তালনবমী (Talnabami) Class 5 Bengali Question Answer

Complete textbook solutions, summary, and grammar notes for WBBSE Class 5 Bengali (পাতাবাহার) story 'তালনবমী' by Bibhutibhushan Bandyopadhyay.

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 18 April 2026 Last Update: 05 June 2026

গল্পের পরিচিতি ও সারমর্ম

সারসংক্ষেপ: বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'তালনবমী' গল্পে গ্রামবাংলার এক দরিদ্র পরিবারের দুই শিশুর করুণ ও হৃদয়স্পর্শী কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

ভাদ্র মাসের প্রবল বর্ষায় গ্রামের দরিদ্র গৃহস্থ ক্ষুদিরাম ভাজের বাড়িতে দুদিন ধরে হাঁড়ি চড়েনি। তার দুই ছেলে নেপাল ও গোপাল পেটের খিদের জ্বালায় খুব কষ্ট পাচ্ছিল। এমন সময় তারা জানতে পারে যে গ্রামের অবস্থাপন্ন গৃহস্থ জটি পিসিমার বাড়িতে তালনবমীর ব্রত উপলক্ষে বড়ো খাওয়া-দাওয়া হবে। ছোটো ভাই গোপাল নেমন্তন্ন পাওয়ার প্রবল আশায় খুব ভোরে উঠে বৃষ্টি ও অন্ধকারের ভয় উপেক্ষা করে তালদিঘি থেকে তাল কুড়িয়ে জটি পিসিমাকে বিনামূল্যে দিয়ে আসে।

রাতে খিদের জ্বালায় ঘুমাতে ঘুমাতে সে জটি পিসিমাদের বাড়িতে পেট পুরে তালের পিঠে, পায়েস খাওয়ার সুন্দর স্বপ্ন দেখে। কিন্তু পরদিন সকালে পাড়ার সব ছেলেমেয়েরা জটি পিসিমাদের বাড়ি নেমন্তন্ন খেতে গেলেও, দরিদ্র গোপালদের কেউ ডাকে না। সমাজের এই নিষ্ঠুর অবিচার এক নিষ্পাপ শিশুর মনকে কীভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয়, তারই এক মর্মান্তিক চিত্র এই গল্পে ফুটে উঠেছে।

হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)

১. জেনে নিয়ে নিজের ভাষায় লেখো:

১.১ কোন মাসে তাল পাকে?
উত্তর: ভাদ্র মাসে তাল পাকে।

১.২ আউশ ধান কোন ঋতুতে ঘরে ওঠে?
উত্তর: আউশ ধান বর্ষার শেষে বা শরৎ ঋতুতে (ভাদ্রের শেষে) ঘরে ওঠে।

১.৩ গ্রাম জীবনে পালিত হয়, এমন দুটি ব্রত, পরব বা অনুষ্ঠানের নাম লেখো।
উত্তর: গ্রাম জীবনে পালিত হয় এমন দুটি ব্রত বা অনুষ্ঠান হলো— ইতু পুজো এবং নবান্ন উৎসব।

১.৪ বর্ষাকালে অন্ধকারে চলাফেরা করা ভালো নয় কেন?
উত্তর: বর্ষাকালে অন্ধকারে রাস্তাঘাট পিছল হয়ে থাকে এবং সাপ, ব্যাঙ বা বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের ভয় থাকে বলে অন্ধকারে চলাফেরা করা ভালো নয়।

১.৫ তাল থেকে তৈরি কোন কোন খাবার তোমার প্রিয়?
উত্তর: তাল থেকে তৈরি তালের বড়া, তালের ক্ষীর এবং তালের পিঠে আমার খুব প্রিয়।

২. নীচের এলোমেলো বর্ণগুলো সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:

হুদূরবর্তীর ➔ বহুদূরবর্তী
লপিতিলিটু ➔ তিলপিটুলি
রপাত্তউড়া ➔ উত্তরপাড়া
লঙ্গবারম ➔ মঙ্গলবার
অমস্কনন্য ➔ অন্যমনস্ক
কুঠাখোরকা ➔ খোকাঠাকুর

৩. অর্থ না বদলে নীচের বাক্যগুলো শব্দঝুড়ির সাহায্য নিয়ে অন্যভাবে লেখো:

