ঘাস ফড়িং

অরুণ মিত্র রচিত 'ঘাস ফড়িং' কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর, সারাংশ, শব্দার্থ ও ব্যাকরণ সমাধান | ষষ্ঠ শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 20 November 2025 Last Update: 03 June 2026

🦗 ঘাস ফড়িং

অরুণ মিত্র কবিতা

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (ষষ্ঠ শ্রেণি, WBBSE) • ষষ্ঠ পাঠ

ঘাসফড়িং ঝিরঝির বৃষ্টি নতুন আত্মীয়তা প্রকৃতিপ্রেম

অরুণ মিত্র (১৯০৯ - ২০০০)

কবি অরুণ মিত্রের জন্মস্থান বাংলাদেশের যশোহর জেলা। পিতা হীরালাল মিত্র এবং মাতা যামিনীবালা মিত্র। তিনি ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং দীর্ঘকাল ফ্রান্সে অতিবাহিত করেছেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো: 'প্রান্তরেখা', 'ঘনিষ্ঠ তাপ', 'শুধু রাতের শব্দ নেই', 'খুঁজতে খুঁজতে এতদূর', 'শেষ সরাইখানা' এবং 'ফরাসি সাহিত্য প্রসঙ্গে' ইত্যাদি। নিজস্ব মৌলিক রচনার পাশাপাশি তিনি বহু প্রাচীন সাহিত্যের সার্থক অনুবাদও করেছেন।

📖

কবিতা

ঘাস ফড়িং

✍️

কবি

অরুণ মিত্র

🌱

মূলভাব

প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা

📚

পাঠ

ষষ্ঠ পাঠ

কবিতার সারাংশ

অরুণ মিত্র রচিত "ঘাসফড়িং" কবিতায় প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর টান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। এক পশলা ঝিরঝিরে বৃষ্টির পর কবি যখন ভিজে ঘাসের ওপর পা রাখেন, তখন একটি ছোট ঘাসফড়িংয়ের সঙ্গে তাঁর গলায় গলায় ভাব বা নতুন আত্মীয়তা গড়ে ওঠে। ঘাসফড়িংটি সবুজ মাথা তুলে কবিকে কত খেলাই না দেখায়! কিন্তু তাকে ছেড়ে যখন কবিকে ঘরে ফিরে আসতে হয়, তখন তাঁর মন খুবই খারাপ হয়ে যায়। তিনি ঘাসফড়িংটিকে কথা দিয়ে আসেন যে তিনি আবার ফিরে যাবেন। ঘরে ফিরেও কবির মনে হতে থাকে তাঁর ঘরের সব দরজাই যেন সেই প্রকৃতির সবুজে সবুজ হয়ে উঠেছে। তাই আবার যখন বৃষ্টি নামে, তখন প্রকৃতির টানে, ঘাসফড়িংয়ের টানে কবিকে সেই ভিজে ঘাসের ওপর আবার ছুটে যেতেই হয়।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থ
আত্মীয়তাকুটুম্বিতা, আপনজন হওয়ার সম্পর্ক
ঝিরঝির বৃষ্টিমৃদু বৃষ্টিপাত, হালকা বৃষ্টি
ভাববন্ধুত্ব, সখ্যতা

হাতে কলমে (অনুশীলনীর সম্পূর্ণ উত্তর)

১. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১.১ কবি অরুণ মিত্র কোন বিদেশি ভাষায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন?
কবি অরুণ মিত্র ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
১.২ তাঁর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।
তাঁর লেখা দুটি কবিতার বই হলো— 'প্রান্তরেখা' এবং 'ঘনিষ্ঠ তাপ'।

২. বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশ আলাদা করে দেখাও

বাক্যউদ্দেশ্য অংশ (Subject)বিধেয় অংশ (Predicate)
২.১ ভাব না করে পারতামই না আমরা।আমরাভাব না করে পারতামই না।
২.২ সবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখাল ঘাসফড়িং।ঘাসফড়িংসবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখাল।
২.৩ আমার ঘরের দরজা এখন সবুজে সবুজ।আমার ঘরের দরজাএখন সবুজে সবুজ।
২.৪ ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার।আমাকেভিজে ঘাসের ওপর যেতেই হবে আবার।

