চিত্রগ্রীব

ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় রচিত “চিত্রগ্রীব” (ছবিতে গল্প)-এর সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ ও সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🕊️ চিত্রগ্রীব

ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় ছবিতে গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • চতুর্দশ পাঠ

পোষা পায়রা উড়তে শেখা মাতৃস্নেহ বাবার শাসন

ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় (১৮৯০ - ১৯৩৬)

প্রথম জীবনে সশস্ত্র বিপ্লব-পন্থায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশে গুপ্ত সমিতি গঠনের জন্য জাপানে যান। সেখান থেকে যন্ত্রবিদ্যা শিক্ষার উদ্দেশ্যে মার্কিনদেশে যান। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্য বিষয়ে বি.এ. পাশ করেন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে “Gay Neck” (চিত্রগ্রীব) বইটির জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ জন নিউবেরি পদক (John Newbery Medal) লাভ করেন। এরপর শিশু সাহিত্যিক হিসেবে প্রভূত সুনাম অর্জন করেছিলেন। তাঁর লেখা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হলো: Kari: the Elephant, Hari: the Jungle lad, The Chief of the Herd (যূথপতি) প্রভৃতি।

📖

গল্পের ধরন

ছবিতে গল্প (কমিকস)

✍️

মূল লেখক

ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়

🎨

চিত্রশিল্পী

যুধাজিৎ সেনগুপ্ত

📚

মূল গ্রন্থ

Gay Neck

গল্পের সারাংশ

“চিত্রগ্রীব” গল্পটি একটি পায়রার জীবন ও তার বড়ো হয়ে ওঠার কাহিনি। চিত্রগ্রীবের বাবা ছিল এক গেরোবাজ পায়রা এবং মা ছিল বনেদি হরকরা বংশের সেরা সুন্দরী পায়রা। ডিম ফুটে ছানা বের হওয়ার পর বাবা ও মা দুজনেই তাকে পরম স্নেহে ডানা দিয়ে জড়িয়ে রাখত এবং ঠোঁটে ঠোঁট দিয়ে নরম খাবার খাওয়াত। চিত্রগ্রীব ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে। লেখক লক্ষ করেন, পায়রাদের চোখের উপর একটি পাতলা ফিনফিনে পর্দা থাকে, যা তাদের ধুলোবালি বা ঝড়ের হাত থেকে চোখকে রক্ষা করে। চিত্রগ্রীব যখন একটু বড়ো হলো, তখন তার বাবা তাকে উড়তে শেখানোর দায়িত্ব নিল। বাবা-পায়রা তাকে বকাবকি করে এবং ঠেলতে ঠেলতে ছাদের কিনারা থেকে ফেলে দেয়, যার ফলে চিত্রগ্রীব বাধ্য হয়ে ডানা মেলে উড়তে শুরু করে। প্রথম ওড়ার পর মা-পায়রা তাকে আদর করে উৎসাহ দেয়। এভাবেই বাবা-মায়ের কড়া শাসন ও গভীর স্নেহের মধ্যে দিয়ে চিত্রগ্রীব আকাশে ডানা মেলতে শেখে।

হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)

১. লেখক পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১.১ ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের কোন বইয়ের চিত্ররূপ তুমি পড়লে?
আমরা ধনগোপাল মুখোপাধ্যায়ের লেখা “Gay Neck” (গ্যে নেক বা চিত্রগ্রীব) বইটির চিত্ররূপ বা ছবিতে গল্প পড়লাম।
১.২ তাঁর লেখা অন্য আর একটি বইয়ের নাম লেখো।
তাঁর লেখা অন্য আর একটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হলো “Kari: the Elephant” (অথবা Hari: the Jungle lad)।

বড়ো প্রশ্নোত্তর ও রচনা

২ “চিত্রগ্রীব” নামক ছবিতে গল্পটি পড়ে চিত্রগ্রীবের বাবা ও মায়ের আচরণ তোমার কেমন লাগল কয়েকটি বাক্যে লেখো। বাবা-মায়ের সাহচর্যে চিত্রগ্রীব যেমন উড়তে শিখেছে, ঠিক তেমন কোন শিক্ষা তুমি প্রথম বাবা-মায়ের সাহচর্যে শিখেছ-মনে করে লেখো।
উত্তর: চিত্রগ্রীবের বাবা ও মায়ের আচরণ পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে এবং মনে হয়েছে তারা অত্যন্ত দায়িত্ববান। মা-পায়রা যেমন পরম আদরে চিত্রগ্রীবকে ডানা দিয়ে জড়িয়ে রাখত ও যত্ন করত, তেমনি বাবা-পায়রাও তাকে স্বাবলম্বী করার জন্য কড়া শাসন করে উড়তে শিখিয়েছে। সন্তানের মঙ্গলের জন্যই তাদের এই শাসন ও ভালোবাসা。

বাবা-মায়ের সাহচর্যে চিত্রগ্রীবের উড়তে শেখার মতোই, আমি আমার বাবা-মায়ের সাহচর্যে প্রথম সাইকেল চালানো শিখেছিলাম। বাবা আমাকে পিছন থেকে সাইকেল ধরে রাখতেন আর মা আমাকে সাহস দিতেন। বারবার পড়ে যাওয়ার ভয় থাকলেও, তাদের উৎসাহ ও কড়া শাসনেই আমি স্বাধীনভাবে সাইকেল চালানো শিখতে পেরেছি।
৩ তোমরা “চিত্রগ্রীব” নামের পায়রাটির উড়তে শেখার কথা জানলে। তুমি কখনও টিয়া বা চন্দনার মতো এমন কোনো পাখি দেখেছ যারা কথা বলতে পারে? যদি এই ধরনের কোনো পাখির সঙ্গে তোমার ভাব হয়, তাহলে তুমি তার সঙ্গে কী কথা বলবে? তোমাদের সেই কাল্পনিক সংলাপটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: হ্যাঁ, আমি খাঁচায় পোষা কথা-বলা টিয়া পাখি দেখেছি। যদি কোনো টিয়া পাখির সঙ্গে আমার খুব ভালো ভাব হয়ে যায়, তবে আমাদের কাল্পনিক সংলাপ হবে এইরকম:

আমি: কিরে মিঠু, কেমন আছিস তুই?
টিয়া: ভালো আছি, ভালো আছি! তুই কেমন আছিস?
আমি: আমিও খুব ভালো আছি। আজ কী খাবি তুই? লাল লঙ্কা না পেয়ারা?
টিয়া: পেয়ারা খাব, পেয়ারা খাব! আর আমাকে একটু খোলা আকাশে উড়তে দিবি?
আমি: হ্যাঁ বন্ধু, তোকে আজ আমি এই খাঁচা থেকে মুক্ত করে দেব। তুই স্বাধীনভাবে নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বি।
৪ “চিত্রগ্রীব” যেমন একটি ছবিতে গল্প ঠিক এই রকমের একটি ছবিতে গল্প বন্ধুরা মিলে “কুমোরে-পোকার বাসাবাড়ি” বা “সেনাপতি শংকর” রচনাংশটি অবলম্বনে তৈরি করে দেখতে পারো।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশিকা: এটি একটি প্রোজেক্ট বা মজার কাজ। তোমরা চার্ট পেপার বা খাতায় ছবি এঁকে “সেনাপতি শংকর” গল্পের শংকর, এমু পাখি এবং বিভীষণ মাস্টারমশাইয়ের দৃশ্যটি কমিকস বা ছবির গল্পের মতো করে তৈরি করতে পারো। চরিত্রগুলোর মুখের সামনে “স্পিচ বাবল” (Speech Bubble) এঁকে তাদের সংলাপগুলো লিখে দিতে পারো।

গল্পের মূল শিক্ষা

“চিত্রগ্রীব” গল্পটি শুধু একটি পায়রার বড়ো হওয়ার কাহিনি নয়, এটি আসলে অভিভাবকত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। বাবা-মায়ের ভালোবাসা মানে শুধু আদর করা নয়, সন্তানকে স্বাবলম্বী ও সাহসী করে তোলার জন্য প্রয়োজনে একটু কড়া শাসনও করতে হয়—যাতে সন্তান জীবনের খোলা আকাশে নিজের ডানা মেলে উড়তে পারে। এই শিক্ষাই লেখক খুব সুন্দরভাবে একটি পাখির জীবনের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

“চিত্রগ্রীব” গল্পটি প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় রচিত। এটি তাঁর লেখা বিখ্যাত ইংরেজি বই “Gay Neck” (গ্যে নেক)-এর একটি বাংলা রূপান্তর।

গল্পের বর্ণনা অনুযায়ী, চিত্রগ্রীবের বাবা ছিল একজন গেরোবাজ পায়রা এবং তার মা ছিল এক পুরানো বনেদি 'হরকরা' বংশের সেরা সুন্দরী পায়রা।

চিত্রগ্রীবের বাবা বকাবকি করে এবং ঠেলতে ঠেলতে ছাদের কিনারা থেকে তাকে ফেলে দেয়। পড়ে যাওয়ার ভয়ে চিত্রগ্রীব বাধ্য হয়ে ডানা মেলে উড়তে শুরু করে।

লেখক লক্ষ করেছেন যে, পায়রাদের চোখের ওপর একটি ঘুড়ির কাগজের মতো ফিনফিনে পাতলা পর্দা থাকে। এই পর্দা তাদের চোখকে রক্ষা করে এবং এর সাহায্যেই তারা ধুলোঝড় বা সোজা সূর্যের দিকে তাকিয়েও উড়তে পারে।