বিমলার অভিমান (Bimalar Abhiman) Class 5 Bengali Question Answer

Complete textbook solutions, summary, and grammar notes for WBBSE Class 5 Bengali (পাতাবাহার) chapter 'বিমলার অভিমান' by Nabakrishna Bhattacharya.

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 18 April 2026 Last Update: 05 June 2026

কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম

সারসংক্ষেপ: কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য-এর লেখা 'বিমলার অভিমান' কবিতায় একটি ছোট্ট মেয়ের অভিমানের কথা বলা হয়েছে। সারাদিন বাড়ির সমস্ত কাজে বিমলার ডাক পড়ে—ফুল আনা, ভাই কাঁদলে তাকে সামলানো, ছাগল তাড়ানো ইত্যাদি।

কিন্তু যখন ক্ষীর খাওয়ার সময় আসে, তখন দাদা বড়ো এবং ভাই ছোটো হওয়ার যুক্তিতে তাদের বেশি ক্ষীর দেওয়া হয়, আর বিমলার জোটে নামমাত্র। পরিবারের এই বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই বিমলা অভিমান করে ক্ষীর খেতে অস্বীকার করেছে।

হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)

১. নিজে ভেবে লেখো:

১.১ তোমার বাড়িতে বাবা/মা/দাদা/ভাই/দিদি/বোন কে বেশি কাজ করে? তারা কী কী কাজ করে?
উত্তর: আমার বাড়িতে মা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন। তিনি প্রতিদিন সকালে উঠে রান্না করা, ঘর গোছানো, বাসন মাজা, কাপড় কাচা এবং আমাদের পড়াশোনার খেয়াল রাখা সহ যাবতীয় সংসারের কাজ করেন। (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মতো করেও লিখতে পারে)

১.২ বাড়িতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এ বিষয়ে তোমার কী মনে হয় তা লেখো।
উত্তর: আগেকার দিনে এবং আমাদের সমাজের বেশ কিছু পরিবারে আজও মেয়েদের ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তবে বর্তমানে সমাজের ধ্যানধারণা পাল্টেছে। এখন ছেলে-মেয়ে উভয়েই পড়াশোনা ও চাকরি করছে এবং বাড়ির কাজে সমানভাবে অংশ নিচ্ছে। আমার মতে, সংসারের কাজ সবার মিলেমিশে করা উচিত।

১.৩ ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে তফাত করা উচিত নয় - এই নিয়ে যুক্তি দিয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো।
উত্তর:
১) ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই সমান বুদ্ধি, মেধা ও কর্মক্ষমতা রয়েছে।
২) আজকের দিনে মেয়েরাও ছেলেদের পাশাপাশি সব ধরনের পেশায় সফল হচ্ছে।
৩) ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই এই সমাজের দুটি অপরিহার্য অঙ্গ।
৪) দুজনকে সমান সুযোগ ও সম্মান দিলে তবেই দেশ ও সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।
৫) তাই শুধুমাত্র লিঙ্গের ভিত্তিতে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা তফাত করা উচিত নয়।

২. শব্দগুলোর অর্থ পার্থক্য লেখো:

শব্দঅর্থ
ভারবোঝা বা দায়িত্ব
ভাঁড়মাটির তৈরি ছোটো পাত্র / যে ব্যক্তি হাস্যকৌতুক করে
বাঁচাজীবিত থাকা বা প্রাণরক্ষা
বাছাবাছাই করা / স্নেহের সম্বোধন (যেমন- ওরে বাছা)
সোনাএকটি মূল্যবান হলুদ রঙের ধাতু
শোনাকান দিয়ে শ্রবণ করা বা কথা মানা

৩. নীচের প্রতিটি শব্দের দুটি করে অর্থ লেখো:

বেলা: ১) সময় (যেমন- সকাল বেলা)। ২) সমুদ্রের তীর (যেমন- বেলাভূমি)।
দাম: ১) মূল্য (যেমন- জিনিসপত্রের দাম)। ২) কচুরিপানা বা জলজ উদ্ভিদ (যেমন- দামের ছড়া)।

৪. পাঠ্য কবিতাটি থেকে অন্ত্যমিল খুঁজে নিয়ে লেখো (৫টি):

একটি করে দেওয়া হলো: নুন — চুন
উত্তর: কবিতা থেকে পাওয়া অন্যান্য অন্ত্যমিলযুক্ত শব্দগুলি হলো—
• মুড়িয়ে — তাড়িয়ে
• করো — মরো
• যেই — নেই
• তাই — ভাই
• চূড়ো — নুড়ো

৫. 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:

'ক' স্তম্ভ 'খ' স্তম্ভ (সঠিক উত্তর)
নুনলবণ
দুরন্তদুষ্টু
ছাইভস্ম
ফরমাসআদেশ
চূড়োশিখর

৬. শব্দঝুড়ি থেকে নিয়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো:

শব্দঝুড়ি: ক্ষীর, বেশি, ছাই, দুরন্ত, বিমলা, নুন, ঝাল, ছোটো, পান, নটে গাছ, খোকা, কম

বিশেষ্য (Noun): ক্ষীর, ছাই, বিমলা, নুন, পান, নটে গাছ, খোকা।
বিশেষণ (Adjective): বেশি, দুরন্ত, ঝাল, ছোটো, কম।

৭. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও:

৭.১ খাব না তো আমি।
৭.২ যা বিমলা যা।
৭.৩ ও বিমলা, নে মা একবার।
৭.৪ অবু বেশি খাবে।
৭.৫ দে মা এনে চুন।

৮. শূন্যস্থান পূরণ করো:

৮.১ পূজা করি, দাও এনে, সোনামনি মা।
৮.২ কাঁদিলে দুরন্ত খোকা রাখা তারে ভার।
৮.৩ ছাগলেতে নটে গাছ খেলে যে মুড়িয়ে।
৮.৪ পানটা যে বড়ো ঝাল, দে মা এনে চুন।

৯. যেটা বেমানান তার নীচে দাগ দাও:

৯.১ ক্ষীর, ছাগল, বিমলা, অবনী, দাদা
(কারণ: ক্ষীর অপ্রাণীবাচক বস্তু, বাকিরা প্রাণী/চরিত্র)

৯.২ ফুল, রাধু, বিমলা, সোনামনি মা, পূজা
(কারণ: পূজা একটি কাজের নাম, বাকিগুলো চরিত্র বা বস্তুর নাম)

৯.৩ সোনার চূড়ো, ছাইয়ের নুড়ো, দল, বিমলা, মাধু
(কারণ: সোনার চূড়ো ও ছাইয়ের নুড়ো আলংকারিক শব্দ, বাকিরা ব্যক্তিবাচক)

১০. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:

দাও - নাও
বড়ো - ছোটো
বেশি - কম
ঝাল - মিষ্টি
আসে - যায়

১১. বাক্য রচনা করো:

ক্ষীর: আমার ঠাকুমা খুব সুন্দর ক্ষীর তৈরি করতে পারেন।
দুরন্ত: ছোটো ছেলেটি সারাদিন দুরন্তপনা করে বেড়ায়।
ছাই: উনুনের ছাই দিয়ে আগেকার দিনে গ্রামের মানুষ বাসন মাজতো।
নটেগাছ: ছাগলটা আমাদের বাগানের নটেগাছটা মুড়িয়ে খেয়ে নিয়েছে।
চুন: দাদু পানের সঙ্গে সামান্য চুন মিশিয়ে খেতে ভালোবাসেন।

১২. শব্দগুলো ঠিকমতো সাজিয়ে বাক্য তৈরি করো:

১২.১ পরিমাণে দাদার কম বিমলার থেকে ক্ষীর
উত্তর: দাদার থেকে বিমলার ক্ষীর পরিমাণে কম।

১২.২ হয় বিমলাকে ফুল পূজার আনতে
উত্তর: পূজার ফুল আনতে হয় বিমলাকে।

১২.৩ করে সবার পালন বিমলা ফরমাস সব
উত্তর: সবার সব ফরমাস পালন করে বিমলা।

১২.৪ মেয়ে বিমলার অবিচার প্রতি শুধু বলে হয় করা
উত্তর: মেয়ে বলে বিমলার প্রতি শুধু অবিচার করা হয়।

১২.৫ নয় করা ছেলেমেয়ের বৈষম্য মধ্যে উচিত
উত্তর: ছেলেমেয়ের মধ্যে বৈষম্য করা উচিত নয়।

১৩. কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো:

১৩.১ খাব না তো আমি। — না-সূচক বাক্য / নেতিবাচক বাক্য।
১৩.২ যা বিমলা যা। — অনুজ্ঞাসূচক বাক্য (আদেশ)।
১৩.৩ ছাগলেতে নটেগাছ খেলে যে মুড়িয়ে। — বিবৃতিমূলক বাক্য।
১৩.৪ আমার বেলাই বুঝি, ক্ষীর মাত্র নাম-ই? — প্রশ্নবোধক বাক্য।

১৪. নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সম্পর্কিত প্রশ্ন:

১৪.১ কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

১৪.২ তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য দুটি বই হলো 'বালক পাঠ' এবং 'শিশুপাঠ'।

১৪.৩ তিনি কোন কোন পত্র-পত্রিকা সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: তিনি 'সখা' পত্রিকার সম্পাদক এবং 'মাসিক বসুমতী' পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন।

১৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

১৫.১ বিমলাকে সারাদিন কোন কোন কাজ করতে হয়?
উত্তর: বিমলাকে সারাদিন বাড়ির নানা কাজ করতে হয়। যেমন - পূজার ফুল আনা, দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে রাখা বা সামলানো, ছাগলে নটে গাছ খেলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া, দাদা খেতে বসলে নুন দেওয়া এবং পানের ঝাল হলে চুন এনে দেওয়া ইত্যাদি কাজ বিমলাকে করতে হয়।

১৫.২ বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম কী? সে ও তার দাদা বেশি বেশি খাবার পাবে কেন?
উত্তর: বিমলার ছোটো ভাইয়ের নাম অবনী (বা অবু)। বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী, অবু ছোটো ভাই তাই সে বেশি খাবার পাবে, আর দাদা বয়সে বড়ো তাই সেও বেশি খাবার পাবে।

১৫.৩ 'তাই বুঝি বিমলার কমে গেছে দাম-ই' - বিমলার দাম কমে গেছে মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: সারাদিন বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম করা সত্ত্বেও খাবার সময় বিমলাকে দাদা বা ভাই অবুর থেকে অনেক কম ক্ষীর দেওয়া হয়। দাদাকে দেওয়া হয় সোনার চূড়োর মতো উঁচু করে, ভাইকে দেওয়া হয় বেশি, আর বিমলার ভাগে জোটে নামমাত্র। কাজের বেলায় তার ডাক পড়লেও খাবারের বেলায় তাকে অবহেলা করা হয়। তাই অভিমানী বিমলার মনে হয়েছে তার দাম কমে গেছে।

১৫.৪ বিমলার প্রতি তোমার অনুভূতির কথা পাঁচটি বাক্যে লেখো।
উত্তর:
১) বিমলার প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রয়েছে।
২) সারাদিন সবার সব কাজ করে দিলেও সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পায় না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
৩) দাদা বড়ো আর ভাই ছোটো, শুধু এই যুক্তিতে তাদের বেশি খাবার দেওয়াটা বিমলার প্রতি এক ধরনের অবিচার।
৪) মেয়ে হওয়ার কারণে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হওয়া বিমলার এই অভিমান সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।
৫) পরিবারের সকলের উচিত বিমলাকে সমান ভালোবাসা, যত্ন ও গুরুত্ব দেওয়া।

১৫.৫ খেতে না চেয়ে তুমি বা তোমার বন্ধুরা কখনো প্রতিবাদ জানিয়েছ বা জানানোর চেষ্টা করেছ - যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে সে সম্বন্ধে লেখো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজের ভাষায় লিখবে) হ্যাঁ, একবার বাড়িতে আমার সবচেয়ে পছন্দের খাবার রান্না না করে ভাইয়ের পছন্দের খাবার রান্না করায় আমি খুব অভিমান করেছিলাম। প্রতিবাদ হিসেবে আমি রাতে খেতে চাইনি। পরে মা আমার কাছে এসে আমাকে বুঝিয়ে বলায় এবং পরের দিন আমার পছন্দের খাবার বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমার অভিমান ভাঙে।

১৫.৬ বিমলার অভিমান করার কারণ কী তা নিজের ভাষায় আট/দশটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: বিমলার অভিমান করার প্রধান কারণ হলো তার প্রতি পরিবারের অবহেলা এবং বৈষম্যমূলক আচরণ। সারাদিন ধরে বিমলা বাড়ির সবার সব রকম ফরমাস খাটে। পূজার ফুল আনা থেকে শুরু করে দুরন্ত খোকাকে সামলানো, ছাগল তাড়ানো - সব কাজেই বিমলার ডাক পড়ে। এছাড়া খাওয়ার সময় দাদাকে নুন দেওয়া বা পানের জন্য চুন আনার কাজও তাকেই করতে হয়। কিন্তু কাজের বেলায় তাকে প্রয়োজন হলেও, খাবারের সময় তাকে কেউ মনে রাখে না। দাদা বড়ো তাই সে ক্ষীর বেশি খাবে, আর ভাই অবু ছোটো তাই সেও বেশি খাবে - এটাই যেন বাড়ির নিয়ম। এই নিয়মেই বিমলাকে নামমাত্র ক্ষীর দেওয়া হয়। পরিবারের এই পক্ষপাতিত্ব এবং শুধুমাত্র মেয়ে বলে তাকে অবহেলা করার কারণেই বিমলার মনে গভীর অভিমান জন্মেছে। এই অবিচারের প্রতিবাদ জানাতেই সে ক্ষীর খেতে অস্বীকার করেছে।
Sponsored Links

বিমলার অভিমান (Class 5 Bengali) - প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য

বিমলার অভিমান কবিতাটির কবির নাম নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য।

বিমলাকে সারাদিন পূজার ফুল আনা, দুরন্ত খোকা কাঁদলে তাকে রাখা, ছাগল তাড়িয়ে দেওয়া, দাদা খেতে বসলে নুন দেওয়া এবং পানের জন্য চুন এনে দেওয়ার মতো কাজ করতে হয়।

সারাদিন বাড়ির সমস্ত কাজ করা সত্ত্বেও, ক্ষীর খাওয়ার সময় দাদা বড়ো ও ভাই অবু ছোটো হওয়ার যুক্তিতে তাদের বেশি ক্ষীর দেওয়া হয় এবং বিমলাকে নামমাত্র দেওয়া হয়। পরিবারের এই বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই বিমলার অভিমান।