কবিতার পরিচিতি ও সারমর্ম
কবি: অশোকবিজয় রাহা
সারসংক্ষেপ:
'মায়াতরু' কবিতায় কবি অশোকবিজয় রাহা একটি আজব গাছের নানা মায়াবী রূপের কথা বর্ণনা করেছেন। এই গাছটি দিনের বিভিন্ন সময়ে এবং পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে তার রূপ বদলাত। সন্ধ্যে হলেই গাছটিকে মনে হতো যেন দু-হাত তুলে ভূতের মতো নাচছে। আকাশে চাঁদ উঠলে গাছটিকে মনে হতো একটা ঘাড় ফোলানো ভাল্লুক যে গরগর করছে।
বৃষ্টি নামলে মনে হতো গাছটা যেন জ্বরে কাঁপছে। বৃষ্টি থামার পর চাঁদ উঠলে ভাল্লুক বা গাছ কিছুই দেখা যেত না, তার জায়গায় দেখা যেত লক্ষ লক্ষ হিরের মাছ মুকুট হয়ে আলো ছড়াচ্ছে। আর ভোরের বেলায় আলো-আঁধারিতে গাছটার রূপ এতই অদ্ভুত হতো যে কবি নিজেও তা বুঝতে পারতেন না। সকাল হলেই দেখা যেত, এই মায়াবী গাছটার কাছে পড়ে আছে রূপালি ঝালরের মতো ঝিকিমিকি আলো।
বৃষ্টি নামলে মনে হতো গাছটা যেন জ্বরে কাঁপছে। বৃষ্টি থামার পর চাঁদ উঠলে ভাল্লুক বা গাছ কিছুই দেখা যেত না, তার জায়গায় দেখা যেত লক্ষ লক্ষ হিরের মাছ মুকুট হয়ে আলো ছড়াচ্ছে। আর ভোরের বেলায় আলো-আঁধারিতে গাছটার রূপ এতই অদ্ভুত হতো যে কবি নিজেও তা বুঝতে পারতেন না। সকাল হলেই দেখা যেত, এই মায়াবী গাছটার কাছে পড়ে আছে রূপালি ঝালরের মতো ঝিকিমিকি আলো।
শব্দার্থ (Word Meanings)
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| মায়াতরু | মায়াবী গাছ (যে গাছ রূপ বদলায়) |
| পশলা | একবারের বৃষ্টি |
| কম্প | কাঁপুনি |
| ঝিকিরমিকির | ঝিকিমিকি / আলোড়িত হওয়া |
| ঝিলিক | তীব্র কিন্তু অল্পক্ষণ স্থায়ী আলোর ছটা / চমক |
| আবছায়া | আবছা / অস্পষ্ট ছায়ার মতো |
| ঝালর | যা ঝলমল করে ঝুলতে থাকে |
হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
১.১ তোমার চেনা এমন দুটি গাছের নাম লেখো অন্ধকারে যাদের দেখলে মনে হয় যেন মানুষের মতো হাত নেড়ে ডাকছে।
উত্তর: আমার চেনা এমন দুটি গাছ হলো নারকেল গাছ এবং বট গাছ, অন্ধকারে যাদের দেখলে মনে হয় যেন মানুষের মতো হাত নেড়ে ডাকছে।
১.২ দুই বন্ধু আর ভাল্লুককে নিয়ে যে গল্পটি আছে তা তোমরা শুনেছ? যদি না শুনে থাকো, তাহলে শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে গল্পটি নিজের খাতায় লেখো।
উত্তর: (গল্প)
একবার দুই বন্ধু জঙ্গলের পথ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তারা দেখল একটা বড়ো ভাল্লুক তাদের দিকে তেড়ে আসছে। প্রথম বন্ধুটি কোনো উপায় না দেখে তাড়াতাড়ি একটা গাছে উঠে পড়ল। কিন্তু দ্বিতীয় বন্ধুটি গাছে উঠতে জানত না। সে বুদ্ধির জোরে মাটিতে মরার মতো শুয়ে পড়ল। ভাল্লুকটা এসে শুয়ে থাকা বন্ধুটির নাক-মুখ শুঁকে ভাবল সে মরে গেছে, তাই তাকে ছেড়ে চলে গেল। পরে গাছে ওঠা বন্ধুটি নীচে নেমে এসে জিজ্ঞেস করল, "বন্ধু, ভাল্লুকটা তোমার কানে কানে কী বলে গেল?" দ্বিতীয় বন্ধুটি উত্তর দিল, "ভাল্লুকটা বলে গেল, বিপদের সময় যে বন্ধু ছেড়ে পালিয়ে যায়, তাকে কখনো বিশ্বাস কোরো না।"
১.৩ নানারকম রঙিন মাছ তুমি কোথায় দেখেছ?
