Sponsored Links
আকাশভরা সূর্য-তারা (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আকাশভরা সূর্য-তারা' গানের/কবিতার সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য মেলা বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'আকাশভরা সূর্য-তারা' কবিতার সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লাইনভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও Broad Questions) নিচে দেওয়া হলো।
১. কবিতার বিষয়সংক্ষেপ
আকাশভরা সূর্য-তারা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি অনবদ্য গান বা কবিতা, যা তাঁর 'গীতবিতান' গ্রন্থের অন্তর্গত। এই কবিতায় কবি প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্য এবং বিশালতার মাঝে মানুষের ক্ষুদ্র অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অস্তিত্বের কথা তুলে ধরেছেন।
কবির মতে, আমাদের মাথার ওপর রয়েছে সূর্য ও তারায় ভরা অসীম আকাশ, আর চারদিকে ছড়িয়ে আছে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা বিশাল বিশ্বজগৎ। এই অসীম ও বিশাল সৃষ্টির ঠিক মাঝখানেই মানুষ হিসেবে কবি তাঁর নিজের স্থান বা অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই বিশালতার মাঝে নিজের এই ক্ষুদ্র অস্তিত্বের কথা ভেবেই তাঁর মনে গভীর বিস্ময় জাগে এবং সেই বিস্ময় থেকেই তাঁর মন গানে মেতে ওঠে।
মহাকালের যে ঢেউ বা জোয়ার-ভাটায় সমগ্র জগৎ বা ভুবন দুলছে, সেই অনন্ত কালের গতির টান কবি তাঁর নিজের নাড়ির রক্তধারায় অনুভব করেন। বনের পথে ঘাসে পা ফেলে হাঁটার সময় ফুলের গন্ধে তাঁর মন মেতে ওঠে এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে প্রকৃতি তার রূপ, রস, গন্ধ দিয়ে চারদিকে আনন্দের দান ছড়িয়ে রেখেছে। কবি তাঁর চোখ, কান এবং হৃদয় দিয়ে এই সুন্দর পৃথিবীকে অনুভব করেন এবং এই জানা পৃথিবীর মাঝেই তিনি অজানা রহস্যের সন্ধান করেন। এই অপরূপ সৃষ্টি ও স্রষ্টার কথা ভেবেই তাঁর মনে চিরন্তন বিস্ময় জাগে।
কবির মতে, আমাদের মাথার ওপর রয়েছে সূর্য ও তারায় ভরা অসীম আকাশ, আর চারদিকে ছড়িয়ে আছে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা বিশাল বিশ্বজগৎ। এই অসীম ও বিশাল সৃষ্টির ঠিক মাঝখানেই মানুষ হিসেবে কবি তাঁর নিজের স্থান বা অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই বিশালতার মাঝে নিজের এই ক্ষুদ্র অস্তিত্বের কথা ভেবেই তাঁর মনে গভীর বিস্ময় জাগে এবং সেই বিস্ময় থেকেই তাঁর মন গানে মেতে ওঠে।
মহাকালের যে ঢেউ বা জোয়ার-ভাটায় সমগ্র জগৎ বা ভুবন দুলছে, সেই অনন্ত কালের গতির টান কবি তাঁর নিজের নাড়ির রক্তধারায় অনুভব করেন। বনের পথে ঘাসে পা ফেলে হাঁটার সময় ফুলের গন্ধে তাঁর মন মেতে ওঠে এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে প্রকৃতি তার রূপ, রস, গন্ধ দিয়ে চারদিকে আনন্দের দান ছড়িয়ে রেখেছে। কবি তাঁর চোখ, কান এবং হৃদয় দিয়ে এই সুন্দর পৃথিবীকে অনুভব করেন এবং এই জানা পৃথিবীর মাঝেই তিনি অজানা রহস্যের সন্ধান করেন। এই অপরূপ সৃষ্টি ও স্রষ্টার কথা ভেবেই তাঁর মনে চিরন্তন বিস্ময় জাগে।
২. কবি পরিচিতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১): জন্ম কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার, সুরকার এবং কবি। তাঁর রচিত গানগুলি 'গীতবিতান' নামের বইতে কয়েকটি খণ্ডে বিধৃত রয়েছে। আর তাঁর গানের স্বরলিপিগুলি 'স্বরবিতান' নামের বইতে পাওয়া যায়। তিনি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন (১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি'র জন্য)। ভারত এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— সোনার তরী, মানসী, বলাকা, পুনশ্চ ইত্যাদি।
