কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম
কবি: মৈত্রেয়ী দেবী
সারসংক্ষেপ:
'ঝড়' কবিতায় কবি মৈত্রেয়ী দেবী গ্রীষ্মকালের এক কালবৈশাখী ঝড়ের সুন্দর ও রোমাঞ্চকর বর্ণনা দিয়েছেন এক ছোট্ট শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। দুপুরবেলায় শিশুটি যখন মাঠের ধারে খেলছিল, হঠাৎ চারদিক অন্ধকার করে এলোমেলো বাতাস বইতে শুরু করে। বকুলতলা, চাঁপার বন, দিঘির জল— সবকিছু কালো মেঘে ঢেকে যায়। ঝড়ের এই ভয়ংকর অথচ সুন্দর রূপ দেখে শিশুটির খুব ভালো লাগে।
শিশুটির মনে হয়, কেউ যেন তার মতো দুষ্টুমি করে দোয়াতের কালি পুরো আকাশের ওপর ঢেলে দিয়েছে। আকাশের এই কালির দোয়াত ফেলে দেওয়া মেঘের আড়ালে বিদ্যুতের চমক দেখে মনে হয় যেন কেউ কোমল ঠোঁট মেলে হাসছে। কিছুক্ষণ পর সেই ঝড় আবার সাত সাগরের পারে বহুদূরে পালিয়ে যায়।
শিশুটির মনে হয়, কেউ যেন তার মতো দুষ্টুমি করে দোয়াতের কালি পুরো আকাশের ওপর ঢেলে দিয়েছে। আকাশের এই কালির দোয়াত ফেলে দেওয়া মেঘের আড়ালে বিদ্যুতের চমক দেখে মনে হয় যেন কেউ কোমল ঠোঁট মেলে হাসছে। কিছুক্ষণ পর সেই ঝড় আবার সাত সাগরের পারে বহুদূরে পালিয়ে যায়।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| হাট | সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসা বাজার |
| দোয়াত | লেখার কালি রাখার পাত্র |
| পাড়ি | নদী বা জলাশয় পার হওয়া |
| কোমল | নরম |
হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)
১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:
১.১ পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয়— (গ্রীষ্ম / বর্ষা / শরৎ / শীত)।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয় তা হলো গ্রীষ্ম।
১.২ দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে (সকাল / দুপুর / বিকেল / রাত)।
উত্তর: দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে তা হলো বিকেল।
১.৩ যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে (কালো / লাল / নীল / সাদা)।
উত্তর: যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে কালো।
১.৪ গ্রীষ্মের একটি ফুল হল (গাঁদা / গন্ধরাজ / চাঁপা / পদ্ম)।
উত্তর: গ্রীষ্মের একটি ফুল হল চাঁপা।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয় তা হলো গ্রীষ্ম।
১.২ দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে (সকাল / দুপুর / বিকেল / রাত)।
উত্তর: দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে তা হলো বিকেল।
১.৩ যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে (কালো / লাল / নীল / সাদা)।
উত্তর: যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে কালো।
১.৪ গ্রীষ্মের একটি ফুল হল (গাঁদা / গন্ধরাজ / চাঁপা / পদ্ম)।
উত্তর: গ্রীষ্মের একটি ফুল হল চাঁপা।
২. 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:
| ক | খ (উত্তর) |
|---|---|
| মাঝি | নাইয়া |
| ঝড় | প্রবল হাওয়া |
| সাগর | সমুদ্র |
| চাঁপা | চম্পক |
| এলোমেলো | অগোছালো |
৩. 'চেয়ে' ও 'ভারী' শব্দদুটিকে দুটি আলাদা আলাদা অর্থে বাক্যে ব্যবহার করো:
চেয়ে (তাকিয়ে থাকা): মেয়েটি একদৃষ্টে আকাশের দিকে চেয়ে আছে।
চেয়ে (তুলনায় / অপেক্ষা): রামের চেয়ে শ্যাম পড়াশোনায় অনেক ভালো।
ভারী (ওজনদার): সুটকেসটা খুব ভারী, আমি একা তুলতে পারছি না।
ভারী (খুব / অত্যন্ত): ঝড়ের সময় মেঘের রূপ দেখতে আমার ভারী মজা লাগে।
চেয়ে (তুলনায় / অপেক্ষা): রামের চেয়ে শ্যাম পড়াশোনায় অনেক ভালো।
ভারী (ওজনদার): সুটকেসটা খুব ভারী, আমি একা তুলতে পারছি না।
ভারী (খুব / অত্যন্ত): ঝড়ের সময় মেঘের রূপ দেখতে আমার ভারী মজা লাগে।
৪. বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো:
(শব্দগুচ্ছ: এলোমেলো বাতাস, চাঁপার বন, কালো জল, কালির দোয়াত, কোমল ঠোঁট।)
বিশেষ্য
বাতাস
চাঁপা
বন
জল
কালি
দোয়াত
ঠোঁট
চাঁপা
বন
জল
কালি
দোয়াত
ঠোঁট
বিশেষণ
এলোমেলো
কালো
কোমল
কালো
কোমল
৫. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও:
৫.১ কোথা থেকে বাতাস এল।
৫.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি।
৫.৩ আমি তোমার মেঝের উপর ঢালি।
৫.৪ পালিয়ে গেল অনেক দূরে।
৫.৫ চেয়ে দেখি আকাশখানা একেবারে কালো।
৫.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি।
৫.৩ আমি তোমার মেঝের উপর ঢালি।
৫.৪ পালিয়ে গেল অনেক দূরে।
৫.৫ চেয়ে দেখি আকাশখানা একেবারে কালো।
৬. কোনটি বেমানান, তার নীচে দাগ দাও:
৬.১ হাটবার, মাঠের ধার, দুপুরবেলা, ঝড়, কালি। (বাকিগুলো ঝড়ের পারিপার্শ্বিক দৃশ্য ও সময়, কালি একটি বস্তু)
৬.২ কালো আকাশ, বকুলতলা, চাঁপার বন, কালো জল, হাটবার। (বাকিগুলো প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ বা জায়গা)
৬.৩ ছেলে, কালির দোয়াত, মেঝে, ফেলে দেওয়া কালি, মাঠের ধার। (বাকিগুলো ঘরের ভেতরের দৃশ্য বা উপমা)
৬.৪ আকাশ, বিদ্যুৎ, ঝড়, সাত সমুদ্র, কালির দোয়াত। (বাকিগুলো প্রকৃতির বিশালতার অঙ্গ)
৬.৫ বাতাস, মাঝি, ঝড়, জল, ঘর। (বাকিগুলো নদী ও ঝড়ের পরিবেশের সাথে যুক্ত)
৬.২ কালো আকাশ, বকুলতলা, চাঁপার বন, কালো জল, হাটবার। (বাকিগুলো প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ বা জায়গা)
৬.৩ ছেলে, কালির দোয়াত, মেঝে, ফেলে দেওয়া কালি, মাঠের ধার। (বাকিগুলো ঘরের ভেতরের দৃশ্য বা উপমা)
৬.৪ আকাশ, বিদ্যুৎ, ঝড়, সাত সমুদ্র, কালির দোয়াত। (বাকিগুলো প্রকৃতির বিশালতার অঙ্গ)
৬.৫ বাতাস, মাঝি, ঝড়, জল, ঘর। (বাকিগুলো নদী ও ঝড়ের পরিবেশের সাথে যুক্ত)
৭. 'অন্ধকার' শব্দটির মতো 'ন্ধ' এর প্রয়োগ আছে, এমন পাঁচটি শব্দ তৈরি করো:
উত্তর: অন্ধ, গন্ধ, বন্ধ, বন্ধু, সিন্ধু।
৮. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:
লো লো এ মে ➔ এলোমেলো
না খা আ শ ➔ আকাশখানা
ড়া ড়ি তা তা ➔ তাড়াতাড়ি
কে রে বা এ ➔ একেবারে
লা কু ত ব ল ➔ বকুলতলা
না খা আ শ ➔ আকাশখানা
ড়া ড়ি তা তা ➔ তাড়াতাড়ি
কে রে বা এ ➔ একেবারে
লা কু ত ব ল ➔ বকুলতলা
৯. শূন্যস্থান পূরণ করো:
৯.১ আকাশখানা একেবারে কালো।
৯.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি।
৯.৩ আমার যেন লাগল ভারী ভালো।
৯.৪ হাসল কোমল ঠোঁট মেলে।
৯.৫ কালির দোয়াত কেমন করে হঠাৎ দিল ফেলে।
৯.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি।
৯.৩ আমার যেন লাগল ভারী ভালো।
৯.৪ হাসল কোমল ঠোঁট মেলে।
৯.৫ কালির দোয়াত কেমন করে হঠাৎ দিল ফেলে।
১০. বাক্য রচনা করো:
হাট: আমাদের গ্রামে প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার হাট বসে।
ভালো: নিয়মিত খেলাধুলো করা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব ভালো।
সময়: ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য অনেক।
পাড়ি: জেলেরা মাঝ নদীতে নৌকো পাড়ি দিচ্ছে।
ভীষণ: কাল রাতে ভীষণ বেগে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল।
ভালো: নিয়মিত খেলাধুলো করা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব ভালো।
সময়: ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য অনেক।
পাড়ি: জেলেরা মাঝ নদীতে নৌকো পাড়ি দিচ্ছে।
ভীষণ: কাল রাতে ভীষণ বেগে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল।
১১. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:
এলোমেলো ➔ গোছানো
তাড়াতাড়ি ➔ ধীরে / দেরিতে
কোমল ➔ কঠিন / কঠোর
জ্বেলে ➔ নিভিয়ে
দূরে ➔ কাছে
তাড়াতাড়ি ➔ ধীরে / দেরিতে
কোমল ➔ কঠিন / কঠোর
জ্বেলে ➔ নিভিয়ে
দূরে ➔ কাছে
১২. প্রদত্ত সূত্র অনুসারে একটি গল্প তৈরি করো:
(সূত্র: তুমি একা — বিরাট মাঠ — আকাশে ঘন মেঘ — গাছের পাতা নড়ছে না — ঝড় এল — প্রবল বৃষ্টি — কোথাও আশ্রয় নিলে — ঝড় থামলে রাতে বাড়ি ফিরলে।)
উত্তর (গল্প):সেদিন বিকেলে আমি একা একটি বিরাট মাঠে খেলছিলাম। হঠাৎ দেখি আকাশে ঘন কালো মেঘ করে এসেছে। চারপাশ একদম থমথমে, গাছের একটা পাতাও নড়ছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই সোঁ সোঁ শব্দ করে প্রবল বেগে ঝড় এল। তার সাথে শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি। আমি দৌড়ে গিয়ে মাঠের ধারে একটি পুরোনো মন্দিরের বারান্দায় আশ্রয় নিলাম। সেখানে একা দাঁড়িয়ে ঝড়ের দাপট দেখতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ পর যখন ঝড়-বৃষ্টি থামল, তখন চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে। আমি সেই রাতের অন্ধকারে ভিজে জামাকাপড়ে কোনোমতে বাড়ি ফিরে এলাম।
১৩. 'কোমল' ও 'কমল' শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য বাক্য রচনা করে বুঝিয়ে দাও:
কোমল (নরম): শিশুটির মন ফুলের মতোই কোমল।
কমল (পদ্মফুল): দিঘির জলে একটি সুন্দর কমল ফুটে আছে।
কমল (পদ্মফুল): দিঘির জলে একটি সুন্দর কমল ফুটে আছে।
১৪. কোনটি কোন শ্রেণির বাক্য লেখো:
১৪.১ ওই এসেছে ঝড়! ➔ বিস্ময়বোধক বাক্য
১৪.২ ঝড় কারে মা কয়? ➔ প্রশ্নবোধক বাক্য
১৪.৩ কেমন জানি করল আমার মন! ➔ বিস্ময়বোধক বাক্য
১৪.৪ চেয়ে দেখি - আকাশখানা একেবারে কালো। ➔ নির্দেশক বা বর্ণনাত্মক বাক্য
১৪.৫ পালিয়ে গেল অনেক দূরে — সাত সাগরের পার। ➔ নির্দেশক বা বিবৃতিমূলক বাক্য
১৪.২ ঝড় কারে মা কয়? ➔ প্রশ্নবোধক বাক্য
১৪.৩ কেমন জানি করল আমার মন! ➔ বিস্ময়বোধক বাক্য
১৪.৪ চেয়ে দেখি - আকাশখানা একেবারে কালো। ➔ নির্দেশক বা বর্ণনাত্মক বাক্য
১৪.৫ পালিয়ে গেল অনেক দূরে — সাত সাগরের পার। ➔ নির্দেশক বা বিবৃতিমূলক বাক্য
১৫. মৈত্রেয়ী দেবী (১৯১৪-১৯৯০) সম্পর্কিত প্রশ্ন:
১৫.১ মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হলো 'মংপুতে রবীন্দ্রনাথ' এবং 'ন হন্যতে'।
১৫.২ তিনি কত সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি পান?
উত্তর: তিনি ১৯৭৭ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি পান।
উত্তর: মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বিখ্যাত বইয়ের নাম হলো 'মংপুতে রবীন্দ্রনাথ' এবং 'ন হন্যতে'।
১৫.২ তিনি কত সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি পান?
উত্তর: তিনি ১৯৭৭ সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি পান।
১৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:
১৬.১ কবিতায় শিশুর দল ছুটে চলে যেতে চেয়েছিল কেন?
উত্তর: দুপুরবেলায় হঠাৎ আকাশ কালো করে কালবৈশাখী ঝড় আসায় ভয় পেয়ে এবং বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শিশুর দল খেলা ছেড়ে ঘরের দিকে ছুটে চলে যেতে চেয়েছিল।
১৬.২ দুপুরবেলা চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল কেন?
উত্তর: দুপুরবেলা হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ওঠায় এবং আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ায় চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।
১৬.৩ 'পালিয়ে গেল অনেক দূরে' — কে পালিয়ে গেল? পালিয়ে সে কোথায় গেল?
উত্তর: এখানে ঝড় পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঝড়টি পালিয়ে সাত সাগরের পারে চলে গেল।
১৬.৪ ঝড়ের সঙ্গে শিশুর মনে কীসের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে?
উত্তর: শিশুটি যেমন খেলার ছলে ঘরের মেঝেতে কালির দোয়াত ফেলে দিলে মেঝে কালো হয়ে যায়, তেমনি আকাশে কালো মেঘের অন্ধকার দেখে শিশুটির মনে হয়েছে যেন কোনো দস্যি ছেলে আকাশের ওপর কালির দোয়াত উলটে ফেলে দিয়েছে। ঝড়ের মেঘের সঙ্গে দোয়াতের কালির এই সুন্দর তুলনাটি কবিতায় ধরা পড়েছে।
১৬.৫ 'ঝড়'-এর বর্ণনা দিতে 'মেঘ করে আসা' আর 'বিদ্যুৎ চমকানো'র কথা কবিতায় কোন কোন পঙ্ক্তিতে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: মেঘ করে আসা: "কালির দোয়াত কেমন ক'রে হঠাৎ দিল ফেলে,
যেমন ক'রে কালি—
আমি তোমার মেঝের উপর ঢালি!"
বিদ্যুৎ চমকানো: "হাসল কোমল ঠোঁটটি মেলে
ভীষণ কেমন আগুন জ্বেলে
আকাশ বারে বারে।"
১৬.৬ ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে কী ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে প্রবল ঢেউ ও দমকা হওয়ার কারণে নৌকা বা ট্রলার উলটে যাওয়ার ভয় থাকে। দিকভ্রান্ত হয়ে মাঝিমাল্লাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
১৬.৭ সাতটি সাগরের নাম তোমার শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে খাতায় লেখো।
উত্তর: প্রাচীন পুরাণে বর্ণিত পৃথিবীর সাতটি সাগর হলো— লবণ সাগর (লবণাক্ত), ইক্ষু সাগর (আখ রসের মতো), সুরা সাগর (মদের মতো), ঘৃত সাগর (ঘিয়ের মতো), দধি সাগর (দইয়ের মতো), ক্ষীর সাগর (দুধের মতো) এবং স্বাদুদক সাগর (মিষ্টি জলের)।
(ভৌগোলিক দিক দিয়ে আধুনিক সাতটি সাগর বলতে প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আরব সাগরকে বোঝানো হতে পারে।)
১৬.৮ কোনো একটি দিনে তোমার ঝড় দেখার কথা বন্ধুকে একটি চিঠি লিখে জানাও।
উত্তর:
প্রিয় বন্ধু অমিত,
আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে গত রবিবারের কালবৈশাখী ঝড় দেখার অভিজ্ঞতার কথা বলব। সেদিন বিকেলে হঠাৎ আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। সোঁ সোঁ শব্দ করে প্রবল বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। আমাদের বাগানের বড়ো আম গাছটা ঝড়ে প্রায় মাটিতে নুয়ে পড়ছিল। বিদ্যুতের চমকানিতে আকাশটা বারবার আলো হয়ে উঠছিল। আমি জানলার ধারে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই ভয়ংকর সুন্দর রূপ দেখছিলাম। কিছুক্ষণ পর যখন বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হলো, তখন ঝড় থেমে গেল। তোর সাথে দেখা হলে আরও গল্প হবে।
ইতি,
তোর বন্ধু, রাহুল।
১৬.৯ ঝড়ের প্রকৃতির একটি ছবি আঁকো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজের কল্পনায় খাতায় একটি ঝড়ের ছবি আঁকবে। ছবিতে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকবে, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, প্রবল বাতাসে গাছপালা নুয়ে পড়েছে এবং ধুলো উড়ছে— এমন দৃশ্য আঁকতে হবে।)
উত্তর: দুপুরবেলায় হঠাৎ আকাশ কালো করে কালবৈশাখী ঝড় আসায় ভয় পেয়ে এবং বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে শিশুর দল খেলা ছেড়ে ঘরের দিকে ছুটে চলে যেতে চেয়েছিল।
১৬.২ দুপুরবেলা চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল কেন?
উত্তর: দুপুরবেলা হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ওঠায় এবং আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ায় চারিদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।
১৬.৩ 'পালিয়ে গেল অনেক দূরে' — কে পালিয়ে গেল? পালিয়ে সে কোথায় গেল?
উত্তর: এখানে ঝড় পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঝড়টি পালিয়ে সাত সাগরের পারে চলে গেল।
১৬.৪ ঝড়ের সঙ্গে শিশুর মনে কীসের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে?
উত্তর: শিশুটি যেমন খেলার ছলে ঘরের মেঝেতে কালির দোয়াত ফেলে দিলে মেঝে কালো হয়ে যায়, তেমনি আকাশে কালো মেঘের অন্ধকার দেখে শিশুটির মনে হয়েছে যেন কোনো দস্যি ছেলে আকাশের ওপর কালির দোয়াত উলটে ফেলে দিয়েছে। ঝড়ের মেঘের সঙ্গে দোয়াতের কালির এই সুন্দর তুলনাটি কবিতায় ধরা পড়েছে।
১৬.৫ 'ঝড়'-এর বর্ণনা দিতে 'মেঘ করে আসা' আর 'বিদ্যুৎ চমকানো'র কথা কবিতায় কোন কোন পঙ্ক্তিতে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: মেঘ করে আসা: "কালির দোয়াত কেমন ক'রে হঠাৎ দিল ফেলে,
যেমন ক'রে কালি—
আমি তোমার মেঝের উপর ঢালি!"
বিদ্যুৎ চমকানো: "হাসল কোমল ঠোঁটটি মেলে
ভীষণ কেমন আগুন জ্বেলে
আকাশ বারে বারে।"
১৬.৬ ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে কী ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে প্রবল ঢেউ ও দমকা হওয়ার কারণে নৌকা বা ট্রলার উলটে যাওয়ার ভয় থাকে। দিকভ্রান্ত হয়ে মাঝিমাল্লাদের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
১৬.৭ সাতটি সাগরের নাম তোমার শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে খাতায় লেখো।
উত্তর: প্রাচীন পুরাণে বর্ণিত পৃথিবীর সাতটি সাগর হলো— লবণ সাগর (লবণাক্ত), ইক্ষু সাগর (আখ রসের মতো), সুরা সাগর (মদের মতো), ঘৃত সাগর (ঘিয়ের মতো), দধি সাগর (দইয়ের মতো), ক্ষীর সাগর (দুধের মতো) এবং স্বাদুদক সাগর (মিষ্টি জলের)।
(ভৌগোলিক দিক দিয়ে আধুনিক সাতটি সাগর বলতে প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর এবং আরব সাগরকে বোঝানো হতে পারে।)
১৬.৮ কোনো একটি দিনে তোমার ঝড় দেখার কথা বন্ধুকে একটি চিঠি লিখে জানাও।
উত্তর:
প্রিয় বন্ধু অমিত,
আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে গত রবিবারের কালবৈশাখী ঝড় দেখার অভিজ্ঞতার কথা বলব। সেদিন বিকেলে হঠাৎ আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। সোঁ সোঁ শব্দ করে প্রবল বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। আমাদের বাগানের বড়ো আম গাছটা ঝড়ে প্রায় মাটিতে নুয়ে পড়ছিল। বিদ্যুতের চমকানিতে আকাশটা বারবার আলো হয়ে উঠছিল। আমি জানলার ধারে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই ভয়ংকর সুন্দর রূপ দেখছিলাম। কিছুক্ষণ পর যখন বড়ো বড়ো ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হলো, তখন ঝড় থেমে গেল। তোর সাথে দেখা হলে আরও গল্প হবে।
ইতি,
তোর বন্ধু, রাহুল।
১৬.৯ ঝড়ের প্রকৃতির একটি ছবি আঁকো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজের কল্পনায় খাতায় একটি ঝড়ের ছবি আঁকবে। ছবিতে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা থাকবে, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, প্রবল বাতাসে গাছপালা নুয়ে পড়েছে এবং ধুলো উড়ছে— এমন দৃশ্য আঁকতে হবে।)
Sponsored Links