Chapter 6: জাতীয়তাবাদের প্রাথমিক বিকাশ (Early Development of Nationalism)
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 31 MCQ | 20 SAQ | 8 Broad Questions
কংগ্রেস
নরমপন্থী
চরমপন্থী
স্বদেশি
🏛️
কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
১৮৮৫ | A.O. হিউম | বোম্বাই
📝
নরমপন্থী পর্ব
আবেদন-নিবেদন | অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ
⚔️
চরমপন্থী পর্ব
লাল-বাল-পাল | স্বরাজ | বয়কট | স্বদেশি
💣
বিপ্লবী আন্দোলন
ক্ষুদিরাম | অনুষীলন সমিতি
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
31 টি
1. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশাপন্ন কোথায় বসে?
ক) ক) কলকাতা
খ) খ) মাদ্রাজ
গ) গ) বোম্বাই
ঘ) ঘ) পুনা
ব্যাখ্যা: ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বোম্বাই শহরের গোকুলদাস তেজপাল সংস্কৃত কলেজে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পুনায় অধিবেশন করার কথা থাকলেও কলেরার প্রকোপ দেখা দেওয়ায় বোম্বাইতে স্থানান্তরিত করা হয়।
2. জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
ক) ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
খ) খ) দাদাভাই নওরোজি
গ) গ) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) ঘ) অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম
ব্যাখ্যা: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (Womesh Chandra Bonnerjee)। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন।
3. অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম কে ছিলেন?
ক) ক) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
খ) খ) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ আমলা, যিনি কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ছিলেন
গ) গ) ভারতীয় রাজা
ঘ) ঘ) ফরাসি দার্শনিক
ব্যাখ্যা: অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A.O. Hume) ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিলিয়ান। তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে জাতীয়তাবাদী নেতাদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক মঞ্চ গড়তে উদ্যোগী হন। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
4. 'হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' (Safety Valve Theory) কী?
ক) ক) ভারতীয়দের স্বাধীনতা দেওয়ার পরিকল্পনা
খ) খ) ভারতীয়দের অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসকে 'নিরাপত্তা কপাটিকা' হিসেবে ব্যবহারের তত্ত্ব
গ) গ) কংগ্রেস নিষিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র
ঘ) ঘ) হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের তত্ত্ব
ব্যাখ্যা: উইলিয়ম ওয়েডারবার্নের জীবনীতে বলা হয়, হিউম ও লর্ড ডাফরিন যৌথ উদ্যোগে ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য কংগ্রেসের মতো একটি 'নিরাপত্তা কপাটিকা' (Safety Valve) প্রতিষ্ঠা করেন। এই তত্ত্ব দীর্ঘদিন প্রচলিত ছিল। তবে এখন অধিকাংশ ঐতিহাসিক একে সরলীকরণ বলে মনে করেন।
5. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার আগের সময়কালকে (১৮৫৭-১৮৮৫) কী নামে অভিহিত করা হয়?
ক) ক) সংস্কার যুগ
খ) খ) সভাসমিতির যুগ
গ) গ) স্বাধীনতা যুগ
ঘ) ঘ) অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর থেকে ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত সময়কালে অসংখ্য রাজনৈতিক সভা, সমিতি ও জনমত গঠনকারী সংগঠন গড়ে উঠেছিল। তাই এই সময়কালকে 'সভাসমিতির যুগ' (Age of Associations) বলা হয়।
6. বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৮৩৬
খ) খ) ১৮৩৮
গ) গ) ১৮৭৫
ঘ) ঘ) ১৮৭৬
ব্যাখ্যা: বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিকে প্রথম জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলা ভাষা ও বাঙালি স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এই সভা গড়ে ওঠে।
7. ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বা ভারত সভা কে, কবে প্রতিষ্ঠা করেন?
ক) ক) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৮৮৫
খ) খ) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু, ১৮৭৬
গ) গ) দাদাভাই নওরোজি, ১৮৬৭
ঘ) ঘ) বাল গঙ্গাধর তিলক, ১৮৮০
ব্যাখ্যা: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসু ১৮৭৬ সালে ভারত সভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (Indian Association) প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনগণকে একজোট করা।
8. ইলবার্ট বিল বিতর্ক কী নিয়ে ছিল?
ক) ক) ভূমি রাজস্ব
খ) খ) ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয়দের বিচার করার অধিকার
গ) গ) শিক্ষা সংস্কার
ঘ) ঘ) ধর্মীয় অধিকার
ব্যাখ্যা: ১৮৮৩ সালে সি.পি. ইলবার্ট এক বিলের প্রস্তাব করেন, যাতে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার অধিকার দেওয়া হতো। ইউরোপীয়রা তীব্র বিরোধিতা করলে বিলটি প্রত্যাহার করা হয়। এই ঘটনা ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
9. নরমপন্থী (Moderates) নেতৃত্বের মূল কৌশল কী ছিল?
ক) ক) সশস্ত্র বিপ্লব
খ) খ) আবেদন-নিবেদন ও প্রার্থনার মাধ্যমে সংস্কার আদায়
গ) গ) ব্রিটিশ পণ্য বর্জন
ঘ) ঘ) ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়ন
ব্যাখ্যা: প্রথম বিশ বছর (১৮৮৫-১৯০৫) কংগ্রেস নরমপন্থী নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তাঁদের কৌশল ছিল আবেদন, নিবেদন, স্মারকলিপি ও প্রতিনিধি দল প্রেরণের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারকে ভারতীয়দের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে সংস্কার আদায় করা।
10. লাল-বাল-পাল নামে কাদের একত্রে অভিহিত করা হয়?
ক) ক) লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল
খ) খ) লালবাহাদুর শাস্ত্রী, বল্লভভাই প্যাটেল, পালা
গ) গ) লর্ড লিটন, বাল গঙ্গাধর, পলাশি
ঘ) ঘ) লাল, বলরাম, পল্টু
ব্যাখ্যা: 'লাল-বাল-পাল' বলতে চরমপন্থী নেতৃত্বের ত্রয়ীকে বোঝায়: লালা লাজপত রায় (পাঞ্জাব), বাল গঙ্গাধর তিলক (মহারাষ্ট্র) এবং বিপিনচন্দ্র পাল (বাংলা)। এঁরা ছিলেন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে চরমপন্থী বা উগ্রপন্থী ধারার প্রবক্তা।
11. চরমপন্থীদের স্বরাজ বলতে কী বোঝাতেন?
ক) ক) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে স্বায়ত্তশাসন
খ) খ) সম্পূর্ণ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি (পূর্ণ স্বাধীনতা)
গ) গ) শুধু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ঘ) ঘ) জমিদারি প্রথার বিলোপ
ব্যাখ্যা: চরমপন্থী নেতারা 'স্বরাজ' বলতে চূড়ান্ত অর্থে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি বুঝতেন। যেমন বিপিনচন্দ্র পাল ও অরবিন্দ ঘোষ স্পষ্টভাবেই ব্রিটিশের অধীনে থেকে স্বরাজ অসম্ভব বলে প্রচার করতেন। পরে তিলকও ঘোষণা করেন— 'স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার, আমি তা অর্জন করবই'।
12. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সরকারি অজুহাত কী ছিল?
ক) ক) ধর্মীয় বিভাজন
খ) খ) প্রশাসনিক সুবিধা
গ) গ) ভাষাগত বিভাজন
ঘ) ঘ) শিক্ষাকেন্দ্র গঠন
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের পক্ষে সরকারি যুক্তি হিসেবে 'প্রশাসনিক সুবিধা'র কথা বলেছিল। বিশাল বাংলা প্রদেশের (জনসংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ) শাসনকার্য সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য প্রদেশ ভাগ করা জরুরি বলে দাবি করা হয়। তবে জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব এর পিছনে 'ভেদনীতি' (Divide and Rule) দেখেছিলেন।
13. বঙ্গভঙ্গ কবে কার্যকর হয়?
ক) ক) ১৯০৩
খ) খ) ১৯০৫
গ) গ) ১৯০৬
ঘ) ঘ) ১৯১১
ব্যাখ্যা: ১৯০৫ সালের ১৯ জুলাই বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ সালে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হয়। এরই বিরুদ্ধে তীব্র বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়।
14. স্বদেশি আন্দোলনের মূল কর্মসূচি কী ছিল?
ক) ক) বিদেশি দ্রব্য ক্রয়
খ) খ) স্বরাজ, স্বদেশি, বয়কট, জাতীয় শিক্ষা
গ) গ) সশস্ত্র বিপ্লব
ঘ) ঘ) জমিদারি প্রথার বিলোপ
ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালের কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনে চরমপন্থীদের জোরালো প্রচেষ্টায় স্বরাজ, স্বদেশি, বয়কট ও জাতীয় শিক্ষা— এই চারটি কর্মসূচি গৃহীত হয়। স্বদেশি বলতে দেশীয় দ্রব্য ব্যবহার, বয়কট বলতে বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও জাতীয় শিক্ষা বলতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিকল্প গড়ে তোলাকে বোঝানো হয়।
15. সুরাট অধিবেশন (১৯০৭) কেন বিখ্যাত?
ক) ক) স্বাধীনতার প্রস্তাব গৃহীত হয়
খ) খ) নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে কংগ্রেস ভেঙে যায়
গ) গ) প্রথমবার কংগ্রেস সভাপতি ভারতীয় হন
ঘ) ঘ) ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেস নিষিদ্ধ করে
ব্যাখ্যা: ১৯০৭ সালের সুরাট অধিবেশন নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে প্রবল সংঘাতের সাক্ষী। সভাপতি নির্বাচন নিয়ে হল্লা-হট্টগোলের মধ্যে অধিবেশন শেষ হয় এবং কংগ্রেস ভেঙে যায়। নরমপন্থীরা পৃথক ও চরমপন্থীরা পৃথক হয়ে যান। সুরেন্দ্রনাথ ও তিলক ঐক্যবদ্ধ রাখতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
16. বঙ্গভঙ্গ কবে রদ হয়?
ক) ক) ১৯০৯
খ) খ) ১৯১১
গ) গ) ১৯১৯
ঘ) ঘ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: তীব্র আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ (Revocation) করতে বাধ্য হয়। একই সাথে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়। রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে (১৯১১) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
17. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন (Indian Councils Act) কবে পাস হয়?
ক) ক) ১৮৯২
খ) খ) ১৯০৯
গ) গ) ১৯১৯
ঘ) ঘ) ১৯৩৫
ব্যাখ্যা: বড়োলাট লর্ড মিন্টো ও ভারতসচিব জন মর্লের সময় ১৯০৯ সালে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট (মর্লে-মিন্টো সংস্কার) পাস হয়। এতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয় এবং পৃথক নির্বাচনের (Separate Electorate) মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য বিশেষ প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা হয়।
18. ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী কোন্ ব্রিটিশ আধিকারিককে হত্যার চেষ্টা করেন?
ক) ক) লর্ড কার্জন
খ) খ) কিংসফোর্ড
গ) গ) লর্ড ডাফরিন
ঘ) ঘ) লর্ড মিন্টো
ব্যাখ্যা: মুজাফফরপুরের এক ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বিপ্লবীদের বিচারে কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ির উপর বোমা নিক্ষেপ করেন। ভুলক্রমে গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না— মিসেস ও মিস কেনেডি নিহত হন।
19. অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ (Economic Nationalism) এর প্রবক্তা কে?
ক) ক) বাল গঙ্গাধর তিলক
খ) খ) দাদাভাই নওরোজি
গ) গ) অরবিন্দ ঘোষ
ঘ) ঘ) বিপিনচন্দ্র পাল
ব্যাখ্যা: দাদাভাই নওরোজি (Dadabhai Naoroji) ছিলেন অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের (Economic Nationalism) প্রধান প্রবক্তা। তিনি 'Poverty and Un-British Rule in India' গ্রন্থে ভারতের দারিদ্র্য ও সম্পদের বহির্গমন (Drain of Wealth) তত্ত্ব তুলে ধরেন। তাঁর সাথে মহাদেব গোবিন্দ রানাডে ও রমেশচন্দ্র দত্তও এই ধারার অন্যতম পুরোধা ছিলেন।
20. নরমপন্থী নেতাদের কাজকর্মকে বিরুদ্ধবাদীরা কী বলে ব্যঙ্গ করতেন?
ক) ক) রাজনীতি
খ) খ) তিন-দিনের তামাশা
গ) গ) স্বাধীনতার লড়াই
ঘ) ঘ) ঢাক-ঢোল পেটানো
ব্যাখ্যা: নরমপন্থী নেতাদের বার্ষিক অধিবেশনকেন্দ্রিক রাজনীতি— বছর শেষে তিন দিন কংগ্রেস অধিবেশন, কিছু বক্তব্য ও প্রস্তাব গ্রহণ, আর বাকি বছর পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়তা— এই পদ্ধতিকে বিরুদ্ধবাদীরা 'তিন-দিনের তামাশা' বলে ব্যঙ্গ করতেন। চরমপন্থীরা মনে করতেন, বাস্তব কোনো কর্মসূচি ছাড়া এ রাজনীতি অকার্যকর।
21. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন্ রচনায় স্বদেশি আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে?
ক) ক) গোরা
খ) খ) ঘরে বাইরে
গ) গ) ব্যাধি ও প্রতিকার
ঘ) ঘ) স্বদেশি সমাজ
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ব্যাধি ও প্রতিকার' প্রবন্ধে স্বদেশি আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা, হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ, জোরপূর্বক বয়কট ও সাধারণ গরিব মানুষের উপর এর কুপ্রভাব নিয়ে গভীর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, আত্মশক্তির উপর নির্ভর করে ধীরে ধীরে দেশবাসীর মন জয় করাই প্রকৃত স্বদেশি।
22. অনুশীলন সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
ক) ক) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
খ) খ) সতীশচন্দ্র বসু (প্রতিষ্ঠাতা), ক্ষুদিরাম বসু
গ) গ) উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ঘ) ঘ) মতিলাল নেহরু
ব্যাখ্যা: অনুশীলন সমিতি (Anushilan Samiti) ছিল বাংলার একটি বিখ্যাত বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠন। ১৯০২ সালে সতীশচন্দ্র বসুর প্রচেষ্টায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রমথনাথ মিত্র, যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু প্রমুখ বিপ্লবী এর সাথে যুক্ত ছিলেন। শরীরচর্চা ও লাঠিখেলার আড়ালে বিপ্লবী কার্যকলাপ পরিচালিত হতো।
23. বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের রূপ কী ছিল?
ক) ক) এককভাবে হিন্দুদের আন্দোলন
খ) খ) বিভিন্ন বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, যা পরে স্বদেশি আন্দোলনে রূপ নেয়
গ) গ) শুধু মুসলিম আন্দোলন
ঘ) ঘ) ব্রিটিশ কর্মচারীদের আন্দোলন
ব্যাখ্যা: বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন প্রথমে বিভিন্ন বাঙালি সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলমান, শহর-গ্রামের মানুষ রাস্তায় নামে। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন 'স্বদেশি আন্দোলন'-এর রূপ নেয়— বিদেশি দ্রব্য বর্জন, স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহার, জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।
24. সরলা দেবী চৌধুরানী কী উৎসব চালু করেছিলেন?
