আজকের ভারত প্রশ্ন উত্তর

WBBSE Class 7 History Chapter 9 - সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্বশাসন | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা

Sahina Sabnam
Sahina Sabnam
Uploaded: 12 May 2026 Last Update: 31 May 2026
আজকের ভারত - Class 7 History Chapter 9

আজকের ভারত : সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্বশাসন

ভারতের সংবিধান, নির্বাচন ও স্থানীয় প্রশাসন | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা | 40 MCQ | 30 SAQ | 6 Broad Questions

গণতন্ত্র সংবিধান ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ পৌরসভা গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচন
🗳️

গণতন্ত্র ও নির্বাচন

জনগণের নিজের শাসক বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা

📖

ভারতের সংবিধান

পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান ও ড. বি.আর. আম্বেদকর

⚖️

সরকারের বিভাগ

আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ

🏘️

স্বায়ত্বশাসন

শহরের পৌরসভা ও গ্রামের পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

40 টি
1'সরকার' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
2মধ্যযুগে ভারতে 'সরকার' বলতে কী বোঝানো হতো?
3Government শব্দের বাংলা অর্থ কী?
4Govern শব্দের অর্থ কী?
5নিজেরা নিজেদের মধ্য থেকে শাসক বেছে নেওয়ার পদ্ধতিকে কী বলে?
6'তন্ত্র' শব্দটির অর্থ কী?
7রাজা, সুলতান বা বাদশাহের শাসনব্যবস্থাকে কী বলা হয়?
8নীচের কোন দেশে এখনও রাজা-রানি আছেন?
9নীচের কোন দেশে এখনও রাজতন্ত্র বা রাজা-রানি আছেন?
10ভারতে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কে আছেন?
11ভারত দেশ কীভাবে চলবে তার নিয়মকানুন কোথায় লেখা আছে?
12'বিধান' শব্দটির অর্থ কী?
13পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো সংবিধান কোন দেশের?
14ভারতীয় সংবিধানের প্রধান রূপকার কে?
15ভারতে সাধারণত কত বছর অন্তর নির্বাচন বা ভোট হয়?
16ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত হয়?
17ভারতের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
18২৬ জানুয়ারি দিনটি ভারতে কী হিসেবে পালিত হয়?
19ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে কারা নির্বাচন করেন?
20রাজ্য সরকারকে কারা নির্বাচন করেন?
21যে শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দু-রকম সরকারের ক্ষমতাই থাকে, তাকে কী বলে?
22ভারতের সরকার কীরূপ?
23সরকারের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য কয়টি বিভাগ রয়েছে?
24দেশ পরিচালনার জন্য আইন তৈরি করে সরকারের কোন বিভাগ?
25তৈরি হওয়া আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করে কোন বিভাগ?
26সংবিধান অনুসারে দেশ শাসন হচ্ছে কিনা তা কে নজর রাখে?
27কোন বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের থেকে আলাদা রাখা হয়?
28'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'-র কথা প্রথম কে বলেন?
29জনগণ সরাসরি শাসনে অংশ নিলে তাকে কী বলে?
30শহর বা নগরের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে কী বলে?
31সংস্কৃতে 'পুর' শব্দের অর্থ কী?
32পৌরসভার সদস্যদের কী বলা হয়?
33কত বছর বয়স হলে পৌরসভার নির্বাচনে ভোট দেওয়া যায়?
34গ্রামের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে কী বলে?
35অনেকগুলি গ্রাম নিয়ে কী তৈরি হয়?
36ব্লকের স্বায়ত্তশাসনের ভার কার ওপর থাকে?
37কয়েকটি ব্লক নিয়ে কী তৈরি হয়?
38জেলার স্বায়ত্তশাসনের ভার কার ওপর থাকে?
39আড়াই হাজার বছর আগে কোথায় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল?
40প্রাচীন এথেন্সে নির্বাচনের সময় ভোট দেওয়ার জন্য কী ব্যবহার করা হতো?

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (উত্তর সহ)

