পশুপাখির ভাষা

সুবিনয় রায়চৌধুরী রচিত 'পশুপাখির ভাষা' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🐾 পশুপাখির ভাষা

সুবিনয় রায়চৌধুরী প্রবন্ধ

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • পঞ্চম পাঠ • প্রবন্ধ

পশুদের ভাষা রিউবেন ক্যাস্টাং বন্যজন্তু মনের ভাব

সুবিনয় রায়চৌধুরী (১৮৯০-১৯৪৫)

প্রখ্যাত সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পুত্র। তিনি হারমোনিয়াম, এসরাজ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র দক্ষতার সঙ্গে বাজাতে পারতেন। সংগীতে তাঁর জ্ঞান ছিল সুবিদিত। তিনি একান্তভাবে ছোটোদের জন্যই লিখেছেন। একদিকে সহজ-সরল ভাষায় মজাদার গল্প-কবিতা লিখেছেন, অন্যদিকে শিশু-কিশোর মনের জিজ্ঞাসা মেটাতে প্রাঞ্জল ভাষায় তথ্যনিষ্ঠ প্রবন্ধও রচনা করেছেন। "সন্দেশ" পত্রিকায় তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য বই "সুবিনয় রায়চৌধুরীর রচনা সংগ্রহ"।

📖

প্রবন্ধ

পশুপাখির ভাষা

✍️

প্রাবন্ধিক

সুবিনয় রায়চৌধুরী

🔍

মূল বিষয়

পশুদের ভাব আদানপ্রদান

📚

পাঠ

পঞ্চম পাঠ (সাহিত্য মেলা)

প্রবন্ধের সারাংশ ও মূলভাব

সারাংশ: "পশুপাখির ভাষা" প্রবন্ধটিতে লেখক সুবিনয় রায়চৌধুরী আলোচনা করেছেন পশুপাখিরা কীভাবে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে। যদিও তাদের মানুষের মতো স্পষ্ট কোনো ভাষা নেই, তবুও তারা বিশেষ বিশেষ শব্দ এবং ইশারায় একে অপরকে বার্তা পাঠাতে পারে। কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে শিম্পাঞ্জি, ভাল্লুক, বাঘ ইত্যাদি বন্যপ্রাণীর ভাষা ও আচরণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। প্রবন্ধটিতে রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেবের দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি বন্যজন্তুদের ভাষা বুঝতে পেরে বহুবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন।

কেন্দ্রীয় চেতনা: প্রাণিজগৎ বোবা নয়, তাদেরও নিজস্ব ভাষা ও অনুভূতি আছে। মানুষের মতো কথা বলতে না পারলেও, শব্দ, ডাক ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তারা রাগ, ভয়, বিপদ এবং বন্ধুত্বের বার্তা সফলভাবে আদান-প্রদান করতে সক্ষম।

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

২ টি
১.১ সুবিনয় রায়চৌধুরী কী কী বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন?
সুবিনয় রায়চৌধুরী দক্ষতার সঙ্গে হারমোনিয়াম এবং এসরাজ বাজাতে পারতেন।
১.২ সুবিনয় রায়চৌধুরী কোন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
সুবিনয় রায়চৌধুরী বিখ্যাত 'সন্দেশ' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২. কোনটি কার ডাক মিলিয়ে লেখো

প্রাণীডাক (সঠিক উত্তর)
ব্যাঙের ডাকমকমকি
হাতির ডাকবৃংহণ
পাখির ডাককাকলি
কোকিলের ডাককুহু
ঘোড়ার ডাকহ্রেষা
ময়ূরের ডাককেকা

শব্দার্থ (Vocabulary)

সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষ করা / দেখা হওয়া
আদবকায়দা ভদ্রতার রীতিনীতি
নিরামিষাশী নিরামিষ খাদ্য আহার করে যে
মাংসাশী আমিষ খাদ্য আহার করে যে
সহানুভূতি সমবেদনা

ব্যাকরণ অনুশীলন

৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণ এবং বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো:

প্রদত্ত শব্দ (শ্রেণি)রূপান্তরিত শব্দ (শ্রেণি)
পশু (বিশেষ্য)পাশব / পশবি (বিশেষণ)
মুখ (বিশেষ্য)মৌখিক (বিশেষণ)
মন (বিশেষ্য)মানসিক (বিশেষণ)
পরীক্ষা (বিশেষ্য)পরীক্ষিত (বিশেষণ)
চালাক (বিশেষণ)চালাকি (বিশেষ্য)
অর্থ (বিশেষ্য)আর্থিক (বিশেষণ)
লোভ (বিশেষ্য)লোভী / লুব্ধ (বিশেষণ)
জন্তু (বিশেষ্য)জান্তব (বিশেষণ)
মেজাজ (বিশেষ্য)মেজাজি (বিশেষণ)

