Chapter 6: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর (World War II & Aftermath)

ফ্যাসিবাদ-নাৎসিবাদ বনাম গণতন্ত্র | অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তি | পার্ল হারবার | ডি-ডে | হিরোশিমা-নাগাসাকি | ঠান্ডা যুদ্ধ | তৃতীয় বিশ্ব | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sahina Sabnam
Sahina Sabnam
Uploaded: 10 March 2026 Last Update: 31 May 2026
Chapter 6: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর

Chapter 6: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তারপর

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 40 MCQ | 14 SAQ | 3 Broad Questions

WWII অক্ষশক্তি পার্ল হারবার হিরোশিমা ঠান্ডা যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্ব
💥

যুদ্ধের কারণ

ভার্সাই চুক্তি, ফ্যাসিবাদ, তুষ্টিকরণ

🏆

পরিণতি

ঠান্ডা যুদ্ধ, উপনিবেশবাদ অবসান, জাতিসংঘ

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

40 টি
1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কবে শুরু হয়?
ক) ক) ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৮
খ) খ) ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯
গ) গ) ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯
ঘ) ঘ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১
ব্যাখ্যা: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ সালে জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৬ বছর পর ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে জাপানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হয়।
2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান আদর্শগত সংঘাত কী ছিল?
ক) ক) সাম্যবাদ বনাম পুঁজিবাদ
খ) খ) ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদ বনাম গণতান্ত্রিক আদর্শ
গ) গ) রাজতন্ত্র বনাম প্রজাতন্ত্র
ঘ) ঘ) উপনিবেশবাদ বনাম স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মূল আদর্শগত সংঘাত ছিল ইতালির ফ্যাসিবাদী ও জার্মানির নাৎসিবাদী আদর্শ বনাম ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক আদর্শের সংঘাত। পরে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়াও গণতান্ত্রিক শিবিরে যোগ দেয়।
3. অক্ষশক্তি জোটে কোন কোন দেশ ছিল?
ক) ক) ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
খ) খ) জার্মানি, ইতালি, জাপান
গ) গ) সোভিয়েত রাশিয়া, চীন, ভারত
ঘ) ঘ) পোল্যান্ড, চেকোস্লোভাকিয়া, অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা: অক্ষশক্তি জোট (Axis Powers) গঠিত হয় জার্মানি, ইতালি ও জাপান নিয়ে। এরা বার্লিন-রোম-টোকিও অক্ষের (Rome-Berlin-Tokyo Axis) অংশ ছিল। বার্লিন-রোম অক্ষ গঠিত হয় ১৯৩৬ সালে (হিটলার-মুসোলিনি চুক্তি) এবং পরে জাপান যুক্ত হয়।
4. মিত্রশক্তি জোটে কোন কোন প্রধান দেশ ছিল?
ক) ক) জার্মানি, ইতালি, জাপান
খ) খ) ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়া
গ) গ) স্পেন, পর্তুগাল, সুইডেন
ঘ) ঘ) চীন, ভারত, ব্রাজিল
ব্যাখ্যা: মিত্রশক্তি জোট (Allied Powers)-এর প্রধান সদস্য ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়া। এছাড়া চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত-সহ আরও অনেক দেশ এই জোটে যোগ দেয়। 'United Nations' নামে ১৯৪২ সালে ২৬টি মিত্র রাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ হয়।
5. ভার্সাই চুক্তি (১৯১৯) জার্মানির ওপর কী প্রভাব ফেলেছিল?
ক) ক) জার্মানি সন্তুষ্ট হয়েছিল
খ) খ) জার্মানির কাছে অত্যন্ত অমর্যাদাকর ও অপমানজনক ছিল
গ) গ) জার্মানি উদাসীন ছিল
ঘ) ঘ) জার্মানি আরও অঞ্চল পেয়েছিল
ব্যাখ্যা: ভার্সাই চুক্তির ৪৪০টি ধারার অধিকাংশই জার্মানিকে অপমান ও দুর্বল করার জন্য রচিত হয়েছিল। জার্মানির উপনিবেশ কেড়ে নেওয়া, বিরাট অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাপানো, সেনাবাহিনী সীমিত করা (১ লক্ষ), রাইনল্যান্ড নিরস্ত্রীকরণ — এসব জার্মান জাতীয়তাবাদের অবমাননা করেছিল এবং হিটলারের উত্থানে সাহায্য করে।
6. 'লেবেনশ্রাউম' (Lebensraum) তত্ত্ব কী?
ক) ক) অর্থনৈতিক নীতি
খ) খ) জার্মান বসবাস ভূমির সম্প্রসারণ তত্ত্ব
গ) গ) ধর্মীয় মতবাদ
ঘ) ঘ) শিক্ষানীতি
ব্যাখ্যা: 'লেবেনশ্রাউম' (Lebensraum = Living Space) ছিল হিটলারের সম্প্রসারণবাদী তত্ত্ব — জার্মান জাতির বসবাসের জন্য পূর্ব ইউরোপে (রাশিয়া ও পূর্বাঞ্চল) ভূমি অধিকার করা। পোল্যান্ড ও রাশিয়া আক্রমণের পেছনে এই তত্ত্ব অন্যতম কারণ ছিল।
7. তুষ্টিকরণ নীতি (Appeasement Policy) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) আগ্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়ার নীতি
খ) খ) সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা
গ) গ) নিরপেক্ষ থাকার নীতি
ঘ) ঘ) অস্ত্র প্রতিযোগিতা
ব্যাখ্যা: তুষ্টিকরণ নীতি (Appeasement Policy) ছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের এমন একটি নীতি — হিটলার ও মুসোলিনির আগ্রাসী দাবি মানিয়ে নিয়ে যুদ্ধ এড়ানো। যেমন — সুদেতান অঞ্চল, রাইনল্যান্ড, অস্ট্রিয়া দখলে বাধা না দেওয়া। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন এই নীতির প্রবক্তা ছিলেন।
8. হিটলার কবে পোল্যান্ড আক্রমণ করেন?
ক) ক) ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯
খ) খ) ২২ জুন, ১৯৪১
গ) গ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১
ঘ) ঘ) ৬ জুন, ১৯৪৪
ব্যাখ্যা: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ সালে হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু। পোল্যান্ড মাত্র ২৭ দিনে পরাজিত হয় (ব্লিৎজক্রিগ/Blitzkrieg কৌশল)।
9. মিউনিখ চুক্তি (Munich Agreement) কবে স্বাক্ষরিত হয়?
ক) ক) ১৯৩৬
খ) খ) ১৯৩৮
গ) গ) ১৯৩৯
ঘ) ঘ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা: মিউনিখ চুক্তি ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৮ সালে স্বাক্ষরিত হয়। বৃটেন (চেম্বারলেন), ফ্রান্স (দালাদিয়ে), ইতালি (মুসোলিনি) ও জার্মানি (হিটলার) — চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতান অঞ্চল জার্মানিকে দিতে সম্মত হয়। চেকোস্লোভাকিয়াকে এই সম্মেলনে ডাকা হয়নি! এটি তুষ্টিকরণ নীতির চরম উদাহরণ।
10. জার্মানি কবে সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করে (অপারেশন বারবারোসা)?
ক) ক) ১৯৩৯
খ) খ) ১৯৪০
গ) গ) ২২ জুন, ১৯৪১
ঘ) ঘ) ১৯৪২
ব্যাখ্যা: ২২ জুন, ১৯৪১ সালে হিটলার সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করেন — এটি 'অপারেশন বারবারোসা' (Operation Barbarossa) নামে পরিচিত। ইতিপূর্বে (১৯৩৯) জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে ১০ বছরের অনাক্রমণ চুক্তি ছিল, কিন্তু হিটলার তা অমান্য করেন। এটি যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেয়।
11. পার্ল হারবার আক্রমণ কবে ঘটে?
ক) ক) ৬ জুন, ১৯৪৪
খ) খ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১
গ) গ) ৮ মে, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ৬ আগস্ট, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এর পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট একে 'a date which will live in infamy' বলেন।
12. ডি-ডে (D-Day) কী?
ক) ক) জার্মানির আত্মসমর্পণের দিন
খ) খ) ৬ জুন, ১৯৪৪ — নর্মান্ডি অভিযান/মিত্রপক্ষীয় সেনার ফ্রান্স অবতরণ
গ) গ) হিরোশিমায় বোমা বিস্ফোরণের দিন
ঘ) ঘ) যুদ্ধ ঘোষণার দিন
ব্যাখ্যা: ডি-ডে (D-Day) — ৬ জুন, ১৯৪৪ তারিখে মিত্রপক্ষীয় সেনা (মার্কিন সেনাপতি আইজেনহাওয়ারের নেতৃত্বে) ফ্রান্সের নর্মান্ডি উপকূলে অবতরণ করে পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় রণাঙ্গন খোলে। এটি ইতিহাসের বৃহত্তম সামুদ্রিক অভিযান। এই দিনটি 'মুক্তি দিবস' (Day of Deliverance) নামেও পরিচিত।
13. হিটলার কবে আত্মহত্যা করেন?
ক) ক) ৮ মে, ১৯৪৫
খ) খ) ৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫
গ) গ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ৬ আগস্ট, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: ৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত সেনা বার্লিনে প্রবেশ করলে আত্মগোপনে থাকা হিটলার ও তাঁর স্ত্রী ইভা ব্রাউন আত্মহত্যা করেন। ২ মে বার্লিনের পতন হয় এবং ৮ মে জার্মানি বিনা শর্তে আত্মসমর্পণ করে — এই দিনটি 'V-E Day' (Victory in Europe) নামে পরিচিত।
14. হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা কবে নিক্ষেপ করা হয়?
ক) ক) ৬ আগস্ট, ১৯৪৫
খ) খ) ৯ আগস্ট, ১৯৪৫
গ) গ) ১৬ আগস্ট, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সকালে মার্কিন বিমান 'এনোলা গে' (Enola Gay) জাপানের হিরোশিমা শহরে 'লিটল বয়' (Little Boy) নামের ইউরেনিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। প্রায় ৭৮,০০০ মানুষ তৎক্ষণাৎ নিহত হয়। বোমাটির বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ২০,০০০ টন TNT-র সমান।
15. নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা কবে নিক্ষেপ করা হয়?
ক) ক) ৬ আগস্ট, ১৯৪৫
খ) খ) ৯ আগস্ট, ১৯৪৫
গ) গ) ১৬ আগস্ট, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকি শহরে 'ফ্যাট ম্যান' (Fat Man) নামের প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। প্রায় ৪০,০০০ মানুষ তৎক্ষণাৎ নিহত হয়। বোমাটি ছিল ২২,০০০ টন TNT-র সমান বিস্ফোরণ ক্ষমতাসম্পন্ন। এর পরেই জাপান আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।
16. জাপান কবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে?
ক) ক) ৬ আগস্ট, ১৯৪৫
খ) খ) ৯ আগস্ট, ১৯৪৫
গ) গ) ১৬ আগস্ট, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ তারিখে টোকিও উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ USS Missouri-তে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ পত্রে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি ঘটে। ১৫ আগস্ট জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন (V-J Day)।
17. পটসডাম সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ফেব্রুয়ারি ১৯৪৫
খ) খ) ১৭ জুলাই-২ আগস্ট, ১৯৪৫
গ) গ) জুন ১৯৪৪
ঘ) ঘ) অক্টোবর ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: পটসডাম সম্মেলন (Potsdam Conference) ১৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট, ১৯৪৫ পর্যন্ত জার্মানির পটসডাম শহরে অনুষ্ঠিত হয়। ট্রুম্যান (মার্কিন), স্ট্যালিন (সোভিয়েত) ও চার্চিল/অ্যাটলি (ব্রিটেন) যোগ দেন। এতে জাপানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানানো হয়।
18. 'ব্লিৎজক্রিগ' (Blitzkrieg) কৌশল কী?
ক) ক) নৌ-অভিযান
খ) খ) দ্রুতগতির সমন্বিত আক্রমণ কৌশল ('বিদ্যুৎ যুদ্ধ')
গ) গ) রাসায়নিক অস্ত্র
ঘ) ঘ) কূটনৈতিক কৌশল
ব্যাখ্যা: ব্লিৎজক্রিগ (Blitzkrieg = Lightning War) ছিল জার্মানির দ্রুতগতির যুদ্ধকৌশল — ট্যাঙ্ক, বিমান ও পদাতিক সেনার সমন্বিত ঝটিকা আক্রমণ। পোল্যান্ড (১৯৩৯), ফ্রান্স (১৯৪০) ও সোভিয়েত রাশিয়ার (১৯৪১) বিরুদ্ধে এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রবক্তা ছিলেন জার্মান জেনারেল হাইনৎস গুডেরিয়ান।
19. লেনিনগ্রাদের অবরোধের (Siege of Leningrad) সময়সীমা কী?
ক) ক) ১৯৪১-১৯৪২
খ) খ) ১৯৪১-১৯৪৪ (৮৭২ দিন)
গ) গ) ১৯৪২-১৯৪৩
ঘ) ঘ) ১৯৪৪-১৯৪৫
ব্যাখ্যা: লেনিনগ্রাদের (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) অবরোধ ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১ থেকে ২৭ জানুয়ারি, ১৯৪৪ পর্যন্ত — ৮৭২ দিন স্থায়ী হয়। জার্মান সেনা শহরটি ঘিরে রাখলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ১০ লক্ষ সোভিয়েত নাগরিক মারা যান। এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও ভয়াবহ অবরোধ।
20. ঠান্ডা যুদ্ধ (Cold War) বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) সরাসরি যুদ্ধ
খ) খ) আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক সন্দেহের যুদ্ধবিহীন উত্তেজনা — মার্কিন পুঁজিবাদ বনাম সোভিয়েত সাম্যবাদ
গ) গ) শুধুমাত্র অর্থনৈতিক যুদ্ধ
ঘ) ঘ) ইউরোপীয় গৃহযুদ্ধ
ব্যাখ্যা: ঠান্ডা যুদ্ধ (Cold War) ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (পুঁজিবাদী/গণতান্ত্রিক) ও সোভিয়েত রাশিয়ার (সাম্যবাদী) মধ্যে সরাসরি লড়াই ছাড়াই কূটনৈতিক, আদর্শগত, অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার সময়কাল (প্রায় ১৯৪৭-১৯৯১)। ওয়াল্টার লিপম্যান প্রথম 'Cold War' শব্দটি ব্যবহার করেন।
21. ট্রুম্যান নীতি (Truman Doctrine) কী?
ক) ক) অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা
খ) খ) কমিউনিজমের প্রসার রোধে গ্রিস ও তুরস্ককে সামরিক ও আর্থিক সাহায্যের মার্কিন নীতি (১৯৪৭)
গ) গ) নিরপেক্ষতা নীতি
ঘ) ঘ) নিরস্ত্রীকরণ নীতি
ব্যাখ্যা: ট্রুম্যান নীতি (মার্চ ১৯৪৭) — মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান ঘোষণা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিজমের প্রসার রোধে যে কোনো দেশকে সাহায্য দেবে। প্রথম প্রয়োগ — গ্রিসের গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীকে এবং তুরস্ককে সোভিয়েত চাপ মোকাবিলায় সাহায্য।
22. মার্শাল পরিকল্পনা (Marshall Plan) কী ছিল?
ক) ক) সামরিক জোট
খ) খ) যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে মার্কিন সাহায্য পরিকল্পনা (১৯৪৮)
গ) গ) নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা
ঘ) ঘ) উপনিবেশিক পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা: মার্শাল পরিকল্পনা (জুন ১৯৪৭) — মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল প্রস্তাবিত ১৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সাহায্য পরিকল্পনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত ১৬টি পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ এতে অংশ নেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলি অস্বীকৃতি জানায়। মার্শাল ১৯৫৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
23. 'তৃতীয় বিশ্ব' (Third World) ধারণাটি কী?
ক) ক) ধনী দেশসমূহ
খ) খ) উপনিবেশ থেকে মুক্ত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশসমূহ
গ) গ) কমিউনিস্ট দেশসমূহ
ঘ) ঘ) ইউরোপীয় দেশসমূহ
ব্যাখ্যা: 'তৃতীয় বিশ্ব' (Third World) ধারণাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির জন্য ব্যবহৃত হয়। আলজেরীয় সাহিত্যিক ফ্রানৎজ ফ্যানন (Frantz Fanon) প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। এরা প্রথম বিশ্ব (পুঁজিবাদী) বা দ্বিতীয় বিশ্বের (সাম্যবাদী) কোনো জোটে যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার নীতি নেয়।
24. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) সূচনা কারা করেন?
ক) ক) হিটলার ও মুসোলিনি
খ) খ) জওহরলাল নেহরু (ভারত), জোসেফ ব্রোজ টিটো (যুগোস্লাভিয়া), আব্দেল নাসের (মিশর)
গ) গ) ট্রুম্যান ও স্ট্যালিন
ঘ) ঘ) চার্চিল ও রুজভেল্ট
ব্যাখ্যা: জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (Non-Aligned Movement/NAM) — ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি জোসেফ ব্রোজ টিটো ও মিশরের রাষ্ট্রপতি গামাল আব্দেল নাসের ছিলেন এর প্রধান উদ্যোক্তা। ১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলন (ইন্দোনেশিয়া) থেকে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু।
25. জাতিসংঘ মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (UDHR) কবে গৃহীত হয়?
ক) ক) ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫
খ) খ) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
গ) গ) ২৬ জুন, ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় গৃহীত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা (হলোকাস্ট, গণহত্যা) থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সনদ রচিত হয়। ১০ ডিসেম্বর 'বিশ্ব মানবাধিকার দিবস'।
26. কয়টি দেশ প্রথমে জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করেছিল?
ক) ক) ২৬টি
খ) খ) ৪২টি
গ) গ) ৫১টি
ঘ) ঘ) ৬৩টি
ব্যাখ্যা: ২৬ জুন, ১৯৪৫ সালে সান ফ্রান্সিসকো সম্মেলনে ৫১টি রাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদে স্বাক্ষর করে। ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ সালে সনদ কার্যকর হয় — 'জাতিসংঘ দিবস'। বর্তমানে (২০২৬) মোট সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি।
27. ইতালিতে ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?
ক) ক) হিটলার
খ) খ) মুসোলিনি
গ) গ) হিরোহিতো
ঘ) ঘ) ফ্রাঙ্কো
ব্যাখ্যা: বেনিতো মুসোলিনি (Benito Mussolini) ছিলেন ইতালির ফ্যাসিবাদী নেতা — 'ইল দুচে' (Il Duce) নামে পরিচিত। ১৯২২ সালে ক্ষমতায় আসেন। তাঁর নেতৃত্বে ইতালি ১৯৩৫ সালে আবিসিনিয়া আক্রমণ করে এবং ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষে যোগ দেয়। ১৯৪৫ সালে ইতালীয় পার্টিজানদের হাতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন।
28. নাৎসি বাহিনীর রাজনৈতিক পুলিশ বাহিনীর নাম কী ছিল?
ক) ক) গেস্টাপো (Gestapo)
খ) খ) ফিবিআই (FBI)
গ) গ) কেজিবি (KGB)
ঘ) ঘ) সিআইএ (CIA)
ব্যাখ্যা: গেস্টাপো (Gestapo — Geheime Staatspolizei/গোপন রাষ্ট্রীয় পুলিশ) ছিল নাৎসি জার্মানির ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক পুলিশ বাহিনী। হেরমান গোরিং এটি গঠন করেন। বিরোধী দমন, ইহুদি নিধন (হলোকাস্ট), কনসেনট্রেশন ক্যাম্প পরিচালনায় গেস্টাপো কুখ্যাত ভূমিকা পালন করে।
29. 'হলোকাস্ট' (Holocaust) কী?
ক) ক) সামরিক অভিযান
খ) খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নাৎসিদের দ্বারা ৬০ লক্ষ ইহুদির পরিকল্পিত গণহত্যা
গ) গ) রাসায়নিক অস্ত্র
ঘ) ঘ) কূটনৈতিক চুক্তি
ব্যাখ্যা: হলোকাস্ট (Holocaust/Shoah) — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন (১৯৪১-১৯৪৫) হিটলারের নাৎসি বাহিনী কর্তৃক ইউরোপের প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদির পরিকল্পিত ও শিল্পায়িত গণহত্যা। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে (অশউইৎজ, ট্রেব্লিংকা) গ্যাস চেম্বারে হত্যা করা হয়। এছাড়া রোমা (জিপসি), প্রতিবন্ধী, স্লাভ ও রাজনৈতিক বিরোধীদেরও হত্যা করা হয়।
30. ভারত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোন পক্ষে যোগ দিয়েছিল?
ক) ক) অক্ষশক্তি
খ) খ) মিত্রশক্তি
গ) গ) নিরপেক্ষ ছিল
ঘ) ঘ) কোনো পক্ষেই নয়
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকায় ভারত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিত্রশক্তির পক্ষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী উত্তর আফ্রিকা, ইতালি, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুদ্ধ করে। প্রায় ২৫ লক্ষ ভারতীয় সৈন্য যুদ্ধে অংশ নেয়, ৮৭,০০০ ভারতীয় সৈন্য প্রাণ হারান।
31. সুয়েজ খাল কোন দুই মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে?
ক) ক) প্রশান্ত ও আটলান্টিক
খ) খ) ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগর (ভারত মহাসাগর)
গ) গ) উত্তর মহাসাগর ও বাল্টিক সাগর
ঘ) ঘ) আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা: সুয়েজ খাল (মিশর) ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। ১৮৬৯ সালে খননকার্য শেষ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উত্তর আফ্রিকার রণাঙ্গনে সরবরাহ রক্ষার জন্য সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫৬ সালে মিশর এটিকে জাতীয়করণ করে।
32. 'কামিকাজে' (Kamikaze) পাইলট কারা ছিলেন?
ক) ক) মার্কিন বৈমানিক
খ) খ) জাপানি আত্মঘাতী বিমান পাইলট — যাঁরা শত্রু জাহাজে বিমানসহ আঘাত হানতেন
গ) গ) ব্রিটিশ প্যারাট্রুপার
ঘ) ঘ) সোভিয়েত স্নাইপার
ব্যাখ্যা: কামিকাজে (Kamikaze = Divine Wind/ঐশ্বরিক হাওয়া) ছিল জাপানি আত্মঘাতী বৈমানিক — যাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বোমা-বোঝাই বিমান নিয়ে সরাসরি মিত্রশক্তির যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতেন। লেইতে উপসাগরের যুদ্ধে (অক্টোবর ১৯৪৪) প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৩,৮০০ কামিকাজে পাইলট নিহত হন।
33. স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধের গুরুত্ব কী?
ক) a) এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের টার্নিং পয়েন্ট — সোভিয়েত লাল ফৌজ জার্মান ৬ষ্ঠ বাহিনীকে ধ্বংস করে (১৯৪২-৪৩)
খ) খ) এটি প্রথম নৌ-যুদ্ধ
গ) গ) এটি ডি-ডে অভিযান
ঘ) ঘ) এটি সর্বশেষ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ (আগস্ট ১৯৪২-ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। সোভিয়েত লাল ফৌজ জার্মানির ৬ষ্ঠ বাহিনী (জেনারেল পাওলাস) সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ হতাহত হয়। এর পর জার্মানি পূর্ব রণাঙ্গনে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
34. ম্যানহাটন প্রকল্প (Manhattan Project) কী ছিল?
ক) ক) গোপন মার্কিন পারমাণবিক বোমা তৈরির গবেষণা প্রকল্প
খ) খ) জার্মান রকেট প্রকল্প
গ) গ) জাপানি নৌ-পরিকল্পনা
ঘ) ঘ) ব্রিটিশ গুপ্তচর নেটওয়ার্ক
ব্যাখ্যা: ম্যানহাটন প্রকল্প (১৯৪২-১৯৪৫) ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় পারমাণবিক বোমা তৈরির গবেষণা প্রকল্প। রবার্ট ওপেনহাইমার ছিলেন এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক। ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে হিরোশিমা ও নাগাসাকির বোমা তৈরি হয়। ওপেনহাইমারকে 'পারমাণবিক বোমার জনক' বলা হয়।
35. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কোন নতুন অস্ত্র ও প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) শুধু তলোয়ার ও বর্শা
খ) খ) স্বয়ংচালিত অস্ত্র, রাডার, সুপারফর্মেস যুদ্ধবিমান, জেট ইঞ্জিন, পারমাণবিক বোমা
গ) গ) শুধু তীর-ধনুক
ঘ) ঘ) শুধু অশ্বারোহী বাহিনী
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল অত্যাধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির যুদ্ধ — ট্যাঙ্ক (জার্মান প্যানজার, সোভিয়েত T-34), রাডার, সোনার, জেট বিমান, V-2 রকেট (জার্মানি), স্বয়ংচালিত অস্ত্র, DUKW (জল-স্থলে চলা ট্রাক), এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পারমাণবিক বোমা। কোড-ব্রেকিং প্রযুক্তি (এনিগমা)ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
36. নার্স কোড (Nuremberg Code) কী?
ক) ক) যুদ্ধবন্দির চিকিৎসার নিয়ম
খ) খ) নাৎসি চিকিৎসকদের যুদ্ধাপরাধ বিচারের পর প্রণীত চিকিৎসা গবেষণার নৈতিক নীতিমালা (১৯৪৭)
গ) গ) কূটনৈতিক সন্ধি
ঘ) ঘ) স্থাপত্য নিয়মাবলী
ব্যাখ্যা: নার্স কোড (১৯৪৭) — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে নাৎসি চিকিৎসকদের বিচারের পর প্রণীত ১০ দফা নৈতিক নীতিমালা। মানব গবেষণায় স্বেচ্ছাসম্মতি (Informed Consent) বাধ্যতামূলক করে। নাৎসিরা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বন্দিদের ওপর মারাত্মক চিকিৎসা পরীক্ষা চালিয়েছিল। এটি আধুনিক চিকিৎসা নৈতিকতার ভিত্তি।
37. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আনুমানিক কত মানুষ প্রাণ হারান?
ক) ক) ১০-১৫ মিলিয়ন
খ) খ) ২০-২৫ মিলিয়ন
গ) গ) ৭০-৮৫ মিলিয়ন (বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩%)
ঘ) ঘ) ১-২ মিলিয়ন
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত — আনুমানিক ৭০-৮৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারান (বিশ্বের তৎকালীন জনসংখ্যার প্রায় ৩%)। এর মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি — প্রায় ২৪-২৭ মিলিয়ন নাগরিক। হলোকাস্টে ৬০ লক্ষ ইহুদি নিহত হন।
38. বার্লিন-রোম-টোকিও অক্ষ কবে গঠিত হয়?
ক) ক) ১৯৩৬ (বার্লিন-রোম) ও ১৯৪০ (টোকিও)
খ) খ) ১৯১৯
গ) গ) ১৯২৫
ঘ) ঘ) ১৯৪৫
ব্যাখ্যা: বার্লিন-রোম অক্ষ গঠিত হয় ১৯৩৬ সালে হিটলার ও মুসোলিনির চুক্তির মাধ্যমে। ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বরে জাপান এই অক্ষে যোগ দিলে 'বার্লিন-রোম-টোকিও' অক্ষ পূর্ণতা পায়। ১৯৪০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি (Tripartite Pact) স্বাক্ষরিত হয়।
39. ভার্সাই চুক্তির ধারার সংখ্যা কত ছিল?
ক) ক) ২২০টি
খ) খ) ৪৪০টি
গ) গ) ৬৬০টি
ঘ) ঘ) ৮৮০টি
ব্যাখ্যা: ভার্সাই চুক্তিতে মোট ৪৪০টি ধারা ছিল। এর অধিকাংশ ধারা জার্মানিকে দুর্বল, অপমানিত ও সামরিকভাবে পঙ্গু করার জন্য নিবেদিত ছিল। ২৩১ নং ধারায় (War Guilt Clause) যুদ্ধের সম্পূর্ণ দায় জার্মানির ওপর চাপানো হয়।
40. প্যারিস শান্তি সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৯১৬
খ) খ) ১৯১৯
গ) গ) ১৯২২
ঘ) ঘ) ১৯২৫
ব্যাখ্যা: প্যারিস শান্তি সম্মেলন ১৮ জানুয়ারি, ১৯১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি, ১৯২০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। 'বিগ ফোর' — উড্রো উইলসন (মার্কিন), ডেভিড লয়েড জর্জ (ব্রিটেন), জর্জ ক্লেমেনসো (ফ্রান্স) ও ভিত্তোরিও অরলান্ডো (ইতালি) — আধিপত্য বিস্তার করেন। ভার্সাই চুক্তিসহ ৫টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

14 টি
1. 💥 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি — ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান কীভাবে যুদ্ধ ডেকে আনে?

উত্তর:

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে গণতন্ত্রবিরোধী দুটি আদর্শের — ইতালির ফ্যাসিবাদ ও জার্মানির নাৎসিবাদ — উত্থান ঘটে। মুসোলিনি (ইতালি, ১৯২২) ও হিটলারের (জার্মানি, ১৯৩৩) নেতৃত্বে একদলীয় একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আগ্রাসী সম্প্রসারণবাদী আদর্শ বিরাজ করায়:

  • জার্মানি — রাইনল্যান্ড পুনর্দখল (১৯৩৬), অস্ট্রিয়া অধিকার (Anschluss, ১৯৩৮), চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতান অঞ্চল দখল (১৯৩৮), পোল্যান্ড আক্রমণ (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯)।
  • ইতালি — আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া) আক্রমণ (১৯৩৫), আলবেনিয়া দখল (১৯৩৯)।
  • জাপান — চীনের মাঞ্চুরিয়া দখল (১৯৩১), চীন আক্রমণ (১৯৩৭)।

এই আগ্রাসনের মুখে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তুষ্টিকরণ নীতি (Appeasement) যুদ্ধ এড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত পোল্যান্ডের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে ব্রিটেন ও ফ্রান্স ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

2. 💥 ভার্সাই চুক্তি (১৯১৯) কীভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ বপন করেছিল?

উত্তর:

ভার্সাই চুক্তি ছিল ‘চাপিয়ে দেওয়া শান্তি’ (Dictated Peace) — জার্মানির কোনো বক্তব্য শোনা হয়নি।

  1. যুদ্ধের দায় (War Guilt Clause — ২৩১ ধারা): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সম্পূর্ণ দায় জার্মানির ওপর চাপানো হয়।
  2. ক্ষতিপূরণ: জার্মানির ওপর ৬.৬ বিলিয়ন পাউন্ডের বিরাট অঙ্কের যুদ্ধক্ষতিপূরণ চাপানো হয় → অর্থনীতি ধ্বংস।
  3. সামরিক সীমাবদ্ধতা: জার্মানির সেনাবাহিনী মাত্র ১ লক্ষে সীমিত, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নিষিদ্ধ।
  4. ভূমি হস্তান্তর: জার্মানির উপনিবেশ কেড়ে নেওয়া; আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে; পোলিশ করিডর ও ডানজিগ বন্দর হাতছাড়া।

চুক্তিটিকে জার্মানরা 'ডিকটাট' (Diktat) বলে অভিহিত করে। এই অপমান ও অর্থনৈতিক ধ্বংস থেকে উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই হিটলার ক্ষমতায় আসেন (১৯৩৩) এবং একের পর এক চুক্তির ধারা লঙ্ঘন করে যুদ্ধের পথে এগিয়ে যান।

3. 💥 'তুষ্টিকরণ নীতি' (Appeasement Policy) কী? কেন এটি ব্যর্থ হয়েছিল?

উত্তর:

তুষ্টিকরণ নীতি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেনের এই নীতির মূল কথা ছিল — হিটলার ও মুসোলিনির আগ্রাসী দাবি কিছুটা মেনে নিলে বড় যুদ্ধ এড়ানো যাবে।

প্রধান ঘটনাসমূহ:

  • জার্মানি কর্তৃক রাইনল্যান্ড পুনর্দখল (১৯৩৬) — কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
  • ইতালির আবিসিনিয়া আক্রমণ (১৯৩৫) — নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর।
  • জার্মানির অস্ট্রিয়া দখল (Anschluss, ১৯৩৮) — প্রতিবাদ মাত্র।
  • মিউনিখ চুক্তি (সেপ্টেম্বর ১৯৩৮) — চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতান অঞ্চল জার্মানিকে দেওয়া।

ব্যর্থতার কারণ: প্রতিটি ছাড়ই হিটলারের ক্ষুধা বাড়িয়েছে। চেম্বারলেন ভেবেছিলেন 'আমাদের সময়ের শান্তি' (Peace for our time) এসেছে, কিন্তু এক বছরের মধ্যেই (সেপ্টেম্বর ১৯৩৯) হিটলার পোল্যান্ড আক্রমণ করলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

4. 💥 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান রণাঙ্গনগুলি কী কী ছিল?

উত্তর:

  1. পশ্চিম রণাঙ্গন (Western Front): জার্মানি বনাম ব্রিটেন ও ফ্রান্স। 'ফনি যুদ্ধ' (Phoney War, ১৯৩৯-৪০), ফ্রান্সের পতন (জুন ১৯৪০), ব্রিটেনের যুদ্ধ (Battle of Britain, ১৯৪০), ডি-ডে/নর্মান্ডি অবতরণ (জুন ১৯৪৪) থেকে জার্মানির পতন (মে ১৯৪৫)।
  2. পূর্ব রণাঙ্গন (Eastern Front): জার্মানি বনাম সোভিয়েত রাশিয়া। অপারেশন বারবারোসা (জুন ১৯৪১), লেনিনগ্রাদ অবরোধ, স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ (১৯৪২-৪৩), কুরস্কের যুদ্ধ (১৯৪৩), বার্লিনের যুদ্ধ (এপ্রিল-মে ১৯৪৫)। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রণাঙ্গন।
  3. উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় রণাঙ্গন: এল আলামেইনের যুদ্ধ (মিশর, ১৯৪২), সিসিলি ও ইতালি অভিযান (১৯৪৩)।
  4. প্রশান্ত মহাসাগরীয় রণাঙ্গন: জাপান বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তি। পার্ল হারবার (ডিসেম্বর ১৯৪১), মিডওয়ে (১৯৪২), লেইতে উপসাগর (১৯৪৪), ইও জিমা ও ওকিনাওয়া (১৯৪৫), হিরোশিমা-নাগাসাকি (আগস্ট ১৯৪৫)।
5. 💥 অপারেশন বারবারোসা (Operation Barbarossa) কী ছিল?

উত্তর:

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও সোভিয়েত রাশিয়া ১০ বছর মেয়াদি অনাক্রমণ চুক্তি (নাজি-সোভিয়েত প্যাক্ট/মলোটভ-রিবেনট্রপ চুক্তি) স্বাক্ষর করে। কিন্তু হিটলার এই চুক্তি অমান্য করে ২২ জুন, ১৯৪১ তারিখে সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ করেন — সাংকেতিক নাম 'অপারেশন বারবারোসা' (১২ শতকের পবিত্র রোমান সম্রাট ফ্রেডেরিক বারবারোসার নামে)।

উদ্দেশ্য: লেবেনশ্রাউম (জার্মান বসতি সম্প্রসারণ) অর্জন, স্লাভ জাতিকে দাসত্বে পরিণত করা, কমিউনিজম ধ্বংস করা।

প্রাথমিক সাফল্য ও পরে ব্যর্থতা: ৩০ লক্ষ জার্মান সেনা তিন দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়। কিন্তু লেনিনগ্রাদ, মস্কো ও স্ট্যালিনগ্রাদে আটকে যায়। ১৯৪২-৪৩ সালের তীব্র শীতে জার্মান বাহিনী বিধ্বস্ত হয়। স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধ (১৯৪২-৪৩) ছিল টার্নিং পয়েন্ট — এরপর থেকে জার্মানি পূর্ব রণাঙ্গনে পিছু হটতে থাকে।

6. 💥 পার্ল হারবার আক্রমণ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে যোগদান ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:

জাপান পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে মার্কিন স্বার্থ বিপন্ন হচ্ছিল। জাপানের সাথে বোঝাপড়ার জন্য ওয়াশিংটনে বৈঠক চলছিল। কিন্তু সেই বৈঠক চলাকালীনই ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সকালে জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে মার্কিন নৌঘাঁটিতে ভয়াবহ অতর্কিত বিমান আক্রমণ চালায়।

ক্ষয়ক্ষতি: ২,৪০৩ মার্কিন সেনা নিহত, ৪টি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়, ১৮৮টি বিমান ধ্বংস।

ফলাফল: পরের দিন (৮ ডিসেম্বর) মার্কিন কংগ্রেস জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ১১ ডিসেম্বর জার্মানি ও ইতালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে যুদ্ধ সত্যিই বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হয়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট ৭ ডিসেম্বরকে 'a date which will live in infamy' (এক কলঙ্কজনক দিন যা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে) বলেন। মিত্রশক্তির শিল্প ও সামরিক শক্তি অক্ষশক্তিকে ছাড়িয়ে যায়।

7. 💥 ডি-ডে (D-Day) অভিযান সম্পর্কে কী জানো?

উত্তর:

ডি-ডে (D-Day) — ৬ জুন, ১৯৪৪। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী দিন। মিত্রশক্তির প্রধান সেনাপতি মার্কিন জেনারেল ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারের নেতৃত্বে প্রায় ১,৫৬,০০০ সেনা (মার্কিন, ব্রিটিশ, কানাডীয়) ফ্রান্সের নর্মান্ডি উপকূলে ৫টি সৈকতে (উটাহ, ওমাহা, গোল্ড, জুনো, সোর্ড) অবতরণ করে।

গুরুত্ব:

  • এটি ছিল ইতিহাসের বৃহত্তম সামুদ্রিক ও উভচর সামরিক অভিযান — ৫,০০০ জাহাজ ও ১১,০০০ বিমান অংশ নেয়।
  • পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় রণাঙ্গন খোলা হয় — জার্মানি তখন দুই দিক (পূর্বে সোভিয়েত, পশ্চিমে মিত্রশক্তি) থেকে চাপের মুখে পড়ে।
  • এর সফলতার ফলেই অস্ট্রিয়ার হাত থেকে ফ্রান্স মুক্ত হয় (আগস্ট ১৯৪৪) এবং মিত্রশক্তি জার্মানির দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
  • 'মুক্তি দিবস' (Day of Deliverance) নামে পরিচিত।
8. 💥 হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।

উত্তর:

পটসডাম সম্মেলনে (জুলাই ১৯৪৫) মিত্রশক্তি জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু জাপান তা প্রত্যাখ্যান করে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের অনুমতি দেন।

বিষয়হিরোশিমানাগাসাকি
তারিখ৬ আগস্ট, ১৯৪৫৯ আগস্ট, ১৯৪৫
বোমার নামলিটল বয় (Little Boy)ফ্যাট ম্যান (Fat Man)
প্রকারইউরেনিয়াম-ভিত্তিকপ্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক
বিস্ফোরণ ক্ষমতাপ্রায় ২০,০০০ টন TNTপ্রায় ২২,০০০ টন TNT
তৎক্ষণাৎ মৃতপ্রায় ৭৮,০০০প্রায় ৪০,০০০
মোট মৃত (বছর শেষে)প্রায় ১,৪০,০০০প্রায় ৭৪,০০০
বিমানের নামএনোলা গেবকস্কার

শহরের ধ্বংস: হিরোশিমার প্রায় ৬০ বর্গ কিমি অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। নাগাসাকি বোমাটি আগেরটির চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হলেও পার্বত্য ভূখণ্ডের জন্য ধ্বংস কিছুটা কম ছিল।

ফলাফল: ১৫ আগস্ট জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন, ২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি। পারমাণবিক বোমা নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে আজও।

9. 💥 ঠান্ডা যুদ্ধ (Cold War) কী? এর সূচনার কারণগুলি লেখো।

উত্তর:

ঠান্ডা যুদ্ধ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাদী (গণতান্ত্রিক) শিবির ও সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী শিবিরের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই আদর্শগত দ্বন্দ্ব, সন্দেহ ও উত্তেজনার দীর্ঘ সময়কাল (প্রায় ১৯৪৭-১৯৯১)।

সূচনার কারণ:

  1. আদর্শগত বিভাজন: মার্কিন পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র বনাম সোভিয়েত সাম্যবাদ ও একদলীয় শাসন।
  2. পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত আধিপত্য: পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, চেকোস্লোভাকিয়া প্রভৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া।
  3. ট্রুম্যান নীতি (১৯৪৭): কমিউনিজমের প্রসার রোধে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্যের ঘোষণা।
  4. মার্শাল পরিকল্পনা (১৯৪৭): যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম ইউরোপ পুনর্গঠনে ১৩ বিলিয়ন ডলার সাহায্য — সোভিয়েত একে 'পুঁজিবাদী ফাঁদ' হিসেবে দেখে।
  5. বার্লিন অবরোধ (১৯৪৮-৪৯) ও ন্যাটো (NATO) গঠন (১৯৪৯): প্রত্যক্ষ উত্তেজনা ও সামরিক জোটের প্রতিযোগিতা।
10. 💥 'তৃতীয় বিশ্ব' (Third World) ধারণাটি ব্যাখ্যা করো। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) ভূমিকা কী ছিল?

উত্তর:

তৃতীয় বিশ্ব: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। আলজেরীয় সাহিত্যিক ফ্রানৎজ ফ্যানন (Frantz Fanon) প্রথম এই শব্দটির জনপ্রিয় ব্যবহার করেন। এরা প্রথম বিশ্বের (পুঁজিবাদী) বা দ্বিতীয় বিশ্বের (সাম্যবাদী) কোনো জোটে যোগ না দেওয়ার নীতি নেয়।

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM):

  • প্রধান উদ্যোক্তা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, যুগোস্লাভিয়ার টিটো, মিশরের নাসের।
  • বান্দুং সম্মেলন (১৯৫৫): ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং শহরে ২৯টি আফ্রিকা-এশিয়ার রাষ্ট্র জোট নিরপেক্ষতার নীতি ঘোষণা করে। এটি NAM-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
  • বেলগ্রেড সম্মেলন (১৯৬১): ২৫টি রাষ্ট্র নিয়ে প্রথম NAM শীর্ষ সম্মেলন।
  • ভূমিকা: ঠান্ডা যুদ্ধকালে দুই পরাশক্তির জোটের বাইরে থেকে নিজস্ব স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ; উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরোধিতা; বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে সোচ্চার হওয়া।
11. 💥 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা সম্পর্কে লেখো।

উত্তর:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল অত্যাধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির লড়াই —

  • ব্লিৎজক্রিগ (Blitzkrieg): ট্যাঙ্ক, বিমান ও পদাতিক সেনার সমন্বিত ঝটিকা আক্রমণ কৌশল। জার্মান জেনারেল হাইনৎস গুডেরিয়ানের উদ্ভাবন।
  • রাডার (Radar): ব্রিটেনের যুদ্ধে (১৯৪০) জার্মান বিমানবাহিনী শনাক্ত করে ব্রিটেনের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
  • জেট বিমান: জার্মানি প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রে জেট বিমান (Me 262) ব্যবহার করে (১৯৪৪)।
  • V-2 রকেট (ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র): জার্মানির ভার্নহার ফন ব্রাউনের নেতৃত্বে তৈরি — প্রথম দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। লন্ডন ও অন্যান্য শহরে আক্রমণ চালায়। পরে এরা মার্কিন ও সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির ভিত্তি।
  • DUKW: ২ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ছয় চাকার ট্রাক — যা জলে ও স্থলে চলাচলে সক্ষম। নর্মান্ডি অবতরণে ব্যবহৃত।
  • পারমাণবিক বোমা: ম্যানহাটন প্রকল্পের অধীনে তৈরি — সর্বকালের সবচেয়ে ধ্বংসকারী অস্ত্র। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে প্রয়োগ।
12. 💥 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশবাদের অবসান কীভাবে ঘটল?

উত্তর:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের অন্তিম আঘাত।

  1. ইউরোপীয় শক্তির দুর্বলতা: যুদ্ধে ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম প্রভৃতি ঔপনিবেশিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে — উপনিবেশ ধরে রাখার সামর্থ্য হারায়।
  2. স্বাধীনতা আন্দোলনের জোর: ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লেবানন — প্রভৃতি দেশে তীব্র স্বাধীনতা আন্দোলন গড়ে ওঠে।
  3. ঠান্ডা যুদ্ধের প্রভাব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়েই উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করে (নিজ নিজ প্রভাব বলয় তৈরির জন্য)।
  4. জাতিসংঘের ভূমিকা: জাতিসংঘ সনদে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার (Right to Self-determination) স্বীকৃত হয়।
  5. স্বাধীনতা: ভারত (১৯৪৭), ইন্দোনেশিয়া (১৯৪৯), ভিয়েতনাম (১৯৫৪), আফ্রিকায় ১৯৫০-৭০ দশকে প্রায় ৪০টি দেশ স্বাধীন হয় — 'আফ্রিকার বছর' ছিল ১৯৬০ (১৭টি দেশ স্বাধীন)।
13. 💥 'উগ্র জাতীয়তাবাদ' (Ultra Nationalism) ও 'আন্তর্জাতিকতাবাদ' (Internationalism)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর:

উগ্র জাতীয়তাবাদ: যখন স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি ভালোবাসা জাতীয়তাবোধকে অতিক্রম করে নিজের জাতিকে সর্বোচ্চ ও অন্যান্য জাতিকে হেয় ও নিকৃষ্ট মনে করার প্রবণতায় পরিণত হয়। নিজের সভ্যতা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান সবকিছুকেই শ্রেষ্ঠ এবং অন্যান্য জাতির সবকিছুই হেয়। হিটলারের নেতৃত্বে জার্মান নাৎসিবাদ — 'জার্মান টিউটনিক জাতিই শ্রেষ্ঠ জাতি' — বিশ্বাস করত। মুসোলিনির ইতালীয় ফ্যাসিবাদও 'রোমান সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব' প্রচার করত।

আন্তর্জাতিকতাবাদ: এমন এক অনুভূতি যা ব্যক্তিকে বিশ্বের সৌভাগ্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে। ব্যক্তি শুধু নিজ রাষ্ট্র নয়, নিজেকে বিশ্বের এক নাগরিক বলে মনে করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দান্তে প্রমুখের ধারণায় বিশ্বরাষ্ট্রের প্রতিষ্টার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিকতার আদর্শ সফল হতে পারে। উড্রো উইলসনের 'চতুর্দশ দফা' ও জাতিসংঘ গঠনে আন্তর্জাতিকতার ছাপ দেখা যায়।

14. 💥 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর:

  • মানবক্ষয়: প্রায় ৭০-৮৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারান — ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত। সোভিয়েত ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত (প্রায় ২৪-২৭ মিলিয়ন মৃত)।
  • গণহত্যা: হলোকাস্ট — নাৎসিদের দ্বারা ৬০ লক্ষ ইহুদির পরিকল্পিত হত্যা। এছাড়া রোমা, প্রতিবন্ধী, স্লাভ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের গণহত্যা।
  • বস্তুগত ধ্বংস: ব্রিটেনে প্রায় ২০ লক্ষ ঘরবাড়ি ধ্বংস। জার্মানির প্রায় ১৫ লক্ষ ঘরবাড়ি ও ২,০০০ শহর বিধ্বস্ত। ইতালির ১০% সম্পদ ধ্বংস। জাপানের ৯৫% নৌবহর ধ্বংস।
  • হিরোশিমা-নাগাসাকি: পারমাণবিক বোমায় দুই শহর কার্যত নিশ্চিহ্ন। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ (বেশিরভাগই অসামরিক নাগরিক) নিহত।
  • উদ্বাস্তু: প্রায় ৩ কোটিরও বেশি মানুষ উদ্বাস্তু, বাস্তুহারা বা বিতাড়িত হয় — ইতিহাসের বৃহত্তম মানব স্থানান্তর।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

3 টি
1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণগুলি (Causes of WWII) বিস্তারিত আলোচনা করো। ভার্সাই চুক্তি, ফ্যাসিবাদ-নাৎসিবাদের উত্থান, তুষ্টিকরণ নীতি ও আগ্রাসন কোন কোনভাবে যুদ্ধ ডেকে আনে?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণসমূহ

১. ভার্সাই চুক্তির অবিচার (১৯১৯)

ভার্সাই চুক্তি ছিল 'চাপিয়ে দেওয়া শান্তি' (Dictated Peace): ৪৪০টি ধারা — অধিকাংশই জার্মানিকে অপমান, দুর্বল ও অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করার জন্য নিবেদিত। যুদ্ধের সম্পূর্ণ দায় জার্মানির ওপর (২৩১ ধারা), ৬.৬ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ, সেনাবাহিনী ১ লক্ষে সীমিত, উপনিবেশ কেড়ে নেওয়া, আলসাস-লোরেন ফ্রান্সকে দেওয়া। জার্মানরা একে 'Diktat' বলে কটাক্ষ করে। অপমানের প্রতিশোধ দিতে হিটলারকে তারা সমর্থন দেয়।

২. ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদের উত্থান

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিবাদ (১৯২২) ও জার্মানিতে হিটলারের নাৎসিবাদ (১৯৩৩) ক্ষমতায় আসে। আগ্রাসী সম্প্রসারণবাদ (Lebensraum — জার্মানির বসতি বিস্তার; Mare Nostrum — ইতালির ভূমধ্যসাগরীয় সাম্রাজ্য), একদলীয় একনায়কতন্ত্র ও উগ্র জাতীয়তাবাদ এদের বৈশিষ্ট্য ছিল।

৩. তুষ্টিকরণ নীতি (Appeasement)

ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুদ্ধ এড়াতে হিটলার-মুসোলিনির আগ্রাসী দাবি মেনে নেয়: রাইনল্যান্ড পুনর্দখলে বাধা দেওয়া হয়নি (১৯৩৬), ইতালির আবিসিনিয়া দখল মেনে নেওয়া (১৯৩৫-৩৬), জার্মানির অস্ট্রিয়া দখল (Anschluss, ১৯৩৮), মিউনিখ চুক্তিতে চেকোস্লোভাকিয়ার সুদেতান অঞ্চল জার্মানিকে ছেড়ে দেওয়া (১৯৩৮)। প্রতিটি ছাড়ই হিটলারের ক্ষুধা বাড়ায়।

