মুক্তির মন্দির সোপানতলে (Muktir Mondir Sopantole) Class 5 Bengali Overview & Summary

Detailed overview, line-by-line meaning, and vocabulary for WBBSE Class 5 Bengali (পাতাবাহার) patriotic song 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে' by Mohini Chowdhury.

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 18 April 2026 Last Update: 05 June 2026

গানের পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)

গীতিকার: মোহিনী চৌধুরী

মূলভাব (Main Theme): 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে' মোহিনী চৌধুরীর লেখা একটি অবিস্মরণীয় ও আবেগঘন দেশাত্মবোধক গান। ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন করার জন্য যে সমস্ত বীর বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিজেদের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন বা অকালে ঝরে গেছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানানো হয়েছে এই গানে। দেশের জন্য শহীদ হওয়া সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ী বীরদের আত্মত্যাগের কথাই এই গানের মূল বিষয়বস্তু।

(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)

কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু (Detailed Analysis)

প্রথম অংশ: শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

"মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান..."
স্বাধীনতার মন্দিরের সিঁড়িতে বা সোপানে কত শত বীর বিপ্লবী নিজেদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা দেশের মানুষের চোখের জলে (অশ্রুজলে) লেখা আছে। সেই বিপ্লবীদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েই ব্রিটিশদের জেলের (বন্দিশালার) শিকল ভেঙেছে। যে নবীন বা তরুণ প্রাণগুলো স্বাধীনতার নতুন ভোর বা সুপ্রভাত দেখার আগেই অস্তাচলে গেছে (অর্থাৎ অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে), তারা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।

দ্বিতীয় অংশ: মাতৃভূমির মহিমা ও আত্মত্যাগ

"যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি..."
যাঁরা দেশের জন্য শহীদ হয়ে আজ স্বর্গে গেছেন, তাঁরাও জানেন যে স্বর্গের চেয়েও নিজের মাতৃভূমি বা জন্মভূমি অনেক বেশি প্রিয়। তাঁদের সেই আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ দেশমাতৃকার সেবার ব্রতে (স্বদেশব্রতে) দীক্ষা নিয়ে সেইসব মৃত্যুঞ্জয়ী (যাঁরা মৃত্যুকে জয় করেছেন) বীরদের চরণে বা পায়ে আমরা চুমু খাই বা সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।

তৃতীয় অংশ: বিজয়লক্ষ্মীর বরণমালা

"যারা জীর্ণ জাতির বুকে জাগাল আশা..."
যেসব বীরেরা মৃতপ্রায়, পরাধীন এবং জরাজীর্ণ ভারতবাসীর বুকে নতুন আশার আলো জাগিয়েছিলেন এবং নীরব ও বিষণ্ণ (মৌন মলিন) মানুষের মুখে প্রতিবাদের ভাষা জুগিয়েছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। আজ স্বাধীন ভারতে বিজয়ের দেবী (বিজয়লক্ষ্মী) সেইসব বীর শহীদদের গলাতেই রক্তের মতো লাল রঙের পদ্মফুলের (রক্তকমল) তৈরি বিজয়মাল্য পরিয়ে দেবেন।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থ
মুক্তিস্বাধীনতা
সোপানতলসিঁড়ির নীচের ধাপ বা তলা
বলিদানআত্মত্যাগ / প্রাণ বিসর্জন
অশ্রুজলচোখের জল
বিপ্লবীযিনি বিপ্লব বা পরিবর্তন আনেন / স্বাধীনতা সংগ্রামী
রাঙালাল / রক্তবর্ণ
বন্দিশালাকারাগার বা জেলখানা
সুপ্রভাতসুন্দর সকাল / নতুন ভোর
তরুণ-অরুণনবীন সূর্য (এখানে তরুণ ও তেজস্বী বিপ্লবীদের বোঝানো হয়েছে)
অস্তাচলযে কাল্পনিক পাহাড়ে সূর্য অস্ত যায় (এখানে মৃত্যু বোঝানো হয়েছে)
স্বর্গগতমৃত বা যারা স্বর্গে গেছেন
স্বদেশব্রতনিজের দেশের বা মাতৃভূমির সেবা করার সংকল্প
মহাদীক্ষামহান মন্ত্র বা মহান আদর্শ গ্রহণ
মৃত্যুঞ্জয়ীযিনি মৃত্যুকে জয় করে অমর হয়েছেন
চরণ চুমিপায়ে চুমু খাই বা প্রণাম করি
জীর্ণজরাজীর্ণ / দুর্বল বা ভগ্নপ্রায়
মৌননীরব / বোবা বা বাক্যহীন
মলিনম্লান / বিষণ্ণ বা দুঃখিত
রক্তকমলরক্তের মতো লাল পদ্মফুল
বিজয়লক্ষ্মীবিজয়ের দেবী বা সাফল্যের প্রতীক
মাল্যখানিমালাটি

কবির পরিচিতি (About the Author)

মোহিনী চৌধুরী (১৯২০-১৯৮৭)

তিনি বাংলা সংগীত জগতের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের একজন অত্যন্ত বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গীতিকার ছিলেন। তাঁর লেখা কথায় শচীন দেববর্মণ, জগন্ময় মিত্র, মীরা দেববর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ভি. বালসারা, মান্না দে প্রমুখ কিংবদন্তি সুরকার ও শিল্পীদের কণ্ঠে গাওয়া গানগুলি আজও মানুষের মুখে মুখে ঘোরে। 'মুক্তির মন্দির সোপানতলে' তাঁর লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আবেগঘন একটি দেশাত্মবোধক গান, যা আজও স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে প্রতিটি বাঙালির মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
Sponsored Links

মুক্তির মন্দির সোপানতলে (Class 5 Bengali) - প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য

'মুক্তির মন্দির সোপানতলে' গানটি বিখ্যাত বাঙালি গীতিকার মোহিনী চৌধুরী রচনা করেছেন।

ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করার জন্য যে সমস্ত তরুণ বিপ্লবী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিজেদের প্রাণ বলিদান দিয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, এই গানে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

যেসব বীর শহীদরা পরাধীন ও জীর্ণ জাতির বুকে স্বাধীনতার আশা জাগিয়েছিলেন এবং নীরব মানুষের মুখে প্রতিবাদের ভাষা দিয়েছিলেন, বিজয়ের দেবী বা বিজয়লক্ষ্মী তাঁদের গলাতেই রক্তকমলের মালা পরিয়ে দেবেন।