মিষ্টি (Misti) Class 5 Bengali Question Answer

Complete textbook solutions, summary, and grammar notes for WBBSE Class 5 Bengali (পাতাবাহার) poem 'মিষ্টি' by Premendra Mitra.

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 18 April 2026 Last Update: 05 June 2026

কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম

সারসংক্ষেপ: কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'মিষ্টি' কবিতাটিতে জীবনের এক গভীর সত্য খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

যে আকাশে কখনো মেঘ ডাকে না বা ঝড় ওঠে না, অথবা যে রাস্তায় চলতে গিয়ে কোনো হোঁচট খাওয়ার ভয় নেই—সেই বাধাহীন একঘেয়ে পথে চলার কোনো আনন্দ বা মজা নেই। জীবন মানেই চড়াই-উতরাই। যেমন শক্ত আখ চিবিয়ে খেতে হয় বলেই তার রস আমাদের কাছে এত বেশি মিষ্টি লাগে, তেমনি অনেক বাধাবিপত্তি ও কষ্টের পর যে সুখ বা সাফল্য পাওয়া যায়, তার আনন্দও সবচেয়ে বেশি মধুর হয়।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থ
পিছলেহড়কে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া
চড়াইনীচ থেকে ওপরে ওঠার খাড়া রাস্তা
মুখখুমূর্খ বা বোকা
দুখখুদুঃখ বা কষ্ট
রোদ্দুররৌদ্র বা রোদ

হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)

১. নিজের ভাষায় লেখো :

১.১ কোন্ ঋতুতে সাধারণত আকাশে ঝড় ওঠে না, মেঘ ডাকে না?
উত্তর: সাধারণত শীত ও শরৎ ঋতুতে আকাশে ঝড় ওঠে না এবং মেঘ ডাকে না।

১.২ কোন্ ঋতুতে সাধারণত পথ-ঘাট পিছল হয়ে পড়ে?
উত্তর: সাধারণত বর্ষা ঋতুতে পথ-ঘাট পিছল হয়ে পড়ে।

১.৩ কোন্ পথে সহজেই গড়িয়ে পড়া যায়?
উত্তর: যে পথ খুব মসৃণ বা ঢালু এবং যে পথে কোনো বাধা বা হোঁচট খাওয়ার ভয় নেই, সেই পথে সহজেই গড়িয়ে পড়া যায়।

১.৪ চড়াই-উতরাই রাস্তা কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: চড়াই-উতরাই রাস্তা সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়।

১.৫ 'রাস্তা' শব্দটি অন্য কোন নামে কবিতায় আছে?
উত্তর: 'রাস্তা' শব্দটি কবিতায় 'পথ' নামে আছে।

১.৬ আখের প্রসঙ্গ রয়েছে, তোমার পাঠ্যসূচির এমন অন্য একটি রচনার নাম লেখো।
উত্তর: আখের প্রসঙ্গ রয়েছে, আমার পাঠ্যসূচির এমন অন্য একটি রচনার নাম হলো— 'বোকা কুমিরের কথা' (লিখেছেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী)।

২. নীচের এই শব্দগুলো মূল কোন কোন শব্দ থেকে এসেছে :

আখ ➔ ইক্ষু (আখ শব্দটি সংস্কৃত 'ইক্ষু' শব্দ থেকে এসেছে)।
রোদ্দুর ➔ রৌদ্র (রোদ্দুর শব্দটি সংস্কৃত 'রৌদ্র' শব্দ থেকে এসেছে)।

৩. 'চড়াই' ও 'পড়ে'— এই দু'টি শব্দের দু'টি করে অর্থ লেখো, বাক্যে ব্যবহার করো।

চড়াই:
১) অর্থ: ওপরে ওঠা (খাড়া রাস্তা)।
বাক্য: পাহাড়ের এই খাড়া চড়াই ভাঙা খুবই কষ্টকর।
২) অর্থ: এক ধরনের ছোটো পাখি।
বাক্য: আমাদের বাড়ির ঘুলঘুলিতে একটি চড়াই পাখি বাসা বেঁধেছে।

পড়ে:
১) অর্থ: পতিত হওয়া বা পড়ে যাওয়া।
বাক্য: ছেলেটি দৌড়তে গিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
২) অর্থ: পাঠ করা বা পড়াশোনা করা।
বাক্য: আমার বোন খুব মন দিয়ে বই পড়ে।

৪. তোমার স্কুলে যাওয়ার, খেলতে যাওয়ার, আর বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তাগুলো কেমন, তিনটে রাস্তা নিয়ে আলাদা আলাদা দুটো করে বাক্য লেখো। এ প্রসঙ্গে কোন রাস্তাটি তোমার কেন ভালো লাগে, তার পক্ষে দুটি যুক্তি দাও।

উত্তর:
• স্কুলে যাওয়ার রাস্তা: আমার স্কুলে যাওয়ার রাস্তাটি পিচ বাঁধানো এবং মসৃণ। এই রাস্তায় সকালবেলা অনেক গাড়ি ও মানুষের ভিড় থাকে।
• খেলতে যাওয়ার রাস্তা: মাঠের দিকে খেলতে যাওয়ার রাস্তাটি মাটির এবং দু'পাশে অনেক বড়ো বড়ো গাছ আছে। বর্ষাকালে এই রাস্তায় বেশ কাদা হয়।
• বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তা: বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি ইটের তৈরি এবং বেশ সরু। রাস্তার পাশে সুন্দর ফুলের বাগান আছে।

যে রাস্তাটি আমার ভালো লাগে এবং তার যুক্তি:
আমার খেলতে যাওয়ার রাস্তাটি সবচেয়ে ভালো লাগে। এর পক্ষের দুটি যুক্তি হলো—
১) এই রাস্তায় দু'পাশে অনেক গাছপালা থাকায় প্রচুর ছায়া ও হাওয়া পাওয়া যায়।
২) এই রাস্তাটি পার হলেই বিশাল খেলার মাঠ দেখা যায়, যা আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়।

