🐾 পশুপাখির ভাষা
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • পঞ্চম পাঠ • প্রবন্ধ
প্রবন্ধ
পশুপাখির ভাষা
প্রাবন্ধিক
সুবিনয় রায়চৌধুরী
মূল বিষয়
পশুদের ভাব আদানপ্রদান
পাঠ
পঞ্চম পাঠ (সাহিত্য মেলা)
প্রবন্ধের সারাংশ ও মূলভাব
সারাংশ: "পশুপাখির ভাষা" প্রবন্ধটিতে লেখক সুবিনয় রায়চৌধুরী আলোচনা করেছেন পশুপাখিরা কীভাবে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে। যদিও তাদের মানুষের মতো স্পষ্ট কোনো ভাষা নেই, তবুও তারা বিশেষ বিশেষ শব্দ এবং ইশারায় একে অপরকে বার্তা পাঠাতে পারে। কুকুর, বিড়াল থেকে শুরু করে শিম্পাঞ্জি, ভাল্লুক, বাঘ ইত্যাদি বন্যপ্রাণীর ভাষা ও আচরণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। প্রবন্ধটিতে রিউবেন ক্যাস্টাং সাহেবের দীর্ঘ চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যিনি বন্যজন্তুদের ভাষা বুঝতে পেরে বহুবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন।
কেন্দ্রীয় চেতনা: প্রাণিজগৎ বোবা নয়, তাদেরও নিজস্ব ভাষা ও অনুভূতি আছে। মানুষের মতো কথা বলতে না পারলেও, শব্দ, ডাক ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তারা রাগ, ভয়, বিপদ এবং বন্ধুত্বের বার্তা সফলভাবে আদান-প্রদান করতে সক্ষম।
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও
২ টি২. কোনটি কার ডাক মিলিয়ে লেখো
| প্রাণী | ডাক (সঠিক উত্তর) |
|---|---|
| ব্যাঙের ডাক | মকমকি |
| হাতির ডাক | বৃংহণ |
| পাখির ডাক | কাকলি |
| কোকিলের ডাক | কুহু |
| ঘোড়ার ডাক | হ্রেষা |
| ময়ূরের ডাক | কেকা |
শব্দার্থ (Vocabulary)
ব্যাকরণ অনুশীলন
৩. নীচের বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণ এবং বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো:
| প্রদত্ত শব্দ (শ্রেণি) | রূপান্তরিত শব্দ (শ্রেণি) |
|---|---|
| পশু (বিশেষ্য) | পাশব / পশবি (বিশেষণ) |
| মুখ (বিশেষ্য) | মৌখিক (বিশেষণ) |
| মন (বিশেষ্য) | মানসিক (বিশেষণ) |
| পরীক্ষা (বিশেষ্য) | পরীক্ষিত (বিশেষণ) |
| চালাক (বিশেষণ) | চালাকি (বিশেষ্য) |
| অর্থ (বিশেষ্য) | আর্থিক (বিশেষণ) |
| লোভ (বিশেষ্য) | লোভী / লুব্ধ (বিশেষণ) |
| জন্তু (বিশেষ্য) | জান্তব (বিশেষণ) |
| মেজাজ (বিশেষ্য) | মেজাজি (বিশেষণ) |
৪. বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদা করে দেখাও:
| বাক্য | উদ্দেশ্য (Subject) | বিধেয় (Predicate) |
|---|---|---|
| ৪.১ মুরগিরা 'তি-তি' ডাক শুনে আসে। | মুরগিরা | 'তি-তি' ডাক শুনে আসে। |
| ৪.২ পাখিরাও ভয়, রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করবার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে। | পাখিরাও | ভয়, রাগ প্রভৃতি প্রকাশ করবার জন্য বিশেষ বিশেষ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে। |
| ৪.৩ ক্যাস্টাং সাহেব প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন। | ক্যাস্টাং সাহেব | প্রায় চল্লিশ বছর বন্য জন্তুদের সঙ্গে থেকেছেন। |
| ৪.৪ শিম্পাঞ্জি, ওরাং এদের বিষয় কিছু লেখা হয়নি। | শিম্পাঞ্জি, ওরাং এদের বিষয় | কিছু লেখা হয়নি। |
৫. প্রতিশব্দ (সমার্থক শব্দ) লেখো:
| শব্দ | প্রতিশব্দ |
|---|---|
| পাখি | বিহগ, খেচর, পক্ষী, বিহঙ্গ |
| পুকুর | জলাশয়, সরোবর, পুষ্করিণী, দিঘি |
| হাতি | গজ, হস্তী, ঐরাবত, করী |
| সিংহ | পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, কেশরী |
| বাঘ | ব্যাঘ্র, শার্দূল |
৬. নীচের যে শব্দগুলিতে এক বা বহু বোঝাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে লেখো:
| বাক্য | একবচন বা বহুবচন শব্দ |
|---|---|
| ৬.১ কুকুরেরাও কথা শুনে হুকুম পালন করতে ওস্তাদ। | কুকুরেরাও (বহুবচন) |
| ৬.২ তোমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। | তোমার (একবচন) |
| ৬.৩ বিপদের সময় পরস্পরকে জানাবার উপায়ও পশুপাখিরা বেশ জানে। | পশুপাখিরা (বহুবচন) |
| ৬.৪ রিউবেন ক্যাস্টাং নামে একজন সাহেব বহুকাল পশুদের সঙ্গে ভাব পাতিয়ে বেড়িয়েছেন। | একজন, সাহেব (একবচন) / পশুদের (বহুবচন) |
| ৬.৫ একেও ভাষা বলতে হবে। | একেও (একবচন) |
৭. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর লেখো
আমি এর সঙ্গে যোগ করতে চাইব: আমাদের বাড়িতে পোষা টিয়া বা ময়না পাখি মানুষের অনেক কথা নকল করে এবং নির্দেশ শোনে। এছাড়া পোষা বিড়াল মানুষের গলার স্বর শুনে বুঝতে পারে যে কখন তাকে খেতে ডাকা হচ্ছে বা কখন বকা হচ্ছে।
হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত। ভাষা মানেই শুধু মুখে উচ্চারিত শব্দ নয়। ইশারা, অঙ্গভঙ্গি (Body Language) বা সংকেতের সাহায্যে যদি মনের ভাব নিখুঁতভাবে বোঝানো যায়, তবে সেটাও একপ্রকার ভাষা। আমরা মানুষেরাও অনেক সময় ইশারায় কথা বলি।
তাদের নীরব থাকার কারণ হলো, জঙ্গলের জীবন অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সংগ্রামশীল। শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে এবং নিজের প্রাণ বাঁচাতে বন্যপ্রাণীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। তারা যদি বিনা কারণে চেঁচামেচি করে, তবে শত্রুরা সহজেই তাদের অবস্থান বুঝে ফেলবে। তাই আত্মরক্ষার স্বার্থেই জঙ্গলের পশুরা স্বভাবতই নীরব থাকে।
মানুষের জাতভাই হওয়া সত্ত্বেও মানুষের সঙ্গে তাদের প্রধান পার্থক্য হলো ভাষা। মানুষের মতো তাদের নিজস্ব কোনো উন্নত বা স্পষ্ট ভাষা নেই। তবে ভাষা না থাকলেও তারা ভালোবাসা এবং সহানুভূতি মানুষের মতোই খুব ভালোভাবে বোঝে ও সহজেই মানুষের সঙ্গে ভাব জমায়।
এক গভীর জঙ্গলে রাণা নামের এক কাঠুরে বাস করত। একদিন জঙ্গলে কাজ করার সময় সে শুনতে পেল, একটি ছোট্ট খরগোশ বলছে, "রাণা ভাই, আমাকে বাঁচাও!" রাণা অবাক হয়ে দেখল খরগোশটি মানুষের মতো কথা বলছে। একটি শেয়াল খরগোশটিকে তাড়া করেছিল। রাণা তাকে উদ্ধার করল। এরপর থেকে জঙ্গলের পশুপাখিরা রাণাকে তাদের বন্ধু হিসেবে মেনে নিল। রোজ সকালে একটা ময়না পাখি এসে তাকে গান শুনিয়ে যেত আর খবর দিত জঙ্গলে কোথায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। ভাল্লুকরা রাণার সাথে বসে মানুষের ভাষায় গল্প করত এবং তাকে মধু এনে দিত। এইভাবেই রাণা ও জঙ্গলের পশুপাখিদের মধ্যে এক অদ্ভুত ও সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।
৮. ছবি দেখে বর্ণনা
২. সাহেবের চেহারায় কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই, তিনি খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ভাল্লুকটির সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, যা থেকে মনে হয় ইনিই রিউবেন ক্যাস্টাং।
৩. ভাল্লুকটির চোখেমুখেও কোনো হিংস্রতা নেই, বরং তাকে বেশ শান্ত ও কৌতূহলী মনে হচ্ছে।
৪. সাহেব হয়তো ভাল্লুকটির নিজস্ব ভাষায় বা বিশেষ ইশারায় তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছেন।
৫. ছবিটি প্রমাণ করে যে, সঠিক আদবকায়দা ও ভাষা জানা থাকলে বন্য ও ভয়ংকর জন্তুর সঙ্গেও সুন্দর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।