🇮🇳 শহিদ যতীন্দ্রনাথ
আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়
জীবনী / প্রবন্ধ
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • ঊনবিংশ পাঠ • প্রবন্ধ
স্বাধীনতা সংগ্রাম
আমরণ অনশন
বিপ্লবী
দেশপ্রেম
আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় (১৯২৬-২০১১)
জন্ম নদীয়া জেলার রাণাঘাটে। পড়াশোনা সেন্ট পলস কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আদর্শে অনুপ্রাণিত। ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও আকাশবাণীতে ফুটবলের ইংরাজি ধারাভাষ্যকার ছিলেন। তাঁর রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল "স্বাধীনতার রূপকার নেতাজি সুভাষ" এবং "ইতিহাসের পাতা থেকে"।
✍️
লেখক
আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়
🌍
মূল চরিত্র
যতীন্দ্রনাথ দাশ
প্রবন্ধের সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "শহিদ যতীন্দ্রনাথ" প্রবন্ধটিতে অকুতোভয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও অমর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ দাশের সংক্ষিপ্ত জীবন ও আত্মত্যাগের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। ১৯০৪ সালে কলকাতায় তাঁর জন্ম। অত্যন্ত মেধাবী ও ভোজনবিলাসী এই মানুষটি দেশের স্বাধীনতার টানে হাসিমুখে চরম কষ্ট বরণ করেছিলেন। বোমা তৈরিতে দক্ষ যতীন, ভগৎ সিং ও তাঁর দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ১৯২৯ সালের ১৪ জুন লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলের অভ্যন্তরে রাজবন্দিদের ওপর অমানুষিক পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৩ জুলাই ১৯২৯ তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা ঐতিহাসিক অনশন শুরু করেন। পুলিশ জোর করে নাকের মধ্যে নল দিয়ে দুধ খাওয়াতে গেলে তা শ্বাসনালীতে ঢুকে তাঁর ফুসফুস নষ্ট করে দেয়। ৬৩ দিনের দীর্ঘ অনশনের পর ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯ সালে তিনি হাসিমুখে মাতৃভূমির জন্য শহিদ হন।
কেন্দ্রীয় চেতনা: মাতৃভূমির শৃঙ্খল মোচনের জন্য এক অসীম সাহসী তরুণের আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো এই প্রবন্ধ। দেশের জন্য নিজের জীবনকে তিল তিল করে উৎসর্গ করাই যে প্রকৃত বিপ্লবীর ধর্ম, তা এই পাঠ্যাংশে ফুটে উঠেছে।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
২ টি
১.১ আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় কোন খেলার ধারাভাষ্যকার ছিলেন?
আশিসকুমার মুখোপাধ্যায় ফুটবল খেলার ইংরাজি ধারাভাষ্যকার ছিলেন।
১.২ তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।
তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম হলো "স্বাধীনতার রূপকার নেতাজি সুভাষ" (অথবা "ইতিহাসের পাতা থেকে")।
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও
৮ টি
২.১ যতীন দাশ কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
যতীন দাশ ১৯০৪ সালে উত্তর কলকাতার শিকদার বাগান অঞ্চলে তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
২.২ যতীন দাশের পিতার নাম কী ছিল?
যতীন দাশের পিতার নাম ছিল বঙ্কিমবিহারী দাশ।
২.৩ যতীন দাশের পিতা কোথায় চাকরি করতেন?
যতীন দাশের পিতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে স্থায়ী পদে চাকরি করতেন (যা তিনি পরে ছেড়ে দিয়েছিলেন)।
২.৪ যতীন দাশের ছদ্মনাম কী ছিল?
বিপ্লবী জীবনে যতীন দাশের প্রথম ছদ্মনাম ছিল "রবিন" এবং পরবর্তীকালে তাঁর দ্বিতীয় ছদ্মনাম হয় "কালীবাবু"।
২.৫ হিন্দ নওজোয়ান সভা কে প্রতিষ্ঠা করেন?