৪. অক্ষশক্তির ক্রমাগত আগ্রাসন

  • জাপান কর্তৃক মাঞ্চুরিয়া দখল (১৯৩১) ও চীন আক্রমণ (১৯৩৭) — জাতিসংঘের ব্যর্থতা।
  • ইতালি কর্তৃক আবিসিনিয়া আক্রমণ (১৯৩৫) — নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর।
  • জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণ (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯) — সরাসরি যুদ্ধের সূত্রপাত।

৫. তাৎক্ষণিক কারণ

হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণ (১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯)। ব্রিটেন ও ফ্রান্স পোল্যান্ডের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছিল। ৩ সেপ্টেম্বর তারা জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু।

2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রধান ঘটনাপঞ্জি (Timeline) ও যুদ্ধের টার্নিং পয়েন্টগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়রেখা

তারিখঘটনা
১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ — যুদ্ধ সূচনা
৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ ঘোষণা
মে-জুন ১৯৪০ফ্রান্সের পতন, ডানকার্ক উচ্ছেদ
জুলাই-অক্টোবর ১৯৪০ব্রিটেনের যুদ্ধ — জার্মান বিমানবাহিনী (লুফটওয়াফ) পরাজিত
২২ জুন ১৯৪১অপারেশন বারবারোসা — জার্মানি সোভিয়েত রাশিয়া আক্রমণ
৭ ডিসেম্বর ১৯৪১পার্ল হারবার — জাপানের মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ
জানুয়ারি ১৯৪৩স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধে জার্মান আত্মসমর্পণ — প্রথম টার্নিং পয়েন্ট
জুলাই ১৯৪৩কুরস্কের যুদ্ধ — ইতিহাসের বৃহত্তম ট্যাঙ্ক যুদ্ধ
৬ জুন ১৯৪৪ডি-ডে — নর্মান্ডি অবতরণ — দ্বিতীয় টার্নিং পয়েন্ট
৩০ এপ্রিল ১৯৪৫হিটলারের আত্মহত্যা
৮ মে ১৯৪৫জার্মানির আত্মসমর্পণ — V-E Day
৬ আগস্ট ১৯৪৫হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা
৯ আগস্ট ১৯৪৫নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা
২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ — যুদ্ধের সমাপ্তি

টার্নিং পয়েন্ট

  1. স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধ (১৯৪২-৪৩): সোভিয়েত লাল ফৌজ জার্মান ৬ষ্ঠ বাহিনীকে ঘিরে ফেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। এর পর জার্মানি পূর্ব রণাঙ্গনে আর কখনো বড় আক্রমণ চালাতে পারেনি।
  2. ডি-ডে/নর্মান্ডি অবতরণ (জুন ১৯৪৪): পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় রণাঙ্গন খোলা হয় — জার্মানি দুই ফ্রন্টের চাপে পড়ে।
  3. মিডওয়ের যুদ্ধ (জুন ১৯৪২): প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানি নৌবহর মার্কিন নৌবহরের কাছে মারাত্মকভাবে পরাজিত — জাপানের অগ্রগমন স্তব্ধ।
  4. পার্ল হারবার (ডিসেম্বর ১৯৪১): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে সরাসরি যোগ দিলে মিত্রশক্তির শিল্প ও সামরিক শক্তি অক্ষশক্তিকে ছাড়িয়ে যায়।
3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ও পরিণতি — ঠান্ডা যুদ্ধের সূচনা, উপনিবেশবাদের অবসান ও 'তৃতীয় বিশ্ব'-এর উত্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বহুমুখী ফলাফল

১. ঠান্ডা যুদ্ধের সূচনা

যুদ্ধের পর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (পুঁজিবাদী/গণতান্ত্রিক) ও সোভিয়েত রাশিয়ার (সাম্যবাদী) নেতৃত্বাধীন দুই জোটে ভাগ হয়ে যায়। আদর্শগত দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক সন্দেহে ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু:

  • ট্রুম্যান নীতি (১৯৪৭) — কমিউনিজমের প্রসার রোধ।
  • মার্শাল পরিকল্পনা (১৯৪৭) — পশ্চিম ইউরোপ পুনর্গঠন।
  • সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, যুগোস্লাভিয়া, আলবেনিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া)।
  • ন্যাটো (NATO, ১৯৪৯) বনাম ওয়ারশ চুক্তি (১৯৫৫) — সামরিক জোট প্রতিযোগিতা।
  • পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা, মহাকাশ প্রতিযোগিতা।

২. উপনিবেশবাদের অবসান

যুদ্ধে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির (ব্রিটেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলগিয়াম) অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে একে একে মুক্ত হয় — ভারত ও পাকিস্তান (১৯৪৭), শ্রীলঙ্কা (১৯৪৮), মায়ানমার (১৯৪৮), ইন্দোনেশিয়া (১৯৪৯), লিবিয়া (১৯৫১), ভিয়েতনাম (১৯৫৪), ঘানা (১৯৫৭ — সাব-সাহারা আফ্রিকায় প্রথম), ১৯৬০-এর দশকে 'আফ্রিকার বছর' (১৭টি আফ্রিকান রাষ্ট্র স্বাধীন)।

৩. 'তৃতীয় বিশ্ব' ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন

সদ্য স্বাধীন দেশগুলি ঠান্ডা যুদ্ধের কোনো জোটে যোগ না দিয়ে নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করে — জওহরলাল নেহরু, টিটো, নাসের প্রমুখের নেতৃত্বে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) সূচনা। বান্দুং সম্মেলন (১৯৫৫) ও বেলগ্রেড সম্মেলন (১৯৬১) ছিল মাইলফলক।

৪. অন্যান্য ফলাফল

  • জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা (১৯৪৫): যুদ্ধ প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিষ্ঠা। এতে নিরাপত্তা পরিষদে P5 স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা রাখা হয়।
  • মানবাধিকার সনদ (১৯৪৮): যুদ্ধের নৃশংসতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮ সালে UDHR গৃহীত।
  • জার্মানি ও কোরিয়া বিভাজন: জার্মানি পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানিতে (১৯৪৯) এবং কোরিয়া উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় (১৯৪৮) বিভক্ত।
  • নারী অধিকার: যুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ ও পুরুষের অনুপস্থিতিতে কাজ করা নারী অধিকার আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।

মনে রেখো!

শুরু: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ (পোল্যান্ড আক্রমণ) | টার্নিং পয়েন্ট: স্ট্যালিনগ্রাদ (১৯৪৩), ডি-ডে (জুন ১৯৪৪) | হিরোশিমা: ৬ আগস্ট ১৯৪৫, লিটল বয় | নাগাসাকি: ৯ আগস্ট ১৯৪৫, ফ্যাট ম্যান | সমাপ্তি: ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ | মোট মৃত: ৭০-৮৫ মিলিয়ন | ঠান্ডা যুদ্ধ: ১৯৪৭-১৯৯১ | তৃতীয় বিশ্ব: ফ্যানন, নেহরু-টিটো-নাসের, বান্দুং (১৯৫৫)

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে টোকিও উপসাগরে জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল ৬ বছর ১ দিন।

হিরোশিমায় ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে 'লিটল বয়' (Little Boy) নামের ইউরেনিয়াম-ভিত্তিক বোমা এবং নাগাসাকিতে ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে 'ফ্যাট ম্যান' (Fat Man) নামের প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। হিরোশিমার বোমাটির বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ২০,০০০ টন TNT-র সমান, নাগাসাকিরটি ২২,০০০ টন।