৩. কবিতার লাইনভিত্তিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা
আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান,
ব্যাখ্যা: আমাদের মাথার ওপরের আকাশ অসংখ্য নক্ষত্র ও সূর্যে পরিপূর্ণ। আর এই বিশাল বিশ্বজগৎ বা পৃথিবী অসংখ্য প্রাণের স্পন্দনে ভরা। কবি বলছেন যে, এই অসীম মহাকাশ এবং প্রাণচঞ্চল বিশাল পৃথিবীর ঠিক মাঝখানেই তিনি একজন মানুষ হিসেবে নিজের ক্ষুদ্র অস্তিত্ব বা স্থান খুঁজে পেয়েছেন।
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।।
ব্যাখ্যা: এই বিশাল ও অনন্ত সৃষ্টির মাঝে নিজের মতো একজন ক্ষুদ্র মানুষের অস্তিত্বের কথা উপলব্ধি করে কবির মন প্রবল বিস্ময়ে বা অবাক অনুভূতিতে ভরে ওঠে। আর সেই বিস্ময় ও আনন্দের প্রকাশ হিসেবেই তাঁর মনে গানের সুর জেগে ওঠে।
অসীম কালের যে হিল্লোলে জোয়ার-ভাঁটায় ভুবন দোলে
ব্যাখ্যা: 'অসীম কাল' বলতে অনন্ত বা শেষহীন সময়কে বোঝানো হয়েছে। 'হিল্লোল' মানে ঢেউ। নদীর জলে যেমন জোয়ার-ভাটা আসে, তেমনি অনন্ত সময়ের প্রবাহে বা ঢেউয়ে এই ভুবন বা জগৎ সর্বদা দুলছে বা পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থাৎ, সময়ের নিয়মে জগতে সৃষ্টি ও ধ্বংসের যে খেলা চলছে, তাকেই জোয়ার-ভাটার দোলার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
নাড়িতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান,
ব্যাখ্যা: অনন্ত কালের বা বিশ্বপ্রকৃতির সেই গতির টান কবি তাঁর নিজের শরীরের শিরা-উপশিরায় বা নাড়ির রক্তপ্রবাহেও অনুভব করেন। অর্থাৎ, কবি অনুভব করেন যে তিনি এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের থেকে আলাদা নন, তিনি এই প্রকৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।।
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির সঙ্গে নিজের এই আত্মিক যোগ ও একাত্মতার কথা ভেবে কবির মন পুনরায় বিস্ময়ে ভরে ওঠে এবং তিনি গান গেয়ে ওঠেন।
ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে,
ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে,
ব্যাখ্যা: কবি যখন বনের পথে ঘাসের ওপর দিয়ে হেঁটে যান, তখন বুনো ফুলের মিষ্টি গন্ধে তিনি চমকে ওঠেন। প্রকৃতির এই সহজ ও স্নিগ্ধ রূপ, রস ও গন্ধ তাঁর মনকে আনন্দে মাতিয়ে তোলে।
ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।
ব্যাখ্যা: কবি উপলব্ধি করেন যে, সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতি এই পৃথিবীর সর্বত্র শুধু আনন্দেরই উপাদান ছড়িয়ে রেখেছেন। ফুল, পাখি, ঘাস—সবকিছুর মধ্যেই এক অনাবিল আনন্দ লুকিয়ে আছে। প্রকৃতির এই উদারতা দেখে কবির মন আবার বিস্ময়ে ও গানে ভরে ওঠে।
কান পেতেছি, চোখ মেলেছি, ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান,
ব্যাখ্যা: কবি তাঁর চোখ ও কান অর্থাৎ পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে এই পৃথিবীর রূপ, রস ও শব্দকে অনুভব করেছেন এবং এই ধরণী বা পৃথিবীকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসে নিজের প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। তিনি তাঁর চেনা বা জানা পৃথিবীর রূপের মাঝেই অচেনা বা অজানা সৃষ্টিকর্তার রহস্য খোঁজার চেষ্টা করেছেন।
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।।
ব্যাখ্যা: জানা পৃথিবীর মাঝে অজানার এই সন্ধান এবং প্রকৃতির অপার রহস্যের উপলব্ধিই কবির মনে চিরন্তন বিস্ময় জাগিয়ে তোলে, আর তাই তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় গান।
৪. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২৫+ টি প্রশ্ন
১. 'আকাশভরা সূর্য-তারা' কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম (খ) সুকুমার রায় (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. আকাশ কীসে ভরা?
