ঝুমুর (গান)

পুরুলিয়ার প্রখ্যাত শিল্পী দুর্যোধন দাস রচিত 'ঝুমুর' গানের সম্পূর্ণ সারাংশ, শব্দার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 23 August 2026

🪘 ঝুমুর (গান)

দুর্যোধন দাস লোকগীতি

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE)

পুরুলিয়া বারোমাস্যা গ্রামীণ ফলমূল লোকসংস্কৃতি

দুর্যোধন দাস (জন্ম: ১৮৬১)

তাঁর জন্ম ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে পুরুলিয়া জেলার বাঘমুণ্ডী থানার শ্যামনগর গ্রামে। বাবা শত্রুঘ্ন দাস ছিলেন জমিদার বিচন্দিত সিং-এর দেওয়ান। রামকৃষ্ণ গাঙ্গুলীর দলে ঢোলবাদক হিসেবে জীবন শুরু করে পরে ঝুমুর এবং নাচনির তিনজন প্রবাদপুরুষদের মধ্যে একজনে পরিণত হন। তিনি বাঘমুণ্ডী রাজবাড়ির সঙ্গে আজীবন যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবাদটি হলো: "রামকৃষ্ণের গলা, অজমতের চলা, দুর্যোধনের বলা"।

🎶

ধরন

ঝুমুর (লোকগীতি)

✍️

রচয়িতা

দুর্যোধন দাস

🌾

মূলভাব

ঋতু ও খাদ্যাভ্যাস

🥁

অঞ্চল

মানভূম / পুরুলিয়া

গানের সম্পূর্ণ পাঠ

মাঘ মাসে সিম মিঠা
খুখড়ির ডিম গো
ফাগুনেতে, মিঠা বাগানের নিম।

চৈত মাসে শ্রীফল মিঠা,
খাঞে ছিল রাম গো
বৈশাখেতে, মিঠা গেঁতি মাছে আম গো।।

জ্যৈষ্ঠ মাসে আম মিঠা
আষাঢ়ে কাঁঠাল গো,
বনবাসে, খাল্য কৌশল্যা দুলাল গো॥

দাস দুর্যোধন ভনে,
দহি মিঠা শ্রাবণে,
ভাদর মাসে, মিঠা পাকাতাল দু-গুণ গো।

সারাংশ ও মূলভাব

ঝুমুর রাঢ় বাংলা বা পুরুলিয়া অঞ্চলের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকসংগীতের ধারা। প্রখ্যাত ঝুমুর শিল্পী দুর্যোধন দাস তাঁর এই গানে গ্রামবাংলার বারো মাসের (বিশেষত আটটি মাসের) বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার ও প্রকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন। একে সাহিত্যে বারোমাস্যা বলা যেতে পারে।

গানে বলা হয়েছে— মাঘ মাসে শিম ও দেশি মুরগির ডিম খেতে খুব সুস্বাদু লাগে, আবার ফাল্গুন মাসে বাগানের কচি নিমের স্বাদ অপূর্ব। চৈত্র মাসে শ্রীফল বা বেল মিষ্টি লাগে, যা স্বয়ং রামচন্দ্র খেয়েছিলেন। বৈশাখে কাঁচা আমের সাথে গেঁতি মাছ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে যথাক্রমে পাকা আম ও কাঁঠালের স্বাদ অনবদ্য (যে ফলগুলি বনবাসের সময় কৌশল্যার পুত্র রামচন্দ্র খেয়েছিলেন)। কবি দুর্যোধন দাস আরও বলেছেন যে, শ্রাবণ মাসে দই এবং ভাদ্র মাসে পাকা তাল দ্বিগুণ মিষ্টি বা সুস্বাদু হয়ে ওঠে। এটি মূলত বাংলার গ্রামীণ জীবনের খাদ্যাভ্যাস ও প্রকৃতির সহজ-সরল রূপের এক অপূর্ব চিত্র।

শব্দার্থ (আঞ্চলিক শব্দের অর্থ)

শব্দঅর্থশব্দঅর্থ
সিমশিম (সবজি বিশেষ)খুখড়িদেশি মুরগি (স্থানীয় শব্দ)
মিঠামিষ্টি / সুস্বাদুফাগুনেতেফাল্গুন মাসে
শ্রীফলবেলখাঞেখেয়ে
গেঁতি মাছএক ধরনের দেশি ছোট মাছখাল্যখেল বা খেয়েছিল
কৌশল্যা দুলালরামচন্দ্র (কৌশল্যার পুত্র)ভনেবলে / রচনা করে
দহিদইপাকাতালপাকা তাল

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

পরীক্ষার প্রস্তুতি

পাঠ্যবইয়ে এই গানের শেষে সরাসরি কোনো প্রশ্ন দেওয়া নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে কিছু সম্ভাব্য ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর নীচে দেওয়া হলো:

১ মাঘ ও ফাল্গুন মাসে কোন কোন জিনিস মিষ্টি বা সুস্বাদু লাগে বলে কবি জানিয়েছেন?
কবি দুর্যোধন দাসের মতে, মাঘ মাসে শিম এবং দেশি মুরগির (খুখড়ি) ডিম মিষ্টি বা সুস্বাদু লাগে। অন্যদিকে ফাল্গুন মাসে বাগানের নিমের স্বাদ মিষ্টি লাগে।
২ 'খাঞে ছিল রাম গো'— রামচন্দ্র কী খেয়েছিলেন বলে গানে উল্লেখ আছে?
গানে উল্লেখ আছে যে, চৈত্র মাসে 'শ্রীফল' বা বেল খুব মিষ্টি হয় এবং বনবাসের সময় ভগবান রামচন্দ্র সেই শ্রীফল খেয়েছিলেন।
৩ বৈশাখ মাসে কোন খাবারটি খাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
বৈশাখ মাসে কাঁচা আমের সাথে 'গেঁতি মাছ' (এক প্রকার ছোট দেশি মাছ) খাওয়ার কথা গানে বলা হয়েছে।
৪ 'কৌশল্যা দুলাল' কে? তিনি বনবাসে কোন কোন মাসের ফল খেয়েছিলেন?
'কৌশল্যা দুলাল' বলতে অযোধ্যার রানি কৌশল্যার পুত্র ভগবান রামচন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।
বনবাসের সময় তিনি জ্যৈষ্ঠ মাসে আম এবং আষাঢ় মাসে কাঁঠাল খেয়েছিলেন বলে গানে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে কোন কোন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি পায়?
গানের শেষ স্তবকে কবি দুর্যোধন দাস জানিয়েছেন যে, শ্রাবণ মাসে 'দহি' অর্থাৎ দই খুব মিষ্টি লাগে এবং ভাদ্র মাসে পাকা তালের স্বাদ যেন দ্বিগুণ মিষ্টি হয়ে ওঠে।
৬ 'ঝুমুর' কী? এই গানটি কোন অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির অংশ?
'ঝুমুর' হলো এক প্রকার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত বা লোকগীতি। এটি মূলত রাঢ় বাংলা, বিশেষত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড ও বিহারের কিছু অঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকসংস্কৃতির অংশ।

লোকসংস্কৃতির ছোঁয়া

"ঝুমুর" গানটির মধ্যে দিয়ে আমরা শুধু প্রাচীন বাংলার খাদ্যাভ্যাসই জানতে পারি না, এর মধ্য দিয়ে রাঢ় বাংলার মাটির গন্ধ ও সহজ-সরল জীবনের ছবি ফুটে ওঠে। মাসের সঙ্গে খাবারের এই সম্পর্ককে সাহিত্যের ভাষায় বারোমাস্যা বলা হয়, যা আমাদের লোকসংস্কৃতির এক অমূল্য রত্ন।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'ঝুমুর' গানটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত ঝুমুর শিল্পী দুর্যোধন দাস। তিনি মূলত পুরুলিয়া জেলার বাঘমুণ্ডী থানার শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এই গানে 'কৌশল্যা দুলাল' বলতে অযোধ্যার রানি কৌশল্যার পুত্র অর্থাৎ ভগবান রামচন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।

গানের বর্ণনা অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসে দই (দহি) এবং ভাদ্র মাসে পাকা তাল দ্বিগুণ মিষ্টি বা সুস্বাদু লাগে।

এই ঝুমুর গানটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি লোকগীতি।