হিন্দ নওজোয়ান সভা প্রতিষ্ঠা করেন অমর বিপ্লবী ভগৎ সিং।
২.৬ মি. প্যাট্রি কে ছিলেন?
মি. প্যাট্রি (Mr. Pattry) ছিলেন তদানীন্তন ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান।
২.৭ লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের কোন জেলে বদলি করা হয়?
লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের লাহোর সেন্ট্রাল জেলে বদলি করা হয়।
২.৮ কারা যতীনের জামিনের প্রস্তাব ঘৃণাভরে অগ্রাহ্য করেন?
যতীনের পিতা বঙ্কিমবিহারী দাশ ও তাঁর ছোটোভাই কিরণচন্দ্র দাশ জামিনের প্রস্তাব ঘৃণাভরে অগ্রাহ্য করেন।
৩. নীচের বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণ ও বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো:
| প্রদত্ত শব্দ (শ্রেণি) | রূপান্তরিত শব্দ (শ্রেণি) |
| অংশ (বিশেষ্য) | আংশিক (বিশেষণ) |
| উত্তীর্ণ (বিশেষণ) | উত্তরণ (বিশেষ্য) |
| ঐতিহাসিক (বিশেষণ) | ইতিহাস (বিশেষ্য) |
| আক্রান্ত (বিশেষণ) | আক্রমণ (বিশেষ্য) |
| জীবন (বিশেষ্য) | জীবিত / জীবন্ত (বিশেষণ) |
| ভোজন (বিশেষ্য) | ভোজ্য (বিশেষণ) |
| পিতা (বিশেষ্য) | পৈতৃক (বিশেষণ) |
| সন্দেহ (বিশেষ্য) | সন্দিগ্ধ (বিশেষণ) |
| জাতীয় (বিশেষণ) | জাতি (বিশেষ্য) |
| মেয়াদ (বিশেষ্য) | মেয়াদি (বিশেষণ) |
৪. সন্ধি বিচ্ছেদ করো:
পর্যন্ত = পরি + অন্ত
কিন্তু = কিম্ + তু
প্রত্যক্ষ = প্রতি + অক্ষ
সিদ্ধান্ত = সিদ্ধ + অন্ত
যতীন্দ্র = যতি + ইন্দ্র
ব্যগ্র = বি + অগ্র
৫. নীচে কতগুলি শব্দ দেওয়া হলো। শব্দগুলির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত করে নতুন শব্দ তৈরি করো:
| প্রদত্ত শব্দ | উপসর্গ + শব্দ = নতুন শব্দ |
| জীবন | আ + জীবন = আজীবন |
| শেষ | অ + শেষ = অশেষ (বা বি + শেষ = বিশেষ) |
| বেশ | পরি + বেশ = পরিবেশ |
| পথ | বি + পথ = বিপথ |
| ঠিক | বে + ঠিক = বেঠিক |
| দারুণ | নি + দারুণ = নিদারুণ |
| উপায় | নির্ + উপায় = নিরুপায় |
| জ্ঞান | অ + জ্ঞান = অজ্ঞান (বা বি + জ্ঞান = বিজ্ঞান) |
| করণীয় | অ + করণীয় = অকরণীয় (বা অনু + করণীয় = অনুকরণীয়) |
৬. সাল তারিখের ঘটনাগুলি গল্প থেকে খুঁজে লেখো:
• ২৭ অক্টোবর ১৯০৪: উত্তর কলকাতার শিকদার বাগান অঞ্চলে যতীন দাশের জন্ম হয়।
• ৮ এপ্রিল ১৯২৯: দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত বোমা ফাটান।
• ২৫ জুন ১৯২৯: যতীন ও তাঁর ১৫ জন সহযোদ্ধাকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে বদলি করা হয়।
• ১১ অগস্ট ১৯২৯: বড়োলাট লর্ড আরউইন এক ঘোষণায় অনশনকারীদের দাবি মেনে নেন।
• ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯২৯: ঐতিহাসিক ৬৩ দিনের অনশনের পর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে অমর বিপ্লবী যতীন দাশ চিরনিদ্রায় ঢলে পড়েন (শহিদ হন)।
৭. নীচের বাক্যগুলি থেকে সংখ্যাবাচক ও পূরণবাচক শব্দ বেছে লেখো:
| বাক্য | সংখ্যাবাচক শব্দ | পূরণবাচক শব্দ |
| ৭.১ তাঁরা সব মিলিয়ে দশ ভাই বোন ছিলেন। | দশ | - |
| ৭.২ যতীন ... প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। | - | প্রথম |
| ৭.৩ বিচারে তাঁর ছয় মাসের জেল হয়। | ছয় | - |
| ৭.৪ তাঁর দ্বিতীয় ছদ্মনাম হয় "কালীবাবু"। | - | দ্বিতীয় |
৮. নীচের বাক্যগুলির উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ ভাগ করে দেখাও:
| বাক্য | উদ্দেশ্য (Subject) | বিধেয় (Predicate) |
| ৮.১ কিশোর বিপ্লবী হিসেবেই যতীন্দ্রনাথ দাশের নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। | কিশোর বিপ্লবী হিসেবেই যতীন্দ্রনাথ দাশের নাম | সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। |
| ৮.২ ছেলেবেলা থেকেই তিনি একটি স্বপ্ন লালন করে আসছেন মনে মনে। | তিনি | ছেলেবেলা থেকেই একটি স্বপ্ন লালন করে আসছেন মনে মনে। |
| ৮.৩ শুরু হয় অগ্নিযুগের এক অবিস্মরণীয় রক্তে রাঙা অধ্যায়। | অগ্নিযুগের এক অবিস্মরণীয় রক্তে রাঙা অধ্যায় | শুরু হয়। |
| ৮.৪ শেষ পর্যন্ত এল শেষের সেই ভয়ংকর দিনটা। | শেষের সেই ভয়ংকর দিনটা | শেষ পর্যন্ত এল। |
৯. নীচের বাক্যগুলির মধ্যে যে সব বিভক্তিযুক্ত শব্দ এবং অনুসর্গ আছে তা খুঁজে লেখো:
| বাক্য | বিভক্তিযুক্ত শব্দ | অনুসর্গ |
| ৯.১ জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জন্য ভগৎ সিং... কংগ্রেসের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করেন। | কংগ্রেসের (এর), মতপার্থক্যের (এর) | সঙ্গে, জন্য, প্রতি |
| ৯.২ ছেলেবেলা থেকে তিনি একটি স্বপ্ন লালন করে আসছেন মনে মনে। | মনে (এ) | থেকে |
| ৯.৩ সাতটি দিন নিরুপদ্রবে কেটে গেল। | নিরুপদ্রবে (এ) | (নেই) |
| ৯.৪ শরীর সবদিক থেকেই ভেঙে পড়ছে। | সবদিক (শূন্য বিভক্তি) | থেকেই (থেকে) |
১০. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও
১০.১ যতীন দাশের পিতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্থায়ী চাকরিতে ইস্তফা দিয়েছিলেন কেন? এর ফল কী হয়েছিল?
উত্তর: ১৯০১ সালের দশহরার দিনে বঙ্কিমবাবু সপরিবারে গঙ্গাস্নান করে ফিটন গাড়িতে ফিরছিলেন। পথে কয়েকটি ব্রিটিশ টমি তাঁদের জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি নিয়ে চলে যায়। বঙ্কিমবাবুকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়। এই অপমানে তিনি শপথ নেন যে ইংরেজের গোলামি করবেন না এবং চাকরি ছেড়ে দেন। এর ফলস্বরূপ, তাঁকে একটি স্টেশনারি দোকান খুলে আজীবন চরম দারিদ্র্য ও দুঃখের সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালাতে হয়েছিল।
১০.২ "... তোমার মতো মহান বিপ্লবীর জন্য ও একটা কাজ আমায় অবশ্যই করতে হবে"- কে কাকে একথা বলেছিলেন?
