গানের পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী
মূলভাব (Main Theme):
'মুক্তির মন্দির সোপানতলে' মোহিনী চৌধুরীর লেখা একটি অবিস্মরণীয় ও আবেগঘন দেশাত্মবোধক গান। ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন করার জন্য যে সমস্ত বীর বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিজেদের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন বা অকালে ঝরে গেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানো হয়েছে এই গানে। দেশের জন্য শহীদ হওয়া সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ী বীরদের আত্মত্যাগের কথাই এই গানের মূল বিষয়বস্তু।
(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)
(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)
কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু (Detailed Analysis)
প্রথম অংশ: শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
"মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান..."
স্বাধীনতার মন্দিরের সিঁড়িতে বা সোপানে কত শত বীর বিপ্লবী নিজেদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা দেশের মানুষের চোখের জলে (অশ্রুজলে) লেখা আছে। সেই বিপ্লবীদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েই ব্রিটিশদের জেলের (বন্দিশালার) শিকল ভেঙেছে। যে নবীন বা তরুণ প্রাণগুলো স্বাধীনতার নতুন ভোর বা সুপ্রভাত দেখার আগেই অস্তাচলে গেছে (অর্থাৎ অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে), তারা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
স্বাধীনতার মন্দিরের সিঁড়িতে বা সোপানে কত শত বীর বিপ্লবী নিজেদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা দেশের মানুষের চোখের জলে (অশ্রুজলে) লেখা আছে। সেই বিপ্লবীদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েই ব্রিটিশদের জেলের (বন্দিশালার) শিকল ভেঙেছে। যে নবীন বা তরুণ প্রাণগুলো স্বাধীনতার নতুন ভোর বা সুপ্রভাত দেখার আগেই অস্তাচলে গেছে (অর্থাৎ অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে), তারা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
দ্বিতীয় অংশ: মাতৃভূমির মহিমা ও আত্মত্যাগ
"যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি..."
যাঁরা দেশের জন্য শহীদ হয়ে আজ স্বর্গে গেছেন, তাঁরাও জানেন যে স্বর্গের চেয়েও নিজের মাতৃভূমি বা জন্মভূমি অনেক বেশি প্রিয়। তাঁদের সেই আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ দেশমাতৃকার সেবার ব্রতে (স্বদেশব্রতে) দীক্ষা নিয়ে সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ী (যাঁরা মৃত্যুকে জয় করেছেন) বীরদের চরণে বা পায়ে আমরা চুমু খাই বা সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
যাঁরা দেশের জন্য শহীদ হয়ে আজ স্বর্গে গেছেন, তাঁরাও জানেন যে স্বর্গের চেয়েও নিজের মাতৃভূমি বা জন্মভূমি অনেক বেশি প্রিয়। তাঁদের সেই আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ দেশমাতৃকার সেবার ব্রতে (স্বদেশব্রতে) দীক্ষা নিয়ে সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ী (যাঁরা মৃত্যুকে জয় করেছেন) বীরদের চরণে বা পায়ে আমরা চুমু খাই বা সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
তৃতীয় অংশ: বিজয়লক্ষ্মীর বরণমালা
"যারা জীর্ণ জাতির বুকে জাগাল আশা..."
যেসব বীরেরা মৃতপ্রায়, পরাধীন এবং জরাজীর্ণ ভারতবাসীর বুকে নতুন আশার আলো জাগিয়েছিলেন এবং নীরব ও বিষণ্ণ (মৌন মলিন) মানুষের মুখে প্রতিবাদের ভাষা জুগিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। আজ স্বাধীন ভারতে বিজয়ের দেবী (বিজয়লক্ষ্মী) সেইসব বীর শহীদদের গলাতেই রক্তের মতো লাল রঙের পদ্মফুলের (রক্তকমল) তৈরি বিজয়মাল্য পরিয়ে দেবেন।
যেসব বীরেরা মৃতপ্রায়, পরাধীন এবং জরাজীর্ণ ভারতবাসীর বুকে নতুন আশার আলো জাগিয়েছিলেন এবং নীরব ও বিষণ্ণ (মৌন মলিন) মানুষের মুখে প্রতিবাদের ভাষা জুগিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। আজ স্বাধীন ভারতে বিজয়ের দেবী (বিজয়লক্ষ্মী) সেইসব বীর শহীদদের গলাতেই রক্তের মতো লাল রঙের পদ্মফুলের (রক্তকমল) তৈরি বিজয়মাল্য পরিয়ে দেবেন।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| মুক্তি | স্বাধীনতা |
| সোপানতল | সিঁড়ির নীচের ধাপ বা তলা |
| বলিদান | আত্মত্যাগ / প্রাণ বিসর্জন |
| অশ্রুজল | চোখের জল |
| বিপ্লবী | যিনি বিপ্লব বা পরিবর্তন আনেন / স্বাধীনতা সংগ্রামী |
| রাঙা | লাল / রক্তবর্ণ |
| বন্দিশালা | কারাগার বা জেলখানা |
| সুপ্রভাত | সুন্দর সকাল / নতুন ভোর |
| তরুণ-অরুণ | নবীন সূর্য (এখানে তরুণ ও তেজস্বী বিপ্লবীদের বোঝানো হয়েছে) |
| অস্তাচল | যে কাল্পনিক পাহাড়ে সূর্য অস্ত যায় (এখানে মৃত্যু বোঝানো হয়েছে) |
| স্বর্গগত | মৃত বা যারা স্বর্গে গেছেন |
| স্বদেশব্রত | নিজের দেশের বা মাতৃভূমির সেবা করার সংকল্প |
| মহাদীক্ষা | মহান মন্ত্র বা মহান আদর্শ গ্রহণ |
| মৃত্যুঞ্জয়ী | যিনি মৃত্যুকে জয় করে অমর হয়েছেন |
| চরণ চুমি | পায়ে চুমু খাই বা প্রণাম করি |
| জীর্ণ | জরাজীর্ণ / দুর্বল বা ভগ্নপ্রায় |
| মৌন | নীরব / বোবা বা বাক্যহীন |
| মলিন | ম্লান / বিষণ্ণ বা দুঃখিত |
| রক্তকমল | রক্তের মতো লাল পদ্মফুল |
| বিজয়লক্ষ্মী | বিজয়ের দেবী বা সাফল্যের প্রতীক |
| মাল্যখানি | মালাটি |
কবির পরিচিতি (About the Author)
মোহিনী চৌধুরী (১৯২০-১৯৮৭)
তিনি বাংলা সংগীত জগতের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের একজন অত্যন্ত বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গীতিকার ছিলেন। তাঁর লেখা কথায় শচীন দেববর্মণ, জগন্ময় মিত্র, মীরা দেববর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ভি. বালসারা, মান্না দে প্রমুখ কিংবদন্তি সুরকার ও শিল্পীদের কণ্ঠে গাওয়া গানগুলি আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে' তাঁর লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আবেগঘন একটি দেশাত্মবোধক গান, যা আজও স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে প্রতিটি বাঙালির মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
Sponsored Links