- ছেলেটি সম্পর্কে এ কথা বলার কারণ কী?
এখানে ছেলেটি অর্থাৎ হাবুর কথা বলা হয়েছে। হাবু কোনো বইয়ের ভাষা ধার না করে, সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র দিয়ে অত্যন্ত গুছিয়ে ও সুন্দর ভাষায় বর্ষাকালের বর্ণনা দিয়েছিল। তার এই অসামান্য মৌলিক বর্ণনা শুনেই সুধীরবাবুর এমন কথা মনে হয়েছিল।
৩.৩ “মাঝে মাঝে পাতা উলটিয়ে বলে চলে।” পাতা ওল্টানোর কারণ লেখো。
হাবু রচনাটি খাতায় লিখে আনেনি, বরং সে তাৎক্ষণিকভাবে বানিয়ে বানিয়ে রচনা বলছিল। কিন্তু সে যাতে ধরা না পড়ে এবং মাস্টারমশাইয়ের কাছে বিষয়টি যাতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় যে সে খাতা দেখেই পড়ছে, সেই অভিনয়টি বজায় রাখার জন্যই সে মাঝে মাঝে খাতার পাতা ওল্টাচ্ছিল।
৩.৪ “বেমালুম ঠকাল আমাকে”- হাবুল কি সত্যিই মাস্টারমশাইকে ঠকিয়েছিল?
হাবু সাময়িকভাবে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়ে নিজের বকুনি থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছিল ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত অর্থে সে মাস্টারমশাইকে ঠকায়নি। মাস্টারমশাই ছাত্রদের কাছ থেকে যে ধরনের মৌলিক ও বাস্তবসম্মত রচনা শুনতে চেয়েছিলেন, হাবু নিজের বুদ্ধিতে অবিকল তেমনই একটি উন্নত মানের রচনা তাঁকে শুনিয়েছিল।
৩.৫ হাবুলের রচনা শুনে সুধীরবাবুর হাবুলকে কী বলার ইচ্ছে হয়েছিল? শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছে তিনি পূরণ করলেন না কেন?
হাবুলের অনবদ্য রচনা শুনে সুধীরবাবুর ইচ্ছে হয়েছিল নেমে গিয়ে ছেলেটার পিঠ চাপড়ে “সাবাস” বলতে।
কিন্তু তিনি সেই ইচ্ছে পূরণ করলেন না, কারণ তাতে ক্লাসের শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিন নষ্ট হতে পারত। হাবুকে প্রশ্রয় দিলে ক্লাসের অন্য ছাত্ররাও হয়তো এরপর থেকে না লিখে হাবুর দেখাদেখি বানিয়ে বানিয়ে রচনা বলার চেষ্টা করত।

৪. উপসর্গ পৃথক করে নতুন শব্দ তৈরি করো

প্রদত্ত শব্দউপসর্গউপসর্গ দিয়ে নতুন শব্দ
প্রশান্তপ্র (প্র + শান্ত)প্রভাত, প্রবল
অবহেলাঅব (অব + হেলা)অবমাননা, অবরোহ
দুর্ভোগদুর্ / দুঃ (দুঃ + ভোগ)দুর্গম, দুর্মূল্য
অনাবৃষ্টিঅনা (অনা + বৃষ্টি)অনাদর, অনাহার
বেমালুমবে (বে + মালুম)বেয়াদব, বেইমান

৫. “পাল্লা” শব্দটিকে দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার

  • পাল্লা (প্রতিযোগিতা): দৌড় প্রতিযোগিতায় রামের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া খুব মুশকিল।
  • পাল্লা (খপ্পর বা প্রভাব): বাজে ছেলেদের পাল্লায় পড়ে ছেলেটার পড়াশোনা লাটে উঠেছে।

৬. কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া খুঁজে বের করো

বাক্যকর্তাকর্মক্রিয়া
৬.১ আমি রচনা লিখতে বলেছি।আমিরচনালিখতে বলেছি
৬.২ হরিপদ হাবুকে তাড়া লাগায়।হরিপদহাবুকে / তাড়ালাগায়
৬.৩ ছেলেরা যে যার রচনা খাতা বের করে ওপরে রাখে।ছেলেরারচনা খাতাবের করে রাখে
৬.৪ তিনি ঘড়ি দেখলেন।তিনিঘড়িদেখলেন

৭. উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদা করো

বাক্যউদ্দেশ্য অংশবিধেয় অংশ
৭.১ ভজাটা কিছুতেই ছাড়ল না।ভজাটাকিছুতেই ছাড়ল না।
৭.২ সুধীরবাবু মন দিয়ে শোনেন।সুধীরবাবুমন দিয়ে শোনেন।
৭.৩ হাবু শুয়ে কান পেতে শোনে।হাবুশুয়ে কান পেতে শোনে।
৭.৪ দুর্গাপূজার পৌরাণিক আখ্যানটা বলে দেবেন ক্লাসে।(তিনি বা সুধীরবাবু - উহ্য)দুর্গাপূজার পৌরাণিক আখ্যানটা বলে দেবেন ক্লাসে।

৮. ঠিক উত্তরে টিক (✓) চিহ্ন দাও

প্রদত্ত বাক্যসঠিক উত্তর (বাক্যের শ্রেণি)
৮.১ হরিপদর ডাকে সুধীরবাবু অবাক হন।সরল বাক্য
৮.২ গতকাল তোমার মাকে দেখেছি গোঁসাইবাড়িতে কীর্তন শুনছেন।জটিল বাক্য (যেহেতু “যে” উহ্য আছে)
৮.৩ ফের যদি রচনা আনতে ভুল হয়, তাহলে তোমার কপালে দুঃখ আছে।জটিল বাক্য

৯. অনুসর্গ ও বিভক্তি নির্ণয় করো

বাক্যঅনুসর্গবিভক্তি
৯.১ বাবার কাছ থেকে চিঠি আনতে হবে।থেকেবাবা+র (র বিভক্তি)
৯.২ উঠানে কিছু ছেলে খেলছে।(কোনো অনুসর্গ নেই)উঠান+এ (এ বিভক্তি)
৯.৩ কয়েকজনকে বেছে বেছে পড়তে বলেন।(কোনো অনুসর্গ নেই)কয়েকজন+কে (কে বিভক্তি)
৯.৪ দে সরকারের রচনার বই থেকে হুবহু টুকে এনেছ।থেকেরচনা+র (র বিভক্তি), বই+(০ বিভক্তি)

১০. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর লেখো

১০.১ স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে হাবুর কী মনে হচ্ছিল?
উত্তর: স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে হাবুর মনে হচ্ছিল যে, সে আজ স্কুলে না গিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যাবে। কারণ সে বাংলা রচনা লিখে আনেনি এবং সুধীরবাবুর কড়া শাস্তির ভয় তার মনে কাজ করছিল।
১০.২ তার চোখে স্কুলের ভেতরের কোন ছবি ধরা পড়ে?
উত্তর: স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে হাবুর চোখে পড়ে যে, একতলা স্কুল বাড়িটার ঘরে ঘরে ছেলেদের কলরব শোনা যাচ্ছে এবং স্কুলের খোলা উঠোনে কিছু ছেলে মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে।
১০.৩ হাবু শেষের দিকের বেঞ্চে বসতে চায় না কেন? সে শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে বসে?
উত্তর: হাবু শেষের দিকের বেঞ্চে বসতে চায় না কারণ লাস্ট বেঞ্চের ছাত্রদের ওপর মাস্টারমশাইদের চিরকাল কড়া নজর থাকে এবং সেখানে বসলে সহজেই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
শেষপর্যন্ত সে ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে থার্ড বেঞ্চের এক কোণে তিনকড়ির পাশে গিয়ে বসে।
১০.৪ “এইটাই সুধীরবাবুর মেথড”- সুধীরবাবুর মেথডটি কী? তাঁর এমন মেথড অবলম্বন করার যুক্তিটি কী?
উত্তর: মেথড: সুধীরবাবুর মেথড বা পড়ানোর পদ্ধতিটি হলো ক্লাসে কয়েকজনকে বেছে বেছে তাদের লেখা রচনা পড়তে বলা এবং বাকি ছাত্রদের তা খুব মন দিয়ে শুনতে বলা।
যুক্তি: তাঁর যুক্তি ছিল, ক্লাসে অন্য সহপাঠীদের লেখা রচনা মন দিয়ে শুনলে নিজেদের লেখার মান ও ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে ছাত্রদের একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে এবং তারা আরও ভালো লেখার অনুপ্রেরণা পাবে।
১০.৫ রচনা পড়ার সময় প্রফুল্লকে সুধীরবাবু থামিয়ে দিলেন কেন? তাঁকে তিনি কোন পরামর্শ দিলেন?
উত্তর: প্রফুল্ল তার নিজের ভাষায় রচনা না লিখে, দে সরকারের রচনার বই থেকে হুবহু রচনা টুকে এনেছিল বলে সুধীরবাবু তাকে থামিয়ে দেন।
পরামর্শ: তিনি প্রফুল্লকে পরামর্শ দেন যে, সে যেন কষ্ট করে আরও দু-একখানা রচনার বই উলটে পড়ে এবং তারপর সম্পূর্ণ নিজের ভাষায় নতুন করে রচনাটি লিখে আনে।
১০.৬ “সুধীরবাবুর একটি মুদ্রাদোষ।”- কী সেই “মুদ্রাদোষ”? কখনই বা এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল?
উত্তর: সুধীরবাবুর মুদ্রাদোষটি হলো কথায় কথায় “মনে থাকবে?” কথাটি বলা।
ক্লাসে ছাত্রদের কোনো নির্দেশ, উপদেশ বা সতর্কবার্তা দেওয়ার ঠিক পরক্ষণেই তাঁর মুখ থেকে অবচেতনভাবে এই “মনে থাকবে?” কথাটি বেরিয়ে আসত। গল্পে প্রফুল্ল, নিতাই এবং প্রশান্তকে উপদেশ দেওয়ার সময় এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।
১০.৭ “তবেই রচনায় প্রকৃত সাহিত্যিক মূল্য আসবে।”-সুধীরবাবুর মতে কীভাবে একটি রচনা সাহিত্যিক মূল্যে অনন্য হয়ে ওঠে?
উত্তর: সুধীরবাবুর মতে, কোনো রচনা শুধু বইয়ের ওপর নির্ভর করে বা পুঁথিগত ভাষায় লিখলে ভালো হয় না। রচনার মধ্যে যদি শিক্ষার্থীর নিজস্ব ভাব, তার নিজস্ব ভাষা এবং তার চারপাশের বাস্তব অভিজ্ঞতার সুন্দর বর্ণনা থাকে, তবেই সেই রচনায় একটা মৌলিকত্ব ফুটে ওঠে এবং তার প্রকৃত সাহিত্যিক মূল্য তৈরি হয়।
১০.৮ “শুনছিস? স্রেফ আবোল তাবোল।” হাবু ওরফে হাবুলচন্দ্রের রচনা পড়াকে প্রশান্তর “আবোল তাবোল” মনে হয়েছে কেন? তুমি কী এর সঙ্গে একমত?
উত্তর: ফার্স্ট বয় প্রশান্ত বই পড়ে এবং সাহিত্যিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে কেতাবি ভাষায় রচনা লিখতে অভ্যস্ত ছিল। অন্যদিকে, হাবুর রচনায় কোনো বইয়ের ভাষা ছিল না, ছিল গ্রামবাংলার দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব ও সহজ-সরল বর্ণনা। প্রশান্তর পুঁথিগত চিন্তাধারায় এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে রচনার বিষয় হিসেবে বেমানান বা “আবোল তাবোল” মনে হয়েছে।
মতামত: না, আমি প্রশান্তর সঙ্গে একেবারেই একমত নই। কারণ, নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা এবং মৌলিক চিন্তাভাবনাই হলো প্রকৃত সাহিত্যের মূল ভিত্তি, যা হাবুর মধ্যে ছিল।
১০.৯ “তাঁর কাছে রহস্য পরিষ্কার হয়ে গেল”-কোন রহস্যের কথা বলা হয়েছে? কীভাবে তার জট ছাড়ল?
উত্তর: হাবু কোন খাতা দেখে এতক্ষণ এত সুন্দর একটি রচনা পড়ে শোনাল, এখানে সেই রহস্যের কথা বলা হয়েছে।
জট ছাড়ানো: ক্লাস মনিটর হরিপদ যখন হাবুর খাতাটি সুধীরবাবুর হাতে দেয়, তখন তিনি দেখেন যে খাতার ওপরে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা “বীজগণিত খাতা” এবং ভেতরে কোনো রচনাই লেখা নেই। এভাবেই হাবুর না-লিখে বানিয়ে বানিয়ে রচনা পড়ার রহস্যটি পরিষ্কার হয়।
১০.১০ “না, এতটা বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না।”-কার মনে এমন চিন্তার উদয় হলো? সত্যিই কি তোমার সেই চিন্তাকে বাড়াবাড়ি মনে হয়?
উত্তর: এই চিন্তার উদয় হয়েছিল কঠোর অথচ সমঝদার শিক্ষক সুধীরবাবুর মনে।
মতামত: হ্যাঁ, সুধীরবাবু যদি ক্লাসের মধ্যে হাবুর পিঠ চাপড়ে তাকে “সাবাস” বলতেন, তবে তা সত্যিই বাড়াবাড়ি হতো। কারণ, এতে ক্লাসের শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল এবং অন্য ছেলেরাও এরপর থেকে বাড়িতে রচনা না লিখে হাবুর মতো বানিয়ে বলার মিথ্যা চেষ্টা করত।
১০.১১ “তা সোজাসুজি স্বীকার করলেই পারতে” -সুধীরবাবু হাবুকে যে একথা বললেন, সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ না থাকার জন্য তিনি নিজেই কতখানি দায়ী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: হাবুকে এমন মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়েছিল সুধীরবাবুর অত্যধিক কড়া শাসন ও গম্ভীর স্বভাবের ভয়ে। তিনি যদি ছাত্রদের প্রতি আরেকটু বন্ধুসুলভ হতেন এবং ভয়ের পরিবর্তে ভরসার জায়গা তৈরি করতে পারতেন, তবে হাবু হয়তো প্রথমেই তার না-লেখার কারণটি সত্যি করে স্বীকার করতে পারত। তাই বলা যায়, এই ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে সুধীরবাবুর কাঠিন্য অনেকটাই দায়ী ছিল।
১০.১২ গল্পে কঠোর মাস্টারমশাই সুধীরবাবুর মধ্যেও এক স্নেহপ্রবণ, নীতিনিষ্ঠ, আদর্শবাদী, প্রশ্রয়দাতা মানুষ লুকিয়ে ছিল- আলোচনা করো।
উত্তর: সুধীরবাবু বাইরে থেকে অত্যন্ত কড়া এবং গম্ভীর প্রকৃতির হলেও, তাঁর ভেতরে ছাত্রদের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা ছিল। তিনি ছাত্রদের উন্নতির জন্য প্রচুর খাটতেন এবং সমস্ত খাতা যত্ন নিয়ে সংশোধন করতেন। হাবু যখন মিথ্যে বলে বীজগণিতের খাতা দেখে রচনা বলছিল, তখন তিনি তার ফাঁকিবাজি ধরলেও তার মৌলিক চিন্তা ও উপস্থিত বুদ্ধিকে মনে মনে প্রশংসা করেছিলেন। তিনি জানতেন হাবুর মধ্যে সাহিত্যিক হওয়ার গুণ আছে, তাই তাকে উপযুক্ত শাস্তি না দিয়ে তিনি শুধু লেখাটি পরের দিন জমা দিতে বলেন। তাঁর এই আচরণের মধ্য দিয়েই একজন প্রকৃত আদর্শবাদী ও স্নেহপ্রবণ শিক্ষকের পরিচয় ফুটে ওঠে।

