Chapter 9: ভারতীয় সংবিধান : গণতন্ত্রের কাঠামো ও জনগণের অধিকার (Indian Constitution)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 31 MCQ | 18 SAQ | 7 Broad Questions
প্রস্তাবনা
সংসদ
পঞ্চায়েত
মৌলিক অধিকার
📜
প্রস্তাবনা
সার্বভৌম | সমাজতান্ত্রিক | ধর্মনিরপেক্ষ
🏛️
শাসন কাঠামো
রাষ্ট্রপতি | প্রধানমন্ত্রী | রাজ্যপাল | মুখ্যমন্ত্রী
🏘️
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন
পঞ্চায়েত | পৌরসভা
⚖️
অধিকার ও কর্তব্য
মৌলিক অধিকার | নারী | দলিত
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
31 টি
1. ভারতের সংবিধান কবে গৃহীত হয়?
ক) ক) ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট
খ) খ) ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর
গ) গ) ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি
ঘ) ঘ) ১৯৪৬ সালের ২৬ নভেম্বর
ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়। পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি (সাধারণতন্ত্র দিবস) থেকে এই সংবিধান স্বাধীন ভারতে কার্যকর হয়।
2. গণপরিষদের (Constituent Assembly) সভাপতি কে ছিলেন?
ক) ক) জওহরলাল নেহরু
খ) খ) ড. ভীমরাও আম্বেদকর
গ) গ) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
ঘ) ঘ) সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল
ব্যাখ্যা: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (Dr. Rajendra Prasad) ভারতের গণপরিষদের (Constituent Assembly) স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনিই পরবর্তীতে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন।
3. সংবিধানের খসড়া কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
ক) ক) জওহরলাল নেহরু
খ) খ) ড. বি.আর. আম্বেদকর
গ) গ) সর্দার প্যাটেল
ঘ) ঘ) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
ব্যাখ্যা: ড. বি.আর. আম্বেদকর (Dr. B.R. Ambedkar) স্বাধীন ভারতের সংবিধানের খসড়া কমিটির (Drafting Committee) সভাপতি ছিলেন। ৭ সদস্যের এই কমিটি সংবিধান রচনার কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন।
4. ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম কথা কী?
ক) ক) ভারত একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র
খ) খ) ভারত একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র
গ) গ) ভারত একটি রাজতন্ত্র
ঘ) ঘ) ভারত একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা: ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble) অনুযায়ী ভারত একটি 'সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র'। ১৯৭৬ সালে ৪২ তম সংশোধনীতে 'সমাজতান্ত্রিক' ও 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দদুটি যুক্ত করে একে 'সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র' করা হয়েছে।
5. ভারতকে 'গণতান্ত্রিক' বলার মূল অর্থ কী?
ক) ক) শাসন ক্ষমতা রাজার হাতে
খ) খ) শাসন ক্ষমতার উৎস ভারতীয় জনগণ— ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন
গ) গ) সবাই শাসন করে
ঘ) ঘ) ধর্মের ভিত্তিতে শাসন
ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানে 'গণতন্ত্র' বলতে বোঝায়— শাসন ক্ষমতার উৎস ও রক্ষক ভারতীয় জনগণ। প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের আইনসভা এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে এই গণতন্ত্র কার্যকর হয়।
6. 'সাধারণতন্ত্র' বা প্রজাতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) বংশানুক্রমিক রাজা বা রানি দ্বারা শাসিত
খ) খ) রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমিক নন— নির্বাচিত হন
গ) গ) সামরিক শাসন
ঘ) ঘ) ধর্মগুরু দ্বারা শাসন
ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানে 'সাধারণতন্ত্র' (Republic) বলতে বোঝানো হয়েছে— ভারতের শাসন ব্যবস্থায় বংশানুক্রমিক কোনো রাজা বা রানি নেই। রাষ্ট্রের শীর্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, যিনি জনগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। শাসনতন্ত্রের উৎস ও রক্ষক ভারতীয় জনগণ।
7. ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যকাল কত বছর?
ক) ক) ৩ বছর
খ) খ) ৪ বছর
গ) গ) ৫ বছর
ঘ) ঘ) ৬ বছর
ব্যাখ্যা: ভারতের রাষ্ট্রপতি (President of India) একটি বিশেষ পদ্ধতিতে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। একই ব্যক্তি একাধিকবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে পারেন। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
8. রাজ্যসভায় সদস্য পদে প্রার্থী হতে সর্বনিম্ন বয়স কত?
ক) ক) ২১ বছর
খ) খ) ২৫ বছর
গ) গ) ৩০ বছর
ঘ) ঘ) ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা: রাজ্যসভা (Rajya Sabha) অর্থাৎ সংসদের উচ্চকক্ষে সদস্য হতে গেলে একজন ব্যক্তিকে কমপক্ষে ৩০ বছর বয়স্ক ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। রাজ্যসভার সদস্যদের মেয়াদ ৬ বছর। প্রতি দুই বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর গ্রহণ করেন।
9. লোকসভার সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?
ক) ক) ২১ বছর
খ) খ) ২৫ বছর
গ) গ) ৩০ বছর
ঘ) ঘ) ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা: লোকসভা (Lok Sabha) অর্থাৎ সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্য পদে প্রার্থী হতে কমপক্ষে ২৫ বছর বয়স হতে হবে। লোকসভা সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
10. উপরাষ্ট্রপতি সংসদের কোন্ কক্ষের সভাপতিত্ব করেন?
ক) ক) লোকসভা
খ) খ) রাজ্যসভা
গ) গ) বিধানসভা
ঘ) ঘ) মন্ত্রীসভা
ব্যাখ্যা: ভারতের উপরাষ্ট্রপতি (Vice-President) পদাধিকারবলে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি লোকসভার কোনো সদস্য নন। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।
11. রাজ্যপাল কে নিয়োগ করেন?