৫. কষ্টের বিনিময়ে পাওয়া যে সুখ তা-ই প্রকৃত সুখ। কবিতায় এই কথাটি কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে লেখো।

উত্তর: কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র তাঁর 'মিষ্টি' কবিতায় বুঝিয়েছেন যে, জীবনে কোনো বাধা-বিপত্তি বা কষ্ট না থাকলে সেই জীবনের কোনো আনন্দ বা মজা থাকে না। যে রাস্তায় চলতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার ভয় নেই, অর্থাৎ যে কাজে কোনো পরিশ্রম বা কষ্ট নেই, সেই কাজে সাফল্য পেলেও প্রকৃত তৃপ্তি পাওয়া যায় না।
কবিতার শেষে কবি আখের উদাহরণ দিয়েছেন। শক্ত আখকে দাঁত দিয়ে অনেক কষ্ট করে চিবিয়ে খেতে হয় বলেই তার রস আমাদের কাছে এত বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু লাগে। ঠিক তেমনি জীবনে অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে যে সুখ বা সাফল্য লাভ করা যায়, তা-ই হলো প্রকৃত সুখ।

৬. প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪—১৯৮৮) সম্পর্কিত প্রশ্ন:

৬.১ ছোটোদের প্রিয় চরিত্র 'ঘনাদা' কার সৃষ্টি?
উত্তর: ছোটোদের প্রিয় চরিত্র 'ঘনাদা' কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্টি।

৬.২ প্রেমেন্দ্র মিত্র কোন সাহিত্য-পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্র 'কল্লোল' সাহিত্য-পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

৬.৩ তাঁর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম হলো— 'সাগর থেকে ফেরা' এবং 'হরিণ-চিতা-চিল'।

৭. কোন কোন মিষ্টি খাবার তোমার খেতে ভালো লাগে, নীচের মানস মানচিত্রে সেগুলির নাম লেখো। এই মিষ্টিগুলি নিয়ে এক-একটা বাক্য লেখো।

আমার পছন্দের মিষ্টি খাবারের নাম:
রসগোল্লা, পান্তুয়া, সন্দেশ, জিলিপি, চমচম, রাজভোগ, কালাকাঁদ, বোঁদে, মিহিদানা, রসমালাই।

মিষ্টিগুলি নিয়ে বাক্য রচনা:
১) রসগোল্লা: বাংলার নরম তুলতুলে রসগোল্লা খেতে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।
২) পান্তুয়া: গরম গরম পান্তুয়া খেতে ভারী সুস্বাদু।
৩) সন্দেশ: শীতকালে নলেন গুড়ের সন্দেশের স্বাদই আলাদা।
৪) জিলিপি: রথের মেলায় গিয়ে আমি গরম জিলিপি খেয়েছিলাম।
৫) চমচম: মামাবাড়ি গেলে মামা আমার জন্য পোড়াবাড়ির চমচম নিয়ে আসেন।
৬) রাজভোগ: রাজভোগ মিষ্টিটি আকারে বেশ বড়ো হয়।
৭) কালাকাঁদ: দিদির জন্মদিনে বাবা কালাকাঁদ মিষ্টি এনেছিলেন।
৮) বোঁদে: লাল ও হলুদ রঙের বোঁদে দেখতে খুব সুন্দর লাগে।
৯) মিহিদানা: বর্ধমানের মিহিদানা সারা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত।
১০) রসমালাই: ঠান্ডা রসমালাই আমার মায়ের খুব পছন্দের একটি মিষ্টি।

৮. নির্দেশ অনুসারে উত্তর দাও :

৮.১ নীচের কোন ছবিতে কোন ঋতুর আকাশ কেমন, তা ছবি দেখে নিজের ভাষায় বাক্যের মধ্যে লেখো :

প্রথম ছবিটির বর্ণনা:
ছবিতে দেখা যাচ্ছে আকাশে উজ্জ্বল সূর্য হাসছে এবং সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। এটি পরিষ্কার ঝকঝকে শরৎকালের আকাশ। এই ঋতুতে প্রকৃতি খুব শান্ত ও সুন্দর থাকে।

দ্বিতীয় ছবিটির বর্ণনা:
ছবিতে দেখা যাচ্ছে আকাশে ঘন কালো মেঘ জমেছে এবং ঝমঝম করে খুব বৃষ্টি পড়ছে। একটি ব্যাঙ ছাতা মাথায় দিয়ে যাচ্ছে। এটি ঘোর বর্ষাকালের আকাশ। এই ঋতুতে চারপাশ ভিজে ও স্যাঁতস্যাঁতে থাকে।

৮.২ এইরকম অন্য কোনো ঋতুর আকাশ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: শীতকালের আকাশ: শীতকালে সাধারণত আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকে। তবে খুব সকালের দিকে আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে, যার ফলে চারপাশটা ঝাপসা দেখায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি রোদ ওঠে এবং আকাশ আবার ঝলমল করে ওঠে।
Sponsored Links

মিষ্টি (Class 5 Bengali) - প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য

মিষ্টি কবিতাটির কবির নাম প্রেমেন্দ্র মিত্র।

আখকে অনেক কষ্ট করে চিবিয়ে খেতে হয় বলেই তার রস খুব মিষ্টি লাগে। কবি এই উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়েছেন যে, জীবনে পরিশ্রম ও কষ্টের মাধ্যমে পাওয়া সুখই হলো প্রকৃত সুখ।

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় চরিত্র 'ঘনাদা'-র স্রষ্টা হলেন কবি ও লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্র।