গল্পের অন্তর্নিহিত শিক্ষা

“হাবুর বিপদ” গল্পটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও উপস্থিত বুদ্ধি অনেক বেশি মূল্যবান। হাবু প্রমাণ করেছে যে, নিজের চারপাশের পরিবেশকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে যেকোনো বিষয়ের ওপর সুন্দর ও মৌলিক রচনা লেখা সম্ভব। একইসঙ্গে এই গল্পে মাস্টারমশাই সুধীরবাবুর চরিত্রের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল কড়া শাসনই করেন না, তিনি ছাত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রকৃত প্রতিভাকেও চিনতে পারেন এবং তাকে সঠিক পথ দেখান।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

“হাবুর বিপদ” গল্পটি প্রখ্যাত শিশু ও কিশোর সাহিত্যিক অজেয় রায় রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা “সাহিত্য মেলা” বইয়ের দ্বাবিংশ পাঠের অন্তর্ভুক্ত।

হাবুর তার স্কুলের বাংলা শিক্ষক সুধীরবাবুর প্রতি খুব ভয় ছিল। কারণ সুধীরবাবু অত্যন্ত গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন এবং তিনি ছাত্রদের পড়াশোনার বিষয়ে কোনো অবহেলা সহ্য করতেন না।

হাবু সুধীরবাবুর ক্লাসে একটি বীজগণিতের খাতা খুলে “বাংলাদেশে বর্ষাকাল” বিষয়ক রচনাটি সম্পূর্ণ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বানিয়ে বানিয়ে অনর্গল বলে গিয়েছিল।

সুধীরবাবুর মুদ্রাদোষ ছিল কথায় কথায় “মনে থাকবে?” বলা। ছাত্রদের কোনো উপদেশ বা কড়া নির্দেশ দেওয়ার পরই তিনি এই কথাটি বলতেন।