30 টি
1'সরকার' শব্দটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর অর্থ কী?
'সরকার' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। মধ্যযুগে ভারতে এই শব্দটির দুটি অর্থ ছিল—শাসনকর্তা অথবা শাসনব্যবস্থা। বর্তমানেও আমরা যারা দেশ পরিচালনা করেন তাদের বোঝাতে 'সরকার' শব্দটি ব্যবহার করি। ইংরেজিতে এর প্রতিশব্দ হলো 'Government'।
2Government এবং Govern শব্দের অর্থ কী?
ইংরেজিতে 'Government' (গভর্নমেন্ট) শব্দের অর্থ হলো সরকার বা শাসনব্যবস্থা। আর 'Govern' (গভর্ন) শব্দের অর্থ হলো শাসন করা। যারা একটি দেশ বা রাজ্য শাসন করেন, তাদের একত্রিত রূপকেই গভর্নমেন্ট বলা হয়।
3গণতন্ত্র কাকে বলে?
যে শাসনব্যবস্থায় দেশের জনগণ বা লোকেরা নিজেরাই ঠিক করেন যে কে বা কারা দেশ শাসন করবে, তাকে 'গণতন্ত্র' বলে। 'গণ' মানে জনগণ আর 'তন্ত্র' মানে ব্যবস্থা। অর্থাৎ, জনগণ নিজেরা নিজেদের মধ্য থেকে শাসক বেছে নেওয়ার পদ্ধতিই হলো গণতন্ত্র।
4রাজতন্ত্র বলতে কী বোঝো?
যে শাসনব্যবস্থায় রাজা, রানি, সুলতান বা বাদশাহ উত্তরাধিকার সূত্রে বা ক্ষমতার জোরে দেশ শাসন করেন, তাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। এই ব্যবস্থায় সাধারণ জনগণের শাসক বেছে নেওয়ার কোনো সরাসরি অধিকার থাকে না।
5এমন দুটি দেশের নাম লেখো যেখানে এখনও রাজা-রানি আছেন।
বর্তমান পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে এখনও রাজা-রানি আছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি দেশ হলো ইংল্যান্ড এবং জাপান। তবে এই দেশগুলোতে রাজা বা রানি থাকলেও সেখানে গণতান্ত্রিক সরকারও রয়েছে এবং দেশ পরিচালনার মূল ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতেই থাকে।
6ভারতে কি রাজতন্ত্র আছে? ভারতের প্রধান কারা?
না, ভারতে কোনো রাজতন্ত্র নেই। এখানে কোনো রাজা-রানি দেশ শাসন করেন না। ভারত একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়েছেন 'রাষ্ট্রপতি' এবং সরকার প্রধান বা শাসন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন 'প্রধানমন্ত্রী'।
7সংবিধান কাকে বলে?
একটি দেশ বা রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকারের ক্ষমতা কতটা থাকবে এবং জনগণের অধিকার কী কী হবে—সেই সবের লিখিত বা অলিখিত নিয়মকানুনকে একত্রে 'সংবিধান' বলা হয়। 'বিধান' শব্দটির অর্থ হলো নিয়ম। এটিই হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন।
8ভারতের সংবিধান সম্পর্কে দুটি তথ্য দাও।
ভারতের সংবিধান সম্পর্কে দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো: ১) ভারতের একটি লিখিত সংবিধান আছে এবং এটি পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ও বিস্তারিত সংবিধান। ২) ভারতীয় সংবিধানের প্রধান রূপকার বা স্থপতি হলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর।
9ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত এবং কার্যকর হয়?
প্রায় তিন বছর ধরে আলোচনা ও বিতর্কের পর, ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান গণপরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়। এরপর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি এই সংবিধান সারা দেশে কার্যকর বা চালু হয়।
10প্রজাতন্ত্র দিবস কবে পালিত হয় এবং কেন?
প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে ভারতে 'প্রজাতন্ত্র দিবস' (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়। এর কারণ হলো, ১৯৫০ সালের এই দিনেই (২৬ জানুয়ারি) ভারতের নিজস্ব সংবিধান কার্যকর হয়েছিল এবং ভারত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
11নির্বাচন বা ভোট বলতে কী বোঝো?
নির্বাচন হলো এমন একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন। ভারতে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন হয়, যাকে চলতি কথায় 'ভোট হওয়া' বলে। এই ভোটের মাধ্যমেই জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করেন।
12কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার কীভাবে নির্বাচিত হয়?
ভারত একটি বিশাল দেশ। এখানে সমগ্র দেশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য যে 'কেন্দ্রীয় সরকার' থাকে, তা গোটা দেশের সমস্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে, প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব শাসনকার্য চালানোর জন্য যে 'রাজ্য সরকার' থাকে, তা শুধু সেই নির্দিষ্ট রাজ্যের বাসিন্দাদের ভোটে নির্বাচিত হয়।
13যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা কাকে বলে?
যে শাসনব্যবস্থায় সমগ্র দেশের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদা রাজ্য সরকার থাকে, এবং সংবিধান দ্বারা উভয় সরকারের ক্ষমতাই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, সেই ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা বলে। ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্র।
14ভারতের সরকারকে গণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয় কেন?
ভারতের সরকারকে গণতান্ত্রিক বলা হয় কারণ এদেশের জনগণ নিজেদের ভোট দিয়ে শাসক বা সরকার নির্বাচন করেন। আর একে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয় কারণ ভারতে দু-ধরনের সরকার ব্যবস্থা আছে—সমগ্র দেশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিভিন্ন রাজ্যের জন্য রাজ্য সরকার।
15সরকারের প্রধান কাজ কী?
খুব সাধারণভাবে বললে, সরকারের কাজ হলো দেশের শাসন ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালনা করা। এর মধ্যে রয়েছে—জনগণের উন্নতির জন্য নানান উদ্যোগ নেওয়া, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কর সংগ্রহ করা, দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের সার্বিক শান্তি ও উন্নতি বিধান করা।
16সরকারের কাজকর্ম চালানোর জন্য কয়টি বিভাগ আছে ও কী কী?
সরকারের সমস্ত কাজকর্মকে সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য তিনটি প্রধান বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলি হলো: ১) আইন বিভাগ (Legislature), ২) শাসন বিভাগ (Executive), এবং ৩) বিচার বিভাগ (Judiciary)।
17সরকারের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের কাজ কী?
সরকারের 'আইন বিভাগ'-এর প্রধান কাজ হলো দেশ পরিচালনার জন্য নতুন আইন তৈরি করা বা পুরোনো আইনের সংশোধন করা। আর 'শাসন বিভাগ'-এর কাজ হলো আইন বিভাগ দ্বারা তৈরি হওয়া সেই আইন অনুসারে দেশ বা রাজ্যের দৈনন্দিন শাসনকার্য পরিচালনা করা।
18বিচার বিভাগের কাজ কী?
বিচার বিভাগের প্রধান কাজ হলো সংবিধান অনুসারে দেশ শাসন হচ্ছে কিনা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা—সেসবের প্রতি নজর রাখা। এছাড়া, কেউ দেশের আইন বা নিয়ম ভাঙলে, তার বিচার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়াও বিচার বিভাগের কাজ।
19'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' কাকে বলে?
সব দেশেই সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে বিচার বিভাগকে বাকি দুটি বিভাগ (আইন ও শাসন বিভাগ) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বাধীন রাখা হয়। কোনোভাবেই যাতে সুবিচারের পথ বন্ধ না হয়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। এককথায়, ক্ষমতাকে আলাদা রাখার এই নিয়মকেই 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' বলে।
20কে প্রথম 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'-র কথা বলেন?
ফ্রান্সের প্রখ্যাত দার্শনিক মন্তেস্কু (Montesquieu) প্রথম এই 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'-র (Separation of Powers) কথা বলেছিলেন। গণতন্ত্র যাতে সঠিকভাবে বজায় থাকে এবং সরকার স্বৈরাচারী না হয়ে ওঠে, তার জন্যই তিনি এই নীতির প্রস্তাব করেছিলেন।
21স্বায়ত্তশাসন কাকে বলে?
যখন দেশের জনগণ শুধুমাত্র শাসক নির্বাচন করেই থেমে থাকেন না, বরং নিজেরাও নিজেদের এলাকার শাসনব্যবস্থায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, তখন তাকে 'স্বায়ত্তশাসন' বলা হয়। 'স্ব' মানে নিজের আর 'আয়ত্ত' মানে অধীন—অর্থাৎ জনগণ যেখানে নিজেই নিজের অধীন।
22পশ্চিমবঙ্গে কয় ধরনের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা দেখা যায় ও কী কী?
পশ্চিমবঙ্গে প্রধানত দু-ধরনের স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা দেখা যায়: ১) শহর বা নগরের ক্ষেত্রে 'পৌরসভা' (Municipality) বা পৌর নিগম, এবং ২) গ্রামের ক্ষেত্রে 'পঞ্চায়েত ব্যবস্থা' (Panchayat System), যা তিনটি স্তরে বিভক্ত (গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলাপরিষদ)।
23পৌরসভা কী?
ছোটো ছোটো শহর বা নগরের স্থানীয় শাসন ও উন্নয়নের দায়িত্ব যে স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তাকে পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যালিটি বলা হয়। 'পৌর' কথাটা এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'পুর' থেকে, যার মানে নগর। এই শহরের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের বাসিন্দারা ভোট দিয়ে পৌরসভার সদস্যদের বেছে নেন।
24পৌরপ্রতিনিধি ও পৌরপ্রধান কাদের বলা হয়?
শহরের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত পৌরসভার সদস্যদের 'পৌরপ্রতিনিধি' বা কাউন্সিলর বলা হয়। এই নির্বাচিত পৌরপ্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে নেতা হিসেবে বেছে নেন, যিনি পৌরসভার সমস্ত কাজের নেতৃত্ব দেন, তাঁকে 'পৌরপ্রধান' বা চেয়ারম্যান বলা হয়।
25পৌরসভার কয়েকটি কাজ উল্লেখ করো।
পৌরসভার প্রধান কাজগুলি হলো—শহর বা নগরের জনসেবা, জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন। নির্দিষ্টভাবে বললে, পানীয় জল সরবরাহ করা, রাস্তাঘাট বানানো ও মেরামত করা, শহরের দূষণ রোধ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিদ্যালয় ও হাসপাতাল তৈরি করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রসার ঘটানো।
26গ্রাম পঞ্চায়েত কীভাবে গঠিত হয়?
শহর বা নগরে যেমন পৌরসভা থাকে, তেমনি গ্রামে থাকে গ্রাম পঞ্চায়েত। গ্রামের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের বাসিন্দারা ভোট দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের নির্বাচন করেন। নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে 'পঞ্চায়েত প্রধান' হিসেবে নির্বাচন করেন। এর মেয়াদও ৫ বছর।
27গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাজগুলি কী কী?
গ্রামের সার্বিক উন্নতি সাধন করাই গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—গ্রামে পানীয় জলের সরবরাহ করা, গ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণ করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করা, শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় গড়ে তোলা এবং বনসৃজন করা।
28ব্লক ও জেলা কীভাবে গঠিত হয় এবং সেখানকার স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার নাম কী?
অনেকগুলি গ্রামকে একসঙ্গে নিয়ে একটি 'ব্লক' (Block) তৈরি হয়, এবং ব্লকের স্বায়ত্তশাসনের ভার থাকে 'পঞ্চায়েত সমিতি'-র ওপর। আবার, কয়েকটি ব্লক নিয়ে গঠিত হয় একটি 'জেলা' (District), এবং জেলার স্বায়ত্তশাসনের ভার থাকে 'জেলাপরিষদ'-এর ওপর।
29আড়াই হাজার বছর আগে কোথায় গণতন্ত্র ছিল?
আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিস দেশের 'এথেন্স' নগরীতে প্রথম গণতন্ত্রের ধারণা গড়ে উঠেছিল। সেখানে সাধারণ লোকেরা নিজেদের মধ্য থেকে শাসক বেছে নিত এবং শাসনকার্যে সরাসরি অংশগ্রহণ করত।
30প্রাচীন এথেন্সে কীভাবে শাসক নির্বাচিত হতো?
শোনা যায় যে, প্রাচীন এথেন্সে লোকেরা ভোট দেওয়ার জন্য কাগজের বদলে মাটির কলসির ভাঙা টুকরো ব্যবহার করত। তারা ভাঙা কলসির টুকরোর উপর নিজেদের পছন্দমতো চিহ্ন এঁকে একটা আস্ত কলসির মধ্যে ফেলে দিত। যার পক্ষে সবচেয়ে বেশি কলসির টুকরো জমা পড়ত, সেই ব্যক্তিই শাসক নির্বাচিত হতো।

Broad Questions - বিশদ প্রশ্নোত্তর (উত্তর সহ)

6 টি
1সরকার বলতে কী বোঝো? সরকারের প্রধান কাজগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

সরকার কী?

'সরকার' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। মধ্যযুগে ভারতে এই শব্দটির দুটি অর্থ ছিল—শাসনকর্তা অথবা শাসনব্যবস্থা। বর্তমানে কোনো দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তাদের সম্মিলিত রূপকেই সরকার বলা হয়। ইংরেজিতে একে 'Government' (গভর্নমেন্ট) বলা হয়, যার উৎপত্তি 'Govern' বা শাসন করা থেকে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সরকার নির্বাচন করেন।

সরকারের প্রধান কাজগুলি

খুব সাধারণভাবে বললে, সরকারের মূল কাজ হলো দেশের শাসন ব্যবস্থা সঠিকভাবে ও সংবিধান মেনে পরিচালনা করা। এর কাজগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. শাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
  2. আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ: সময়ের সাথে সাথে মানুষের প্রয়োজন বদলায়, তাই সরকার দেশের জন্য নতুন আইন তৈরি করে এবং পুরনো আইন সংশোধন করে। এরপর সেই আইনগুলি দেশে কার্যকর করে।
  3. জনকল্যাণ ও উন্নয়ন: জনগণের যাতে ভালো হয়, তার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। রাস্তাঘাট নির্মাণ, সেতু, রেলওয়ে, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা ইত্যাদি পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সরকারের কাজ।
  4. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: সরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করে দেশের মানুষের শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
  5. রাজস্ব বা কর সংগ্রহ: এই বিপুল উন্নয়নমূলক কাজগুলি করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সরকার দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী কর বা ট্যাক্স সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ জনকল্যাণেই ব্যয় করে।
  6. দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি: বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনী পরিচালনা করা এবং বিদেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ।

উপসংহার

সংক্ষেপে, সরকার হলো রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক। দেশের উন্নতি, শান্তি ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্যই সংবিধানে নির্দেশিত পথে সরকার নিরলস কাজ করে যায়।

2গণতন্ত্র ও রাজতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী? ভারতকে গণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় দেশ বলা হয় কেন?

ভূমিকা

দেশ শাসন করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। প্রাচীন ও মধ্যযুগে সারা পৃথিবীতে রাজতন্ত্রের প্রচলন বেশি থাকলেও, আধুনিক যুগে বেশিরভাগ দেশেই গণতন্ত্র প্রচলিত। এই দুই শাসন ব্যবস্থার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

গণতন্ত্র ও রাজতন্ত্রের পার্থক্য

  • সংজ্ঞা: যে শাসনব্যবস্থায় দেশের জনগণ বা লোকেরা নিজেরাই নিজেদের শাসক নির্বাচন করে, তাকে 'গণতন্ত্র' বলে। অন্যদিকে, যে ব্যবস্থায় রাজা বা রানি বংশানুক্রমিকভাবে বা ক্ষমতার জোরে দেশ শাসন করেন, তাকে 'রাজতন্ত্র' বলে।
  • জনগণের ক্ষমতা: গণতন্ত্রে দেশের প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হলেন জনগণ। তারা চাইলে ভোটের মাধ্যমে শাসক বদলাতে পারেন। কিন্তু রাজতন্ত্রে সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষমতা থাকে না, সমস্ত ক্ষমতা রাজা বা সুলতানের হাতে কুক্ষিগত থাকে।
  • সমতা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকে এবং আইনের চোখে সবাই সমান। রাজতন্ত্রে বৈষম্য বেশি দেখা যায় এবং রাজার নির্দেশই শেষ কথা।
  • উদাহরণ: ভারত, আমেরিকা হলো গণতান্ত্রিক দেশ। অন্যদিকে অতীতের মুঘল বা সুলতানি আমল ছিল রাজতন্ত্রের উদাহরণ। বর্তমানকালেও জাপান বা ইংল্যান্ডে রাজা-রানি আছেন, তবে সেখানে পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সরকারও রয়েছে।

ভারতকে গণতান্ত্রিক বলা হয় কেন?

ভারতকে গণতান্ত্রিক দেশ বলা হয় কারণ এদেশের শাসনভার কোনো রাজা বা স্বৈরশাসকের হাতে নেই। প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট সময়ের (সাধারণত ৫ বছর) জন্য নিজেদের শাসক বা সরকার নিজেরাই বেছে নেন। অর্থাৎ, এ দেশের জনগণই হলেন ক্ষমতার প্রধান উৎস।

ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয় কেন?

ভারত একটি বিশাল দেশ। এই বিশাল দেশটিকে সুচারুভাবে শাসন করার জন্য সংবিধান অনুযায়ী দু-ধরনের সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমগ্র দেশের দায়িত্বভার পালনের জন্য রয়েছে 'কেন্দ্রীয় সরকার', এবং প্রত্যেকটি অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় বিষয়গুলি পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা 'রাজ্য সরকার'। যে ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্য দু-রকম সরকারের ক্ষমতাই সংবিধানে স্বীকার করা হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বলে। তাই ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় দেশ।

3ভারতের সংবিধান সম্পর্কে কী জানো? একে পৃথিবীর বৃহত্তম সংবিধান বলা হয় কেন?

সংবিধান কী?

'বিধান' শব্দটির অর্থ হলো নিয়ম। প্রত্যেক দেশ কীভাবে চলবে, সরকারের কী কী ক্ষমতা থাকবে এবং নাগরিকদের কী কী অধিকার ও কর্তব্য থাকবে—সেই সম্পর্কিত নিয়মকানুনগুলির সমষ্টিকেই 'সংবিধান' বলা হয়। বেশিরভাগ দেশেরই সংবিধান লিখিত আকারে থাকে, আবার কোনো কোনো দেশে (যেমন ইংল্যান্ড) অলিখিত প্রথা বা নিয়মই সংবিধানের কাজ করে।

ভারতের সংবিধান

ভারতের একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত লিখিত সংবিধান রয়েছে। ড. বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন এই ভারতীয় সংবিধানের প্রধান রূপকার বা স্থপতি। প্রায় তিন বছর ধরে বহু আলোচনা ও বিতর্কের পর গণপরিষদে এই সংবিধান তৈরি হয়। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর ভারতের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপর, ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি এই সংবিধান সমগ্র দেশে কার্যকর হয়। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি ভারতে 'প্রজাতন্ত্র দিবস' পালন করা হয়। এই সংবিধান মেনেই ভারতের গণতান্ত্রিক সরকার দেশ শাসন করে।

পৃথিবীর বৃহত্তম সংবিধান

ভারতীয় সংবিধানকে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো ও বিস্তারিত লিখিত সংবিধান বলা হয়। এর কারণগুলি হলো:

  • বিশালত্ব: ভারত একটি বিশাল দেশ, যার ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য প্রচুর। এত বড় দেশের সমস্ত শ্রেণির মানুষের অধিকার রক্ষা করার জন্য সংবিধানে অনেক ধারা-উপধারা যুক্ত করতে হয়েছে।
  • কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক: ভারতের সংবিধানে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের নয়, প্রতিটি রাজ্য সরকারের গঠন, ক্ষমতা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে লেখা আছে।
  • মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্যগুলি অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সংবিধানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
  • সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা: তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য সংবিধানে বিশেষ ও বিস্তারিত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এত বিপুল সংখ্যক ধারা (Articles), উপধারা ও তফশিল (Schedules) পৃথিবীর আর কোনো দেশের সংবিধানে নেই, তাই এটি বৃহত্তম।

4সরকারের বিভিন্ন বিভাগগুলি কী কী? তাদের কাজগুলি আলোচনা করো এবং 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' কী তা বুঝিয়ে দাও।

ভূমিকা

একটি দেশের সরকার কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি মাত্র সংস্থার দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। শাসনব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখার জন্য আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কাজকর্মকে প্রধানত তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।

সরকারের তিনটি বিভাগ ও তাদের কাজ

সরকারের তিনটি মূল বিভাগ হলো—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। এদের কাজগুলি নিম্নরূপ:

  1. আইন বিভাগ (Legislature): এই বিভাগের প্রধান কাজ হলো দেশের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন আইন তৈরি করা। এছাড়া পুরনো আইনের যদি কোনো বদল বা সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে তাও আইন বিভাগ করে থাকে। দেশের বাজেট পাশ করাও এদের কাজ। (যেমন: ভারতের সংসদ বা পার্লামেন্ট)।
  2. শাসন বিভাগ (Executive): আইন বিভাগ দ্বারা তৈরি হওয়া আইন অনুসারে দেশকে বাস্তবে পরিচালনা করাই হলো শাসন বিভাগের কাজ। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সরকারি নীতি নির্ধারণ ও তা কার্যকর করা এবং প্রশাসন চালানো শাসন বিভাগের প্রধান দায়িত্ব। (যেমন: প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য আমলারা)।
  3. বিচার বিভাগ (Judiciary): এই বিভাগের কাজ হলো সংবিধান অনুসারে দেশ সঠিকভাবে শাসন হচ্ছে কিনা এবং জনগণের স্বার্থ ও মৌলিক অধিকার রক্ষা হচ্ছে কিনা—সেসবের প্রতি নজর রাখা। কেউ আইন বা নিয়ম ভাঙলে, তার বিচার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া বিচার বিভাগের কাজ। (যেমন: সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট)।

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি (Separation of Powers)

সরকারের এই তিনটি বিভাগের মধ্যে বিচার বিভাগকে সব দেশেই বাকি দুটি বিভাগের (আইন ও শাসন) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বাধীন রাখা হয়। সরকারের এক বিভাগ যেন অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ না করতে পারে, সেই ব্যবস্থাকেই এককথায় 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' বলে।

এর প্রয়োজনীয়তা:

ফ্রান্সের বিখ্যাত দার্শনিক মন্তেস্কু প্রথম এই নীতির কথা বলেছিলেন। যদি আইন তৈরি করা, শাসন করা এবং বিচার করা—এই তিন ক্ষমতা একই ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর হাতে থাকে, তবে তারা স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে এবং সুবিচারের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গণতন্ত্র যাতে সফল হয় এবং নাগরিকদের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, তার জন্যই বিচার বিভাগকে শাসন ও আইন বিভাগের প্রভাব মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

5স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝো? শহর বা নগরের ক্ষেত্রে পৌরসভার গঠন ও কাজগুলি বিস্তারিতভাবে লেখো।

স্বায়ত্তশাসন কী?

'স্ব' কথাটির অর্থ হলো নিজের, আর 'আয়ত্ত' মানে অধীন। অর্থাৎ, যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ নিজেই নিজের অধীন, তাকেই 'স্বায়ত্তশাসন' (Local Self-Government) বলে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের জনগণ শুধু সাংসদ বা বিধায়ক নির্বাচন করেই থেমে থাকেন না, তারা নিজেদের স্থানীয় অঞ্চলের দৈনন্দিন শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে সরাসরি বা নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। এই স্থানীয় শাসন ব্যবস্থাই হলো স্বায়ত্তশাসন। পশ্চিমবঙ্গে শহর ও গ্রাম—এই দুই ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা চালু আছে।

পৌরসভা কী?

ছোটো ছোটো শহর বা নগরের স্থানীয় শাসন পরিচালনার জন্য যে স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান থাকে, তাকে 'পৌরসভা' (Municipality) বলা হয়। 'পৌর' কথাটা এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'পুর' থেকে, যার অর্থ হলো নগর বা শহর।

পৌরসভার গঠন

একটি নির্দিষ্ট শহর বা পৌর এলাকার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের ভোটাররা (নাগরিকরা) প্রতি ৫ বছর অন্তর নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পৌরসভার সদস্যদের বেছে নেন। এই নির্বাচিত সদস্যদের বলা হয় 'পৌরপ্রতিনিধি' বা কাউন্সিলর। এরপর, এই নির্বাচিত পৌরপ্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে নেতা বা প্রধান হিসেবে নির্বাচন করেন। তাকে বলা হয় 'পৌরপ্রধান' বা চেয়ারম্যান। পৌরপ্রধানের নেতৃত্বেই পৌরসভার সমস্ত কাজকর্ম পরিচালিত হয়।

পৌরসভার কাজসমূহ

শহর বা নগরের সার্বিক উন্নতি, জনসেবা, জনস্বাস্থ্য ও প্রশাসনের দেখভাল করাই পৌরসভার মূল কাজ। এর উল্লেখযোগ্য কাজগুলি হলো:

  • জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: শহরের রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, জঞ্জাল বা আবর্জনা অপসারণ করা এবং দূষণ রোধ করে শহরকে নির্মল রাখা। মশা ও রোগজীবাণু দমনের ব্যবস্থা করা।
  • জল সরবরাহ: শহরের সমস্ত অধিবাসীর জন্য পরিশ্রুত ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা পৌরসভার অন্যতম প্রধান কাজ।
  • পরিকাঠামো উন্নয়ন: শহরের নতুন রাস্তাঘাট, নিকাশি নালা (ড্রেন), কালভার্ট ইত্যাদি তৈরি করা এবং পুরোনোগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা। রাস্তায় আলোর (Street light) ব্যবস্থা করা।
  • শিক্ষা ও চিকিৎসা: স্থানীয় স্তরে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা করে শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং হাসপাতাল, মাতৃসদন ও দাতব্য চিকিৎসালয় বানিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করা।
  • অন্যান্য কাজ: পার্ক বা খেলার মাঠ তৈরি করা, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র (Certificate) প্রদান করা এবং শ্মশান বা গোরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ করা।
6গ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার স্তরগুলি কী কী? গ্রাম পঞ্চায়েতের গঠন ও প্রধান কাজগুলি আলোচনা করো।

ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গে শহরের স্বায়ত্তশাসনের জন্য যেমন পৌরসভা রয়েছে, তেমনি গ্রামের স্থানীয় মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দূর করা এবং গ্রামের সার্বিক উন্নতির জন্য রয়েছে গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা, যার নাম 'পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা'। গ্রামের মানুষ যাতে নিজেদের এলাকার উন্নয়ন নিজেরা করতে পারে, তার জন্যই এই ব্যবস্থার সৃষ্টি।

পঞ্চায়েত ব্যবস্থার স্তর

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাটি তিনটি স্তরে বিভক্ত:

  1. গ্রাম পঞ্চায়েত (নিম্ন স্তর): প্রতিটি গ্রামের বা কয়েকটি ছোট গ্রাম নিয়ে সর্বনিম্ন স্তরে থাকে গ্রাম পঞ্চায়েত।
  2. পঞ্চায়েত সমিতি (মধ্য স্তর): অনেকগুলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা বা গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় একটি 'ব্লক'। এই ব্লকের শাসনভার থাকে পঞ্চায়েত সমিতির হাতে।
  3. জেলাপরিষদ (উচ্চ স্তর): কয়েকটি ব্লক নিয়ে গঠিত হয় একটি 'জেলা'। সমগ্র জেলার গ্রামীণ উন্নয়নের সর্বোচ্চ স্তরে থাকে জেলাপরিষদ।

গ্রাম পঞ্চায়েতের গঠন

গ্রামের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দারা প্রতি ৫ বছর অন্তর নিজেদের ভোট দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের নির্বাচন করেন। এরপর, এই নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যরা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে নেতা হিসেবে বেছে নেন, যাঁকে বলা হয় 'পঞ্চায়েত প্রধান'। পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বেই গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজকর্ম পরিচালিত হয়। প্রধানকে সাহায্য করার জন্য একজন উপপ্রধানও নির্বাচিত হন।

গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজ

গ্রামের সবরকম উন্নতি সাধন করাই গ্রাম পঞ্চায়েতের মূল লক্ষ্য। এর প্রধান কাজগুলি হলো:

  • পানীয় জলের ব্যবস্থা: গ্রামের মানুষের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, নলকূপ (Tubewell) বসানো বা সংস্কার করা।
  • রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ: গ্রামের ভেতরের কাঁচা রাস্তা পাকা করা, নতুন পথ-ঘাট নির্মাণ করা এবং সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা।
  • জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: গ্রামের নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মহামারী রোধে ব্যবস্থা নেওয়া। চিকিৎসা কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করে প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া।
  • শিক্ষা: শিক্ষাদানের জন্য গ্রামে বিদ্যালয়, শিশুশিক্ষাকেন্দ্র বা পাঠাগার তৈরি করা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের ব্যবস্থা নেওয়া।
  • কৃষি ও পরিবেশ: কৃষিকাজে সেচের জলের ব্যবস্থা করা, বৃক্ষরোপণ বা বনসৃজন করা এবং গ্রামীণ কুটিরশিল্পে উৎসাহ দেওয়া।

উপসংহার

গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষ সরাসরি শাসন ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এভাবেই একদম নিচুতলা থেকে গণতন্ত্র জোরদার হয়ে ওঠে।

মনে রেখো!

ইতিহাস বইয়ের এই শেষ অধ্যায়টি আসলে আমাদের চারপাশের বাস্তব জীবনের কথা। রাজা-বাদশাহদের যুগ পেরিয়ে আজ আমরা গণতান্ত্রিক যুগে বাস করছি। কিভাবে দেশ চলে, সরকার কী কাজ করে, ভারতের বৃহত্তম সংবিধান কে বানিয়েছেন, আর আমাদের এলাকার উন্নতির জন্য পৌরসভা বা পঞ্চায়েত কীভাবে কাজ করে—এগুলো জানা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, একজন সচেতন নাগরিক হওয়ার জন্যও খুব জরুরি!

Sponsored Links

Class 7 History Chapter 9 - সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Science Tips-এ স্বাগত! WBBSE Class 7 History-র নবম (শেষ) অধ্যায় "আজকের ভারত : সরকার, গণতন্ত্র ও স্বায়ত্বশাসন"-র A+++ মানের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা। এই অধ্যায় থেকে তুমি পাবে—সরকার ও গণতন্ত্রের ধারণা, ভারতের বৃহত্তম সংবিধান ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের অবদান, সরকারের তিন বিভাগ ও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, এবং স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে পৌরসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিস্তারিত আলোচনা। ৪০টি MCQ, ৩০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ৬টি বড়ো প্রশ্নের মাধ্যমে তোমার সপ্তম শ্রেণির ইতিহাসের প্রস্তুতি হবে ১০০% সম্পূর্ণ!

Frequently Asked Questions

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান রূপকার বা স্থপতি হলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর। ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর এটি গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি এটি সারা ভারতে কার্যকর হয়। এই জন্যই ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়।

সরকারের তিনটি বিভাগ (আইন, শাসন ও বিচার)-এর মধ্যে বিচার বিভাগকে বাকি দুটি বিভাগের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বাধীন রাখার নিয়মকেই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলে। ফরাসি দার্শনিক মন্তেস্কু প্রথম এর কথা বলেন, যাতে সুবিচারের পথ সর্বদা খোলা থাকে।

যে শাসন ব্যবস্থায় জনগণ শুধুমাত্র শাসক নির্বাচন না করে নিজেরাও সরাসরি শাসনে ও উন্নয়নে অংশ নেয়, তাকে স্বায়ত্তশাসন বলে। পশ্চিমবঙ্গে দুই প্রকার স্বায়ত্তশাসন দেখা যায়—শহরের জন্য 'পৌরসভা' এবং গ্রামের জন্য 'পঞ্চায়েত ব্যবস্থা'।

ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ কারণ এদেশের সরকার সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। আর একে যুক্তরাষ্ট্রীয় বলা হয় কারণ, ভারতের শাসনভার একটিমাত্র সরকারের হাতে নেই; সমগ্র দেশের জন্য 'কেন্দ্রীয় সরকার' এবং বিভিন্ন রাজ্যের জন্য আলাদা 'রাজ্য সরকার' রয়েছে।

গ্রামের রাস্তাঘাট নির্মাণ, পরিশ্রুত পানীয় জলের সরবরাহ, চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যালয় নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বনসৃজনের মাধ্যমে গ্রামের সার্বিক উন্নতি করাই হলো গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাজ।