✊ ঘুরে দাঁড়াও
পাঠ্যবই: সাহিত্য মেলা (অষ্টম শ্রেণি, WBBSE)
মূল বিষয়
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
সতর্কবাণী
পিছু হঠলে অস্তিত্ব বিপন্ন হবে
আকাঙ্ক্ষা
পৃথিবীর জাদুকরী বদল
আহ্বান
অবিলম্বে রুখে দাঁড়ানো
কবিতার সারাংশ
প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত রচিত 'ঘুরে দাঁড়াও' একটি তীব্র প্রতিবাদী ও জাগরণমূলক কবিতা। কবি দেখেছেন, আধুনিক যুগের সাধারণ মানুষ ক্রমাগত অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করতে করতে, ভয় পেয়ে কেবলই পিছু হঠছে। কবি তাদের সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে পিছু হঠতে হঠতে একদিন তাদের অস্তিত্ব বিন্দুর মতো মিলিয়ে যাবে। তাই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার আগেই মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
কবি একটি জাদুকরী বদলের (তুক) স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি চাইছেন, একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে পৃথিবী আবার সতেজ হয়ে উঠুক— সাইকেল রিকশোগুলো বনের দিকে চলে যাক, কাদামাখা রাস্তা স্বর্গের ছায়াপথে মিশে যাক এবং শহরতলি এক নতুন প্রাণশক্তিতে জেগে উঠুক। কিন্তু এই বদল যদি মানুষ নিজে থেকে আনতে না পারে, তবে তার জন্য অপেক্ষা করছে অনিবার্য মৃত্যু। তাই আর এক মুহূর্ত দেরি না করে, যে যেখানে আছে সেখান থেকেই সমস্ত শক্তি একজোট করে এখনই রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কবি।
১. হাতে কলমে (কবি পরিচিতি)
প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত সম্পাদিত কবিতা পত্রিকাটির নাম 'অলিন্দ'।
তাঁর রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হলো— 'এক ঋতু' এবং 'সদর স্ট্রীটের বারান্দা' (বা 'হাওয়া স্পর্শ করো')।
২. নিজের ভাষায় উত্তর দাও
৪ টিকবিতায় কবি সাধারণ মানুষকে ক্রমাগত পিছু না হঠে, হার না মেনে রুখে দাঁড়ানোর বা 'ঘুরে দাঁড়ানোর' আহ্বান জানিয়েছেন। জীবনের প্রতিকূলতা এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলেছেন।
বাইরেটার বদল: কবি কল্পনা করেছেন জাদুর মতো (তুক) করে বাইরের একঘেয়ে জগৎটাকে বদলে দিতে। এই বদল ঘটলে সাইকেল-রিকশোগুলো যানজট ছেড়ে বনে-বনান্তরে চলে যাবে, কাদাভর্তি নোংরা রাস্তা আকাশের ছায়াপথের কাছাকাছি চলে যাবে, গাছেরা নদীর জলে সতেজ স্নান করে আসবে, এবং নিস্তেজ শহরতলি সজাগ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
জীবন যেমন হবে: এই কাঙ্ক্ষিত বদল ঘটলে জীবন তার দৈনন্দিন ক্লান্তি, একঘেয়েমি ও হতাশা থেকে মুক্তি পাবে। এক সতেজ, প্রাকৃতিক ও প্রাণবন্ত পৃথিবীতে মানুষ নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পাবে এবং তাদের বেঁচে থাকাটা সার্থক হবে।
সরণ লক্ষ করার স্থান: কবি বর্তমান সমাজের নিরীহ, সাধারণ মানুষদের জীবন থেকে এই সরণ বা পিছু হঠা লক্ষ করেছেন। মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে ক্রমাগত আপোস করে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে।
কবির পরামর্শ: কবির পরামর্শ হলো— দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার আগেই এবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নিজের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রতিবাদ করতে হবে। যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে চারপাশের জঞ্জাল সরিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, নইলে মানুষ বিন্দু হয়ে মিলিয়ে যাবে (অর্থাৎ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে)।
'এবার'-এর সার্থকতা: 'এবার' শব্দটি দিয়ে দীর্ঘদিনের পিছু হঠার পর এই মুহূর্তের অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তনের সূচনাকে বোঝানো হয়েছে। অনেক হয়েছে, আর নয়— এই ভাবনাটি এখানে স্পষ্ট।
'এখন'-এর সার্থকতা: কবিতার শেষে 'এখন' শব্দটি দিয়ে অবিলম্বে, এই মুহূর্তেই ঘুরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে। দেরি করলে অস্তিত্ব বিপন্ন হবে, তাই 'এখনই' বা তৎক্ষণাৎ রুখে দাঁড়ানোর তীব্র তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
৩. নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন করো
৫ টি| মূল বাক্য | নির্দেশ | পরিবর্তিত বাক্য |
|---|---|---|
| তুমি আর কোথায় সরবে? | (প্রশ্ন পরিহার করো) | তোমার আর সরার কোনো জায়গা নেই। |
| এবার ঘুরে দাঁড়াও। | (না-সূচক বাক্যে) | এবার ঘুরে না-দাঁড়িয়ে উপায় নেই। (বা: এবার ঘুরে না দাঁড়িয়ে থেকো না।) |
| তুমি যদি বদলে দিতে না পারো / তাহলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মরতে হবে। | (সরল বাক্যে) | তোমার বদলে দিতে না পারার পরিণতি হলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৃত্যু। (বা: বদলে দিতে না পারলে তোমাকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মরতে হবে।) |
| নইলে সরতে সরতে সরতে / তুমি বিন্দুর মতো মিলিয়ে যাবে। | (প্রশ্নবোধক বাক্যে) | নইলে সরতে সরতে তুমি কি বিন্দুর মতো মিলিয়ে যাবে না? |
| গাছগুলো নদীর জলে স্নান করে আসুক। | (নির্দেশক বাক্যে) | গাছগুলো নদীর জলে স্নান করে আসবে। |
৪. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো
| সমাসবদ্ধ পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের নাম |
|---|---|---|
| বনান্তর | অন্য বন | নিত্য সমাস |
| ছায়াপথ | ছায়াপ্রধান যে পথ (বা: ছায়া ছাওয়া পথ) | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস |
| উপান্ত | প্রান্তের সমীপ (বা: অন্তের সদৃশ) | অব্যয়ীভাব সমাস |
| সাইকেল-রিকশো | সাইকেল চালিত রিকশো | মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস |