কী করে বুঝব

আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'কী করে বুঝব' গল্পের সম্পূর্ণ অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর, ব্যাকরণ ও সারাংশ | অষ্টম শ্রেণি (WBBSE)

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 28 May 2026 Last Update: 31 May 2026

🤔 কী করে বুঝব

আশাপূর্ণা দেবী গল্প

পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE)

শিশুমন সত্যবাদিতা হাস্যরস

আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-১৯৯৫)

বাঙালি মধ্যবিত্ত জীবনের অসামান্য রূপকার। তিনি তাঁর লেখনীতে নারীদের আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং সমাজব্যবস্থার চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত ট্রিলজি হলো- 'প্রথম প্রতিশ্রুতি', 'সুবর্ণলতা' ও 'বকুলকথা'। শিশুসাহিত্যেও তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। সাহিত্য আকাদেমি ও জ্ঞানপীঠ পুরস্কারসহ নানা সম্মানে তিনি ভূষিত।

১. লেখিকা পরিচিতি

১.১ আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।

আশাপূর্ণা দেবীর লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের নাম হলো— 'প্রথম প্রতিশ্রুতি' এবং 'সুবর্ণলতা'।

১.২ আশাপূর্ণা দেবী তাঁর সাহিত্যকৃতির জন্য কোন কোন বিশেষ পুরস্কার লাভ করেন?

তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, লীলা পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. লিট্ উপাধিতে ভূষিত হন।

২. একটি বাক্যে উত্তর দাও

৬ টি
২.১ বুকু কোথায় বসে খেলা করছিল?

বুকু বাড়ির বাইরের রোয়াকে বসে খেলা করছিল।

২.২ রিকশা থেকে কারা নামলেন?

রিকশা থেকে উত্তরপাড়া নিবাসী ছেনুমাসি ও বেণুমাসি নামক দুই বেজায় মোটাসোটা ভদ্রমহিলা এবং বেণুমাসির ছেলে ডাম্বল নামল।

২.৩ ডাম্বল আলমারি ভেঙে কার বই নামিয়েছিল?

ডাম্বল আলমারি ভেঙে বুকুর সেজোকাকার বই নামিয়েছিল।

২.৪ বুকুর মা-র কী কেনা ছিল?

বুকুর মা-র সেদিন সিনেমার টিকিট কেনা ছিল।

২.৫ বুকু আর বুকুর সেজো খুড়িমা অতিথিদের জন্যে কী কী খাবার নিয়ে আসে?

বুকু আর বুকুর সেজোখুড়িমা অতিথিদের জন্য চা, বড়ো বড়ো রাজভোগ, ভালো সন্দেশ, শিঙাড়া এবং নিমকি নিয়ে আসে।

২.৬ বুকু কোন স্কুলে ভরতি হয়েছিল?

বুকু 'আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান' নামক স্কুলে ভরতি হয়েছিল।

৩. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও

৮ টি
৩.১ বুকু খেলতে খেলতে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় কেন?

বাড়ির সামনে একটি রিকশায় দুজন বেজায় মোটাসোটা ভদ্রমহিলা এবং একটি বড়োসড়ো ছেলেকে একসঙ্গে আসতে দেখে বুকু অবাক হয়ে যায়। সে ভেবে পায় না, রিকশাগাড়ির অতটুকু খোলের মধ্যে এদের তিনজনের জায়গা হয়েছিল কী করে!

৩.২ 'সিঁড়ি ভেঙে আর উঠতে পারব না বাবা' - কারা একথা বলেছেন? তাঁরা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারবেন না কেন?

কারা বলেছেন: উত্তরপাড়া থেকে আসা বুকুর মায়ের পাতানো ছেনুমাসি ও বেণুমাসি এ কথা বলেছেন।

কারণ: তাঁরা দুজনেই অত্যন্ত স্থূলকায়। উত্তরপাড়া থেকে ভবানীপুরে আসতে তাঁদের বার দু-তিন বাস বদল করতে হয়েছে এবং শেষে রিকশায় আসতে হয়েছে। এই দীর্ঘ পথশ্রমে তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাই তিনতলায় ওঠার মতো শারীরিক ক্ষমতা তাঁদের ছিল না।

৩.৩ 'ও কী! কী কাণ্ড করেছ তুমি' - কে, কী কাণ্ড করেছে?

বেণুমাসির দুরন্ত ছেলে ডাম্বল কাণ্ডটি করেছে। বুকু যখন তার মাকে খবর দিতে তিনতলায় যায়, সেই ফাঁকে ডাম্বল বাইরের ঘরের চেয়ার উলটে, টেবিল-ঢাকা কুঁচকে, খাতাপত্র এলোমেলো করে এবং আলমারির পাল্লা ধরে হ্যাঁচকা টান মেরে ভেঙে সেজোকাকার বই মাটিতে ফেলে দেয়।

৩.৪ বুকু অবাক হয়ে ফ্যালফেলিয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল কেন?

বুকুর মা উপরে বসে ছেনু-বেণুমাসির অসময়ে আসার খবরে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন এবং গা জ্বালানো মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু নীচে এসেই তিনি চরম কপটতা করে হাসিমুখে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে শুরু করেন এবং বলেন যে তাদের দেখে তাঁর খুব আনন্দ হচ্ছে। মায়ের এই সম্পূর্ণ উলটো ও মিথ্যে আচরণ দেখে সহজ-সরল বুকু ফ্যালফেলিয়ে তাকিয়ে ছিল।

৩.৫ 'ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত' - ছেলের কথা শুনে বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো কেন?

বুকু সহজ সরল মনে অতিথিদের সামনেই ফাঁস করে দেয় যে, তাঁর মা উপরে বসে তাঁদের আসার কারণে রেগে গিয়ে গা-জ্বালানো কথা বলেছেন এবং তাঁদের আসার সময়টাকে 'অসময়' বলেছেন। মায়ের ভণ্ডামি অতিথিদের সামনে ধরা পড়ে যাওয়ায় অপমানে ও লজ্জায় বুকুর মায়ের মাথায় যেন বজ্রাঘাত হয়।

৩.৬ ডাম্বলকে ইস্কুলে ভরতি করা হয়নি কেন?

ডাম্বলের নিজের কথা অনুযায়ী, তার বাবা ভীষণ কৃপণ ('হাড়কেপ্পন')। সাত বছরের ছেলের স্কুলের মাইনে মাসে সাত টাকা দিতে তিনি রাজি নন। তাই তিনি ছেলেকে স্কুলে ভরতি করেননি, তাঁর মতে ছেলে বড়ো হয়ে চাষবাস করে খাবে।

৩.৭ 'কে জানে পাগলা-টাগলা হয়ে যাবে নাকি' - কার সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে? এমন সন্দেহের কারণ কী?

কার সম্পর্কে: ছ-বছরের ছেলে বুকু সম্পর্কে তার মা এই মন্তব্য করেছেন।

কারণ: বুকু ছোটোদের স্বাভাবিক সরলতায় অতিথিদের সামনে বাড়ির সমস্ত সত্যি কথা এবং বাবা-মায়ের গোপন আলোচনা (সিনেমার টিকিট পচে যাওয়ার রাগ) ফাঁস করে দিচ্ছিল। ছেলের এই সত্যি কথা বলার স্পর্ধাকে মা 'ভূতে পাওয়া' বা 'পাগলামি' বলে মনে করেছিলেন, কারণ এতে তাঁদের সামাজিক ভদ্রতার মুখোশ খুলে যাচ্ছিল।

৩.৮ 'দুজনে মিলে চেঁচান, 'বল, বল কেন ওসব বললি?' - বুকু কেন ওসব বলেছিল?

বুকু ওসব বলেছিল কারণ সে তার বাবা-মায়ের দেওয়া শিক্ষাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করছিল। দুপুরে তার মা-ই তাকে শিখিয়েছিলেন যে "সবসময়ে সত্যি কথা বলবি, কারো কাছে কিছু লুকোবি না।" বুকু অবুঝ শিশু, সে বুঝত না যে বড়োরা নিজেদের সুবিধার জন্য অনেক সময় মিথ্যে বলে বা কপটতা করে। তাই সে সরল মনে সব সত্যি কথা অতিথিদের সামনে বলে ফেলেছিল।

৪. নিজের ভাষায় উত্তর দাও

৪.১ গল্পে বুকুর আচরণ তাঁর মাকে অতিথিদের সামনে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। বুকুর এই আচরণ কি তুমি সমর্থন করো? বুকু কেন অমন আচরণ অতিথিদের সামনে করেছিল?

