কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম (Overview)
কবি: কাজী নজরুল ইসলাম
মূলভাব (Main Theme):
'চল্ চল্ চল্' বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা একটি বিখ্যাত রণসংগীত বা মার্চিং সং (Marching Song)। পরাধীন ভারতবর্ষে তরুণ ও যুবক সমাজকে দেশের মুক্তির জন্য জাগিয়ে তুলতে কবি এই গানটি রচনা করেছিলেন। এই কবিতায় তারুণ্যের অসীম শক্তি, বাঁধভাঙা উল্লাস এবং সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই গানটি তরুণ প্রজন্মের মনে নতুন প্রাণ ও উদ্যম সঞ্চার করে।
(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)
(বিঃদ্রঃ— পাঠ্যবইতে এই অধ্যায়ের কোনো "হাতে কলমে" বা প্রশ্ন-উত্তর অংশ নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে কবিতাটির বিস্তারিত আলোচনা ও শব্দার্থ দেওয়া হলো।)
কবিতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু (Detailed Analysis)
প্রথম অংশ: তরুণদের প্রতি এগিয়ে চলার আহ্বান
"উর্দ্ধ-গগনে বাজে মাদল, নিম্নে উতলা ধরণী-তল..."
কবি বলেছেন, উপরের আকাশে আজ মাদল (রণবাদ্য) বাজছে, আর নীচে পৃথিবী আনন্দে ও উত্তেজনায় চঞ্চল বা উতলা হয়ে উঠেছে। সকালের নতুন সূর্যের মতো নবীন ও তরুণ দলকে কবি সমস্ত জড়তা ঝেড়ে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার (চল্ চল্ চল্) ডাক দিয়েছেন।
কবি বলেছেন, উপরের আকাশে আজ মাদল (রণবাদ্য) বাজছে, আর নীচে পৃথিবী আনন্দে ও উত্তেজনায় চঞ্চল বা উতলা হয়ে উঠেছে। সকালের নতুন সূর্যের মতো নবীন ও তরুণ দলকে কবি সমস্ত জড়তা ঝেড়ে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার (চল্ চল্ চল্) ডাক দিয়েছেন।
দ্বিতীয় অংশ: সমস্ত বাধা পার হয়ে নতুন সকাল আনা
"ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত..."
তরুণ দল অসীম শক্তির অধিকারী। তারা ভোরের দরজায় আঘাত হেনে পরাধীনতার অন্ধকার দূর করে স্বাধীনতার এক নতুন রাঙা প্রভাত বা সকাল নিয়ে আসবে। পথের মাঝে বিন্ধ্যাচল পর্বতের মতো যত বড়ো বাধাই আসুক না কেন, এবং যত গভীর অন্ধকার রাতই হোক না কেন, তরুণরা তা ভেঙে চুরমার করে দেবে।
তরুণ দল অসীম শক্তির অধিকারী। তারা ভোরের দরজায় আঘাত হেনে পরাধীনতার অন্ধকার দূর করে স্বাধীনতার এক নতুন রাঙা প্রভাত বা সকাল নিয়ে আসবে। পথের মাঝে বিন্ধ্যাচল পর্বতের মতো যত বড়ো বাধাই আসুক না কেন, এবং যত গভীর অন্ধকার রাতই হোক না কেন, তরুণরা তা ভেঙে চুরমার করে দেবে।
তৃতীয় অংশ: নতুন প্রাণের সঞ্চার ও আগল ভাঙার ডাক
"নব নবীনের গাহিয়া গান, সজীব করিব মহাশ্মশান..."
তরুণরা নতুনের গান গেয়ে নির্জীব ও মৃতপ্রায় এই সমাজকে (মহাশ্মশান) আবার সজীব করে তুলবে। তাদের বাহুতে রয়েছে অসীম নতুন বল বা শক্তি। মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়েও তারা জীবনের জয়গান গাইবে। তাই কবি নওজোয়ান বা তরুণ যুবকদের সমস্ত বাধা ও দরজার আগল ভেঙে শুধু সামনের দিকে এগিয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
তরুণরা নতুনের গান গেয়ে নির্জীব ও মৃতপ্রায় এই সমাজকে (মহাশ্মশান) আবার সজীব করে তুলবে। তাদের বাহুতে রয়েছে অসীম নতুন বল বা শক্তি। মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়েও তারা জীবনের জয়গান গাইবে। তাই কবি নওজোয়ান বা তরুণ যুবকদের সমস্ত বাধা ও দরজার আগল ভেঙে শুধু সামনের দিকে এগিয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| উর্দ্ধ-গগন | উপরের আকাশ |
| মাদল | এক ধরনের ঢোল বা বাদ্যযন্ত্র |
| উতলা | ব্যাকুল বা চঞ্চল |
| ধরণী-তল | পৃথিবী বা মাটি |
| অরুণ | সকালের সূর্য |
| প্রাত | সকাল বা ভোর |
| ঊষা | ভোরবেলা |
| হানি | হেনে বা আঘাত করে |
| টুটাব | ভাঙব বা ধ্বংস করব |
| তিমির | অন্ধকার |
| বিন্ধ্যাচল | বিন্ধ্য পর্বত (এখানে বিশাল বাধা অর্থে ব্যবহৃত) |
| মহাশ্মশান | বিশাল শ্মশান বা মৃতপুরী (এখানে নির্জীব সমাজকে বোঝানো হয়েছে) |
| নৌ-জোয়ান | তরুণ যুবক বা নতুন যৌবনদীপ্ত মানুষ |
| তোরণ | সদর দরজা বা প্রবেশদ্বার |
| আগল | দরজার খিল বা বাধা |
কবির পরিচিতি (About the Author)
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)
বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত বিদ্রোহী কবি হিসেবে তিনি পরিচিত। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল শাণিত তলোয়ারের মতো। তাঁর রচিত গান ও কবিতা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবীদের ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
আমাদের পাঠ্য এই গানটি কবির সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মুসলিম লিটারারি সোসাইটি-র দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে গানটি রচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই গানটিকে তাদের জাতীয় সেনা সংগীত (National Military Song)-এর মর্যাদা দেয়।
আমাদের পাঠ্য এই গানটি কবির সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় মুসলিম লিটারারি সোসাইটি-র দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে গানটি রচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই গানটিকে তাদের জাতীয় সেনা সংগীত (National Military Song)-এর মর্যাদা দেয়।
Sponsored Links