🌧️ আশীর্বাদ
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
গল্প
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • পঞ্চদশ পাঠ • গল্প
পিঁপড়ে ও ঘাসের পাতা
প্রবল বর্ষা
আশ্রয় ও নির্ভরতা
শরতের আগমন
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার (১৮৭৭-১৯৫৬)
বাংলাদেশের ঢাকা জেলার উলাইল গ্রামে বিখ্যাত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জনের জন্ম। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ "উত্থান"। কবিতা দিয়ে সাহিত্য জীবন শুরু করলেও তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত রূপকথা, উপকথা ও লোককথার গল্প। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মুখের গল্পকথাকে সংগ্রহ করে নিজের মতো করে মূল কাহিনিটি লিখতেন। তাঁর লেখা অন্যান্য গ্রন্থগুলির নাম- "ঠাকুরমার ঝুলি", "ঠাকুরদাদার ঝুলি", "দাদামশায়ের থলে", "উৎপল ও রবি" ইত্যাদি। ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় শিশু সাহিত্য পরিষদ তাঁকে "ভুবনেশ্বরী পদক" দিয়ে সম্মানিত করেন।
✍️
লেখক
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
🌍
মূল চরিত্র
পিঁপড়ে, ঘাসের পাতা, বৃষ্টি, জল
📚
পাঠ
পঞ্চদশ পাঠ (সাহিত্য মেলা)
সারাংশ: প্রবল বর্ষায় চারদিক যখন জলে থইথই করছে, তখন একটি ছোটো পিঁপড়ে বাঁচার তাগিদে একটি ঘাসের পাতার নীচে আশ্রয় নেয়। ঘাসের পাতাটি তাকে অভয় দেয় এবং নিজের শিরা কামড়ে ধরে থাকতে বলে। পিঁপড়ে নিজের অসহায়তা ও গর্তে থাকার দুঃখের কথা জানায়। বৃষ্টি ও জল তাদের দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করলেও ঘাসের পাতাটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রুখে দাঁড়ায়। অবশেষে বৃষ্টি থামে এবং ঘাসের পাতাটি পিঁপড়েকে অভয় দিয়ে বলে যে, দুঃখের দিন শেষ হবে এবং শরৎকাল আসবে। ঠিক সেই সময় মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্য উঁকি দেয় এবং পৃথিবীর সকলের ওপর আশীর্বাদ ঝরে পড়ে।
কেন্দ্রীয় চেতনা: পৃথিবীতে কোনো প্রাণীই তুচ্ছ নয়। চরম বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়ালে সব বাধা পার হওয়া সম্ভব। দুঃখের পর সুখ আসবেই, এবং এই সুন্দর পৃথিবী সবার জন্যই সমান—এটাই এই গল্পের মূল শিক্ষা।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
২ টি
১.১ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারকে সবচেয়ে বেশি কী আকর্ষণ করত?
তাঁকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত রূপকথা, উপকথা ও লোককথার গল্প।
১.২ তিনি শিশুসাহিত্যের কোন পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছিলেন?
তিনি ১৩৫৭ বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় শিশু সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক "ভুবনেশ্বরী পদক" দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।
২. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর দাও
৮ টি
২.১ বন্যায় প্রকৃতির রূপ কেমন হয়?
বন্যায় প্রকৃতির রূপ ভয়ংকর হয় এবং জলে দেশ থইথই করে।
২.২ পিঁপড়ে কোথায় আশ্রয় নিয়েছিল?
পিঁপড়ে একটি ঘাসের পাতার নীচে আশ্রয় নিয়েছিল।
২.৩ বৃষ্টির সময়ে গাছের পাতা কাঁপছিল কেন?
বৃষ্টির ফোঁটার ঘায়ে গাছের পাতাটি কাঁপছিল এবং হেলে পড়ছিল।
২.৪ পিঁপড়ে নিজেকে বাঁচাবার জন্য কী করল?
পিঁপড়ে নিজেকে বাঁচাবার জন্য ঘাসের পাতার শিরা কামড়ে ধরে চোখ বুজে ঝুলে রইল।
২.৫ পিঁপড়ে কখন "বাপ! বাঁচলেম" বলে উঠল?