উত্তর: আমি নানারকম রঙিন মাছ অ্যাকোয়ারিয়ামে (Aquarium) দেখেছি।
১.৪ ভোরের আলো তোমার কেমন লাগে? তখন তোমার কোথায় যেতে ইচ্ছে করে?
উত্তর: ভোরের আলো আমার খুব স্নিগ্ধ ও সতেজ লাগে। তখন আমার নদীর ধারে বা কোনো ফাঁকা মাঠে গিয়ে হাঁটতে ইচ্ছে করে।
১.৫ আলোয় এবং অন্ধকারে একই গাছের দুরকম চেহারা তোমার চোখে কীভাবে ধরা পড়ে?
উত্তর: দিনের আলোয় গাছটিকে তার স্বাভাবিক সবুজ পাতায় ও ডালে সুন্দর দেখায়। কিন্তু রাতে অন্ধকারে সেই গাছটিকেই বড়ো একটা কালো ছায়ার মতো মনে হয় এবং হাওয়া দিলে মনে হয় যেন কোনো বিশাল দানব বা ভূত হাত নেড়ে ডাকছে।
উত্তর: আমার চেনা এমন দুটি গাছ হলো নারকেল গাছ এবং বট গাছ, অন্ধকারে যাদের দেখলে মনে হয় যেন মানুষের মতো হাত নেড়ে ডাকছে।
১.২ দুই বন্ধু আর ভাল্লুককে নিয়ে যে গল্পটি আছে তা তোমরা শুনেছ? যদি না শুনে থাকো, তাহলে শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে গল্পটি নিজের খাতায় লেখো।
উত্তর: (গল্প)
একবার দুই বন্ধু জঙ্গলের পথ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তারা দেখল একটা বড়ো ভাল্লুক তাদের দিকে তেড়ে আসছে। প্রথম বন্ধুটি কোনো উপায় না দেখে তাড়াতাড়ি একটা গাছে উঠে পড়ল। কিন্তু দ্বিতীয় বন্ধুটি গাছে উঠতে জানত না। সে বুদ্ধির জোরে মাটিতে মরার মতো শুয়ে পড়ল। ভাল্লুকটা এসে শুয়ে থাকা বন্ধুটির নাক-মুখ শুঁকে ভাবল সে মরে গেছে, তাই তাকে ছেড়ে চলে গেল। পরে গাছে ওঠা বন্ধুটি নীচে নেমে এসে জিজ্ঞেস করল, "বন্ধু, ভাল্লুকটা তোমার কানে কানে কী বলে গেল?" দ্বিতীয় বন্ধুটি উত্তর দিল, "ভাল্লুকটা বলে গেল, বিপদের সময় যে বন্ধু ছেড়ে পালিয়ে যায়, তাকে কখনো বিশ্বাস কোরো না।"
১.৩ নানারকম রঙিন মাছ তুমি কোথায় দেখেছ?
উত্তর: আমি নানারকম রঙিন মাছ অ্যাকোয়ারিয়ামে (Aquarium) দেখেছি।
১.৪ ভোরের আলো তোমার কেমন লাগে? তখন তোমার কোথায় যেতে ইচ্ছে করে?
উত্তর: ভোরের আলো আমার খুব স্নিগ্ধ ও সতেজ লাগে। তখন আমার নদীর ধারে বা কোনো ফাঁকা মাঠে গিয়ে হাঁটতে ইচ্ছে করে।
১.৫ আলোয় এবং অন্ধকারে একই গাছের দুরকম চেহারা তোমার চোখে কীভাবে ধরা পড়ে?
উত্তর: দিনের আলোয় গাছটিকে তার স্বাভাবিক সবুজ পাতায় ও ডালে সুন্দর দেখায়। কিন্তু রাতে অন্ধকারে সেই গাছটিকেই বড়ো একটা কালো ছায়ার মতো মনে হয় এবং হাওয়া দিলে মনে হয় যেন কোনো বিশাল দানব বা ভূত হাত নেড়ে ডাকছে।
২. 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :
| ক | খ (উত্তর) |
|---|---|
| গাছ | বৃক্ষ |
| বন | অরণ্য |
| ভূত | অশরীরী |
| ঝালর | পর্দা |
| কম্প | কাঁপুনি |
৩. কবিতা অবলম্বনে শূন্যস্থান পূরণ করো :
৩.১ এক যে ছিল গাছ।
৩.২ বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
৩.৩ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
৩.৪ এক পশলার শেষে।
৩.৫ বনের মাথায় ঝিলিক মেরে চাঁদ উঠত যখন ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গরগর।
৩.২ বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
৩.৩ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
৩.৪ এক পশলার শেষে।
৩.৫ বনের মাথায় ঝিলিক মেরে চাঁদ উঠত যখন ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গরগর।
৪. কবিতাটি অবলম্বনে একটি গল্প তৈরি করো :
উত্তর:
একটি গাছ ছিল সন্ধ্যে হলেই দু-হাত তুলে ভূতের মতো নাচ জুড়ত। আবার কখনো হঠাৎ বনের মাথায় ঝিলিক দিয়ে চাঁদ উঠলে সে ভাল্লুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে গরগর করত। যখন বৃষ্টি শেষ হয়ে যেত আর মেঘের ফাঁক দিয়ে চাঁদ হেসে উঠত তখন গাছটিকে মনে হত হীরার মাছের মুকুট পরে আছে। ভোরবেলায় কত কী যে কাণ্ড হতো তা বলা মুশকিল। আর যখন সকাল হতো তখন দেখা যেত গাছটির গায়ে রুপালি আলোর ঝালর পড়ে আছে।
একটি গাছ ছিল সন্ধ্যে হলেই দু-হাত তুলে ভূতের মতো নাচ জুড়ত। আবার কখনো হঠাৎ বনের মাথায় ঝিলিক দিয়ে চাঁদ উঠলে সে ভাল্লুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে গরগর করত। যখন বৃষ্টি শেষ হয়ে যেত আর মেঘের ফাঁক দিয়ে চাঁদ হেসে উঠত তখন গাছটিকে মনে হত হীরার মাছের মুকুট পরে আছে। ভোরবেলায় কত কী যে কাণ্ড হতো তা বলা মুশকিল। আর যখন সকাল হতো তখন দেখা যেত গাছটির গায়ে রুপালি আলোর ঝালর পড়ে আছে।
৫. শব্দগুলির অর্থ লিখে তা দিয়ে বাক্য রচনা করো :
ঝাঁক (দল): আকাশে এক ঝাঁক পাখি উড়ে গেল。
ঝিলিক (আলোর চমক): মেঘের মধ্যে বিদ্যুতের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে。
ঘাড় (গ্রীবা): আমার ঘাড় খুব ব্যথা করছে。
মুকুট (শিরোভূষণ): রাজার মাথায় সুন্দর একটি মুকুট আছে。
ঝিকিরমিকির (ঝিকিমিকি আলো): রোদের আলোয় দিঘির জল ঝিকিরমিকির করছে।
ঝিলিক (আলোর চমক): মেঘের মধ্যে বিদ্যুতের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে。
ঘাড় (গ্রীবা): আমার ঘাড় খুব ব্যথা করছে。
মুকুট (শিরোভূষণ): রাজার মাথায় সুন্দর একটি মুকুট আছে。
ঝিকিরমিকির (ঝিকিমিকি আলো): রোদের আলোয় দিঘির জল ঝিকিরমিকির করছে।
৬. কোনটি কী জাতীয় শব্দ শব্দঝুড়ি থেকে বেছে নিয়ে আলাদা করে লেখো :
(শব্দঝুড়ি: গাছ, যে, বা, রূপালি, জুড়ত, তুলে, হয়ে, ঝিকিরমিকির, লক্ষ, সে, কম্প, জ্বর।)
বিশেষ্য
গাছ, কম্প, জ্বর।
বিশেষণ
রূপালি, ঝিকিরমিকির, লক্ষ।
সর্বনাম
যে, সে।
অব্যয়
বা।
ক্রিয়া
জুড়ত, তুলে, হয়ে।
৭. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো :
সন্ধ্যে ➔ সকাল
হঠাৎ ➔ নিয়মিত
শেষে ➔ শুরুতে
হেসে ➔ কেঁদে
আলো ➔ অন্ধকার
হঠাৎ ➔ নিয়মিত
শেষে ➔ শুরুতে
হেসে ➔ কেঁদে
আলো ➔ অন্ধকার
৮. সমার্থক শব্দ লেখো :
গাছ: বৃক্ষ, তরু, পাদপ।
ভূত: অশরীরী, প্রেত।
বন: অরণ্য, জঙ্গল, কানন।
বিষ্টি: বৃষ্টি, বর্ষণ।
মাছ: মৎস্য, মীন।
চাঁদ: চন্দ্র, শশী, ইন্দু।
ভূত: অশরীরী, প্রেত।
বন: অরণ্য, জঙ্গল, কানন।
বিষ্টি: বৃষ্টি, বর্ষণ।
মাছ: মৎস্য, মীন।
চাঁদ: চন্দ্র, শশী, ইন্দু।
৯. প্রতিটি বাক্য ভেঙে আলাদা দুটি বাক্যে লেখো :
৯.১ এক যে ছিল গাছ, সন্ধে হলেই দুহাত তুলে জুড়ত ভূতের নাচ।
উত্তর: এক যে ছিল গাছ। সন্ধে হলেই দুহাত তুলে ভূতের নাচ জুড়ত।
৯.২ বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
উত্তর: বিষ্টি হতো। তখন আবার কম্প দিয়ে জ্বর আসত।
৯.৩ সকাল হল যেই, একটিও মাছ নেই।
উত্তর: সকাল হলো। একটিও মাছ নেই।
৯.৪ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
উত্তর: মুকুট হয়েছে। লক্ষ হীরার মাছ ঝাঁক বেঁধেছে।
৯.৫ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গরগর।
উত্তর: সে ভালুক হতো। ঘাড় ফুলিয়ে সে গরগর করত।
উত্তর: এক যে ছিল গাছ। সন্ধে হলেই দুহাত তুলে ভূতের নাচ জুড়ত।
৯.২ বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
উত্তর: বিষ্টি হতো। তখন আবার কম্প দিয়ে জ্বর আসত।
৯.৩ সকাল হল যেই, একটিও মাছ নেই।
উত্তর: সকাল হলো। একটিও মাছ নেই।
৯.৪ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
উত্তর: মুকুট হয়েছে। লক্ষ হীরার মাছ ঝাঁক বেঁধেছে।
৯.৫ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গরগর।
উত্তর: সে ভালুক হতো। ঘাড় ফুলিয়ে সে গরগর করত।
১০. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো :
র গ র গ ➔ গরগর
ট কু মু ➔ মুকুট
ব আ যা ছা ➔ আবছায়া
র কি মি ঝি র কি ➔ ঝিকিরমিকির
র বে ভো লা ➔ ভোরবেলা
ট কু মু ➔ মুকুট
ব আ যা ছা ➔ আবছায়া
র কি মি ঝি র কি ➔ ঝিকিরমিকির
র বে ভো লা ➔ ভোরবেলা
১১. অশোকবিজয় রাহা (১৯১০-১৯৯০) সম্পর্কিত প্রশ্ন:
১১.১ কবি অশোকবিজয় রাহার দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: কবি অশোকবিজয় রাহার দুটি বইয়ের নাম হলো 'ভানুমতীর মাঠ' এবং 'রুদ্রবসন্ত'।
১১.২ তাঁর কবিতা রচনার প্রধান বিষয়টি কী ছিল?
উত্তর: তাঁর কবিতা রচনার প্রধান বিষয় ছিল নদী, পাহাড় এবং অরণ্যপ্রকৃতি।
১১.৩ 'মায়াতরু' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: 'মায়াতরু' কবিতাটি তাঁর 'ভানুমতীর মাঠ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
উত্তর: কবি অশোকবিজয় রাহার দুটি বইয়ের নাম হলো 'ভানুমতীর মাঠ' এবং 'রুদ্রবসন্ত'।
১১.২ তাঁর কবিতা রচনার প্রধান বিষয়টি কী ছিল?
উত্তর: তাঁর কবিতা রচনার প্রধান বিষয় ছিল নদী, পাহাড় এবং অরণ্যপ্রকৃতি।
১১.৩ 'মায়াতরু' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: 'মায়াতরু' কবিতাটি তাঁর 'ভানুমতীর মাঠ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
১২. দিনের কোন সময়ে কোন ঘটনাটি ঘটেছে পাশে পাশে লেখো। খাতায় ছবি আঁকো :
১২.১ দুহাত তুলে জুড়ত ভূতের নাচ ➔ সন্ধ্যেবেলায়
১২.২ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত যে গরগর ➔ রাতের বেলায় (চাঁদ উঠলে)
১২.৩ কেবল দেখি পড়ে আছে ঝিকিরমিকির আলোর রূপালি এক ঝালর ➔ সকালবেলায়
(ছাত্রছাত্রীরা খাতায় এই দৃশ্যগুলির ছবি আঁকবে।)
১২.২ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত যে গরগর ➔ রাতের বেলায় (চাঁদ উঠলে)
১২.৩ কেবল দেখি পড়ে আছে ঝিকিরমিকির আলোর রূপালি এক ঝালর ➔ সকালবেলায়
(ছাত্রছাত্রীরা খাতায় এই দৃশ্যগুলির ছবি আঁকবে।)
১৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
১৩.১ 'মায়াতরু' শব্দটির অর্থ কী? কবিতায় গাছকে 'মায়াতরু' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: 'মায়াতরু' শব্দটির অর্থ হলো মায়াবী গাছ বা যে গাছ রূপ বদলায়।
কবিতায় গাছটিকে 'মায়াতরু' বলা হয়েছে কারণ, গাছটি দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মায়াবী রূপ ধারণ করত। সন্ধ্যেবেলায় তাকে ভূতের মতো, রাতের বেলায় ঘাড় ফোলানো ভাল্লুকের মতো, বৃষ্টির পর লক্ষ হীরার মাছের মুকুটের মতো এবং সকালে রূপালি ঝালরের মতো অদ্ভুত ও রহস্যময় দেখাত।
১৩.২ শব্দের শুরুতে 'মায়া' যোগ করে পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করো।
উত্তর: মায়াজাল, মায়াকানন, মায়াবী, মায়ামৃগ, মায়াদয়া।
১৩.৩ ভূতের আর গাছের প্রসঙ্গ রয়েছে এমন কোন গল্প তুমি পড়েছ? পাঁচটি বাক্যে সেই গল্পটি লেখো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পড়া গল্পের কথা লিখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ:) আমি 'তেনিদা আর এক ভূত' গল্পটি পড়েছি। সেই গল্পে তেনিদা আর প্যালারাম একবার একটা পুরোনো পোড়ো বাড়ির কাছে গিয়েছিল। সেখানে একটা মস্ত বড়ো বটগাছ ছিল। গ্রামের লোকেরা বলত ওই গাছে নাকি একটা ব্রহ্মদৈত্য ভূত থাকে। রাতের বেলা গাছটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তেনিদারা অদ্ভুত সব শব্দ শুনতে পেয়েছিল।
১৩.৪ দিনের বিভিন্ন সময়ে কবি গাছকে কোন কোন রূপে দেখেছেন?
উত্তর: দিনের বিভিন্ন সময়ে কবি গাছকে বিভিন্ন রূপে দেখেছেন—
১) সন্ধ্যেবেলায় দু-হাত তুলে নাচতে থাকা ভূতের রূপে।
২) রাতে বনের মাথায় চাঁদ উঠলে ঘাড় ফোলানো গরগর করতে থাকা ভাল্লুকের রূপে।
৩) বৃষ্টি এলে জ্বরে কাঁপতে থাকা রোগীর রূপে।
৪) বৃষ্টি শেষে চাঁদ উঠলে লক্ষ হীরার মাছের মুকুটের রূপে।
৫) আর সকালবেলায় ঝিকিমিকি আলোর রূপালি ঝালরের রূপে।
উত্তর: 'মায়াতরু' শব্দটির অর্থ হলো মায়াবী গাছ বা যে গাছ রূপ বদলায়।
কবিতায় গাছটিকে 'মায়াতরু' বলা হয়েছে কারণ, গাছটি দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মায়াবী রূপ ধারণ করত। সন্ধ্যেবেলায় তাকে ভূতের মতো, রাতের বেলায় ঘাড় ফোলানো ভাল্লুকের মতো, বৃষ্টির পর লক্ষ হীরার মাছের মুকুটের মতো এবং সকালে রূপালি ঝালরের মতো অদ্ভুত ও রহস্যময় দেখাত।
১৩.২ শব্দের শুরুতে 'মায়া' যোগ করে পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করো।
উত্তর: মায়াজাল, মায়াকানন, মায়াবী, মায়ামৃগ, মায়াদয়া।
১৩.৩ ভূতের আর গাছের প্রসঙ্গ রয়েছে এমন কোন গল্প তুমি পড়েছ? পাঁচটি বাক্যে সেই গল্পটি লেখো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পড়া গল্পের কথা লিখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ:) আমি 'তেনিদা আর এক ভূত' গল্পটি পড়েছি। সেই গল্পে তেনিদা আর প্যালারাম একবার একটা পুরোনো পোড়ো বাড়ির কাছে গিয়েছিল। সেখানে একটা মস্ত বড়ো বটগাছ ছিল। গ্রামের লোকেরা বলত ওই গাছে নাকি একটা ব্রহ্মদৈত্য ভূত থাকে। রাতের বেলা গাছটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তেনিদারা অদ্ভুত সব শব্দ শুনতে পেয়েছিল।
১৩.৪ দিনের বিভিন্ন সময়ে কবি গাছকে কোন কোন রূপে দেখেছেন?
উত্তর: দিনের বিভিন্ন সময়ে কবি গাছকে বিভিন্ন রূপে দেখেছেন—
১) সন্ধ্যেবেলায় দু-হাত তুলে নাচতে থাকা ভূতের রূপে।
২) রাতে বনের মাথায় চাঁদ উঠলে ঘাড় ফোলানো গরগর করতে থাকা ভাল্লুকের রূপে।
৩) বৃষ্টি এলে জ্বরে কাঁপতে থাকা রোগীর রূপে।
৪) বৃষ্টি শেষে চাঁদ উঠলে লক্ষ হীরার মাছের মুকুটের রূপে।
৫) আর সকালবেলায় ঝিকিমিকি আলোর রূপালি ঝালরের রূপে।
১৪. যে গাছটিকে দেখে তোমার মনেও অনেক কল্পনা ভিড় জমায়, তার একটি ছবি আঁকো, সেই গাছটি সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা একটি সুন্দর গাছের ছবি আঁকবে।)
গাছটি সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য:
১) আমাদের বাড়ির পিছনে একটি মস্ত বড়ো বটগাছ আছে।
২) গাছটার ডালপালা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে এবং অনেক ঝুরি নেমেছে।
৩) গরমের দুপুরে গাছটার তলায় বসলে খুব শান্তি পাওয়া যায়।
৪) বিকেলবেলায় ওই গাছে অনেক পাখি এসে কিচিরমিচির করে।
৫) রাতের অন্ধকারে গাছটাকে দেখলে মনে হয় যেন একটা বিশাল দানব দাঁড়িয়ে আছে।
গাছটি সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য:
১) আমাদের বাড়ির পিছনে একটি মস্ত বড়ো বটগাছ আছে।
২) গাছটার ডালপালা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে এবং অনেক ঝুরি নেমেছে।
৩) গরমের দুপুরে গাছটার তলায় বসলে খুব শান্তি পাওয়া যায়।
৪) বিকেলবেলায় ওই গাছে অনেক পাখি এসে কিচিরমিচির করে।
৫) রাতের অন্ধকারে গাছটাকে দেখলে মনে হয় যেন একটা বিশাল দানব দাঁড়িয়ে আছে।
Sponsored Links