🐝 কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য
বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • সপ্তম পাঠ • প্রবন্ধ
কীটপতঙ্গ
বাসাবাড়ি নির্মাণ
শিকার ধরা
প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৮৯৫-১৯৮২)
প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সূত্রে তাঁর রচনার মূল উপাদান প্রকৃতি ও প্রাণীজগৎ। জীবজগতের খুঁটিনাটি তথ্য সহজ ভাব ও সরল ভাষায় তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। লেখক গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্যের অনুসন্ধিৎসা এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধগুলিকে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদে পরিণত করেছে। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো— "বাংলার মাকড়সা", "বাংলার কীটপতঙ্গ" ইত্যাদি।
📖
প্রবন্ধ
কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি
✍️
প্রাবন্ধিক
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য
🔍
মূল বিষয়
পতঙ্গের স্বভাব ও জীবনযাত্রা
📚
পাঠ
সপ্তম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
প্রবন্ধের সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি" প্রবন্ধে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও লেখক গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য কুমোরে-পোকাদের জীবনযাত্রা এবং বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন। এই পোকারা কাদামাটি সংগ্রহ করে আনাচে-কানাচে বা দেয়ালের গায়ে অত্যন্ত সুকৌশলে লম্বাটে বাসা তৈরি করে। বাসা বানানোর পর এরা শিকারের সন্ধানে বের হয় এবং ঘুরে ঘুরে জাল না বোনা মাকড়সা শিকার করে। শিকারকে পুরোপুরি না মেরে হুল ফুটিয়ে অসাড় করে দেয় এবং বাসার কুঠুরিতে সঞ্চিত করে রাখে। এরপর সেখানে একটি ডিম পেড়ে কুঠুরির মুখ বন্ধ করে দেয়, যাতে বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর তারা জীবন্ত ও তাজা খাবার পায়।
কেন্দ্রীয় চেতনা: ক্ষুদ্র একটি কীটপতঙ্গও যে কত সুনিপুণ স্থপতি এবং তাদের জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে যে কী অদ্ভুত প্রবৃত্তি ও বুদ্ধির প্রকাশ ঘটে, লেখক তার বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এই প্রবন্ধে অত্যন্ত সহজ ও সুন্দর ভাষায় তুলে ধরেছেন।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
২ টি
১.১ গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় কী ধরনের লেখালিখির জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন?
গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ বা বিজ্ঞান বিষয়ক রচনা লেখার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।
১.২ তাঁর লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।
তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হলো 'বাংলার কীটপতঙ্গ' (অথবা 'বাংলার মাকড়সা')।
২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
৪ টি
২.১ কুমোরে-পোকার চেহারাটি কেমন?
কুমোরে-পোকারা লিকলিকে ধরনের হয়। এদের গায়ের রং আগাগোড়া মিশমিশে কালো, কেবল শরীরের মধ্যস্থলের বোঁটার মতো সরু অংশটি হলদে রঙের হয়।
২.২ কুমোরে-পোকা কী দিয়ে বাসা বানায়?
কুমোরে-পোকা জলাশয়, নালা বা ডোবার পাড় থেকে ভিজা কাদামাটি সংগ্রহ করে তা দিয়ে নিজের বাসা বানায়।
২.৩ কোনো অদৃশ্য স্থানে কুমোরে-পোকা বাসা বাঁধছে তা কীভাবে বোঝা যায়?
কুমোরে-পোকা যখন মাটি খুঁড়ে তোলে বা মাটির ডেলা চেপে বাসা তৈরি করে, তখন সে অতি তীক্ষ্ণ স্বরে একটানা গুনগুন শব্দ করতে থাকে। এই শব্দ শুনেই বোঝা যায় যে কোনো অদৃশ্য স্থানে সে বাসা বাঁধছে।
২.৪ মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা কী করে?
মাকড়সা দেখলেই কুমোরে-পোকা ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে। এরপর শরীরে হুল ফুটিয়ে একরকম বিষ ঢেলে মাকড়সাটিকে অসাড় করে দেয়।
আনাচে-কানাচে কোনায় কোনায়
পুনঃপুনঃ বারবার
সংস্কারবশে প্রচলিত ধারণা বা বিশ্বাস অনুসারে
নিয়ন্ত্রণ আয়ত্ত, পরিচালন
কুঠুরি ছোটো ঘর বা প্রকোষ্ঠ
গাঁথুনি পরপর স্থাপিত ইট, মাটির বিন্যাস
নিঃসৃত নির্গত
প্রলেপ লেপন করা হয় এমন বস্তু
খালাস মুক্তি, রেহাই
৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণ এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্য করো:
(লম্বাটে, স্থান, নির্বাচিত, নির্মাণ, সঞ্চিত)
| প্রদত্ত শব্দ (শ্রেণি) | রূপান্তরিত শব্দ (শ্রেণি) |
| লম্বাটে (বিশেষণ) | লম্বা (বিশেষ্য) |
| স্থান (বিশেষ্য) | স্থানীয় / স্থানিক (বিশেষণ) |
| নির্বাচিত (বিশেষণ) | নির্বাচন (বিশেষ্য) |
| নির্মাণ (বিশেষ্য) | নির্মিত (বিশেষণ) |
| সঞ্চিত (বিশেষণ) | সঞ্চয় (বিশেষ্য) |
৪. নীচের বাক্যগুলি থেকে অনুসর্গ খুঁজে বের করো:
| বাক্য | অনুসর্গ (Postposition) |
| ৪.১ বাসা তৈরির জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজতে বের হয়। | জন্য |
| ৪.২ সেই স্থান থেকে নির্বাচিত স্থানে যাতায়াত করে রাস্তা চিনে নেয়। | থেকে |
| ৪.৩ সেই স্থানে কাদামাটি চাপা দিয়ে দেখেছি। | দিয়ে |
৫. উপযুক্ত প্রতিশব্দ পাঠ থেকে খুঁজে লেখো:
(নির্মাণ, উপযোগী, ভর্তি, সন্ধান, ক্ষান্ত)
| শব্দ | পাঠ্যাংশে ব্যবহৃত সমার্থক শব্দ / প্রতিশব্দ |
| নির্মাণ | তৈরি বা গাঁথুনি |
| উপযোগী | উপযুক্ত |
| ভর্তি | ভরতি বা পূর্ণ |
| সন্ধান | অন্বেষণ বা খোঁজ-খবর |
| ক্ষান্ত | বন্ধ বা নিরস্ত |
৬. কীটপতঙ্গ পর্যবেক্ষণ (মৌমাছি)
তুমি প্রতিদিন পিঁপড়ে, মৌমাছি, মাকড়সা প্রভৃতি কীট-পতঙ্গ তোমার চারপাশে দেখতে পাও। তাদের মধ্যে যেকোনো একটিকে পর্যবেক্ষণ করে ছক পূরণ করো (এখানে মৌমাছি-র উদাহরণ দেওয়া হলো):
| কীট/পতঙ্গের নাম | মৌমাছি |
| কোথায় দেখেছ | বাগানে, ফুলের উপর এবং গাছের ডালে মৌচাকে। |
| চেহারা/গায়ের রং | ছোটো এবং লোমশ চেহারা। গায়ের রং কালোর উপর হলুদ ডোরাকাটা, দুটি স্বচ্ছ ডানা আছে। |
| কীভাবে চলে | ডানায় ভর করে দ্রুত উড়ে উড়ে চলে। |
| কী খায় | ফুলের মকরন্দ (Nectar) ও পরাগরেণু। |
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য | এরা দলবদ্ধভাবে বা সমাজবদ্ধ হয়ে বাস করে এবং ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ভয় পেলে হুল ফোটায়। |
| বাসাটি দেখতে কেমন | বাসাটি (মৌচাক) অনেকটা অর্ধ-গোলাকার, গায়ে ষড়ভুজাকৃতি (ছয় কোণ বিশিষ্ট) অসংখ্য ছোটো ছোটো কুঠুরি থাকে। |
| কীভাবে বানায় | নিজেদের শরীর থেকে নিঃসৃত মোম এবং লালা দিয়ে অনেক মৌমাছি মিলে একসঙ্গে নিখুঁত জ্যামিতিক নকশায় বাসাটি বানায়। |
৭. গঠনগতভাবে কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো:
| বাক্য | বাক্যের গঠনগত শ্রেণিবিভাগ |
| ৭.১ ইতিমধ্যে মাটি শুকিয়ে বাসা শক্ত হয়ে গেছে। | সরল বাক্য |
| ৭.২ একবার হুল ফুটিয়ে নিরস্ত হয় না। | সরল বাক্য (এটি একটি না-সূচক সরল বাক্য) |
| ৭.৩ কাজেই এ থেকে মনে হয় যে, কুমোরে পোকা ইচ্ছামতো ডিম পাড়বার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। | জটিল বাক্য ('যে' যোজক ব্যবহৃত হয়েছে) |
| ৭.৪ ভিজা মাটির উপর বসে এবং লেজ নাচাতে নাচাতে এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে দেখে। | যৌগিক বাক্য ('এবং' অব্যয় দ্বারা যুক্ত) |
৮. নীচের প্রশ্নগুলি নিজের ভাষায় উত্তর লেখো (রচনাধর্মী)
৮.১ কুমোরে-পোকার বাসাবাড়িটি দেখতে কেমন?
উত্তর: কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি দেখতে লম্বাটে ধরনের এবড়ো-খেবড়ো এক-একটা শুকনো মাটির ডেলার মতো। এটি সাধারণত ঘরের আনাচে-কানাচে বা দেয়ালের গায়ে লেগে থাকে। এই মাটির ডেলার ভেতরে চার-পাঁচটি আলাদা আলাদা কুঠুরি থাকে, যা কুমোরে-পোকা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করে।
৮.২ কুমোরে-পোকা বাসা বানানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেয়?
উত্তর: ডিম পাড়ার সময় হলে কুমোরে-পোকা বাসা তৈরি করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে বের হয়। মনের মতো কোনো জায়গা পেলেই সে বারবার ঘুরে সেই জায়গাটিকে পরীক্ষা করে দেখে। এরপর একটু দূর উড়ে গিয়ে আবার ফিরে এসে জায়গাটি বারবার দেখে নেয়। জায়গা পছন্দ হলে সে কাদামাটির সন্ধানে বের হয়। সাধারণত চল্লিশ-পঞ্চাশ গজ দূর থেকে, আর না পেলে দেড়শো-দুশো গজ দূরের জলাশয় বা ডোবা থেকে মাটি বয়ে এনে সে বাসা বানানোর প্রস্তুতি নেয়।
৮.৩ কুমোরে-পোকার বাসা বানানোর প্রক্রিয়াটি নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: উপযুক্ত কাদামাটি খুঁজে পেলে কুমোরে-পোকা মুখে করে মটরদানার মতো ছোটো ছোটো মাটির ডেলা উড়িয়ে আনে। মাটি তুলে আনার সময় এবং তা দেয়ালের গায়ে লম্বা করে চেপে বসানোর সময় তারা একটানা তীক্ষ্ণ গুনগুন শব্দ করে। মাটির ডেলাটিকে তারা অর্ধ-চক্রাকারে দেয়ালের গায়ে বসিয়ে ভেতরের দিক ফাঁকা রেখে বাসাটিকে ক্রমশ ওপরের দিকে গাঁথতে থাকে। বাসাটি প্রায় সওয়া ইঞ্চি লম্বা হলে গাঁথুনি শেষ হয়। এরপর মাটি শুকিয়ে শক্ত হলে পোকাটি মুখ থেকে লালা নিঃসৃত করে বাসার ভেতরের দেয়ালে প্রলেপ দিয়ে মসৃণ করে।
৮.৪ \'এইসব অসুবিধার জন্য অবশ্য বাসা নির্মাণে যথেষ্ট বিলম্ব ঘটে।\'- কোন অসুবিধাগুলির কথা এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