যখন বৃষ্টি একটু ধরল এবং ঘাসের পাতাটা সোজা হয়ে দাঁড়াল, তখন নিশ্বাস ছেড়ে পিঁপড়ে এই কথাটি বলে উঠল।
২.৬ জল কেমন শব্দে হেসে উঠেছিল?
জল "খল খল" শব্দ করে ঢেউ তুলে হেসে উঠেছিল।
২.৭ "বুক ভেঙে নিশ্বাস পড়ল পিঁপড়ের।"—কেন এমন হলো?
ঘাসের পাতা ও জলের আনন্দের কথা শুনে পিঁপড়ে নিজের অসহায়তা ও চিরদিন সাধারণ পিঁপড়ে হয়ে থাকার কষ্টের কথা ভেবে বুক ভেঙে নিশ্বাস ফেলল।
২.৮ "শরতের আশীর্বাদ তোমাদেরও উপরে ঝরুক।"— কে এমনটি কামনা করেছিল?
মেঘের ফাঁক দিয়ে হাসতে থাকা সূর্য (সূর্যের চোখ) এমনটি কামনা করেছিল।
৩. নীচের বাক্যগুলি থেকে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া চিহ্নিত করে লেখো:
| বাক্য | সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verb) | অসমাপিকা ক্রিয়া (Non-finite Verb) |
| ৩.১ বর্ষা খুব নেমেছে। | নেমেছে | - |
| ৩.২ ভাই, জোরে আঁকড়ে ধরো। | ধরো | আঁকড়ে |
| ৩.৩ এক ঢোঁক জল খেয়ে পিঁপড়ে আর কিছু বলতে পারলে না। | পারলে না | খেয়ে, বলতে |
| ৩.৪ বৃষ্টির ফোঁটার ঘায়ে পাতাটা বোধ হয় এলিয়ে পড়বে জলে। | পড়বে | এলিয়ে |
| ৩.৫ শিউরে পাতা বললে- "ভাই, তেমন কথা বোলো না।" | বললে, বোলো না | শিউরে |
৪. সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া চিহ্নিত করো:
| বাক্য | সকর্মক ক্রিয়া (Transitive) | অকর্মক ক্রিয়া (Intransitive) |
| ৪.১ সারা দিন রাত খাটি। | - | খাটি |
| ৪.২ আমরা যাই, আসি, দেখি। | দেখি (কী দেখি? দৃশ্য/জগৎ) | যাই, আসি |
| ৪.৩ ঘাসের পাতাটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। | - | দাঁড়িয়েছে |
| ৪.৪ এ জল কী করে পার হব? | পার হব (কী পার হব? জল) | - |
| ৪.৫ পৃথিবী তোমার হবে। | - | হবে |
৫. সন্ধি বিচ্ছেদ করো:
নিশ্বাস = নিঃ + শ্বাস
বৃষ্টি = বৃষ্ + তি
নিশ্চয় = নিঃ + চয়
আশীর্বাদ = আশীঃ + বাদ
৬. নীচের শব্দগুলি থেকে উপসর্গ পৃথক করো এবং তা দিয়ে দুটি নতুন শব্দ তৈরি করো:
| প্রদত্ত শব্দ | উপসর্গ | দুটি নতুন শব্দ |
| বিদেশ | বি | বিজ্ঞান, বিরাগ |
| দুর্ভাগ্য | দুর্ | দুর্গম, দুর্বল |
| অনাবৃষ্টি | অনা | অনাসৃষ্টি, অনাদর |
| সুদিন | সু | সুগম, সুপ্রভাত |
| নির্ভয় | নির্ | নির্জন, নির্দোষ |
৭. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণে রূপান্তরিত করে লেখো:
| বিশেষ্য (Noun) | বিশেষণ (Adjective) |
| আশ্রয় | আশ্রিত |
| শরীর | শারীরিক |
| শরৎ | শারদীয় |
| মুখ | মৌখিক |
| ফুল | ফুলেল |
৮. "চোখ" শব্দটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে পৃথক বাক্য রচনা করো:
১. দৃষ্টি বা দর্শনেন্দ্রিয় অর্থে: জন্ম থেকেই অন্ধ ছেলেটির দুটি চোখ-ই নষ্ট।
২. নজর বা খেয়াল রাখা অর্থে: আমি বাইরে যাচ্ছি, তুমি একটু জিনিসগুলোর ওপর চোখ রেখো।
৯. নীচের বাক্যগুলির উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ ভাগ করে দেখাও:
| বাক্য | উদ্দেশ্য (Subject) | বিধেয় (Predicate) |
| ৯.১ আমরা সাঁতার জানি। | আমরা | সাঁতার জানি। |
| ৯.২ বর্ষাতেও পিঁপড়ের মুখ শুকিয়ে গেল। | বর্ষাতেও পিঁপড়ের মুখ | শুকিয়ে গেল। |
| ৯.৩ শেষে আবার সেই গর্তেই ঢুকি গিয়ে। | (আমি/আমরা - উহ্য) | শেষে আবার সেই গর্তেই ঢুকি গিয়ে। |
| ৯.৪ খলখল করে হেসে উঠল জল। | জল | খলখল করে হেসে উঠল। |
| ৯.৫ পৃথিবী সবারই হোক। | পৃথিবী | সবারই হোক। |
১০. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:
| প্রশ্ন ও নির্দেশ | উত্তর (সংযুক্ত/পরিবর্তিত বাক্য) |
| ১০.১ আমরা সাঁতার জানি। আমরা হাঁটতে জানি। ("এবং" দিয়ে যুক্ত করো) | আমরা সাঁতার এবং হাঁটতে জানি। |
| ১০.২ তোমরা পৃথিবীর উপরে হাসো, ফুলটুল ফুটাও। (দুটো বাক্যে ভেঙে লেখো) | তোমরা পৃথিবীর উপরে হাসো। তোমরা ফুলটুল ফুটাও। |
| ১০.৩ বর্ষা খুব নেমেছে। নীচেও ডেকেছে বান। ("যখন-তখন" দিয়ে যুক্ত করো) | যখন বর্ষা খুব নেমেছে, তখন নীচেও ডেকেছে বান। |
| ১০.৪ আমরা নড়তেও পারি নে। কোনোরকমে শুঁড়-টুড় বাড়াই। ("কিন্তু" দিয়ে যুক্ত করো) | আমরা নড়তেও পারি নে কিন্তু কোনোরকমে শুঁড়-টুড় বাড়াই। |
| ১০.৫ এক ঢোঁক জল খেল এবং পিঁপড়ে কিছু বলতে পারলে না। ("এবং" তুলে একটি বাক্যে লেখো) | এক ঢোঁক জল খেয়ে পিঁপড়ে কিছু বলতে পারলে না। |
১১. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও
১১.১ পাঠ্যাংশে কোন কোন ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে? প্রতি ক্ষেত্রে একটি করে উদাহরণ পাঠ থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর: পাঠ্যাংশে দুটি ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে— বর্ষা এবং শরৎ।
উদাহরণ:
বর্ষা: "বর্ষা খুব নেমেছে। নীচেও ডেকেছে বান।"
শরৎ: "আসবে। আসবেই। আসছে শরৎ।"
১১.২ পাতা গাছের কী প্রয়োজনে লাগে?
উত্তর: পাতা হলো গাছের রান্নাঘর। সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও জলের সাহায্যে গাছের জন্য খাদ্য তৈরি করতে এবং গাছের শ্বাসকার্যে পাতা প্রধান ভূমিকা পালন করে।
১১.৩ পিঁপড়ের বাসস্থান সম্পর্কে অনধিক তিনটি বাক্য লেখো।
উত্তর: পিঁপড়েরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে বাস করে। তারা মাটির নীচে সুড়ঙ্গ বা গর্ত খুঁড়ে নিজেদের বাসস্থান তৈরি করে। তবে অনেক সময় গাছের ডাল বা পাতার ফাঁকেও তারা বাসা বানায়।
১১.৪ বৃষ্টি পাতাকে কোন পরিচয়ে পরিচায়িত করেছে?
উত্তর: বৃষ্টি পাতাকে সাহসী এবং চিরসবুজ "সবুজ বন্ধু" পরিচয়ে পরিচায়িত করেছে, যে কখনও বিপদে ভয় পায় না।
১১.৫ সবার কথা শুনে পিঁপড়ে কী ভাবল?