উত্তর: অমর বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ দাশ পাঞ্জাবের প্রখ্যাত বিপ্লবী ভগৎ সিং-কে একথা বলেছিলেন। তিনি ভগৎ সিং-এর দলের ছেলেদের বোমা বানানোয় দক্ষ করার জন্যই এই কথা বলেছিলেন।
১০.৩ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে কী ঘটেছিল?
উত্তর: ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনে সভ্যদের আসনের পাশেই হঠাৎ একটি শক্তিশালী বোমা ফাটান বিপ্লবী ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত। বিচারে তাঁরা দুজনেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
১০.৪ ১৪ জুন ১৯২৯ যতীন দাশকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়?
উত্তর: কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভায় বোমা বিস্ফোরণের পিছনে ভারতব্যাপী এক বিশাল পরিকল্পনার সন্দেহ করে ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান তদন্ত শুরু করেন। সেই তদন্তে উঠে আসা ৩০ জনের তালিকার মধ্যে যতীন দাশ ছিলেন অন্যতম। তাই লাহোর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে প্রকাশ্য রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১০.৫ ১৯২৯ সালের ১৩ জুলাই অনশন শুরু হয় কেন?
উত্তর: জেলে রাজবন্দিদের ওপর ব্রিটিশ পুলিশ অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছিল এবং তাঁদের অখাদ্য-কুখাদ্য খেতে দিচ্ছিল। এই পুলিশি নির্যাতন ও অমর্যাদার প্রতিবাদে এবং নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য যতীন দাশ, ভগৎ সিং ও অন্যান্য সহযোদ্ধারা ১৩ জুলাই থেকে সমবেত অনশন শুরু করেন।
১০.৬ অনশন করার আগে যতীন তাঁর সহযোদ্ধাদের কী অঙ্গীকার করান? তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন না কেন?
উত্তর: অনশন শুরু করার আগে যতীন তাঁর সহযোদ্ধাদের দিয়ে অঙ্গীকার করিয়ে নেন যে, দাবিগুলো পূরণ হলে তাঁরা অনশন ভঙ্গ করবেন। কিন্তু যতীন জানিয়েছিলেন যে তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন না। কারণ, তিনি ছোটোবেলা থেকেই মাতৃভূমির শৃঙ্খল মোচনের সুযোগ খুঁজছিলেন এবং পলাশির প্রান্তরে বাঙালি মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার প্রায়শ্চিত্ত করতে তিনি আমরণ অনশনের পথই বেছে নিয়েছিলেন।
১০.৭ জেলে অনশনের সময় যতীন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কেন?
উত্তর: অনশনের আট দিনের মাথায় জেল-সুপার ও জেল-ডাক্তার আটজন বলিষ্ঠ পাঠানকে নিয়ে যতীনের সেলে ঢোকে। তারা জোর করে তাঁর নাকের মধ্যে একটি সরু নল ঢুকিয়ে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। যতীন ইচ্ছাকৃতভাবে জোরে কাশতে থাকায় নলটি খাদ্যনালী থেকে সরে শ্বাসনালীতে ঢুকে যায় এবং ফুসফুসে দুধ চলে যাওয়ায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
১০.৮ জেলে যতীন দাশের পাশে শ্লেট পেন্সিল রাখা হয়েছিল কেন?
উত্তর: ফুসফুসে দুধ ঢুকে যাওয়ার ফলে যতীনের স্বরযন্ত্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং তাঁর গলা দিয়ে আর কোনো আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। তিনি জীবনে আর কথা বলতে পারবেন না বুঝতে পেরে, লিখে মনের ভাব প্রকাশ করার জন্যই তাঁর পাশে শ্লেট ও পেন্সিল রাখা হয়েছিল।
১০.৯ কিরণ দাশকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে আনা হয়েছিল কেন?
উত্তর: জোর করে খাওয়ানোর ফলে যতীনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বা সঙ্গিন হয়ে ওঠে। এই মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে দেখাশোনা করার জন্যই বড়োলাট লর্ড আরউইন তাঁর বিশেষ ক্ষমতাবলে যতীনের ছোটোভাই কিরণ দাশকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে আনিয়ে নিয়েছিলেন।
১০.১০ যতীন দাশের সহযোদ্ধারা পথ অবরোধ করে শুয়েছিলেন কেন?
উত্তর: ব্রিটিশ সরকার যতীনকে মুক্তি দেওয়ার পর ডাক্তার ও পুলিশ যখন জোর করে মুমূর্ষু যতীনকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার জন্য জেলে প্রবেশ করে, তখন তাঁর সহযোদ্ধারা পথ অবরোধ করে শুয়ে পড়েন। তাঁরা জানতেন জোর করে তাঁকে তুলতে গেলে উত্তেজনায় তাঁর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে, তাই তাঁকে রক্ষা করতেই তাঁরা এই ব্যারিকেড তৈরি করেছিলেন।
১১. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর দাও (রচনাধর্মী)
১১.১ যতীন দাশের মতো ভারতের অন্য কোনো স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবনকথা জানা থাকলে খাতায় লেখো।
উত্তর: শহিদ ক্ষুদিরাম বসু: যতীন দাশের মতোই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম এবং সর্বকনিষ্ঠ শহিদ হলেন ক্ষুদিরাম বসু। ১৮৮৯ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় তাঁর জন্ম। কৈশোরেই তিনি ব্রিটিশ বিরোধী গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন। কিংসফোর্ডকে হত্যা করার দায়িত্ব পড়ে তাঁর এবং প্রফুল্ল চাকীর ওপর। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল মুজফফরপুরে তাঁরা কিংসফোর্ডের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়েন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অন্য একটি গাড়িতে বোমা পড়ায় দুজন নিরীহ ব্রিটিশ মহিলার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়। ১৯০৮ সালের ১১ অগস্ট মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ আজও সমগ্র দেশবাসীকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
১১.২ যতীন দাশের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাংলার এক বিশিষ্ট কবি তাঁকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন। সেই কবির পরিচয় লিখে তাঁর অন্য কোনো কবিতা তোমার ভালো লাগে কিনা এবং কেন ভালো লাগে সে সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: কবির পরিচয়: যতীন দাশের মৃত্যু সংবাদে মর্মাহত হয়ে যে কবি কবিতাটি (সর্বখর্ব তারে দহে...) লিখেছিলেন, তিনি হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী এবং সুরকার। ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
আমার প্রিয় কবিতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা "বীরপুরুষ" কবিতাটি আমার খুব ভালো লাগে।
কেন ভালো লাগে: এই কবিতায় একটি ছোট্ট ছেলের তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা এবং মাকে রক্ষার জন্য অসীম সাহসিকতার গল্প বলা হয়েছে। কল্পনায় সে ডাকাতদের হারিয়ে মাকে রক্ষা করে। ছেলেটির এই বীরত্ব ও মায়ের প্রতি নিখাদ ভালোবাসা আমার মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করে, তাই কবিতাটি আমার এত প্রিয়।
প্রবন্ধের শিক্ষা
"শহিদ যতীন্দ্রনাথ" প্রবন্ধটি আমাদের দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগের এক মহান শিক্ষা দেয়। একটি পরাধীন জাতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে গিয়ে কত তরুণের রক্ত ও চোখের জল ঝরেছে, তা আমরা এই পাঠ্যাংশ থেকে উপলব্ধি করতে পারি। যতীন দাশের ৬৩ দিনের এই অমানুষিক অনশন প্রমাণ করে যে, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা জীবনের চেয়ে মাতৃভূমির সম্মান অনেক বড়ো। আমাদের উচিত এই বীর শহিদদের আত্মত্যাগকে সম্মান করা এবং দেশের প্রতি কর্তব্য পরায়ণ হওয়া।