ফণীমনসা ও বনের পরি Class 5 Bengali Question Answer

Complete textbook solutions, summary, word meanings, and grammar for WBBSE Class 5 Bengali (পাতাবাহার) drama 'ফণীমনসা ও বনের পরি' by Biru Chattopadhyay.

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 18 April 2026 Last Update: 05 June 2026

নাটকের পরিচিতি ও সারমর্ম

লেখক: বীরু চট্টোপাধ্যায়

সারসংক্ষেপ: 'ফণীমনসা ও বনের পরি' একটি শিক্ষামূলক নাটক। গভীর বনের মাঝে থাকা একটি ছোট্ট ফণীমনসা গাছ তার নিজের কাঁটাভরা ছুঁচোলো পাতা নিয়ে খুব অখুশি ছিল। সে বারে বারে বনের পরির কাছে নিজের পাতা পালটে দেওয়ার আবদার করতে থাকে।

প্রথমে সে সোনার পাতা চায়, কিন্তু ডাকাতেরা এসে তার সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যায়। এরপর সে কাচের পাতা চায়, কিন্তু ভয়ংকর ঝড়ে ধাক্কা খেয়ে কাচের সব পাতা গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। তারপর সে পালং শাকের মতো কচি পাতা চায়, কিন্তু একটি ছাগল এসে তার সব কচি পাতা খেয়ে ফেলে। অবশেষে সে বুঝতে পারে যে নিজের রূপ বা অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকলে দুর্দশা হয়। শেষে সে নিজের কাঁটাভরা পাতাই পরির কাছে ফেরত চায়, যা তাকে বাইরের বিপদ থেকে রক্ষা করবে।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থ
আপশোশআক্ষেপ বা দুঃখ
বিতিকিচ্ছিরিখুব কুৎসিত বা বিশ্রী
তথাস্তুতবে তাই হোক
রামধনুসূর্যের আলোয় মেঘের কনায় সৃষ্ট সাত রঙের প্রতিবিম্ব
মৃদুমন্দআলতো ও মধুর
স্মরিস্মরণ করি বা মনে করি
স্বচক্ষেনিজের চোখে
বায়নাক্কাআবদার বা বায়না
করুণাদয়া
দেমাকঅহংকার বা গর্ব
হাড়-জিরজিরেঅত্যন্ত রোগা বা কঙ্কালসার

হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

১.১ ফণীমনসা তুমি দেখেছ? কোথায় দেখেছ?
উত্তর: হ্যাঁ, আমি ফণীমনসা গাছ দেখেছি। আমাদের বাড়ির টবে এবং গ্রামের ঝোপঝাড়ে এই গাছ দেখেছি।

১.২ আর কোন কোন গাছ তুমি দেখেছ যাদের কাঁটা আছে?
উত্তর: আমি বাবলা, বেল, গোলাপ, লেবু, কুল এবং বিভিন্ন ক্যাকটাস জাতীয় গাছ দেখেছি যাদের গায়ে কাঁটা আছে।

১.৩ গাছের কাঁটা কীভাবে তাকে বাঁচায়?
উত্তর: গাছের কাঁটা থাকায় গরু-ছাগল বা অন্য প্রাণীরা সহজে সেই গাছের পাতা বা ডাল খেতে পারে না। কাঁটাগুলো আত্মরক্ষার অস্ত্র হিসেবে কাজ করে এবং গাছটিকে বাইরের আঘাত থেকে বাঁচায়।

১.৪ পরির গল্প তুমি কোথায় পড়েছ?
উত্তর: আমি বিভিন্ন রূপকথার বইতে, যেমন— 'ঠাকুমার ঝুলি', গ্রিম ভাইদের রূপকথায় এবং উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর গল্পে পরির কথা পড়েছি।

১.৫ সোনার মতো দামি আর কোন ধাতুর কথা তুমি জানো?
উত্তর: সোনার মতো দামি অন্যান্য ধাতুগুলো হলো রুপো (রূপা) এবং প্ল্যাটিনাম।

২. নীচের এলোমেলো বর্ণগুলি সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:

লতকাডাদ ➔ ডাকাতদল
রিবিচ্ছিতিকি ➔ বিতিকিচ্ছিরি
নণীফসাম ➔ ফণীমনসা
কংপাশাল ➔ পালংশাক

৩. এলোমেলো শব্দগুলিকে সাজিয়ে ঠিক বাক্যটি লেখো:

৩.১ বলো চাও কীরকম তুমি পাতা।
উত্তর: তুমি কীরকম পাতা চাও বলো。

৩.২ হয়েছে তো সুবুদ্ধি তোমার এই।
উত্তর: এই তো তোমার সুবুদ্ধি হয়েছে。

৩.৩ না আর পাতা চাই সোনার।
উত্তর: সোনার পাতা আর চাই না।

৪. নীচের শব্দগুলোর একই অর্থ বোঝায় এমন শব্দ নাটক থেকে খুঁজে বের করো:

শব্দ নাটকে থাকা শব্দ
বিশ্রীবিতিকিচ্ছিরি
অনেকঅজস্র
বল্লমবর্শা
ভাগ্যবরাত
অবস্থাহাল
গর্বদেমাক
হঠাৎসহসা
ভীষণভয়ানক
প্রতিজ্ঞাপণ
সমস্তবেবাক
আবদারবায়নাক্কা
শরীরঅঙ্গ
তবে তাই হোকতথাস্তু
কঙ্কালসারহাড়-জিরজিরে

৫. দাগ-দেওয়া অংশগুলি কোনো না কোনো আওয়াজ বোঝায়। এমন শব্দ নাটক থেকে খুঁজে লেখো:

উত্তর: সরাৎ সরাৎ, টুং-টাং, হু-হু-হু, শোঁ-শোঁ-শোঁ, মট মট মট, পত পত পত, ঝন ঝন ঝন।

৬. মুখে বললে নীচের শব্দগুলো কীভাবে বলবে লেখো:

তোমায় স্মরি: হাত জোড় করে ভক্তিভরে মাথা নিচু করে বলব।
করুণা করি বাঁচাও: কাতর হয়ে এবং কেঁদে কেঁদে মিনতি করে বলব।

৭. সমার্থক শব্দ বসিয়ে নীচের বাক্যগুলি আবার লেখো:

(শব্দঝুড়ি: অবিরাম, অবস্থা, গগন, যন্ত্রণা, চারাগাছ, প্রবল, আরম্ভ)

৭.১ আহা-হা ব্যথায় মরি।
উত্তর: আহা-হা যন্ত্রণায় মরি।

৭.২ শুরু হলো কচি গাছের অঝোর কান্না।
উত্তর: আরম্ভ হলো চারাগাছের অবিরাম কান্না।

৭.৩ ডাকাতেরা আমার কী হাল করে রেখে গেছে।
উত্তর: ডাকাতেরা আমার কী অবস্থা করে রেখে গেছে।

৭.৪ আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়।
উত্তর: গগন দিয়ে ধেয়ে এল প্রবল ঝড়।

৮. দাগ-দেওয়া অংশগুলি আর কীভাবে লিখতে পারো? বাক্য বদলে লেখো:

(শব্দঝুড়ি: গর্বে বুক ভরে ওঠে, মাফ করে দাও, লোভ জাগছে, হিংসায় জ্বলে ওঠে)

৮.১ মন তার রি রি করে ওঠে।
উত্তর: মন তার হিংসায় জ্বলে ওঠে।

৮.২ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাক যেন মাটিতে পা পড়ে না।
উত্তর: ছোট্ট গাছটির এবার গর্বে বুক ভরে ওঠে।

৮.৩ জিবে জল ঝরছে তোরে পেয়ে গো।
উত্তর: লোভ জাগছে তোরে পেয়ে গো।

৮.৪ ঘাট হয়েছে কানে ধরি।
উত্তর: মাফ করে দাও কানে ধরি।

৯. 'কাচ-ফাচ', 'কাপড়-চোপড়' এর মতো আর কটা শব্দ লেখো:

উত্তর: গাছ-টাছ, পাতা-টাতা, বই-টই, জল-টল, ওষুধ-বিষুধ।

১০. 'কচি কচি' -র মতো শব্দ পরপর দুবার ব্যবহার করে একের জায়গায় অনেক বোঝাতে পারবে?

উত্তর: হ্যাঁ, যেমন— ছোটো ছোটো, বড়ো বড়ো, গুঁড়ো গুঁড়ো, কেঁদে কেঁদে, ছিঁড়ে ছিঁড়ে। নাটকেও এই ধরনের শব্দ অনেকবার ব্যবহৃত হয়েছে।

১১. বিপরীতার্থক শব্দ খুঁজে বের করে বাক্য রচনা করো:

দুবুদ্ধি ➔ সুবুদ্ধি: ফণীমনসা গাছের অবশেষে সুবুদ্ধি হয়েছিল।
অসন্তুষ্ট ➔ সন্তুষ্ট: নিজের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
অসুন্দর ➔ সুন্দর: পরি ফণীমনসাকে সুন্দর সোনার পাতা দিয়েছিল।
দুঃখ ➔ শান্তি / আনন্দ: নিজের কাঁটা পাতা ফিরে পেয়ে গাছটির মনে শান্তি ফিরে এল।
অল্প ➔ অজস্র: ফণীমনসার ডালে অজস্র সোনার পাতা গজিয়েছিল।
বুড়ো ➔ বাচ্চা: বাচ্চা গাছটি ব্যথায় অঝোরে কাঁদছিল।

১২. 'মন্দ' শব্দটির দুটি আলাদা অর্থ দিয়ে বাক্য রচনা করো:

মন্দ (হালকা/ধীর): বিকেলে নদীর ধারে মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে।
মন্দ (খারাপ): ছেলেটি পড়াশোনায় তেমন ভালো না হলেও, স্বভাবে মন্দ নয়।

১৩. বাক্য রচনা করো:

ওলটপালট: কাল রাতের কালবৈশাখী ঝড় সব কিছু ওলটপালট করে দিয়েছে।
দুর্দান্ত: আজ বিকেলে মাঠে একটা দুর্দান্ত ফুটবল ম্যাচ হবে।
ঝিকিমিকি: রোদের আলো কাচের ওপর পড়ে ঝিকিমিকি করছে।
স্বচক্ষে: আমি স্বচক্ষে দেখেছি লোকটা চোরটাকে ধরল।
দুর্দশা: বন্যায় গ্রামের মানুষদের খুব দুর্দশা হয়েছে।

১৪. কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো:

১৪.১ আ! কি শান্তি! ➔ বিস্ময়বোধক বাক্য
১৪.২ পাতা পালটাতে চাও? ➔ প্রশ্নবোধক বাক্য
১৪.৩ সোনার পাতা আর চাই না। ➔ নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য
১৪.৪ বেশ তাই হোক! তথাস্তু! ➔ অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
১৪.৫ এবার তুমি আমায় কাচের পাতা দাও। ➔ অনুজ্ঞাসূচক বা নির্দেশক বাক্য

১৫. ছোটো ছোটো বাক্যে ভেঙে লেখো:

১৫.১ কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল।
উত্তর: কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ল। রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল।

১৫.২ পরি অদৃশ্য হতেই ফণীমনসার গা ভরে দেখা দিল কচি নরম পাতা।
উত্তর: পরি অদৃশ্য হয়ে গেল। ফণীমনসার গা ভরে কচি নরম পাতা দেখা দিল।

১৫.৩ ডাকাতরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিয়ে পোঁটলা বেঁধে ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।
উত্তর: ডাকাতরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিল। তারা পোঁটলা বাঁধল। ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।

১৫.৪ ভয়ানক ঝড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।
উত্তর: ভয়ানক ঝড় এল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।

১৬. পাশাপাশি ছোটো ছোটো বাক্যগুলি যোগ করে একটি বাক্য তৈরি করো:

১৬.১ একসময় ঝড় থামল। আর শুরু হল বাচ্চা গাছের অঝোর কান্না।
উত্তর: একসময় ঝড় থামলে বাচ্চা গাছের অঝোর কান্না শুরু হলো।

১৬.২ এমন সময়ে সে পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। ওর কান্না শুনে থমকে দাঁড়াল সে।
উত্তর: এমন সময়ে সে পথ দিয়ে যেতে যেতে ওর কান্না শুনে বনের পরি থমকে দাঁড়াল।

১৬.৩ গভীর বন। তার ভেতরে ছোট্ট একটি ফণীমনসা গাছ। গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও শান্তি নেই।
উত্তর: গভীর বনের ভেতরে ছোট্ট একটি ফণীমনসা গাছ থাকলেও তার মনে এক ফোঁটাও শান্তি নেই।

১৬.৪ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাকে যেন মাটিতে পা পড়ে না। মৃদুমন্দ বাতাসে হেলতে দুলতে লাগল সে মজা করে।
উত্তর: ছোট্ট গাছটির দেমাকে মাটিতে পা না পড়ায় সে মৃদুমন্দ বাতাসে মজা করে হেলতে দুলতে লাগল।

১৭. আরো বিশেষণ যোগ করো:

কচি নরম সবুজ পাতা
ছোট্ট ফণীমনসা গাছ
ন্যাড়া হাড়-জিরজিরে চেহারা
জোয়ান বাবরিওয়ালা ডাকাত
ছোট্ট বোকা মেয়ে

১৮. কাল পরিবর্তন করে বাক্যগুলি বদলে লেখো:

১৮.১ আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়। (আগামীকাল এলে কী লিখবে?)
উত্তর: আকাশ দিয়ে ধেয়ে আসবে দুর্দান্ত ঝড়।

১৮.২ বলতে দেরি আছে কিন্তু নিতে দেরি নেই। (গতকাল হয়েছে বলতে হলে কী লিখবে?)
উত্তর: বলতে দেরি ছিল কিন্তু নিতে দেরি ছিল না।

১৮.৩ সে-পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। (এখনই বলা হচ্ছে এমন হলে কী লিখবে?)
উত্তর: সে-পথ দিয়ে যাচ্ছে বনের পরি।

১৯. একটি বাক্যে উত্তর দাও:

১৯.১ ছোট্ট ফণীমনসা গাছের মনে শান্তি ছিল না কেন?
উত্তর: আশেপাশের গাছেদের সুন্দর পাতা দেখে এবং নিজের কাঁটাভরা বিচ্ছিরি পাতার কথা ভেবে ফণীমনসার মনে শান্তি ছিল না।

১৯.২ ফণীমনসা গাছের আশেপাশের গাছগুলোর পাতা কেমন ছিল?
উত্তর: ফণীমনসা গাছের আশেপাশের গাছগুলোর সুন্দর সুন্দর পাতা ছিল।

১৯.৩ ফণীমনসা বারে বারে পাতাগুলো পালটে দেওয়ার আবেদন কার কাছে করছিল?
উত্তর: ফণীমনসা বারে বারে বনের পরির কাছে আবেদন করছিল।

১৯.৪ প্রথমবারের আবেদনে ফণীমনসার গাছ জুড়ে কেমন পাতা হয়েছিল?
উত্তর: প্রথমবারের আবেদনে গাছ জুড়ে ঝলমলে সোনার পাতা গজিয়েছিল।

১৯.৫ সে সব পাতা ফণীমনসা হারালো কী করে?
উত্তর: একদল ডাকাত এসে ফণীমনসার সোনার পাতাগুলো ছিঁড়ে নিয়ে গেল।

১৯.৬ ডাকাতদলকে দেখতে কেমন?
উত্তর: ডাকাতদল জোয়ান এবং তাদের কানে জবাফুল গোঁজা, মাথায় বাবরি চুল ছিল।

১৯.৭ ঝড় এলে ফণীমনসা গাছের কাচের পাতার কী অবস্থা হলো?
উত্তর: ঝড়ের ধাক্কায় কাচের পাতাগুলো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে পড়ে গেল।

১৯.৮ ছোট্ট ফণীমনসা গাছের দেমাকে মাটিতে পা পড়ছিল না কেন?
উত্তর: পরির আশীর্বাদে পালং শাকের মতো কচি নরম সবুজ পাতা পেয়ে ফণীমনসার গর্বে মাটিতে পা পড়ছিল না।

১৯.৯ সেই দেমাক তার ভেঙে গেল কীভাবে?
উত্তর: একটা ছাগল এসে তার কচি পালং পাতাগুলো কচকচ করে খেয়ে নেওয়ায় তার দেমাক ভেঙে গেল।

১৯.১০ শেষপর্যন্ত ফণীমনসা কেমন পাতা চাইল নিজের জন্য?
উত্তর: শেষপর্যন্ত ফণীমনসা তার নিজের পুরোনো কাঁটাভরা ছুঁচোলো পাতাই চাইল।

২০. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:

২০.১ বাচ্চা গাছটি তো মহা খুশি। আনন্দে ডগমগ। - এত আনন্দ কখন হলো বাচ্চা গাছের?
উত্তর: বনের পরির কাছে নিজের বিশ্রী পাতা পালটে ফেলার আবেদন করায় পরি যখন ফণীমনসাকে সুন্দর ঝলমলে সোনার পাতা দিয়ে সাজিয়ে দিল, তখন নিজের নতুন ও দামি রূপ দেখে বাচ্চা গাছটির এত আনন্দ হয়েছিল।

২০.২ ফণীমনসা গাছ কাচের পাতায় ভরে ওঠবার পরে তার চেহারাটি কেমন হয়েছিল?
উত্তর: কাচের পাতায় ভরে ওঠার পর ফণীমনসা গাছটি ঝলমল করে উঠেছিল। সেই কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনুর মতো সাতটি রং ঝিকিমিকি করছিল এবং মৃদু বাতাসে পাতাগুলি ঠোকাঠুকি লেগে সুমধুর টুং-টাং শব্দ তৈরি করছিল।

২০.৩ মৃদু বাতাসে মনের আনন্দে দুলছে ফণীমনসা, এমন সময় ছাগল এসে উপস্থিত হওয়ায় কী ঘটল?
উত্তর: পরি যখন তাকে নরম কচি পালং পাতা দিয়েছিল, ফণীমনসা অহংকারে বাতাসে দুলছিল। কিন্তু একটি ছাগল সেখানে এসে সেই কচি পাতাগুলি দেখতে পায় এবং মজা করে সব কচি পালং পাতা চিবিয়ে খেয়ে গাছটিকে আবার ন্যাড়া করে দেয়।

২০.৪ ছোট্ট গাছটি সত্যিই কি খুব শিক্ষা পেল বলে মনে হচ্ছে তোমার? কেমন সে শিক্ষা?
উত্তর: হ্যাঁ, ছোট্ট ফণীমনসা গাছটি খুব ভালোভাবেই শিক্ষা পেয়েছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে অন্যের রূপ দেখে ঈর্ষা করা বা নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকা উচিত নয়। ঈশ্বর যাকে যেমন রূপ বা গুণ দিয়ে পাঠিয়েছেন, সেটাই তার জন্য সবথেকে ভালো এবং নিরাপদ। সে তার কাঁটাগুলোর মূল্য বুঝতে পেরেছিল, যা তাকে বাইরের বিপদ থেকে বাঁচায়।
Sponsored Links

ফণীমনসা ও বনের পরি (Class 5 Bengali) - প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য

'ফণীমনসা ও বনের পরি' একটি শিক্ষামূলক নাটক যা বীরু চট্টোপাধ্যায় রচনা করেছেন।

ফণীমনসা গাছ তার কাঁটাভরা বিশ্রী পাতা নিয়ে খুব অখুশি ছিল, তাই সে কাঁদে এবং বনের পরির কাছে তার পাতা পালটে দেওয়ার সাহায্য চায়।

ফণীমনসা বুঝতে পারল যে নিজের আসল রূপ বা অবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকলে কেবল বিপদই বাড়ে। ভগবান তাকে যেমন কাঁটাওয়ালা পাতা দিয়েছেন, সেটাই তার জন্য সবচেয়ে ভালো কারণ তা ছাগল বা গরুর হাত থেকে তাকে বাঁচায়।