৩. অনুচ্ছেদ তৈরি করো

প্রদত্ত শব্দ: ভাব, ভিজে, নতুন, আত্মীয়তা, মনখারাপ, সবুজ, ঝিরঝির।
অনুচ্ছেদ:
খোলা মাঠের সঙ্গে আমার ভারি ভাব। বিশেষ করে তার উপরে গালচের মতো সবুজ ঘাস যখন ভিজে থাকে। যেন একটা নতুন পৃথিবীর মধ্যে দিয়ে আমি হেঁটে যাচ্ছি। ঝিরঝির বৃষ্টির পর সেই মাঠে গেলেই ঘাসফড়িং ও প্রজাপতিদের সঙ্গে আমার এক অদ্ভুত আত্মীয়তা তৈরি হয়ে যায়। সন্ধে হয়ে এলে যখন তাদের ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হয়, তখন আমার খুবই মনখারাপ হয়ে যায়।

৪. পদ পরিবর্তন (বিশেষ্য ⇄ বিশেষণ)

বিশেষ্য শব্দগুলিকে বিশেষণে এবং বিশেষণ শব্দগুলিকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো:

মূল শব্দ (পদ)পরিবর্তিত রূপ (পদ)
আত্মীয়তা (বিশেষ্য)আত্মীয় (বিশেষণ)
ঘাস (বিশেষ্য)ঘেসো (বিশেষণ)
সবুজ (বিশেষণ)সবুজত্ব / সবুজাভ (বিশেষ্য)
নতুন (বিশেষণ)নতুনত্ব (বিশেষ্য)

৫. নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো

প্রদত্ত বাক্যনির্দেশপরিবর্তিত বাক্য
৫.১ সবুজ মাথা তুলে কত খেলা দেখাল ঘাসফড়িং।(যৌগিক বাক্যে)ঘাসফড়িং সবুজ মাথা তুলল এবং কত খেলা দেখাল।
৫.২ একটা ঘাসফড়িং-এর সঙ্গে আমার গলায় গলায় ভাব হয়েছে।(জটিল বাক্যে)এমন একটা ঘাসফড়িং আছে, যার সঙ্গে আমার গলায় গলায় ভাব হয়েছে।
৫.৩ যেই ঝিরঝির বৃষ্টি থেমেছে অমনি আমি ভিজে ঘাসে পা দিয়েছি।(সরল বাক্যে)ঝিরঝির বৃষ্টি থামলেই আমি ভিজে ঘাসে পা দিয়েছি।
৫.৪ আমার ঘরের দরজা এখন সবুজে সবুজ।(যৌগিক বাক্যে)এটা আমার ঘরের দরজা এবং তা এখন সবুজে সবুজ।

৬. শব্দবিভক্তি এবং অনুসর্গ খুঁজে লেখো

বাক্যঅনুসর্গশব্দবিভক্তি (যুক্ত পদ)
৬.১ তার কাছ থেকে চলে আসার সময় আমার কী মনখারাপ।থেকেকাছ+এ (এ), সময়+এ (উহ্য/০), আমা+র (র)
৬.২ আমি কথা দিয়ে এসেছি।দিয়েআমি (০), কথা (০)
৬.৩ ঝিরঝির বৃষ্টির পর আমি ভিজে ঘাসে পা দিয়েছি।পরবৃষ্টি+র (র), ঘাস+এ (এ), পা+য় (০)
৬.৪ ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার।ওপরঘাস+এর (এর), আমা+কে (কে)

৭. নিজের ভাষায় বড়ো প্রশ্নের উত্তর লেখো

৭.১ কবির সঙ্গে ঘাসফড়িং-এর নতুন আত্মীয়তা কীভাবে গড়ে উঠল?
উত্তর: এক পশলা ঝিরঝির বৃষ্টির পর ভিজে ঘাসে পা দেওয়ামাত্রই প্রকৃতির সতেজ রূপের সঙ্গে কবির একাত্মতা ঘটে যায়। সেই ভিজে ঘাসে থাকা একটি ছোট ঘাসফড়িংয়ের সঙ্গে কবির এক অকৃত্রিম বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এইভাবেই প্রকৃতির বুক থেকে ঘাসফড়িংয়ের সাথে কবির নতুন আত্মীয়তা তৈরি হয়।
৭.২ কবির কৌতূহল ও ভালোলাগায় ঘাসফড়িং কীভাবে সাড়া দিল বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: কবি ঘাসফড়িংটিকে দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন, ঘাসফড়িংটিও যেন সেই ভালোবাসা বুঝতে পেরেছিল। সে তার ছোট্ট সবুজ মাথাটি তুলে এদিক ওদিক লাফিয়ে কবিকে নানা রকম খেলা দেখিয়ে কবির কৌতূহল ও ভালোলাগায় সাড়া দিয়েছিল বলে আমার মনে হয়।
৭.৩ ঘাস ফড়িং-এর কাছ থেকে চলে আসার সময় কবির মন খারাপ হলো কেন বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ঘাসফড়িংটির সাথে কবির গলায় গলায় ভাব বা গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। তার সাথে কাটানো সুন্দর আনন্দময় মুহূর্তগুলি ছেড়ে যখন কবিকে নিজ গৃহে ফিরে আসতে হয়, তখন বন্ধুবিচ্ছেদের গভীর বেদনায় কবির মন খারাপ হয়।
৭.৪ 'বলে এলাম আমি আবার আসব'- পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে?
উত্তর: এই পঙক্তির মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি কবির প্রবল টান এবং তার সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। ঘাসফড়িং অর্থাৎ প্রকৃতির সেই অকৃত্রিম সৌন্দর্যের কাছে তিনি যে বারবার ফিরে যেতে চান এবং প্রকৃতিকে ভুলতে পারেন না, তা স্পষ্ট হয়েছে।
৭.৫ 'আমার ঘরের দরজা এখন সবুজে সবুজ।'- কবির এরূপ সবুজের সমারোহ দেখার কারণ কী?
উত্তর: ঘাসফড়িংটির সাথে কবির এমন আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল যে, ঘরে ফিরে এলেও কবির মন জুড়ে ছিল সেই ঘাসফড়িং এবং সবুজ প্রকৃতির স্মৃতি। সেই তীব্র ভালোলাগার আবেশেই তাঁর চোখের সামনে চারপাশটা সবুজ হয়ে উঠেছিল, এমনকি ঘরের দরজাকেও তাঁর সবুজে সবুজ বলে মনে হচ্ছিল।
৭.৬ 'ভিজে ঘাসের ওপর আমাকে যেতেই হবে আবার।'- কোন 'ভিজে ঘাসের ওপর' কবিকে ফিরতেই হবে? সেখানে তিনি যেতে চান কেন?
উত্তর: ঝিরঝির বৃষ্টির পর যে ভিজে ঘাসের ওপর ঘাসফড়িংটির সাথে কবির বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তা হয়েছিল, সেই ভিজে ঘাসের ওপরই তাঁকে ফিরতে হবে।
কবি সেখানে যেতে চান কারণ তিনি তাঁর প্রিয় বন্ধু ঘাসফড়িংটিকে কথা দিয়ে এসেছিলেন যে তিনি আবার আসবেন। প্রকৃতির প্রবল টানই তাঁকে সেখানে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
৭.৭ প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার নিবিড় টান কীভাবে কবি অরুণ মিত্রের 'ঘাসফড়িং' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো。
উত্তর: 'ঘাসফড়িং' কবিতায় ঘাসফড়িং হলো সমগ্র সবুজ প্রকৃতির প্রতীক। ঝিরঝির বৃষ্টির পর ভিজে ঘাসে পা রেখে কবি প্রকৃতির সাথে গভীর আত্মীয়তা অনুভব করেছেন। একটি ছোট ঘাসফড়িংয়ের সাথে তাঁর গলায় গলায় ভাব হওয়া, তাকে ছেড়ে আসতে মন খারাপ হওয়া, ঘরের পরিবেশেও সবুজের সমারোহ দেখা এবং পুনরায় বৃষ্টি এলেই তার কাছে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি—এই সবকিছুর মধ্য দিয়েই প্রকৃতির প্রতি কবির এক নিবিড়, গভীর ও অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে।

কবিতার মূল সুর

"ঘাসফড়িং" কবিতাটি আমাদের শেখায় কীভাবে ছোট ছোট জিনিসের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়া যায়। কবি অরুণ মিত্র বৃষ্টিভেজা ঘাস এবং একটি ঘাসফড়িংয়ের মধ্যে দিয়ে প্রকৃতির অকৃত্রিম সৌন্দর্য ও বন্ধুত্বের যে চিত্র এঁকেছেন, তা আমাদের নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'ঘাস ফড়িং' কবিতাটি প্রখ্যাত বাঙালি কবি অরুণ মিত্র রচিত। এটি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের ষষ্ঠ পাঠের অন্তর্ভুক্ত।

এক পশলা ঝিরঝির বৃষ্টির পর কবি যখন ভিজে ঘাসের ওপর পা দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই একটি ছোট ঘাসফড়িংয়ের সাথে তাঁর নতুন আত্মীয়তা বা ভাব শুরু হয়েছিল।

কবি ঘাসফড়িংকে ছেড়ে আসার সময় তাঁর খুব মন খারাপ হয়েছিল এবং তিনি তাকে কথা দিয়ে এসেছিলেন যে তিনি আবার তার কাছে ফিরে আসবেন।

কবি অরুণ মিত্র ফরাসি (French) ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে অতিবাহিত করেছিলেন।