৪. বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদা করে দেখাও:

বাক্যউদ্দেশ্য (Subject)বিধেয় (Predicate)
৪.১ মুরগিরা 'তি-তি' ডাক শুনে আসে।মুরগিরা'তি-তি' ডাক শুনে আসে।
৪.২ পাখিরাও ভয়, রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করবার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে।পাখিরাওভয়, রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করবার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে।
৪.৩ ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন।ক্যাস্টাং সাহেবপ্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন।
৪.৪ শিম্পাঞ্জি, ওরাং এদের বিষয় কিছু লেখা হয়নি।শিম্পাঞ্জি, ওরাং এদের বিষয়কিছু লেখা হয়নি।

৫. প্রতিশব্দ (সমার্থক শব্দ) লেখো:

শব্দপ্রতিশব্দ
পাখিবিহগ, খেচর, পক্ষী, বিহঙ্গ
পুকুরজলাশয়, সরোবর, পুষ্করিণী, দিঘি
হাতিগজ, হস্তী, ঐরাবত, করী
সিংহপশুরাজ, মৃগেন্দ্র, কেশরী
বাঘব্যাঘ্র, শার্দূল

৬. নীচের যে শব্দগুলিতে এক বা বহু বোঝাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে লেখো:

বাক্যএকবচন বা বহুবচন শব্দ
৬.১ কুকুরেরাও কথা শুনে হুকুম পালন করতে ওস্তাদ।কুকুরেরাও (বহুবচন)
৬.২ তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে।তোমার (একবচন)
৬.৩ বিপদের সময় পরস্পরকে জানাবার উপায়ও পশুপাখিরা বেশ জানে।পশুপাখিরা (বহুবচন)
৬.৪ রিউবেন ক্যাস্টাং নামে একজন সাহেব বহুকাল পশুদের সঙ্গে ভাব পাতিয়ে বেড়িয়েছেন।একজন, সাহেব (একবচন) / পশুদের (বহুবচন)
৬.৫ একেও ভাষা বলতে হবে।একেও (একবচন)

৭. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো

৭.১ ভাষার প্রয়োজন হয় কেন?
উত্তর: প্রতিটি প্রাণীরই নিজের মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার এবং অন্যের মনের ভাব বুঝতে পারার জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। এই ভাব আদানপ্রদানের মাধ্যমটিকেই ভাষা বলা হয়। মূলত একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং নিজেদের অনুভূতি (যেমন- রাগ, ভয়, আনন্দ, বিপদ) বোঝানোর জন্যই ভাষার প্রয়োজন হয়।
৭.২ \'পশুপাখিরা অবিশ্যি মানুষের অনেক কথারই অর্থ বোঝে।\'-একথার সমর্থনে রচনাটিতে কোন কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে? তুমি এর সঙ্গে আর কী কী যোগ করতে চাইবে?
উত্তর: প্রাবন্ধিক সুবিনয় রায়চৌধুরী এই মন্তব্যের সমর্থনে জানিয়েছেন যে কুকুর, বনমানুষ, ঘোড়া তাদের নাম ধরে ডাকলে কান খাড়া করে কাছে আসে। মুরগিরা \'তি-তি\', হাঁস \'সোই-সোই\', ছাগল \'অ-র্-র্\' ডাক শুনলেই মানুষের কাছে ছুটে আসে। হাতি মাহুতের বিভিন্ন ভাষা বা নির্দেশ (যেমন: \'বৈঠ\', \'তেরে\', \'ভোরি\', \'মাইল\') অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।