(ক) মেঘে (খ) সূর্য-তারায় (গ) পাখিতে (ঘ) আলোতে
উত্তর: (খ) সূর্য-তারায়
৩. বিশ্ব কীসে ভরা?
(ক) জলে (খ) প্রাণে (গ) মানুষে (ঘ) গাছে
উত্তর: (খ) প্রাণে (বিশ্বভরা প্রাণ)
৪. কবি কার মাঝখানে নিজের স্থান পেয়েছেন?
(ক) সমাজের মাঝে (খ) পরিবারের মাঝে (গ) আকাশভরা সূর্য-তারা ও বিশ্বভরা প্রাণের মাঝে (ঘ) শহরের মাঝে
উত্তর: (গ) আকাশভরা সূর্য-তারা ও বিশ্বভরা প্রাণের মাঝে
৫. নিজের স্থান পেয়ে কবির কী জাগে?
(ক) ভয় (খ) বিস্ময় ও গান (গ) আনন্দ (ঘ) দুঃখ
উত্তর: (খ) বিস্ময় ও গান
৬. ভুবন কীসে দোলে?
(ক) বাতাসে (খ) ঝড়ে (গ) অসীম কালের হিল্লোলে ও জোয়ার-ভাটায় (ঘ) নদীর স্রোতে
উত্তর: (গ) অসীম কালের হিল্লোলে ও জোয়ার-ভাটায়
৭. 'হিল্লোল' শব্দের অর্থ কী?
(ক) হাওয়া (খ) তরঙ্গ বা ঢেউ (গ) মেঘ (ঘ) বৃষ্টি
উত্তর: (খ) তরঙ্গ বা ঢেউ
৮. অসীম কালের টান কবি কোথায় অনুভব করেন?
(ক) মনে (খ) চোখে (গ) নাড়িতে ও রক্তধারায় (ঘ) বুকে
উত্তর: (গ) নাড়িতে ও রক্তধারায়
৯. কবি বনের পথে কোথায় পা ফেলেছেন?
(ক) মাটিতে (খ) ঘাসে ঘাসে (গ) কাঁটায় (ঘ) জলে
উত্তর: (খ) ঘাসে ঘাসে
১০. কীসের গন্ধে কবির মন মেতে উঠেছে?
(ক) মাটির গন্ধে (খ) হাওয়ার গন্ধে (গ) ফুলের গন্ধে (ঘ) বৃষ্টির গন্ধে
উত্তর: (গ) ফুলের গন্ধে
১১. চারদিকে কীসের দান ছড়িয়ে আছে?
(ক) আলোর দান (খ) জলের দান (গ) আনন্দেরই দান (ঘ) দুঃখের দান
উত্তর: (গ) আনন্দেরই দান
১২. কবি কোথায় প্রাণ ঢেলেছেন?
(ক) গানে (খ) কবিতায় (গ) ধরার বুকে (ঘ) আকাশে
উত্তর: (গ) ধরার বুকে
১৩. 'ধরা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) আকাশ (খ) সূর্য (গ) পৃথিবী বা জগৎ (ঘ) নদী
উত্তর: (গ) পৃথিবী বা জগৎ
১৪. কবি জানার মাঝে কীসের সন্ধান করেছেন?
(ক) অজানার (খ) সত্যের (গ) আলোর (ঘ) প্রাণের
উত্তর: (ক) অজানার
১৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গানগুলি কোন বইতে আছে?