হ্যাঁ, আমি বুকুর আচরণ সম্পূর্ণ সমর্থন করি। কারণ, বুকু একটি নিষ্পাপ, ছ-বছরের শিশু। তার মনে কোনো প্যাঁচ বা কপটতা নেই।

আচরণের কারণ: বড়োরা শিশুদের সবসময় সত্য কথা বলার উপদেশ দেন, কিন্তু বাস্তবে তাঁরা নিজেরাই সামাজিকতার খাতিরে বা নিজেদের স্বার্থে চরম মিথ্যে আচরণ করেন। বুকুর মা দুপুরে তাকে শিখিয়েছিলেন সবসময় সত্যি কথা বলতে। বুকু সেই শিক্ষাই পালন করেছিল মাত্র। সে বুঝতে পারেনি যে মা উপরে বসে অতিথিদের নামে নিন্দা করে নীচে এসে আবার হাসিমুখে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাবেন। বড়োদের এই ভণ্ডামি শিশুমন বুঝতে অক্ষম। বুকু শুধু যা সত্য, যা সে শুনেছে, সেটাই সরল মনে প্রকাশ করে দিয়েছিল। তাই বুকুর কোনো দোষ নেই, দোষ বড়োদের দ্বৈত আচরণের।

৪.২ বাড়িতে অতিথি এলে তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত সে সম্পর্কে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।

কল্যাণী, নদীয়া
১২ মে, ২০২৬

প্রিয় সায়ন,

কেমন আছিস? আশা করি ভালো আছিস। আজ তোকে একটা জরুরি বিষয় নিয়ে লিখছি— বাড়িতে অতিথি এলে আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত।

অতিথিরা হলেন নারায়ণের সমতুল্য। তাঁরা বাড়িতে এলে আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো হাসিমুখে তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো। তাঁদের বসার জায়গা দেওয়া এবং জল-মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা উচিত। বড়োদের সবসময় প্রণাম করে শ্রদ্ধা জানানো দরকার এবং সমবয়সি বা ছোটোদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা উচিত।

অনেক সময় অসময়ে বা কাজের ব্যস্ততার মাঝে অতিথি এলে আমাদের বিরক্ত লাগতে পারে, কিন্তু সেই বিরক্তি বা রাগ কোনোভাবেই অতিথির সামনে প্রকাশ করা অনুচিত। তাঁদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলা এবং তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার খেয়াল রাখা আমাদের কর্তব্য। আমাদের মনে রাখতে হবে, আজ যেমন তাঁরা আমাদের বাড়িতে এসেছেন, কাল আমরাও তাঁদের বাড়িতে যেতে পারি। তাই অতিথিদের সঙ্গে সবসময় আন্তরিক ও শালীন আচরণ করাই আদর্শ গৃহস্থের লক্ষণ।

আজ এই পর্যন্তই। তুই কেমন আছিস জানাস। কাকু-কাকিমাকে আমার প্রণাম দিস।

তোর অভিন্নহৃদয় বন্ধু,
[তোমার নাম]

৪.৩ 'কী করে বুঝব, আসলে কী করতে হবে' - গল্পে বুকু এই কথা বলেছিল। আসলে কী করা উচিত বলে তোমার মনে হয়?

আমার মনে হয়, বুকুর মতো শিশুদের কাছে সব পরিস্থিতি সমান। তাদের কাছে সত্য একটাই। কিন্তু বয়স্কদের উচিত শিশুদের সামনে এমন কোনো আচরণ না করা, যা তাদের বিভ্রান্ত করে। বুকুর মায়ের উচিত হয়নি উপরে বসে অতিথিদের কুৎসা করা এবং নীচে নেমে তাঁদের চরম তোষামোদ করা।

আসলে, বড়োদের নিজেদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখা উচিত। যদি সত্যি কথা বলাই আদর্শ হয়, তবে বড়োদেরও উচিত অকারণে কপটতা বা ভণ্ডামি না করা। অন্তত শিশুদের সামনে মিথ্যাচার এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে তারা সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়। আর যদি সামাজিকতার খাতিরে কিছু গোপন রাখতেই হয়, তবে শিশুদের তা স্নেহের সঙ্গে বুঝিয়ে বলা দরকার, প্রহার করে নয়।

৪.৪ গল্পে দুটি ছোটো ছেলের কথা পড়লে - বুকু আর ডাম্বল। দুজনের প্রকৃতিগত মিল বা অমিল নিজের ভাষায় লেখো।

গল্পে বুকু এবং ডাম্বল দুজনেই ছোটো ছেলে, কিন্তু তাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।

অমিল: বুকু হলো সত্যবাদী, সৎ এবং সহজ-সরল। সে বাবা-মায়ের দেওয়া শিক্ষা পালন করে এবং বড়োদের ভণ্ডামি বুঝতে না পেরে সরল মনে সত্যি কথা বলে ফেলে। অন্যদিকে, ডাম্বল হলো চরম অসভ্য, দুরন্ত এবং বেয়াদব একটি ছেলে। সে অন্যের বাড়িতে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙে, আলমারি টানে, বড়োদের বই ফেলে দেয় এবং বড়োদের মুখের ওপর অবলীলায় অবাধ্যের মতো কথা বলে।

মিল: উভয়ের মধ্যে একটি মিলই রয়েছে— তারা দুজনেই শিশুদের স্বভাবসুলভ কারণে বড়োদের সামাজিক আড়ালের কথাগুলো (যেমন ডাম্বলের বাবার কৃপণতা বা বুকুর মায়ের বিরক্তি) ফাঁস করে দেয়। কিন্তু বুকুর বলা সত্য কথার পিছনে রয়েছে সরলতা, আর ডাম্বলের কথার পিছনে রয়েছে অসভ্যতা।

৪.৫ গল্পটি পড়ে বুকুর প্রতি তোমার সমানুভূতির কথা ব্যক্ত করে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।

বুকুর প্রতি আমার সহানুভূতি

আশাপূর্ণা দেবীর 'কী করে বুঝব' গল্পটি পড়ে বুকু চরিত্রটির প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি ও মায়া জেগেছে। বুকু মাত্র ছ-বছরের একটি নিষ্পাপ শিশু। তার জগৎটা খুব সরল। দুপুরে মা তাকে শিখিয়েছেন যে সবসময় সত্যি কথা বলতে হবে। বুকু সেই শিক্ষাই আক্ষরিক অর্থে পালন করেছে। অতিথিরা এলে মা যে ভিতরে ভিতরে রেগে গিয়েও বাইরে কপট হাসি হাসছেন, এই দ্বিমুখী আচরণ বুকুর শিশুমন বুঝতে পারেনি। সে ভেবেছে মায়ের সত্য কথাগুলো অতিথিদের জানানোই বোধহয় ঠিক কাজ। এর জন্য সে শেষে বাবা-মায়ের কাছে অমানবিক প্রহার খেয়েছে। একটি শিশু যখন বড়োদের দেওয়া শিক্ষাই পালন করে, তখন তাকে কেন শাস্তি পেতে হবে? বড়োদের এই ভণ্ডামি ও অন্যায় আচরণের শিকার হতে দেখে বুকুর অসহায় কান্নার সাথে আমার মনও সমব্যাথী হয়ে উঠেছে। বুকুর কান্না আসলে আমাদের দ্বিচারী সমাজের প্রতি এক চরম প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দেয়।

ব্যাকরণ ও ভাষাচর্চা

৫ একই অর্থযুক্ত শব্দ গল্প থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো: সংবাদ, পুস্তক, সন্তুষ্ট, কোমল, আপ্যায়ন।
প্রদত্ত শব্দগল্পের শব্দ (সমার্থক)
সংবাদখবর
পুস্তকবই
সন্তুষ্টপ্রসন্ন
কোমলমোলায়েম
আপ্যায়নঅভ্যর্থনা
৬ সন্ধি বিচ্ছেদ করো: ইত্যবসরে, বজ্রাঘাত, ব্যাকুল, নিশ্চয়, রান্না, দুরন্ত, সন্দেশ।
  • ইত্যবসরে = ইতি + অবসরে
  • বজ্রাঘাত = বজ্র + আঘাত
  • ব্যাকুল = বি + আকুল
  • নিশ্চয় = নিঃ + চয়
  • রান্না = রাঁধ্ + না
  • দুরন্ত = দুর্ + অন্ত
  • সন্দেশ = সম্ + দেশ
৭ বিশেষ্য ও বিশেষণ নির্ণয় করে পদ পরিবর্তন করো।
প্রদত্ত পদপদের শ্রেণিপদ পরিবর্তন
মনবিশেষ্যমানসিক (বিশেষণ)
শিক্ষাবিশেষ্যশিক্ষিত (বিশেষণ)
অবস্থাবিশেষ্যঅবস্থিত (বিশেষণ)
গম্ভীরবিশেষণগাম্ভীর্য (বিশেষ্য)
শাসনবিশেষ্যশাসিত (বিশেষণ)
শয়তানবিশেষণ / বিশেষ্যশয়তানি (বিশেষ্য)
লালবিশেষণলালিত্য (বিশেষ্য)
সর্বনেশেবিশেষণসর্বনাশ (বিশেষ্য)
ঘরবিশেষ্যঘরোয়া (বিশেষণ)
সুন্দরবিশেষণসৌন্দর্য (বিশেষ্য)
দুরন্তবিশেষণদুরন্তপনা (বিশেষ্য)
মুখবিশেষ্যমৌখিক (বিশেষণ)
কথাবিশেষ্যকথ্য (বিশেষণ)
হ্যাংলাবিশেষণহ্যাংলামি (বিশেষ্য)
৮ উপসর্গ দিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করো: অ, বি, বে, আ, প্র, অব।
উপসর্গনতুন ৫টি শব্দ
অঅচেনা, অদেখা, অভাব, অমিল, অসীম
বিবিজ্ঞান, বিচার, বিদেশ, বিবাদ, বিশ্রাম
বেবেয়াদব, বেকার, বেনাম, বেসামাল, বেহিসেবি
আআজীবন, আমরণ, আদান, আগমন, আচ্ছাদন
প্রপ্রমাণ, প্রচার, প্রবেশ, প্রগতি, প্রভাব
অবঅবজ্ঞা, অবমাননা, অবহেলা, অবরোহ, অবগতি
৯ সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের অর্থ লিখে বাক্য রচনা করো।
  • আসা (আগমন): আজ আমাদের বাড়িতে অতিথি আসার কথা আছে।
  • আশা (আকাঙ্ক্ষা/ভরসা): জীবনে বড়ো মানুষ হওয়ার আশা সবারই থাকে।

  • সোনা (মূল্যবান ধাতু): মেয়েটির গলায় একটি সুন্দর সোনার হার রয়েছে।
  • শোনা (শ্রবণ করা): বড়োদের কথা মন দিয়ে শোনা উচিত।

  • হাড় (অস্থি): দুর্ঘটনায় লোকটির পায়ের হাড় ভেঙে গেছে।
  • হার (পরাজয়/গলার অলংকার): খেলায় হার-জিত তো থাকবেই।

  • মার (প্রহার): বাবা রেগে গিয়ে ছেলেকে মার দিলেন।
  • মাড় (ভাতের ফ্যান): মা ভাতের মাড় ঝরিয়ে রাখছেন।

  • মাস (মাসের নাম): বৈশাখ মাস দারুণ গরম পড়ে।
  • মাষ (মাষকলাই ডাল): বাঙালিরা মাষকলাইয়ের ডাল খেতে পছন্দ করে।

  • জ্বালা (যাতনা/কষ্ট): গরিবের পেটের জ্বালা কেউ বোঝে না।
  • জালা (বড়ো মাটির পাত্র): ঠাকুরমা জলের জালায় গামছা জড়িয়ে রেখেছেন।
১০ গল্পে অজস্র শব্দদ্বৈত ব্যবহৃত হয়েছে। সেগুলি খুঁজে লেখো।

গল্প থেকে প্রাপ্ত শব্দদ্বৈত: ফ্যালফেলিয়ে, খুকখুক, হালকা-হালকা, হাপাতে-হাপাতে, খাতাপত্তর, সাজানো-গোছানো, পিটপিট, ড্যাবড্যাব, হইহই, রুটি-টুটি, পাগলা-টাগলা, লাঠিসোঁটা, গটগট, তোড়জোড়।

১১ বাক্যগুলি থেকে সংখ্যাবাচক/পূরণবাচক শব্দ খুঁজে বার করো।
  • ১১.১ মা তো সেই তিনতলার ছাতে। (সংখ্যাবাচক)
  • ১১.২ দুই বোনের দুই দু-গুণে চারটি চোখ কপালে উঠে গেছে। (সংখ্যাবাচক)
  • ১১.৩ সাত বছরের ছেলের ইস্কুলের মাইনে সাত টাকা। (সংখ্যাবাচক)
  • ১১.৪ নিজেই তো দুপুরবেলা একশো বার করে বললে - সবসময় সত্যি কথা বলবি। (সংখ্যাবাচক)
১২ নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো।
  • ১২.১ বুকু ছুটে ওপরে চলে যায়। (জটিল বাক্যে)
    যখন বুকু ছুটল, তখন সে ওপরে চলে গেল।
  • ১২.২ ছেনুমাসি আর অন্যটির নাম বেণুমাসি। (সরল বাক্যে)
    একজনের নাম ছেনুমাসি এবং অন্যজনের নাম বেণুমাসি।
  • ১২.৩ যত বড়ো হচ্ছে তত যেন যা-তা হয়ে যাচ্ছে। (যৌগিক বাক্যে)
    সে বড়ো হচ্ছে এবং সে যেন যা-তা হয়ে যাচ্ছে।
  • ১২.৪ ছেলের কথা শুনেই বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত। (জটিল বাক্যে)
    যেই ছেলের কথা শুনলেন, অমনি বুকুর মা-র মাথায় বজ্রাঘাত হলো।
১৩ পাকা, মাথা - এই শব্দগুলির প্রত্যেকটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্য লেখো।

পাকা:

  • (পরিণত ফল): গাছে অনেক পাকা আম ধরেছে।
  • (ইঁচড়ে পাকা/জেঠামো): ছেলেটার মুখে কেবল পাকা পাকা কথা।

মাথা:


  • (মস্তক/অঙ্গ): আঘাত লেগে ছেলেটির মাথা ফেটে গেছে।
  • (প্রধান ব্যক্তি): তিনি আমাদের গ্রামের মাথা, সবাই তাঁকে মানে।

সত্য ও সামাজিকতার সংঘাত

আশাপূর্ণা দেবীর 'কী করে বুঝব' গল্পটি হাসির মোড়কে আমাদের সমাজের এক গভীর বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। বড়োরা শিশুদের আদর্শ শেখান, কিন্তু নিজেরাই তা পালন করেন না। বুকুর মতো সরল শিশুরা সেই দ্বিমুখী আচরণের শিকার হয়। গল্পটি আমাদের শেখায় যে শিশুদের সামনে আমাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখা কতটা জরুরি।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

'কী করে বুঝব' গল্পটি প্রখ্যাত লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা। এই গল্পের মূল চরিত্র হলো 'বুকু' নামের একটি ছ-বছরের সরল ও সত্যবাদী ছেলে।

দুপুরে বুকুর মা বুকুকে শিখিয়েছিলেন যে, সবসময় সত্যি কথা বলতে হবে এবং কারও কাছে কোনো কিছু লুকানো চলবে না। বুকু সরল মনে এই শিক্ষাই অতিথিদের সামনে পালন করেছিল।

ডাম্বল হলো বেণুমাসির অত্যন্ত দুরন্ত ও অসভ্য একটি ছেলে। সে বুকুর বাড়িতে এসে আলমারি ভেঙে সেজোকাকার বই মাটিতে ফেলে দেয় এবং টেবিল ল্যাম্প ভেঙে ফেলেছিল।