চল রে চল সবে

বিখ্যাত সুরকার ও নাট্যকার জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “চল রে চল সবে” গানের সম্পূর্ণ সারাংশ, শব্দার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🚩 চল রে চল সবে

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর গান

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE)

দেশপ্রেম হিন্দু-মুসলমান ঐক্য জাগরণের ডাক নব নব জ্ঞান

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪৯ - ১৯২৫)

তিনি ছিলেন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—একাধারে একজন বিখ্যাত নাট্যকার, সংগীতকার, সম্পাদক এবং চিত্রশিল্পী। কনিষ্ঠভ্রাতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের প্রতিভার বিকাশে এই মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সংগীতসংক্রান্ত গ্রন্থগুলির মধ্যে “স্বরলিপি গীতিমালা” অত্যন্ত বিখ্যাত। তিনি সংগীতবিষয়ক পত্রিকা “বীণাবাদিনী” এবং “সঙ্গীত প্রকাশিকা”-র সম্পাদক ছিলেন। তাঁর রচিত গানগুলি আজও গভীর দেশপ্রেম ও ঐক্যের বার্তা বহন করে।

🎶

গানের ধরন

দেশাত্মবোধক গান

✍️

রচয়িতা

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর

🤝

মূলভাব

দেশবাসীর ঐক্য ও জাগরণ

📚

বিষয়

মাতৃভূমির কল্যাণ সাধনা

গানের সম্পূর্ণ পাঠ

চল রে চল সবে ভারত সন্তান, মাতৃভূমি করে আহ্বান।
বীর দর্পে পৌরুষ গর্বে সাধ রে সাধ সবে দেশেরি কল্যাণ
পুত্র ভিন্ন মাতৃদৈন্য কে করে মোচন?
উঠ জাগ সবে, বলো মাগো, তব পদে সঁপিনু পরাণ।

এক তন্ত্রে কর তপ, এক মন্ত্রে জপ;
শিক্ষা দীক্ষা লক্ষ্য মোক্ষ এক, এক সুরে গাও সবে গান
দেশ দেশান্তে যাও রে আনতে নব নব জ্ঞান,
নব ভাবে নব উৎসাহে মাতো, উঠাও রে নবতর তান।

লোক-রঞ্জন লোক-গঞ্জন না করি দৃকপাত,
যাহা শুভ, যাহা ধ্রুব, ন্যায় তাহাতে জীবন কর দান।
দলাদলি সব ভুলি, হিন্দু মুসলমান,
এক পথে এক সাথে চল, উড়াইয়ে একতা নিশান।

সারাংশ ও মূলভাব

বিখ্যাত সুরকার ও নাট্যকার জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত “চল রে চল সবে” গানটি পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি অমূল্য দেশাত্মবোধক গান। এই গানে কবি ঘুমন্ত ভারতবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশমাতৃকা আজ বিপন্ন, তাই তাঁর দৈন্য বা দুঃখ মোচন করার দায়িত্ব দেশের সন্তানদেরই নিতে হবে। কবি বলেছেন, বীরের দর্পে এবং গর্বের সাথে দেশের কল্যাণ সাধন করতে হবে। দেশের সকলের লক্ষ্য, শিক্ষা এবং মোক্ষ বা মুক্তি যেন একটাই হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন নতুন জ্ঞান আহরণ করে নতুন উৎসাহে মেতে ওঠার ডাক দিয়েছেন তিনি। সমাজে কে প্রশংসা করল বা কে নিন্দা করল, তার দিকে নজর না দিয়ে যা কিছু শুভ, ধ্রুব ও ন্যায়সঙ্গত, তার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হবে। সর্বোপরি, সমস্ত ভেদাভেদ ও দলাদলি ভুলে, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে একতার পতাকা বা নিশান উড়িয়ে একপথে চলার মহান বার্তা এই গানের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থশব্দঅর্থ
দর্পেগর্বে / অহংকারেমোক্ষমুক্তি / চিরশান্তি
পৌরুষবীরত্ব / বিক্রমদৃকপাতদৃষ্টিপাত / ভ্রূক্ষেপ / পরোয়া
দৈন্যদুঃখ / অভাব / দারিদ্র্যরঞ্জনআনন্দ দেওয়া / প্রশংসা
মোচনদূর করাগঞ্জননিন্দা / তিরস্কার
সঁপিনুসমর্পণ করলাম / সঁপে দিলামধ্রুবস্থির / নিশ্চিত / অটল
পরাণপ্রাণ / জীবননিশানপতাকা

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

পরীক্ষার প্রস্তুতি

পাঠ্যবইয়ে এই গানের শেষে সরাসরি কোনো প্রশ্ন দেওয়া নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে কিছু সম্ভাব্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর নীচে দেওয়া হলো:

১ মাতৃভূমি কাদের আহ্বান করছে?
মাতৃভূমি তাঁর নিজের সন্তানদের অর্থাৎ সমস্ত ভারত সন্তানদের আহ্বান করছে।
২ মাতৃদৈন্য কে মোচন করবে বলে কবি মনে করেন?
কবির মতে, পুত্র অর্থাৎ দেশের যোগ্য সন্তানরাই পারে দেশমাতৃকার দৈন্য, দুঃখ বা পরাধীনতার গ্লানি মোচন করতে বা দূর করতে।
৩ কবি দেশবাসীকে কোথায় গিয়ে কী আনতে বলেছেন?
কবি দেশবাসীকে দেশ-দেশান্তে বা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে “নব নব জ্ঞান” অর্থাৎ নতুন নতুন শিক্ষা ও জ্ঞান আহরণ করে আনতে বলেছেন।
৪ “লোক-রঞ্জন লোক-গঞ্জন না করি দৃকপাত” — কথাটির অর্থ কী?
কথাটির অর্থ হলো, সাধারণ মানুষ বা সমাজ আমার কাজের প্রশংসা (রঞ্জন) করল নাকি নিন্দা (গঞ্জন) করল, সেই দিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ বা পরোয়া না করে এগিয়ে যাওয়া। দেশের মঙ্গলের জন্য যা কিছু শুভ ও ন্যায়, তাতেই নিঃস্বার্থভাবে জীবন দান করতে হবে।
৫ গানটিতে কবি কী ভুলে গিয়ে কাদের একপথে চলতে বলেছেন?
গানটিতে কবি সমস্ত রকম দলাদলি ও ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে হাতে হাত মিলিয়ে একতার পতাকা উড়িয়ে একপথে চলতে বলেছেন।
৬ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত দুটি সংগীতবিষয়ক পত্রিকার নাম লেখো।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত দুটি বিখ্যাত সংগীতবিষয়ক পত্রিকা হলো “বীণাবাদিনী” এবং “সঙ্গীত প্রকাশিকা”।

ব্যাকরণ (বিপরীত শব্দ)

মূল শব্দবিপরীত শব্দ
কল্যাণঅকল্যাণ
শুভঅশুভ
জ্ঞানঅজ্ঞান / মূর্খতা
ন্যায়অন্যায়
একতাবিচ্ছিন্নতা

গানের অন্তর্নিহিত শিক্ষা

“চল রে চল সবে” গানটি আমাদের শেখায় যে, দেশের স্বাধীনতা ও কল্যাণের জন্য ধর্ম, বর্ণ এবং দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজ বা লোকের কথায় কান না দিয়ে, যা কিছু ন্যায় ও সত্য, তার পক্ষ নিয়ে লড়াই করাই একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিকের কর্তব্য। পাশাপাশি, কূপমণ্ডূক না হয়ে সারা বিশ্ব থেকে নতুন জ্ঞান আহরণ করার আধুনিক শিক্ষাও এই গানে নিহিত রয়েছে।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

“চল রে চল সবে” দেশাত্মবোধক গানটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত সুরকার, নাট্যকার ও সম্পাদক জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।

গানের লাইন অনুযায়ী, “পুত্র ভিন্ন মাতৃদৈন্য কে করে মোচন?” অর্থাৎ দেশের সন্তান বা পুত্ররাই পারে মাতৃভূমির দুঃখ দূর করতে।

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অত্যন্ত বিখ্যাত একটি সংগীতসংক্রান্ত গ্রন্থের নাম হলো “স্বরলিপি গীতিমালা”।

কবি হিন্দু ও মুসলমানদের সমস্ত দলাদলি ভুলে গিয়ে একতার নিশান বা পতাকা উড়িয়ে একসঙ্গে দেশের কল্যাণের পথে চলতে বলেছেন।