ত্রিভুজের তিনটি শীর্ষবিন্দু দিয়ে অতিক্রমকারী বৃত্তকে পরিবৃত্ত (Circumcircle) বলে। এর কেন্দ্রকে পরিকেন্দ্র (O) এবং ব্যাসার্ধকে পরিব্যাসার্ধ (OA = OB = OC) বলে। ত্রিভুজের বাহুগুলির লম্বসমদ্বিখণ্ডকগুলি এই পরিকেন্দ্রে মিলিত হয়।
1. কোনো ত্রিভুজের পরিবৃত্তের সাপেক্ষে ত্রিভুজের বাহুগুলি বৃত্তের [ব্যাসার্ধ / জ্যা]
ত্রিভুজের শীর্ষবিন্দুগুলি (A, B, C) বৃত্তের পরিধির উপর অবস্থান করে। আমরা জানি, বৃত্তের পরিধির উপর যেকোনো দুটি বিন্দুর সংযোজক সরলরেখাকে বৃত্তের জ্যা বলা হয়।
তাই, পরিবৃত্তের সাপেক্ষে ত্রিভুজের বাহুগুলি (AB, BC, CA) হলো বৃত্তের জ্যা।
2. কোনো বৃত্তের দুটি জ্যা-এর লম্বসমদ্বিখণ্ডকের ছেদবিন্দুই বৃত্তের
জ্যামিতির সাধারণ উপপাদ্য অনুযায়ী, বৃত্তের যেকোনো জ্যা-এর লম্বসমদ্বিখণ্ডক সর্বদা বৃত্তের কেন্দ্র দিয়ে অতিক্রম করে।
যেহেতু দুটি জ্যা-এরই লম্বসমদ্বিখণ্ডক কেন্দ্র দিয়ে যায়, তাই তাদের ছেদবিন্দুটি নিশ্চিতভাবে বৃত্তের কেন্দ্র হবে। ত্রিভুজের ক্ষেত্রে একে পরিকেন্দ্র বলা হয়।
3. ত্রিভুজের বাহুগুলির লম্বসমদ্বিখণ্ডকগুলি যে বিন্দুতে ছেদ করে সেই বিন্দু থেকে শীর্ষবিন্দুগুলির দূরত্ব
ত্রিভুজের বাহুগুলির লম্বসমদ্বিখণ্ডকের ছেদবিন্দুটি হলো পরিকেন্দ্র (Circumcenter)।
পরিকেন্দ্র থেকে ত্রিভুজের তিনটি শীর্ষবিন্দুর দূরত্বই হলো ওই পরিবৃত্তের ব্যাসার্ধ (Circumradius)। এবং আমরা জানি, একটি বৃত্তের সমস্ত ব্যাসার্ধ সর্বদা সমান হয়।
4. ত্রিভুজের বাহুগুলির লম্বসমদ্বিখণ্ডকগুলির ছেদবিন্দু থেকে যে-কোনো শীর্ষবিন্দু পর্যন্ত দূরত্বই ওই ত্রিভুজের পরিবৃত্তের [ব্যাস / ব্যাসার্ধ]-এর দৈর্ঘ্য।
লম্বসমদ্বিখণ্ডকের ছেদবিন্দুটি হলো বৃত্তের কেন্দ্র। কেন্দ্র থেকে বৃত্তের পরিধি (অর্থাৎ ত্রিভুজের শীর্ষবিন্দু) পর্যন্ত সরলরৈখিক দূরত্বকে জ্যামিতির ভাষায় ব্যাসার্ধ বলা হয়।