Chapter 7: জাতিসংঘ এবং সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 51 MCQ | 24 SAQ | 5 Broad Questions
জাতিসংঘ UNO নিরাপত্তা পরিষদ ভেটো ICJ ILO
🏛️
জাতিসংঘ
১৯২০-১৯৪৬, জেনেভা, উড্রো উইলসন
🌐
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ
১৯৪৫-বর্তমান, নিউ ইয়র্ক, ১৯৩ সদস্য
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
51 টি1. জাতিসংঘ (League of Nations) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৯১৮ সালে
খ) খ) ১৯১৯ সালে
গ) গ) ১৯২০ সালে
ঘ) ঘ) ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে প্যারিস শান্তি সম্মেলনে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১০ জানুয়ারি, ১৯২০ সালে ভার্সাই চুক্তি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে। এর সদর দপ্তর ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে।
2. জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
ক) ক) নিউ ইয়র্ক
খ) খ) প্যারিস
গ) গ) জেনেভা
ঘ) ঘ) লন্ডন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের সদর দপ্তর ছিল সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে। পরে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের (UNO) সদর দপ্তর নিউ ইয়র্কে স্থাপিত হয়। জেনেভায় বর্তমানে UN-এর ইউরোপীয় সদর দপ্তর অবস্থিত।
3. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
ক) ক) উইনস্টন চার্চিল
খ) খ) ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
গ) গ) উড্রো উইলসন
ঘ) ঘ) জর্জ ক্লেমেনসো
ব্যাখ্যা: মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson) ছিলেন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা। তাঁর বিখ্যাত 'চতুর্দশ দফা' (Fourteen Points) নীতির শেষ দফায় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব ছিল। উইলসনকে 'জাতিসংঘের জনক' (Father of the League of Nations) বলা হয়।
4. উড্রো উইলসনের 'চতুর্দশ দফা' নীতিতে কত নম্বর দফায় জাতিসংঘ গঠনের কথা বলা হয়?
ক) ক) ১০ নম্বর
খ) খ) ১২ নম্বর
গ) গ) ১৪ নম্বর
ঘ) ঘ) ৮ নম্বর
ব্যাখ্যা: উড্রো উইলসনের বিখ্যাত 'চতুর্দশ দফা' (Fourteen Points, ৮ জানুয়ারি, ১৯১৮)-র ১৪তম দফায় 'রাষ্ট্রসমূহের একটি সাধারণ সমিতি' (A general association of nations) গঠনের প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
5. কোন চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ব্রেস্ট-লিটোভস্ক চুক্তি
খ) খ) ভার্সাই চুক্তি
গ) গ) ভিয়েনা চুক্তি
ঘ) ঘ) প্যারিস চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯১৯ সালের ২৮ জুন স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তির (Treaty of Versailles) অংশ হিসেবে জাতিসংঘের সনদ (Covenant) গৃহীত হয়। চুক্তিটি ১০ জানুয়ারি, ১৯২০ থেকে কার্যকর হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত জার্মানির সাথে মিত্রশক্তির এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
6. জাতিসংঘ চুক্তিপত্রের (Covenant) ৪ নং ধারায় কী বলা হয়েছে?
ক) ক) সাধারণ সভা গঠন
খ) খ) নিরাপত্তা পরিষদ গঠন
গ) গ) স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত গঠন
ঘ) ঘ) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা গঠন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের চুক্তিপত্রের ৪ নং ধারায় সাধারণ সভা (General Assembly) গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই সভায় প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র ৩ জন করে প্রতিনিধি পাঠাতে পারত, কিন্তু প্রতিটি রাষ্ট্রের ভোটসংখ্যা ছিল ১। জেনেভায় বছরে একবার এর অধিবেশন বসত।
7. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় কতগুলি রাষ্ট্র সদস্যপদ গ্রহণ করে?
ক) ক) ৩২টি
খ) খ) ৪২টি
গ) গ) ৫৫টি
ঘ) ঘ) ৬৩টি
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় ৪২টি রাষ্ট্র সদস্যপদ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে এর সদস্যসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬৩-এ পৌঁছায়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের অনুমোদন না পাওয়ায় কখনোই জাতিসংঘের সদস্যপদ গ্রহণ করেনি — এটি ছিল জাতিসংঘের জন্য বড় আঘাত।
8. জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গসংস্থাগুলি কয়টি?
ক) ক) ৩টি
খ) খ) ৪টি
গ) গ) ৫টি
ঘ) ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের ৫টি প্রধান অঙ্গ ছিল — (১) সাধারণ সভা, (২) লিগ পরিষদ/কাউন্সিল, (৩) সচিবালয়, (৪) স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয়, (৫) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)। এছাড়া ৭টি সিমিত (Committee) ছিল।
9. জাতিসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশন বছরে কতবার বসত?
ক) ক) ২ বার
খ) খ) ৩ বার
গ) গ) ১ বার
ঘ) ঘ) ৪ বার
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের সাধারণ সভার অধিবেশন জেনেভায় বছরে একবার করে বসত। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৩ জন প্রতিনিধি পাঠাতে পারত, কিন্তু ভোটাধিকার ছিল প্রতি রাষ্ট্রের ১টি করে। অধিবেশনের কাজ ছিল — বাজেট অনুমোদন, নতুন সদস্য গ্রহণ, বিচারপতি নির্বাচন ইত্যাদি।
10. জাতিসংঘের কাউন্সিলে কতজন স্থায়ী সদস্য ছিল?
ক) ক) ৩ জন
খ) খ) ৪ জন
গ) গ) ৫ জন
ঘ) ঘ) ৬ জন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের কাউন্সিলে ৪ জন স্থায়ী সদস্য ছিল — ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান। পরে জার্মানি ও সোভিয়েত রাশিয়াও স্থায়ী সদস্যপদ পায়। এছাড়া অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলি থেকে ৪ জন অস্থায়ী সদস্য সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত হত।
11. জাতিসংঘ কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্যরা কোন কোন দেশ ছিল?
ক) ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া
খ) খ) ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান
গ) গ) জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, তুরস্ক
ঘ) ঘ) চীন, ভারত, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা: প্রাথমিকভাবে জাতিসংঘ কাউন্সিলের ৪ স্থায়ী সদস্য ছিল — ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যোগ না দেওয়ায় স্থায়ী সদস্য হতে পারেনি। ১৯২৬ সালে জার্মানি ও ১৯৩৪ সালে সোভিয়েত রাশিয়া স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে।
12. জাতিসংঘ কাউন্সিলে স্থায়ী সদস্যদের কোন বিশেষ ক্ষমতা ছিল?
ক) ক) ভেটো ক্ষমতা
খ) খ) সার্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত
গ) গ) দ্বিগুণ ভোট
ঘ) ঘ) বিশেষ কোনো ক্ষমতা ছিল না
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ কাউন্সিলে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা ছিল না — কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সকল সদস্যের সার্বসম্মতিক্রমে (Unanimous) সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হত। এটি ছিল জাতিসংঘের অন্যতম দুর্বলতা, কারণ একজন সদস্যের আপত্তিতেও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত না।
13. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন?
ক) ক) জোসেফ এভনল
খ) খ) ট্রিগভে লি
গ) গ) এরিক ড্রামন্ড
ঘ) ঘ) উ থান্ট
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার এরিক ড্রামন্ড (Sir Eric Drummond, ১৯২০-১৯৩৩)। দ্বিতীয় মহাসচিব ছিলেন জোসেফ এভনল (Joseph Avenol, ১৯৩৩-১৯৪০)। মহাসচিবের কার্যকাল ছিল ১০ বছর। সচিবালয় ছিল ৮টি বিভাগ নিয়ে গঠিত।
14. জাতিসংঘের সচিবালয় কয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত ছিল?
ক) ক) ৪টি
খ) খ) ৬টি
গ) গ) ৮টি
ঘ) ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের সচিবালয় ৮টি বিভাগ নিয়ে গঠিত ছিল — (১) রাজনৈতিক, (২) সংবাদ আদানপ্রদান, (৩) আইন-সংক্রান্ত, (৪) অর্থনৈতিক, (৫) যাতায়াত, (৬) প্রশাসন ও সংখ্যালঘু সমস্যা, (৭) ম্যান্ডেট, (৮) নিরস্ত্রীকরণ, স্বাস্থ্য, সামাজিক সমস্যা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
15. জাতিসংঘের স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয় কতজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত ছিল?
