Chapter 5: বিশ শতকে ইউরোপ (Europe in the 20th Century)

রুশ বিপ্লব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, ভার্সাই চুক্তি, ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান, স্পেনের গৃহযুদ্ধ, লিগ অব নেশনস, মহামন্দা | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sahina Sabnam
Sahina Sabnam
Uploaded: 10 March 2026 Last Update: 31 May 2026
Chapter 5: বিশ শতকে ইউরোপ - Europe in the 20th Century

Chapter 5: বিশ শতকে ইউরোপ

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 53 MCQ | 18 SAQ | 7 Broad Questions

রুশ বিপ্লব প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভার্সাই চুক্তি ফ্যাসিবাদ নাৎসিবাদ লিগ অব নেশনস
🇷🇺

রুশ বিপ্লব

জারতন্ত্রের পতন, বলশেভিক বিপ্লব

⚔️

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

মহাযুদ্ধ, সশস্ত্র শান্তির যুগ

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

53 টি
1. রাশিয়ার জার শাসনব্যবস্থাকে কী বলা হতো?
ক) ক) গণতন্ত্র
খ) খ) জারতন্ত্র
গ) গ) সমাজতন্ত্র
ঘ) ঘ) সামন্ততন্ত্র
ব্যাখ্যা: রোমানভ বংশীয় রাজাদের শাসনব্যবস্থা 'জারতন্ত্র' (Tsardom) নামে পরিচিত ছিল। জার ছিলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি মনে করতেন।
2. রাশিয়ায় কত সালে ভূমিদাস প্রথার বিলোপ ঘটে?
ক) ক) ১৮৪৭
খ) খ) ১৮৬১
গ) গ) ১৯০৫
ঘ) ঘ) ১৯১৭
ব্যাখ্যা: জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ সালে রাশিয়া থেকে ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদ করেন। তবে কৃষকদের অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি — জমিদারদের অধিকার হস্তান্তরিত হয় 'মীর' নামে গ্রাম্য সমিতির ওপর।
3. 'আধুনিক রাশিয়ার জনক' কাকে বলা হয়?
ক) ক) দ্বিতীয় নিকোলাস
খ) খ) লেনিন
গ) গ) মহান পিটার (পিটার দ্য গ্রেট)
ঘ) ঘ) স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা: জার মহান পিটার (রাজত্বকাল ১৬৮২-১৭২৫) রাশিয়ার আধুনিকীকরণ শুরু করেন। তিনি প্রশাসনিক, সামরিক ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার করেন।
4. রাশিয়ায় প্রথম কে 'জার' উপাধি গ্রহণ করেন?
ক) ক) দ্বিতীয় আলেকজান্ডার
খ) খ) চতুর্থ আইভান
গ) গ) প্রথম নিকোলাস
ঘ) ঘ) মহান পিটার
ব্যাখ্যা: ১৫৪৭ সালে রাজা চতুর্থ আইভান সর্বপ্রথম 'জার' উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি 'আইভান দ্য টেরিবল' নামেও পরিচিত।
5. রাশিয়ার গোপন পুলিশ বাহিনীর নাম কী ছিল?
ক) ক) গেস্টাপো
খ) খ) ওভরা
গ) গ) প্রোচঁচারিয়ান গার্দ
ঘ) ঘ) ব্ল্যাক শার্টস
ব্যাখ্যা: জারের স্বেচ্ছাচারী শাসনের প্রধান হাতিয়ার ছিল 'প্রোচঁচারিয়ান গার্দ' (Prochchariyan Guard) নামক গোপন পুলিশ বাহিনী।
6. রাশিয়ার গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানটির নাম কী?
ক) ক) ডুমা
খ) খ) জেমস্টভো
গ) গ) মীর
ঘ) ঘ) সোভিয়েত
ব্যাখ্যা: গ্রামে 'মীর' (Mir) নামে পঞ্চায়েত গ্রামীণ শাসন পরিচালনা করত। এটি ছিল রুশ গ্রামীণ জীবনের প্রাণকেন্দ্র।
7. বলশেভিক দলের নেতা কে ছিলেন?
ক) ক) স্ট্যালিন
খ) খ) ট্রটস্কি
গ) গ) লেনিন
ঘ) ঘ) কারেনস্কি
ব্যাখ্যা: ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ, যিনি লেনিন নামে পরিচিত, বলশেভিক দলের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব সংঘটিত হয়।
8. মেনশেভিক দলের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
ক) ক) সশস্ত্র বিপ্লব
খ) খ) ধীরে ধীরে সংস্কারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র
গ) গ) জারতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা
ঘ) ঘ) গণতন্ত্র ধ্বংস
ব্যাখ্যা: মেনশেভিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও তারা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রবাদ কায়েম করতে চাইত। পক্ষান্তরে বলশেভিকরা সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী ছিল।
9. ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লবের প্রধান স্লোগান কী ছিল?
ক) ক) 'শান্তি, জমি, রুটি'
খ) খ) 'স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক, যুদ্ধ নিপাত যাক'
গ) গ) 'সকল ক্ষমতা সোভিয়েতের'
ঘ) ঘ) 'বিশ্ব সর্বহারার এক হও'
ব্যাখ্যা: মার্চ বিপ্লবে (ফেব্রুয়ারি বিপ্লব) পেট্রোগ্রাড শহরের শ্রমিকরা 'স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক', 'যুদ্ধ নিপাত যাক' স্লোগানে রাস্তায় নামে।
10. লেনিনের বিখ্যাত 'এপ্রিল থিসিস' কবে ঘোষিত হয়?
ক) ক) ১৯০৫
খ) খ) ১৯১৪
গ) গ) ১৯১৭
ঘ) ঘ) ১৯২২
ব্যাখ্যা: ১৯১৭ সালের এপ্রিলে সুইজারল্যান্ড থেকে নির্বাসন শেষে ফিরে লেনিন পেট্রোগ্রাডে 'এপ্রিল থিসিস' ঘোষণা করেন।
11. বলশেভিক বিপ্লব কবে সংঘটিত হয়?
ক) ক) মার্চ ১৯১৭
খ) খ) নভেম্বর ১৯১৭ (অক্টোবর বিপ্লব)
গ) গ) জানুয়ারি ১৯১৮
ঘ) ঘ) ডিসেম্বর ১৯১৭
ব্যাখ্যা: ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে ২৫ অক্টোবর) লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং সোভিয়েত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
12. মার্চ বিপ্লবের পর অস্থায়ী সরকারের নেতা কে হন?
ক) ক) লেনিন
খ) খ) ট্রটস্কি
গ) গ) প্রিন্স লভভ
ঘ) ঘ) স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা: জারের পদত্যাগের পর ডুমার সদস্য ও সমাজতান্ত্রিক নেতা প্রিন্স লভভ-এর নেতৃত্বে এক অস্থায়ী প্রজাতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়।
13. রোমানভ বংশ কত বছর রাশিয়া শাসন করেছিল?
ক) ক) ১০০ বছর
খ) খ) ২০০ বছর
গ) গ) ৩০০ বছর
ঘ) ঘ) ৪০০ বছর
ব্যাখ্যা: মিখাইল রোমানভ ১৬১৩ সালে সিংহাসনে বসেন এবং ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লবে দ্বিতীয় নিকোলাসের পদত্যাগের মাধ্যমে ৩০০ বছরের রোমানভ শাসনের অবসান ঘটে।
14. জার শাসনামলে রাশিয়ার আইনসভার নাম কী ছিল?
ক) ক) পার্লামেন্ট
খ) খ) কংগ্রেস
গ) গ) ডুমা
ঘ) ঘ) সেনেট
ব্যাখ্যা: ডুমা (Duma) ছিল রাশিয়ার জাতীয় আইনসভা। তবে জারের কাছে এর কোনো প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না — জার ইচ্ছামতো ডুমা ভেঙে দিতে পারতেন।
15. রাশিয়ার কৃষকদের ওপর করের বোঝা কেমন ছিল?
ক) ক) কোনো কর ছিল না
খ) খ) সাধারণ নাগরিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি কর
গ) গ) সমান কর
ঘ) ঘ) অর্ধেক কর
ব্যাখ্যা: জার সরকারের রুশীকরণ নীতির অংশ হিসেবে অ-রুশ কৃষকদের ওপর সাধারণ নাগরিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি কর চাপানো হয়।
16. রাশিয়ার কত শতাংশ মানুষ কৃষক বা ভূমিদাস ছিল?
ক) ক) ২০%
খ) খ) ৫০%
গ) গ) ৮০%
ঘ) ঘ) ৯৫%
ব্যাখ্যা: রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগই ছিল চাষি বা ভূমিদাস। এরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করত।
17. 'সশস্ত্র শান্তির যুগ' (Era of Armed Peace) কোন সময়কালকে বলা হয়?
ক) ক) ১৮৫০-১৮৭০
খ) খ) ১৮৭০-১৯১৪
গ) গ) ১৯১৪-১৯১৮
ঘ) ঘ) ১৯১৯-১৯৩৯
ব্যাখ্যা: ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপে কোনো বড় যুদ্ধ না হলেও প্রতিটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে সেনাবাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। এই সময়কালকে 'সশস্ত্র শান্তির যুগ' বলা হয়।
18. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কত সালে শুরু হয়?
ক) ক) ১৯১২
খ) খ) ১৯১৪
গ) গ) ১৯১৬
ঘ) ঘ) ১৯১৮
ব্যাখ্যা: ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি কর্তৃক সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
19. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার জার কে ছিলেন?
ক) ক) দ্বিতীয় আলেকজান্ডার
খ) খ) দ্বিতীয় নিকোলাস
গ) গ) তৃতীয় আলেকজান্ডার
ঘ) ঘ) প্রথম নিকোলাস
ব্যাখ্যা: জার দ্বিতীয় নিকোলাস ছিলেন রোমানভ বংশের শেষ জার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় ও অস্থিরতার মধ্যে ১৯১৭ সালে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
20. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার খাদ্য সংকটের প্রধান কারণ কী ছিল?
ক) ক) ফসলের বাম্পার ফলন
খ) খ) যুদ্ধের প্রয়োজনে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসলের আমদানি কমে যাওয়া
গ) গ) কৃষকদের কাজে অনীহা
ঘ) ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা: যুদ্ধের কারণে শিল্প-কারখানায় যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণ শুরু হলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া ১৯১৬ সালে ফসলের আমদানি কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট চরমে ওঠে।
21. ভার্সাই চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
ক) ক) ১৯১৮
খ) খ) ১৯১৯
গ) গ) ১৯২০
ঘ) ঘ) ১৯২১
ব্যাখ্যা: ২৮ জুন ১৯১৯ সালে প্যারিসের ভার্সাই নগরীতে জার্মানির সঙ্গে মিত্রশক্তির ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
22. উড্রো উইলসনের 'চোদ্দ দফা নীতি' কবে ঘোষিত হয়?
ক) ক) ১৯১৭
খ) খ) ১৯১৮
গ) গ) ১৯১৯
ঘ) ঘ) ১৯২০
ব্যাখ্যা: মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন ৮ জানুয়ারি ১৯১৮ সালে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত চোদ্দ দফা নীতি ঘোষণা করেন। এর ১৪ নং ধারায় জাতিসংঘ গঠনের কথা বলা হয়।
23. ভার্সাই চুক্তি অনুযায়ী জার্মানির সেনাসংখ্যা কত নির্ধারিত হয়?
ক) ক) ৫০,০০০
খ) খ) ১,০০,০০০
গ) গ) ৫,০০,০০০
ঘ) ঘ) ১০,০০,০০০
ব্যাখ্যা: ভার্সাই চুক্তির শর্তানুযায়ী জার্মানির সেনাসংখ্যা ১ লক্ষে সীমিত করে দেওয়া হয়। এছাড়া ট্যাংক, বোমারু বিমান, কামান উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়।
24. অধ্যাপক ই.এইচ. কার ভার্সাই চুক্তি সম্পর্কে কী বলেছেন?
ক) ক) এটি ন্যায়সংগত চুক্তি
খ) খ) এই সন্ধির শর্তগুলির মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল
গ) গ) এটি জার্মানির উন্নতি করেছে
ঘ) ঘ) চুক্তিটি অপ্রয়োজনীয় ছিল
ব্যাখ্যা: অধ্যাপক ই.এইচ. কার (E.H. Carr) বলেছেন — 'এই সন্ধির শর্তগুলির মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল।' চুক্তিটি জার্মান জাতীয়তাবাদকে গভীরভাবে আহত করে।
25. ভার্সাই চুক্তিতে জার্মানির কত বর্গমাইল অঞ্চল হারাতে হয়?
ক) ক) ১৫,০০০
খ) খ) ২৫,০০০
গ) গ) ৩৫,০০০
ঘ) ঘ) ৫০,০০০
ব্যাখ্যা: ভার্সাই চুক্তিতে জার্মানির প্রায় ২৫ হাজার বর্গমাইল অঞ্চল কেড়ে নেওয়া হয়। আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে ফেরত দেওয়া হয় এবং ড্যানজিগ বন্দরকে মুক্ত শহর ঘোষণা করা হয়।
26. লিগ অব নেশনস কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৯১৮
খ) খ) ১৯১৯
গ) গ) ১৯২০
ঘ) ঘ) ১৯২১
ব্যাখ্যা: ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি প্যারিস শান্তি সম্মেলনের ফলশ্রুতিতে লিগ অব নেশনস (জাতিসংঘ) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর ছিল জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
27. লিগ অব নেশনস গঠনের প্রস্তাবক কে ছিলেন?
ক) ক) লয়েড জর্জ
খ) খ) জর্জ ক্লেমঁসো
গ) গ) উড্রো উইলসন
ঘ) ঘ) অরল্যান্ডো
ব্যাখ্যা: মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন লিগ অব নেশনস গঠনের প্রধান প্রস্তাবক ছিলেন। তবে পরে মার্কিন সেনেট চুক্তিটি অনুমোদন না করায় যুক্তরাষ্ট্র লিগে যোগ দেয়নি।
28. ইটালিতে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক) ক) হিটলার
খ) খ) মুসোলিনি
গ) গ) স্ট্যালিন
ঘ) ঘ) ফ্রাঙ্কো
ব্যাখ্যা: বেনিতো মুসোলিনি ১৯২২ সালে ইটালির প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেকে 'ইল দুচে' (নেতা) বলে পরিচয় দিতেন।
29. মুসোলিনির অনুগত আধা-সামরিক বাহিনীর নাম কী?
ক) ক) রেড আর্মি
খ) খ) ব্ল্যাক শার্টস
গ) গ) স্টর্মট্রুপারস
ঘ) ঘ) ব্রাউন শার্টস
ব্যাখ্যা: কালো পোশাক পরার জন্য মুসোলিনির বাহিনী 'ব্ল্যাক শার্টস' (Blackshirts) নামে পরিচিত ছিল। এরাই 'রোম অভিযান'-এ নেতৃত্ব দেয়।
30. মুসোলিনি কবে রোম দখল করেন?
ক) ক) ২৮ অক্টোবর ১৯২০
খ) খ) ২৮ অক্টোবর ১৯২২
গ) গ) ২৮ অক্টোবর ১৯২৪
ঘ) ঘ) ২৮ অক্টোবর ১৯২৬
ব্যাখ্যা: ১৯২২ সালের ২৮ অক্টোবর মুসোলিনি তাঁর ব্ল্যাক শার্টস বাহিনী নিয়ে রোম অভিমুখে অগ্রসর হন এবং রোম দখল করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
31. মুসোলিনির সংবাদপত্রের নাম কী ছিল?
ক) ক) পিপলস অবজারভার
খ) খ) পোপোলো দি ইতালিয়া
গ) গ) প্রাভদা
ঘ) ঘ) দ্য টাইমস
ব্যাখ্যা: মুসোলিনি 'পোপোলো দি ইতালিয়া' (Popolo d'Italia — ইটালির জনগণ) নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে ফ্যাসিবাদী মতবাদ প্রচার করতেন।
32. ইটালিতে ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি সাফল্য কী ছিল?
ক) ক) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বৃদ্ধি
খ) খ) রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ও নিরাপত্তা বিধান
গ) গ) গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
ঘ) ঘ) ধর্মঘট বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা: ফ্যাসিবাদী সরকার নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ববিধানে সফল হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হয়।
33. জার্মানির নাৎসি দলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক) ক) মুসোলিনি
খ) খ) হিটলার
গ) গ) গোয়েবলস
ঘ) ঘ) হিমলার
ব্যাখ্যা: অ্যাডলফ হিটলার জার্মানির ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি (NSDAP/নাৎসি দল)-এর নেতা ও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
34. হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম কী?
ক) ক) ডাস ক্যাপিটাল
খ) খ) মেইন কাম্ফ
গ) গ) এপ্রিল থিসিস
ঘ) ঘ) দ্য কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো
ব্যাখ্যা: হিটলার কারাগারে থাকাকালীন 'মেইন কাম্ফ' (Mein Kampf — আমার সংগ্রাম) রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর বর্ণবাদী ও সম্প্রসারণবাদী মতবাদ ব্যাখ্যা করেন।
35. নাৎসি দলের প্রতীক কী ছিল?
ক) ক) লাল তারা
খ) খ) কাস্তে-হাতুড়ি
গ) গ) স্বস্তিকা (Swastika)
ঘ) ঘ) ঈগল
ব্যাখ্যা: নাৎসি দলের পতাকা ছিল লাল রঙের, যার মধ্যে সাদা বৃত্তের ওপর কালো স্বস্তিকা (Swastika) চিহ্ন আঁকা থাকত। লাল রং বিপ্লব, সাদা জাতীয়তাবাদ ও স্বস্তিকা আর্যজাতির প্রতীক ছিল।
36. গেস্টাপো (Gestapo) কী?
ক) ক) ইটালির গোপন পুলিশ
খ) খ) জার্মানির গোপন রাষ্ট্রীয় পুলিশ
গ) গ) রাশিয়ার গোপন পুলিশ
ঘ) ঘ) ফ্রান্সের সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা: গেস্টাপো (Geheime Staatspolizei) ছিল নাৎসি জার্মানির কুখ্যাত গোপন রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী। এটি হিটলারের বিরোধীদের নিষ্ঠুরভাবে দমন করত।