উত্তর: কুমোরে-পোকা সাধারণত তার নির্বাচিত স্থানের কাছাকাছি (চল্লিশ-পঞ্চাশ গজের মধ্যে) কাদা মাটি খোঁজে। কিন্তু যদি কাছাকাছি কাদামাটি না পাওয়া যায়, তবে দেড়-দুশো গজ দূর থেকে মাটি বয়ে আনতে হয়। এছাড়া লেখক পরীক্ষা করার জন্য যখন তাদের নতুন তৈরি করা বাসার ওপর কাদামাটি চাপা দিয়েছেন বা বাসাটা সরিয়ে ফেলেছেন, তখন পোকাটি তার বাসা খুঁজে না পেয়ে আবার জলাশয়ের ধারে উড়ে গিয়ে ভিজা মাটি এনে নতুন করে বাসা তৈরি শুরু করেছে। এই বারবার দূরের জলাশয় থেকে মাটি বয়ে আনা এবং নষ্ট হওয়া বাসা নতুন করে তৈরি করার অসুবিধাগুলির কথাই এখানে বলা হয়েছে, যার কারণে বাসা নির্মাণে যথেষ্ট দেরি হয়।
৮.৫ কুমোরে-পোকার শিকার ধরার উদ্দেশ্য ব্যাখা করো। শিকারকে সে কীভাবে সংগ্রহ করে?
উত্তর: শিকার ধরার উদ্দেশ্য: ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর বাচ্চাদের যাতে খাদ্যের অভাব না হয়, তাদের জন্য তাজা ও জীবন্ত খাবার সঞ্চয় করে রাখাই হলো কুমোরে-পোকার শিকার ধরার প্রধান উদ্দেশ্য।
শিকার সংগ্রহ: বাসা তৈরি সম্পন্ন হলে কুমোরে-পোকা শিকারের সন্ধানে বের হয় এবং ঘুরে ঘুরে জাল না-বোনা মাকড়সা শিকার করে। শিকার দেখলেই ছুটে গিয়ে তার ঘাড় কামড়ে ধরে। তবে সে শিকারকে মেরে ফেলে না; বারবার হুল ফুটিয়ে বিষ ঢেলে মাকড়সাটিকে অসাড় করে দেয়। তারপর সেই জীবন্ত অথচ অসাড় মাকড়সাগুলিকে মুখে করে এনে সদ্য নির্মিত কুঠুরির মধ্যে জমা করে।
৮.৬ \'বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না।\'- কখন কুমোরে-পোকা তার বাসার আর কোনো খোঁজ খবর নেয় না?
উত্তর: একটি কুঠুরি তৈরি করে তাতে শিকার করা অসাড় মাকড়সা ভরতি করার পর কুমোরে-পোকা একটি ডিম পাড়ে এবং মাটি এনে কুঠুরির মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এরপর সে ওই কুঠুরির গায়েই আরেকটি কুঠুরি বানায় এবং একইভাবে শিকার ও ডিম দিয়ে মুখ বন্ধ করে। এইভাবে একটি বাসার মধ্যে চার-পাঁচটি কুঠুরি বানানো এবং ডিম পাড়া সম্পূর্ণ হয়ে গেলে সে নিজের ইচ্ছামতো অন্য কোথাও চলে যায়। বাচ্চাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার সঞ্চয় করে রাখার পর, সে আর তার সেই বাসার কোনো খোঁজখবর নেয় না।
প্রবন্ধের শিক্ষা
"কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি" প্রবন্ধটি আমাদের প্রকৃতির এক অজানা বিস্ময়ের সঙ্গে পরিচয় করায়। একটি অতি সাধারণ পতঙ্গের মধ্যেও যে অসাধারণ স্থপতিবিদ্যা, মাতৃস্নেহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষমতা লুকিয়ে আছে, তা লেখক আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। এটি আমাদের শিক্ষা দেয় প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে ও মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে।