হাট

দুঃখবাদী কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত 'হাট' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

⛺ হাট

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • দশম পাঠ

গ্রাম্য হাট নির্জন সন্ধ্যা ক্রেতা-বিক্রেতা জীবনের রূপক

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭ - ১৯৫৪)

কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্মস্থান শান্তিপুরের হরিপুর গ্রাম। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। রবীন্দ্র সমসময়ে যে সমস্ত কবি স্বাতন্ত্র্য অর্জন করতে পেরেছিলেন, কবি যতীন্দ্রনাথ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। কল্লোল গোষ্ঠীর জনপ্রিয় কবিদের মধ্যে তিনি একজন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— মরীচিকা, মরুশিখা, মরুমায়া, ত্রিযামা, সায়ম্, নিশান্তিকা প্রভৃতি। বাংলা কাব্যজগতে তিনি দুঃখবাদী কবি অভিধা পেয়েছিলেন।

📖

কবিতা

হাট

✍️

কবি

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

🎭

মূলভাব

জীবনের শাশ্বত রূপক

📚

পাঠ

দশম পাঠ

কবিতার সারাংশ

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত তাঁর "হাট" কবিতায় একটি সাধারণ গ্রাম্য হাটের নিখুঁত ছবি এঁকেছেন, যা আসলে মানবজীবনের এক গভীর রূপক। দশ-বারোটি গ্রামের মাঝে একটি হাট বসে। দিনের বেলায় সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, কোলাহল, মালপত্র যাচাই ও দর-কষাকষি চলে। কেউ লাভ করে ঘরে ফেরে, কেউবা শূন্য হাতে ফেরে। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই হাট একেবারে জনশূন্য ও অন্ধকার হয়ে যায়। হাটে কেউ প্রদীপ জ্বালায় না বা ঝাঁট দেয় না। একা কাকের ডাক আর জীর্ণ বাঁশের ফাঁকে বাতাসের শব্দ ছাড়া সেখানে আর কিছু থাকে না। এই হাটের ভাঙাগড়ার মতোই আমাদের পৃথিবীটাও একটা মেলা বা হাট, যেখানে মানুষ আসে, নিজের কাজ শেষ করে আবার চিরদিনের মতো বিদায় নেয়। পৃথিবীর এই খেলা অনন্তকাল ধরে এভাবেই চলে আসছে।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থশব্দঅর্থ
প্রভাতসকালনিশারাত্রি
শ্রেণিহারাদল থেকে বিচ্ছিন্নপাখেডানায়
পাকুড়বট জাতীয় গাছ বিশেষশাখেশাখায়, গাছের ডালে
দোচালাদুটি ছাদ বা চাল যুক্ত বাড়িমুদিলনিমীলিত করল, বুজল
তরেজন্যেআহ্বানআমন্ত্রণ, ডাক
বিদ্রূপব্যঙ্গ, ঠাট্টাজীর্ণবহু ব্যবহারে ক্ষয়প্রাপ্ত
কোলাহলগোলমাল, চিৎকারছিন্নছেঁড়া
চরণচিহ্নপায়ের চিহ্নপসরাপণ্যদ্রব্য
ক্রেতাখরিদ্দারবিমলনির্মল
সহিসহ্য করিপরখযাচাই করা
বিকায়বিক্রি হয়হেলায়অবহেলায়
নিত্যরোজগাঁটট্যাক, সঞ্চয়স্থান

হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)

১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১.১ কোন সাহিত্যিক-গোষ্ঠীর সঙ্গে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল?
'কল্লোল' সাহিত্যিক-গোষ্ঠীর সঙ্গে যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
১.২ তাঁর রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের নাম হলো— 'মরীচিকা' এবং 'মরুশিখা'।

২. প্রতিশব্দ খুঁজে লেখো

নীচের বাক্যগুলি থেকে এমন শব্দ খুঁজে বের করো যার প্রতিশব্দ কবিতার মধ্যে আছে। কবিতার সেই শব্দটি পাশে লেখো:

প্রদত্ত বাক্যবাক্যের শব্দ কবিতার প্রতিশব্দ
২.১ আঁধার-সাঁঝে বনের মাঝে উল্লাসে প্রাণ ঢেলেছে।সাঁঝে সন্ধ্যায়
২.২ আলো, আমার আলো, ওগো আলো ভুবন-ভরা।আলো আলোক
২.৩ তুমি আমার সকালবেলার সুর।সকালবেলার প্রভাতের (বা প্রভাতে)
২.৪ আমার রাত পোহাল শারদ-প্রাতে।রাত নিশা (বা রাত্রি)
২.৫ দিনেরবেলা বাঁশী তোমার বাজিয়েছিলে।বাঁশী বাঁশি

৩. সমোচ্চারিত বা প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দযুগল

শব্দঅর্থশব্দঅর্থ
দীপপ্রদীপ / বাতিদ্বীপচারদিকে জলবেষ্টিত স্থান
দরদাম / মূল্যদড়দক্ষ / মজবুত (বা কাছি)
শাখশাখা / গাছের ডালশাঁখশঙ্খ (যা বাজানো হয়)
বাধাবিঘ্ন / আটকানোবাঁধাবন্ধন করা / দড়ি দিয়ে আটকানো
নিত্যরোজ / প্রতিদিননৃত্যনাচ

৪. শব্দগুলির গদ্যরূপ লেখো

সহিয়া সহ্য করে
সেথা সেখানে
সহি সহ্য করি
সবে সবাই
তবে তাহলে / তার পরে
মুদিল বুজল / বন্ধ করল

৫. নীচের প্রশ্নগুলির একটি বাক্যে উত্তর লেখো:

৫.১ কতগুলি গ্রামের পরে সাধারণত একটি হাট চোখে পড়ে?
সাধারণত দশ-বারোটি গ্রামের মাঝে একটি হাট চোখে পড়ে।
৫.২ হাটে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে না কেন?
কারণ সন্ধ্যাবেলায় কেনাবেচা শেষ করে সবাই যে-যার বাড়ি ফিরে যায়, তাই জনশূন্য হাটে কেউ প্রদীপ জ্বালার থাকে না।
৫.৩ কার ডাকে রাত্রি নেমে আসে?
নির্জন হাটে দলছুট একা বা একক কাকের ডাকে রাত্রি নেমে আসে।
৫.৪ ও পারের লোক কেন এ পারেতে আসে?
ওপারের লোকেরা নিজেদের জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে হাটে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে এ পারেতে আসে।
৫.৫ 'হিসাব নাহিরে এল আর গেল কত ক্রেতা বিক্রেতা।'- কোনো হিসাব নেই কেন?
একটি হাটে প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা আসে এবং যায়, এই চলমান বিশাল জনস্রোতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা হিসাব রাখা সম্ভব হয় না বলেই একথা বলা হয়েছে।

৬. কবিতায় বর্ণিত হাটের চেহারাটি কেমন লেখো

হাট বসার আগেহাট চলাকালীনহাট ভাঙার পর
হাট বসার আগে প্রাঙ্গণটি পরিষ্কার থাকে না, সকালে সেখানে কেউ ঝাঁট দেয় না। পুরোনো হাটের মেলা নতুন করে বসার অপেক্ষায় থাকে। হাট চলাকালীন সময়ে হাটে তীব্র কোলাহল থাকে। চেনা-অচেনা মানুষের ভিড়, মাল চেনাচিনি, দর জানাজানি এবং কানাকড়ি নিয়ে টানাটানি চলতে থাকে। হাট ভাঙার পর জায়গাটি সম্পূর্ণ জনশূন্য ও অন্ধকার হয়ে যায়। সেখানে প্রদীপ জ্বলে না। জীর্ণ বাঁশের ফাঁকে হাওয়া বয় এবং নির্জন হাটে একক কাকের ডাকে রাত্রি নেমে আসে।

৭. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর লেখো

৭.১ হাটের স্থান ছাড়িয়ে দূরের গ্রামের ছবি কীভাবে কবিতায় ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কবিতায় কবি জানিয়েছেন যে, দশ-বারোটি গ্রামের মাঝখানে একটি হাট বসে। সারাদিনের কেনাবেচা শেষে সন্ধ্যাবেলায় হাটের জায়গাটি যখন জনশূন্য ও অন্ধকার হয়ে যায়, তখন দূরে অবস্থিত সেই গ্রামগুলিতে একে একে প্রদীপ জ্বলে ওঠে। বকেরা তাদের পাখায় আলো লুকিয়ে পুবের মাঠ ছাড়িয়ে সেই দূরের গ্রামের দিকেই উড়ে যায়। এভাবেই হাটের অন্ধকারের বিপরীতে দূরের গ্রামগুলিতে জ্বলে ওঠা আলোর এক স্নিগ্ধ ছবি কবিতায় ফুটে উঠেছে।
৭.২ প্রকৃতির ছবি কীরূপ অসীম মমতায় কবিতায় আঁকা হয়েছে-তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'হাট' কবিতায় প্রকৃতির এক বিষণ্ণ অথচ শান্ত রূপ অসীম মমতায় আঁকা হয়েছে। সন্ধ্যা নামার দৃশ্যটি অত্যন্ত সুন্দর— বকের পাখায় আলো লুকিয়ে যাওয়া এবং পুবের মাঠ ছাড়িয়ে উড়ে যাওয়া। নদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাস যেন দীর্ঘশ্বাস বা 'প্রশ্বাস' ছাড়ছে। আবার জীর্ণ বাঁশের ফাঁক দিয়ে যখন হাওয়া বয়, তখন তাকে কবির মনে হয় বিদ্রুপের বাঁশি। সবশেষে, দলছুট ক্লান্ত একক কাকের ডাকে নিস্তব্ধ হাটে রাত্রি নেমে আসার দৃশ্যটি প্রকৃতির এক একাকী ও মায়াময় রূপকে ফুটিয়ে তোলে।
৭.৩ 'বাজে বায়ু আসি বিদ্রুপ-বাঁশি'-কবির এমন মনে হওয়ার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: সারাদিন হাটে অসংখ্য মানুষের ভিড়, হাসি-কান্না, দরকষাকষি এবং কোলাহল থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই হাট সম্পূর্ণ জনশূন্য ও অন্ধকার হয়ে পড়ে। হাটের দোচালা ঘরগুলোর জীর্ণ বাঁশের ফাঁক দিয়ে যখন বাতাস বয়, তখন এক অদ্ভুত বাঁশির মতো শব্দ তৈরি হয়। দিনের বেলার সেই প্রাণবন্ত হাট যে আসলে কতটা শূন্য এবং ক্ষণস্থায়ী, বাতাস যেন সেই রিক্ততা বা শূন্যতাকে দেখে উপহাস করেই এমন বিদ্রুপের বাঁশি বাজাচ্ছে বলে কবির মনে হয়েছে।
৭.৪ 'উদার আকাশে মুক্ত বাতাসে চিরকাল একই খেলা।'- কোন প্রসঙ্গে কবি আলোচ্য পঙক্তিটি লিখেছেন? তিনি এখানে কোন 'খেলা'-র কথা বলেছেন? 'চিরকাল' চলে বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: হাটে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আসা-যাওয়া এবং কেনাবেচার প্রসঙ্গেই কবি আলোচ্য পঙক্তিটি লিখেছেন।
• এখানে 'খেলা' বলতে হাটে নতুন করে বসা এবং ভাঙার খেলা, মানুষের লাভ-ক্ষতি, এবং চেনা-অচেনার ভিড়ে মাল কেনাবেচার খেলাকে বোঝানো হয়েছে।
• 'চিরকাল চলে' বলতে কবি বুঝিয়েছেন যে, আমাদের এই পৃথিবীটাও আসলে একটি বড়ো হাটের মতো। এখানে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, সারাজীবন ধরে নিজের কাজ বা কর্ম করে এবং অবশেষে একদিন খালি হাতে বিদায় নেয়। পৃথিবীতে মানুষের এই আসা ও যাওয়ার শাশ্বত নিয়মটি অনন্তকাল বা চিরকাল ধরে একই নিয়মে চলে আসছে।
৭.৫ তোমার দেখা কোনো হাটের/বাজারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে দূরে থাকে এমন কোনো বন্ধুর কাছে একটি চিঠি লেখো?
উত্তর:
বর্ধমান
তারিখ: ১০ জুলাই ২০২৪
প্রিয় বন্ধু অয়ন,

আশা করি তুই ভালো আছিস। তুই তো চিরকাল শহরেই বড়ো হয়েছিস, তাই আজ তোকে আমাদের গ্রামের হাটের একটা দারুন অভিজ্ঞতা জানাব। গত মঙ্গলবার আমি বাবার সঙ্গে আমাদের পাশের গ্রামের হাটে গিয়েছিলাম। কী বিরাট মাঠ জুড়ে সেই হাট বসেছে! সেখানে একপাশে চাষিরা একদম টাটকা শাকসবজি নিয়ে বসেছে, তো অন্যপাশে মাটির হাঁড়ি, কুলা, ঝুড়ি বিক্রি হচ্ছে। এর মাঝে আবার মুড়ি-মুড়কির দারুণ গন্ধ। চারপাশে এত মানুষের ভিড়, দরদাম আর চেঁচামেচিতে কান পাতা দায়। কিন্তু এই কোলাহলের মধ্যেও একটা অদ্ভুত আনন্দ আর প্রাণের ছোঁয়া আছে, যা আমি শহরের সুপারমার্কেটে কখনও পাইনি।