37. হিটলারের 'হেরেনভক তত্ত্ব' কী সম্পর্কিত?
ক) ক) অর্থনীতি
খ) খ) বর্ণবাদ ও জাতিতত্ত্ব
গ) গ) ধর্ম
ঘ) ঘ) শিক্ষা
ব্যাখ্যা: হেরেনভক তত্ত্ব (Master Race Theory) অনুসারে হিটলার দাবি করতেন যে জার্মানরা হল শ্রেষ্ঠ 'আর্য' জাতি এবং ইহুদি, স্লাভ সহ অন্যান্য জাতি নিকৃষ্ট। এই বর্ণবাদী তত্ত্বের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে হলোকাস্ট সংঘটিত হয়।
38. নাৎসি দলের মুখপত্রের নাম কী ছিল?
ক) ক) প্রাভদা
খ) খ) পিপলস অবজারভার (Völkischer Beobachter)
গ) গ) পোপোলো দি ইতালিয়া
ঘ) ঘ) দ্য গার্ডিয়ান
ব্যাখ্যা: 'পিপলস অবজারভার' (Völkischer Beobachter) ছিল নাৎসি দলের মুখপত্র। এর মাধ্যমে নাৎসি প্রচার ও আদর্শ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
39. হিটলার কবে জার্মানির চ্যান্সেলর হন?
ক) ক) ১৯২৩
খ) খ) ১৯৩৩
গ) গ) ১৯৩৬
ঘ) ঘ) ১৯৩৯
ব্যাখ্যা: ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি জার্মানির রাষ্ট্রপতি হিন্ডেনবার্গ হিটলারকে চ্যান্সেলর (প্রধানমন্ত্রী) পদে নিয়োগ করেন। এরপরই হিটলার ধীরে ধীরে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন।
40. রাইখস্টাগ অগ্নিকাণ্ডের (১৯৩৩) জন্য হিটলার কাকে দায়ী করেন?
ক) ক) ইহুদিদের
খ) খ) কমিউনিস্টদের
গ) গ) ফরাসিদের
ঘ) ঘ) সমাজতন্ত্রীদের
ব্যাখ্যা: ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাইখস্টাগ (জার্মান পার্লামেন্ট) ভবনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। হিটলার এর দায়ভার কমিউনিস্ট দলের ওপর চাপিয়ে দেন এবং বহু কমিউনিস্ট নেতাকে গ্রেপ্তার করেন।
41. নাৎসি বাহিনীর 'ব্রাউন শার্টস' নামে পরিচিত শাখাটি কী?
ক) ক) গেস্টাপো
খ) খ) এসএস
গ) গ) স্টর্মট্রুপারস (SA)
ঘ) ঘ) ব্ল্যাক শার্টস
ব্যাখ্যা: স্টর্মট্রুপারস (Sturmabteilung/SA) — 'ব্রাউন শার্টস' বা 'বাদামি শার্ট' নামে পরিচিত ছিল। আরনেস্ট রোয়েম-এর নেতৃত্বে এই বাহিনী নাৎসি সভাসমিতির নিরাপত্তা রক্ষা ও প্রতিপক্ষকে দমন করত।
42. নাৎসি দলের 'এলিট গার্ড' কোনটি ছিল?
ক) ক) SA
খ) খ) SS (Schutzstaffel)
গ) গ) গেস্টাপো
ঘ) ঘ) হিটলার ইয়ুথ
ব্যাখ্যা: এসএস (Schutzstaffel) — 'ব্ল্যাক শার্টস' নামে পরিচিত ছিল। এটি ছিল নাৎসি দলের এলিট গার্ড বা বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী। হাইনরিখ হিমলারের নেতৃত্বে এটি এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়।
43. স্পেনের গৃহযুদ্ধ কবে শুরু হয়?
ক) ক) ১৯৩৩
খ) খ) ১৯৩৬
গ) গ) ১৯৩৯
ঘ) ঘ) ১৯৪২
ব্যাখ্যা: ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে স্পেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
44. স্পেনের গৃহযুদ্ধকে কী বলা হয়?
ক) ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মহড়া
খ) খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া (Stage Rehearsal)
গ) গ) শীতল যুদ্ধের সূচনা
ঘ) ঘ) উপনিবেশিক যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: স্পেনের গৃহযুদ্ধকে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া' (Stage Rehearsal of the Second World War) বলা হয়। কারণ এই যুদ্ধে জার্মানি ও ইটালি ফ্রাঙ্কোর পক্ষে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রজাতন্ত্রীদের পক্ষে অংশ নেয়।
45. স্পেনের ফ্যাসিবাদী নেতা কে ছিলেন?
ক) ক) হিটলার
খ) খ) মুসোলিনি
গ) গ) ফ্রাঙ্কো
ঘ) ঘ) সালাজার
ব্যাখ্যা: জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো স্পেনের গৃহযুদ্ধে জাতীয়তাবাদী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৩৯ সালে বিজয়ী হন এবং স্পেনের একনায়ক হন।
46. মহামন্দা (Great Depression) কবে শুরু হয়?
ক) ক) ১৯২৫
খ) খ) ১৯২৯
গ) গ) ১৯৩২
ঘ) ঘ) ১৯৩৫
ব্যাখ্যা: ১৯২৯ সালের অক্টোবরে মার্কিন শেয়ার বাজারে (ওয়াল স্ট্রিট) ধস নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী মহামন্দা শুরু হয়। এর প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়।
47. মহামন্দার প্রভাবে কোন দেশে নাৎসি উত্থান ত্বরান্বিত হয়?
ক) ক) ফ্রান্স
খ) খ) জার্মানি
গ) গ) ইংল্যান্ড
ঘ) ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা: মহামন্দার ফলে জার্মানির অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বেকারত্ব চরমে ওঠে এবং মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। এই সুযোগে হিটলার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
48. মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুভারের মহামন্দা মোকাবিলা নীতিকে কী বলা হয়?
ক) ক) নিউ ডিল
খ) খ) হুভার মোরাটোরিয়াম
গ) গ) মার্শাল প্ল্যান
ঘ) ঘ) ফেয়ার ডিল
ব্যাখ্যা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভার মহামন্দা মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নেন যা 'হুভার মোরাটোরিয়াম' নামে পরিচিত। তবে তা তেমন সফল হয়নি।
49. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে কোন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ভাইমার প্রজাতন্ত্র
খ) খ) বন প্রজাতন্ত্র
গ) গ) বার্লিন প্রজাতন্ত্র
ঘ) ঘ) হামবুর্গ প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯১৯ সালে জার্মানিতে ভাইমার প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নামকরণ করা হয় ভাইমার শহরের নামে যেখানে নতুন সংবিধান রচিত হয়।
50. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া থেকে কয়টি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়?
ক) ক) ২টি
খ) খ) ৪টি
গ) গ) ৬টি
ঘ) ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া থেকে চারটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয় — ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া।
51. জার্মানির কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়ামের কী হয়েছিল?
ক) ক) পুনরায় ক্ষমতায় আসেন
খ) খ) হল্যান্ডে পালিয়ে যান
গ) গ) যুদ্ধে নিহত হন
ঘ) ঘ) প্রেসিডেন্ট হন
ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম হল্যান্ডে (নেদারল্যান্ডস) পালিয়ে যান এবং সেখানেই নির্বাসিত জীবন কাটান।
52. কোন চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয় নিশ্চিত হয়?
ক) ক) ভার্সাই চুক্তি
খ) খ) স্যাঁ-জেরমাঁ চুক্তি
গ) গ) সেভ্র চুক্তি
ঘ) ঘ) ত্রিয়ানোঁ চুক্তি
ব্যাখ্যা: ১৯২০ সালের ১০ আগস্ট স্বাক্ষরিত সেভ্র চুক্তির (Treaty of Sèvres) মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের (তুরস্ক) পরাজয় নিশ্চিত হয়।
53. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত একটি রাষ্ট্রের নাম কী যা পূর্বে রাশিয়ার অংশ ছিল?
ক) ক) চেকোস্লোভাকিয়া
খ) খ) যুগোস্লাভিয়া
গ) গ) পোল্যান্ড
ঘ) ঘ) অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা: পোল্যান্ড প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পুনর্গঠিত হয়। এটি রাশিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির পূর্বতন অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়। ভার্সাই চুক্তিতে পোল্যান্ডকে জার্মানির মধ্য দিয়ে সমুদ্রে যাওয়ার জন্য 'পোলিশ করিডর' দেওয়া হয়।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

18 টি
1. 🇷🇺 রুশ বিপ্লবের কারণগুলি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর:

রাজনৈতিক কারণ: জারের স্বেচ্ছাচারী শাসন, ডুমার ক্ষমতাহীনতা, প্রোচঁচারিয়ান গার্দের অত্যাচার। কোনো লিখিত আইন ছিল না — জারের ইচ্ছাই ছিল আইন।

অর্থনৈতিক কারণ: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব, খাদ্যাভাব ও দুর্ভিক্ষ (১৮৯১-৯২), শিল্প-কারখানায় যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণের ফলে ভোগ্যপণ্যের ঘাটতি, কৃষকদের ওপর তিনগুণ করের বোঝা।

সামাজিক কারণ: ৮০% কৃষক বা ভূমিদাস, ১৮৬১ সালে ভূমিদাস প্রথার বিলোপ সত্ত্বেও কৃষকদের অবস্থার উন্নতি হয়নি, জমিদার ও কুলাকদের শোষণ।

বৌদ্ধিক কারণ: টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, গোর্কির সাহিত্যে জারতন্ত্রের সমালোচনা, কার্ল মার্কসের সমাজতন্ত্রবাদ, বাকুনিনের নৈরাজ্যবাদ, প্লেখানভের প্রচার।

2. 🇷🇺 লেনিনের 'এপ্রিল থিসিস'-এর মূল বক্তব্য কী ছিল?

উত্তর:

১৯১৭ সালের এপ্রিলে সুইজারল্যান্ড থেকে ফিরে লেনিন পেট্রোগ্রাডে 'এপ্রিল থিসিস' ঘোষণা করেন। এর মূল বক্তব্য:

  1. যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে — সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে পরিণত করতে হবে।
  2. জমি কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
  3. ব্যাংক জাতীয়করণ করতে হবে।
  4. ক্ষমতা সোভিয়েতদের হাতে তুলে দিতে হবে।
  5. অস্থায়ী সরকারকে কোনো সমর্থন নয়।
  6. 'সকল ক্ষমতা সোভিয়েতের' — এই স্লোগান দেওয়া হয়।
3. 🇷🇺 বলশেভিক ও মেনশেভিক দলের পার্থক্য কী?

উত্তর:

বলশেভিক: লেনিনের নেতৃত্বে পরিচালিত। এরা ছিল সংখ্যালঘু হলেও সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল। সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবের মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী ছিল।

মেনশেভিক: মার্তভ-এর নেতৃত্বাধীন। এরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু শিথিলভাবে সংগঠিত। স্বাভাবিক পরিবর্তন ও ধীরে ধীরে সংস্কারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রবাদ আনতে চাইত।

মূল পার্থক্য: বলশেভিকরা সহিংস বিপ্লবে বিশ্বাসী ছিল, মেনশেভিকরা ছিল ধীরপন্থী সংস্কারবাদী।

4. 🇷🇺 মার্চ বিপ্লব (১৯১৭) ও অক্টোবর বিপ্লবের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:

মার্চ বিপ্লব (ফেব্রুয়ারি বিপ্লব):

  • ৮ মার্চ ১৯১৭ (২৩ ফেব্রুয়ারি) পেট্রোগ্রাডে খাদ্যের দাবিতে ধর্মঘট।
  • ফল: জার দ্বিতীয় নিকোলাসের পদত্যাগ, অস্থায়ী সরকার গঠন।
  • এটি ছিল বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব।

অক্টোবর বিপ্লব (নভেম্বর বিপ্লব):

  • ৭ নভেম্বর ১৯১৭ (২৫ অক্টোবর) লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিদ্রোহ।
  • ফল: অস্থায়ী সরকারের পতন, সোভিয়েত শাসন প্রতিষ্ঠা, বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
  • এটি ছিল সর্বহারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।
5. 🇷🇺 রোমানভ বংশের অবসান কীভাবে ঘটে?

উত্তর:

১৬১৩ সালে মিখাইল রোমানভের হাত ধরে রোমানভ বংশের শাসন শুরু হয়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই বংশ রাশিয়া শাসন করে। ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লবে (ফেব্রুয়ারি বিপ্লব) ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে জার দ্বিতীয় নিকোলাস পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর মাধ্যমে রোমানভ বংশীয় জার শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। পরে ১৯১৮ সালে বলশেভিকরা জার ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করে।

6. ⚔️ 'সশস্ত্র শান্তির যুগ' (Era of Armed Peace) কাকে বলে?

উত্তর:

১৮৭০ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়কাল। এই সময় ইউরোপে কোনো বড় যুদ্ধ না ঘটলেও প্রতিটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে সেনাবাহিনী ও নৌবহর বৃদ্ধি এবং অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদনে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। এক ধরনের সশস্ত্র শান্তি বিরাজ করছিল। এই সময়কালকে 'সশস্ত্র শান্তির যুগ' বলা হয়। এর পরিণতিতেই ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

7. ⚔️ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল কী হয়েছিল?

উত্তর:

  • রাজনৈতিক: জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, অটোমান তুরস্ক ও রুশ সাম্রাজ্যের পতন। ইউরোপের মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন। চেকোস্লোভাকিয়া, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়ার মতো নতুন রাষ্ট্রের জন্ম।
  • কূটনৈতিক: ভার্সাই চুক্তি ও অন্যান্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত। লিগ অব নেশনস (জাতিসংঘ) প্রতিষ্ঠা।
  • সামাজিক: বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি, খাদ্যাভাব, ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি।
  • অর্থনৈতিক: ইউরোপের অর্থনীতি ধ্বংস, জার্মানির ওপর বিশাল ক্ষতিপূরণের বোঝা।
8. 📜 ভার্সাই চুক্তির প্রধান শর্তগুলি লেখো।

উত্তর:

  1. অঞ্চল হারানো: আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে ফেরত, ড্যানজিগ বন্দরকে মুক্ত শহর ঘোষণা, পোল্যান্ডকে 'পোলিশ করিডর' প্রদান, উপনিবেশগুলি মিত্রশক্তির মধ্যে বণ্টন। জার্মানি হারায় প্রায় ২৫,০০০ বর্গমাইল অঞ্চল।
  2. সামরিক শর্ত: সেনাসংখ্যা ১ লক্ষে সীমিত। ট্যাংক, বোমারু বিমান, কামান উৎপাদন নিষিদ্ধ। নৌবহর সীমিতকরণ। রাইনল্যান্ড অসমরিক অঞ্চল ঘোষণা।
  3. অর্থনৈতিক শর্ত: জার্মানিকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।
  4. যুদ্ধাপরাধ: কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম ও জার্মান সেনাপতিদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের ব্যবস্থা। ধারা ২৩১ — 'যুদ্ধাপরাধের ধারা' — জার্মানিকে এককভাবে যুদ্ধের জন্য দায়ী করা হয়।
9. 📜 অধ্যাপক ই.এইচ. কার-এর মতে ভার্সাই চুক্তি কেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ ধারণ করেছিল?

উত্তর:

অধ্যাপক ই.এইচ. কার বলেছেন — 'এই সন্ধির শর্তগুলির মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল।' কারণ:

  • জার্মানির ওপর চাপানো অপমানজনক শর্ত ও বিশাল ক্ষতিপূরণ জার্মান অর্থনীতিকে ধ্বংস করে।
  • যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা জার্মান জাতীয়তাবাদকে গভীরভাবে আহত করে।
  • জার্মানির অঙ্গহানি, বিশেষ করে শিল্পোন্নত সার অঞ্চল হারানো জাতিকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে।
  • ক্ষতিপূরণের বোঝা ছিল 'মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা' — যা হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারের পথ প্রশস্ত করে।
10. 🇮🇹 ইটালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ লেখো।

উত্তর:

  • অর্থনৈতিক সংকট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইটালির ব্যাপক ক্ষতি (১২০০ কোটি ডলার), মুদ্রাস্ফীতি, শিল্পে ধর্মঘট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, খাদ্যাভাব।
  • রাজনৈতিক অস্থিরতা: ১৯১৯-২২ সালের মধ্যে ৮টি মন্ত্রীসভার পতন, কোনো দলই স্থিতিশীল সরকার গঠনে ব্যর্থ।
  • 'বিকৃত বিজয়' (Mutilated Victory): প্যারিস শান্তি সম্মেলনে লন্ডন চুক্তির (১৯১৫) প্রতিশ্রুতি মতো অঞ্চল না পাওয়া — জাতীয় অপমানবোধ।
  • সমাজতন্ত্রের ভীতি: বলশেভিক বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত শ্রমিক আন্দোলন ও কারখানা দখল — মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে আতঙ্ক।
  • মুসোলিনির নেতৃত্ব: ব্ল্যাক শার্টস বাহিনী গঠন, ফ্যাসিবাদী প্রচার, 'পোপোলো দি ইতালিয়া' পত্রিকার মাধ্যমে জনমত গঠন।
11. 🇮🇹 ফ্যাসিবাদী শাসনের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তর:

  • একনায়কতন্ত্র: সকল ক্ষমতা এক ব্যক্তি (মুসোলিনি)-র হাতে কেন্দ্রীভূত।
  • উগ্র জাতীয়তাবাদ: প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি।
  • বাকস্বাধীনতা হরণ: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া, বিরোধী দল নিষিদ্ধ।
  • সামরিকীকরণ: 'ব্ল্যাক শার্টস'-এর মতো আধা-সামরিক বাহিনী গঠন।
  • কর্পোরেট রাষ্ট্র: 'ফ্যাসিস্ট সিভিক্যালিজম' নামে আর্থিক ক্ষেত্রকে কেন্দ্রীভূত করা।
  • সাফল্য: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বিধান, অর্থনৈতিক উন্নয়নে নজর।
  • ব্যর্থতা: ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অস্বীকৃত, ধর্মঘট ও লকআউট নিষিদ্ধ।
12. 🇩🇪 জার্মানিতে নাৎসিবাদের উত্থানের কারণ লেখো।

উত্তর:

  • ভার্সাই চুক্তির অপমান: যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিতকরণ, বিশাল ক্ষতিপূরণ, অঞ্চল হারানো — জার্মান জাতীয়তাবাদে গভীর আঘাত।
  • অর্থনৈতিক সংকট: ১৯২৩-এর হাইপারইনফ্লেশন, ১৯২৯-এর মহামন্দা — বেকারত্ব, দারিদ্র্য, মুদ্রাস্ফীতি।
  • ভাইমার প্রজাতন্ত্রের ব্যর্থতা: দুর্বল জোট সরকার, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জনগণের আস্থা হারানো।
  • কমিউনিজমের ভীতি: শিল্পপতি ও মধ্যবিত্তের কাছে হিটলার ছিলেন কমিউনিজমের বিকল্প।
  • হিটলারের বাগ্মী নেতৃত্ব: মেইন কাম্ফ-এ আদর্শ প্রচার, স্টর্মট্রুপারস ও এসএস গঠন, গণআদালতের মাধ্যমে বিরোধী দমন।
  • প্রচার: গোয়েবলসের নেতৃত্বে কৌশলী প্রচার — হিটলারকে 'ত্রাণকর্তা' হিসেবে উপস্থাপন।
13. 🇩🇪 নাৎসিবাদের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তর:

  • একনায়কতন্ত্র: হিটলার ছিলেন 'ফিউরার' (নেতা) — নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী।
  • বর্ণবাদ ও হেরেনভক তত্ত্ব: জার্মানরা আর্য শ্রেষ্ঠ জাতি, ইহুদি ও স্লাভরা নিকৃষ্ট — এই বিশ্বাস।
  • ইহুদি বিদ্বেষ: ইহুদিদের অর্থনৈতিক সর্বনাশ, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া, পরে হলোকাস্ট।
  • সম্প্রসারণবাদ: 'লেবেনস্রাউম' (Lebensraum — বাসস্থান) নীতি — পূর্ব ইউরোপে জার্মানির বিস্তার।
  • সামরিকীকরণ: গেস্টাপো, এসএস, কনসেনট্রেশন ক্যাম্প — সন্ত্রাসের যন্ত্র।
  • শিক্ষা ও সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ: নাৎসি মতাদর্শে শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্যের নিয়ন্ত্রণ।
14. 🤝 লিগ অব নেশনস গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তর:

উড্রো উইলসনের চোদ্দ দফা নীতির ১৪ নং ধারা অনুযায়ী লিগ অব নেশনস গঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ:

  1. আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করা।
  2. ভবিষ্যতে বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধ করা।
  3. সকল জাতির রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা।
  4. ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা।
  5. নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা হ্রাস করা।
  6. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি ও মানবিক কাজকর্ম পরিচালনা করা।
15. 🇪🇸 স্পেনের গৃহযুদ্ধকে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া' বলা হয় কেন?

উত্তর:

স্পেনের গৃহযুদ্ধকে (১৯৩৬-১৯৩৯) 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া' (Stage Rehearsal of the Second World War) বলার কারণ:

  • আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ: জার্মানি ও ইটালি প্রকাশ্যে ফ্রাঙ্কোর বিদ্রোহীদের সামরিক সাহায্য দেয় — ইটালি ১.৫ লক্ষ সেনা পাঠায়, জার্মানি ট্যাংক ও বিমান সরবরাহ করে।
  • মতাদর্শের সংঘাত: ফ্যাসিবাদ বনাম গণতন্ত্র/কমিউনিজম — এই দ্বন্দ্ব স্পেনেই প্রথম সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।
  • যুদ্ধকৌশলের পরীক্ষা: জার্মানি এখানে বোমাবর্ষণ কৌশল (গুয়ের্নিকা শহর ধ্বংস) পরীক্ষা করে যা পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার করে।
  • ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নিরপেক্ষতা: গণতান্ত্রিক দেশগুলি নীরব থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলির আগ্রাসনকে উৎসাহিত করে।
16. 📉 মহামন্দার (Great Depression) কারণ ও ফলাফল লেখো।

উত্তর:

কারণ:

  • শেয়ার বাজারে ধস (ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশ, অক্টোবর ১৯২৯)।
  • উৎপাদন ক্ষমতা ও ভোগ প্রবণতার মধ্যে পার্থক্য (Overproduction)।
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঘাটতি ও আমদানি বৃদ্ধি।
  • মার্কিন পুঁজি বিনিয়োগের অভাব।

ফলাফল:

  • সারা বিশ্বে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, ব্যাংক ও কারখানা বন্ধ।
  • জার্মানিতে হিটলারের উত্থান ত্বরান্বিত।
  • মুদ্রাস্ফীতি, শিল্পপণ্যের ওপর অত্যধিক শুল্ক হার।
  • বিভিন্ন দেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংগঠন গঠনে বাধ্য হয়।
17. 🌍 প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের মানচিত্রে কী কী পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর:

  • নতুন রাষ্ট্রের জন্ম: রুশ সাম্রাজ্য থেকে ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া। পোল্যান্ড পুনর্গঠিত হয়।
  • অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির বিভাজন: অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া, যুগোস্লাভিয়া — এই চারটি রাষ্ট্র গঠিত হয়।
  • জার্মানির অঞ্চল হ্রাস: আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে, ড্যানজিগ মুক্ত শহর, সার অঞ্চল লিগ অব নেশনসের তত্ত্বাবধানে।
  • উপনিবেশ পুনর্বণ্টন: জার্মান ও তুর্কি উপনিবেশগুলি মিত্রশক্তির মধ্যে বণ্টিত হয়।
18. 🎨 রুশ সাহিত্যিকরা কীভাবে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেন?

উত্তর:

ঊনবিংশ শতকে একদল প্রতিভাবান রুশ সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ তাঁদের রচনার মাধ্যমে জারতন্ত্রের অত্যাচারী শাসনের স্বরূপ তুলে ধরেন।

  • টলস্টয়, দস্তয়ভস্কি, গোর্কি, তুর্গেনেভ, চেখভ — প্রমুখ সাহিত্যিকরা জার শাসনের সমালোচনা ও সাধারণ মানুষের দুর্দশা সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
  • মিখাইল বাকুনিন — নৈরাজ্যবাদের প্রচার করে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তোলেন।
  • কার্ল মার্কসের সমাজতন্ত্রবাদ — রুশ বুদ্ধিজীবী ও শ্রমিকদের মধ্যে নতুন চেতনার সঞ্চার ঘটায়।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

7 টি
1. বিশ শতকের গোড়ার দিকে রুশ বিপ্লবের (Russian Revolution) পটভূমি, কারণ, ঘটনাপ্রবাহ ও বিশ্ব ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা করো।

রুশ বিপ্লব: সামগ্রিক বিশ্লেষণ

পটভূমি: বিংশ শতকের গোড়ায় রাশিয়া ছিল একটি পশ্চাৎপদ কৃষিপ্রধান দেশ। রোমানভ বংশ ৩০০ বছর ধরে জারতন্ত্রের মাধ্যমে দেশ শাসন করছিল। জার স্বৈরাচারী শাসক — নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি মনে করতেন। দেশে কোনো লিখিত আইন বা সংবিধান ছিল না।

কারণ: রাজনৈতিক (জারতন্ত্রের স্বেচ্ছাচারিতা, ডুমার ক্ষমতাহীনতা), অর্থনৈতিক (প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি), সামাজিক (৮০% কৃষক, ভূমিদাস প্রথার বিলোপের পরও দারিদ্র্য), বৌদ্ধিক (মার্কসবাদ, লেনিনের নেতৃত্ব, সাহিত্যে জারতন্ত্রের সমালোচনা)।

ঘটনাপ্রবাহ: ১৯১৭ সালের মার্চ (ফেব্রুয়ারি) বিপ্লবে জার পতন, অস্থায়ী সরকার গঠন। অক্টোবর (নভেম্বর) বিপ্লবে লেনিনের বলশেভিক দল ক্ষমতা দখল করে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। পরে গৃহযুদ্ধ (১৯১৭-২২) সংঘটিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্ট্যালিনের উত্থান ঘটে।

গুরুত্ব ও প্রভাব: (১) বিশ্বের প্রথম সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব — প্রায় ২০০ কোটি মানুষ পরবর্তীতে সমাজতন্ত্রের পথ অনুসরণ করে। (২) সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অনুপ্রেরণা। (৩) আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্বিমেরুকরণের (Capitalism vs Communism) সূচনা। (৪) শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি।

2. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (First World War) কারণ, ঘটনাপ্রবাহ ও ফলাফল বিস্তারিত আলোচনা করো। এই যুদ্ধ কীভাবে ভার্সাই চুক্তি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করেছিল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: কারণ ও ফলাফল

পটভূমি: ১৮৭০-১৯১৪ সাল ছিল 'সশস্ত্র শান্তির যুগ' (Era of Armed Peace)। এই সময় ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলি — জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি — সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।

প্রত্যক্ষ কারণ: ২৮ জুন ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ফ্রানৎস ফার্ডিনান্ড সারায়েভোতে এক সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদীর হাতে নিহত হন। অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে ইউরোপের জোটব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।

গভীর কারণ: (১) উপনিবেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা — আফ্রিকা ও এশিয়ায় জার্মানি ও ব্রিটেন-ফ্রান্সের মধ্যে দ্বন্দ্ব। (২) বলকান অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও 'ইউরোপের বারুদের স্তূপ' সমস্যা। (৩) গোপন সামরিক চুক্তি ও জোট — ট্রিপল অ্যালায়েন্স বনাম ট্রিপল এন্টেন্টে। (৪) অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিকবাদ।

ফলাফল: চারটি সাম্রাজ্যের পতন, ইউরোপের মানচিত্র পুনর্গঠন, ভার্সাই চুক্তির অপমানজনক শর্ত যা জার্মান জাতীয়তাবাদকে ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং অধ্যাপক ই.এইচ. কার-এর ভাষায় — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করে।

3. ভার্সাই চুক্তির (Treaty of Versailles) শর্তগুলি বিশ্লেষণ করো। কেন এই চুক্তিকে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ' বলা হয়?

ভার্সাই চুক্তি: একটি বিশ্লেষণ

স্বাক্ষর ও প্রেক্ষাপট: ২৮ জুন ১৯১৯ সালে জার্মানির সঙ্গে মিত্রশক্তির ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্যারিস শান্তি সম্মেলনের 'বিগ থ্রি' — উড্রো উইলসন (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), লয়েড জর্জ (ব্রিটেন), জর্জ ক্লেমঁসো (ফ্রান্স) — চুক্তির খসড়া প্রণয়ন করেন।

প্রধান শর্তসমূহ:

  • অঞ্চলগত: আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে ফেরত, সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য লিগের তত্ত্বাবধানে, ড্যানজিগ মুক্ত শহর, 'পোলিশ করিডর' সৃষ্টি, সমস্ত উপনিবেশ বাজেয়াপ্ত। জার্মানি হারায় প্রায় ২৫,০০০ বর্গমাইল অঞ্চল।
  • সামরিক: সেনাসংখ্যা ১ লক্ষে সীমিত, নৌবহর সীমিত, বিমানবাহিনী নিষিদ্ধ, রাইনল্যান্ড অসমরিক অঞ্চল, ট্যাংক ও সাবমেরিন নিষিদ্ধ।
  • অর্থনৈতিক: ৬৬০ কোটি পাউন্ড ক্ষতিপূরণ — যা জার্মানির পক্ষে মেটানো অসম্ভব ছিল।
  • যুদ্ধাপরাধ: ধারা ২৩১ ('War Guilt Clause') — জার্মানিকে এককভাবে যুদ্ধের দায়ী করে অপমান।

সমালোচনা: অর্থনীতিবিদ কেইনস এই চুক্তিকে 'কার্থেজিনিয়ান শান্তি' বলে অভিহিত করেন। অধ্যাপক ই.এইচ. কার বলেন — 'এই সন্ধির শর্তগুলির মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল।' জার্মান জাতীয়তাবাদের অবমাননা, অর্থনৈতিক ধস ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি হিটলারের উত্থানের পথ তৈরি করে।

4. ইটালিতে ফ্যাসিবাদের (Fascism) উত্থানের কারণ, মুসোলিনির ভূমিকা ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা করো।

ইটালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থান

পটভূমি: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইটালি ছিল অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত ও রাজনৈতিকভাবে অস্থির। যুদ্ধে ১২০০ কোটি ডলার ক্ষতি, মুদ্রাস্ফীতি, শিল্প-ধর্মঘট, কৃষি উৎপাদন হ্রাস — সর্বত্র বিশৃঙ্খলা।

মুসোলিনির ভূমিকা: বেনিতো মুসোলিনি (১৮৮৩-১৯৪৫) ছিলেন এক প্রাক্তন সমাজতন্ত্রী ও সাংবাদিক। ১৯১৯ সালে তিনি 'ফ্যাসিস্ট পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন। 'ব্ল্যাক শার্টস' নামে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন করে সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্টদের দমন করতে থাকেন। 'পোপোলো দি ইতালিয়া' পত্রিকার মাধ্যমে তিনি ফ্যাসিবাদী মতবাদ প্রচার করেন।

ক্ষমতা দখল: ১৯২২ সালের ২৮ অক্টোবর মুসোলিনি তাঁর ব্ল্যাক শার্টস বাহিনী নিয়ে 'রোম অভিযান' (March on Rome) করেন। রাজা তৃতীয় ভিক্টর এমানুয়েল পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে মুসোলিনিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। এর মাধ্যমেই ইটালিতে ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য: (১) একনায়কতন্ত্র — 'ইল দুচে' (নেতা) হিসেবে মুসোলিনির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা। (২) উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণ নীতি। (৩) বিরোধী দল নিষিদ্ধ, বাকস্বাধীনতা হরণ। (৪) কর্পোরেট রাষ্ট্র (Corporate State) — পুঁজিপতি ও শ্রমিকের মধ্যে সমন্বয়ের নামে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ। (৫) সামরিকীকরণ ও গোপন পুলিশি দমননীতি।

5. হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিবাদের (Nazism) উত্থানের কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ফলাফল বিস্তারিত আলোচনা করো। জার্মানির ভাইমার প্রজাতন্ত্রের ব্যর্থতা কীভাবে নাৎসি উত্থানে সাহায্য করেছিল?

নাৎসিবাদের উত্থান: এক ভয়াবহ অধ্যায়

পটভূমি ও কারণ:

  • ভার্সাই চুক্তির অপমান: যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিতকরণ, বিশাল ক্ষতিপূরণ ও অঞ্চল হারানো জার্মান জাতীয়তাবাদকে গভীরভাবে আহত করে।
  • অর্থনৈতিক সংকট: ১৯২৩-এর হাইপারইনফ্লেশন (এক ডলার = ৪.২ ট্রিলিয়ন মার্ক), ১৯২৯-এর মহামন্দা — ৬০ লক্ষ বেকার।
  • ভাইমার প্রজাতন্ত্রের ব্যর্থতা: দুর্বল জোট সরকার, ঘন ঘন নির্বাচন (১৯১৯-৩২ সালে ২০টি মন্ত্রীসভা), ফ্রান্স কর্তৃক রুর দখল — জনগণের আস্থা সম্পূর্ণ হারায়।
  • কমিউনিজমের ভীতি: শিল্পপতি ও মধ্যবিত্তের কাছে হিটলারই ছিলেন একমাত্র বিকল্প।

হিটলারের উত্থান: ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিন্ডেনবার্গ হিটলারকে চ্যান্সেলর নিয়োগ করেন। রাইখস্টাগ অগ্নিকাণ্ডের (ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩) সুযোগ নিয়ে কমিউনিস্টদের দমন করে নাৎসি দল একচ্ছত্র ক্ষমতা দখল করে। হিন্ডেনবার্গের মৃত্যুর (১৯৩৪) পর হিটলার 'ফিউরার' (নেতা) হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের সম্মিলিত ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

নাৎসি শাসনের বৈশিষ্ট্য: (১) বর্ণবাদী হেরেনভক তত্ত্ব ও ইহুদি বিদ্বেষ — চূড়ান্ত পরিণতি হলোকাস্ট (৬০ লক্ষ ইহুদির গণহত্যা)। (২) গেস্টাপো ও এসএস দ্বারা বিরোধী দমন। (৩) সম্প্রসারণবাদী বৈদেশিক নীতি — রাইনল্যান্ড পুনর্দখল, অস্ট্রিয়া ও চেকোস্লোভাকিয়া দখল। (৪) অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন — অটোবান নির্মাণ, অস্ত্র শিল্পের প্রসার।

ফলাফল: হিটলারের আগ্রাসী নীতি ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনে। যুদ্ধের শেষে ১৯৪৫ সালে হিটলার আত্মহত্যা করেন এবং জার্মানি মিত্রশক্তি কর্তৃক বিভক্ত হয়।

6. বিশ শতকের প্রথমার্ধের ইউরোপীয় রাজনীতিতে গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্রের দ্বন্দ্ব আলোচনা করো। ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যগুলি লেখো।

গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্র: ইউরোপের দ্বন্দ্ব

প্রেক্ষাপট: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা শুরু হলেও অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা একনায়কতন্ত্রের উত্থানকে ত্বরান্বিত করে। ইটালিতে ফ্যাসিবাদ (১৯২২), জার্মানিতে নাৎসিবাদ (১৯৩৩), স্পেনে ফ্রাঙ্কোর একনায়কতন্ত্র (১৯৩৯) — ইউরোপের অনেক দেশেই গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়।

ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের সাদৃশ্য:

  • উভয়ই একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা — সকল ক্ষমতা এক ব্যক্তির (মুসোলিনি/হিটলার) হাতে কেন্দ্রীভূত।
  • উভয়ই উদারনৈতিক গণতন্ত্র, কমিউনিজম ও সমাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধী।
  • উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণ নীতিতে বিশ্বাসী।
  • গোপন পুলিশ (OVRA/গেস্টাপো) ও আধা-সামরিক বাহিনী (ব্ল্যাক শার্টস/এসএস) দ্বারা বিরোধী দমন।
  • বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সভাসমিতির স্বাধীনতা — কেড়ে নেওয়া হয়।

বৈসাদৃশ্য:

  • বর্ণবাদ: নাৎসিবাদে বর্ণবাদ ও হেরেনভক তত্ত্ব ছিল কেন্দ্রীয় মতবাদ; ফ্যাসিবাদে প্রাথমিকভাবে বর্ণবাদী উপাদান কম ছিল (পরবর্তীতে মুসোলিনি ইহুদি-বিদ্বেষী আইন পাস করেন)।
  • অর্থনীতি: ইটালিতে ফ্যাসিস্ট 'কর্পোরেট রাষ্ট্র' গঠিত হয়। জার্মানিতে নাৎসিরা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ (Gleichschaltung) প্রতিষ্ঠা করে।
  • ধর্ম: মুসোলিনি ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে ল্যাটারান চুক্তি (১৯২৯) করেন। হিটলার চার্চের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন।
7. মহামন্দার (Great Depression) কারণ ও বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব — বিশেষ করে জার্মানিতে নাৎসিবাদ ও ইটালিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানে এর ভূমিকা আলোচনা করো।

মহামন্দা: বিশ্ব অর্থনীতির মহাবিপর্যয়

সূচনা: ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর ('ব্ল্যাক থার্সডে') নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস নামে। ২৯ অক্টোবর ('ব্ল্যাক টিউজডে') বাজার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী মহামন্দা শুরু হয়।

কারণ:

  • কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে অতিউৎপাদন — চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক বেশি।
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঘাটতি — ইউরোপীয় দেশগুলি যুদ্ধের পর মার্কিন পুঁজি ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
  • শুল্ক বৃদ্ধি — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'স্মুট-হাওলি ট্যারিফ অ্যাক্ট' (১৯৩০) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধস নামায়।
  • ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতা — ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতায় ব্যাপক হারে ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে পড়ে।

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব:

  • জার্মানি: মহামন্দার ফলে ৬০ লক্ষ বেকার। মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্য চরমে ওঠে। জনগণ ভাইমার প্রজাতন্ত্রের ওপর আস্থা হারায়। হিটলার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৯৩২-এর নির্বাচনে ২৩০টি আসন লাভ করেন এবং ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় আসেন।
  • ইটালি: মুসোলিনির ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদী শাসন মহামন্দার কারণে আরও কঠোর হয় — 'কর্পোরেট রাষ্ট্র' ধারণা জোরদার করে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা হয়।
  • যুক্তরাষ্ট্র: ১৯৩২ সালে ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে 'নিউ ডিল' নীতি চালু করেন — বেকারত্ব দূরীকরণ, ব্যাংকিং সংস্কার, পাবলিক ওয়ার্কস প্রকল্প গ্রহণ।

মনে রেখো!

রুশ বিপ্লব: ১৯১৭ মার্চ ও অক্টোবর | ভার্সাই চুক্তি: ১৯১৯, ধারা ২৩১ | ফ্যাসিবাদ: মুসোলিনি, ১৯২২ রোম অভিযান | নাৎসিবাদ: হিটলার, ১৯৩৩ চ্যান্সেলর | লিগ অব নেশনস: ১৯২০, উড্রো উইলসনের চোদ্দ দফা

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

রুশ বিপ্লবের মূল কারণ ছিল জারতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব, কৃষক ও শ্রমিকদের চরম দারিদ্র্য, এবং কার্ল মার্কসের সমাজতন্ত্রবাদের প্রভাবে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক দলের সংগ্রাম।

ভার্সাই চুক্তি জার্মানির ওপর অত্যন্ত কঠোর ও অপমানজনক শর্ত চাপিয়েছিল — বিশাল ক্ষতিপূরণ, সামরিক শক্তি হ্রাস, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিতকরণ। এটি জার্মান জাতীয়তাবাদকে গভীরভাবে আহত করে এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে, যা পরবর্তীতে হিটলারের উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।