উত্তর: পাতা এবং জলের আনন্দের কথা শুনে পিঁপড়ে ভাবল যে সে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং অসহায়। সে ভাবল যে সে চিরদিন সাধারণ পিঁপড়েই রয়ে গেল, তার জীবন কেবল গর্ত আর ডাঙাতেই সীমাবদ্ধ।
১১.৬ প্রকৃতির বুকে শরতের আশীর্বাদ কীভাবে ঝরে পড়ে?
উত্তর: প্রবল বর্ষার শেষে মেঘের ফাঁক দিয়ে যখন সূর্যের সোনালি আলো বা রোদ্দুর হাসিমুখে দেখা দেয়, তখন প্রকৃতির বুকে শরতের আশীর্বাদ ঝরে পড়ে।
১২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (রচনাধর্মী)
১২.১ বৃষ্টির সময় তোমার চারপাশের প্রকৃতি কেমন রূপ নেয় সে সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য লেখো।
উত্তর: বৃষ্টির সময় চারপাশের প্রকৃতি এক স্নিগ্ধ ও সতেজ রূপ ধারণ করে। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকে এবং মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকায়। ধুলোমাখা গাছপালা বৃষ্টির জলে ধুয়ে পরিষ্কার ও সবুজ হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাটে জল জমে যায় এবং নদী-নালা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ভ্যাপসা গরমের শেষে বৃষ্টির শীতল হাওয়া মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়।
১২.২ পিঁপড়ে গাছের পাতায় আশ্রয় নিয়েছিল কেন?
উত্তর: প্রবল বর্ষণে চারদিকে বন্যা দেখা দিয়েছিল এবং জলে দেশ থইথই করছিল। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে নিজের ক্ষুদ্র প্রাণটুকু বাঁচানোর তাগিদেই অসহায় পিঁপড়েটি একটি ঘাসের পাতার নীচে আশ্রয় নিয়েছিল।
১২.৩ পাতা কেন পিঁপড়েকে তার শরীর কামড়ে ধরতে বলেছিল?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে ঘাসের পাতাটি কাঁপছিল এবং জলের ওপর হেলে পড়ছিল। একটু অসাবধান হলেই পিঁপড়েটি জলে ভেসে যেতে পারত। তাই পিঁপড়েকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে এবং তাকে অভয় দিতেই ঘাসের পাতাটি তাকে নিজের শিরা কামড়ে ধরে ঝুলে থাকতে বলেছিল।
১২.৪ পাতা কী বলে পিঁপড়েকে প্রবোধ দিতে চেয়েছিল? "কাজে আসে না কোনোটাই"— এখানে তার কোন কাজে না আসার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: পাতা পিঁপড়েকে প্রবোধ দিয়ে বলেছিল যে, পিঁপড়েরা তো সাঁতার জানে, হাঁটতে ও দৌড়তে পারে, তাই তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
"কাজে আসে না কোনোটাই"— এখানে পিঁপড়ের সাঁতার কাটা বা দৌড়নোর ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। প্রবল বন্যা বা অসীম জলরাশির সামনে পিঁপড়ের এই সামান্য ক্ষমতা বা বিদ্যা কোনো কাজেই আসে না, সেটাই বোঝানো হয়েছে।
১২.৫ "তাই আজ বেঁচে গেলাম"— বক্তার "আজ" বেঁচে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: এখানে বক্তা হলো ক্ষুদ্র পিঁপড়ে। প্রবল বর্ষা ও বন্যার জলে যখন তার ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন ঘাসের পাতাটি তাকে নিজের নীচে আশ্রয় দিয়েছিল এবং শিরা কামড়ে ঝুলে থাকতে বলেছিল। ঘাসের পাতার এই মহানুভবতা ও আশ্রয়ের জন্যই পিঁপড়েটি "আজ" নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল।
১২.৬ পিঁপড়ে আর পাতা কীভাবে নিজেদের কষ্টের কথা গল্পে বলেছে তা একটি অনুচ্ছেদে লেখো।
উত্তর: পিঁপড়ে পাতার কাছে নিজের দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে যে, তারা সারাদিন গর্তের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে, কেবল খাওয়া আর খাটার মধ্যেই তাদের জীবন সীমাবদ্ধ। পৃথিবীর আলো ও সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ তাদের নেই। অন্যদিকে পাতা নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছে যে, তারা নড়াচড়া করতে পারে না, জিমনাস্টিক জানে না এবং কেবল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা একে অপরের বিপদে সহানুভূতি দেখিয়েছে।
১২.৮ "মাটি সবারই"— পাতার এই কথার মধ্যে দিয়ে কোন সত্য ফুটে উঠেছে?
উত্তর: "মাটি সবারই" কথাটির মাধ্যমে ঘাসের পাতা বোঝাতে চেয়েছে যে, এই পৃথিবীতে সব জীবের সমান অধিকার রয়েছে। কেউ আকারে বড়ো বা কেউ ক্ষুদ্র হতে পারে, কেউ মাটির ওপরে বা কেউ মাটির নীচে থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃতির এই বিশাল পৃথিবীতে সবারই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। কেউ কারোর চেয়ে তুচ্ছ নয়।
১২.৯ মেঘের আড়াল থেকে বৃষ্টি কোন কথা শুনতে পেয়েছিল? তা শুনে বৃষ্টি পিঁপড়েকে কী বলল?
উত্তর: মেঘের আড়াল থেকে বৃষ্টি শুনতে পেয়েছিল যে পিঁপড়ে বন্যার জল দেখে অত্যন্ত ভয় পেয়েছে।
তা শুনে বৃষ্টি পিঁপড়েকে সাহস জুগিয়ে বলল যে, পাতা বন্ধুটি কোনোদিন ভয় পায় না। বৃষ্টি শেষে রোদে পুড়ে ধুলো হয়ে গেলেও, বৃষ্টির ডাক শুনলেই তারা আবার ধুলো ঝেড়ে সবুজ হয়ে ওঠে। তাই পিঁপড়েরও ভয় পাওয়া উচিত নয়।
১২.১০ শরৎ ঋতুর প্রকৃতি কেমন সে বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর: শরৎকালকে ঋতুর রানি বলা হয়। বর্ষার অবসানে শরতের আগমন ঘটে এক অপরূপ স্নিগ্ধতা নিয়ে। এই সময় আকাশ পরিষ্কার নীল রঙের হয় এবং তাতে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়। নদীতীরে সাদা কাশফুল ফোটে এবং শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে চারপাশ ভরে ওঠে। আবহাওয়া খুব সুন্দর থাকে, না খুব গরম না খুব ঠান্ডা। শরতের এই সুন্দর ও ঝলমলে প্রকৃতি মানুষের মনে উৎসবের আনন্দ বয়ে আনে।
১২.১১ পাতা, বৃষ্টি, জল, ঘাসের পাতা কে কীভাবে পিঁপড়ের মনে সাহস জুগিয়েছিল— তা আলোচনা করো।
উত্তর: ঘাসের পাতা পিঁপড়েকে নিজের নীচে আশ্রয় দিয়ে এবং তার শিরা কামড়ে ধরতে বলে তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। সে তাকে বুঝিয়েছিল যে মাটি সবারই। বৃষ্টি তাকে বলেছিল যে ঘাসের পাতা কখনো ভয় পায় না, রোদে পুড়ে গেলেও আবার সতেজ হয়ে ওঠে। জল হাসতে হাসতে বলেছিল যে বর্ষায় ঘাস জলের তলায় তলিয়ে গেলেও শরতে আবার কাশবন হয়ে হাসে। সবশেষে ঘাসের পাতা পিঁপড়েকে অভয় দিয়ে বলেছিল যে এই দুঃখের দিন কেটে যাবে এবং শরতের আশীর্বাদ অবশ্যই সবার ওপর ঝরে পড়বে। এইভাবেই প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান ক্ষুদ্র পিঁপড়ের মনে সাহস জুগিয়েছিল।
গল্পের শিক্ষা
"আশীর্বাদ" গল্পটি আমাদের শেখায় যে বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়ালে ভয়ংকর পরিস্থিতিও মোকাবিলা করা যায়। পৃথিবীতে ছোটো-বড়ো প্রতিটি প্রাণীরই সমান গুরুত্ব আছে। অন্ধকারের পর যেমন আলো আসে, তেমনি কষ্টের পর সুখের দিন আসবেই। প্রকৃতির এই আশীর্বাদ সবার জন্যই সমান।