আমি এর সঙ্গে যোগ করতে চাইব: আমাদের বাড়িতে পোষা টিয়া বা ময়না পাখি মানুষের অনেক কথা নকল করে এবং নির্দেশ শোনে। এছাড়া পোষা বিড়াল মানুষের গলার স্বর শুনে বুঝতে পারে যে কখন তাকে খেতে ডাকা হচ্ছে বা কখন বকা হচ্ছে।
৭.৩ রিউবেন ক্যাস্টাং এর অভিজ্ঞতার কথা পাঠ্যাংশে কীভাবে স্থান পেয়েছে, তা আলোচনা করো।
উত্তর: রিউবেন ক্যাস্টাং ছিলেন একজন পশুপ্রেমী মানুষ, যিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে বন্যজন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছেন। পাঠ্যাংশে তিনি জানিয়েছেন যে, পশুর ভাষা জানা থাকায় তিনি বহুবার সাক্ষাত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচেছেন। বাঘের গরম নিশ্বাস, ভাল্লুকের থাবা বা গরিলা তাকে জড়িয়ে ধরার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তিনি পশুদের নিজস্ব ভাষায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি সিংহ, শিম্পাঞ্জি, গ্রিজলি ভাল্লুকের গলার শব্দ হুবহু নকল করতে পারতেন। মেজাজ বুঝে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে পশুদের গায়ে হাত বুলিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, পশুদের ভাষা ও আদবকায়দা জানলে হিংস্র জন্তুর সঙ্গেও বন্ধুত্ব করা যায়।
৭.৪ \'একেও ভাষা বলতে হবে।\' কাকে \'ভাষা\'র মর্যাদা দিতে হবে বলে বক্তা মনে করেন? তুমি কি এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: বক্তা রিউবেন ক্যাস্টাং পশুপাখিদের ইশারা বা অঙ্গভঙ্গিকে ভাষার মর্যাদা দিতে চেয়েছেন। যেমন, কুকুর যখন লেজ নাড়ে বা কান নাড়ায়, তার মধ্যে অনেক অর্থ লুকিয়ে থাকে। একেও ভাষা বলতে হবে।

হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত। ভাষা মানেই শুধু মুখে উচ্চারিত শব্দ নয়। ইশারা, অঙ্গভঙ্গি (Body Language) বা সংকেতের সাহায্যে যদি মনের ভাব নিখুঁতভাবে বোঝানো যায়, তবে সেটাও একপ্রকার ভাষা। আমরা মানুষেরাও অনেক সময় ইশারায় কথা বলি।
৭.৫ \'তাই তারা স্বভাবতই নীরব\'- কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের এই স্বভাবগত \'নীরবতা\'র কারণ কী?
উত্তর: এখানে জঙ্গলের পশুদের বা বন্যপ্রাণীদের কথা বলা হয়েছে।

তাদের নীরব থাকার কারণ হলো, জঙ্গলের জীবন অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সংগ্রামশীল। শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে বন্যপ্রাণীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। তারা যদি বিনা কারণে চেঁচামেচি করে, তবে শত্রুরা সহজেই তাদের অবস্থান বুঝে ফেলবে। তাই আত্মরক্ষার স্বার্থেই জঙ্গলের পশুরা স্বভাবতই নীরব থাকে।
৭.৬ \'এরা তো মানুষেরই জাতভাই।\'- কাদের \'মানুষের জাতভাই\' বলা হয়েছে? তা সত্ত্বেও মানুষের সঙ্গে তাদের কোন পার্থক্যের কথা পাঠ্যাংশে বলা হয়েছে, তা লেখো।
উত্তর: পাঠ্যাংশে শিম্পাঞ্জি এবং ওরাংওটাং-কে মানুষের জাতভাই বলা হয়েছে।

মানুষের জাতভাই হওয়া সত্ত্বেও মানুষের সঙ্গে তাদের প্রধান পার্থক্য হলো ভাষা। মানুষের মতো তাদের নিজস্ব কোনো উন্নত বা স্পষ্ট ভাষা নেই। তবে ভাষা না থাকলেও তারা ভালোবাসা এবং সহানুভূতি মানুষের মতোই খুব ভালোভাবে বোঝে ও সহজেই মানুষের সঙ্গে ভাব জমায়।
৭.৭ তোমার পরিবেশে থাকা জীবজন্তুর ডাক নিয়ে তুমি একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।
উত্তর: (নমুনা অনুচ্ছেদ) আমাদের চারপাশে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি বাস করে এবং তাদের প্রত্যেকের ডাক আলাদা। খুব ভোরে কাকের \'কা-কা\' এবং কোকিলের মিষ্টি \'কুহু-কুহু\' ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙে। পাড়ার কুকুরগুলো অচেনা কাউকে দেখলে জোরে জোরে \'ঘেউ-ঘেউ\' করে ওঠে, আবার আদর খেতে চাইলে লেজ নেড়ে মৃদু শব্দ করে। বাড়ির পোষা বিড়ালটি খিদের সময় \'ম্যাও-ম্যাও\' করে ডেকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অন্যদিকে, বর্ষাকালে পুকুরপাড় থেকে ব্যাঙের দল সমস্বরে \'মকমক\' করে ডাকতে থাকে। জীবজন্তুদের এই বিচিত্র ডাক আমাদের পরিবেশকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করে তোলে।
৭.৮ এমন একটি গল্প লেখো যেখানে পশুপাখিরা মানুষের সঙ্গে মানুষেরই মতো কথাবার্তা বলেছে আর তাদের মধ্যে অপরূপ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।
উত্তর: (শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির জন্য একটি ছোটো গল্প)
এক গভীর জঙ্গলে রাণা নামের এক কাঠুরে বাস করত। একদিন জঙ্গলে কাজ করার সময় সে শুনতে পেল, একটি ছোট্ট খরগোশ বলছে, "রাণা ভাই, আমাকে বাঁচাও!" রাণা অবাক হয়ে দেখল খরগোশটি মানুষের মতো কথা বলছে। একটি শেয়াল খরগোশটিকে তাড়া করেছিল। রাণা তাকে উদ্ধার করল। এরপর থেকে জঙ্গলের পশুপাখিরা রাণাকে তাদের বন্ধু হিসেবে মেনে নিল। রোজ সকালে একটা ময়না পাখি এসে তাকে গান শুনিয়ে যেত আর খবর দিত জঙ্গলে কোথায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। ভাল্লুকরা রাণার সাথে বসে মানুষের ভাষায় গল্প করত এবং তাকে মধু এনে দিত। এইভাবেই রাণা ও জঙ্গলের পশুপাখিদের মধ্যে এক অদ্ভুত ও সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।

৮. ছবি দেখে বর্ণনা

পাশের ছবিটি দেখে নিজের ভাষায় পাঁচটি বাক্য লেখো:
১. প্রদত্ত ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন সাহেব টুপি পরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর কাঁধের ঠিক পিছনেই একটি বিশাল আকারের ভাল্লুক দাঁড়িয়ে আছে।
২. সাহেবের চেহারায় কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই, তিনি খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ভাল্লুকটির সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, যা থেকে মনে হয় ইনিই রিউবেন ক্যাস্টাং।
৩. ভাল্লুকটির চোখেমুখেও কোনো হিংস্রতা নেই, বরং তাকে বেশ শান্ত ও কৌতূহলী মনে হচ্ছে।
৪. সাহেব হয়তো ভাল্লুকটির নিজস্ব ভাষায় বা বিশেষ ইশারায় তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছেন।
৫. ছবিটি প্রমাণ করে যে, সঠিক আদবকায়দা ও ভাষা জানা থাকলে বন্য ও ভয়ংকর জন্তুর সঙ্গেও সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রবন্ধের শিক্ষা

"পশুপাখির ভাষা" প্রবন্ধটি আমাদের শেখায় যে, প্রাণিজগৎকে অবজ্ঞা বা ভয় করা উচিত নয়। তাদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি এবং তাদের আচরণ বোঝার চেষ্টা করলে ভয়ংকর বন্যপ্রাণীর সঙ্গেও বন্ধুত্ব করা সম্ভব। মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত প্রাণীদের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'পশুপাখির ভাষা' প্রবন্ধটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুবিনয় রায়চৌধুরী। তিনি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পুত্র।

রিউবেন ক্যাস্টাং ছিলেন একজন পশুপ্রেমী এবং গবেষক যিনি প্রায় চল্লিশ বছর বন্যজন্তুদের সঙ্গে জঙ্গলে কাটিয়েছেন। তিনি পশুদের ভাষা এবং তাদের অঙ্গভঙ্গি খুব ভালো করে বুঝতেন এবং অবিকল তাদের ডাক নকল করতে পারতেন।

জঙ্গলের জীবন অত্যন্ত সংগ্রামশীল। শিকারিদের হাত থেকে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষার স্বার্থে বন্যপ্রাণীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। তাই তারা বিনা প্রয়োজনে চেঁচামেচি করে না এবং স্বভাবতই নীরব থাকে।

পশুপাখিদের মানুষের মতো উন্নত ভাষা না থাকলেও তারা তাদের ডাকের স্বর পরিবর্তন করে (যেমন কুকুরের ঘেউ বা কেঁউ) এবং বিভিন্ন শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বা ইশারার (যেমন লেজ নাড়া বা কান নাড়ানো) মাধ্যমে নিজেদের রাগ, ভয়, বা বন্ধুত্বের অনুভূতি প্রকাশ করে।