ক) ক) ৯ জন
খ) খ) ১২ জন
গ) গ) ১৫ জন
ঘ) ঘ) ২০ জন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ চুক্তিপত্রের ১৪ নং ধারা অনুযায়ী স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয় (Permanent Court of International Justice) গঠিত হয়। এটি ১৫ জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত ছিল। বিচারপতিদের কার্যকাল ছিল ৯ বছর। এর সদর দপ্তর ছিল নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে।
16. জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) জেনেভা
খ) খ) প্যারিস
গ) গ) ওয়াশিংটন
ঘ) ঘ) লন্ডন
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organization/ILO) ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘের অঙ্গ হিসেবে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকদের কাজের সময়, ন্যূনতম মজুরি, নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল। অ্যালবার্ট টমাস ছিলেন ILO-র প্রথম মহাপরিচালক।
17. জাতিসংঘের সফলতার ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
ক) ক) সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে অলান্দ দ্বীপ সমস্যার সমাধান
খ) খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধ
গ) গ) জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ প্রতিরোধ
ঘ) ঘ) ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণ প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে অলান্দ দ্বীপ (Aaland Islands) নিয়ে বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান (১৯২১)। এছাড়া গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সীমান্ত বিবাদ (১৯২৫), জার্মানি ও পোল্যান্ডের উচ্চ সাইলেশিয়া বিবাদের সমাধানেও সাফল্য পেয়েছিল।
18. জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রধান উদাহরণ কোনটি?
ক) ক) অলান্দ দ্বীপ সমস্যার সমাধান
খ) খ) জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থতা
গ) গ) স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাফল্য
ঘ) ঘ) উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধান
ব্যাখ্যা: ১৯৩১ সালে জাপান কর্তৃক চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ আক্রমণ জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রধান উদাহরণ। জাপান জাতিসংঘের নির্দেশ অমান্য করে 'মাঞ্চুকুও' নামে একটি পুতুল রাষ্ট্র গঠন করে। প্রতিবাদে জাপান ১৯৩৩ সালে জাতিসংঘ ত্যাগ করে — এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম বড় ব্যর্থতা।
19. ইতালি কবে আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে?
ক) ক) ১৯৩১
খ) খ) ১৯৩৫
গ) গ) ১৯৩৯
ঘ) ঘ) ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: ১৯৩৫ সালে মুসোলিনির ইতালি আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে। জাতিসংঘ ইতালির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তেল ও কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়। ফলে ইতালি সহজেই আবিসিনিয়া দখল করে — এটি ছিল জাতিসংঘের আরেক বড় ব্যর্থতা।
20. কোন ঘটনাটি জাতিসংঘের চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত?
ক) ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
খ) খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা (১৯৩৯)
গ) গ) কোরীয় যুদ্ধ
ঘ) ঘ) ভিয়েতনাম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া জাতিসংঘের চূড়ান্ত ও সর্ববৃহৎ ব্যর্থতা। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভবিষ্যতে বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য, কিন্তু ২০ বছরের মধ্যেই আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় — যা প্রমাণ করে জাতিসংঘ তার মূল উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
21. ম্যান্ডেট ব্যবস্থা (Mandate System) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) উপনিবেশ গঠনের অধিকার
খ) খ) পরাজিত দেশগুলির উপনিবেশ উন্নত দেশগুলির তত্ত্বাবধানে শাসনের ব্যবস্থা
গ) গ) স্বাধীনতা প্রদানের বাধ্যবাধকতা
ঘ) ঘ) সামরিক জোট গঠন
ব্যাখ্যা: ম্যান্ডেট ব্যবস্থা ছিল জাতিসংঘের একটি বিশেষ ব্যবস্থা — প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানি ও তুরস্কের উপনিবেশ ও শাসনাধীন অঞ্চলগুলিকে উন্নত দেশগুলির (যেমন ব্রিটেন, ফ্রান্স) তত্ত্বাবধানে শাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 'Mandate' অর্থ 'অর্পিত দায়িত্ব' — যতক্ষণ না সেই অঞ্চলগুলি স্বাধীনতার উপযুক্ত হয়।
22. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৯৪২ সালে
খ) খ) ১৯৪৫ সালে
গ) গ) ১৯৪৮ সালে
ঘ) ঘ) ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (United Nations Organization/UNO) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৪ অক্টোবর 'জাতিসংঘ দিবস' (UN Day) হিসেবে পালিত হয়। এর সনদ ২৬ জুন, ১৯৪৫ সালে সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫১টি রাষ্ট্র স্বাক্ষর করে।
23. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বর্তমান মহাসচিব কে? (2026)
ক) ক) বান কি মুন
খ) খ) কফি আনান
গ) গ) আন্তোনিও গুতেরেস
ঘ) ঘ) পেরেজ দা কুয়েলার
ব্যাখ্যা: পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টোনিও গুতেরেস (António Guterres) ১ জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬। পূর্ববর্তী মহাসচিব ছিলেন বান কি-মুন (দক্ষিণ কোরিয়া)।
24. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তর কোথায়?
ক) ক) জেনেভা (সুইজারল্যান্ড)
খ) খ) নিউ ইয়র্ক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)
গ) গ) প্যারিস (ফ্রান্স)
ঘ) ঘ) লন্ডন (ব্রিটেন)
ব্যাখ্যা: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে অবস্থিত। এর আন্তর্জাতিক অঞ্চল (International Territory) মর্যাদাপ্রাপ্ত। ইউরোপীয় সদর দপ্তর জেনেভায় (সুইজারল্যান্ড) এবং আরও দুটি দপ্তর ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া) ও নাইরোবিতে (কেনিয়া) অবস্থিত।
25. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে কতজন স্থায়ী সদস্য আছে?
ক) ক) ৪ জন
খ) খ) ৫ জন
গ) গ) ৬ জন
ঘ) ঘ) ১০ জন
ব্যাখ্যা: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ৫ স্থায়ী সদস্য (Permanent Five/P5) — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া (পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন), ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীন। এছাড়া ১০ জন অস্থায়ী সদস্য ২ বছরের জন্য সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত হন। মোট সদস্য — ১৫।
26. নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা কী?
ক) ক) অস্থায়ী সদস্যদের বহিষ্কারের ক্ষমতা
খ) খ) যে কোনো প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতা
গ) গ) মহাসচিবকে অপসারণের ক্ষমতা
ঘ) ঘ) সদস্যপদ বাতিলের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা: ভেটো (Veto) ক্ষমতা — নিরাপত্তা পরিষদের যে কোনো স্থায়ী সদস্য (P5) যে কোনো মূল প্রস্তাবে 'না' ভোট দিয়ে সেই প্রস্তাব বাতিল করতে পারেন। এটি জাতিসংঘ সনদের ২৭ নং ধারায় বর্ণিত। ভেটো শব্দটি লাতিন 'Veto' থেকে এসেছে, যার অর্থ 'আমি নিষেধ করছি' (I forbid)।
27. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ সাধারণ সভায় প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের ভোট সংখ্যা কত?
ক) ক) ভৌগোলিক আয়তন অনুযায়ী
খ) খ) জনসংখ্যা অনুযায়ী
গ) গ) ১ ভোট
ঘ) ঘ) অর্থনৈতিক শক্তি অনুযায়ী
ব্যাখ্যা: সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ সাধারণ সভায় — বড়-ছোট নির্বিশেষে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের ১টি করে ভোট আছে। এটি 'সার্বভৌম সমতার' (Sovereign Equality) নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে (২০২৬) জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্র — ১৯৩।
28. আন্তর্জাতিক বিচারালয় (ICJ) কোথায় অবস্থিত?
ক) ক) নিউ ইয়র্ক
খ) খ) জেনেভা
গ) গ) হেগ
ঘ) ঘ) প্যারিস
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক বিচারালয় (International Court of Justice/ICJ) নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। এটি জাতিসংঘের প্রধান বিচারবিভাগীয় অঙ্গ। ১৫ জন বিচারপতি ৯ বছরের জন্য সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হন। এটি রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
29. জাতিসংঘ সনদ কবে স্বাক্ষরিত হয়?
ক) ক) ১ জানুয়ারি, ১৯৪২
খ) খ) ২৬ জুন, ১৯৪৫
গ) গ) ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা: ২৬ জুন, ১৯৪৫ সালে সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদে (UN Charter) স্বাক্ষর করে। ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ তারিখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাষ্ট্রের অনুমোদনের পর সনদটি কার্যকর হয় — তাই ২৪ অক্টোবর 'জাতিসংঘ দিবস'।
30. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন?