(ক) সঞ্চয়িতা (খ) গীতবিতান (গ) স্বরবিতান (ঘ) গীতাঞ্জলি
উত্তর: (খ) গীতবিতান
১৬. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের স্বরলিপি কোন বইতে আছে?
(ক) গীতবিতান (খ) স্বরবিতান (গ) সোনার তরী (ঘ) মানসী
উত্তর: (খ) স্বরবিতান
১৭. 'বিস্ময়' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ভয় (খ) অবাক হওয়া বা আশ্চর্য (গ) রাগ (ঘ) দুঃখ
উত্তর: (খ) অবাক হওয়া বা আশ্চর্য
১৮. 'ভুবন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) আকাশ (খ) পাতালা (গ) জগৎ বা পৃথিবী (ঘ) বন
উত্তর: (গ) জগৎ বা পৃথিবী
১৯. কবি কী পেতেছেন এবং কী মেলেছেন?
(ক) হাত পেতেছেন, বুক মেলেছেন (খ) কান পেতেছেন, চোখ মেলেছেন (গ) পা পেতেছেন, হাত মেলেছেন (ঘ) মন পেতেছেন, কান মেলেছেন
উত্তর: (খ) কান পেতেছেন, চোখ মেলেছেন
২০. কবিতাটিতে বারবার কোন লাইনটি ফিরে এসেছে?
(ক) আকাশভরা সূর্য-তারা (খ) বিশ্বভরা প্রাণ (গ) বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান (ঘ) কান পেতেছি, চোখ মেলেছি
উত্তর: (গ) বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান
৫. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫+ টি প্রশ্ন
১. 'আকাশভরা সূর্য-তারা' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: কবিতাটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
২. আকাশ কীসে ভরা এবং বিশ্ব কীসে ভরা?
উত্তর: আকাশ অসংখ্য সূর্য ও তারায় ভরা এবং বিশাল বিশ্ব জগৎ প্রাণে ভরা।
৩. কবি কার মাঝখানে নিজের স্থান পেয়েছেন?
উত্তর: অসীম আকাশভরা সূর্য-তারা এবং প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা বিশাল বিশ্বের ঠিক মাঝখানে কবি মানুষ হিসেবে নিজের স্থান পেয়েছেন।
৪. কবির মনে কেন বিস্ময় জাগে?
উত্তর: এই অসীম ও বিশাল সৃষ্টির মাঝে নিজের ক্ষুদ্র অথচ তাৎপর্যপূর্ণ অস্তিত্বের কথা উপলব্ধি করেই কবির মনে বিস্ময় জাগে।
৫. 'অসীম কালের যে হিল্লোলে' - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: কথাটির অর্থ হলো, অনন্ত বা শেষহীন সময়ের প্রবাহ বা ঢেউয়ে।
৬. ভুবন কীসে দোলে?
উত্তর: ভুবন বা জগৎ অসীম কালের হিল্লোলে বা ঢেউয়ে এবং সৃষ্টি ও ধ্বংসের জোয়ার-ভাটায় দোলে।
৭. অসীম কালের টান কবি কোথায় অনুভব করেন?
উত্তর: অসীম কালের সেই গতির টান কবি তাঁর নিজের শরীরের নাড়িতে ও রক্তধারায় অনুভব করেন।
৮. বনের পথে হাঁটার সময় কবির কী অভিজ্ঞতা হয়?
উত্তর: বনের পথে ঘাসে পা ফেলে হাঁটার সময় বুনো ফুলের মিষ্টি গন্ধে চমক লেগে কবির মন আনন্দে মেতে ওঠে।
৯. পৃথিবীতে কী ছড়িয়ে আছে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: কবির মনে হয়, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের মধ্যে স্রষ্টা শুধু আনন্দেরই দান ছড়িয়ে রেখেছেন।
১০. কবি কোথায় প্রাণ ঢেলেছেন?