পুজোর ছুটিতে এবার তুই গ্রামে আয়, তোকে নিজের চোখে আমাদের হাট ঘুরিয়ে দেখাব। ভালো থাকিস।

ইতি,
তোর বন্ধু
সুমন
৭.৬ তোমার দেখা একটি হাট বা বাজারের ছবি তুমি এঁকে দেখাও।
উত্তরের নির্দেশনা: এই প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব কল্পনা ও অভিজ্ঞতা থেকে একটি গ্রাম্য হাট বা বাজারের ছবি আঁকবে। ছবিতে খোলা আকাশের নীচে মাটির উপরে বসা সবজি বিক্রেতা, ক্রেতাদের ভিড়, দূরে কয়েকটি গাছ ও দোচালা ঘর এবং কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে হবে।
৭.৭ এখন 'হাট' ও 'বাজার'-এর মধ্যে কোনো তফাত খুঁজে পাও? এ বিষয়ে তোমার মতামত জানিয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো।
উত্তর: হ্যাঁ, 'হাট' ও 'বাজার'-এর মধ্যে বেশ কিছু তফাত রয়েছে। নিচে পাঁচটি পার্থক্য দেওয়া হলো:
১. হাট সাধারণত সপ্তাহে এক বা দু-দিন নির্দিষ্ট সময়ে বসে, কিন্তু বাজার প্রতিদিন বসে।
২. হাটের দোকানগুলি মূলত অস্থায়ী এবং খোলা আকাশের নীচে হয়, কিন্তু বাজারের দোকানগুলি স্থায়ী ঘরের মধ্যে হয়।
৩. হাটে গ্রামের কৃষকরা সরাসরি নিজেদের উৎপাদিত টাটকা ফসল বিক্রি করতে আসেন।
৪. বাজারের তুলনায় হাটে শাকসবজি এবং গ্রামীণ জিনিসপত্র অনেক কম দামে পাওয়া যায়।
৫. হাটের পরিবেশ অনেক বেশি কোলাহলপূর্ণ ও গ্রামীণ, অন্যদিকে বাজার তুলনামূলকভাবে গোছানো এবং আধুনিক হয়।

কবিতার অন্তর্নিহিত অর্থ

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের "হাট" কবিতাটি আপাতদৃষ্টিতে একটি গ্রাম্য হাটের সাধারণ চিত্র মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে আছে মানবজীবনের চরম সত্য। কবি এই কবিতায় হাটকে মানবজীবনের (পৃথিবীর) রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। হাটে যেমন মানুষ আসে, বেচাকেনা করে, লাভ-লোকসান হয় এবং দিন শেষে শূন্য হাটে অন্ধকার নামে; ঠিক তেমনই পৃথিবীতে মানুষ জন্ম নেয়, সারাজীবন সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতির খেলায় মেতে থাকে এবং অবশেষে মৃত্যুর মাধ্যমে শূন্য হাতে বিদায় নেয়। এই শাশ্বত খেলা অনন্তকাল ধরে চলে আসছে।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'হাট' কবিতাটি প্রখ্যাত দুঃখবাদী কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের দশম পাঠের অন্তর্ভুক্ত।

সন্ধ্যাবেলায় কেনাবেচা শেষ করে হাটের সমস্ত মানুষ যে-যার বাড়ি ফিরে যায়। হাট সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে, তাই সেখানে প্রদীপ জ্বালানোর মতো কেউ থাকে না।

কবি বুঝিয়েছেন যে, আমাদের এই পৃথিবীটা একটি হাটের মতো। এখানে মানুষ জন্ম নেয়, জীবনভর কাজ করে এবং মৃত্যুর মাধ্যমে বিদায় নেয়। মানুষের এই আসা-যাওয়ার চিরন্তন খেলা অনন্তকাল ধরে চলে আসছে।

কবি যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা দুটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম হলো 'মরীচিকা' এবং 'মরুশিখা'।