(শব্দঝুড়ি: বৃষ্টির/বর্ষার, খিদে পেয়েছে, সাহস হয় না, রাত কাটবে, হেলে পড়ছে)

৩.১ ক্ষুদিরাম ভাযের বাড়ি দুদিন হাঁড়ি চড়েনি।
উত্তর: ক্ষুদিরাম ভাযের বাড়ি দুদিন রান্না হয়নি।

৩.২ কতক্ষণে যে রাত পোহাবে।
উত্তর: কতক্ষণে যে রাত কাটবে।

৩.৩ কিন্তু সাহসে কুলোয় না তার।
উত্তর: কিন্তু সাহস হয় না তার।

৩.৪ আমারও পেট চুঁই ছুঁই করচে।
উত্তর: আমারও খিদে পেয়েছে।

৩.৫ বাঁশঝাড় নুয়ে পড়চে বাদলার হাওয়ায়।
উত্তর: বাঁশঝাড় হেলে পড়ছে বৃষ্টির/বর্ষার হাওয়ায়।

৪. ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে লেখো:

(সঠিক ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজিয়ে দেওয়া হলো)
১) ৪.২ ক্ষুদিরাম ভাজের বাড়ি দুদিন হাঁড়ি চড়েনি।
২) ৪.৩ গোপাল একছুটে চলে গেল গ্রামের পাশে সেই তালদিঘির ধারে।
৩) ৪.৫ 'ওরা নেমন্তন্ন করবে, দেখিস দাদা, কাল তো তালনবমী।'
৪) ৪.১ ঘুমের মধ্যে ওসব কী হিজিবিজি স্বপ্ন সে দেখছিল।
৫) ৪.৪ গোপাল বললে, 'কোথায় যাচ্ছিস তোরা?'

৫. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:

৫.১ গল্পের নানান জায়গায় খুঁজে দেখো 'তাল' নামে ফলটার অনেক ধরনের বিশেষণ খুঁজে পাবে। সবগুলো লেখো।
উত্তর: গল্প থেকে পাওয়া তালের বিশেষণগুলি হলো— কালো হেঁড়ে, ভালো, মিশকালো, বড়ো, কালো কুচকুচে এবং ছোটো।

৫.২ 'মেঘাচ্ছন্ন আকাশ' কথাটার অর্থ মেঘে ভরা আকাশ। ঠিক এই অর্থটাই বোঝায় এমন আর একটা বিশেষণ গল্পেই আছে। খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর: গল্পে থাকা একই অর্থযুক্ত বিশেষণটি হলো— মেঘ-জমকালো (আকাশ)।

৬. শব্দঝুড়ি থেকে কোনটি কী ধরনের শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো:

(শব্দ: তার, নেমন্তন্ন, বোকা, দিয়েছিল, মঙ্গলবার, আকাশ, ঝমঝম, চলাফেরা, প্রকাণ্ড, মিশকালো, চুঁই ছুঁই, তিনি)

পদের প্রকারশব্দ
বিশেষ্য (Noun)মঙ্গলবার, আকাশ, নেমন্তন্ন, চলাফেরা
বিশেষণ (Adjective)বোকা, প্রকাণ্ড, মিশকালো
সর্বনাম (Pronoun)তার, তিনি
অব্যয় (Conjunction/Interjection)ঝমঝম, চুঁই ছুঁই
ক্রিয়া (Verb)দিয়েছিল

৭. নীচের বাক্যগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো কোন কোন শব্দে তোমার মনে হচ্ছে কাজ শেষ হয়ে গেছে, আর কোন কোন শব্দে মনে হচ্ছে কাজ এখনও শেষ হয়নি, সেগুলো আলাদা করে লেখো:

৭.১ কদিন ধরে পেট ভরে না খেতে পেরে ওরা দুই ভায়েই সংসারের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠেছে।
উত্তর: কাজ শেষ হয়নি— পেরে। কাজ শেষ হয়েছে— উঠেছে।

৭.২ জটি পিসিমা আর কিছু না বলে তাল দুটো হাতে করে নিয়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন।
উত্তর: কাজ শেষ হয়নি— বলে, করে, নিয়ে। কাজ শেষ হয়েছে— গেলেন।

৭.৩ রেগে দাঁড়িয়ে উঠে বললে, 'কেন করবে না আমাদের নেমন্তন্ন?'
উত্তর: কাজ শেষ হয়নি— রেগে, দাঁড়িয়ে, উঠে। কাজ শেষ হয়েছে— বললে, করবে।

৭.৪ খুব ভোরবেলা উঠে গোপাল দেখলে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে।
উত্তর: কাজ শেষ হয়নি— উঠে, ঘুমিয়ে। কাজ শেষ হয়েছে— দেখলে।

৮. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:

৮.১ 'সদর দোর' কথাটার মানে জেনে নাও, শব্দটা নিজে কোনো বাক্যে ব্যবহার করো।
উত্তর: সদর দোর কথাটার মানে হলো প্রধান দরজা।
বাক্য: আমাদের বাড়ির সদর দোরটি মজবুত শাল কাঠের তৈরি।

৮.২ 'কপাট' শব্দটির অর্থ লেখো। এই শব্দটা ব্যবহার করে নিজে একটি বাক্য লেখো।
উত্তর: কপাট শব্দটির অর্থ হলো দরজা বা পাল্লা।
বাক্য: ঝোড়ো হাওয়া দেওয়ায় জানলার কপাট সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।

৯. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:

সলজ্জ — নির্লজ্জ
সুখাদ্য — কুখাদ্য
অন্ধকার — আলো
সাধ্য — অসাধ্য
আগ্রহ — অনাগ্রহ / নিরাসক্তি

১০. বাক্য রচনা করো:

গৃহস্থ: ক্ষুদিরাম ভাজ গ্রামের একজন সামান্য আয়ের গৃহস্থ মানুষ ছিলেন।
পিঠে: পৌষপার্বণের সময় মা আমাদের জন্য নানারকমের সুস্বাদু পিঠে তৈরি করেন।
আশ্চর্য: ছেলেটির এত সুন্দর গান শুনে আমি সত্যিই আশ্চর্য হয়ে গেলাম।
জোনাকি: রাতের অন্ধকারে বাগানের ঝোপের মধ্যে জোনাকি জ্বলছে।
তালনবমী: ভাদ্র মাসে হিন্দু পরিবারে তালনবমী ব্রত পালিত হয়।

১১. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:

১১.১ এ গল্পে বৃষ্টির দুরকম ছবি আছে। ঝমঝম আর টিপটিপ। এই শব্দ দুটো ছাড়া কেবল ধ্বনি থেকেই বুঝে নেওয়া যায়, এমন কতগুলো শব্দ লেখো।
উত্তর: ধ্বনি থেকে বোঝা যায় এমন শব্দগুলি হলো— হু হু (হাওয়ার শব্দ), খট্ খট্ (কপাট আছড়ে পড়ার শব্দ), কটকটে (ব্যাঙের ডাক), চুঁই ছুঁই (খিদের জ্বালা)।

১১.২ হাওয়ার শব্দ বোঝাচ্ছে এমন দুটি শব্দ গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর: হাওয়ার শব্দ বোঝাচ্ছে এমন শব্দ হলো— হু হু।

১১.৩ গল্পে 'বাঁড়ুজ্যে, ভাজ'-এগুলি কোন কোন পদবি থেকে এসেছে? এরকম আরো তিনটি পদবি লেখো।
উত্তর: 'বাঁড়ুজ্যে' এসেছে বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে এবং 'ভাজ' এসেছে ভট্টাচার্য থেকে। এরকম আরও তিনটি পদবি হলো— চাটুজ্যে (চট্টোপাধ্যায়), মুখুজ্যে (মুখোপাধ্যায়) এবং গাঙুলি (গঙ্গোপাধ্যায়)।

১১.৪ পড়েচে, খেয়েচে-এই শব্দগুলি কোন কোন শব্দ থেকে এসে এরকম চেহারা পেয়েছে?
উত্তর: 'পড়েচে' শব্দটি পড়েছে থেকে এবং 'খেয়েচে' শব্দটি খেয়েছে থেকে এসেছে (এটি কথ্য বা চলিত ভাষার একটি রূপ)।

১২. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও:

১২.১ এই গল্পটা কোন ঋতুর, তা বোঝবার অনেকগুলো সূত্র গল্পটার মধ্যে ছড়ানো আছে। আছে মাসের নাম, ব্রতের নাম ইত্যাদি। এছাড়াও কোন কোন সূত্র তুমি নিজে খুঁজে পাও লেখো।
উত্তর: গল্পটি যে বর্ষা ঋতুর, তা বোঝানোর জন্য মাসের নাম (ভাদ্র) ও ব্রতের নাম (তালনবমী) ছাড়াও বেশ কিছু সূত্র রয়েছে। যেমন— আউশ ধান ঘরে ওঠার প্রসঙ্গ, মাঠে এক হাঁটু জল আর কাদা, অবিশ্রান্ত ঝমঝম বৃষ্টি, মেঘ-জমকালো আকাশ, এবং ডোবায় কটকটে ব্যাঙের ডাক। এই সবই বর্ষা ঋতুর পরিচয় দেয়।

১২.২ এ গল্পে দাদা এক সময়ে ছোট ভাইকে বলেছে, 'একটা বোকা!' তোমার কি সত্যি মনে হচ্ছে ভাইটা বোকামিই করেছে? ছোটো ভাই, যার নাম গোপাল, সে যদি তোমার বন্ধু হতো, তবে তুমি তাকে কী করতে বলতে?
উত্তর: হ্যাঁ, আমার মনে হয় গোপাল একটু বোকামিই করেছে। সে অত্যন্ত সরল মনে এবং নেমন্তন্ন পাওয়ার আশায় বিনামূল্যে জটি পিসিমাকে তালগুলো দিয়ে এসেছিল, কিন্তু তার বিনিময়ে সে কিছুই পায়নি।
গোপাল যদি আমার বন্ধু হতো, তবে আমি তাকে বলতাম বিনা পয়সায় কাউকে তাল না দিতে। আমি তাকে বোঝাতাম যে, জটি পিসিমারা তাদের নেমন্তন্ন নাও করতে পারে, তাই তালগুলো বিক্রি করে সেই পয়সা দিয়ে মুড়ি কিনে খাওয়া অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হতো।

১২.৩ কী ধরনের বৃষ্টি তোমার পছন্দ এবং কেন তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: আমার হালকা টিপটিপ বৃষ্টি পছন্দ। কারণ, এই ধরনের বৃষ্টিতে বাইরে খেলাধুলা করা যায়, চারপাশের পরিবেশ খুব মনোরম হয়ে ওঠে এবং একটানা ভারী বৃষ্টির মতো ঘরবন্দি হয়ে বসে থাকতে হয় না।

১৩. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কিত প্রশ্ন:

১৩.১ 'পথের পাঁচালী' বইটির লেখক কে?
উত্তর: 'পথের পাঁচালী' বইটির লেখক হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৩.২ তাঁর লেখা ছোটোদের দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা ছোটোদের দুটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম হলো— 'চাঁদের পাহাড়' এবং 'হীরা মানিক জ্বলে'।

১৩.৩ কত সালে তাঁকে 'রবীন্দ্র পুরস্কার' প্রদান করা হয়?
উত্তর: মৃত্যুর পর ১৯ ৫১ সালে তাঁকে 'রবীন্দ্র পুরস্কার' প্রদান করা হয়।

১৪. পাঠ্য অংশটি পড়ে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

১৪.১ গল্পে মোট কটি শিশু চরিত্রের কথা আছে? তাদের নাম পরিচয় লিখে তাদের স্বভাব বিষয়ে দুটি করে বাক্য লেখো।
উত্তর: গল্পে প্রধানত দুটি শিশু চরিত্রের কথা আছে— নেপাল এবং গোপাল (এছাড়াও চুনির উল্লেখ আছে)।
• নেপাল: নেপাল হলো ক্ষুদিরাম ভাজের বড়ো ছেলে। সে বয়সের তুলনায় বেশ বাস্তববাদী এবং বুদ্ধিমান।
• গোপাল: গোপাল হলো ক্ষুদিরাম ভাজের ছোটো ছেলে। সে অত্যন্ত সহজ-সরল এবং স্বপ্নচারী একটি শিশু।

১৪.২ ভরা বর্ষায় ক্ষুদিরাম ভাজের দিন কীভাবে কাটে?
উত্তর: ক্ষুদিরাম ভাজ একজন সামান্য আয়ের দরিদ্র গৃহস্থ। ভরা বর্ষায় তার দিন খুব কষ্টে কাটে। যজমান বাড়ি থেকে পাওয়া ধান ফুরিয়ে যাওয়ায়, তার বাড়িতে দুদিন ধরে হাঁড়ি চড়েনি এবং ছেলেপুলেরা পেটে ক্ষিদে নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

১৪.৩ চুনির মা জটি পিসিমার বাড়ি গিয়েছিল কেন?
উত্তর: তালনবমীর ব্রত উপলক্ষে জটি পিসিমার বাড়িতে লোকজনের খাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। সেই উপলক্ষে ডাল ভাঙার কাজে সাহায্য করার জন্যই চুনির মা জটি পিসিমার বাড়ি গিয়েছিল।

১৪.৪ জটি পিসিমার বাড়িতে কী বারে, কেন তালের প্রয়োজন হয়েছিল?
উত্তর: জটি পিসিমার বাড়িতে মঙ্গলবার তালের প্রয়োজন হয়েছিল। কারণ, ওই দিন তালনবমীর ব্রত উপলক্ষে তালের পিঠে এবং তালের বড়া তৈরি করার কথা ছিল।

১৪.৫ কে, কীভাবে জটি পিসিমাকে তাল জোগাড় করে এনে দিয়েছিল?
উত্তর: ক্ষুদিরাম ভাজের ছোটো ছেলে গোপাল জটি পিসিমাকে তাল জোগাড় করে এনে দিয়েছিল। সে নেমন্তন্ন পাওয়ার প্রবল আশায় খুব ভোরবেলা উঠে বৃষ্টি ও অন্ধকারকে ভয় না পেয়ে গ্রামের পাশের তালদিঘির ধার থেকে তাল কুড়িয়ে এনে জটি পিসিমাকে বিনামূল্যে দিয়ে আসে।

১৪.৬ জটি পিসিমার ভালো নামটি কী?
উত্তর: জটি পিসিমার ভালো নামটি হলো হরিমতী।

১৪.৭ বর্ষারাতে গোপালের দেখা স্বপ্ন কীভাবে মিথ্যা হয়ে গেল, তা গল্প অনুসরণে লেখো।
উত্তর: বর্ষার রাতে খিদের জ্বালায় ঘুমাতে ঘুমাতে সরল মনের গোপাল স্বপ্ন দেখেছিল যে, জটি পিসিমা তাকে আদর করে ডেকে তিলপিটুলি, তালের বড়া এবং খেজুর গুড়ের পায়েস খেতে দিচ্ছেন। সে আনন্দে পেট পুরে খাচ্ছে।
কিন্তু পরের দিন সকালে সে অনেক আশা নিয়ে বসে থাকলেও জটি পিসিমার বাড়ি থেকে তাকে নেমন্তন্ন করতে কেউ আসে না। গ্রামের অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলেমেয়েরা তাদের বাপ-কাকাদের সাথে নেমন্তন্ন খেতে জটি পিসিমার বাড়িতে গেলেও, দরিদ্র হওয়ার কারণে গোপালদের কেউ ডাকে না। এভাবেই বাস্তব সমাজের নির্মমতায় এক দরিদ্র শিশুর সুন্দর স্বপ্ন মিথ্যা হয়ে যায়।
Sponsored Links

তালনবমী (Class 5 Bengali) - প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য

তালনবমী গল্পটির লেখক হলেন বিখ্যাত বাঙালি কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত গোপাল অত্যন্ত সরল মনে ভেবেছিল যে, বিনামূল্যে তাল দিলে জটি পিসিমা খুশি হয়ে তালনবমীর ব্রতের দিন তাদের বাড়িতে ভালো ভালো খাবার খাওয়ার জন্য নেমন্তন্ন করবেন।

গোপাল রাতে স্বপ্ন দেখেছিল সে জটি পিসিমাদের বাড়িতে পেট পুরে পিঠে-পায়েস খাচ্ছে। কিন্তু পরদিন সকালে গ্রামের অন্যান্য ধনী বাড়ির ছেলেমেয়েরা নেমন্তন্ন খেতে গেলেও, দরিদ্র হওয়ার কারণে জটি পিসিমা গোপালদের ডাকে না। এভাবেই তার স্বপ্ন ভেঙে যায়।