উত্তর: কবি চোখ ও কান দিয়ে প্রকৃতিকে অনুভব করে এই ধরার বুকে বা পৃথিবীতে নিজের প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন।
১১. 'জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান' - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, কবি তাঁর চেনা বা জানা পৃথিবীর রূপ, রস ও সৌন্দর্যের মাঝেই অসীম ও অজানা স্রষ্টার রহস্য খোঁজার চেষ্টা করেছেন।
১২. রবীন্দ্রনাথের গান ও গানের স্বরলিপি কোন কোন বইতে পাওয়া যায়?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের গানগুলি 'গীতবিতান' বইতে এবং গানের স্বরলিপিগুলি 'স্বরবিতান' বইতে পাওয়া যায়।
৬. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৩ টি প্রশ্ন
১. 'বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান' - কবির মনে কেন বিস্ময় জেগেছে এবং তার ফলে কী হয়েছে তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আকাশভরা সূর্য-তারা' কবিতায় কবির মনে প্রকৃতির অসীমতা ও নিজের অস্তিত্বের কথা ভেবে বিস্ময় জেগেছে।
কবি উপলব্ধি করেছেন যে, আমাদের মাথার ওপর রয়েছে অনন্ত মহাকাশ যা অসংখ্য সূর্য ও তারায় পরিপূর্ণ। আর আমাদের চারপাশের এই বিশাল পৃথিবী অসংখ্য প্রাণের স্পন্দনে ভরা। এই বিশাল সৃষ্টি ও অসীম প্রকৃতির মাঝখানে একজন অতি ক্ষুদ্র মানুষ হয়েও তিনি নিজের স্থান বা অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই বিশালতার সাথে নিজের একাত্মতা অনুভব করেই কবির মন গভীর বিস্ময়ে বা আশ্চর্য অনুভূতিতে ভরে উঠেছে।
এই বিস্ময়ের ফলেই কবির মনে এক অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই আনন্দ ও উপলব্ধির প্রকাশ ঘটাতেই কবির মন থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গানের সুর জেগে উঠেছে।
কবি উপলব্ধি করেছেন যে, আমাদের মাথার ওপর রয়েছে অনন্ত মহাকাশ যা অসংখ্য সূর্য ও তারায় পরিপূর্ণ। আর আমাদের চারপাশের এই বিশাল পৃথিবী অসংখ্য প্রাণের স্পন্দনে ভরা। এই বিশাল সৃষ্টি ও অসীম প্রকৃতির মাঝখানে একজন অতি ক্ষুদ্র মানুষ হয়েও তিনি নিজের স্থান বা অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই বিশালতার সাথে নিজের একাত্মতা অনুভব করেই কবির মন গভীর বিস্ময়ে বা আশ্চর্য অনুভূতিতে ভরে উঠেছে।
এই বিস্ময়ের ফলেই কবির মনে এক অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই আনন্দ ও উপলব্ধির প্রকাশ ঘটাতেই কবির মন থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গানের সুর জেগে উঠেছে।
২. "নাড়িতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান" - কার টানের কথা বলা হয়েছে? এই টানের মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কার টান: 'আকাশভরা সূর্য-তারা' কবিতায় অনন্ত সময় বা 'অসীম কালের' হিল্লোলের (ঢেউয়ের) টানের কথা বলা হয়েছে। নদীর জলের মতো বিশ্বপ্রকৃতিতে যে অনন্ত সময়ের জোয়ার-ভাটা খেলছে, সেই গতির টানের কথাই কবি এখানে বলেছেন।
কবির বোঝাতে চাওয়া বিষয়: এই উক্তিটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড থেকে আলাদা কোনো সত্তা নন। পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ও প্রকৃতির মধ্যে যে প্রাণের স্পন্দন চলছে, যে ছন্দে ভুবন দুলছে, সেই একই স্পন্দন ও ছন্দ কবির নিজের শরীরের নাড়িতে এবং রক্তধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ, অসীম বিশ্বপ্রকৃতির সাথে মানবজীবনের যে এক গভীর আত্মিক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে, কবি নিজের রক্তের স্পন্দনে সেই সত্যটিকেই গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
কবির বোঝাতে চাওয়া বিষয়: এই উক্তিটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড থেকে আলাদা কোনো সত্তা নন। পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী ও প্রকৃতির মধ্যে যে প্রাণের স্পন্দন চলছে, যে ছন্দে ভুবন দুলছে, সেই একই স্পন্দন ও ছন্দ কবির নিজের শরীরের নাড়িতে এবং রক্তধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ, অসীম বিশ্বপ্রকৃতির সাথে মানবজীবনের যে এক গভীর আত্মিক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে, কবি নিজের রক্তের স্পন্দনে সেই সত্যটিকেই গভীরভাবে অনুভব করেছেন।
৩. "জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান" - পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: তাৎপর্য বিশ্লেষণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আকাশভরা সূর্য-তারা' কবিতার এটি একটি অত্যন্ত গভীর ও দার্শনিক পঙ্ক্তি।
এখানে 'জানা' বলতে কবি আমাদের চারপাশের এই দৃশ্যমান ও চেনা পৃথিবীকে বুঝিয়েছেন—যার আকাশ সূর্য-তারায় ভরা, যার বনের পথে ঘাস আছে এবং ফুলে সুগন্ধ আছে। কবি তাঁর চোখ মেলে ও কান পেতে এই চেনা পৃথিবীর রূপ, রস ও শব্দকে গভীরভাবে অনুভব করেছেন এবং ভালোবেসেছেন। কিন্তু এই দৃশ্যমান প্রকৃতির আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক বিশাল রহস্যময় স্রষ্টা বা অসীম শক্তি, যা আমাদের কাছে 'অজানা'। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি এই জানা ও চেনা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসেই সেই অজানা ও অসীম স্রষ্টার অস্তিত্বকে খোঁজার বা উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। সসীমের মাঝেই অসীমের এই সন্ধানই হলো কবির জীবনের সবচেয়ে বড়ো বিস্ময়।
এখানে 'জানা' বলতে কবি আমাদের চারপাশের এই দৃশ্যমান ও চেনা পৃথিবীকে বুঝিয়েছেন—যার আকাশ সূর্য-তারায় ভরা, যার বনের পথে ঘাস আছে এবং ফুলে সুগন্ধ আছে। কবি তাঁর চোখ মেলে ও কান পেতে এই চেনা পৃথিবীর রূপ, রস ও শব্দকে গভীরভাবে অনুভব করেছেন এবং ভালোবেসেছেন। কিন্তু এই দৃশ্যমান প্রকৃতির আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক বিশাল রহস্যময় স্রষ্টা বা অসীম শক্তি, যা আমাদের কাছে 'অজানা'। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি এই জানা ও চেনা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসেই সেই অজানা ও অসীম স্রষ্টার অস্তিত্বকে খোঁজার বা উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। সসীমের মাঝেই অসীমের এই সন্ধানই হলো কবির জীবনের সবচেয়ে বড়ো বিস্ময়।
৭. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ১০ টি প্রশ্ন
বিপরীত শব্দ
- আকাশ: পাতাল
- অসীম: সসীম
- জোয়ার: ভাটা
- জানা: অজানা
- আনন্দ: নিরানন্দ / দুঃখ
সমার্থক শব্দ
- আকাশ: গগন, অম্বর, নভঃ
- সূর্য: রবি, তপন, ভাস্কর
- তারা: নক্ষত্র, তারকা
- বিশ্ব: জগৎ, ভুবন, পৃথিবী
- ফুল: পুষ্প, কুসুম
- চোখ: নয়ন, নেত্র, আঁখি
বাক্য রচনা করো
- বিস্ময়: রাতের আকাশে অসংখ্য তারা দেখে আমার মনে বিস্ময় জাগে।
- সন্ধান: বিজ্ঞানীরা নতুন গ্রহের সন্ধান চালাচ্ছেন।
- প্রাণ: জল ছাড়া কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না।
আকাশভরা সূর্য-তারা কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
আকাশভরা সূর্য-তারা কবিতা বা গানটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
অসীম আকাশ ও বিশাল প্রাণময় পৃথিবীর মাঝে একজন ক্ষুদ্র মানুষ হয়েও নিজের স্থান খুঁজে পাওয়ার উপলব্ধি থেকেই কবির মনে বিস্ময় জাগে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গানগুলি 'গীতবিতান' নামক বইতে সংকলিত রয়েছে।