ক) ক) উ থান্ট (মায়ানমার)
খ) খ) দ্যাগ হ্যামারশোল্ড (সুইডেন)
গ) গ) ট্রিগভে লি (নরওয়ে)
ঘ) ঘ) কফি আনান (ঘানা)
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন নরওয়ের ট্রিগভে লি (Trygve Lie, ১৯৪৬-১৯৫২)। দ্বিতীয় ছিলেন দ্যাগ হ্যামারশোল্ড (সুইডেন, ১৯৫৩-১৯৬১), যিনি কঙ্গো সঙ্কটের সময় বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তৃতীয় ছিলেন উ থান্ট (মায়ানমার, ১৯৬১-১৯৭১)।
31. জাতিসংঘের পতাকায় কী চিহ্ন আছে?
ক) ক) ক্রস চিহ্ন
খ) খ) দুটি জলপাই শাখার বেড়িতে ঘেরা বিশ্ব মানচিত্র
গ) গ) লাল ক্রিসেন্ট
ঘ) ঘ) সিংহ চিহ্ন
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের পতাকায় নীল পটভূমিতে সাদা রঙে দুটি জলপাই শাখার (Olive Branches) বেড়িতে ঘেরা বিশ্ব মানচিত্র আছে। জলপাই শাখা শান্তির প্রতীক। এই পতাকা ২০ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে গৃহীত হয়। নীল রং শান্তি ও সাদা রং পবিত্রতার প্রতীক।
32. জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যকাল কত বছর?
ক) ক) ৪ বছর
খ) খ) ৫ বছর
গ) গ) ১০ বছর
ঘ) ঘ) ১৫ বছর
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যকাল ৫ বছর। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে সাধারণ সভা মহাসচিবকে নিয়োগ করে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার মহাসচিব হতে পারেন। কফি আনান (১৯৯৭-২০০৬) ও বান কি-মুন (২০০৭-২০১৬) দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
33. UNESCO-র সদর দপ্তর কোথায়?
ক) ক) নিউ ইয়র্ক
খ) খ) প্যারিস
গ) গ) জেনেভা
ঘ) ঘ) রোম
ব্যাখ্যা: UNESCO (United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization) — জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার সদর দপ্তর ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান (World Heritage Site) তালিকা প্রণয়ন এর অন্যতম কাজ।
34. WHO-র সদর দপ্তর কোথায়?
ক) ক) নিউ ইয়র্ক
খ) খ) জেনেভা
গ) গ) লন্ডন
ঘ) ঘ) প্যারিস
ব্যাখ্যা: WHO (World Health Organization) — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত। ৭ এপ্রিল, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। ৭ এপ্রিল 'বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস' হিসেবে পালিত হয়। কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় WHO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
35. UNICEF কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৯৪৫
খ) খ) ১৯৪৬
গ) গ) ১৯৪৮
ঘ) ঘ) ১৯৫০
ব্যাখ্যা: UNICEF (United Nations International Children's Emergency Fund) — ১১ ডিসেম্বর, ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশগুলির শিশুদের সাহায্যের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে UNICEF নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়। এর সদর দপ্তর নিউ ইয়র্কে।
36. জাতিসংঘের বর্তমান (২০২৬) মোট সদস্য রাষ্ট্র কয়টি?
ক) ক) ১৫১
খ) খ) ১৭৩
গ) গ) ১৯৩
ঘ) ঘ) ২০৫
ব্যাখ্যা: বর্তমানে (২০২৬) জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি। সর্বশেষ সদস্য হিসেবে যোগ দেয় দক্ষিণ সুদান (১৪ জুলাই, ২০১১)। তাইওয়ান, কসোভো, ভ্যাটিকান সিটি, প্যালেস্টাইন (পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র) — এরা সদস্য নয়। সুইজারল্যান্ড ২০০২ সালে সদস্যপদ গ্রহণ করে।
37. জাতিসংঘের নামকরণ কে করেন?
ক) ক) উড্রো উইলসন
খ) খ) ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
গ) গ) উইনস্টন চার্চিল
ঘ) ঘ) জোসেফ স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা: 'United Nations' নামটি প্রথম ব্যবহার করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। ১ জানুয়ারি, ১৯৪২ সালে ২৬টি মিত্র রাষ্ট্র 'Declaration by United Nations'-এ স্বাক্ষর করে অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার করে। এই নাম পরবর্তীতে বিশ্বসংস্থার নাম হিসেবে গৃহীত হয়।
38. জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা কয়টি?
ক) ক) ৪টি
খ) খ) ৫টি
গ) গ) ৬টি
ঘ) ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের ৬টি দাপ্তরিক ভাষা — ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ, রুশ, চীনা ও আরবি। সচিবালয়ের কাজের ভাষা — ইংরেজি ও ফরাসি। সাধারণ সভায় বক্তৃতা এই ৬টি ভাষায় অনূদিত হয়। আরবি ভাষা ১৯৭৩ সালে দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা পায়।
39. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে কোন সম্মেলনগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
ক) ক) আটলান্টিক চার্টার (১৯৪১) ও তেহরান সম্মেলন (১৯৪৩)
খ) খ) শুধু প্যারিস শান্তি সম্মেলন
গ) গ) শুধু পটসডাম সম্মেলন
ঘ) ঘ) কোনো সম্মেলনই নয়
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পটভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে — (১) আটলান্টিক চার্টার (আগস্ট ১৯৪১) — রুজভেল্ট ও চার্চিল, (২) জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (১ জানুয়ারি ১৯৪২), (৩) মস্কো সম্মেলন (১৯৪৩), (৪) তেহরান সম্মেলন (১৯৪৩), (৫) ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন (১৯৪৪), (৬) ইয়াল্টা সম্মেলন (১৯৪৫), (৭) সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন (১৯৪৫)।
40. জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC)-এর সদস্য সংখ্যা কত?
ক) ক) ১৫
খ) খ) ২৭
গ) গ) ৫৪
ঘ) ঘ) ১৯৩
ব্যাখ্যা: ECOSOC (Economic and Social Council)-এর সদস্য সংখ্যা ৫৪। সদস্যরা ৩ বছরের জন্য সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত হন। প্রতিবছর ১৮ জন সদস্য অবসর নেন ও নতুন ১৮ জন নির্বাচিত হন। এটি UNESCO, WHO, UNICEF-এর মতো বিশেষায়িত সংস্থাগুলির কাজ সমন্বয় করে।
41. ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল (Trusteeship Council) কী?
ক) ক) অর্থনৈতিক পরিষদ
খ) খ) অছি পরিষদ — অবিশ্বাসী অঞ্চলগুলির তত্ত্বাবধানকারী
গ) গ) নিরাপত্তা পরিষদের একটি শাখা
ঘ) ঘ) কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নয়
ব্যাখ্যা: ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল (অছি পরিষদ) — জাতিসংঘের একটি প্রধান অঙ্গ, যা ম্যান্ডেট ব্যবস্থার উত্তরসূরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরাজিত দেশগুলির উপনিবেশ ও নির্ভরশীল অঞ্চলগুলির দেখাশোনা ও স্বাধীনতার প্রস্তুতির দায়িত্ব ছিল এর। সর্বশেষ ট্রাস্ট অঞ্চল পালাউ ১৯৯৪ সালে স্বাধীন হয়। বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয়।
42. জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ (UDHR) কবে গৃহীত হয়?
ক) ক) ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫
খ) খ) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
গ) গ) ২৬ জুন, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ১ জানুয়ারি, ১৯৪২
ব্যাখ্যা: সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights/UDHR) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় গৃহীত ও ঘোষিত হয়। ১০ ডিসেম্বর 'বিশ্ব মানবাধিকার দিবস' হিসেবে পালিত হয়। ৩০টি ধারা নিয়ে গঠিত এই সনদ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি অনূদিত নথি (৫০০+ ভাষায়)।
43. ম্যান্ডেট কমিশনের কাজ কী ছিল?
ক) ক) সামরিক পরিকল্পনা
খ) খ) ম্যান্ডেটভুক্ত অঞ্চলগুলির তত্ত্বাবধান ও তদারকি
গ) গ) বাজেট প্রণয়ন
ঘ) ঘ) নতুন সদস্য গ্রহণ
ব্যাখ্যা: ম্যান্ডেট কমিশন (Mandates Commission) জাতিসংঘের ম্যান্ডেট ব্যবস্থার অধীনে থাকা অঞ্চলগুলির (জার্মানি ও তুরস্কের সাবেক উপনিবেশ) শাসনকার্য তদারকি করত। শাসনকারী দেশগুলির কাছ থেকে বার্ষিক প্রতিবেদন গ্রহণ, সরেজমিনে পরিদর্শন ও আবেদন-নিবেদন শোনা এর কাজ ছিল।
44. জাতিসংঘ কোন কোন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছিল?
ক) ক) যুদ্ধ প্রতিরোধে সম্পূর্ণ সফল
খ) খ) সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সমস্যা সমাধানে
গ) গ) শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে
ঘ) ঘ) শুধু উপনিবেশিক সমস্যায়
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তিগুলির আগ্রাসন (জাপান-মাঞ্চুরিয়া, ইতালি-আবিসিনিয়া) প্রতিরোধে ব্যর্থ হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছিল — (i) উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধান (ন্যানসেন পাসপোর্ট), (ii) আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা গঠন, (iii) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, (iv) দাসপ্রথা বিলোপ, (v) শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি (ILO)।
45. ন্যানসেন পাসপোর্ট কী?
ক) ক) সাধারণ কূটনৈতিক পাসপোর্ট
খ) খ) যুদ্ধের কারণে উদ্বাস্তু মানুষদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথি
গ) গ) বাণিজ্যিক নথি
ঘ) ঘ) সামরিক পরিচয়পত্র
ব্যাখ্যা: ন্যানসেন পাসপোর্ট — প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও রুশ গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘ প্রবর্তিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভ্রমণ নথি। নরওয়ের অভিযাত্রী ও মানবতাবাদী ফ্রিডজফ ন্যানসেন (Fridtjof Nansen)-এর নামে নামকরণ। ১৯২২ সালে প্রবর্তিত। ন্যানসেন ১৯২২ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
46. উড্রো উইলসন কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
ক) ক) ব্রিটেন
খ) খ) ফ্রান্স
গ) গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ঘ) ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা: উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson, ১৮৫৬-১৯২৪) — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম রাষ্ট্রপতি (১৯১৩-১৯২১)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিস শান্তি সম্মেলনে 'চতুর্দশ দফা' নীতি পেশ করে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯১৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
47. জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব কে ছিলেন?
ক) ক) এরিক ড্রামন্ড
খ) খ) জোসেফ এভনল
গ) গ) ট্রিগভে লি
ঘ) ঘ) সিন লেস্টার
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ছিলেন ফ্রান্সের জোসেফ এভনল (Joseph Avenol, ১৯৩৩-১৯৪০)। তৃতীয় ও শেষ মহাসচিব ছিলেন আয়ারল্যান্ডের সিন লেস্টার (Seán Lester, ১৯৪০-১৯৪৬)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাতিসংঘ কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং ১৯৪৬ সালে বিলুপ্ত হয়।
48. জাতিসংঘের সাধারণ সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কীরূপ ভোট প্রয়োজন ছিল?
ক) ক) সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
খ) খ) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা
গ) গ) সর্বসম্মতিক্রমে (Unanimous)
ঘ) ঘ) সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না
ব্যাখ্যা: জাতিসংঘের কাউন্সিল ও সাধারণ সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে (Unanimous Vote) প্রয়োজন ছিল। অর্থাৎ সকল সদস্যের সম্মতি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত না। এটি ছিল জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত দুর্বলতা — যার ফলে কোনো আগ্রাসী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
49. জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন যোগ দেয়নি?
ক) ক) জার্মানির চাপে
খ) খ) কংগ্রেস (সিনেট) ভার্সাই চুক্তি অনুমোদন না করায়
গ) গ) আর্থিক সমস্যার জন্য
ঘ) ঘ) সোভিয়েত রাশিয়ার বাধায়
ব্যাখ্যা: ভার্সাই চুক্তি ও জাতিসংঘে যোগদান মার্কিন সিনেটে অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়। রিপাবলিকান সিনেটর হেনরি ক্যাবট লজ-এর নেতৃত্বে সিনেট চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। বিচ্ছিন্নতাবাদী (Isolationism) নীতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের বাইরে থাকে — যা জাতিসংঘের জন্য ছিল বড় ধাক্কা।
50. সোভিয়েত রাশিয়া কবে জাতিসংঘে যোগ দেয়?
ক) ক) ১৯২০
খ) খ) ১৯২৬
গ) গ) ১৯৩৪
ঘ) ঘ) ১৯৩৯
ব্যাখ্যা: সোভিয়েত রাশিয়া (USSR) ১৯৩৪ সালে জাতিসংঘে যোগ দেয়। তবে ১৯৩৯ সালে ফিনল্যান্ড আক্রমণের কারণে সোভিয়েত রাশিয়াকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জার্মানি ১৯২৬ সালে যোগ দিয়ে ১৯৩৩ সালে (হিটলারের নেতৃত্বে) জাতিসংঘ ত্যাগ করে। জাপান ১৯৩৩ সালে ও ইতালি ১৯৩৭ সালে জাতিসংঘ ত্যাগ করে।
51. জাতিসংঘের বিলুপ্তি কবে ঘটে?
ক) ক) ১৯৩৯
খ) খ) ১৯৪৫
গ) গ) ১৯৪৬
ঘ) ঘ) ১৯৫০
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় (১৯৩৯-১৯৪৫) জাতিসংঘ কার্যত অচল হয়ে পড়লেও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ১৮ এপ্রিল, ১৯৪৬ সালে বিলুপ্ত হয়। জেনেভায় শেষ সাধারণ সভায় জাতিসংঘ নিজেকে বিলুপ্ত করে নিজের সম্পদ ও দায়িত্ব নবগঠিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের (UNO) কাছে হস্তান্তর করে।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
24 টি1. 🌍 জাতিসংঘ (League of Nations) প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রেক্ষাপট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলা বিশ্বনেতাদের মধ্যে ভবিষ্যতে যুদ্ধ প্রতিরোধের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগায়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তাঁর বিখ্যাত 'চতুর্দশ দফা' (Fourteen Points) নীতি ঘোষণা করেন, যার ১৪তম দফায় 'রাষ্ট্রসমূহের একটি সাধারণ সমিতি' গঠনের প্রস্তাব ছিল। ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলনে এই প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ২৮ জুন, ১৯১৯-এ স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ জানুয়ারি, ১৯২০ থেকে এটি কার্যকর হয়। জেনেভা (সুইজারল্যান্ড) ছিল এর সদর দপ্তর।
2. 🌍 জাতিসংঘের সাধারণ সভার (General Assembly) গঠন ও কাজ কী ছিল?
উত্তর:
গঠন: জাতিসংঘের চুক্তিপত্রের ৪নং ধারা অনুযায়ী গঠিত সাধারণ সভায় প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র ৩ জন করে প্রতিনিধি পাঠাতে পারত। তবে ভোটাধিকার ছিল প্রতি রাষ্ট্রের ১টি করে। জেনেভায় বছরে একবার এর অধিবেশন বসত।
কার্যাবলি: (১) কাউন্সিলের অস্থায়ী সদস্যদের নির্বাচন, (২) জাতিসংঘের নতুন সদস্য গ্রহণ, (৩) আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারপতি নির্বাচন, (৪) অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও বাজেট অনুমোদন, (৫) কাউন্সিলের পাঠানো সমস্যা বিবেচনা, (৬) মহাসচিব নিয়োগ।
3. 🌍 জাতিসংঘ লিগ পরিষদ/কাউন্সিলের (Council) গঠন ও ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
গঠন: চুক্তিপত্রের ৪নং ধারা অনুযায়ী কাউন্সিল গঠিত হয়। এতে ৪টি মহাশক্তিধর দেশ — ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপান ছিল স্থায়ী সদস্য। অপর ৪টি দেশের প্রতিনিধি সাধারণ সভা কর্তৃক অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হত। পরে জার্মানি ও সোভিয়েত রাশিয়াও স্থায়ী সদস্যপদ পায়।
ভূমিকা: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যৌথ দায়িত্ব ছিল কাউন্সিলের ওপর। সীমান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে যুদ্ধ-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে কাউন্সিল আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সব সদস্যের সম্মতি (Unanimous vote) প্রয়োজন ছিল।
4. 🌍 জাতিসংঘের সচিবালয়ের (Secretariat) গঠন ও কাজ বর্ণনা করো।
উত্তর:
গঠন: জাতিসংঘের সাধারণ কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় ছিল। এটি একজন মহাসচিব ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সচিব-কর্মচারী নিয়ে গঠিত হত। প্রথম মহাসচিব ছিলেন স্যার এরিক ড্রামন্ড (ব্রিটেন, ১৯২০-১৯৩৩)। মহাসচিবের কার্যকাল ছিল ১০ বছর। সচিবালয়ে ৮টি বিভাগ ছিল।
কার্যাবলি: (১) যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ, (২) নথিপত্র সংরক্ষণ, (৩) বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো, (৪) প্রচার বিভাগের দায়িত্ব, (৫) লিগের সমস্ত বিভাগের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, (৬) বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি।
5. 🌍 জাতিসংঘের সচিবালয়ের ৮টি বিভাগ কী কী ছিল?
উত্তর:
- রাজনৈতিক বিভাগ
- সংবাদ আদানপ্রদান বিভাগ
- আইন-সংক্রান্ত বিষয়ক বিভাগ
- অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগ
- যাতায়াত বিভাগ
- প্রশাসন ও সংখ্যালঘু সমস্যা বিভাগ
- ম্যান্ডেট বিভাগ
- নিরস্ত্রীকরণ, স্বাস্থ্য, সামাজিক সমস্যা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভাগ
6. 🌍 স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয় (PCIJ) সম্পর্কে যা জানো লেখো।
উত্তর:
চুক্তিপত্রের ১৪নং ধারা অনুযায়ী জাতিসংঘ একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয় (Permanent Court of International Justice) গঠনের উদ্যোগ নেয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম স্থায়ী আন্তর্জাতিক আদালত।
- বিচারপতি সংখ্যা: ১৫ জন, কাউন্সিল ও সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত।
- কার্যকাল: ৯ বছর।
- সদর দপ্তর: নেদারল্যান্ডসের হেগ (The Hague) শহরে।
- কাজ: সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ও পরামর্শমূলক মতামত প্রদান।
পরবর্তীতে (১৯৪৫) এর স্থানে আন্তর্জাতিক বিচারালয় (ICJ) প্রতিষ্ঠিত হয় — হেগেই অবস্থিত।
7. 🌍 আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রতিষ্ঠা: ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘের অঙ্গ হিসেবে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organization/ILO) প্রতিষ্ঠিত হয়। সদর দপ্তর — জেনেভা।
উদ্দেশ্য:
- শ্রমিকদের কাজের সময় নির্ধারণ (৮ ঘণ্টা কর্মদিবস প্রস্তাব)
- ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ
- নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ নিশ্চিত
- শিশুশ্রম নিষিদ্ধকরণ
- সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
বৈশিষ্ট্য: এতে সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকারী — তিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব ছিল (Tripartite Structure)।
8. 🌍 জাতিসংঘের সাফল্যগুলি সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
উত্তর:
জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তির আগ্রাসন প্রতিরোধে ব্যর্থ হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে:
- অলান্দ দ্বীপ সমস্যা: সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বিবাদিত অলান্দ দ্বীপের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি (১৯২১) — জাতিসংঘের প্রথম বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
- উচ্চ সাইলেশিয়া: জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে উচ্চ সাইলেশিয়ার সীমান্ত বিবাদ মীমাংসা (১৯২১)।
- গ্রিস-বুলগেরিয়া: ১৯২৫ সালে গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধে সফলতা।
- উদ্বাস্তু সমস্যা: ন্যানসেন পাসপোর্ট চালু ও ৪ লক্ষেরও বেশি যুদ্ধবন্দির প্রত্যাবাসন।
- স্বাস্থ্য ক্ষেত্র: আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা গঠন, মহামারি প্রতিরোধে কাজ।
- সামাজিক সংস্কার: দাসপ্রথা বিলোপ, মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু পাচার রোধ।
9. 🌍 জাতিসংঘ ব্যর্থতার কারণগুলি বর্ণনা করো।
উত্তর:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি: প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসের অসম্মতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই জাতিসংঘে যোগ দেয়নি → সংস্থাটি দুর্বল থেকে যায়।
- সার্বসম্মতির নীতি: কাউন্সিলের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সব সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন ছিল → আগ্রাসী রাষ্ট্রকে শাস্তি দেওয়া অসম্ভব ছিল।
- নিজস্ব সামরিক বাহিনীর অভাব: শান্তি বলবৎ করার জন্য কোনো নিজস্ব সেনাবাহিনী ছিল না।
- মাঞ্চুরিয়া সংকট (১৯৩১): জাপানের চীন আক্রমণ প্রতিরোধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ → জাপান জাতিসংঘ ত্যাগ করে।
- আবিসিনিয়া সংকট (১৯৩৫): ইতালির ইথিওপিয়া আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যর্থ → নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: প্রতিষ্ঠার ২০ বছরের মধ্যেই আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ শুরু → জাতিসংঘ মূল উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
10. 🌍 'ঐক্যমত্যের নীতি' কীভাবে জাতিসংঘকে দুর্বল করেছিল?
উত্তর:
জাতিসংঘের কাউন্সিল (Council)-এ কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব সদস্যের সম্মতি (Unanimity) আবশ্যক ছিল। অর্থাৎ যে কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র আপত্তি করলেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যেত। এই নিয়মের ফলে:
- জাপান যখন মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ করল (১৯৩১), জাপান নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে রক্ষা পেল।
- ইতালি আবিসিনিয়া আক্রমণ করলেও (১৯৩৫) ইতালির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেল না।
- যুদ্ধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়াই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
পরে জাতিসংঘ (UNO) এই দুর্বলতা দূর করতে নিরাপত্তা পরিষদে শুধুমাত্র স্থায়ী ৫ সদস্যের জন্য ভেটো ক্ষমতা রাখে, সর্বসম্মতির বাধ্যবাধকতা রাখেনি।
11. 🌍 ম্যান্ডেট ব্যবস্থা (Mandate System) বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরাজিত জার্মানি ও তুরস্কের উপনিবেশ ও নির্ভরশীল অঞ্চলগুলিকে সরাসরি বিজয়ী রাষ্ট্রগুলির উপনিবেশে পরিণত না করে, 'ম্যান্ডেট' (Mandate = অর্পিত দায়িত্ব)-এর মাধ্যমে উন্নত দেশগুলির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।
ম্যান্ডেটের শ্রেণিবিভাগ:
- A শ্রেণি: তুরস্কের সাবেক আরব অঞ্চল (সিরিয়া, লেবানন, প্যালেস্টাইন, ইরাক) — স্বল্পকালীন তত্ত্বাবধান, দ্রুত স্বাধীনতার উপযুক্ত।
- B শ্রেণি: জার্মানির আফ্রিকান উপনিবেশ (টোগোল্যান্ড, ক্যামেরুন, তাঙ্গানিকা) — দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধান।
- C শ্রেণি: প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা — দীর্ঘমেয়াদি, শাসনকারী দেশের সাথে একীভূত।
ম্যান্ডেট কমিশন (Mandates Commission) এই অঞ্চলগুলির শাসনের তদারকি করত। পরে UNO-তে এটি 'ট্রাস্টিশিপ সিস্টেম' নামে পরিচিত হয়।
12. 🌍 জাপানের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ ও জাতিসংঘের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর:
ঘটনা: ১৯৩১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাপান চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ আক্রমণ করে (মুকদেন ঘটনা)। জাপান 'মাঞ্চুকুও' নামে একটি পুতুল রাষ্ট্র গঠন করে এবং চীনের শেষ সম্রাট পু ই-কে সিংহাসনে বসায়।
জাতিসংঘের ভূমিকা: চীন জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানায়। লিটন কমিশন (Lord Lytton-এর নেতৃত্বে) তদন্ত করে জাপানকে আগ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। জাতিসংঘ জাপানকে মাঞ্চুরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। কিন্তু জাপান সেই নির্দেশ অমান্য করে এবং ১৯৩৩ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ ত্যাগ করে।
ফলাফল: এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম বড় ব্যর্থতা — প্রমাণিত হয় যে জাতিসংঘ কোনো আগ্রাসী শক্তিকে প্রতিরোধ করতে অক্ষম।
13. 🌍 ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণ ও জাতিসংঘের ব্যর্থতা বর্ণনা করো।
উত্তর:
ঘটনা: ১৯৩৫ সালের অক্টোবরে মুসোলিনির ইতালি আফ্রিকার স্বাধীন রাষ্ট্র আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) আক্রমণ করে। সম্রাট হেইলি সেলাসি জাতিসংঘের শরণাপন্ন হন।
জাতিসংঘের পদক্ষেপ: ইতালিকে আগ্রাসী ঘোষণা করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু তেল, কয়লা ও ইস্পাত — যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় এই সামগ্রীগুলি নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়। ব্রিটেন সুয়েজ খাল বন্ধ করেনি — ইতালি সহজেই সেনা সরবরাহ চালিয়ে যায়।
ফলাফল: ১৯৩৬ সালের মে মাসে ইতালি পুরো আবিসিনিয়া দখল করে। এটি জাতিসংঘের চরম ব্যর্থতা ও মর্যাদাহানির কারণ হয়। ইতালি ১৯৩৭ সালে জাতিসংঘ ত্যাগ করে।
14. 🌍 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময়ই মিত্রশক্তি একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি:
- আটলান্টিক চার্টার (আগস্ট ১৯৪১): রুজভেল্ট ও চার্চিল — যুদ্ধোত্তর বিশ্বে স্থায়ী শান্তির অঙ্গীকার।
- জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (জানুয়ারি ১৯৪২): ২৬টি মিত্র রাষ্ট্র স্বাক্ষর করে, 'United Nations' নামটি রুজভেল্ট দেন।
- মস্কো সম্মেলন (অক্টোবর ১৯৪৩): যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তায় একমত।
- ডাম্বারটন ওকস (১৯৪৪): ভবিষ্যৎ সংস্থার কাঠামো প্রণয়ন।
- ইয়াল্টা সম্মেলন (ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫): নিরাপত্তা পরিষদের ভোটদান পদ্ধতি (ভেটো) নিয়ে চুক্তি।
- সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন (২৬ জুন ১৯৪৫): ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর।
- ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫: সনদ কার্যকর — 'জাতিসংঘ দিবস'।
15. 🌍 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রধান ৬টি অঙ্গের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর:
| অঙ্গ | ইংরেজি নাম | প্রধান কাজ | অবস্থান |
|---|
| সাধারণ সভা | General Assembly | সব সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত — বাজেট, প্রস্তাব | নিউ ইয়র্ক |
| নিরাপত্তা পরিষদ | Security Council | আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা | নিউ ইয়র্ক |
| অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ | ECOSOC | অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ক | নিউ ইয়র্ক |
| অছি পরিষদ | Trusteeship Council | অবিশ্বাসী অঞ্চলের তদারকি (বর্তমানে নিষ্ক্রিয়) | নিউ ইয়র্ক |
| আন্তর্জাতিক বিচারালয় | International Court of Justice (ICJ) | রাষ্ট্রের মধ্যে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি | হেগ |
| সচিবালয় | Secretariat | প্রশাসনিক কাজ, মহাসচিবের কার্যালয় | নিউ ইয়র্ক |
16. 🌍 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও ভেটো ক্ষমতা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
গঠন:
- মোট সদস্য: ১৫ জন।
- স্থায়ী সদস্য (P5): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীন।
- অস্থায়ী সদস্য: ১০ জন, ২ বছরের জন্য সাধারণ সভা কর্তৃক নির্বাচিত।
ভেটো ক্ষমতা: জাতিসংঘ সনদের ২৭ নং ধারা অনুযায়ী, যে কোনো স্থায়ী সদস্য (P5) যে কোনো মূল সাংগঠনিক প্রস্তাবে 'না' (Veto) ভোট দিয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করতে পারে। ১০ জন অস্থায়ী সদস্যের মধ্যে ৯ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও একজন স্থায়ী সদস্যের ভেটোয় প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 'Veto' লাতিন শব্দ — অর্থ 'আমি নিষেধ করছি'। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি (১০০+) ভেটো প্রয়োগ করে।
17. 🌍 জাতিসংঘের সাধারণ সভা ও নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
| বিষয় | সাধারণ সভা | নিরাপত্তা পরিষদ |
|---|
| সদস্য | সব সদস্য রাষ্ট্র (১৯৩) | মাত্র ১৫ (৫ স্থায়ী + ১০ অস্থায়ী) |
| ভোট | প্রতি রাষ্ট্রের ১ ভোট | স্থায়ী সদস্যদের ভেটো আছে |
| সিদ্ধান্ত | সুপারিশ মাত্র, বাধ্যতামূলক নয় | বাধ্যতামূলক — সদস্যদের মানতেই হবে |
| ক্ষমতা | বাজেট, সদস্যপদ, আলোচনা | শান্তিরক্ষা, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক ব্যবস্থা |
| অধিবেশন | বছরে একবার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) | সারা বছর যে কোনো সময় |
18. 🌍 ম্যান্ডেট ব্যবস্থা ও ট্রাস্টিশিপ ব্যবস্থার মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।
উত্তর:
সাদৃশ্য:
- দুটোই পরাজিত দেশগুলির উপনিবেশ ও নির্ভরশীল অঞ্চলগুলির তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা।
- দুটোই উন্নত দেশগুলির তত্ত্বাবধানে অঞ্চলগুলিকে ধীরে ধীরে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করার কথা বলে।
- তদারকির জন্য আলাদা কমিশন/কাউন্সিল ছিল (ম্যান্ডেট কমিশন/ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল)।
বৈসাদৃশ্য:
- ম্যান্ডেট: জাতিসংঘের (League) ব্যবস্থা — WWI-পরবর্তী। A, B, C — তিন শ্রেণির ম্যান্ডেট।
- ট্রাস্টিশিপ: জাতিসংঘের (UNO) ব্যবস্থা — WWII-পরবর্তী। পরিদর্শনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ছিল।
- ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে — শেষ ট্রাস্ট অঞ্চল পালাউ ১৯৯৪ সালে স্বাধীন হয় এবং কাউন্সিল বর্তমানে নিষ্ক্রিয়। ম্যান্ডেট ব্যবস্থা পুরোপুরি সফল হয়নি — WWII শুরু হয়েছিল।
19. 🌍 উড্রো উইলসনের 'চতুর্দশ দফা' কী? জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর:
মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন ৮ জানুয়ারি, ১৯১৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব পুনর্গঠনের জন্য 'চতুর্দশ দফা' (Fourteen Points) শীর্ষক এক নীতি ঘোষণা করেন।
প্রধান দফাগুলি:
- গোপন চুক্তি/কূটনীতি বিলোপ
- সমুদ্রের স্বাধীনতা
- অর্থনৈতিক বাধা দূরীকরণ
- অস্ত্রসঙ্কোচন
- উপনিবেশিক দাবির নিষ্পত্তি
- ...
- ১৪তম দফা: 'রাষ্ট্রসমূহের একটি সাধারণ সমিতি গঠন — যা বড়-ছোট সকল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নিশ্চয়তা দেবে।'
এই ১৪তম দফার ভিত্তিতে প্যারিস শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯) জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
20. 🌍 জাতিসংঘ বিলুপ্তির কারণ ও প্রক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর:
বিলুপ্তির কারণ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু (সেপ্টেম্বর ১৯৩৯) — জাতিসংঘের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ প্রতিরোধ, কিন্তু ২০ বছরেই আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- বৃহৎ শক্তিগুলি (জাপান ১৯৩৩, জার্মানি ১৯৩৩, ইতালি ১৯৩৭) একে একে জাতিসংঘ ত্যাগ করে।
- যুদ্ধকালীন সময়ে জাতিসংঘ কার্যত অচল।
- যুদ্ধ চলাকালীনই মিত্রশক্তি একটি নতুন সংস্থা — সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) গঠনের পরিকল্পনা শুরু করে (১৯৪১-১৯৪৫)।
বিলুপ্তির প্রক্রিয়া: ১৮ এপ্রিল, ১৯৪৬ সালে জেনেভায় জাতিসংঘের শেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতিসংঘের বিলুপ্তির প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং জাতিসংঘের সম্পদ (জেনেভার প্রাসাদ, গ্রন্থাগার, আর্কাইভ) ও দায়িত্ব নবগঠিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
21. 🌍 জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?
উত্তর:
| বিষয় | জাতিসংঘ (League of Nations) | সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) |
|---|
| প্রতিষ্ঠা | ১০ জানুয়ারি, ১৯২০ | ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ |
| সদর দপ্তর | জেনেভা (সুইজারল্যান্ড) | নিউ ইয়র্ক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) |
| প্রতিষ্ঠাতা সদস্য | ৪২টি রাষ্ট্র | ৫১টি রাষ্ট্র |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | সদস্য ছিল না | প্রধান সদস্য ও বৃহত্তম অর্থদাতা |
| নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো | সব সদস্যের সার্বসম্মতি প্রয়োজন | শুধু P5 স্থায়ী সদস্যদের ভেটো |
| সামরিক শক্তি | নিজস্ব বাহিনী ছিল না | শান্তিরক্ষী বাহিনী (Peacekeepers) |
| বিচারালয় | PCIJ (হেগ) | ICJ (হেগ) |
| ভাগ্য | ব্যর্থ — WWII ঠেকাতে পারেনি | চলমান — বিতর্কিত হলেও টিকে আছে |
22. 🌍 ILO-র ট্রাইপারটাইট কাঠামো (Tripartite Structure) বলতে কী বোঝো?
উত্তর:
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হল এর ট্রাইপারটাইট (ত্রিপক্ষীয়) কাঠামো। ILO-র প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র থেকে ৩ ধরনের প্রতিনিধি পাঠানো হয়:
- সরকারি প্রতিনিধি (২ জন): সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
- শ্রমিক প্রতিনিধি (১ জন): দেশের ট্রেড ইউনিয়ন/শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে।
- নিয়োগকারী প্রতিনিধি (১ জন): মালিকপক্ষ/শিল্পপতিদের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই কাঠামোতে সরকার, শ্রমিক ও মালিক — তিন পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রম আইন ও মান নির্ধারিত হয়। ILO-ই একমাত্র জাতিসংঘ-পরিবারভুক্ত সংস্থা যেখানে সুশীল সমাজ সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
23. 🌍 ন্যানসেন পাসপোর্ট কী? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তর:
ন্যানসেন পাসপোর্ট (Nansen Passport) ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, রুশ বিপ্লব (১৯১৭) ও রুশ গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু/রাষ্ট্রহীন মানুষদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভ্রমণ নথি।
পটভূমি: ১৯২২ সালে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনার নরওয়ের ফ্রিডজফ ন্যানসেন এই পাসপোর্ট চালু করেন।
গুরুত্ব:
- প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উদ্বাস্তু নথি।
- ৫২টি দেশ এটি স্বীকৃতি দেয়।
- প্রায় ৪,৫০,০০০ উদ্বাস্তু এই পাসপোর্ট পায়।
- বিখ্যাত ব্যক্তিরা যেমন — লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভ, সুরকার ইগর স্ট্রাভিনস্কি, শিল্পী মার্ক শাগাল — ন্যানসেন পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করতেন।
- ন্যানসেন ১৯২২ সালে এই মানবিক কাজের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
24. 🌍 জাতিসংঘের (UNO) প্রধান ৬টি দাপ্তরিক ভাষার নাম লেখো।
উত্তর:
- ইংরেজি (English): প্রধান কাজের ভাষা।
- ফরাসি (French): দ্বিতীয় কাজের ভাষা, কূটনীতির ঐতিহ্যবাহী ভাষা।
- স্প্যানিশ (Spanish): ২০টি সদস্য রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা।
- রুশ (Russian): নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যের ভাষা।
- চীনা (Chinese/Mandarin): বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ব্যবহার করা ভাষা।
- আরবি (Arabic): ১৯৭৩ সালে সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা পায়।
সাধারণ সভায় বক্তৃতা এই ৬টি ভাষায় সমকালীন অনূদিত হয়। সচিবালয়ের কাজের ভাষা মাত্র ২টি — ইংরেজি ও ফরাসি।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
5 টি1. জাতিসংঘ (League of Nations) প্রতিষ্ঠার পটভূমি, উদ্দেশ্য এবং এর অঙ্গসংস্থাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। জাতিসংঘের সাফল্য ও ব্যর্থতার কারণগুলি কী কী?
প্রতিষ্ঠার পটভূমি
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮)-র ভয়াবহতা বিশ্বনেতাদের মধ্যে ভবিষ্যতে যুদ্ধ প্রতিরোধের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগায়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি 'চতুর্দশ দফা' নীতি ঘোষণা করেন, যার ১৪তম দফায় আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষার জন্য 'রাষ্ট্রসমূহের একটি সাধারণ সমিতি' গঠনের প্রস্তাব ছিল। ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলনে গৃহীত ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ জানুয়ারি, ১৯২০ থেকে এটি কার্যকর হয়।
উদ্দেশ্য
- ভবিষ্যতে যুদ্ধ প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা।
- রাষ্ট্রগুলির মধ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা (Collective Security) নিশ্চিত করা।
- আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা।
- অস্ত্রসঙ্কোচন ও নিরস্ত্রীকরণ।
- আন্তর্জাতিক আইনের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের কল্যাণ।
অঙ্গসংস্থা (৫টি প্রধান অঙ্গ)
| অঙ্গ | গঠন | কার্য |
|---|
| সাধারণ সভা | সব সদস্য, প্রতি রাষ্ট্র ৩ প্রতিনিধি, ১ ভোট | বাজেট, সদস্যপদ, বিচারপতি নির্বাচন |
| কাউন্সিল | ৪ স্থায়ী + ৪ অস্থায়ী সদস্য | শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি |
| সচিবালয় | মহাসচিব + ৮টি বিভাগ | প্রশাসনিক কাজ, প্রতিবেদন |
| স্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচারালয় | ১৫ জন বিচারপতি (৯ বছর) | আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি (হেগ) |
| আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) | ত্রিপক্ষীয় কাঠামো | শ্রমিক কল্যাণ, কাজের সময় নির্ধারণ |
সাফল্য
- অলান্দ দ্বীপ সমস্যা (সুইডেন-ফিনল্যান্ড, ১৯২১)
- উচ্চ সাইলেশিয়া সমস্যা (জার্মানি-পোল্যান্ড, ১৯২১)
- গ্রিস-বুলগেরিয়া সীমান্ত সংঘর্ষ (১৯২৫)
- ন্যানসেন পাসপোর্ট ও উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধান
- দাসপ্রথা বিলোপ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
ব্যর্থতার কারণ
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ গ্রহণ না করা (সবচেয়ে বড় আঘাত)
- সার্বসম্মতির নীতি — কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব
- নিজস্ব সামরিক বাহিনীর অভাব
- মাঞ্চুরিয়া (১৯৩১) ও আবিসিনিয়া (১৯৩৫) আগ্রাসন প্রতিরোধে ব্যর্থতা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে ব্যর্থ (১৯৩৯) — চূড়ান্ত ব্যর্থতা
- বৃহৎ শক্তিগুলির (জাপান, জার্মানি, ইতালি) সদস্যপদ ত্যাগ
2. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (UNO) প্রতিষ্ঠার ধাপগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে পার্থক্যগুলি চিহ্নিত করো।
প্রতিষ্ঠার ধাপসমূহ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন (১৯৩৯-১৯৪৫) মিত্রশক্তি যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
- আটলান্টিক চার্টার (১৪ আগস্ট, ১৯৪১): মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল যুদ্ধোত্তর বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার অঙ্গীকার করেন।
- জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (১ জানুয়ারি, ১৯৪২): ওয়াশিংটনে ২৬টি মিত্র রাষ্ট্র 'Declaration by United Nations'-এ স্বাক্ষর করে। রুজভেল্ট প্রথম 'United Nations' নামটি প্রস্তাব করেন।
- মস্কো সম্মেলন (অক্টোবর ১৯৪৩): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনে একমত হন।
- ডাম্বারটন ওকস সম্মেলন (অক্টোবর ১৯৪৪): ওয়াশিংটনে ভবিষ্যৎ সংস্থার কাঠামো, অঙ্গ ও কার্যপ্রণালি প্রণয়ন করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদ, সাধারণ সভা, সচিবালয় ও আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের রূপরেখা ঠিক হয়।
- ইয়াল্টা সম্মেলন (ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫): রুজভেল্ট, চার্চিল ও স্ট্যালিন নিরাপত্তা পরিষদের ভোটদান পদ্ধতি (Yalta Formula/ভেটো ক্ষমতা) নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান।
- সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলন (২৫ এপ্রিল-২৬ জুন, ১৯৪৫): ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে।
- ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫: প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাষ্ট্রের (২৯টি) অনুমোদনের পর সনদ কার্যকর — 'জাতিসংঘ দিবস'।
জাতিসংঘ ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মধ্যে পার্থক্য (SAQ #21 দেখুন)
প্রধান পার্থক্য — ভেটো ব্যবস্থা (League-এ সার্বসম্মতি, UNO-তে P5 ভেটো), সদর দপ্তর (জেনেভা বনাম নিউ ইয়র্ক), মার্কিন সদস্যপদ (League-এ অনুপস্থিত, UNO-তে প্রধান), নিজস্ব শান্তিরক্ষী বাহিনী (League-এ ছিল না, UNO-তে আছে)।
3. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (Security Council)-এর গঠন, ক্ষমতা ও ভেটো ব্যবস্থা বিস্তারিত আলোচনা করো। ভেটো ক্ষমতা কীভাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে প্রভাবিত করে?
গঠন
- মোট সদস্য: ১৫ জন।
- স্থায়ী ৫ (P5): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া (পূর্বতন USSR), চীন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন।
- অস্থায়ী ১০: ২ বছরের মেয়াদে সাধারণ সভা দ্বারা নির্বাচিত। ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত — আফ্রিকা (৩), এশিয়া-প্যাসিফিক (২), লাতিন আমেরিকা (২), পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য (২), পূর্ব ইউরোপ (১)।
ক্ষমতা (জাতিসংঘ সনদের অধ্যায় ৬ ও ৭ অনুযায়ী)
- আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব।
- কোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুপারিশ করা (Chapter VI)।
- শান্তির প্রতি হুমকি বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Chapter VII) — অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন।
- প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ (জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ)।
- নতুন মহাসচিবের সুপারিশ ও আন্তর্জাতিক বিচারালয়ের বিচারপতি নির্বাচন (সাধারণ সভার সাথে যৌথভাবে)।
ভেটো ক্ষমতা
সনদের ২৭ নং ধারা অনুযায়ী — যে কোনো স্থায়ী সদস্য (P5) যে কোনো মূল সাংগঠনিক প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করে প্রস্তাব বাতিল করতে পারে।
ইতিহাসে ভেটো: মোট ৩০০+ বার ভেটো প্রয়োগ হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন/রাশিয়া সবচেয়ে বেশি (১৫০+ বার) ভেটো দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল-সম্পর্কিত প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি ভেটো দিয়েছে (৪৫+ বার)।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব
- ইতিবাচক: বৃহৎ শক্তিগুলিকে জাতিসংঘের মধ্যে রেখেছে (League-এ না থাকায় দুর্বল হয়েছিল)।
- নেতিবাচক: প্রায়ই ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষা ব্যাহত হয়েছে — সিরিয়া গৃহযুদ্ধ, ইউক্রেন আক্রমণ, গাজা সঙ্কটে ভেটো প্রয়োগে জাতিসংঘ অচল।
- সংস্কারের দাবি: জাপান, জার্মানি, ভারত, ব্রাজিল — G4 দেশগুলি স্থায়ী সদস্যপদ ও ভেটো ক্ষমতার সংস্কার চায়।
4. জাতিসংঘের সাফল্য ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করো। জাতিসংঘ কি সত্যিই আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় সফল নাকি এটি শুধুই বৃহৎ শক্তিগুলির রাজনীতির মঞ্চ?
সাফল্যসমূহ
- উপনিবেশবাদের অবসান: ১৯৪৫ সালে ৫১ সদস্য থেকে বর্তমানে ১৯৩ — ৮০টিরও বেশি সাবেক উপনিবেশ স্বাধীন হয়েছে। ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে (শেষ ট্রাস্ট — পালাউ, ১৯৯৪)।
- শান্তিরক্ষা মিশন: ১৯৪৮ সাল থেকে ৭০+ শান্তিরক্ষা অভিযান পরিচালিত। কোরিয়া (১৯৫০-৫৩), কঙ্গো (১৯৬০-৬৪), বলকান (১৯৯০-এর দশক) — কিছু সফল, কিছু ব্যর্থ। শান্তিরক্ষীদের ১৯৮৮ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার।
- মানবাধিকার: UDHR (১৯৪৮) — ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি। মানবাধিকার কাউন্সিল, বিভিন্ন মানবাধিকার চুক্তি ও কনভেনশন।
- মানবিক সাহায্য: UNICEF (৬৫ সালে নোবেল), WFP (২০২০ সালে নোবেল), UNHCR (২ বার নোবেল — ১৯৫৪, ১৯৮১) — বিশ্বব্যাপী ত্রাণ, খাদ্য ও উদ্বাস্তু সহায়তা।
- স্বাস্থ্য: WHO — গুটিবসন্ত নির্মূল (১৯৮০), পোলিও প্রায় নির্মূল (৯৯% হ্রাস), কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা।
- পরিবেশ: IPCC (জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল) — ২০০৭ সালে নোবেল। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি (২০১৫) সহায়তা।
ব্যর্থতা
- ঠান্ডা যুদ্ধ প্রতিরোধে ব্যর্থ: ১৯৪৭-১৯৯১ — বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত।
- ভেটো সমস্যা: P5-এর ভেটোয় বহু সঙ্কটে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি — রুয়ান্ডা গণহত্যা (১৯৯৪, ৮ লক্ষ মৃত), স্রেব্রেনিকা গণহত্যা (১৯৯৫), সিরিয়া গৃহযুদ্ধ (২০১১-বর্তমান, ৫ লক্ষ+ মৃত)।
- ইরাক যুদ্ধ (২০০৩): নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই মার্কিন-ব্রিটিশ আগ্রাসন — জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন।
- ইউক্রেন আক্রমণ (২০২২): রাশিয়া ভেটো প্রয়োগ করে নিজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ বাতিল — জাতিসংঘের কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকট।
- ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন: কয়েক দশকের সঙ্কটে জাতিসংঘ কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ।
মূল্যায়ন
জাতিসংঘ 'বিশ্ব সরকার' নয় — এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলির সম্মিলিত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। 'যুদ্ধ প্রতিরোধে ব্যর্থ হলেও যুদ্ধের বিকল্প নেই' — এই চেতনায় জাতিসংঘ এখনো প্রাসঙ্গিক। দুর্বলতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য। জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন পুরোপুরি পূরণ না করলেও, একে ছাড়া বিশ্ব আরও অন্ধকারময় হত।
5. ম্যান্ডেট ব্যবস্থা (Mandate System) কী ছিল? এটি কীভাবে কাজ করত? জাতিসংঘের ট্রাস্টিশিপ ব্যবস্থার সাথে এর তুলনা করো।
ম্যান্ডেট ব্যবস্থা (Mandate System)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরাজিত জার্মানি ও তুরস্কের উপনিবেশ ও নির্ভরশীল অঞ্চলগুলি সরাসরি বিজয়ী রাষ্ট্রদের উপনিবেশে পরিণত না করে 'ম্যান্ডেট' (অর্পিত দায়িত্ব) হিসেবে উন্নত দেশগুলির তত্ত্বাবধানে শাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
তিন শ্রেণির ম্যান্ডেট
- A শ্রেণি (তুরস্কের সাবেক আরব অঞ্চল): সিরিয়া ও লেবানন (ফ্রান্সের অধীনে), প্যালেস্টাইন, ট্রান্সজর্ডান ও ইরাক (ব্রিটেনের অধীনে) — স্বল্পকালীন তত্ত্বাবধান, অচিরেই স্বাধীনতার উপযুক্ত।
- B শ্রেণি (জার্মানির আফ্রিকান উপনিবেশ): টোগোল্যান্ড, ক্যামেরুন (ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে বিভক্ত), তাঙ্গানিকা (ব্রিটেন), রুয়ান্ডা-উরুন্ডি (বেলজিয়াম) — দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বাবধান, ধীরে ধীরে স্বায়ত্তশাসন।
- C শ্রেণি (প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা): দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা), প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলি (জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড) — শাসনকারী দেশের অংশ হিসেবে শাসিত।
ম্যান্ডেট কমিশন: ১১ সদস্যবিশিষ্ট স্থায়ী ম্যান্ডেট কমিশন গড়ে তোলা হয়। শাসনকারী দেশগুলির কাছ থেকে বার্ষিক প্রতিবেদন গ্রহণ, সরেজমিনে পরিদর্শন ও আবেদন-নিবেদন শোনা ছিল এর কাজ।
জাতিসংঘের ট্রাস্টিশিপ ব্যবস্থা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ম্যান্ডেট ব্যবস্থার উত্তরসূরি হিসেবে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল গড়া হয়। এটি আগের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী ছিল — সরাসরি অঞ্চল পরিদর্শন ও পিটিশন গ্রহণের অধিকার ছিল। সফলতার প্রমাণ — ৮০টিরও বেশি সাবেক উপনিবেশ স্বাধীনতা লাভ করে, শেষ ট্রাস্ট অঞ্চল পালাউ ১৯৯৪ সালে স্বাধীন হয়। ১৯৯৪ সালে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল কাজ স্থগিত করে — এটি জাতিসংঘের অন্যতম সফল অঙ্গ।
মনে রেখো!
জাতিসংঘ: ১০ জানুয়ারি ১৯২০, জেনেভা, এরিক ড্রামন্ড (প্রথম মহাসচিব), ৫টি অঙ্গ | UNO: ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫, নিউ ইয়র্ক, ৬টি অঙ্গ | নিরাপত্তা পরিষদ: P5 ভেটো, ১৫ সদস্য | ম্যান্ডেট → ট্রাস্টিশিপ: A, B, C শ্রেণি | ILO: ট্রাইপারটাইট কাঠামো | মানবাধিকার: UDHR (১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮)