🌤️ মন-ভালো-করা
শক্তি চট্টোপাধ্যায়
কবিতা
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • চতুর্থ পাঠ
রোদ্দুর
মাছরাঙা
রঙের খেলা
প্রকৃতি
শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩ - ১৯৯৫)
বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় কবি। তাঁর জন্ম দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে। পড়াশুনো করেছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম 'হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য'। তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হলো: 'ধর্মে আছি জিরাফেও আছি', 'হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান', 'সোনার মাছি খুন করেছি', 'যেতে পারি কিন্তু কেন যাব'। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস হলো 'কুয়োতলা' এবং 'অবনী বাড়ি আছো?'। সাহিত্যের অসামান্য অবদানের জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেছেন।
🎨
মূলভাব
প্রকৃতির রঙের সৌন্দর্য
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর "মন-ভালো-করা" কবিতায় প্রকৃতির এক অপরূপ বর্ণময় রূপ তুলে ধরেছেন। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে গাছের ডালে বসা একটি মাছরাঙা পাখির গায়ের বিচিত্র রঙের সঙ্গে কবি মন-ভালো-করা রোদ্দুরের অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। মাছরাঙার গায়ে যেমন হ্রস্ব-দীর্ঘ নীল, লাল, হলুদ এবং সবুজাভ রঙের শান্ত অথচ তীব্র ছটা দেখা যায়, ঠিক তেমনি মিষ্টি রোদ্দুরও যেন আমাদের চারপাশের প্রকৃতিকে ঐসব রঙিন আলোয় ভরিয়ে দেয়। হাওয়ায় যখন পাতা নড়ে এবং পাখির গায়ে আলো-হাওয়া এসে পড়ে, তখন প্রকৃতির সেই অপূর্ব শোভা মানুষের মনকে অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে তোলে।
| শব্দ | অর্থ |
| হ্রস্ব | ছোট, ক্ষুদ্র |
| দীর্ঘ | লম্বা, বড়ো |
| নীল-নীলান্ত | নীল রঙের বিশাল বিস্তার বা ছটা |
| খর | তীব্র, প্রখর, ধারালো |
| শান্ত | স্থির, ধীর, প্রশান্ত |
| হরিদ্রা | হলুদ রং |
| সবুজাভ | সবুজ রঙের আভা আছে যার (সবুজ ভাব) |
হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)
১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:
১.১ শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন?
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র ছিলেন।
১.২ তাঁর রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো。
তাঁর রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের নাম হলো— 'হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য' এবং 'ধর্মে আছি জিরাফেও আছি'।
২. বিপরীতার্থক শব্দ লিখে বাক্যরচনা করো
| প্রদত্ত শব্দ | বিপরীত শব্দ | বাক্য রচনা |
| হ্রস্ব | দীর্ঘ | গ্রীষ্মকালে দিন দীর্ঘ এবং রাত ছোটো হয়। |
| খর | মৃদু / শান্ত | সন্ধেবেলায় নদীর ধারে মৃদু হাওয়া বইছিল। |
| শান্ত | অশান্ত / দুরন্ত | শ্রাবণ মাসে নদীর রূপ অত্যন্ত অশান্ত হয়ে ওঠে। |
৩. নীচের শব্দগুলি কোন মূল শব্দ থেকে এসেছে লেখো
রোদ্দুর মূল শব্দ: রৌদ্র (বা রোদ)
গা মূল শব্দ: গাত্র
৪. সমার্থক শব্দবন্ধ রচনা ও বাক্যে প্রয়োগ
প্রশ্ন: 'হাওয়ায়-বাতাসে পাতারাও নড়ে'- হাওয়া-বাতাসের মতো একই অর্থবোধক পাঁচটি শব্দবন্ধ রচনা করে স্বাধীন বাক্যে প্রয়োগ করো।
- মাঠ-ময়দান: বিকেলবেলা গ্রামের ছেলেরা মাঠ-ময়দানে খেলাধুলো করে।
- পাহাড়-পর্বত: নেপাল হলো পাহাড়-পর্বতের দেশ।
- নদী-নালা: বর্ষার প্রবল বৃষ্টিতে চারিদিকের নদী-নালা জলে ভরে গেছে।
- চিঠি-পত্র: অনেকদিন হলো দাদার কোনো চিঠি-পত্র পাইনি।
- কাজ-কর্ম: ছুটির দিনে বাড়িতে কোনো কাজ-কর্ম করতে ইচ্ছে করে না।
৫. একাধিক শব্দবন্ধ তৈরি করো
প্রশ্ন: 'মন-ভালো-করা,' 'নীল-নীলান্ত'র মতো একাধিক শব্দবন্ধ তৈরি করো।
চোখ-ধাঁধানো
প্রাণ-জুড়ানো
বুক-কাঁপানো
মন-কেমন-করা
লাল-লালাভ
সবুজ-সবুজান্ত
'মন-ভালো-করা-রোদ্দুর কেন / মাছরাঙাটির গায়ের মতন?'
গদ্যরূপ: মন-ভালো-করা রোদ্দুর কেন মাছরাঙাটির গায়ের মতন (হয়)?
৭. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর লেখো
৭.১ কবিতায় কবিমনে কোন কোন প্রশ্ন জেগেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: 'মন-ভালো-করা' কবিতায় কবির মনে প্রধানত এই প্রশ্নটিই জেগেছে যে, চারপাশের সুন্দর মন-ভালো-করা রোদ্দুরের রং কেন মাছরাঙা পাখির গায়ের রঙের মতো হয়? মাছরাঙার গায়ে হ্রস্ব-দীর্ঘ নীল রং, প্রখর ও শান্ত লাল, হলুদ এবং সবুজাভ রঙের যে বিচিত্র সমাহার বা মিশ্রণ রয়েছে, তা মিষ্টি রোদ্দুরের রঙের সঙ্গে কীভাবে হুবহু মিলে যায়—এটাই হলো কবির মনের প্রধান জিজ্ঞাসা।
৭.২ মন-ভালো-করা রোদ্দুরকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: মন-ভালো-করা মিষ্টি রোদ্দুরকে কবি গাছের ডালে বসে থাকা একটি ছোট্ট রঙিন মাছরাঙা পাখির গায়ের বিচিত্র রঙের সঙ্গে তুলনা করেছেন। মাছরাঙার গায়ের নীল, লাল, হলুদ রঙের যে উজ্জ্বল ছটা, তা যেন ওই রোদ্দুরের আভার মতোই মনকে আনন্দ দেয়।
৭.৩ মাছরাঙা পাখির রং কবির চোখে কীভাবে ধরা পড়েছে?
উত্তর: কবির চোখে মাছরাঙা পাখির গায়ের রং এক অপূর্ব বর্ণময় এবং বিচিত্র রূপ নিয়ে ধরা পড়েছে। তার গায়ে আছে হ্রস্ব ও দীর্ঘ নীল রঙের বিশাল বিস্তার বা নীল-নীলান্ত, যা কোথাও খুব তীব্র (খর) আবার কোথাও খুব শান্ত। এর পাশাপাশি মাছরাঙার গায়ে লাল, হরিদ্রা (হলুদ) এবং সবুজাভ রঙের মিশ্রণও কবির মুগ্ধ চোখে ধরা পড়েছে।
৭.۴ গাছের ডালে বসা মাছরাঙা পাখিটি কীভাবে কবিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে তা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: গাছের ডালে বসে থাকা মাছরাঙা পাখিটির গায়ে যখন সূর্যের মিষ্টি আলো এসে পড়ে এবং হাওয়া-বাতাসে যখন চারপাশের পাতাগুলি নড়ে ওঠে, তখন এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আলো ও বাতাস মাখা সেই পরিবেশে মাছরাঙার গায়ের নীল, লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের যে অপূর্ব উজ্জ্বল ছটা ফুটে ওঠে, তা কবির কল্পনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখেই তিনি চারপাশের মন-ভালো-করা রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশের সঙ্গে মাছরাঙার গায়ের রঙের এক অদ্ভুত সাদৃশ্য বা মিল খুঁজে পেয়েছেন।
কবিতার মূল সুর
"মন-ভালো-করা" কবিতাটি আমাদের প্রকৃতির মধ্যে ছড়িয়ে থাকা রূপ ও রঙের সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেখায়। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় অতি সাধারণ একটি দৃশ্য—একটি মাছরাঙা পাখি এবং মিষ্টি রোদ—এর মধ্যে দিয়ে প্রকৃতির এক অসাধারণ বর্ণময় রূপ তুলে ধরেছেন। প্রকৃতি যে আমাদের মনকে কীভাবে শান্ত ও আনন্দে ভরিয়ে তুলতে পারে, এই ছোট্ট কবিতাটি তারই এক সুন্দর দৃষ্টান্ত।