🇮🇳 বঙ্গ আমার জননী আমার
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
কবিতা
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • অষ্টাদশ পাঠ
স্বদেশপ্রেম
অতীত গৌরব
জাগরণের ডাক
ভক্তি ও সাধনা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩ - ১৯১৩)
বাংলা সাহিত্যের নামকরা নাট্যকার হলেও দ্বিজেন্দ্রলালের প্রথম পরিচয় কবি হিসেবে। মাত্র উনিশ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আর্য্যগাথা” (১ম ভাগ)। তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হলো— আর্য্যগাথা (২য় ভাগ), মন্ত্র, আষাঢ়ে, আলেখ্য, ত্রিবেণী ইত্যাদি। তিনি ছন্দ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং অনেক হাসির কবিতাও রচনা করেছেন। “দ্বিজেন্দ্রগীতি” হিসেবে পরিচিত তাঁর গানগুলি আজও বাঙালি জীবনে সমাদৃত। তাঁর কবিতার মূল সুর ছিল গভীর স্বদেশপ্রেম।
📖
কবিতা
বঙ্গ আমার জননী আমার
🇮🇳
মূলভাব
স্বদেশপ্রেম ও দেশভক্তি
“বঙ্গ আমার! জননী আমার!” কবিতায় কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় পরাধীন ভারতবর্ষ ও বঙ্গভূমির করুণ দশা দেখে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার বেশ আজ মলিন, কেশ রুক্ষ এবং আসন ধুলোয় লুটিয়ে আছে। কিন্তু এই দেশের অতীত অত্যন্ত গৌরবময়। এই পুণ্যভূমিতেই গৌতম বুদ্ধ, সম্রাট অশোক, রঘুনাথ শিরোমণি, শ্রীচৈতন্যদেব, চণ্ডীদাস এবং বীর প্রতাপাদিত্যের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অতীতে বাঙালির জাহাজ সারা সমুদ্র দাপিয়ে বেড়িয়েছে এবং তিব্বত, চীন, জাপানেও তাঁরা নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কবি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, আমাদের ধমনিতে যদি সেই বীর ও মহাপুরুষদের রক্তের লেশমাত্র থাকে, তবে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে মেষের মতো দুর্বলতা ত্যাগ করে মানুষের মতো উঠে দাঁড়ালে দেশমাতৃকার দৈন্য ঘুচবে এবং ললাটে নতুন গৌরব ফুটে উঠবে।
| শব্দ | অর্থ | শব্দ | অর্থ |
| ধাত্রী | ধারণকারিণী / যে পালন করে | অর্ণব পোত | সমুদ্রগামী জাহাজ |
| ত্রিংশ | ৩০ (ত্রিশ) সংখ্যক | ছিন্ন | ছিঁড়ে গেছে এমন |
| মোক্ষ | মুক্তি, নির্বাণ | মুরজ | বাদ্যযন্ত্রবিশেষ |
| ছাইল | আচ্ছাদন করা / ছেয়ে ফেলা | গরিমা | গৌরব, মাহাত্ম্য |
| গান্ধার | কান্দাহারের প্রাচীন নাম | ভাতিবে | প্রকাশিত হবে, দীপ্তি পাবে |
| সেনানি | সেনাপতি, সৈন্যদল | দৈন্য | অভাব, দারিদ্র্য |
| ক্লেশ | কষ্ট, যন্ত্রণা | ললাট | কপাল |
হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)
১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:
১.১ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের নাম হলো— “আর্য্যগাথা” এবং “মন্ত্র”।
১.২ কবি দ্বিজেন্দ্রলালের কবিতার মূল সুর কী ছিল?
কবি দ্বিজেন্দ্রলালের কবিতার মূল সুর ছিল গভীর স্বদেশপ্রেম বা দেশভক্তি।
২. পদ পরিবর্তন (বিশেষ্য ⇄ বিশেষণ)
| প্রদত্ত শব্দ (পদ) | রূপান্তরিত শব্দ (পদ) |
| মলিন (বিশেষণ) | মালিন্য (বিশেষ্য) |
| মধুর (বিশেষণ) | মাধুর্য (বিশেষ্য) |
| আসন (বিশেষ্য) | আসীন (বিশেষণ) |
| দৈন্য (বিশেষ্য) | দীন (বিশেষণ) |
| প্রণত (বিশেষণ) | প্রণতি (বিশেষ্য) |
৩. উপসর্গ আলাদা করে দেখাও
উপনিবেশ উপ (উপ + নিবেশ)
অশোক অ (অ + শোক)
আলোক আ (আ + লোক)
প্রণত প্র (প্র + নত)
৪. উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ ভাগ করে দেখাও
| বাক্য | উদ্দেশ্য | বিধেয় |
| ৪.১ কেন গো মা তোর মলিন বেশ? | তোর মলিন বেশ | কেন গো মা? |
| ৪.২ অশোক যাঁহার কীর্তি ছাইল গান্ধার হতে জলধি শেষ। | অশোক | যাঁহার কীর্তি ছাইল গান্ধার হতে জলধি শেষ। |
| ৪.৩ একদা যাহার বিজয় সেনানী হেলায় লঙ্কা করিল জয়। | যাহার বিজয় সেনানী | একদা হেলায় লঙ্কা করিল জয়। |
| ৪.۴ ন্যায়ের বিধান দিল রঘুমণি। | রঘুমণি | ন্যায়ের বিধান দিল। |
| ৪.৫ নবীন গরিমা ভাতিবে আবার ললাটে তোর। | নবীন গরিমা | ভাতিবে আবার ললাটে তোর। |
৫. বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দগুলি নির্দেশমতো লেখো
| নির্দেশনা | নির্ণীত পদ |
| ৫.১ আমি + সম্বন্ধপদ + বহুবচন = | আমাদের |
| ৫.২ (আমি) + কর্তৃকারক + বহুবচন = | আমরা |
| ৫.৩ (তুই) + সম্বন্ধপদ + একবচন = | তোর |
| ৫.৪ যিনি + সম্বন্ধপদ + একবচন = | যাঁহার |
৬. একইরকম অর্থযুক্ত শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো
গৌরব গরিমা
সুর তান
মুক্তি মোক্ষ
নতুন নবীন
জলধি সাগর / অর্ণব
৭. ব্যক্তি ও স্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো
বুদ্ধ
গৌতম বুদ্ধ হলেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক। তিনি অহিংসা, সাম্য ও শান্তির যে বাণী প্রচার করেছিলেন, তা সারা পৃথিবীতে, বিশেষ করে এশিয়া মহাদেশের একটি বিশাল অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
রঘুমণি
রঘুনাথ শিরোমণি ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর নবদ্বীপের একজন প্রখ্যাত নৈয়ায়িক পণ্ডিত। তিনি ‘দীধিতি’ নামক ন্যায়শাস্ত্রের অসামান্য গ্রন্থ রচনা করে সারা ভারতে বিখ্যাত হয়েছিলেন।
নিমাই
নিমাই বা শ্রীচৈতন্যদেব হলেন মধ্যযুগের বাংলার একজন মহান বৈষ্ণব সাধক ও সমাজসংস্কারক। তিনি ভক্তি, প্রেম ও নামসংকীর্তনের মাধ্যমে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং জাতিভেদ দূর করার চেষ্টা করেছিলেন।
চণ্ডীদাস
চণ্ডীদাস ছিলেন মধ্যযুগের বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ পদাবলি রচয়িতা ও বৈষ্ণব কবি। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমের পদগুলি আজও বাঙালি জনজীবনে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৮. কয়েকটি বাক্যে উত্তর লেখো
৮.১ কবি দেশকে কী কী নামে সম্বোধন করেছেন?
কবি দেশকে বঙ্গ, জননী, ধাত্রী, দেবী, সাধনা এবং স্বর্গ নামে সশ্রদ্ধচিত্তে সম্বোধন করেছেন।
৮.২ “কেন গো মা তোর মলিন বেশ”—“মা” বলতে কবি কাকে বুঝিয়েছেন? তাকে “মা” বলা হয়েছে কেন?
এখানে “মা” বলতে কবি দেশমাতৃকা বা বঙ্গভূমিকে বুঝিয়েছেন।
মা যেমন সন্তানকে পরম স্নেহে নিজের বুকে ধারণ করে এবং অন্নজল দিয়ে পালন করে, আমাদের জন্মভূমি বা দেশও ঠিক মায়ের মতোই আমাদের নিজের কোলে আশ্রয় দিয়েছে এবং পালন করছে। তাই দেশকে “মা” বলা হয়েছে।
৮.৩ “মা”-এর বেশ মলিন ও কেশ রুক্ষ কেন?
পরাধীন ভারতবর্ষে শোষণের ফলে দেশবাসী বা বঙ্গভূমির সন্তানদের দুর্দশা, কষ্ট ও চরম দারিদ্র্য নেমে এসেছিল। দেশের এই পরাধীনতা ও সন্তানদের এই অবর্ণনীয় কষ্টের কারণেই দেশমাতৃকার বেশ আজ মলিন এবং কেশ রুক্ষ হয়ে আছে।
৮.৪ অশোক কোথায় কোথায় তাঁর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন?
মহামতি সম্রাট অশোক গান্ধার (বর্তমানের আফগানিস্তান) থেকে শুরু করে একেবারে জলধি শেষ বা মহাসমুদ্রের উপকূল পর্যন্ত তাঁর বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
৮.৫ “অর্ধ-জগৎ ভক্তি-প্রণত চরণে যাঁর”—“অর্ধ-জগৎ” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? কার চরণে তা প্রণত হয়েছে?
“অর্ধ-জগৎ” বলতে পৃথিবীর অর্ধেক বা একটি বিশাল ভূখণ্ডকে (বিশেষত সমগ্র এশিয়া মহাদেশকে) বোঝানো হয়েছে।
বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধের চরণে এই বিশাল অর্ধ-জগৎ ভক্তিভরে প্রণত হয়েছে।
৮.৭ “যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য”—প্রতাপাদিত্য কে ছিলেন? তিনি কাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন?
প্রতাপাদিত্য ছিলেন বাংলার “বারোভুঁইয়াদের” মধ্যে অন্যতম একজন স্বাধীনচেতা ও শক্তিশালী জমিদার বা রাজা (যশোহরের শাসক)।
স্বাধীনতারক্ষার জন্য তিনি প্রবল পরাক্রমশালী মোগল সম্রাটদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন।
৮.৮ “ধন্য আমরা”—“আমরা” বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? আমরা কখন নিজেদের ধন্য বলে মনে করতে পারি?
“আমরা” বলতে ভারতবর্ষ তথা বাংলার সাধারণ মানুষদের বা দেশবাসীকে বোঝানো হয়েছে।
আমাদের অতীত অত্যন্ত গৌরবময়। বুদ্ধ, অশোক, শ্রীচৈতন্য, প্রতাপাদিত্যের মতো বীর ও মহাপুরুষরা এই দেশে জন্মেছেন। আমাদের শিরায় যদি সেই মহান পূর্বপুরুষদের রক্তের লেশমাত্র প্রবাহিত থাকে, তবেই আমরা নিজেদের প্রকৃত অর্থেই ধন্য বলে মনে করতে পারি।
৮.৯ নবীন গরিমা কীভাবে ললাটে ফুটে উঠবে?
দীর্ঘ পরাধীনতার মেঘ ও অন্ধকার যেদিন কেটে যাবে এবং দেশবাসী নিজেদের দৈন্য ও ভয় ঘুচিয়ে বীরের মতো জেগে উঠবে, সেদিনই দেশমাতৃকার ললাটে বা কপালে নতুন গরিমা বা গৌরব ফুটে উঠবে।
৮.১০ আমরা কীভাবে বঙ্গজননীর দুঃখ, দৈন্য, লজ্জা দূর করতে পারি?
আমরা দেশের সন্তান। তাই দুর্বলতা ও মেষের মতো ভীরুতা ত্যাগ করে আমাদের প্রকৃত মানুষের মতো উঠে দাঁড়াতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সাধনা ও সংগ্রামের মাধ্যমে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করলেই বঙ্গজননীর দুঃখ, দৈন্য ও লজ্জা দূর করা সম্ভব।
৯. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও
৯.১ “যদিও মা তোর দিব্য আলোকে ঘিরে আছে আজ আঁধার ঘোর”—কবির কেন মনে হয়েছে যে বঙ্গ জননীকে আঁধার ঘিরে আছে?
উত্তর: আমাদের দেশের অতীত ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। বুদ্ধের শান্তি, অশোকের সাম্রাজ্য, প্রতাপাদিত্যের বীরত্ব, এবং চণ্ডীদাস ও শ্রীচৈতন্যের প্রেমের আলোয় এদেশ একদিন উদ্ভাসিত ছিল। কিন্তু সেই দিব্য আলো থাকা সত্ত্বেও, বিদেশি শক্তির শাসন ও শোষণের ফলে দেশবাসী পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পরাধীন দেশের মানুষের চরম দারিদ্র্য, অজ্ঞতা, অপমান এবং স্বাধীনতার অভাব দেখেই কবির মনে হয়েছে যে, বঙ্গজননীর সেই উজ্জ্বল অতীতকে আজ পরাধীনতার এক ঘোর অন্ধকার ঘিরে আছে।
৯.২ এই বঙ্গভূমি তোমার কাছে কেন প্রিয় সে সম্পর্কে জানিয়ে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর:
কলকাতা
তারিখ: ২০ জুলাই ২০২৪
প্রিয় বন্ধু সুমিত,
আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে লিখছি কেন এই বঙ্গভূমি আমার কাছে এত প্রিয়। বাংলার এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চারপাশের সবুজ প্রান্তর, নদী আর নীল আকাশ আমাকে মুগ্ধ করে। শুধু প্রকৃতিই নয়, এই মাটিতে জন্মেছেন রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বিশ্ববরেণ্য মহাপুরুষরা। তাঁদের আদর্শ ও বীরত্বের কাহিনি আমাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। এখানকার মানুষের সহজ-সরল জীবন, আমাদের মিষ্টি মাতৃভাষা আর সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে এই দেশ আমার কাছে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তুই সময় পেলে একবার আমাদের গ্রামে আসিস, বাংলার রূপ নিজ চোখে দেখতে পাবি।
কাকু-কাকিমাকে আমার প্রণাম জানাস। ভালো থাকিস।
ইতি,
তোর প্রিয় বন্ধু
অয়ন
৯.৩ চীন, জাপান, তিব্বতে বাঙালি সত্যি কি কোনোদিন উপনিবেশ তৈরি করেছিল? শিক্ষক / শিক্ষিকার কাছ থেকে এ বিষয়ে জেনে নিয়ে লেখো।
উত্তর: হ্যাঁ, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর সত্যতা রয়েছে। তবে এটি আধুনিক যুগের মতো শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক উপনিবেশ ছিল না, এটি ছিল “সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উপনিবেশ”। প্রাচীন ও মধ্যযুগে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, কুমারজীবের মতো মহান বাঙালি পণ্ডিতরা দুর্গম পথ অতিক্রম করে তিব্বত, চীন ও জাপানে বৌদ্ধধর্ম এবং ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতি প্রচার করেছিলেন। সেখানে তাঁরা গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। এছাড়া চম্পা, সুবর্ণদ্বীপ, যবদ্বীপ প্রভৃতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে বাংলার বণিকরা বাণিজ্য করতে গিয়ে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তুলেছিলেন।
৯.৪ পরাধীন ভারতের মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এই কবিতায় দেশের প্রতি যে ভাবাবেগ প্রকাশিত হয়েছে তা তোমার নিজের ভাষায় বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: দ্বিজেন্দ্রলাল রায় তাঁর “বঙ্গ আমার! জননী আমার!” কবিতায় পরাধীন ও হতাশাগ্রস্ত ভারতবাসীকে জাগিয়ে তোলার জন্য দেশের এক উজ্জ্বল অতীতের ছবি তুলে ধরেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দেশ হলো গৌতম বুদ্ধ, সম্রাট অশোক, রঘুনাথ, শ্রীচৈতন্য এবং বীর প্রতাপাদিত্যের জন্মভূমি। যে দেশের সন্তানদের রক্তে এমন বীরত্ব ও অহিংসার মহান ঐতিহ্য মিশে আছে, তারা কখনো ভীরু মেষের মতো পরাধীনতার শিকল মেনে নিতে পারে না। মাতৃভূমির মলিন ও রুক্ষ বেশ দেখে শোক না করে, কবি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত মানুষের মতো উঠে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন। তাঁর এই অগাধ দেশভক্তি ও গর্বের আবেগ প্রতিটি পরাধীন ভারতীয়ের মনে স্বাধীনতার আগুন ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে গভীরভাবে সাহায্য করেছে।
কবিতার মূল শিক্ষা
“বঙ্গ আমার! জননী আমার!” কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের দেশ শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, সে আমাদের মা, ধাত্রী ও স্বর্গ। পরাধীনতার সময়ে লেখা এই কবিতা আজও আমাদের শেখায় যে, আমাদের অতীত অত্যন্ত গৌরবময়। আমরা সেই মহান পূর্বপুরুষদের বংশধর। তাই জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতিতেই আমাদের দুর্বল বা মেষের মতো ভীরু হওয়া সাজে না। ঐক্যবদ্ধভাবে নিজের মাতৃভূমির সম্মান ও গৌরব রক্ষার্থে কাজ করাই আমাদের প্রধান কর্তব্য।