ক) ক) উপরাষ্ট্রপতি
খ) খ) রাষ্ট্রপতি
গ) গ) প্রধানমন্ত্রী
ঘ) ঘ) বিধানসভার স্পিকার
ব্যাখ্যা: রাজ্যপাল (Governor) ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশে পাঁচ বছরের জন্য নিযুক্ত হন। তিনি রাজ্যের জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত হন না। রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হতে কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স্ক ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
12. পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
ক) ক) জেলা পরিষদ
খ) খ) পঞ্চায়েত সমিতি
গ) গ) গ্রাম পঞ্চায়েত
ঘ) ঘ) পৌরসভা
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা (Panchayat Raj System) তিনটি স্তরে বিভক্ত: (১) সর্বনিম্ন স্তরে— গ্রাম পঞ্চায়েত, (২) মাঝের স্তরে— পঞ্চায়েত সমিতি, (৩) সর্বোচ্চ স্তরে— জেলা পরিষদ। কলকাতা ও দার্জিলিং বাদে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলায় জেলা পরিষদ আছে।
13. পৌর এলাকার নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত পরিষদকে কী বলা হয়?
ক) ক) পঞ্চায়েত সমিতি
খ) খ) জেলা পরিষদ
গ) গ) পৌরসভা
ঘ) ঘ) বিধানসভা
ব্যাখ্যা: পৌর এলাকার নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত পরিষদকে পৌরসভা (Municipality) বলা হয়। পৌরসভার কার্যকাল পাঁচ বছর। কাউন্সিলর পরিষদ নিজেদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন।
14. ভারতীয় সংবিধানে কয়টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে?
ক) ক) ৪
খ) খ) ৫
গ) গ) ৬
ঘ) ঘ) ১০
ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের ছয়টি মৌলিক অধিকারের (Fundamental Rights) কথা বলা হয়েছে: (১) সাম্যের অধিকার, (২) স্বাধীনতার অধিকার, (৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, (৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, (৫) শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার, (৬) সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার।
15. মৌলিক কর্তব্য কবে সংবিধানে যুক্ত করা হয়?
ক) ক) ১৯৪৯
খ) খ) ১৯৫০
গ) গ) ১৯৭৬
ঘ) ঘ) ২০০২
ব্যাখ্যা: ১৯৭৬ সালের ৪২ তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকদের দশটি মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৮৬ তম সংশোধনীতে আরও একটি কর্তব্য যুক্ত হয়।
16. পুনা চুক্তি (Poona Pact) কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?
ক) ক) গান্ধি ও জিন্নাহ
খ) খ) গান্ধি ও আম্বেদকর
গ) গ) নেহরু ও জিন্নাহ
ঘ) ঘ) আম্বেদকর ও প্যাটেল
ব্যাখ্যা: পুনা চুক্তি (Poona Pact, ১৯৩২) মহাত্মা গান্ধি ও ড. বি.আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা। এই চুক্তির মাধ্যমে দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের পরিবর্তে যৌথ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা গৃহীত হয়।
17. কোন্ দিবসটিকে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবস (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়?
ক) ক) ১৫ আগস্ট
খ) খ) ২৬ জানুয়ারি
গ) গ) ২৬ নভেম্বর
ঘ) ঘ) ২ অক্টোবর
ব্যাখ্যা: ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় এবং ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র (Republic) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটিকে প্রতি বছর সাধারণতন্ত্র দিবস (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়।
18. সংবিধানের 'প্রস্তাবনা'কে কী বলা হয়?
ক) ক) সংবিধানের হৃদয়
খ) খ) সংবিধানের দর্পণ বা আত্মা
গ) গ) সংবিধানের শিরোনাম
ঘ) ঘ) সংবিধানের সংযোজন
ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় (Preamble) সংবিধানের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবনাকে 'সংবিধানের দর্পণ' বা 'সংবিধানের আত্মা' বলা হয়।
19. পঞ্চায়েত সমিতির কার্যকাল কত বছর?
ক) ক) ১ বছর
খ) খ) ৩ বছর
গ) গ) ৫ বছর
ঘ) ঘ) ৬ বছর
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী পঞ্চায়েত সমিতির (Panchayat Samiti) কার্যকালের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার এই মেয়াদ ছয় মাস বাড়াতে পারে।
20. কোন্ শব্দটি ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ১৯৭৬ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হয়নি?
ক) ক) সমাজতান্ত্রিক
খ) খ) ধর্মনিরপেক্ষ
গ) গ) সার্বভৌম
ঘ) ঘ) সাধারণতন্ত্র
ব্যাখ্যা: মূল সংবিধানে (১৯৫০) ভারতকে 'সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র' বলা হয়েছিল। ১৯৭৬ সালের ৪২ তম সংশোধনীতে শুধুমাত্র 'সমাজতান্ত্রিক' (Socialist) ও 'ধর্মনিরপেক্ষ' (Secular) শব্দদুটি যুক্ত হয়। 'সার্বভৌম' ছিল আগে থেকেই।
21. রাজ্যপাল কাকে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেন?
ক) ক) তাঁর নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে
খ) খ) বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতাকে
গ) গ) রাষ্ট্রপতির নির্দেশে
ঘ) ঘ) প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে
ব্যাখ্যা: রাজ্যপাল (Governor) বিধানসভা নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা বা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) পদে নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভা তাদের কার্যাবলির জন্য বিধানসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
22. সংবিধানের খসড়া কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
ক) ক) ৫
খ) খ) ৭
গ) গ) ৯
ঘ) ঘ) ১২
ব্যাখ্যা: স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার জন্য ৭ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি গঠিত হয়েছিল। ড. বি.আর. আম্বেদকর এই কমিটির সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক ও গভীর আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই কমিটি সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করে।
23. লোকসভার অধ্যক্ষ (স্পিকার) ও উপাধ্যক্ষ (ডেপুটি স্পিকার) কীভাবে নির্বাচিত হন?
ক) ক) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন
খ) খ) লোকসভার সদস্যদের মধ্য থেকে এবং সদস্যদের দ্বারাই নির্বাচিত
গ) গ) প্রধানমন্ত্রী চয়ন করেন
ঘ) ঘ) রাজ্যসভা নির্বাচিত করে
ব্যাখ্যা: লোকসভার অধ্যক্ষ (Speaker) ও উপাধ্যক্ষ (Deputy Speaker) উভয়ই লোকসভার নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে এবং সদস্যদের দ্বারাই নির্বাচিত হন। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে উপাধ্যক্ষ সভার কাজ পরিচালনা করেন।
24. গ্রাম পঞ্চায়েতের সভা ডাকার নিয়ম কী?
ক) ক) বছরে একবার
খ) খ) প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার
গ) গ) প্রতি ছয় মাসে একবার
ঘ) ঘ) জরুরি ভিত্তিতে মাঝে মাঝে
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার গ্রাম পঞ্চায়েতের (Gram Panchayat) সভা ডাকা বাধ্যতামূলক। সভায় সাধারণত সভাপতিত্ব করেন গ্রাম প্রধান (প্রধান)।
25. মহাত্মা গান্ধি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণকে কী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন?
ক) ক) সামাজিক কাজ
খ) খ) স্বরাজ অর্জনের জরুরি শর্ত
গ) গ) ধর্মীয় আচার
ঘ) ঘ) ব্যক্তিগত পছন্দ
ব্যাখ্যা: মহাত্মা গান্ধি ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাবে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণকে 'স্বরাজ অর্জনের জরুরি শর্ত' বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি 'হরিজন' (ঈশ্বরের সন্তান) নামে অস্পৃশ্যদের অভিহিত করতেন এবং তাঁর সাপ্তাহিক পত্রিকার নামও রেখেছিলেন 'হরিজন'।
26. নারীর প্রতি গার্হস্থ্য হিংসা রোধে ভারত সরকার কী আইন প্রণয়ন করেছে?
ক) ক) সতীদাহ বিরোধী আইন
খ) খ) পাৰিবারিক হিংসা প্রতিরোধ আইন (Domestic Violence Act)
গ) গ) যৌতুক বিরোধী আইন
ঘ) ঘ) বাল্যবিবাহ নিবারণ আইন
ব্যাখ্যা: পারিবারিক হিংসা প্রতিরোধ আইন (Protection of Women from Domestic Violence Act, ২০০৫) গার্হস্থ্য নির্যাতনের শিকার নারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। এই আইনের আওতায় শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যায়।
27. ভারতীয় সংবিধানে 'সংখ্যালঘু' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক) ক) শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু
খ) খ) শুধু ভাষাগত সংখ্যালঘু
গ) গ) সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে নয়, সমাজে সংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু
ঘ) ঘ) শুধু জাতিগত সংখ্যালঘু
ব্যাখ্যা: ভারতীয় সংবিধানে 'সংখ্যালঘু' বলতে সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে নয়, বরং সমাজে সংখ্যার ভিত্তিতেই সংখ্যালঘু বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো রাজ্যে জনসংখ্যার নিরিখে কোনো গোষ্ঠীর অনুপাত কম হলে, তাঁরা সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃত।
28. পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
ক) ক) বিধানচন্দ্র রায়
খ) খ) জ্যোতি বসু
গ) গ) প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ
ঘ) ঘ) অজয় মুখার্জি
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) ছিলেন শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ (Prafulla Chandra Ghosh)। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
29. ভারতের সংবিধান কোন্ তারিখ থেকে কার্যকর হয়?
ক) ক) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
খ) খ) ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯
গ) গ) ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০
ঘ) ঘ) ১ নভেম্বর ১৯৫০
ব্যাখ্যা: ভারতের সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গৃহীত হলেও, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়। ২৬ জানুয়ারি তারিখটি ঐতিহাসিক— কেননা ১৯৩০ সালের এই দিনে কংগ্রেস 'পূর্ণ স্বরাজ' দিবস পালন করেছিল। এই দিনটিকে সাধারণতন্ত্র দিবস (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়।
30. গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য পদে প্রার্থী হতে গেলে কোন যোগ্যতা প্রয়োজন?
ক) ক) পঞ্চায়েতের অধীনস্থ ভোটার হতে হবে
খ) খ) কমপক্ষে স্নাতক হতে হবে
গ) গ) সরকারি চাকুরে হতে হবে
ঘ) ঘ) জমির মালিক হতে হবে
ব্যাখ্যা: গ্রাম পঞ্চায়েতের (Gram Panchayat) প্রার্থী হতে হলে ব্যক্তিকে অবশ্যই ওই পঞ্চায়েতের অধীনস্থ ভোটার হতে হবে। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের চাকুরিজীবী কোনো ব্যক্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী হতে পারেন না।
31. পারিবারিক হিংসা প্রতিরোধ আইনের আওতায় কী কী ধরনের নির্যাতন থেকে নারীরা সুরক্ষা পান?
ক) ক) শুধু শারীরিক নির্যাতন
খ) খ) শুধু অর্থনৈতিক নির্যাতন
গ) গ) শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতন
ঘ) ঘ) শুধু মানসিক নির্যাতন
ব্যাখ্যা: পারিবারিক হিংসা প্রতিরোধ আইন (Protection of Women from Domestic Violence Act, ২০০৫) অনুযায়ী নারীদের শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন— এই চার ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করা হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
18 টি
1. ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble) কী? এর প্রধান তাৎপর্য কী?
ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble): সংবিধানের সূচনায় রচিত একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ অংশ, যেখানে সংবিধানের আদর্শ, লক্ষ্য ও মৌলিক মূল্যবোধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবনাকে 'সংবিধানের দর্পণ' বা 'সংবিধানের আত্মা' বলা হয়। মূল বক্তব্য: (১) ভারত একটি 'সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র' (Sovereign Socialist Secular Democratic Republic), (২) সকল নাগরিকের জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা— চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস ও উপাসনার স্বাধীনতা এবং সমানাধিকার ও মর্যাদা ভোগ, (৩) সর্বোপরি ব্যক্তির মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্য-সংহতি নিশ্চিত করা। প্রস্তাবনা থেকে বোঝা যায় যে, ভারতীয় সংবিধানের মূল স্তম্ভ: সার্বভৌমত্ব, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র।
2. ভারতকে 'সার্বভৌম' (Sovereign) রাষ্ট্র বলা হয় কেন?
ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ভারতকে 'সার্বভৌম' (Sovereign) বলা হয়েছে। এর অর্থ: (১) ভারত নিজের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ক্ষমতাশালী, (২) ভারত কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন নয়— আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসন পরিচালনায় ভারত সম্পূর্ণ স্বাধীন, (৩) ভারতীয় জনগণই সার্বভৌমত্বের প্রকৃত অধিকারী— সংবিধানই তার সর্বোচ্চ প্রতিফলন, (৪) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা বিদেশনীতি গ্রহণের ক্ষেত্রেও ভারত নিজস্ব স্বার্থ ও আদর্শ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে।
3. রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির পদ ও কার্যাবলি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
রাষ্ট্রপতি (President): ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের নামমাত্র প্রধান ও জাতির প্রতিনিধি। এক বিশেষ নির্বাচনী পদ্ধতির মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স্ক ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ করেন। সমস্ত আইন ও চুক্তি তাঁর নামে কার্যকর হয়। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ। উপরাষ্ট্রপতি (Vice-President): রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পদাধিকারবলে রাজ্যসভার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি: ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।
4. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি কী কী?
প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) ভারতের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী পদ। তিনিই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকৃত প্রধান। ক্ষমতা ও কার্যাবলি: (১) লোকসভা নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা বা নেত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন, (২) প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মোতাবেক রাষ্ট্রপতি অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগণকে নিয়োগ করেন, (৩) প্রধানমন্ত্রী হলেন রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীসভার মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম, (৪) একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখতে পারেন, (৫) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভা লোকসভার কাছে সমষ্টিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকে। তিনি চাইলে লোকসভা ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে পারেন।
5. পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তরের পরিচয় দাও।
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা (Panchayat Raj System) তিনটি স্তরে বিভক্ত: (১) গ্রাম পঞ্চায়েত (Gram Panchayat)— সর্বনিম্ন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। কতকগুলি পরস্পর সংলগ্ন গ্রাম নিয়ে এর এলাকা নির্ধারিত। প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত। প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সভা ডাকা বাধ্যতামূলক। সভাপতিত্ব করেন গ্রাম প্রধান (প্রধান)। (২) পঞ্চায়েত সমিতি (Panchayat Samiti)— মধ্যবর্তী স্তর। কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি করে ব্লক বা রুক গঠিত হয় এবং ব্লকের নাম অনুসারে পঞ্চায়েত সমিতির নামকরণ করা হয়। ব্লক উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব পঞ্চায়েত সমিতির। মেয়াদ পাঁচ বছর। সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করেন। (৩) জেলা পরিষদ (Zilla Parishad)— সর্বোচ্চ স্তর। পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা ও দার্জিলিং বাদে ১৯টি জেলায় জেলা পরিষদ আছে। মেয়াদ পাঁচ বছর। জেলা পরিষদের সভাপতিত্ব করেন সভাবধিপতি এবং উপস্থিতিতে সহসভাবধিপতি।
6. ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত ছয়টি মৌলিক অধিকার কী কী?
ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের ছয়টি মৌলিক অধিকারের (Fundamental Rights) কথা বলা হয়েছে: (১) সাম্যের অধিকার (Right to Equality)— আইনের চোখে সব নাগরিক সমান, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে, (২) স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom)— বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ, সংঘবদ্ধতা, চলাফেরা ও যেকোনো পেশা গ্রহণের স্বাধীনতা, (৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (Right against Exploitation)— বেগার শ্রম, মানব পাচার ও শিশুশ্রম নিষিদ্ধ, (৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom of Religion)— নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রতিষ্ঠার স্বাধীনতা, (৫) শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার (Cultural and Educational Rights)— সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার, (৬) সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার (Right to Constitutional Remedies)— মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যাওয়ার অধিকার (ড. আম্বেদকর একে 'সংবিধানের প্রাণকেন্দ্র' বলেছেন)। এই অধিকারগুলি আইন ও শাসন বিভাগের বাইরে— সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
7. মৌলিক কর্তব্যগুলি (Fundamental Duties) কী? কবে যুক্ত হয়েছিল?
মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties): সংবিধানের অংশ চতুর্থ-ক (Part IV-A)-তে নাগরিকদের ১০টি মৌলিক কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে ৪২ তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমে ১০টি এবং পরে ২০০২ সালের ৮৬ তম সংশোধনীতে আরও ১টি (শিক্ষা সংক্রান্ত) যুক্ত হয়। প্রধান কর্তব্যসমূহ: (১) সংবিধান, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান, (২) স্বাধীনতা সংগ্রামের মহৎ আদর্শসমূহের অনুসরণ, (৩) ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও সংহতি রক্ষা, (৪) প্রয়োজনে দেশ রক্ষায় অংশ নেওয়া, (৫) ধর্মীয়, ভাষাগত, আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের ঊর্ধ্বে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা ও নারীর মর্যাদাহানিকর আচরণ ত্যাগ, (৬) পরিবেশ সংরক্ষণ, (৭) বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানবতাবোধ ও সংস্কার মানসিকতা গ্রহণ, (৮) জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা ও হিংসা পরিহার, (৯) ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত উন্নতি, (১০) ৬-১৪ বছর বয়সী সন্তান বা পোষ্যের শিক্ষার সুযোগের বাধ্যবাধকতা (২০০২ সালে যুক্ত)।
8. 'ধর্মনিরপেক্ষতা' বলতে ভারতীয় সংবিধান কী বোঝায়?
ভারতীয় সংবিধানের প্রেক্ষিতে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' (Secularism) বলতে বোঝায়: (১) ভারত রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো ধর্ম নেই— রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধর্মকে প্রশ্রয় দেয় না এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখে, (২) রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মের পক্ষে বা বিপক্ষে কথা বলবে না, তবে সব ধর্মের প্রতি সমদৃষ্টি রাখবে, (৩) প্রতিটি নাগরিক তাঁর নিজস্ব বিশ্বাস ও ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো ধর্ম পালন, প্রচার ও পরিবর্তন করতে পারবেন— এতে রাষ্ট্র বা আইনের কোনো বাধা থাকবে না, (৪) ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে সরকারি চাকরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা সুযোগ-সুবিধায় কোনো বৈষম্য করা যাবে না। ১৯৭৬ সালের ৪২ তম সংশোধনীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'ধর্মনিরপেক্ষ' শব্দটি যুক্ত করা হয়।
9. রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
রাজ্যপাল (Governor): রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান ও রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কেন্দ্রের সুপারিশে ৫ বছরের জন্য নিযুক্ত হন। প্রার্থী হতে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে। তিনি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। এছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, রাজ্য লোকায়ুক্ত, রাজ্য তথ্য কমিশনার সহ বিভিন্ন উচ্চপদে নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister): রাজ্যের প্রকৃত শাসক ও মন্ত্রীসভার প্রধান। বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা হিসেবে রাজ্যপাল কর্তৃক নিযুক্ত হন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শেই রাজ্যপাল অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীসভা তাদের কাজের জন্য বিধানসভার কাছে যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকেন। তিনি রাজ্যের নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মুখ্য পরিচালক। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী: শ্রী প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ (১৯৪৭)।
10. গান্ধি-আম্বেদকর পুনা চুক্তি (Poona Pact, ১৯৩২) কী? এর তাৎপর্য কী ছিল?
পুনা চুক্তি (Poona Pact): ১৯৩২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়েরওয়াড়া জেলে অনশনরত মহাত্মা গান্ধি ও দলিত নেতা ড. বি.আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক ঐতিহাসিক সমঝোতা। প্রেক্ষাপট: ব্রিটিশ সরকার ১৯৩২ সালের সাম্প্রদায়িক রায়ে (Communal Award) দলিতদের (তফশিলি জাতি) আলাদা নির্বাচনের (Separate Electorate) অধিকার দেয়। গান্ধি এর তীব্র বিরোধিতা করে আমরণ অনশন শুরু করেন। শর্ত: দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের পরিবর্তে যৌথ নির্বাচনে (Joint Electorate) তফশিলি জাতির জন্য ১৪৮টি (পরে ৭১টি) আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। তাৎপর্য: এই চুক্তি দলিতদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছিল এবং হিন্দু সমাজের বিভাজন ঠেকিয়েছিল, পাশাপাশি গান্ধি অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলনকে রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন।
11. নারীর প্রতি গার্হস্থ্য হিংসা রোধে ভারত সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
ভারত সরকার পারিবারিক হিংসা থেকে নারীদের রক্ষা করতে ২০০৫ সালে পারিবারিক হিংসা প্রতিরোধ আইন (Protection of Women from Domestic Violence Act, ২০০৫) প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায়: (১) শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন— এই চার ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারীদের সুরক্ষা প্রদান করা হয়, (২) নির্যাতিতা নারী আদালতের (ম্যাজিস্ট্রেট) কাছে আবেদন জানাতে পারেন, (৩) প্রতিটি জেলায় একজন 'সুরক্ষা আধিকারিক' (Protection Officer) নিযুক্ত থাকেন, যাঁর কাছে নারী নির্যাতনের অভিযোগ জানানো যায়, (৪) নির্যাতিতাদের বিনামূল্যে আইনি সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জমি ও সম্পত্তিতে সমান অধিকার (সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ২০০৫), এবং শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
12. পৌরসভা (Municipality) কী? কীভাবে গঠিত হয়?
পৌরসভা (Municipality): পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার পৌর অঞ্চলের প্রশাসনিক একক। প্রতিটি পৌর অঞ্চলকে কয়েকটি ওয়ার্ডে (Ward) ভাগ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে প্রতিনিধি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন— যাঁদের কাউন্সিলর (Councillor) বলা হয়। নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত পরিষদকেই পৌরসভা বলা হয়। পৌরসভার মেয়াদ পাঁচ বছর। কাউন্সিলর পরিষদ নিজেদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান (Chairman) ও একজন ভাইস-চেয়ারম্যান (Vice-Chairman) নির্বাচন করেন। পৌরসভার কাজের মধ্যে রয়েছে: পৌর এলাকার রাস্তা, জল নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নাগরিক পরিষেবা প্রদান করা।
13. অস্পৃশ্যতা বিরোধী আন্দোলনে গান্ধির ভূমিকা কী ছিল?
মহাত্মা গান্ধি ১৯২০-এর দশকে অস্পৃশ্যতা বিরোধিতাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে তোলেন। ভূমিকা: (১) ১৯২০ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাবে অস্পৃশ্যতা দূরীকরণকে 'স্বরাজ অর্জনের জরুরি শর্ত' হিসেবে উল্লেখ করেন, (২) অস্পৃশ্যদের তিনি 'হরিজন' (Harijan)— অর্থাৎ 'ঈশ্বরের সন্তান' নাম দেন এবং ১৯৩৩ সালে 'হরিজন' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করে তাঁদের অবস্থার উন্নতির কথা তুলে ধরেন, (৩) সারাদেশে অস্পৃশ্যতা বিরোধী প্রচার, মন্দিরে অস্পৃশ্যদের প্রবেশের দাবিতে আন্দোলন চালান, (৪) ১৯৩২ সালে দলিতদের পৃথক নির্বাচনের বিরুদ্ধে আমরণ অনশন করে পুনা চুক্তি (Poona Pact) স্বাক্ষর করেন এবং যৌথ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব অস্পৃশ্যতা ইস্যুতে গান্ধির মতো সক্রিয় ছিলেন না— যা পরবর্তীকালে দলিত আন্দোলনের নিজস্ব ধারা সৃষ্টিতে প্রভাব ফেলে।
14. 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন ও সংবিধান রচনার মধ্যে কী সম্পর্ক?
১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন (Quit India Movement) এবং ভারতের সংবিধান রচনার মধ্যে সরাসরি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্ক: (১) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের তীব্রতা ও গণজাগরণ ব্রিটিশ সরকারকে উপলব্ধি করিয়েছিল যে, আর জোর করে ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে রাখা সম্ভব নয়— স্বাধীনতার প্রশ্ন এখন সময়ের ব্যাপার, (২) যুদ্ধ শেষে ব্রিটেনের হাতে ভারতীয় দাবি প্রত্যাখ্যান করার মতো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ছিল না— বাধ্য হয়েই তারা ১৯৪৬ সালে সংবিধান সভা গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করে, (৩) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যে আদর্শ— আত্মনির্ভরতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা— তা সংবিধানের চেতনা ও প্রস্তাবনায় প্রতিফলিত হয়েছে, (৪) অন্যদিকে সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের কার্যকলাপ ও রেভিনিউ নৌ-বিদ্রোহ (১৯৪৬) ব্রিটিশদের এই বার্তা দেয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও আর বিশ্বাস করা যাবে না— ফলত সংবিধান সভার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়।
15. স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ কীভাবে নারীর অধিকার চেতনাকে প্রভাবিত করেছিল?
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে (বিশেষ করে আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে) নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নারী অধিকার চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল: (১) রাজনৈতিক আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে নারীরা উপলব্ধি করেন যে, ঘরের বাইরেও তাদের ভূমিকা থাকতে পারে এবং তা প্রয়োজনীয়, (২) মাতঙ্গিনী হাজরা, অরুণা আসফ আলী, সরোজিনী নাইডু, রানি লক্ষ্মীবাইয়ের মতো নেত্রীরা নারীদের আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠেন, (৩) স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীর আত্মবলিদান নারী সমাজের প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সাহায্য করে, (৪) স্বাধীনতা-উত্তরকালে এই চেতনা সাংবিধানিকভাবে নারী-পুরুষ সমানাধিকারের বিধান প্রণয়নের পথ প্রশস্ত করে— যেমন, সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ধারায় সাম্যের অধিকার, ভোটাধিকার, আইনসভা ও চাকরিতে সমান সুযোগের বিধান; পরবর্তীতে পারিবারিক হিংসা রোধ, যৌতুক নিবারণ এবং জমি-সম্পত্তিতে সমানাধিকারের আইনসমূহ।
16. গণপরিষদ (Constituent Assembly) কী? এর গঠন ও কাজ কী ছিল?
গণপরিষদ (Constituent Assembly): ভারতের সংবিধান রচনার জন্য ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে গঠিত একটি নির্বাচিত প্রতিনিধি সভা। এর সদস্যরা মূলত প্রাদেশিক আইন সভার সদস্যদের একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনার জন্য ৭ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি গঠিত হয়— যার সভাপতি ছিলেন ড. বি.আর. আম্বেদকর। কাজ: (১) ভারতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনা, (২) রাষ্ট্রের প্রকৃতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য, কেন্দ্র-রাজ্যের সম্পর্ক, শাসনতন্ত্রের কাঠামো নির্ধারণ, (৩) দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার পর ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সংবিধানটি গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়।
17. পঞ্চায়েতের সদস্যপদে সংরক্ষণ ব্যবস্থা কী? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন (এবং ৭৩ তম সংবিধান সংশোধন) অনুযায়ী পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই (গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ) সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে: (১) তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতির (ST) জন্য জনসংখ্যার অনুপাতে আসন সংরক্ষিত, (২) প্রতিটি স্তরে মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, অর্থাৎ শুধু মহিলা প্রার্থীরাই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ী হতে পারেন। গুরুত্ব: (১) ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীরা সক্রিয়ভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়নে অংশ নিতে পারছেন, (২) এটি তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের (Empowerment) হাতিয়ার, (৩) গ্রামীণ নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ভিতকে আরও সুদৃঢ় করছে।
18. ভারতীয় সংবিধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার কীভাবে রক্ষা করে?
ভারতীয় সংবিধান নানাভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (ধর্মীয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক) অধিকার সুরক্ষা করে: (১) মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে ২৯ ও ৩০ নং ধারায় বলা হয়েছে— কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের অধিকার আছে এবং নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার আছে, (২) সরকারি বা সরকারি-অনুদানপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না, (৩) প্রাথমিক স্তরে ভাষাগত সংখ্যালঘুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা, (৪) সাঁওতালদের 'অলচিকি' লিপির মতো স্থানীয় ভাষা ও লিপি সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছে, (৫) কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি বা রাষ্ট্রীয় আধুনিক সংস্কৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না— এ ব্যাপারে সরকার বা আইনের কোনো হস্তক্ষেপ চলবে না।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
7 টি
1. ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble) কী? প্রস্তাবনায় বর্ণিত 'সার্বভৌম', 'সমাজতান্ত্রিক', 'ধর্মনিরপেক্ষ', 'গণতান্ত্রিক', 'সাধারণতন্ত্র'— এই পাঁচটি শব্দের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
প্রস্তাবনা (Preamble)
ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অংশ, যেখানে সংবিধানের আদর্শ ও লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। একে 'সংবিধানের দর্পণ' বা 'সংবিধানের আত্মা' বলা হয়। মূল বক্তব্য: "আমরা ভারতের জনগণ ভারতকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে গড়িয়া তুলিতে... সংবিধান গ্রহণ করিলাম।"
পাঁচটি শব্দের তাৎপর্য
- সার্বভৌম (Sovereign): ভারত অভ্যন্তরীণ ও বহিঃবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পূর্ণ স্বাধীন। কোনো বিদেশি শক্তি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীন নয়।
- সমাজতান্ত্রিক (Socialist): (১৯৭৬ সালে যুক্ত) ভারতীয় সমাজতন্ত্র বলতে মিশ্র অর্থনীতি— রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত মালিকানার সহাবস্থান, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।
- ধর্মনিরপেক্ষ (Secular): (১৯৭৬ সালে যুক্ত) ভারতের নিজস্ব কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই। সব ধর্মের প্রতি সমদৃষ্টি, কিন্তু রাষ্ট্র ধর্মীয় বিষয়ে নিরপেক্ষ।
- গণতান্ত্রিক (Democratic): শাসন ক্ষমতার উৎস ভারতীয় জনগণ। প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা।
- সাধারণতন্ত্র (Republic): ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমিক নন— নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। শাসনতন্ত্রের উৎস ও রক্ষক ভারতীয় জনগণ।
2. ভারতের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতির ভূমিকা আলোচনা করো। রাজ্যস্তরে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা কী?
কেন্দ্রীয় স্তর
- রাষ্ট্রপতি (President): ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের নামমাত্র প্রধান ও জাতির প্রতিনিধি। ৫ বছরের জন্য বিশেষ নির্বাচনী পদ্ধতিতে নির্বাচিত। প্রার্থী হতে ৩৫ বছর বয়স লাগে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা ও রাজ্যপাল নিয়োগ করেন। সব আইন ও চুক্তি তাঁর নামে কার্যকর হয়। প্রথম রাষ্ট্রপতি: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।
- উপরাষ্ট্রপতি (Vice-President): রাজ্যসভার সভাপতি ও রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। ৫ বছরের জন্য পরোক্ষভাবে নির্বাচিত। ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি: ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ।
- প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister): কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকৃত প্রধান। লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। তাঁর পরামর্শেই অন্যান্য মন্ত্রী নিয়োগ হন।
রাজ্যস্তর
- রাজ্যপাল (Governor): রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কেন্দ্রের সুপারিশে ৫ বছরের জন্য নিযুক্ত। প্রার্থী হতে ৩৫ বছর বয়স। বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করেন।
- মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister): রাজ্যের প্রকৃত শাসক ও মন্ত্রীসভার প্রধান। বিধানসভার কাছে দায়বদ্ধ। রাজ্যের নীতি নির্ধারণ ও উন্নয়নের মুখ্য পরিচালক। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী: প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ (১৯৪৭)।
3. পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর ও পৌরসভার গঠন ও কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কেন গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর
- গ্রাম পঞ্চায়েত (সর্বনিম্ন): কতকগুলি পরস্পর সংলগ্ন গ্রাম নিয়ে গঠিত। প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত সদস্যরা পরিচালনা করেন। প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সভা বাধ্যতামূলক। সভাপতিত্ব করেন গ্রাম প্রধান।
- পঞ্চায়েত সমিতি (মধ্যবর্তী): কয়েকটি গ্রাম নিয়ে একটি ব্লক; ব্লকের নাম অনুসারে এর নাম। ব্লক উন্নয়নের সার্বিক দায়িত্ব। মেয়াদ ৫ বছর। সদস্যরা একজন সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করেন।
- জেলা পরিষদ (সর্বোচ্চ): কলকাতা ও দার্জিলিং বাদে পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জেলায় আছে। মেয়াদ ৫ বছর। সভাপতিত্ব করেন সভাবধিপতি।
পৌরসভা (Municipality)
পৌর এলাকায় ওয়ার্ড অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে গঠিত পরিষদ। মেয়াদ ৫ বছর। কাউন্সিলর পরিষদ নিজেদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন।
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড, কারণ: (১) সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের এলাকার শাসনে অংশ নিতে পারে, (২) নাগরিক চেতনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, (৩) নিচুতলা থেকে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হয়। তফশিলি জাতি-উপজাতি ও মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ তাঁদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটাচ্ছে।
4. ভারতীয় সংবিধানে নারী অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত হয়েছে? গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধে বিশেষ আইন ও শিক্ষার অধিকার নারী ক্ষমতায়নে কতটা জরুরি বলে মনে করো?
সাংবিধানিক সুরক্ষা
ভারতীয় সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। ধারা ১৪: আইনের চোখে সমতা; ধারা ১৫: লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ; ধারা ১৬: সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং জমি ও সম্পত্তিতে সমান অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত (২০০৫)।
পারিবারিক হিংসা প্রতিরোধ আইন, ২০০৫
গার্হস্থ্য হিংসার শিকার নারীদের সুরক্ষায় প্রণীত এই আইন চার ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দেয়: (১) শারীরিক, (২) মানসিক, (৩) অর্থনৈতিক, (৪) যৌন। প্রতি জেলায় একজন 'সুরক্ষা আধিকারিক' নিযুক্ত। বিনামূল্যে আইনি সাহায্যের ব্যবস্থা।
শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন
কেবল আইন পাস করলেই নারীর প্রতি অত্যাচার বন্ধ হবে না। এজন্য প্রয়োজন: (১) নারীশিক্ষার ব্যাপক প্রসার, (২) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা— নারী যদি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন, নির্যাতন সহ্য করার প্রয়োজনীয়তা কমবে, (৩) সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নই নারীর সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।
5. ভারতীয় সংবিধান দলিত, তফশিলি জাতি, উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কী কী সুরক্ষা প্রদান করেছে? গান্ধি-আম্বেদকর পুনা চুক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
সাংবিধানিক সুরক্ষা
- অস্পৃশ্যতা বিলোপ (ধারা ১৭): অস্পৃশ্যতাকে বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা।
- সংরক্ষণ: তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) ও অনগ্রসর শ্রেণির জন্য লোকসভা, বিধানসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে আসন সংরক্ষণ।
- পঞ্চায়েতে সংরক্ষণ: SC/ST-র জনসংখ্যা অনুপাতে সংরক্ষণ এবং মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য।
- উন্নয়নমূলক নীতি: ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ।
পুনা চুক্তি (১৯৩২)
গান্ধির আমরণ অনশনের জেরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুসারে দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের (Separate Electorate) পরিবর্তে যৌথ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা হয়। এর তাৎপর্য: (১) দলিতদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়, (২) হিন্দু সমাজের ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভাজন ঠেকানো যায়, (৩) দলিত নেতৃত্ব এবং কংগ্রেসের মধ্যে সংলাপের ভিত তৈরি হয়, (৪) এই চুক্তিই স্বাধীন ভারতে সংরক্ষণ ব্যবস্থার অগ্রদূত।
6. ভারতীয় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) ও মৌলিক কর্তব্যগুলি (Fundamental Duties) বিস্তারিত আলোচনা করো। অধিকার ও কর্তব্য কীভাবে পরস্পরের পরিপূরক?
৬টি মৌলিক অধিকার
- সাম্যের অধিকার (Article 14-18): আইনের চোখে সকলে সমান, অস্পৃশ্যতা বিলোপ, উপাধি বিলোপ।
- স্বাধীনতার অধিকার (Article 19-22): বাক ও মতপ্রকাশ, সমাবেশ, সংঘবদ্ধতা, চলাফেরা, পেশা গ্রহণের স্বাধীনতা; গ্রেপ্তার ও আটক সংক্রান্ত সুরক্ষা।
- শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার (Article 23-24): বেগার শ্রম, মানব পাচার ও শিশুশ্রম নিষিদ্ধ।
- ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (Article 25-28): নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রতিষ্ঠার স্বাধীনতা।
- শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার (Article 29-30): সংখ্যালঘুদের ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অধিকার।
- সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার (Article 32): মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার— ড. আম্বেদকরকে একে 'সংবিধানের প্রাণকেন্দ্র' বলে অভিহিত করেছেন।
মৌলিক কর্তব্য (১০+১)
১৯৭৬ সালে ৪২ তম সংশোধনীতে ১০টি কর্তব্য যুক্ত হয়। পরে ২০০২ সালে ৮৬ তম সংশোধনীতে আরও ১টি। প্রধান কর্তব্যগুলি: সংবিধান, জাতীয় পতাকা ও সংগীতের প্রতি সম্মান; স্বাধীনতা আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণ; সার্বভৌমত্ব ও ঐক্য রক্ষা; পরিবেশ সংরক্ষণ; বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ; নারীর প্রতি সম্মান; ৬-১৪ বছর বয়সী সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব ইত্যাদি।
অধিকার ও কর্তব্যের পরিপূরকতা
অধিকার ও কর্তব্য একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অন্যের অধিকার রক্ষা করাই আমার কর্তব্য। বাকস্বাধীনতার অধিকার পেলে, সেই বাক্যে অন্যের ধর্ম বা সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা না ছড়ানো কর্তব্য। সংরক্ষিত বনভূমি থেকে উপকৃত হওয়ার অধিকার পেলে, বন ও পরিবেশ রক্ষা করা নাগরিকের কর্তব্য। তাই দায়িত্ববোধ ছাড়া অধিকার ভোগ শুধু ব্যর্থতাই ডেকে আনে।
7. গণপরিষদ (Constituent Assembly) কী? কীভাবে ভারতের সংবিধান রচিত হয়েছিল? প্রস্তাবনা থেকে বোঝা যায় কীভাবে ভারতের সংবিধান সম্পূর্ণরূপে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন?
গণপরিষদের গঠন
১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যগুলির পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত ৩৮৯ সদস্য নিয়ে গণপরিষদ (Constituent Assembly) গঠিত হয়। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ এর স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।
সংবিধান রচনা প্রক্রিয়া
গণপরিষদের অধীনে ড. বি.আর. আম্বেদকরকে সভাপতি করে ৭ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি (Drafting Committee) গঠিত হয়। কমিটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংবিধান (ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থা, আমেরিকার মৌলিক অধিকার, আয়ারল্যান্ডের নির্দেশমূলক নীতি, কানাডার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো) অধ্যয়ন করে ভারতীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান রচনা করে। দীর্ঘ ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার পর ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
প্রস্তাবনায় জনগণের ইচ্ছা
প্রস্তাবনার প্রথম বাক্যই— "We, the people of India..." অর্থাৎ 'আমরা ভারতের জনগণ...'— এই ঘোষণা স্পষ্ট করে যে, এই সংবিধান কোনো রাজা, বাদশাহ বা বহিরাগত শক্তির চাপিয়ে দেওয়া নয়। এটি ভারতীয় জনগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্যে দিয়েই সংবিধানকে সম্পূর্ণরূপে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে গণ্য করা হয়— যেখানে মৌলিক অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্নের কথা বলে।
মনে রেখো!
সংবিধান গৃহীত: ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯ | কার্যকর: ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০। প্রস্তাবনা: সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র। গণপরিষদের সভাপতি: ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ | খসড়া কমিটি: ড. আম্বেদকর। মৌলিক অধিকার: ৬টি। মৌলিক কর্তব্য: ১১টি (১৯৭৬ + ২০০২)। পঞ্চায়েত: ৩ স্তর— গ্রাম, সমিতি, জেলা পরিষদ।
PDF ডাউনলোড
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।
PDF ডাউনলোড