Chapter 2: বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ (Revolutionary Ideals, Napoleonic Empire and Nationalism)

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, ডাইরেক্টরি শাসন, কোড নেপোলিয়ন, কনসুলেট, সাম্রাজ্যবাদ, রাইন রাষ্ট্রসংঘ, মহাদেশীয় অবরোধ, ওয়াটারলু | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sahina Sabnam
Sahina Sabnam
Uploaded: 10 March 2026 Last Update: 31 May 2026
Chapter 2: বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ | WBBSE Class 9 History

Chapter 2: বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 43 MCQ | 17 SAQ | 5 Broad Questions

নেপোলিয়ন কোড নেপোলিয়ন ট্রাফালগার মহাদেশীয় অবরোধ মস্কো অভিযান জাতীয়তাবাদ
👑

নেপোলিয়ন যুগ

১৭৯৯-১৮১৫ — কনসুলেট থেকে সাম্রাজ্য

⚖️

কোড নেপোলিয়ন

২২৮১ ধারা — আধুনিক ইউরোপের আইনভিত্তি

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

43 টি
1. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
ক) ক) প্যারিস
খ) খ) কর্সিকা দ্বীপ (Corsica)
গ) গ) ভার্সাই
ঘ) ঘ) এলবা
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (Napoleon Bonaparte) ১৫ আগস্ট, ১৭৬৯ সালে ফ্রান্স থেকে সদ্য-অধিকৃত ভূমধ্যসাগরীয় কর্সিকা দ্বীপের (Corsica) আজাসিও (Ajaccio) শহরে এক অসচ্ছল অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা কার্লো বোনাপার্ট, মাতা লেতিজিয়া রামোলিনো। ৮ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়।
2. নেপোলিয়ন কত বছর বয়সে ফরাসি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে নিযুক্ত হন?
ক) ক) ২০ বছর
খ) খ) ১৬ বছর
গ) গ) ২৫ বছর
ঘ) ঘ) ৩০ বছর
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়ন মাত্র ১৬ বছর বয়সে (১৭৮৫) প্যারিসের একোল মিলিতের (École Militaire) থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ফরাসি সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে নিযুক্ত হন। ২৪ বছর বয়সে তুলো বন্দর পুনরুদ্ধারের কৃতিত্বে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হন — ইউরোপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ জেনারেলদের একজন।
3. ডাইরেক্টরি (Directory) শাসন কবে শুরু হয়?
ক) ক) ১৭৮৯
খ) খ) ১৭৯৫
গ) গ) ১৭৯৯
ঘ) ঘ) ১৮০৪
ব্যাখ্যা: ডাইরেক্টরি শাসন (Directory, ১৭৯৫-১৭৯৯) — থার্মিডরীয় প্রতিক্রিয়ার পর ৫ জন ডাইরেক্টর ও ২ কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার (Council of 500 ও Council of Ancients) হাতে ফ্রান্সের শাসনভার দেওয়া হয়। এটি ছিল নরমপন্থী বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্র। কিন্তু দ্রুতই দুর্নীতিগ্রস্ত, অদক্ষ ও অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে — ফরাসিবাসীর মোহভঙ্গ ঘটায়। ১৭৯৯ সালের ব্রুমের ক্যু (Coup of 18 Brumaire)-তে নেপোলিয়ন ক্ষমতা দখল করেন।
4. কনসুলেট শাসন (Consulate) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৭৯৫
খ) খ) ১৭৯৯ (নভেম্বর)
গ) গ) ১৮০৪
ঘ) ঘ) ১৮১৫
ব্যাখ্যা: ৯-১০ নভেম্বর, ১৭৯৯ (18-19 Brumaire Year VIII) — ব্রুমের ক্যু-র মাধ্যমে নেপোলিয়ন ডাইরেক্টরি উৎখাত করে কনসুলেট শাসন (Consulate) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনজন কনসাল — নেপোলিয়ন হন ফার্স্ট কনসাল (First Consul) — কার্যত একনায়ক। ১৮০২ সালে তিনি “আজীবন কনসাল” (Consul for Life) হন। ১৮০৪ সালে সিনেটের প্রস্তাবে গণভোটের মাধ্যমে “ফরাসি জাতির সম্রাট” (Emperor of the French) উপাধি গ্রহণ করেন।
5. তুলো বন্দর (Toulon) পুনরুদ্ধারের জন্য নেপোলিয়ন কী পদ লাভ করেন?
ক) ক) ক্যাপ্টেন
খ) খ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (Brigadier General)
গ) গ) ফার্স্ট কনসাল
ঘ) ঘ) সম্রাট
ব্যাখ্যা: ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশ ও স্প্যানিশ বাহিনী ভূমধ্যসাগরীয় কৌশলগত তুলো বন্দর (Toulon) দখল করলে জ্যাকোবিনপন্থী নেপোলিয়নকে বন্দর পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আর্টিলারি ব্যবহার করে ব্রিটিশদের হটিয়ে দেন। পুরস্কার হিসেবে ২৪ বছর বয়সে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হন।
6. “ভাদেমিয়ার ঘটনা” বা “অক্টোবরের ঘটনা” (13 Vendémiaire) কী?
ক) ক) এক যুদ্ধ
খ) খ) ৫ অক্টোবর, ১৭৯৫ — নেপোলিয়ন প্যারিসে রাজতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহ দমন করে “জেনারেল ভাদেমিয়ার” নামে পরিচিত হন
গ) গ) এক চুক্তি
ঘ) ঘ) সম্রাট হিসেবে অভিষেক
ব্যাখ্যা: ৫ অক্টোবর, ১৭৯৫ (13 Vendémiaire Year IV) — প্যারিসে প্রায় ২৫,০০০ রাজতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী জাতীয় কনভেনশন আক্রমণ করলে নেপোলিয়ন “আঙ্গুরের ছড়া” (Whiff of Grapeshot) — কামানের গোলাবর্ষণে বিদ্রোহীদের ছত্রভঙ্গ করে কনভেনশন রক্ষা করেন। পুরস্কার: মেজর জেনারেল ও অভ্যন্তরীণ সেনাবাহিনীর কমান্ডার। বারাস বলেন: “জেনারেল ভাদেমিয়ার এই শহরকে বাঁচিয়েছেন।”
7. “কোড নেপোলিয়ন” (Code Napoléon) কবে প্রবর্তিত হয়?
ক) ক) ১৭৯৯
খ) খ) ১৮০৪
গ) গ) ১৮০৭
ঘ) ঘ) ১৮১০
ব্যাখ্যা: কোড নেপোলিয়ন (Code Napoléon / French Civil Code) — ২১ মার্চ, ১৮০৪ সালে প্রবর্তিত ফ্রান্সের প্রথম একীভূত দেওয়ানি আইনসংহিতা। পরে নেপোলিয়নের সম্মানে নাম হয় “কোড নেপোলিয়ন”। ১৮০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামকরণ। সমগ্র ফ্রান্সে প্রায় ৪০০টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানীয় আইন প্রচলিত ছিল — উত্তর ফ্রান্সে জার্মানিক প্রথাগত আইন, দক্ষিণে রোমান আইন। নেপোলিয়ন আইনজীবীদের সমিতি গঠন করে ৮৪টি অধিবেশনে (নিজে ৩৬টিতে সভাপতি) আলোচনার মাধ্যমে এটি সংকলন করেন। ২২৮১টি ধারা — আইনের দৃষ্টিতে সাম্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত।
8. কোড নেপোলিয়নের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী কী?
ক) ক) শুধু রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি
খ) খ) আইনের দৃষ্টিতে সবার সমতা, সম্পত্তির অধিকার, চুক্তির স্বাধীনতা, পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব
গ) গ) নারীর ভোটাধিকার
ঘ) ঘ) সামন্তপ্রথা পুনঃপ্রবর্তন
ব্যাখ্যা: কোড নেপোলিয়নের বৈশিষ্ট্য: (i) আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা, (ii) সম্পত্তির অধিকার পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়, (iii) চুক্তি করার স্বাধীনতা, (iv) ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা, (v) পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব — পুরুষ কর্তা গৃহের প্রভু (Puissance Paternelle), নারীরা আইনত অপ্রাপ্তবয়স্ক, (vi) বিবাহবিচ্ছেদ সীমিতভাবে স্বীকৃত, (vii) উত্তরাধিকারে সকল পুত্রের সমান অধিকার। “আমার আসল গৌরব আমার যুদ্ধজয় নয় — আমার কোড নেপোলিয়ন চিরজীবী হবে।” — সেন্ট হেলেনায় নেপোলিয়নের শেষ বাণী।
9. নেপোলিয়ন প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কী কী সংস্কার করেন?
ক) ক) কোনো সংস্কার করেননি
খ) খ) প্রিফেক্ট (Prefect) ব্যবস্থা প্রবর্তন, কেন্দ্রীয়করণ, ব্যাংক অব ফ্রান্স, শিক্ষা সংস্কার — ইউনিভার্সিটি অব ফ্রান্স
গ) গ) শুধু সেনাবাহিনী সংস্কার
ঘ) ঘ) শুধু কর সংস্কার
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়নের প্রশাসনিক সংস্কার: (i) প্রিফেক্ট (Prefect) ব্যবস্থা — প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রিফেক্ট নিয়োগ; (ii) ব্যাংক অব ফ্রান্স (Banque de France, ১৮০০) — মুদ্রা ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ; (iii) শিক্ষা সংস্কার — ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা (১৮০৮) — রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে একীভূত শিক্ষাব্যবস্থা, লিসে (Lycée) — উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়; (iv) লিজিওঁ দনর (Legion of Honour, ১৮০২) — বংশানুক্রমিক নয়, প্রতিভার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।
10. ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ (Battle of Trafalgar) কবে ঘটে?
ক) ক) ১৮০০
খ) খ) ২১ অক্টোবর, ১৮০৫
গ) গ) ১৮১২
ঘ) ঘ) ১৮১৫
ব্যাখ্যা: ২১ অক্টোবর, ১৮০৫ — স্পেনের কাদিজ বন্দরের নিকট ট্রাফালগার অন্তরীপে (Cape Trafalgar) অ্যাডমিরাল হোরেশিও নেলসনের (Horatio Nelson) নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ নৌবাহিনী ফরাসি ও স্পেনীয় যৌথ নৌবহরকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে। নেলসন নিজে নিহত হলেও এই বিজয় ব্রিটেনের সমুদ্র আধিপত্য নিশ্চিত করে — নেপোলিয়নের ইংল্যান্ড আক্রমণের আশা চিরতরে শেষ হয়। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার ও নেলসন কলাম এই বিজয়ের স্মৃতি।
11. অস্টারলিৎসের যুদ্ধ (Battle of Austerlitz) কেন বিখ্যাত?
ক) ক) নেপোলিয়নের পরাজয়
খ) খ) ২ ডিসেম্বর, ১৮০৫ — নেপোলিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়, “তিন সম্রাটের যুদ্ধ” (Battle of the Three Emperors)
গ) গ) নৌযুদ্ধ
ঘ) ঘ) চুক্তি স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা: ২ ডিসেম্বর, ১৮০৫ — অস্টারলিৎস (Austerlitz — বর্তমান স্লাভকভ, চেক প্রজাতন্ত্র)-এর যুদ্ধ নেপোলিয়নের সামরিক জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়। একই দিনে তিন সম্রাট: নেপোলিয়ন (ফ্রান্স), জার প্রথম আলেকজান্ডার (রাশিয়া) ও সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্সিস (অস্ট্রিয়া) — যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন বলে “তিন সম্রাটের যুদ্ধ” (Battle of the Three Emperors) বলা হয়। অস্ট্রিয়া প্রেসবুর্গ চুক্তি (Treaty of Pressburg, ২৬ ডিসেম্বর) করতে বাধ্য হয় → পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবসান (১৮০৬) → রাইন রাষ্ট্রসংঘ গঠন।
12. রাইন রাষ্ট্রসংঘ (Confederation of the Rhine) কী?
ক) ক) ইংল্যান্ডের সাথে চুক্তি
খ) খ) ১৮০৬ সালে নেপোলিয়ন কর্তৃক ১৬টি জার্মান রাজ্য নিয়ে গঠিত মৈত্রীজোট
গ) গ) ধর্মীয় সংগঠন
ঘ) ঘ) বাণিজ্যিক চুক্তি
ব্যাখ্যা: রাইন রাষ্ট্রসংঘ (Confederation of the Rhine / Rheinbund, জুলাই ১৮০৬) — পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবসানের পর ১৬টি জার্মান রাজ্য নিয়ে নেপোলিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত। সদস্য: বাভারিয়া, উরটেমবার্গ, স্যাক্সনি, বাডেন, হেস-ডারমস্টাড সহ। প্রোটেক্টর: নেপোলিয়ন। উদ্দেশ্য: অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়ার প্রভাব খর্ব, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে বাফার জোন সৃষ্টি। পরবর্তীতে আরও রাজ্য যোগ দিয়ে সদস্যসংখ্যা হয় ৩৯। ১৮১৩ সালে লাইপজিগের যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয়ের সাথে সাথে এটি ভেঙে যায়।
13. “গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ” (Grand Duchy of Warsaw) কী?
ক) ক) ফ্রান্সের একটি প্রদেশ
খ) খ) নেপোলিয়ন কর্তৃক পোল্যান্ডে সৃষ্ট একটি নতুন রাষ্ট্র — পোল জাতীয়তাবাদের প্রতীক
গ) গ) রাশিয়ার প্রদেশ
ঘ) ঘ) জার্মান রাজ্য
ব্যাখ্যা: গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ (Grand Duchy of Warsaw, ১৮০৭) — তিলসিতের চুক্তির (Treaty of Tilsit, ১৮০৭) পর প্রাশিয়ার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পোলিশ অঞ্চল নিয়ে নেপোলিয়ন এই নতুন রাষ্ট্র গঠন করেন। ১৭৭২-১৭৯৫ সালে রাশিয়া, প্রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া পোল্যান্ডকে ভাগ করে নিয়েছিল। নেপোলিয়নের এই উদ্যোগ পোল জাতীয়তাবাদীদের কাছে স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি — পোলরা নেপোলিয়নকে “ত্রাণকর্তা” বলে স্বাগত জানায়। নেপোলিয়নের মস্কো অভিযানে ৯৮,০০০ পোলিশ সেনা ফরাসি বাহিনীতে যোগ দেয়।
14. মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) কী?
ক) ক) ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ নীতি
খ) খ) ১৮০৬ সালে নেপোলিয়ন কর্তৃক জারি এক অর্থনৈতিক অবরোধ — ব্রিটেনের সাথে ইউরোপের সকল বাণিজ্য নিষিদ্ধ
গ) গ) সামরিক জোট
ঘ) ঘ) শিক্ষানীতি
ব্যাখ্যা: মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System / Blocus Continental) — বার্লিন ডিক্রি (Berlin Decree, ২১ নভেম্বর, ১৮০৬) দ্বারা নেপোলিয়ন জারি করেন। ট্রাফালগারের পর সাগরে ব্রিটেনকে পরাজিত করা অসম্ভব বুঝে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করার পরিকল্পনা। সমগ্র ইউরোপীয় উপকূলে ব্রিটিশ পণ্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ — ব্রিটেনকে দেউলিয়া করার কৌশল। পরে মিলান ডিক্রি (১৭ ডিসেম্বর, ১৮০৭) দ্বারা কঠোরতর করা হয়। বাস্তবে ব্যর্থ — চোরাচালান ব্যাপক, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এই নীতি লঙ্ঘন করে। পর্তুগাল (ওয়েলিংটনের পেনিনসুলা যুদ্ধ) ও রাশিয়া (মস্কো অভিযান ১৮১২) — নেপোলিয়নের অভিযানের মূলে ছিল এই মহাদেশীয় অবরোধ।
15. মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়?
ক) ক) ব্রিটেন সাগরে ছিল, তাই
খ) খ) চোরাচালান ব্যাপক, ইউরোপীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত, রাশিয়া তা লঙ্ঘন করে, ফ্রান্স নিজেই ব্রিটিশ পণ্যের দামি বাজার হয়ে ওঠে
গ) গ) শুধু যুদ্ধের জন্য
ঘ) ঘ) ব্রিটিশ নৌবাহিনী দুর্বল ছিল
ব্যাখ্যা: মহাদেশীয় অবরোধ ব্যর্থতার কারণ: (i) ব্রিটেন দ্বীপরাষ্ট্র — শক্তিশালী নৌবাহিনী দিয়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ ঠিক রাখে; (ii) ইউরোপের দেশগুলির অর্থনীতি ব্রিটিশ বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল; (iii) চোরাচালান ব্যাপক — মালটা, জিব্রাল্টার, হেলিগোল্যান্ড দ্বীপ হয়ে ব্রিটিশ পণ্য ইউরোপে ঢোকে; (iv) রাশিয়া ১৮১০ সালে অবরোধ লঙ্ঘন করে ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য শুরু করে → নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান (১৮১২)-র অন্যতম কারণ; (v) ফ্রান্স নিজেই লাইসেন্স ব্যবস্থায় ব্রিটিশ পণ্য আমদানি করে (নেপোলিয়ন স্বয়ং তাঁর সেনাদের পোশাকের জন্য ব্রিটিশ কাপড় ব্যবহার করেন!)।
16. পেনিনসুলার যুদ্ধ (Peninsular War) কী?
ক) ক) ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ
খ) খ) ১৮০৮-১৮১৪ — পর্তুগাল ও স্পেনের জনগণের গেরিলা প্রতিরোধ যুদ্ধ — “স্প্যানিশ আলসার” (Spanish Ulcer)
গ) গ) রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ
ঘ) ঘ) ইতালির সাথে যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: পেনিনসুলার যুদ্ধ (Peninsular War, ১৮০৮-১৮১৪) — পর্তুগাল মহাদেশীয় অবরোধ মানতে অস্বীকার করায় নেপোলিয়ন স্পেনের মধ্য দিয়ে সেনা পাঠান। স্পেনের রাজাকে অপসারণ করে ভাই জোসেফ বোনাপার্টকে স্পেনের রাজা করেন। স্পেনীয়রা ক্যাথলিক চার্চ ও ইংরেজ জেনারেল আর্থার ওয়েলেসলি (পরে ওয়েলিংটনের ডিউক)-র সমর্থনে ভয়াবহ গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। নেপোলিয়ন একে “স্প্যানিশ আলসার” (Spanish Ulcer) বলে অভিহিত করেন — যা তার সাম্রাজ্যের শক্তি ক্রমাগত ক্ষয় করে। শেষে ১৮১৪ সালে ফরাসি বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয়। গোয়া (Goya)-র চিত্রকলা “The Third of May 1808” এই যুদ্ধের নির্মমতা ফুটিয়ে তোলে।
17. নেপোলিয়নের রাশিয়া (মস্কো) অভিযান কবে শুরু হয়?
ক) ক) ১৮০৫
খ) খ) ১৮১২ (জুন)
গ) গ) ১৮১৪
ঘ) ঘ) ১৮১৫
ব্যাখ্যা: জুন ১৮১২ — “গ্র্যান্ড আর্মি” (Grande Armée) — ২০টি জাতির প্রায় ৬,৮০,০০০ সেনা নিয়ে নেপোলিয়ন রাশিয়া অভিযান শুরু করেন (ইতিহাসের বৃহত্তম সেনাবাহিনীগুলির অন্যতম)। কারণ: রাশিয়া মহাদেশীয় অবরোধ লঙ্ঘন করে ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য শুরু করে (ডিসেম্বর ১৮১০)। রুশ কৌশল — “স্কর্চড আর্থ” (Scorched Earth) — পিছু হটতে হটতে ফসল, খাদ্য ও বাসস্থান জ্বালিয়ে ধ্বংস — নেপোলিয়নের সেনা অনাহারে ও শীতে পর্যুদস্ত। ১৪ সেপ্টেম্বর মস্কোতে প্রবেশ করলেও শহর জ্বলছে (Great Fire of Moscow)। অক্টোবরে ফিরে আসতে বাধ্য — প্রচণ্ড শীতে (রুশ শীতকাল/General Winter), টাইফাস মহামারিতে, কসাক গেরিলা আক্রমণে ৬,৮০,০০০ সেনার মাত্র ~২০,০০০-৪০,০০০ ফিরে আসে। নেপোলিয়নের অপরাজেয়তার পৌরাণিক অবসান — ইউরোপে তার দুর্বলতা প্রকাশ।
18. লাইপজিগের যুদ্ধ (Battle of Leipzig) কেন “জাতিসমূহের যুদ্ধ” (Battle of Nations) নামে পরিচিত?
ক) ক) শুধু দুই দেশের যুদ্ধ
খ) খ) ১৬-১৯ অক্টোবর, ১৮১৩ — রাশিয়া, প্রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, সুইডেনের সম্মিলিত বাহিনী নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে লড়ে — প্রায় সব ইউরোপীয় জাতি জড়িত ছিল
গ) গ) এশীয় শক্তির অংশগ্রহণ
ঘ) ঘ) সমুদ্রযুদ্ধ
ব্যাখ্যা: লাইপজিগের যুদ্ধ (Battle of Leipzig, ১৬-১৯ অক্টোবর, ১৮১৩) — “জাতিসমূহের যুদ্ধ” (Völkerschlacht / Battle of Nations) — ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম যুদ্ধ (প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে)। একদিকে নেপোলিয়নের ফরাসি, পোলিশ, ইতালীয় ও রাইন রাষ্ট্রসংঘের সেনা (~২,০০,০০০); অন্যদিকে রাশিয়া, প্রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও সুইডেনের সম্মিলিত চতুর্থ কোয়ালিশনের বাহিনী (~৩,৮০,০০০)। নেপোলিয়ন শোচনীয়ভাবে পরাজিত — ফ্রান্স রাইন নদীর পশ্চিমে সীমাবদ্ধ। রাইন রাষ্ট্রসংঘ ভেঙে যায় → জার্মানিতে ব্রিটিশ, রুশ ও প্রুশিয়ান বাহিনীর উপস্থিতি → ১৮১৪ সালে প্যারিস পতন। যুদ্ধে নেপোলিয়নের পোলিশ মার্শাল পোনিয়াতোভস্কি (Poniatowski) নিহত হন।
19. ওয়াটারলুর যুদ্ধ (Battle of Waterloo) কবে সংঘটিত হয়?
ক) ক) ১৮১২
খ) খ) ১৮ জুন, ১৮১৫
গ) গ) ১৮১৪
ঘ) ঘ) ১৮২১
ব্যাখ্যা: ১৮ জুন, ১৮১৫ — বেলজিয়ামের ওয়াটারলু (Waterloo) নামক স্থানে নেপোলিয়নের শেষ ও চূড়ান্ত পরাজয়। এলবা দ্বীপ থেকে ফিরে এসে (Hundred Days — ২০ মার্চ থেকে ২২ জুন, ১৮১৫) নেপোলিয়ন আবার ফ্রান্সের সম্রাট হন। সপ্তম কোয়ালিশন — ডিউক অব ওয়েলিংটনের (ব্রিটিশ, ডাচ, জার্মান) ও জেনারেল ব্লুখারের (প্রুশিয়ান) সম্মিলিত বাহিনী নেপোলিয়নকে পরাজিত করে। ২২ জুন নেপোলিয়ন দ্বিতীয়বার সিংহাসন ত্যাগ। ব্রিটিশরা তাকে দূরবর্তী দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে (Saint Helena) নির্বাসিত করে — যেখানে ৫ মে, ১৮২১ (বয়স ৫১) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (পাকস্থলীর ক্যান্সার/আর্সেনিক বিষক্রিয়া — বিতর্কিত)।
20. নেপোলিয়নকে শেষ কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
ক) ক) এলবা দ্বীপ
খ) খ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপ (Saint Helena)
গ) গ) কর্সিকা
ঘ) ঘ) কেপ ভার্দে
ব্যাখ্যা: সেন্ট হেলেনা দ্বীপ (Saint Helena) — দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকা থেকে ১,৯৫০ কিমি পশ্চিমে এক প্রত্যন্ত ব্রিটিশ দ্বীপ। ১৮১৫ সালের অক্টোবর থেকে ১৮২১ সালের ৫ মে মৃত্যু পর্যন্ত নেপোলিয়ন এখানে “লংউড হাউস”-এ বন্দি ছিলেন। প্রথম নির্বাসন ছিল এলবা দ্বীপে (Elba — ইতালির নিকট ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ, ১৮১৪-১৮১৫) — যেখান থেকে তিনি পালিয়ে “শতদিবসের” (Hundred Days) শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। ওয়াটারলুর পর মিত্রশক্তি সেন্ট হেলেনায় পাঠায় যাতে আর পালাতে না পারেন। ১৮৪০ সালে তাঁর দেহাবশেষ ফ্রান্সে ফিরিয়ে আনা হয় — লেজাঁভালিদে (Les Invalides) সমাধিস্থ।
21. নেপোলিয়ন ফ্রান্সে ধর্মীয় ক্ষেত্রে কী সংস্কার করেন?
ক) ক) ধর্ম নিষিদ্ধ
খ) খ) ১৮০১ সালে পোপের সাথে কনকর্ড্যাট (Concordat) চুক্তি — ক্যাথলিক ধর্মকে “অধিকাংশ ফরাসির ধর্ম” স্বীকৃতি, কিন্তু চার্চের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বহাল
গ) গ) সব ধর্ম নিষিদ্ধ
ঘ) ঘ) ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম
ব্যাখ্যা: কনকর্ড্যাট (Concordat of 1801) — নেপোলিয়ন ও পোপ সপ্তম পায়াসের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি। ক্যাথলিক ধর্মকে স্বীকৃতি দিলেও বলা হয় — এটি “অধিকাংশ ফরাসি নাগরিকের ধর্ম” (রাষ্ট্রধর্ম নয়)। প্রধান সংস্কার: (i) যাজকরা রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য শপথ নেবে, (ii) বিশপ নিয়োগ করবেন ফার্স্ট কনসাল (পরবর্তী সম্রাট), পোপ অনুমোদন দেবেন — আধ্যাত্মিক ক্ষমতা মাত্র, (iii) গির্জার ভূসম্পত্তি রাষ্ট্রায়ত্ত থাকবে, (iv) যাজকরা সরকারি বেতন পাবে। ১৮০২ সালে অর্গানিক আর্টিকেলস (Organic Articles) দ্বারা গ্যালিকান চার্চের স্বাধীনতা আরও খর্ব করা হয়। এই সমঝোতা ফ্রান্সে ধর্মীয় গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়।
22. লিজিওঁ দনর (Legion of Honour) কী?
ক) ক) সেনাবাহিনী
খ) খ) ১৮০২ সালে নেপোলিয়ন কর্তৃক প্রবর্তিত রাষ্ট্রীয় সম্মাননা — বংশানুক্রমিক নয়, প্রতিভা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রদত্ত
গ) গ) আইনসভা
ঘ) ঘ) ধর্মীয় সংগঠন
ব্যাখ্যা: লিজিওঁ দনর (Légion d’Honneur / Legion of Honour, ১৯ মে, ১৮০২) — নেপোলিয়ন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফ্রান্সের সর্বোচ্চ অসামরিক ও সামরিক সম্মাননা। পুরাতন আমলের বংশানুক্রমিক সামন্ত পদবির পরিবর্তে “যোগ্যতার ভিত্তিতে অভিজাততন্ত্র” (Aristocracy of Merit) — “প্রতিভার কেরিয়ার, সুবিধাভোগী শ্রেণির নয়” (La carrière ouverte aux talents)। ৫টি স্তর: শ্যভালিয়ে (Chevalier), অফিসিয়ে (Officier), কমান্দর (Commandeur), গ্রঁ অফিসিয়ে (Grand Officier), গ্রঁ ক্রোয়া (Grand Croix)। নীতিবাক্য: “Honneur et Patrie” (সম্মান ও মাতৃভূমি)। বর্তমানেও ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসাবে বহাল।
23. নেপোলিয়ন কীভাবে জার্মানিতে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটান?
ক) ক) জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করে
খ) খ) পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবসান, রাইন রাষ্ট্রসংঘ গঠন, ফরাসি আইন ও প্রশাসন প্রবর্তন — জার্মানদের মধ্যে জাতীয় চেতনা ও ঐক্যের প্রয়োজনের উপলব্ধি
গ) গ) জার্মান ভাষা নিষিদ্ধ করে
ঘ) ঘ) জার্মানদের স্বাধীনতা দিয়ে
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবেই জার্মান জাতীয়তাবাদের জন্ম: (i) ১৮০৬ সালে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবসান — সহস্রাব্দ প্রাচীন জার্মান রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস → নতুন কিছু সৃষ্টির প্রয়োজন; (ii) ক্রমাগত ফরাসি আক্রমণ, লুণ্ঠন ও অপমান — জার্মানদের মধ্যে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চেতনা; (iii) ফিচটে (Fichte)-র “জার্মান জাতির প্রতি সম্বোধন” (Addresses to the German Nation, ১৮০৭-০৮) — ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে জার্মান জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি; (iv) স্টাইন (Stein) ও হার্ডেনবার্গ (Hardenberg)-এর প্রুশিয়ান সংস্কার — ভূমিদাস প্রথা বিলোপ, সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ (Scharnhorst reforms) — “জনগণের যুদ্ধ” ধারণা। ১৮১৩ সালের “জাতিসমূহের যুদ্ধ” ছিল এই জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
24. নেপোলিয়ন কীভাবে ইতালিতে জাতীয়তাবাদের সঞ্চার করেন?
ক) ক) ইতালিকে ফ্রান্সের সাথে যুক্ত করে
খ) খ) সিস-অ্যালপাইন প্রজাতন্ত্র → ইতালি প্রজাতন্ত্র → ইতালি রাজ্য — ইতালীয় ঐক্যের ভৌগোলিক ধারণা স্পষ্ট, সামন্তপ্রথা বিলোপ
গ) গ) পোপের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
ঘ) ঘ) ইতালীয় ভাষা নিষিদ্ধ করে
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়নের ইতালি পুনর্গঠন: (i) ১৭৯৭ সালে সিস-অ্যালপাইন প্রজাতন্ত্র (Cisalpine Republic) প্রতিষ্ঠা → ১৮০২ সালে ইতালি প্রজাতন্ত্র (নিজে প্রেসিডেন্ট) → ১৮০৫ সালে ইতালি রাজ্য (Kingdom of Italy, ভাইসরয়: ইউজিন দ্য বোয়ার্নে) — জেনোয়া, ভেনিস, পিডমন্ট, টাসকানি, রোম, নেপলস — সব ফরাসি নিয়ন্ত্রণে; (ii) রাজ্যসংখ্যা কমিয়ে ২-৩টি — ঐক্যের ধারণা স্পষ্ট; (iii) কোড নেপোলিয়ন প্রবর্তন, সামন্তপ্রথা ও ভূমিদাস প্রথা বিলোপ, ধর্মকর ও সামন্তকরের অবসান → শিক্ষিত মধ্যবিত্তের সমর্থন; (iv) “ইতালি একটি ভৌগোলিক অভিব্যক্তি মাত্র” (Metternich)-এর বিপরীতে ইতালীয় জাতীয়তাবাদের বীজ বপন। মাৎসিনি, গারিবালদি, কাভুর — পরবর্তী প্রজন্ম নেপোলিয়নীয় সংস্কারের সুফল ভোগ করে।
25. নেপোলিয়ন কীভাবে পোল্যান্ডে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটান?
ক) ক) পোল্যান্ড দখল করে
খ) খ) “গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ” গঠন, সংবিধান প্রদান, ভূমিদাস প্রথা বিলোপ — পোল জাতীয় স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি
গ) গ) পোল ভাষা নিষিদ্ধ
ঘ) ঘ) রাশিয়ার সাথে ভাগ করে
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়নের পোল্যান্ড নীতি: (i) তিলসিতের চুক্তি (১৮০৭)-র পর প্রাশিয়ার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পোলিশ অঞ্চল নিয়ে গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ গঠন; (ii) নেপোলিয়নের কোড ও সংবিধান প্রবর্তন — আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ভূমিদাস প্রথার বিলোপ; (iii) পোলরা নেপোলিয়নকে “ত্রাণকর্তা” (Liberator) ভেবে মস্কো অভিযানে ৯৮,০০০ সেনা পাঠায়; (iv) যদিও নেপোলিয়ন পুরোপুরি স্বাধীন পোল্যান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেননি (রাশিয়ার সাথে সম্পর্কের কারণে), তবু পোল জাতীয়তাবাদীরা নেপোলিয়নীয় যুগে প্রথম স্বাধীনতার আস্বাদ পায়। পোলিশ জাতীয় সঙ্গীতে নেপোলিয়নের উল্লেখ: “Bonaparte showed us the way” (Mazurek Dąbrowskiego)।
26. কবে নেপোলিয়ন “ফরাসি জাতির সম্রাট” উপাধি গ্রহণ করেন?
ক) ক) ১৭৯৯
খ) খ) ১৮০৪ (২ ডিসেম্বর)
গ) গ) ১৮০৫
ঘ) ঘ) ১৮১০
ব্যাখ্যা: ২ ডিসেম্বর, ১৮০৪ — প্যারিসের নোত্র-দাম ক্যাথেড্রালে (Notre-Dame Cathedral) নেপোলিয়নের রাজকীয় অভিষেক। পোপ সপ্তম পায়াসের উপস্থিতিতে নেপোলিয়ন নিজেই নিজের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন — এটি ছিল প্রতীকী: তাঁর ক্ষমতা পোপের কাছ থেকে নয়, নিজের যোগ্যতা ও জনগণের ইচ্ছার ফসল। স্ত্রী জোসেফিনকেও সম্রাজ্ঞী হিসেবে মুকুট পরান। দাভিদ (Jacques-Louis David)-এর বিখ্যাত চিত্র “The Coronation of Napoleon” (Le Sacre de Napoléon, ১৮০৭) এই দৃশ্য অমর করে রেখেছে।
27. তিলসিতের চুক্তি (Treaty of Tilsit) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
ক) ক) ১৮০৫
খ) খ) ১৮০৭ (জুলাই)
গ) গ) ১৮১২
ঘ) ঘ) ১৮১৫
ব্যাখ্যা: জুলাই ১৮০৭ — নেমান নদীর (Neman River) মাঝখানে ভাসমান একটি ভেলায় (Raft) নেপোলিয়ন ও রুশ জার প্রথম আলেকজান্ডারের মধ্যে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ও তিলসিতের চুক্তি (Treaties of Tilsit) স্বাক্ষর। চুক্তির শর্ত: (i) রাশিয়া মহাদেশীয় অবরোধে যোগ দেবে, (ii) প্রাশিয়ার অর্ধেক অঞ্চল কেড়ে নেওয়া — পোলিশ অঞ্চল থেকে গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ, এলবে নদীর পশ্চিমের অঞ্চল নিয়ে ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য (নেপোলিয়নের ভাই জেরোম বোনাপার্টের জন্য)। প্রাশিয়া ১২ কোটি ফ্রাঁ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। এই চুক্তির মাধ্যমেই নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছায়।
28. নেপোলিয়নের প্রথম স্ত্রীর নাম কী?
ক) ক) মেরি লুইস (Marie Louise)
খ) খ) জোসেফিন দ্য বোয়ার্নে (Joséphine de Beauharnais)
গ) গ) মেরি আঁতোয়ানেত
ঘ) ঘ) পলিনা
ব্যাখ্যা: জোসেফিন দ্য বোয়ার্নে (Joséphine de Beauharnais, ১৭৬৩-১৮১৪) — নেপোলিয়নের প্রথম স্ত্রী (বিবাহ: ৯ মার্চ, ১৭৯৬)। ফরাসি ক্যারিবীয় দ্বীপ মার্টিনিকের ক্রেওল (Creole)। পূর্ব স্বামী জেনারেল আলেকজান্ডার দ্য বোয়ার্নে সন্ত্রাসের শাসনে গিলোটিনে নিহত। জোসেফিনের ঔরসে কোনো সন্তান না হওয়ায় নেপোলিয়ন ১৮১০ সালে বিবাহবিচ্ছেদ করেন এবং অস্ট্রিয়ার সম্রাটের কন্যা আর্চডাচেস মেরি লুইসকে (Marie Louise) বিয়ে করেন। মেরি লুইসের গর্ভে নেপোলিয়নের একমাত্র বৈধ পুত্র: নেপোলিয়ন দ্বিতীয় (King of Rome / Napoleon II — ১৮৩২ সালে ২১ বছর বয়সে মৃত্যু)।
29. নেপোলিয়নের ইতালি অভিযানের (১৭৯৬-৯৭) সেনাপতি হিসেবে তাঁর বয়স কত ছিল?
ক) ক) ৩৫
খ) খ) ২৭
গ) গ) ৪০
ঘ) ঘ) ২০
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়ন ২৭ বছর বয়সে (১৭৯৬) ডাইরেক্টরি কর্তৃক ইতালি অভিযানের সেনাপতি নিযুক্ত হন। অস্ট্রিয়া ও সার্ডিনিয়ার মিত্রবাহিনীকে একের পর এক পরাজিত করে উত্তর ইতালি দখল — লোদি (Lodi), আর্কোল (Arcole), রিভোলি (Rivoli)-র যুদ্ধ। কাম্পো ফর্মিও চুক্তি (Treaty of Campo Formio, ১৭ অক্টোবর, ১৭৯৭) — অস্ট্রিয়া বেলজিয়াম ও লম্বার্ডি ছেড়ে দেয়, বিনিময়ে ভেনিস পায়। “সৈনিকরা! ৪০ শতাব্দী তোমাদের দিকে তাকিয়ে” — পিরামিডের যুদ্ধে (২১ জুলাই, ১৭৯৮) নেপোলিয়নের বিখ্যাত উক্তি।
30. নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ কী?
ক) ক) শুধু ওয়াটারলুর যুদ্ধ
খ) খ) মহাদেশীয় অবরোধের ব্যর্থতা, মস্কো অভিযানের বিপর্যয়, জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া, অতি-সাম্রাজ্য বিস্তার
গ) গ) ফরাসি বিপ্লব
ঘ) ঘ) ইংল্যান্ডের সাথে মিত্রতা
31. পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য কবে বিলুপ্ত হয়?
ক) ক) ১৭৮৯
খ) খ) ১৮০৬
গ) গ) ১৮১৫
ঘ) ঘ) ১৮৪৮
ব্যাখ্যা: পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য (Holy Roman Empire) — ৬ আগস্ট, ১৮০৬ সালে অস্টারলিৎসের যুদ্ধের পর সম্রাট দ্বিতীয় ফ্রান্সিস (Francis II) সাম্রাজ্যের অবসান ঘোষণা করেন। প্রায় ১০০০ বছরের (৮০০-১৮০৬) প্রাচীন এই জার্মান সাম্রাজ্যের পতনের প্রতীক। দ্বিতীয় ফ্রান্সিস এখন থেকে হলেন “অস্ট্রিয়ার সম্রাট প্রথম ফ্রান্সিস” (তিনি ইতিমধ্যে ১৮০৪ সালে অস্ট্রিয়ার সম্রাট উপাধি ধারণ করেছিলেন নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)। ভলতেয়ারের উক্তি: “এই সাম্রাজ্য পবিত্রও নয়, রোমানও নয়, সাম্রাজ্যও নয়।”
32. নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের (১৭৯৮-৯৯) বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব কী?
ক) ক) শুধু যুদ্ধ
খ) খ) রোসেটা পাথর (Rosetta Stone) আবিষ্কার — প্রাচীন মিশরীয় লিপির পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়
গ) গ) কোনো গুরুত্ব নেই
ঘ) ঘ) শুধু ধর্মীয়
ব্যাখ্যা: নেপোলিয়নের মিশর অভিযান (১৭৯৮-১৮০১) শুধু সামরিক নয়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ। নেপোলিয়ন ১৬৭ জন বিজ্ঞানী, পণ্ডিত ও শিল্পীকে (Institut d’Égypte) সাথে নিয়ে যান। রোসেটা পাথর (Rosetta Stone, ১৭৯৯) — একই লেখা তিনটি লিপিতে (হায়ারোগ্লিফিক, ডেমোটিক, গ্রিক) — জ্যঁ ফ্রাসোয়া শঁপোলিওঁ (Champollion, ১৮২২) প্রাচীন মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিকের পাঠোদ্ধার করেন — মিশরবিদ্যার (Egyptology) জন্ম। “Description de l’Égypte” — ২৩ খণ্ডের বিপুল গ্রন্থ (১৮০৯-১৮২৯) — আধুনিক মিশরবিদ্যার ভিত্তি। নীলনদের যুদ্ধে (Battle of the Nile, ১ আগস্ট, ১৭৯৮) অ্যাডমিরাল নেলসন ফরাসি নৌবহর ধ্বংস করায় যুদ্ধ-দিক দিয়ে অভিযান ব্যর্থ।
33. নেপোলিয়নের “হান্ড্রেড ডেজ” (Hundred Days) কী?
ক) ক) ১০০ দিনের যুদ্ধ
খ) খ) ২০ মার্চ - ২২ জুন, ১৮১৫ — এলবা থেকে পালিয়ে নেপোলিয়নের ফ্রান্সে প্রত্যাবর্তন ও দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল
গ) গ) ১০০ দিনের শান্তি
ঘ) ঘ) এক উৎসব
ব্যাখ্যা: হান্ড্রেড ডেজ (Les Cent Jours, ২০ মার্চ - ৮ জুলাই, ১৮১৫): নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপ থেকে পালিয়ে ১ মার্চ ফ্রান্সের কানে (Cannes) অবতরণ করেন। প্যারিসের দিকে অগ্রসর হলে রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের পাঠানো সেনারা নেপোলিয়নের পক্ষে যোগ দেয়। ২০ মার্চ প্যারিসে প্রবেশ → সম্রাট হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ওয়াটারলুর যুদ্ধে (১৮ জুন) পরাজয় → ২২ জুন দ্বিতীয়বার সিংহাসন ত্যাগ। ১৫ জুলাই ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ HMS Bellerophon-এ আত্মসমর্পণ। মোট ১১১ দিন — “হান্ড্রেড ডেজ” নামে পরিচিত। প্রত্যাবর্তনের সময় নেপোলিয়নের বিখ্যাত উক্তি (ফরাসি সেনাদের উদ্দেশ্যে): “যে সেনা তার সম্রাটকে হত্যা করতে চায়, সে এই কাজ করুক!” — সেনারা “Vive l’Empereur!” (সম্রাট দীর্ঘজীবী হোন!) ধ্বনি দিয়ে যোগ দেয়।
34. ওয়েলিংটনের ডিউক (Duke of Wellington) কে ছিলেন?
ক) ক) ফরাসি জেনারেল
খ) খ) ব্রিটিশ জেনারেল আর্থার ওয়েলেসলি — পেনিনসুলার যুদ্ধ ও ওয়াটারলুতে নেপোলিয়নের পরাজয়ের নায়ক
গ) গ) প্রুশিয়ান জেনারেল
ঘ) ঘ) রুশ জেনারেল
35. নেপোলিয়ন কোন আইনসংহিতার জন্য গর্বিত ছিলেন?
ক) ক) সামরিক বিধি
খ) খ) কোড নেপোলিয়ন (Code Napoléon) — “আমার চল্লিশটি যুদ্ধজয় ওয়াটারলুতে নিশ্চিহ্ন, কিন্তু আমার কোড চিরজীবী”
গ) গ) ফৌজদারি কোড
ঘ) ঘ) বাণিজ্য কোড
36. নেপোলিয়নীয় যুগে কতটি কোড (Code) প্রণীত হয়?
ক) ক) ১টি
খ) খ) ৫টি — সিভিল কোড, ক্রিমিনাল কোড, কমার্শিয়াল কোড, সিভিল প্রসিডিউর কোড, ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড
গ) গ) ১০টি
ঘ) ঘ) ২টি
37. নেপোলিয়নের পতনের পর ভিয়েনা সম্মেলনে (Congress of Vienna) কে প্রধান ভূমিকা রাখেন?
ক) ক) নেপোলিয়ন
খ) খ) প্রিন্স ক্লেমেন্স ফন মেটারনিক (Metternich) — অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর
গ) গ) রোবসপিয়ের
ঘ) ঘ) জার আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা: ভিয়েনা সম্মেলন (Congress of Vienna, ১৮১৪-১৮১৫) — নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের পর ইউরোপের মানচিত্র পুনর্গঠনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। প্রধান স্থপতি: অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর প্রিন্স ক্লেমেন্স ফন মেটারনিক (Klemens von Metternich) — “ইউরোপের কোচম্যান” (Coachman of Europe)। মূলনীতি: বৈধতা (Legitimacy) — পুরাতন রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষতিপূরণ (Compensation), শক্তিসাম্য (Balance of Power) — ফ্রান্স যাতে আবার ইউরোপ আক্রমণ না করতে পারে। ফ্রান্সে বুরবোঁ রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা (অষ্টাদশ লুই)। ভিয়েনা সম্মেলনই “মেটারনিক যুগ” (Age of Metternich, ১৮১৫-১৮৪৮) ও “ইউরোপীয় কনসার্ট” (Concert of Europe) ব্যবস্থার সূচনা করে।
38. “জেনারেল উইন্টার” (General Winter) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) নেপোলিয়নের একজন জেনারেল
খ) খ) রাশিয়ার প্রচণ্ড শীতকাল — যা নেপোলিয়নের গ্র্যান্ড আর্মিকে ধ্বংস করে
গ) গ) একটি যুদ্ধের নাম
ঘ) ঘ) এক ধরনের অস্ত্র
39. নেপোলিয়নের দ্বিতীয় স্ত্রী কে ছিলেন?
ক) ক) জোসেফিন
খ) খ) মেরি লুইস (Marie Louise) — অস্ট্রিয়ার সম্রাটের কন্যা
গ) গ) পলিনা বোনাপার্ট
ঘ) ঘ) ওলাঁপ দ্য গুজ
40. নেপোলিয়ন কোন দেশে “জার্মান জাতীয়তাবাদ”-এর জন্ম দেন (অনিচ্ছাকৃতভাবে)?
ক) ক) ইংল্যান্ড
খ) খ) জার্মানি — ফরাসি আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে জার্মান জাতীয় চেতনার উন্মেষ
গ) গ) রাশিয়া
ঘ) ঘ) স্পেন
41. ১৮১২ সালের মস্কো অভিযানে নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীর নাম কী ছিল?
ক) ক) রয়্যাল আর্মি
খ) খ) গ্র্যান্ড আর্মি (Grande Armée) — ২০টি জাতির ~৬,৮০,০০০ সেনা
গ) গ) রেড আর্মি
ঘ) ঘ) ব্লু আর্মি
42. “চতুর্থ কোয়ালিশন” (Fourth Coalition) কবে গঠিত হয়?
ক) ক) ১৮০৫
খ) খ) ১৮১৩ — রাশিয়া, প্রাশিয়া, ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইডেন নিয়ে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জোট
গ) গ) ১৮০৬
ঘ) ঘ) ১৮১২
43. নেপোলিয়নের বিখ্যাত উক্তি: “Impossible n’est pas français” — এর অর্থ কী?
ক) ক) ফরাসিরা অসম্ভব জানে না (“Nothing is impossible for the French”)
খ) খ) ফ্রান্স হার মানে
গ) গ) যুদ্ধে জিতব
ঘ) ঘ) ফ্রান্স সম্রাট

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

17 টি
1. 👑 নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উত্থানের কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

  1. প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম: কর্সিকা দ্বীপের সাধারণ পরিবারের সন্তান — মাত্র ১৬ বছর বয়সে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, ২৪ বছর বয়সে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
  2. ফরাসি বিপ্লব: বিপ্লব “প্রতিভার কেরিয়ার” খুলে দেয় — সাধারণ মধ্যবিত্ত সেনা অফিসারদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি। তিনি জ্যাকোবিন ক্লাবের সাথে যুক্ত হন।
  3. তুলো বন্দর পুনরুদ্ধার (১৭৯৩): ব্রিটিশদের থেকে তুলো পুনরুদ্ধার করে প্রথম বড় সামরিক সাফল্য।
  4. ভাদেমিয়ার ঘটনা (১৭৯৫): রাজতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহ দমন করে “জেনারেল ভাদেমিয়ার” — জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি।
  5. ইতালি অভিযান (১৭৯৬-৯৭): মাত্র ২৭ বছর বয়সে সেনাপতি — কাম্পো ফর্মিও চুক্তিতে অস্ট্রিয়ার পরাজয়।
  6. ব্রুমের ক্যু (নভেম্বর ১৭৯৯): ডাইরেক্টরির অদক্ষতা ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে ক্ষমতা দখল — ফার্স্ট কনসাল।
2. 👑 ডাইরেক্টরি শাসন (Directory, ১৭৯৫-১৭৯৯) কী? কেন এটি ব্যর্থ হয়?

উত্তর:

ডাইরেক্টরি শাসন: থার্মিডরীয় প্রতিক্রিয়ার পর ১৭৯৫ সালে সংবিধান দ্বারা ৫ জন ডাইরেক্টর ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার (Council of 500 ও Council of Ancients) হাতে শাসনভার। নরমপন্থী বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্র।

ব্যর্থতার কারণ:

  • দুর্নীতি ও অদক্ষতা: ডাইরেক্টররা দুর্নীতিগ্রস্ত — জনগণের আস্থা হারায়।
  • রাজনৈতিক অস্থিরতা: বামপন্থী (জ্যাকোবিন অবশিষ্ট) ও দক্ষিণপন্থী (রাজতন্ত্রপন্থী) — দুই দিক থেকেই চাপ। বারবার ক্যু-র প্রয়োজন (নেপোলিয়নের ফ্রুকটিদর ক্যু, ১৭৯৭)।
  • অর্থনৈতিক বিপর্যয়: মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অ্যাসাইন্যা (কাগজি মুদ্রা)-র দরপতন।
  • যুদ্ধ: দ্বিতীয় কোয়ালিশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ — ফ্রান্স প্রাথমিকভাবে পরাজিত, ইতালির হারানো অঞ্চল।
  • সামরিক নির্ভরতা: শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করত — নেপোলিয়নের মতো জনপ্রিয় জেনারেলের পক্ষে ক্ষমতা দখল করা সহজ ছিল।
3. 👑 ব্রুমের ক্যু (Coup of 18 Brumaire) কী?

উত্তর:

ব্রুমের ক্যু (৯-১০ নভেম্বর, ১৭৯৯ / 18-19 Brumaire Year VIII): নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ও আবে সিয়েসের নেতৃত্বে ডাইরেক্টরি শাসনের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভ্যুত্থান।

ঘটনা:

  • মিশর থেকে ফিরে এসে নেপোলিয়ন দেখেন ফ্রান্স চরম অরাজকতায় — ডাইরেক্টরি অজনপ্রিয়, দ্বিতীয় কোয়ালিশনের সাথে যুদ্ধ চলছে।
  • সিয়েস ও ডুকোসের সাথে ষড়যন্ত্র — কাউন্সিল অব অ্যানসিয়ঁ (Council of Ancients) জ্যাকোবিন বিদ্রোহের ভয়ে সভা প্যারিসের বাইরে সেন্ট-ক্লাউদে (Saint-Cloud) স্থানান্তর করে, নেপোলিয়নকে প্যারিসের সেনার কমান্ডার নিযুক্ত করে।
  • ১০ নভেম্বর কাউন্সিল অব ৫০০-এ নেপোলিয়ন বক্তৃতা দিতে গেলে প্রতিনিধিরা “স্বৈরাচার নিপাত যাক” (À bas le dictateur!) ধ্বনি দিয়ে আক্রমণ।
  • সেনাবাহিনী বেয়নেটের জোরে প্রতিনিধিদের তাড়িয়ে দেয় (গ্রেনেডিয়ারদের দ্বারা)।
  • ডাইরেক্টরি বিলোপ — তিন কনসালের শাসন (Consulate) প্রতিষ্ঠা। নেপোলিয়ন: ফার্স্ট কনসাল।
4. 📜 কোড নেপোলিয়ন (Code Napoléon) কী? এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তর:

কোড নেপোলিয়ন (১৮০৪/১৮০৭): নেপোলিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তিকালীন কীর্তি — ফ্রান্সের প্রথম একীভূত দেওয়ানি আইনসংহিতা। ২২৮১টি ধারা।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  1. আইনের দৃষ্টিতে সাম্য: সব নাগরিক আইনে সমান — পুরাতন সামন্তীয় বৈষম্যের অবসান।
  2. সম্পত্তির অধিকার: পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় — রাষ্ট্র বিনা ক্ষতিপূরণে কেড়ে নিতে পারে না।
  3. চুক্তির স্বাধীনতা: সকল নাগরিক স্বাধীনভাবে চুক্তি করতে পারে।
  4. ধর্মীয় স্বাধীনতা: রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই — সব ধর্ম আইনত সমান।
  5. পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব: পিতা পরিবারের প্রভু, নারী ও শিশু আইনত পিতার কর্তৃত্বাধীন। নারীরা “আইনত অপ্রাপ্তবয়স্ক” (Legally Minor) — ভোটাধিকারহীন।
  6. উত্তরাধিকার: সকল পুত্রের সমান উত্তরাধিকার — জ্যেষ্ঠাধিকার প্রথা নিষিদ্ধ।
  7. বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ: দেওয়ানি চুক্তি হিসেবে বিবাহ — সীমিত ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদিত।
5. 📜 নেপোলিয়নের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারগুলি কী ছিল?

উত্তর:

প্রশাসনিক সংস্কার:

  • প্রিফেক্ট ব্যবস্থা: ফ্রান্সের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে (৮৩টি) কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রিফেক্ট (Prefect) নিয়োগ — কঠোর কেন্দ্রীয়করণ, দক্ষ প্রশাসন। “আমি যেমন চাই, প্রিফেক্টরা তেমনই করে” — নেপোলিয়ন।
  • মেয়র ও কাউন্সিল: কমিউনের জন্য মেয়র — কিন্তু নিয়োগ করতেন প্রিফেক্ট।

অর্থনৈতিক সংস্কার:

  • ব্যাংক অব ফ্রান্স (Banque de France, ১৮০০): কাগজি মুদ্রার স্থিতিশীলতা, মূলধন সরবরাহ।
  • নতুন মুদ্রা জার্মিনাল ফ্রাঁ (Franc Germinal, ১৮০৩): স্বর্ণ ও রৌপ্য-নির্ভর স্থিতিশীল মুদ্রা — ১৯২৬ সাল পর্যন্ত প্রচলিত।
  • কর সংস্কার: প্রত্যক্ষ কর (ভূমিকর) — দক্ষ, নিয়মিত আদায়। কর আদায়িকাদের (Tax Farmers) অবসান।
  • লিজিওঁ দনর (Legion of Honour, ১৮০২): প্রতিভা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সম্মান — “আমি একটি নতুন অভিজাততন্ত্র সৃষ্টি করেছি — যোগ্যতার অভিজাততন্ত্র” (Aristocracy of Merit)।
6. 📜 নেপোলিয়নের শিক্ষা ও ধর্মীয় সংস্কার কী ছিল?

উত্তর:

শিক্ষা সংস্কার:

  • ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি (University of France / Université Impériale, ১৮০৮): ফ্রান্সের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে — এককেন্দ্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ।
  • লিসে (Lycée): সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় — ভবিষ্যৎ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী তৈরির পাঠশালা। বৃত্তি ব্যবস্থা (Scholarships) — মেধাবী দরিদ্র ছাত্রদের জন্য।
  • একোল পলিতেকনিক (École Polytechnique, ১৭৯৪-এ প্রতিষ্ঠিত, নেপোলিয়ন সামরিকীকরণ করেন): ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্টিলারি অফিসার তৈরির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান।
  • প্রাথমিক শিক্ষা: স্থানীয় কমিউন ও চার্চের হাতে — রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কম। মেয়েদের শিক্ষা অবহেলিত।

ধর্মীয় সংস্কার:

  • কনকর্ড্যাট (Concordat of 1801): পোপ সপ্তম পায়াসের সাথে চুক্তি — ক্যাথলিক ধর্মকে “অধিকাংশ ফরাসির ধর্ম” স্বীকৃতি, কিন্তু চার্চ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন।
  • বিশপ নিয়োগ করবেন ফার্স্ট কনসাল (পরে সম্রাট) — পোপ শুধু অনুমোদন দেবেন।
  • যাজকরা রাষ্ট্রীয় বেতন পাবেন ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেবেন।
  • প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইহুদিদের জন্যও স্বতন্ত্র স্বীকৃতি (Organic Articles, ১৮০২)।
7. 🚢 মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) — উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন ও ব্যর্থতার কারণ লেখো।

উত্তর:

উদ্দেশ্য: ট্রাফালগারের (১৮০৫) পর সমুদ্রপথে ব্রিটেনকে পরাজিত করা অসম্ভব — অর্থনৈতিক অবরোধ দ্বারা ব্রিটেনকে দেউলিয়া করা ও আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

বাস্তবায়ন:

  • বার্লিন ডিক্রি (২১ নভেম্বর, ১৮০৬): ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে অবরুদ্ধ ঘোষণা — ব্রিটেনের সাথে সকল চিঠিপত্র ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ। ব্রিটেনে প্রেরিত বা ব্রিটেন থেকে আগত কোনো জাহাজ ফরাসি-নিয়ন্ত্রিত বন্দরে ঢুকতে পারবে না। ফ্রান্স ও তার মিত্রদের বন্দর ব্রিটিশ জাহাজের জন্য বন্ধ।
  • মিলান ডিক্রি (১৭ ডিসেম্বর, ১৮০৭): ব্রিটিশ নিয়ম মানা কোনো নিরপেক্ষ জাহাজও ব্রিটিশ জাহাজ হিসেবে গণ্য — আটক ও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
  • রাশিয়া (তিলসিত, ১৮০৭), প্রাশিয়া, অস্ট্রিয়া (১৮০৯)-কে অবরোধে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।

ব্যর্থতার কারণ:

  • ব্রিটেনের বিশাল নৌশক্তি ও উপনিবেশিক বাজার — বাণিজ্য চলতে থাকে দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার সাথে।
  • ইউরোপীয় অর্থনীতি ব্রিটিশ বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল — চোরাচালান ব্যাপক (মালটা, জিব্রাল্টার, হেলিগোল্যান্ড দ্বীপ)।
  • রাশিয়া ৩১ ডিসেম্বর, ১৮১০-এ অবরোধ লঙ্ঘন করে — ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য শুরু → নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান।
  • নেপোলিয়নের ভাই লুই বোনাপার্ট (হল্যান্ডের রাজা) ও জেরোম বোনাপার্ট (ওয়েস্টফালিয়া) নিজেরাই অবরোধ লঙ্ঘন।
  • ফ্রান্স নিজেই লাইসেন্স ব্যবস্থায় ব্রিটিশ পণ্য আমদানি করে — স্ববিরোধিতা।
8. ⚔️ ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ (Battle of Trafalgar, ১৮০৫) কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:

ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ (২১ অক্টোবর, ১৮০৫): স্পেনের কাদিজ বন্দরের নিকট ট্রাফালগার অন্তরীপে (Cape Trafalgar) অ্যাডমিরাল হোরেশিও নেলসনের নেতৃত্বাধীন ২৭টি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ ফরাসি অ্যাডমিরাল ভিলনভ (Villeneuve)-র নেতৃত্বাধীন ৩৩টি ফরাসি ও স্পেনীয় জাহাজকে ধ্বংস করে।

গুরুত্ব:

  • ব্রিটেনের সমুদ্র আধিপত্য সুদৃঢ় — পরবর্তী ১০০ বছর (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত) ব্রিটেন “সমুদ্রের রানি” (Mistress of the Seas)।
  • নেপোলিয়নের ইংল্যান্ড আক্রমণের স্বপ্ন চিরতরে শেষ → মহাদেশীয় অবরোধের জন্ম।
  • নেলসনের আত্মবলিদান — নিহত কিন্তু বিজয়ী। শরীর প্রিজার্ভ করে ব্র্যান্ডিতে ইংল্যান্ডে আনা হয়। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার — বিজয়স্তম্ভ (Nelson’s Column)।
  • নেলসনের শেষ সংকেত (Flag Signal): “England expects that every man will do his duty” (ইংল্যান্ড আশা করে প্রত্যেক মানুষ তার কর্তব্য করবে)।
9. ⚔️ অস্টারলিৎসের যুদ্ধ (Battle of Austerlitz, ১৮০৫) কেন “তিন সম্রাটের যুদ্ধ” নামে পরিচিত? ফলাফল কী হয়?

উত্তর:

অস্টারলিৎসের যুদ্ধ (২ ডিসেম্বর, ১৮০৫): মোরাভিয়ার (বর্তমান চেক প্রজাতন্ত্র) অস্টারলিৎস শহরের কাছে নেপোলিয়নের গ্র্যান্ড আর্মি (৬৮,০০০) বনাম অস্ট্রিয়া ও রাশিয়ার সম্মিলিত বাহিনী (৯০,০০০)।

“তিন সম্রাটের যুদ্ধ” (Battle of the Three Emperors): যুদ্ধক্ষেত্রে একই দিনে তিনজন সম্রাট উপস্থিত ছিলেন — নেপোলিয়ন (ফ্রান্স), প্রথম আলেকজান্ডার (রাশিয়া) ও দ্বিতীয় ফ্রান্সিস (পবিত্র রোমান সম্রাট / অস্ট্রিয়া)। নেপোলিয়নের প্রতিভা — প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে দুর্বল ডান দিক দেখিয়ে আকর্ষণ, কেন্দ্র আক্রমণ, প্রাতসেন হ্রদে (Satschan Lake) রুশ-অস্ট্রিয়ান বাহিনীকে ডুবিয়ে দেওয়া।

ফলাফল:

  • প্রেসবুর্গ চুক্তি (Treaty of Pressburg, ২৬ ডিসেম্বর, ১৮০৫) — অস্ট্রিয়া ভেনিস, টাইরল, ডালমেশিয়া ছেড়ে দেয়, ৪ কোটি ফ্রাঁ ক্ষতিপূরণ।
  • পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবসান (৬ আগস্ট, ১৮০৬)।
  • ১৮০৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি — ফ্রান্স ও প্রাশিয়ার মধ্যে প্যারিস চুক্তি → প্রাশিয়া হানোফার পায়, কিন্তু ব্রিটেন অসন্তুষ্ট → চতুর্থ কোয়ালিশন।
  • অস্টারলিৎস নেপোলিয়নের সামরিক জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি — “সূর্য ও কুয়াশা”-র যুদ্ধ (Battle of the Sun and Fog) — নেপোলিয়নের যুদ্ধ-কৌশলের মাস্টারপিস।
10. ⚔️ নেপোলিয়নের মস্কো/রাশিয়া অভিযানের (১৮১২) বর্ণনা ও গুরুত্ব লেখো।

উত্তর:

নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান — ফরাসি: La Campagne de Russie, জুন-ডিসেম্বর ১৮১২: ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক অভিযান ও বিপর্যয়।

কারণ: রাশিয়া মহাদেশীয় অবরোধ লঙ্ঘন (ডিসেম্বর ১৮১০), পোল্যান্ড ইস্যু, দুই সম্রাটের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস।

গ্র্যান্ড আর্মি (Grande Armée): ২০টি জাতি থেকে ~৬,৮০,০০০ সেনা (অর্ধেক ফরাসি, বাকি পোলিশ, জার্মান, ইতালীয়, অস্ট্রিয়ান, প্রুশিয়ান)। ২৪ জুন নেমান নদী অতিক্রম করে রাশিয়া আক্রমণ।

রুশ কৌশল — স্কর্চড আর্থ (Scorched Earth): জেনারেল কুতুজভ (Kutuzov)-এর নেতৃত্বে রুশ বাহিনী পিছু হটতে হটতে ফসল, খাদ্যভাণ্ডার ও গ্রাম জ্বালিয়ে ধ্বংস করে — শত্রুকে অনাহারে রাখা। বোরোদিনোর যুদ্ধ (Battle of Borodino, ৭ সেপ্টেম্বর) — ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী, নেপোলিয়নের কঠিন জয়।

মস্কো দখল ও বিপর্যয় (১৪ সেপ্টেম্বর - ১৯ অক্টোবর): ফরাসি সেনা মস্কোয় প্রবেশের পর শহর জ্বলতে থাকে (Great Fire of Moscow — ৫ দিন ধরে জ্বলে)। জার আলেকজান্ডার শান্তিচুক্তি করতে অস্বীকার। অক্টোবরে পিছু হটতে বাধ্য — প্রচণ্ড রুশ শীতকাল (তাপমাত্রা -৩০°C/-৩৭°C), টাইফাস মহামারি, ক্ষুধা ও কসাক গেরিলা আক্রমণ। বেরেজিনা নদী (Berezina River) অতিক্রমের সময় ভয়াবহ সর্বনাশ। ৬,৮০,০০০ সেনার মাত্র ~২০,০০০-৪০,০০০ ফিরে আসে।

গুরুত্ব: নেপোলিয়নের অপরাজেয়তার পৌরাণিক অবসান → সমগ্র ইউরোপ জুড়ে নেপোলিয়ন-বিরোধী জাতীয়তাবাদী জাগরণ → চতুর্থ কোয়ালিশন ও “জাতিসমূহের যুদ্ধ” (লাইপজিগ, ১৮১৩) → নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা।

11. ⚔️ ওয়াটারলুর যুদ্ধ (Battle of Waterloo, ১৮১৫) ও নেপোলিয়নের পতন বর্ণনা করো।

উত্তর:

ওয়াটারলুর যুদ্ধ (১৮ জুন, ১৮১৫): বেলজিয়ামের ওয়াটারলু নামক স্থানে নেপোলিয়নের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত পরাজয়।

পটভূমি — হান্ড্রেড ডেজ (Hundred Days): এলবা দ্বীপ থেকে পালিয়ে ১ মার্চ, ১৮১৫ ফ্রান্সের কানে (Cannes) অবতরণ, ২০ মার্চ প্যারিসে → পুনরায় সম্রাট। ভিয়েনা সম্মেলনরত মিত্রশক্তি নেপোলিয়নকে “আইনবহির্ভূত” ঘোষণা করে → সপ্তম কোয়ালিশন গঠন।

যুদ্ধ:

  • নেপোলিয়নের বাহিনী: ~৭২,০০০ (আর্টিলারি ২৪৬টি কামান)।
  • ডিউক অব ওয়েলিংটনের বাহিনী: ~৬৮,০০০ (ব্রিটিশ, ডাচ, বেলজিয়ান, জার্মান — মোঁ সাঁ জ্যঁ (Mont-Saint-Jean) রিজে অবস্থান)।
  • জেনারেল ব্লুখারের প্রুশিয়ান বাহিনী: ~৪৫,০০০ — ওয়াভ্রে (Wavre) থেকে অগ্রসর। নেপোলিয়নের মার্শাল গ্রুশি (Grouchy) ব্লুখারকে আটকাতে ব্যর্থ।
  • বৃষ্টির কারণে নেপোলিয়ন দুপুর পর্যন্ত আক্রমণ স্থগিত রাখেন — ব্লুখারের আগমনের সময় পায়।
  • সন্ধ্যায় ইম্পেরিয়াল গার্ডের শেষ চার্জ ব্যর্থ → ফরাসি বাহিনী সম্পূর্ণ ছত্রভঙ্গ।

ফলাফল:

  • ২২ জুন — দ্বিতীয়বার সিংহাসন ত্যাগ। দ্বিতীয় বুরবোঁ পুনঃপ্রতিষ্ঠা (অষ্টাদশ লুই)।
  • ১৫ জুলাই — HMS Bellerophon যুদ্ধজাহাজে আত্মসমর্পণ। দূরবর্তী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে (দক্ষিণ আটলান্টিক) নির্বাসন।
  • ওয়েলিংটনের উক্তি: “একটি অতি নিকট-পরিচিত বিষয় (A damn close-run thing) — আমার জীবনের ইতিহাসে এত কাছে কখনও আসিনি।”
12. 🇩🇪 নেপোলিয়ন কীভাবে (অনিচ্ছাকৃতভাবে) জার্মানিতে জাতীয়তাবাদের জন্ম দেন?

উত্তর:

নেপোলিয়নের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত না হলেও, ফরাসি আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবেই জার্মান জাতীয়তাবাদের জন্ম:

  • পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অবসান (১৮০৬): ১০০০ বছরের জার্মান রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস — বিকল্প নতুন জার্মান ঐক্যের ভাবনা।
  • রাইন রাষ্ট্রসংঘ: নেপোলিয়নের পুতুল জার্মান রাজ্যগুলি ফরাসি কোড, প্রশাসন ও ফরাসি সেনাদের উপস্থিতিতে জর্জরিত — জাতীয় অপমান।
  • ফিচটের “জার্মান জাতির প্রতি সম্বোধন” (Addresses to the German Nation, ১৮০৭-০৮): ফরাসি-অধিকৃত বার্লিনে দেওয়া বক্তৃতামালা — জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে জাতীয় চেতনার জাগরণ।
  • প্রুশিয়ান সংস্কার: ব্যারন ফন স্টাইন (Stein) ও হার্ডেনবার্গ (Hardenberg) — ভূমিদাস প্রথা বিলোপ (১৮০৭), নাগরিকদের সম্পত্তি-ক্রয়াধিকার, শহরের স্বায়ত্তশাসন, সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ (Scharnhorst সংস্কার) — “জাতির সেনাবাহিনী” ধারণা।
  • “জাতিসমূহের যুদ্ধ” (লাইপজিগ, ১৮১৩): জার্মান জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ — প্রুশিয়ান স্বেচ্ছাসেবক (Freikorps), বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (Burschenschaften)।
13. 🇮🇹 নেপোলিয়নের ইতালিতে জাতীয়তাবাদের প্রভাব কীরূপ ছিল?

উত্তর:

  • রাজ্যসংখ্যা হ্রাস: নেপোলিয়ন ইতালির অসংখ্য ক্ষুদ্র রাজ্যকে একত্রিত করে সিস-অ্যালপাইন প্রজাতন্ত্র → ইতালি প্রজাতন্ত্র (১৮০২) → ইতালি রাজ্য (১৮০৫) — ইতালীয় ঐক্যের প্রথম বাস্তব ধারণা।
  • কোড নেপোলিয়ন প্রবর্তন: সামন্তপ্রথা, ভূমিদাস প্রথা ও ধর্মকরের বিলোপ — আইনের দৃষ্টিতে সমতা — শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ইতালীয়রা স্বাগত জানায়।
  • “ইতালীয় ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা” (Tricolore — সবুজ-সাদা-লাল): সিস-অ্যালপাইন প্রজাতন্ত্রের পতাকা — বর্তমান ইতালির জাতীয় পতাকা।
  • ফরাসি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া: ভারী কর, সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ (Conscription) — ইতালীয়দের মধ্যে বিদেশি শাসনের প্রতি ঘৃণা → স্বাধীন ইতালির স্বপ্ন।
14. 🇵🇱 নেপোলিয়নের পোল্যান্ড নীতি কী ছিল?

উত্তর:

নেপোলিয়ন পোল্যান্ডকে পুরোপুরি স্বাধীন করেননি (রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে) কিন্তু “গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ” (Grand Duchy of Warsaw, ১৮০৭) গঠন করেন — যা কার্যত একটি পোলিশ রাষ্ট্র। প্রাশিয়ার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া পোলিশ অঞ্চল দিয়ে গঠিত। রাজা: স্যাক্সনির রাজা ফ্রেডারিক অগাস্টাস। নেপোলিয়নের কোড ও সংবিধান প্রবর্তন — ভূমিদাস প্রথা বিলোপ (যদিও কার্যকর হয়নি পুরোপুরি)। পোলরা নেপোলিয়নকে ত্রাণকর্তা (Liberator) ভেবে মস্কো অভিযানে প্রাণ দিয়েছিল। পোলিশ জাতীয় সঙ্গীতে (Mazurek Dąbrowskiego): “Bonaparte showed us the way”। নেপোলিয়নের পতনের পর ভিয়েনা সম্মেলনে (১৮১৫) পোল্যান্ড পুনরায় রাশিয়ার অধীনে (Congress Poland) — কিন্তু জাতীয়তাবাদের বীজ বপন হয়ে গিয়েছিল।

15. 👑 নেপোলিয়নকে কেন “ফরাসি বিপ্লবের রক্ষাকর্তা ও ধ্বংসকর্তা” বলা হয়?

উত্তর:

রক্ষাকর্তা (Preserver of the Revolution):

  • কোড নেপোলিয়ন — আইনের দৃষ্টিতে সাম্য, সম্পত্তির অধিকার — বিপ্লবের মূল অর্জন সংরক্ষণ।
  • সামন্তপ্রথা ও ভূমিদাস প্রথা স্থায়ীভাবে বিলোপ।
  • ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও কনকর্ড্যাট — ক্যাথলিক গির্জার সাথে সংঘাতের অবসান।
  • লিজিওঁ দনর — “প্রতিভার কেরিয়ার” (La carrière ouverte aux talents)।

ধ্বংসকর্তা (Destroyer of the Revolution):

  • নিজেকে সম্রাট ঘোষণা — বিপ্লব যে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল তার বিপরীতে একনায়কতন্ত্র।
  • নিজের পরিবারের সদস্যদের ইউরোপের সিংহাসনে বসানো — বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন।
  • প্রেস সেন্সরশিপ ও স্বাধীনতা দমন — ১৮১০ সালের মধ্যে প্যারিসের ৭৩টি সংবাদপত্র কমে মাত্র ৪টি।
  • নারীর অধিকার খর্ব — কোড নেপোলিয়নে নারীকে “আইনত অপ্রাপ্তবয়স্ক” ঘোষণা।
  • বিদেশে গণতন্ত্রের বদলে উপনিবেশিক শাসন।
16. 👑 “নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের প্রকৃতি” — কেমন ছিল?

উত্তর:

নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ছিল পুরাতন ব্যবস্থা (Ancien Régime) ও বিপ্লবী আদর্শের এক অদ্ভুত মিশ্রণ:

  • তিন স্তরের শাসন: (i) সরাসরি ফরাসি শাসনাধীন অঞ্চল (বেলজিয়াম, হল্যান্ড, জার্মানির রাইন অঞ্চল, ইতালির পিডমন্ট, রোম), (ii) নির্ভরশীল রাজ্যসমূহ (ইতালি রাজ্য, স্পেন, ওয়েস্টফালিয়া, নেপলস — ভাই ও আত্মীয়রা রাজা), (iii) মিত্র রাজ্যসমূহ (বাভারিয়া, স্যাক্সনি, ডেনমার্ক)।
  • একনায়কতান্ত্রিক: ফার্স্ট কনসাল → আজীবন কনসাল → সম্রাট — প্লেবিসাইট (গণভোট) এর নামে সব অনুমোদন, কিন্তু বিরোধী কণ্ঠরোধ।
  • বিপ্লবী: কোড নেপোলিয়ন, ভূমিদাস প্রথা বিলোপ, ধর্মীয় স্বাধীনতা — পুরাতন সামন্ততন্ত্রের উচ্ছেদ।
  • সাম্রাজ্যবাদী: ইউরোপের মানচিত্র ঘন ঘন বদল, ফরাসি স্বার্থে সবকিছু।
  • আধুনিকীকরণকারী: ব্যুরোক্রেসি, কেন্দ্রীয়করণ, দক্ষ প্রশাসন।
17. 👑 নেপোলিয়নীয় যুগে ব্যক্তি-স্বাধীনতার অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর:

নেপোলিয়নের শাসনে রাজনৈতিক স্বাধীনতা গুরুতরভাবে খর্ব হয়েছিল:

  • প্রেস সেন্সরশিপ: ১৮১০ সালের ডিক্রি — প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে মাত্র একটি সংবাদপত্র চালু থাকবে। প্যারিসের ৭৩টি পত্রিকা কেটে হয় মাত্র ৪টি (লো মোনিতর — সরকারি মুখপত্র)। থিয়েটার সংখ্যা কমিয়ে ৮টি।
  • পুলিশি নজরদারি: পুলিশ মন্ত্রী জোসেফ ফুশে (Joseph Fouché) — ব্যাপক গুপ্তচর নেটওয়ার্ক, চিঠিপত্র খোলা ও পড়া।
  • রাজনৈতিক বিরোধী দমন: জ্যাকোবিন ও রাজতন্ত্রপন্থী — দুই পক্ষই দমন। ১৮০৪ সালে ডিউক দেঁগিয়েঁ (Duc d’Enghien)-কে অপহরণ ও বিনা সঠিক বিচারে মৃত্যুদণ্ড (বিখ্যাত উক্তি: “It is worse than a crime, it is a blunder” — ফুশে কর্তৃক চমৎকার উক্তি)।
  • নির্বাচন: নামেমাত্র — সর্বজনীন ভোটাধিকার থাকলেও তালিকা পদ্ধতি (List System) — আসলে সম্রাটই সব নিয়োগ করতেন।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

5 টি
1. নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উত্থানের কারণ এবং তার কৃতিত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো। তাকে কেন ইতিহাসের এক বর্ণময় চরিত্র বলা হয়?

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (১৭৬৯-১৮২১) — ইউরোপের ইতিহাসের বর্ণময় চরিত্র

১৯৯ বছর বয়স থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপের ইতিহাস মূলত নেপোলিয়নের ইতিহাস। “নেপোলিয়নীয় কিংবদন্তি” (Napoleonic Legend) আজও অম্লান।

উত্থানের কারণ:

  1. প্রতিভা ও পরিশ্রম: অসচ্ছল পরিবারে জন্ম — ব্রিয়েন (Brienne) ও প্যারিসের সামরিক স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত। ১৬ বছরে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট।
  2. ফরাসি বিপ্লব — সুযোগ সৃষ্টিকারী: “প্রতিভার কেরিয়ার” — সাধারণ মধ্যবিত্ত সেনা অফিসারদের জন্য দ্রুত পদোন্নতি। জ্যাকোবিন ক্লাবের সাথে যুক্ত — ১৭৯৩ সালে তুলো বন্দর পুনরুদ্ধার → ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
  3. ভাদেমিয়ার ঘটনা (১৭৯৫): রাজতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহ দমন — ডাইরেক্টরির ত্রাণকর্তা — মেজর জেনারেল।
  4. ইতালি অভিযান (১৭৯৬-৯৭): মাত্র ২৭ বছরে উত্তর ইতালির অস্ট্রিয়ান-সার্ডিনীয় বাহিনীর পরাজয় — কাম্পো ফর্মিও চুক্তি — জনপ্রিয়তা চূড়ান্ত।
  5. ব্রুমের ক্যু (নভেম্বর ১৭৯৯): ডাইরেক্টরির অজনপ্রিয়তা ও দুর্নীতি — অভ্যুত্থান → ফার্স্ট কনসাল।

কৃতিত্ব:

  • কোড নেপোলিয়ন: ২২৮১ ধারার দেওয়ানি আইনসংহিতা — “আমার চল্লিশটি যুদ্ধজয় ওয়াটারলুতে নিশ্চিহ্ন, কিন্তু আমার কোড চিরজীবী হবে।”
  • ব্যাংক অব ফ্রান্স, লিজিওঁ দনর, শিক্ষা সংস্কার, কনকর্ড্যাট।
  • অস্টারলিৎস (১৮০৫): সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক বিজয় — “তিন সম্রাটের যুদ্ধ”।
2. “কোড নেপোলিয়ন” (Code Napoléon) — নেপোলিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তিকালীন কীর্তি বিস্তারিত আলোচনা করো। কেন একে আধুনিক ইউরোপের আইনব্যবস্থার ভিত্তি বলা হয়?

কোড নেপোলিয়ন (১৮০৪) — ফ্রান্সের প্রথম একীভূত দেওয়ানি আইনসংহিতা

পটভূমি:

ইতিপূর্বে ফ্রান্সে কোনো সাধারণ আইনবিধি ছিল না। প্রায় ৪০০টি স্থানীয় আইনবিধি প্রচলিত — উত্তর ফ্রান্সে জার্মানিক প্রথাগত আইন (Coutumes), দক্ষিণ ফ্রান্সে রোমান আইন, সামন্ত আইন, যাজকীয় আইন, রাজকীয় ডিক্রি। বিপ্লব এই বিশৃঙ্খলা দূর করতে চেয়েছিল — কাম্বাসেরেস-এর তিনটি খসড়া ব্যর্থ। নেপোলিয়ন ১৮০০ সালে আইনজীবীদের সমিতি (Tronchet, Portalis, Bigot de Préameneu, Maleville) গঠন করেন। ৮৪টি অধিবেশনের ৩৬টিতে নিজে সভাপতিত্ব।

মূল ধারাসমূহ:

বিষয়বিধান
আইনের দৃষ্টিতে সাম্যসকল ফরাসি নাগরিক আইনে সমান — বংশগত সুবিধার অবসান
সম্পত্তির অধিকারপবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় — বিনা ক্ষতিপূরণে রাষ্ট্র কেড়ে নিতে পারে না
চুক্তির স্বাধীনতাসকল নাগরিক স্বাধীনভাবে চুক্তি করতে পারে
ধর্মীয় স্বাধীনতাকোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই — সকল ধর্ম আইনত সমান
পারিবারিক আইনপিতা পরিবারের প্রভু, সীমিত বিবাহবিচ্ছেদ, সব সন্তানের সমান উত্তরাধিকার

বিশ্বব্যাপী প্রভাব:

নেপোলিয়নের সাম্রাজ্যের সাথে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে (জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড) কোড প্রবর্তিত হয়। পরে লাতিন আমেরিকা, কুইবেক (কানাডা), লুইজিয়ানা (যুক্তরাষ্ট্র), জাপান (মেইজি যুগ) — নানা দেশের আইনব্যবস্থায় এর প্রভাব। আধুনিক Civil Law System (পৃথিবীর প্রায় ৬০% দেশ) কোড নেপোলিয়নের উত্তরাধিকার।

3. মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) — কেন নেপোলিয়নের সর্বনাশ ডেকে এনেছিল? এই নীতির উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন ও পরিণতি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করো।

মহাদেশীয় অবরোধ — নেপোলিয়নের আত্মঘাতী নীতি

ট্রাফালগারের (১৮০৫) পর নেপোলিয়ন বুঝতে পারেন ব্রিটেনকে সমুদ্রে পরাজিত করা অসম্ভব — অর্থনৈতিক অস্ত্র।

বাস্তবায়ন:

  • বার্লিন ডিক্রি (২১ নভেম্বর, ১৮০৬): ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জকে অবরুদ্ধ ঘোষণা — ব্রিটেনের সাথে সকল চিঠিপত্র ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ।
  • মিলান ডিক্রি (১৭ ডিসেম্বর, ১৮০৭): নিরপেক্ষ জাহাজও ব্রিটেনের হয়ে গেলে আটক।
  • তিলসিতের চুক্তির মাধ্যমে (১৮০৭) রাশিয়া, প্রাশিয়া যোগ দিতে বাধ্য। ১৮০৯ সালে অস্ট্রিয়াও বাধ্য।

পরিণতি — কেন ব্যর্থ ও সর্বনাশী:

  1. পর্তুগাল ও স্পেন — পেনিনসুলার যুদ্ধ (১৮০৮-১৮১৪): পর্তুগাল ব্রিটেনের পুরনো মিত্র — নেপোলিয়ন আক্রমণ। স্পেনীয় জনগণের ভয়াবহ গেরিলা যুদ্ধ — “স্প্যানিশ আলসার” (Spanish Ulcer) — প্রতিনিয়ত ২,৫০,০০০ ফরাসি সেনা আটকে থাকে — রক্তক্ষরণ।
  2. হল্যান্ড ও অন্যান্য মিত্র দেশের অর্থনীতি ধ্বংস: আমস্টারডাম, হামবুর্গ — বাণিজ্য বন্ধ।
  3. রাশিয়া লঙ্ঘন (ডিসেম্বর ১৮১০): জার আলেকজান্ডার ব্রিটেনের সাথে মুক্ত বাণিজ্য শুরু → নেপোলিয়নের মস্কো অভিযান (১৮১২) — গ্র্যান্ড আর্মির ধ্বংস।
  4. চোরাচালান ব্যাপক: ফরাসি শুল্ক অফিসার ও এমনকি নেপোলিয়নের ভাইরাও চোরাচালানে জড়িত।
  5. ফ্রান্সের নিজস্ব স্ববিরোধিতা: লাইসেন্স ব্যবস্থায় ব্রিটিশ পণ্য (এমনকি সেনাবাহিনীর কাপড়) আমদানি।

মহাদেশীয় অবরোধ ইউরোপের অর্থনীতি ধ্বংস করে, ফ্রান্সের মিত্র ও নিরপেক্ষ দেশগুলিকে শত্রু বানায় এবং শেষ পর্যন্ত নেপোলিয়নের সেনাবাহিনীকে রাশিয়া ও স্পেনের যুগপৎ যুদ্ধে জড়িয়ে ধ্বংস করে।

4. নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ইউরোপের মানচিত্র কীভাবে পুনর্গঠিত হয়েছিল? ফ্রান্স, নির্ভরশীল রাজ্য ও মিত্র — তিন স্তরের শাসনব্যবস্থার বিবরণ দাও।

নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের তিন স্তর

নেপোলিয়ন ইউরোপের মানচিত্রে এত ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন যে “পূর্বপরিচিত ইউরোপকে আর চেনা যায়নি” (Historians’ View) — Metternich বলেছিলেন।

প্রথম স্তর: সরাসরি ফরাসি সাম্রাজ্যের অংশ (French Empire / Pays Réunis):

  • ফ্রান্স (৮৩ → ১৩০টি ডিপার্টমেন্ট)।
  • বেলজিয়াম, হল্যান্ড (১৮১০ সালে সংযুক্ত), উত্তর জার্মানির রাইন নদী-তীরবর্তী অঞ্চল, জেনোয়া, টাসকানি, রোম ও পোপের রাজ্য (১৮০৯ সালে পোপকে বন্দি করে সংযুক্ত), ইলিরিয়ান প্রভিন্স (বর্তমান স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া)।

দ্বিতীয় স্তর: নির্ভরশীল/ভাসাল রাজ্যসমূহ (Vassal States / Pays Conquis):

  • ইতালি রাজ্য (Kingdom of Italy): ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোয়ার্নে (দত্তক পুত্র)।
  • স্পেন রাজ্য: ভাই জোসেফ বোনাপার্ট (১৮০৮-১৮১৩)।
  • ওয়েস্টফালিয়া রাজ্য: ভাই জেরোম বোনাপার্ট।
  • নেপলস রাজ্য: মার্শাল মুরা (Murat) — বোন জোয়াকিম।
  • গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ: স্যাক্সনির রাজা (নেপোলিয়নের মিত্র)।
  • রাইন রাষ্ট্রসংঘ (Confederation of the Rhine): ১৬ → ৩৯ জার্মান রাজ্য — নেপোলিয়ন প্রোটেক্টর।
  • সুইস কনফেডারেশন: হেলভেটিক প্রজাতন্ত্র → নেপোলিয়ন মধ্যস্থতাকারী (Mediator) — ১৯ ক্যান্টনের কনফেডারেশন (Act of Mediation, ১৮০৩)।

তৃতীয় স্তর: মিত্র রাষ্ট্র (Allied States):

  • বাভারিয়া (রাজ্যে উন্নীত), স্যাক্সনি, উরটেমবার্গ (রাজ্যে উন্নীত), ব্যাডেন — সবাই নেপোলিয়নের সাথে বৈবাহিক বা কূটনৈতিক সম্পর্কসূত্রে আবদ্ধ।
  • অস্ট্রিয়া (১৮০৯-এর পরে) — নেপোলিয়নের শ্বশুরবাড়ি (মেরি লুইস বিবাহের পর)।
  • ডেনমার্ক ও সুইডেন (বার্নাদোত — নেপোলিয়নের প্রাক্তন মার্শাল সুইডেনের রাজকুমার ও উত্তরাধিকারী হন — পরে ১৮১৩ সালে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যোগ দেন!)।
5. নেপোলিয়নের পতনের পেছনে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করো। স্পেন, জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডের উদাহরণ দাও।

জাতীয়তাবাদ — নেপোলিয়নের সর্বনাশের মূল কারণ

নেপোলিয়ন নিজেই অজান্তে ইউরোপে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিলেন — যার প্রতিক্রিয়ায় তার সাম্রাজ্যের ভিত নড়ে যায়।

স্পেন (Peninsular War, ১৮০৮-১৮১৪):

  • ভাই জোসেফকে স্পেনের রাজা করায় স্পেনীয়দের তীব্র প্রতিক্রিয়া। ক্যাথলিক যাজকরা ফরাসিদের নাস্তিক বিপ্লবের প্রতিনিধি হিসেবে চিত্রিত করে।
  • গেরিলা যুদ্ধ (Guerrilla — “ছোট যুদ্ধ”) — প্রথম আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের জন্ম। ২,৫০,০০০ ফরাসি সেনা ক্রমাগত লড়াই করে পর্যুদস্ত।
  • ১৮১২ সালের স্পেনের সংবিধান (Constitution of Cádiz) — উদারনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী।

জার্মানি (Battle of Nations, ১৮১৩):

  • ফিচটে (Fichte)-র “Addresses to the German Nation” — ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে জার্মান জাতীয়তাবাদ।
  • প্রুশিয়ান সংস্কার — ভূমিদাস মুক্তি, বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ, Landwehr (জনগণের মিলিশিয়া) — ১৮১৩ সালের “স্বাধীনতার যুদ্ধ” (Befreiungskriege / Wars of Liberation)।
  • লাইপজিগের যুদ্ধে (১৮১৩) জার্মান জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদের গণঅংশগ্রহণ।

ইতালি (Risorgimento-র পূর্বাভাস):

  • ফরাসি জোরপূর্বক সেনা নিয়োগ (Conscription) ও করভারে ইতালীয়রা ক্ষুব্ধ।
  • মুরাত (Murat) ১৮১৫ সালে “ইতালীয় জাতীয়তাবাদী” স্লোগানে সমগ্র ইতালির রাজা হতে চেষ্টা (Rimini Proclamation) — ব্যর্থ হলেও জাতীয় চেতনার অগ্রগতি।

পোল্যান্ড:

  • পোলরা নেপোলিয়নকে সমর্থন দিয়েছিল — কিন্তু তিলসিতে স্বাধীন পোল্যান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করায় তাদের মধ্যে হতাশা।
  • তবুও পোলিশ জাতীয়তাবাদীরা “গ্র্যান্ড ডাচি অব ওয়ারশ”-কে ভবিষ্যৎ স্বাধীন পোল্যান্ডের ভিত্তি হিসেবে দেখত।

উপসংহার:

নেপোলিয়ন যে “জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া” সৃষ্টি করেছিলেন, তা-ই শেষ পর্যন্ত তার পতন ডেকে আনে। ভিয়েনা সম্মেলন (১৮১৫) সাময়িকভাবে পুরাতন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলেও — ১৮৩০, ১৮৪৮, ১৮৫৯-৭১ সালের বিপ্লব ও একীকরণ আন্দোলনে জাতীয়তাবাদ বিজয়ী হয়।

মনে রেখো!

কনসুলেট: ১৭৯৯ | কোড নেপোলিয়ন: ১৮০৪ | ট্রাফালগার: ২১ অক্টোবর, ১৮০৫ | অস্টারলিৎস: ২ ডিসেম্বর, ১৮০৫ | বার্লিন ডিক্রি: ২১ নভেম্বর, ১৮০৬ | মস্কো অভিযান: ১৮১২ | লাইপজিগ: অক্টোবর ১৮১৩ | ওয়াটারলু: ১৮ জুন, ১৮১৫ | সেন্ট হেলেনা মৃত্যু: ৫ মে, ১৮২১

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

নেপোলিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ শান্তিকালীন কীর্তি হল “কোড নেপোলিয়ন” (Code Napoléon, ১৮০৪) — ফ্রান্সের প্রথম একীভূত দেওয়ানি আইনসংহিতা। ২২৮১টি ধারায় আইনের দৃষ্টিতে সবার সমতা, সম্পত্তির পবিত্র অধিকার ও চুক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। নেপোলিয়ন নিজেই বলেছিলেন: “আমার চল্লিশটি যুদ্ধজয় ওয়াটারলুতে নিশ্চিহ্ন হয়েছে, কিন্তু আমার কোড চিরজীবী হবে।”

মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা (Continental System) — ১৮০৬ সালের ২১ নভেম্বর বার্লিন ডিক্রি দ্বারা নেপোলিয়ন ইউরোপের সকল দেশকে ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য বন্ধ করতে বাধ্য করেন। উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটেনকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করা। কিন্তু এটি ব্যর্থ হয় — চোরাচালান, ইউরোপীয় দেশগুলির অসহযোগিতা ও রাশিয়ার লঙ্ঘনের ফলে শেষ পর্যন্ত নেপোলিয়নের পতন ত্বরান্বিত করে।

মহাদেশীয় অবরোধের ব্যর্থতা, ১৮১২ সালের মস্কো অভিযানের বিপর্যয় (গ্র্যান্ড আর্মির ধ্বংস), স্পেনে পেনিনসুলার যুদ্ধ (স্প্যানিশ আলসার), এবং সর্বোপরি ইউরোপে জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া — বিশেষ করে জার্মানি, স্পেন ও রাশিয়ায়। ১৮১৩ সালের লাইপজিগের “জাতিসমূহের যুদ্ধ” ও ১৮১৫ সালের ওয়াটারলুর যুদ্ধে চূড়ান্ত পরাজয়ের মধ্য দিয়ে নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে।