✉️ চিঠি
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • অষ্টম পাঠ
কবিতা
চিঠি
কবি
জসীমউদ্দীন
মূলভাব
প্রকৃতি ও মানুষের বন্ধন
পাঠ
অষ্টম পাঠ
কবিতার সারাংশ
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তাঁর "চিঠি" কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের কাছ থেকে পাওয়া অলিখিত চিঠির বর্ণনা দিয়েছেন। প্রকৃতির প্রতিটি রূপ ও শব্দ যেন কবির কাছে এক একটি বার্তার মতো এসে পৌঁছায়। ভোরের লাল মোরগের ডাক, নদীর চরের চখাচখি, গাঙশালিক, বাবুই পাখির বোনা বাসা, বর্ষার মেঘের ডাক এবং বৃষ্টির জলে মেতে ওঠা সবুজ পাতা—সবাই যেন কবিকে চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত প্রাকৃতিক বার্তার পাশাপাশি যখন তিনি তাঁর আদরের খোকা ভাইয়ের লেখা একটি স্নেহের চিঠি পান, তখন তাঁর মন আনন্দে ভরে ওঠে। খোকা ভাইয়ের সেই চিঠিটি তাঁর কাছে শীতের ভোরের মিষ্টি রোদের মতো আরামদায়ক মনে হয়। সেই চিঠির আনন্দ কবির নিরালা বা নির্জন মনে খুশির নূপুরের মতো বাজতে থাকে।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| চখাচখি | স্ত্রী ও পুরুষ চক্রবাক একত্রে, হাঁস জাতীয় পরিযায়ী পাখিবিশেষ। |
| গাঙ | নদী। |
| সোঁতে | স্রোতে (এই কবিতায়)। |
| কোড়াকুড়ী | স্ত্রী ও পুরুষ জলচর পাখি একত্রে। |
| দেয়া | মেঘ। |
| নিরালা | নির্জন। |
| ঊষা | ভোর। |
হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)
১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:
২. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
৩. ধ্বনির অনুকরণে তৈরি শব্দ (Onomatopoeia)
প্রশ্ন: কবিতা থেকে এমন তিনটি শব্দ খুঁজে বের করো যা কোনও ধ্বনির অনুকরণে তৈরি। একটি উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন - কল কল।
৪. শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দ নিয়ে শূন্যস্থানে বসাও
প্রদত্ত শব্দ: রঙিন, গঙ্গা, ক্রন্দন, সোঁতে | শব্দঝুড়ি: স্রোতে, রঙ্গিন, কাঁদন, গাঙ
| মূল শব্দ | শব্দঝুড়ি থেকে নেওয়া শব্দ |
|---|---|
| রঙিন | রঙ্গিন |
| গঙ্গা | গাঙ |
| ক্রন্দন | কাঁদন |
| সোঁতে | স্রোতে |
৫. বহুবচনের ভাব বোঝাতে শব্দের দ্বিত্ব প্রয়োগ
প্রশ্ন: 'ঢেউ-এ ঢেউ-এ' এখানে একই শব্দ পরপর দু'বার ব্যবহারে বহু বচনের ভাব তৈরি হয়েছে। এই কবিতাটি থেকে এমন আরও তিনটি অংশ উদ্ধৃত করো।
- লিখে গেছে কত কী কী! (বহু সংখ্যক বিষয় বোঝাতে)
- পাখিরা সব ঝাঁকে ঝাঁকে (অনেক পাখির ঝাঁক বোঝাতে)
- আকাশ জুড়ে মেঘের কাঁদন গুরু গুরু দেয়ার ডাকে (একটানা মেঘের গর্জন বোঝাতে)
৬. সম্বন্ধ পদের প্রয়োগ (পরপর দু'বার 'র' বা 'এর' বিভক্তি)
প্রশ্ন: 'গাঙের পাড়ের মোড়ল' - শব্দবন্ধটিতে পরপর দু'বার '-এর' সম্বন্ধ বিভক্তি এসেছে। কবিতা থেকে এমন আরও শব্দবন্ধ খুঁজে বের করো।
৭. 'কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া'- পদক্রম অনুসারে বাক্য পুনর্গঠন
| প্রদত্ত বাক্য (কবিতার লাইন) | কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া পদক্রমে সজ্জিত বাক্য |
|---|---|
| ৭.১ লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে। | গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে লিখে গেছে। |
| ৭.২ ইহার সাথে পেলুম আজি খোকা ভাই-এর একটি চিঠি। | আজি ইহার সাথে খোকা ভাই-এর একটি চিঠি পেলুম। |
| ৭.৩ সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে। | সবুজ পাতার আসরগুলি জল-ধারায় মেতে নাচছে। |
| ৭.৪ উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন বা চাইছে কাকে। | উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন বা কাকে চাইছে। |
| ৭.৫ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিঠি। | লেখনখানি শীতের ভোরের রোদের মতো মিঠি লাগছে। |
৮. বাক্য ভেঙে দুটি বাক্যে পরিণত করো
| প্রদত্ত বাক্য | দুটি পৃথক বাক্য |
|---|---|
| ৮.১ চিঠি পেলুম লাল মোরগের ভোর-জাগানোর সুরভরা। | লাল মোরগ চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠি ভোর-জাগানোর সুরভরা। |
| ৮.২ সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে। | সবুজ পাতার আসরগুলি বসেছে। তারা জল-ধারায় মেতে নাচছে। |
| ৮.৩ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিঠি। | লেখনখানি শীতের ভোরের রোদের মতো। তা বড়ো মিঠি লাগছে। |
| ৮.৪ আকাশ জুড়ে মেঘের কাঁদন গুরু গুরু দেয়ার ডাকে। | আকাশ জুড়ে গুরু গুরু দেয়ার ডাক শোনা যাচ্ছে। তা যেন মেঘের কাঁদন। |
| ৮.৫ লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে। | গাঙশালিক গাঙের পাড়ের মোড়ল হবে। এই কথা লিখে গেছে। |
৯. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর লেখো
• লাল মোরগ: লাল মোরগের চিঠিটি ছিল ভোর-জাগানো সুরে ভরা এবং তার পাখায় যেন ভোরের হাসির রং মাখানো।
• চখাচখি: চখাচখিরা বালুচরের ঝিকিমিকি এবং বর্ষার ঢেউয়ে লেখা চিঠি পাঠিয়েছে।
• গাঙশালিক: গাঙশালিকের চিঠিতে নদীর পাড়ের মোড়ল হওয়ার বার্তা ছিল।
• বাবুই পাখি: বাবুই পাখির চিঠিটি ছিল ধান ও তালের পাতায় সুন্দর নকশা করে বোনা।
• কোড়াকুড়ী: বর্ষার ফসল-খেতে সবুজ পাতার আসরে বৃষ্টির জলধারায় মেতে ওঠার বার্তা এনেছে কোড়াকুড়ীর চিঠি।
• মেঘ ও বাতাস: আকাশ জুড়ে গুরু গুরু মেঘের ডাক যেন তার কান্নার চিঠি, এবং উদাস বাতাস আছড়ে পড়ে জানিয়েছে যেন কেউ কাউকে খুঁজছে।
শীতকালে সকালবেলার রোদ যেমন মানুষের শরীর ও মনকে আরাম দেয়, তেমনি বর্ষার মেঘলা দিনে খোকা ভাইয়ের স্নেহের চিঠি কবির মনকে শান্ত ও উষ্ণ করেছে। আবার, একাকী নির্জনতায় নূপুরের মিষ্টি শব্দ যেমন আনন্দ এনে দেয়, খোকা ভাইয়ের রঙিন হাতের লেখা সেই চিঠিটিও কবির নিরালা বা একাকী জীবনে চরম খুশির ঝংকার তুলেছে। এই উপমাগুলি চিঠির পবিত্রতা, আনন্দ ও মাধুর্যকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
তারিখ: ২০ জুন ২০২৪
আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে আমার জীবনের একটা খুব আনন্দের ঘটনার কথা জানাব। গত সপ্তাহে আমাদের স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল। তুই তো জানিস দৌড়তে আমি কতটা ভালোবাসি! এবার আমি ২০০ মিটার দৌড়ে স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়েছি। যখন মাইকে আমার নাম ঘোষণা করা হলো এবং প্রধান শিক্ষক মহাশয় আমার হাতে সোনার মেডেল তুলে দিলেন, তখন আমার চোখের জল বাঁধ মানছিল না। বাবা-মা গ্যালারিতে বসে হাততালি দিচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তটা আমি জীবনেও ভুলতে পারব না।
তুই কেমন আছিস জানাস। পুজোর ছুটিতে তোর আসার অপেক্ষায় রইলাম।
তোর প্রিয় বন্ধু
অয়ন