ক) ক) রাখিবন্ধন উৎসব
খ) খ) শিবাজি উৎসব
গ) গ) প্রতাপাদিত্য উৎসব
ঘ) ঘ) বন্দেমাতরম উৎসব
ব্যাখ্যা: সরলা দেবী চৌধুরানী বাংলার যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও শৌর্যবোধ জাগ্রত করতে 'প্রতাপাদিত্য উৎসব' চালু করেছিলেন। এই উৎসবে কুস্তি, তলোয়ার খেলা, লাঠি খেলা প্রভৃতি শারীরিক কসরতের প্রদর্শনী এবং বীরত্বের জন্য পদক বিতরণ করা হতো। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতাপাদিত্যকে 'জাতীয় বীর' হিসেবে তুলে ধরার বিরোধী ছিলেন।
25. চরমপন্থী নেতারা কেন ইংরেজি শিক্ষা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সমালোচনা করতেন?
ক) ক) তাঁরা অশিক্ষিত ছিলেন
খ) খ) ঔপনিবেশিক শাসনের সমর্থন করার ফলে তাঁরা মনে করতেন এ শিক্ষা ভারতীয়দের 'দাসত্ব'-এর মানসিকতা তৈরি করছে
গ) গ) তাঁরা শুধু সংস্কৃত শিক্ষা চাইতেন
ঘ) ঘ) ব্রিটিশ আইনে বাধ্য হয়ে
ব্যাখ্যা: চরমপন্থীরা ঔপনিবেশিক শাসনের সার্বিক বিরোধিতা করার ফলে ইংরেজি শিক্ষাজাত জাতীয়তাবাদের ধারণারও সমালোচনা করতেন। তাঁদের মতে, ইংরেজি শিক্ষা ভারতীয়দের ব্রিটিশের প্রতি অনুগত করে তুলছে এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে অবজ্ঞা তৈরি করছে। তাই তাঁরা ভারতের অতীত ইতিহাসের 'গৌরবময়' পুনরাবিষ্কারের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
26. মহারানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল?
ক) ক) ভারত ছেড়ে যাওয়ার
খ) খ) ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, আইনের চোখে সমতা, আর কোনো রাজ্য গ্রাস না করার প্রতিশ্রুতি
গ) গ) কংগ্রেসকে স্বীকৃতি
ঘ) ঘ) ভারতীয়দের ভোটাধিকার
ব্যাখ্যা: ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর জারি করা রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে (Queen's Proclamation) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল: ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনায় হস্তক্ষেপ না করা, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আইনের সমান সুরক্ষা, কোম্পানির সন্ধিগুলির সম্মান, আর কোনো দেশীয় রাজ্য গ্রাস না করা এবং যোগ্য ভারতীয়দের চাকরিতে নিয়োগ।
27. বাংলার বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ যে পত্রিকাটি প্রচার করত, তার নাম কী?
ক) ক) হিন্দু প্যাট্রিয়ট
খ) খ) যুগান্তর
গ) গ) সোমপ্রকাশ
ঘ) ঘ) বেঙ্গলি
ব্যাখ্যা: 'যুগান্তর' (Jugantar) পত্রিকা ছিল বাংলার বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মুখপত্র। এই পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পরে ব্রিটিশ সরকার প্রেস আইনের আওতায় এটি বাজেয়াপ্ত করে।
28. স্বদেশি আন্দোলনে কোন্ শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল?
ক) ক) লৌহ-ইস্পাত
খ) খ) বস্ত্রবয়ন, সাবান, দেশলাই, চামড়া শিল্প
গ) গ) বিমান শিল্প
ঘ) ঘ) পারমাণবিক শিল্প
ব্যাখ্যা: স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিদেশি দ্রব্য বর্জনের পাশাপাশি স্বদেশি দ্রব্য উৎপাদনের উদ্যোগ জোরদার হয়। বাংলায় বেঙ্গল কেমিক্যালস (আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়), লক্ষ্মী কটন মিলস, টিনের পাত্র, সাবান, দেশলাই প্রভৃতির দেশীয় কলকারখানা তৈরি হয়। তবে মূলধনের অভাবে বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব হয়নি।
29. কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে কতজন প্রতিনিধি যোগ দেন? কতজন বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ছিলেন?
ক) ক) ১০০; ৫০
খ) খ) ৭২; ৩৮
গ) গ) ৫০; ২৫
ঘ) ঘ) ২০০; ১০০
ব্যাখ্যা: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে (১৮৮৫) ৭২ জন ভারতীয় প্রতিনিধি অংশ নেন, যাদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বোম্বাই প্রেসিডেন্সির। ফলে প্রথম দিকে কংগ্রেসে বোম্বাই ও পশ্চিম ভারতের প্রতিনিধিত্ব ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
30. নরমপন্থীরা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স কত করার দাবি জানিয়েছিলেন?
ক) ক) ১৯ বছর থেকে ২৩ বছর
খ) খ) ২১ বছর থেকে ২৫ বছর
গ) গ) ১৮ বছর থেকে ২১ বছর
ঘ) ঘ) ২৫ বছর থেকে ৩০ বছর
ব্যাখ্যা: নরমপন্থীদের একটি বড়ো দাবি ছিল— সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার বয়স ১৯ বছর থেকে বাড়িয়ে ২৩ বছর করতে হবে এবং ভারত ও লন্ডনে একইসঙ্গে পরীক্ষা নিতে হবে। ব্রিটিশ সরকার উচ্চপদে ভারতীয়দের নিয়োগ এড়াতে পরীক্ষার বয়সসীমা কমিয়ে রেখেছিল।
31. রাখিবন্ধন উৎসব কে, কেন চালু করেছিলেন?
ক) ক) বাল গঙ্গাধর তিলক, হিন্দু ঐক্যের জন্য
খ) খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে
গ) গ) সরলা দেবী, বাঙালি বীরত্বের জন্য
ঘ) ঘ) মহাত্মা গান্ধী, অস্পৃশ্যতা দূর করতে
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় রাখিবন্ধন উৎসব চালু করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রদায়গত বিভেদ ভুলে হিন্দু-মুসলমান সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা। রাখি পরানোর মাধ্যমে আপামর জনসাধারণের মধ্যে ঐক্যের বাণী ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই উৎসব জগন্নাথ ঘাট ও পরে চিৎপুরের বেড়া মসজিদে পালিত হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
20 টি
1. সভাসমিতির যুগ বলতে কী বোঝো? এই যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা-সমিতির নাম করো।
সভাসমিতির যুগ (Age of Associations): ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর থেকে ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার আগের সময়কালকে ইতিহাসবিদেরা 'সভাসমিতির যুগ' বলে অভিহিত করেন। এই সময়ে ভারতীয় শিক্ষিত সমাজ নিজেদের বিভিন্ন স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক দাবিদাওয়া তুলে ধরার জন্য অসংখ্য সভা, সমিতি ও সংগঠন গড়ে তোলেন। গুরুত্বপূর্ণ সভা-সমিতি: (১) বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা (১৮৩৬)— প্রথম জাতীয়তাবাদী সংগঠন বলে চিহ্নিত, (২) জমিদার সভা (১৮৩৮)— প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন, (৩) নবগোপাল মিত্রের জাতীয় মেলা বা হিন্দু মেলা (১৮৬৭), (৪) শিশির কুমার ঘোষের ইন্ডিয়ান লিগ (১৮৭৫), (৫) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দমোহন বসুর ভারত সভা বা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৭৬)। এই সভাসমিতিগুলি পরবর্তী জাতীয় আন্দোলনের ভিত রচনা করে।
2. ইলবার্ট বিল বিতর্ক কী? ভারতীয় জাতীয়তাবাদে এর গুরুত্ব কী ছিল?
ইলবার্ট বিল বিতর্ক (Ilbert Bill Controversy, ১৮৮৩): ভারতে ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থায় একটি বৈষম্যমূলক নিয়ম ছিল— ভারতীয় বিচারকেরা ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারতেন না। লর্ড রিপনের আইনসভার আইন সদস্য সি.পি. ইলবার্ট এই বৈষম্য দূর করতে একটি বিল প্রস্তাব করেন, যা পাস হলে ভারতীয় বিচারকেরা ইউরোপীয় অপরাধীদেরও বিচার করতে পারতেন। ইউরোপীয়রা (বিশেষ করে নীলকর ও চা-বাগান মালিকেরা) ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে বিলটি প্রত্যাহারে বাধ্য করে। গুরুত্ব: এই ঘটনায় ভারতীয় শিক্ষিত সমাজ গভীরভাবে বিক্ষুব্ধ হয়— তাঁরা উপলব্ধি করেন, ইউরোপীয়রা কখনো ভারতীয়দের সমান অধিকার দিতে চায় না। ভারত সভা (ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন) সারা ভারতে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে।<br>ফলাফল: আন্দোলনের জোরে কিছুটা আপসকামী সমাধান হয়— ভারতীয় বিচারকেরা এখন থেকে ইউরোপীয়দের মামলা বিচারের অধিকার পান, যদি তাঁরা সেশন জজ বা তার ঊর্ধ্বের পদে আসীন হন।
3. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য কী ছিল?
প্রেক্ষাপট: (১) ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমে বাড়ছিল, (২) পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয় সমাজ নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সচেতন হচ্ছিলেন, (৩) ইলবার্ট বিল বিতর্ক (১৮৮৩) প্রমাণ করে যে ইউরোপীয়রা ভারতীয়দের সাথে বৈষম্য করতে বদ্ধপরিকর, (৪) সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৮৮৩ সালে কলকাতায় প্রথম সর্বভারতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে একটা জাতীয় মঞ্চের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। উদ্দেশ্য: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ আমলা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম বিভিন্ন প্রদেশের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার উদ্যোগ নেন। ১৮৮৫ সালে বোম্বাইতে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে। কংগ্রেসের উদ্দেশ্য ছিল— সমগ্র ভারতবর্ষের শিক্ষিত ও রাজনৈতিক সচেতন মানুষদের এক মঞ্চে এনে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সাংবিধানিক উপায়ে রাজনৈতিক দাবিদাওয়া উপস্থাপন করা এবং ধীরে ধীরে স্বায়ত্তশাসনের পথ প্রশস্ত করা।
4. নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী ছিল?
নরমপন্থী (Moderates, ১৮৮৫-১৯০৫) ও চরমপন্থীদের (Extremists, ১৯০৫-১৯২০) মধ্যে আদর্শগত ও কৌশলগত ফারাক ছিল। (১) লক্ষ্য: নরমপন্থীরা ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসন চাইতেন— ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে থেকে সংস্কার ও অধিকার আদায়কে লক্ষ্য মানতেন; চরমপন্থীদের লক্ষ্য ছিল 'স্বরাজ'— যা পূর্ণ স্বাধীনতা বা অন্তত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন শাসন। (২) কৌশল: নরমপন্থীদের পদ্ধতি ছিল আবেদন, নিবেদন, প্রার্থনা, স্মারকলিপি ও প্রতিনিধিদল প্রেরণ; চরমপন্থীরা সংঘর্ষ, গণআন্দোলন, বিদেশি দ্রব্য বর্জন (বয়কট), জাতীয় শিক্ষা ও প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের কথা বলেন। (৩) ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি: নরমপন্থীরা ব্রিটিশ শাসনকে 'আইনের শাসন'-এর বাহক বলে বিশ্বাস করতেন ও সহযোগিতা করতেন; চরমপন্থীরা ঔপনিবেশিক শাসনকে মৌলিকভাবেই শোষক ও অবৈধ মনে করতেন। (৪) সামাজিক ভিত্তি: নরমপন্থীরা মূলত ইংরেজি-শিক্ষিত শহুরে ভদ্রলোক (আইনজীবী, ডাক্তার, বড় ব্যবসায়ী); চরমপন্থীদের সমর্থন ছিল তরুণ, ছাত্র, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের মধ্যে।
5. অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ (Economic Nationalism) কী? এর প্রধান প্রবক্তা কারা ছিলেন?
অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ (Economic Nationalism): উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক নীতির যে কাঠামোগত সমালোচনা করে ভারতের দারিদ্র্যের কারণ বিশ্লেষণ করেন, তাকেই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ বলা হয়। প্রধান বক্তব্য: (১) ভারতের সম্পদ নিরন্তর ব্রিটেনে পাচার হয়ে যাওয়ায় (ড্রেন অফ ওয়েলথ) ভারত ধীরে ধীরে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে, (২) উঁচু হারে ভূমি-রাজস্ব আদায় ও চড়া সুদে ঋণে কৃষক নিঃস্ব হচ্ছে, (৩) একপেশে বাণিজ্য নীতি ও শুল্ক কাঠামোর কারণে ভারতীয় পণ্য ব্রিটিশ পণ্যের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে কাশী, (৪) ফলে ভারতের শিল্পায়ন ব্যাহত এবং কৃষি বিপর্যস্ত। প্রধান প্রবক্তা: দাদাভাই নওরোজি (Poverty and Un-British Rule in India, ১৯০১), মহাদেব গোবিন্দ রানাডে (মহারাষ্ট্র) ও রমেশচন্দ্র দত্ত (বাংলা)। তাঁদের এই তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ পরবর্তী জাতীয় আন্দোলনের অর্থনৈতিক ভিত্তি রচনা করে।
6. স্বদেশি আন্দোলনের মূল কর্মসূচি কী কী ছিল? এর সীমাবদ্ধতাগুলি আলোচনা করো。
স্বদেশি আন্দোলনের কর্মসূচি: ১৯০৬ সালের কলকাতা কংগ্রেসে গৃহীত চারটি প্রধান কর্মসূচি ছিল— (১) স্বরাজ (Swaraj): চরমপন্থীদের কাছে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি, (২) স্বদেশি (Swadeshi): দেশীয় দ্রব্যের উৎপাদন, প্রচার ও ব্যবহার, (৩) বয়কট (Boycott): ব্রিটিশ পণ্য, বিশেষ করে বিলিতি কাপড় ও নুন বর্জন, (৪) জাতীয় শিক্ষা (National Education): সরকারি স্কুল-কলেজ বয়কট করে দেশীয় উদ্যোগে জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন (যেমন বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বসূরি)। সীমাবদ্ধতা: (১) আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব ছিলেন বড়ো শহর বা মফস্বলের শিক্ষিত ভদ্রলোক; অধিকাংশ গ্রামীণ সাধারণ জনগণ ও কৃষক এর সাথে যুক্ত হতে পারেননি, (২) স্বদেশি পণ্য ব্যয়বহুল হওয়ায় গরিব মানুষদের উপর তা জোর করে চাপানো হতো— এতে আন্দোলনের প্রতি অনীহা তৈরি হয়, (৩) চরমপন্থী নেতৃত্ব আন্দোলনে হিন্দুধর্মীয় প্রতীক ও দেবদেবীর প্রসঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবহার করতে থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ও বৈষ্ণব কৃষকেরা মানসিকভাবে যুক্ত হতে পারেননি— হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ প্রকট হয়, (৪) ১৯০৮ সালের পর দমন-পীড়ন ও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিবাদে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।
7. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন কীভাবে স্বদেশি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছিল?
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার পর বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বঙ্গভঙ্গ রদ করার আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে এই আন্দোলনে বিভিন্ন বাঙালি সম্প্রদায় (হিন্দু-মুসলমান, ধনী-গরিব) ঐক্যবদ্ধ হয়। দ্রুতই এই আন্দোলন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়কে ধারণ করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাখিবন্ধন উৎসব ও বন্দেমাতরম স্লোগান আন্দোলনে নতুন মাত্রা দেয়। আন্দোলন যখন শুধু বঙ্গভঙ্গ রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামগ্রিক গণজাগরণে রূপ নেয় এবং বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও স্বদেশি দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়— তখনই তা 'স্বদেশি আন্দোলন' (Swadeshi Movement) নামে পরিচিত হয়। ১৯০৬ সালের কলকাতা কংগ্রেস অধিবেশনে চরমপন্থীদের জোরালো সুপারিশে স্বরাজ, স্বদেশি, বয়কট ও জাতীয় শিক্ষা চারটি সরকারি কর্মসূচি হিসেবে গৃহীত হলে স্বদেশি আন্দোলন আনুষ্ঠানিক সর্বভারতীয় রূপ পায়।
8. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বদেশি আন্দোলনের সমালোচনা কেন করেছিলেন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বদেশি আন্দোলনের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল হলেও এর কিছু মৌলিক সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। 'ব্যাধি ও প্রতিকার' প্রবন্ধে তিনি লেখেন: (১) আন্দোলন ক্রমে হিন্দুধর্মীয় রং ধারণ করছে— মুসলমান ও নিম্নবর্গের মানুষ মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, (২) সাধারণ গরিব কৃষক ও সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না যে, শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা কেন তাঁদের ওপর জোর করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহার চাপিয়ে দিচ্ছে— অথচ সেই স্বদেশি পণ্য অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল ও মানে নিম্নমানের, (৩) 'বন্দেমাতরম মন্ত্র পড়িয়া সিপাইয়ের হাত এড়াইবার কোনো সহজ পথ নাই'— অর্থাৎ, নিছক আবেগ ও স্লোগানে প্রকৃত স্বদেশি প্রতিষ্ঠা হবে না, (৪) দেশের শহুরে মানুষকে গ্রামের নিরক্ষর জনগণের কাছে গিয়ে 'আমরা উভয়ে ভাই' বললেই বিশ্বাস জন্মাবে না— আগে তাদের আপন করে নিতে হবে, তাদের হিতসাধনে আন্তরিক হতে হবে।<br>তিনি মনে করতেন, আত্মশক্তি ও গঠনমূলক কাজের (গ্রাম উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য) মাধ্যমেই প্রকৃত স্বদেশি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
9. রাখিবন্ধন উৎসব কী? এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন?
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন উৎসবের (Rakhi Bandhan Utsav) সূচনা করেন। এই উৎসবে সকালে গঙ্গাস্নান সেরে সকলে একে অপরের হাতে রাখী পরাতেন। রবীন্দ্রনাথ নিজে গান রচনা করে দেন— 'বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল— পুণ্য হউক পুণ্য হউক পুণ্য হউক হে ভগবান।'<br>জগন্নাথ ঘাট ও পরে চিৎপুরের বেড়া মসজিদেও গিয়ে রাখী পরানো হয়। এর মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বার্তা দিতে চেয়েছিলেন: রাজনৈতিক আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক বিভেদের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। হিন্দু, মুসলমান সবাই ভাই ভাই— এই ঐক্যই স্বদেশি আন্দোলনের আসল শক্তি। এটি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, একটি সাংস্কৃতিক ও সম্প্রীতির প্রতীকী অনুষ্ঠান।
10. বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ কেন শুরু হয়েছিল? এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কী ছিল?
বিংশ শতকের প্রথম দশকে (বিশেষ করে ১৯০৭-০৮ সাল থেকে) বাংলা ও মহারাষ্ট্রে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ শুরু হওয়ার কারণ: (১) কংগ্রেসের নরমপন্থী 'আবেদন-নিবেদন' নীতির ব্যর্থতা— একটানা বিশ বছরেও ব্রিটিশ সরকার বড় কোনো সংস্কার করেনি, (২) স্বদেশি আন্দোলন ১৯০৮ সালের পর সামাজিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ও দমন-পীড়ন বাড়ে, (৩) বহু তরুণ বিপ্লবী মনে করেন জোরালো প্রতিরোধ ছাড়া শাসকশ্রেণির মনে ভয় জাগানো যাবে না। বৈশিষ্ট্য: (১) মূলত গুপ্ত সমিতি (অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর) ও আখড়ার মাধ্যমে পরিচালিত হতো, (২) অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসক ও তাদের সহযোগী দেশীয় চিহ্নিত করে ব্যক্তিগত সন্ত্রাসের পথ নেওয়া হয়, (৩) ডাকাতির মাধ্যমে অস্ত্র কেনার টাকা জোগাড় করা হতো (বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষের নির্দেশে মানিকতলার বোমা কারখানা), (৪) নির্দিষ্টভাবে 'সামগ্রিক বিপ্লব'-এর বদলে বৃহত্তর জনগণকে সংগঠিত করার কর্মসূচির অভাব ছিল।
11. ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর আত্মত্যাগ সম্পর্কে কী জানো?
ক্ষুদিরাম বসু (১৮ বছর) ও প্রফুল্ল চাকী বিংশ শতকের প্রথম দশকে বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম বিখ্যাত শহীদ। মুজাফফরপুরের ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বিপ্লবীদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতার জন্য কুখ্যাত ছিলেন। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ির ওপর বোমা নিক্ষেপ করেন। কিন্তু ভুলক্রমে সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না— মিসেস ও মিস কেনেডি নামে দুজন ব্রিটিশ মহিলা নিহত হন। প্রফুল্ল ঘটনাস্থলেই ধরা পড়ার আগে নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম ধরা পড়লে বিচারে ফাঁসির আদেশ হয়।<br>ফাঁসির মঞ্চে হাসতে হাসতে শহীদ হন ক্ষুদিরাম। তাঁর শেষ গান ছিল— 'একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি।' তাঁদের এই আত্মত্যাগ সমগ্র বাংলাকে শোক ও ব্রিটিশ-বিরোধী ক্ষোভে উজ্জীবিত করে।
12. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের (১৯০৯) প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
স্বদেশি আন্দোলন, চরমপন্থীদের রাজনৈতিক চাপ ও বিপ্লবী কার্যকলাপের পটভূমিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৯ সালে ভারত-সচিব জন মর্লে ও বড়োলাট লর্ড মিন্টোর সময় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট (মর্লে-মিন্টো সংস্কার) পাস করে। প্রধান বৈশিষ্ট্য: (১) কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদের (Legislative Councils) সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়, (২) প্রথমবারের মতো আইন পরিষদে নির্বাচনের নীতি প্রবর্তিত হয়— যদিও পরোক্ষ নির্বাচন ও সীমিত ভোটাধিকারের মাধ্যমেই, (৩) মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচনের (Separate Electorate) ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়— অর্থাৎ মুসলিম সদস্যরা শুধুমাত্র মুসলিম ভোটারেরাই নির্বাচিত করবেন, (৪) আইন পরিষদগুলিকে বাজেট নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার সীমিত অধিকার দেওয়া হয়।<br>তবে বাস্তবে আইন পরিষদের ক্ষমতা ছিল নামমাত্র— ভেটো বা নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত ক্ষমতা ছিল না; পৃথক নির্বাচন ভারতীয় সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়।
13. সুরাট অধিবেশন ও কংগ্রেস ভাঙন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
সুরাট অধিবেশন (১৯০৭): ১৯০৭ সালে কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন সুরাটে বসে। পুনায় হওয়ার কথা থাকলেও পুনার চরমপন্থীরা শক্তিশালী হওয়ায় নরমপন্থীরা অধিবেশন সুরাটে করার প্রভাব দেন। এই অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচন নিয়ে নরমপন্থী (রাসবিহারী ঘোষ) ও চরমপন্থীদের (লালা লাজপত রায় প্রস্তাবিত) মধ্যে চূড়ান্ত মতবিরোধ দেখা দেয়। হল্লা-হট্টগোলের মধ্যে নরমপন্থীরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখেন এবং চরমপন্থীদের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করেন। কংগ্রেস ভেঙে যায়। নরমপন্থী ফিরোজশাহ মেহতা পরের বছর এলাহাবাদে পৃথক অধিবেশন ডাকেন। অন্যদিকে চরমপন্থী নেতারাও তিলক, অরবিন্দ, বিপিনচন্দ্রের নেতৃত্বে পৃথক কংগ্রেস গড়ার চেষ্টা করেন। তবে কার্যত সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এই ভাঙনের জেরে নরমপন্থী বনাম চরমপন্থী বিভাজনে বহাল থাকে।
14. চরমপন্থীরা কেন ভারতের অতীত ইতিহাসের গৌরব প্রচারে জোর দিয়েছিলেন?
চরমপন্থী নেতারা অনুভব করেছিলেন যে, ঔপনিবেশিক শিক্ষা ও ব্রিটিশ প্রচারণা ভারতীয়দের মধ্যে এক ধরনের 'দাসত্ব মানসিকতা' ও স্বজাতির প্রতি অবজ্ঞা গড়ে তুলেছে। ব্রিটিশ ঐতিহাসিকেরা ভারতের প্রাচীন ইতিহাসকে 'অসভ্য ও বর্বর' বলে চিত্রিত করতেন। এর পালটা হিসেবে চরমপন্থীরা ভারতের প্রাচীন ইতিহাসকে 'গৌরবময়' হিসেবে পুনরাবিষ্কার ও প্রচার করতে শুরু করেন। বাল গঙ্গাধর তিলক মহারাষ্ট্রে শিবাজি উৎসব ও গণপতি উৎসব চালু করেন— যেখানে শিবাজিকে 'হিন্দু স্বাধীনতার প্রতীক' হিসেবে তুলে ধরা হয়। বাংলায় সরলা দেবী প্রতাপাদিত্য উৎসব চালু করেন। তাঁদের মতে, 'জাতীয় আদর্শ' গড়ে তুলতে হলে অতীতের বীরত্ব ও গৌরবকে সামনে রাখতে হবে। তবে এই প্রচেষ্টার সমস্যা ছিল— গৌরবময় ইতিহাস প্রায় সবক্ষেত্রেই 'হিন্দুদের গুণকীর্তনে' পরিণত হচ্ছিল, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করে।
15. বঙ্গভঙ্গের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।
কারণ: ব্রিটিশ সরকার সরকারি ভাবে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল 'প্রশাসনিক সুবিধা' (Administrative Convenience)— বাংলা প্রদেশের জনসংখ্যা তখন প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষে পৌঁছেছিল, যা একজন গভর্নরের পক্ষে কার্যকরভাবে শাসন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ১৯০৫ সালের ১৯ জুলাই বড়োলাট লর্ড কার্জন সরকারিভাবে বাংলা বিভাজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন এবং ১৬ অক্টোবর তা কার্যকর করেন। তবে প্রকৃত উদ্দেশ্য: জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব ও ইতিহাসবিদদের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল 'ভেদনীতি' (Divide and Rule)— ঐক্যবদ্ধ বাংলা ও বাঙালিদের রাজনৈতিক বিরোধিতার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেওয়া। ধর্মীয় ভিত্তিতে (পূর্ববঙ্গে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ) বিভাজনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করা হয়। ফলাফল: (১) বাংলায় তীব্র বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশি আন্দোলনের জন্ম, (২) স্বদেশি, বয়কট ও জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের প্রসার, (৩) কংগ্রেসে চরমপন্থী ধারার উত্থান ও নরমপন্থী-চরমপন্থী ভাঙন, (৪) বাংলার বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের তীব্রতা। অবশেষে ১৯১১ সালে সরকারিকে আন্দোলনের জোরে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
16. প্রথম কুড়ি বছরে কংগ্রেস নেতৃত্বের সামাজিক গঠন ও সীমাবদ্ধতা কী ছিল?
সামাজিক গঠন: কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছরে (১৮৮৫-১৯০৫) নেতৃত্ব ছিল মূলত পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, ইংরেজি-জানা, উচ্চবর্ণীয় 'সম্মাননীয়' পেশার (আইনজীবী, ডাক্তার, সাংবাদিক, জমিদার, বড় ব্যবসায়ী) ভদ্রলোকদের হাতে। প্রথম অধিবেশনে (১৮৮৫) ৭২ জন প্রতিনিধির মধ্যে ৩৮ জনই বোম্বাই প্রেসিডেন্সি থেকে। মুখে 'সর্বভারতীয়ত্বের' ডাক দিলেও বাস্তবে নেতৃত্ব ছিল এক সংকীর্ণ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক। সীমাবদ্ধতা: (১) ভারতীয় সমাজের সব স্তরের মানুষ কংগ্রেসের মধ্যে ছিলেন না— নিম্নবর্গ, কৃষক, উপজাতি ও দলিত সম্প্রদায় প্রায় সম্পূর্ণ বাইরে, (২) জমিদার ও বড় ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তার কারণে কৃষক ও শ্রমিকের স্বার্থরক্ষার কোনো প্রকৃত কর্মসূচি ছিল না, (৩) মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব দুই-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় ছিলই না, (৪) ফলে প্রথম কুড়ি বছরের বাষিক অধিবেশনগুলিতে সামাজিক সমস্যার আলোচনা প্রায় হতো না— রাজনীতি ছিল 'নিরাপদ' বিষয়ে সীমাবদ্ধ।
17. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বদেশি যুগের স্মৃতিচারণ থেকে কী জানতে পারা যায়?
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র ও খ্যাতনামা চিত্রকর) তাঁর স্মৃতিচারণে স্বদেশি যুগের এক প্রাণবন্ত ছবি এঁকেছেন: (১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবিকাকা)-এর নেতৃত্বে ভারতমাতার ছবি আঁকা, স্বদেশি গান রচনা ও চাঁদা তোলা; (২) বাড়িতে চরকা কাটা, তাঁত বোনা, সুতো রোদে দেওয়া এবং ছোটো ছোটো গামছা তৈরি করে দেশীয় কাপড় পরার উৎসাহ; (৩) গঙ্গাস্নান সেরে রাখী পরানো, 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' গান গাইতে গাইতে রাস্তায় মিছিল— এতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে যোগ দিয়েছিলেন, (৪) তবে পরে একদল নেতা যখন বিলিতি জিনিস বলপূর্বক বয়কট করা ও জোরজবরদস্তির পরামর্শ দেন, রবীন্দ্রনাথ তা থেকে সরে আসেন— তিনি বিশ্বাস করতেন স্বেচ্ছায় মন পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রকৃত স্বদেশি হবে।<br>সামগ্রিক ভাবে, অবনীন্দ্রনাথের স্মৃতিচারণ থেকে স্বদেশি যুগের আদি পর্বের নৈতিক উচ্চতা, সাংস্কৃতিক উদ্দীপনা এবং ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক চরমপন্থায় পর্যবসিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
18. জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠায় হিউমের ভূমিকা কতটা ছিল? 'হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব'র সমালোচনা করো।
অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম (A.O. Hume) ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিলিয়ান, যিনি ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে জাতীয়তাবাদী নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। পুনায় প্রথম বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কলেরার প্রকোপে বোম্বাইতে ১৮৮৫ সালে প্রথম কংগ্রেস অধিবেশন বসে। হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: ১৯১৩ সালে উইলিয়ম ওয়েডারবার্নের লেখা হিউমের জীবনীতে দাবি করা হয়, হিউম ও বড়োলাট লর্ড ডাফরিন গোপনে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে কংগ্রেস গড়ে তোলেন— যাতে ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ একটি 'নিরাপত্তা কপাটিকা'র (Safety Valve) মাধ্যমে বেরিয়ে যায় এবং তা বড়ো কোনো বিদ্রোহে রূপ নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রিত থাকে। সমালোচনা: এই তত্ত্ব অতিসরলীকরণ ও খণ্ডনযোগ্য— কারণ (১) কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রায় অর্ধশতক আগে থেকেই ভারতীয় রাজনৈতিক সভাসমিতি গড়ে উঠছিল— কংগ্রেস ছিল তারই যৌক্তিক পরিণতি, (২) ভারতীয় নেতৃত্ব (উমেশচন্দ্র, নওরোজি, রানাডে) কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার ছিলেন না, (৩) বড়োলাট ডাফরিন নিজেই কংগ্রেসকে সন্দেহের চোখে দেখতেন।
19. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ব্যাধি ও প্রতিকার' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কী?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৭ সালের দিকে 'ব্যাধি ও প্রতিকার' নামে একটি প্রবন্ধ রচনা করেন, যেখানে তিনি স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির গভীর সমালোচনা করেন। মূল বক্তব্য: (১) আন্দোলন এক শ্রেণির শিক্ষিত শহুরে মানুষ সীমাবদ্ধ— গরিব চাষা ও নিরক্ষর গ্রামীণ মানুষ তাকে বুঝতে পারছে পণ্ডিত, তাদের সাথে নেতৃত্বের কোনো মানসিক যোগাযোগ নেই; (২) যখন শিক্ষিত নেতারা নিরক্ষর গ্রামের মানুষের কাছে গিয়ে বলেন 'আমরা উভয়ে ভাই'— তারা তা বিশ্বাস করে না, কারণ আগে তো কখনো ভাই বলে কাছে আসেনি; (৩) মুসলমান সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই ভয় পেয়ে গেছে যে এ আন্দোলন হিন্দুয়ানি রং পাচ্ছে— হিন্দু-মুসলমানের মিলনের যে সুযোগ ছিল, তা নষ্ট হচ্ছে; (৪) শ্লোগান আর প্রতীক ব্যবহার করলেই প্রকৃত স্বদেশি হবে না— দেশের মানুষকে ভালোবাসতে শিখতে হবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ দেখাতে হবে।
20. বাংলার বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা ও প্রভাব কী ছিল?
সীমাবদ্ধতা: (১) বিপ্লবীদের কার্যকলাপ গুপ্ত ও গোপন থাকায় তারা কখনোই বৃহত্তর জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি, (২) তহবিলের অভাবে এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের নজরদারির কারণে অধিকাংশ পরিকল্পনা ধরা পড়ে যায় অথবা ব্যর্থ হয়, (৩) একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ কখনোই ঔপনিবেশিক যন্ত্রকে নাড়া দিতে পারেনি— বরং দমন-পীড়ন বাড়িয়েছে, (৪) নরমপন্থী নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়ে বিপ্লবীদের 'গোরা-হত্যা ও মজলুমি' বলে আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। প্রভাব: (১) তাঁদের আত্মবলিদান, দুঃসাহস ও আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মকে তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল, (২) মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯) সহ কিছু প্রশাসনিক ছাড়ের পিছনে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিকেরা মনে করেন, (৩) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদীদের উত্তরাধিকার এক অবিচ্ছেদ্য গৌরবময় অধ্যায়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর
8 টি
1. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও প্রাথমিক কর্মসূচি আলোচনা করো। 'হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব' কী? এর সমালোচনা করো।
প্রেক্ষাপট
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের পর ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় শিক্ষিত সমাজের মধ্যে সচেতনতা ও অসন্তোষ ক্রমে বাড়ছিল। ১৮৫৭ থেকে ১৮৮৫ পর্যন্ত সময়কাল 'সভাসমিতির যুগ' নামে পরিচিত— এই সময়ে ইন্ডিয়ান লিগ (১৮৭৫), ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (১৮৭৬) সহ বহু রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ইলবার্ট বিল বিতর্ক (১৮৮৩) ইউরোপীয়দের ভারতীয়-বিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট করে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
প্রতিষ্ঠা ও উদ্দেশ্য
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম-এর উদ্যোগে ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে বোম্বাইতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (Indian National Congress) প্রথম অধিবেশন বসে। সভাপতি ছিলেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য ছিল: (১) ভারতীয় জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, (২) ব্রিটিশ সরকারের কাছে সাংবিধানিক উপায়ে দাবিদাওয়া পেশ, (৩) ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি স্থাপন।
হিউম-ডাফরিন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও সমালোচনা
উইলিয়ম ওয়েডারবার্নের মতে, হিউম ও বড়োলাট লর্ড ডাফরিন মিলে কংগ্রেসকে একটি 'নিরাপত্তা কপাটিকা' (Safety Valve) হিসেবে গড়ে তোলেন— যাতে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বাষ্প নিয়ন্ত্রিতভাবে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদেরা এই তত্ত্বকে অতিসরলীকরণ মনে করেন। কারণ: (১) কংগ্রেসের আগেই ভারতীয়দের নিজস্ব দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইতিহাস ছিল, (২) প্রথম কংগ্রেসেই উমেশচন্দ্র ঘোষণা করেন— 'কংগ্রেস কোনো ব্রিটিশ-বিদ্বেষী মঞ্চ নয়', (৩) ডাফরিন নিজেই পরে কংগ্রেসের বিরোধী হয়ে যান।
2. কংগ্রেসের নরমপন্থী পর্বের (১৮৮৫-১৯০৫) কর্মকাণ্ড, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো। অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ কীভাবে এই পর্বের প্রধান অবদান ছিল?
নরমপন্থী পর্ব (মডারেট ফেজ)
কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছর নরমপন্থী নেতৃত্বের (দাদাভাই নওরোজি, ফিরোজশাহ মেহতা, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, গোপালকৃষ্ণ গোখলে) হাতে ছিল।
কর্মকাণ্ড ও কৌশল
- আবেদন-নিবেদন: ব্রিটিশ সরকার ও পার্লামেন্টের কাছে স্মারকলিপি, প্রতিনিধি দল প্রেরণের মাধ্যমে সংস্কার দাবি।
- বার্ষিক অধিবেশন: বছরে একবার তিনদিনের জন্য অধিবেশন বসত— বক্তৃতা, প্রস্তাব গ্রহণ, তারপর নিষ্ক্রিয়তা। বিরুদ্ধবাদীরা একে 'তিন-দিনের তামাশা' বলতেন।
- প্রধান দাবি: সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স ১৯ থেকে ২৩ করা, ভারত ও ইংল্যান্ডে একসঙ্গে পরীক্ষা, আইনসভায় ভারতীয়দের বেশি প্রতিনিধিত্ব, সামরিক ব্যয় হ্রাস।
সাফল্য
আবেদনের পথে বড়ো কোনো সাফল্য না মিললেও কংগ্রেস একটি সর্বভারতীয় মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারতীয়দের মধ্যে ধীরে ধীরে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করে।
অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ
নরমপন্থী পর্বের সবচেয়ে বড়ো অবদান ছিল অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ। দাদাভাই নওরোজির ড্রেন অফ ওয়েলথ তত্ত্ব, রানাডে ও রমেশচন্দ্র দত্তের রচনা— প্রমাণ করে কীভাবে ব্রিটিশ নীতি ভারতীয় অর্থনীতি, শিল্প ও কৃষিকে ধ্বংস করছে।
সীমাবদ্ধতা
- নেতৃত্ব ছিল উচ্চবর্ণীয়, ইংরেজি-শিক্ষিত, শহুরে ভদ্রলোকেদের মধ্যে আবদ্ধ— কৃষক, শ্রমিক, দলিত ও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব ছিল না।
- ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অতিমাত্রায় আস্থা ও আনুগত্য।
- সরকারের কাছে দাবি মানানোর মতো সংগঠিত জনবল বা কর্মসূচি ছিল না।
3. চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণ ও কর্মসূচি আলোচনা করো। বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন কীভাবে স্বদেশি আন্দোলনে রূপ নেয় এবং এর ফলাফল কী হয়?
চরমপন্থী উত্থানের কারণ
- নরমপন্থী নীতির ব্যর্থতা: একটানা বিশ বছরের আবেদন-নিবেদনের পরও ব্রিটিশ সরকার বড়ো কোনো সংস্কার করেনি।
- লর্ড কার্জনের শাসন: ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও জাতীয়তাবাদী জাগরণ সৃষ্টি করে।
- তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ: ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম ব্রিটিশ শাসনের নিপীড়নমূলক চরিত্র প্রত্যক্ষ করে নরমপন্থী ধীরস্থিরতার চেয়ে সরাসরি আন্দোলনের পক্ষে ছিল।
প্রধান নেতৃত্ব: লাল-বাল-পাল
লালা লাজপত রায় (পাঞ্জাব), বাল গঙ্গাধর তিলক (মহারাষ্ট্র), বিপিনচন্দ্র পাল (বাংলা) এবং অরবিন্দ ঘোষ।
বঙ্গভঙ্গ থেকে স্বদেশি
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার দিনটি বাংলায় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাখিবন্ধন উৎসব হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে বঙ্গভঙ্গ রদের আন্দোলন ব্যাপক গণজাগরণে পরিণত হয় এবং বিদেশি দ্রব্য বর্জন (বয়কট) ও স্বদেশি দ্রব্যের ব্যবহার জোরদার হয়ে স্বদেশি আন্দোলন গড়ে ওঠে।
ফলাফল
- ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ।
- স্বদেশি শিল্প (বেঙ্গল কেমিক্যাল, লক্ষ্মী কটন মিলস) গড়ে ওঠে।
- জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ও জাতীয় বিদ্যালয় (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বসূরি) প্রতিষ্ঠা।
- কংগ্রেসে চরমপন্থী-নরমপন্থী ভাঙন।
- বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের তীব্রতা।
4. বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের উত্থানের কারণ, প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো। ক্ষুদিরাম বসু ও অনুষীলন সমিতির ভূমিকা উল্লেখ করো।
উত্থানের কারণ
- নরমপন্থী নীতির ব্যর্থতা: কংগ্রেসের 'আবেদন-নিবেদন' নীতি ব্যর্থ প্রমাণিত হওয়ায় তরুণেরা সরাসরি প্রতিরোধের পক্ষে মত দেন।
- স্বদেশি আন্দোলনের দুর্বলতা: ১৯০৮ সালের পর স্বদেশি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ব্রিটিশ দমন-পীড়ন তীব্রতর হয়।
- আদর্শগত প্রেরণা: ভারতের প্রাচীন গৌরব, ইতালির মাৎসিনি ও রাশিয়ার নিহিলিস্ট আন্দোলন তরুণদের অনুপ্রাণিত করে।
- লর্ড কার্জনের দমনপীড়ন: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব, সমাবেশ আইন জারি।
প্রধান বৈশিষ্ট্য
- গুপ্ত সমিতি: অনুশীলন সমিতি (প্রতিষ্ঠাতা: সতীশচন্দ্র বসু, ১৯০২), যুগান্তর দল— এরা গোপনে কাজ করত।
- ব্যক্তিগত সন্ত্রাস: অত্যাচারী ব্রিটিশ আধিকারিক ও তাঁদের দেশীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করে হত্যার পরিকল্পনা।
- ডাকাতি: অস্ত্র কেনার অর্থ যোগাড় করতে 'স্বদেশী ডাকাতি'।
- বোমা কারখানা: মানিকতলায় বারীন্দ্রকুমার ঘোষের নির্দেশে বোমা তৈরির কারখানা (১৯০৮ সালে আবিষ্কৃত)।
ক্ষুদিরাম বসু (ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী)
১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল মুজাফফরপুরের দুরাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা নিক্ষেপ। ভুলক্রমে দুজন ইউরোপীয় মহিলা নিহত। প্রফুল্ল আত্মহত্যা, ক্ষুদিরাম ফাঁসিতে শহীদ। তাঁর শেষ গান: 'একবার বিদায় দে মা, ঘুরে আসি'।
সীমাবদ্ধতা
- বৃহত্তর জনগণকে সংগঠিত করার কোনো কর্মসূচি ছিল না।
- গোপন কার্যকলাপ আবিষ্কৃত হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পরিকল্পনা ব্যর্থ।
- সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ ব্রিটিশ শাসনের মূল কাঠামোকে নাড়াতে পারেনি, বরং দমন-পীড়ন আরও বাড়িয়েছে।
5. বাংলার স্বদেশি আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি কী ছিল? রাখিবন্ধন উৎসব, বন্দেমাতরম, জাতীয় শিক্ষা ও স্বদেশি শিল্পের ভূমিকা আলোচনা করো।
সাংস্কৃতিক কর্মসূচি
- রাখিবন্ধন উৎসব (১৯০৫): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রবর্তিত। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলে গঙ্গাস্নান করে একে অপরের হাতে রাখী পরাতেন। 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' গানটি এই উৎসবের অঙ্গ। চিৎপুরের বেড়া মসজিদেও রাখী পরানো হয়।
- বন্দেমাতরম: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের এই গান স্বদেশি আন্দোলনের জাতীয় মন্ত্রে পরিণত হয়। 'বন্দে মাতরম্' স্লোগান ব্রিটিশ পুলিশের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- প্রতাপাদিত্য ও শিবাজি উৎসব: সরলা দেবী চৌধুরানী 'প্রতাপাদিত্য উৎসব' এবং তিলক মহারাষ্ট্রে 'শিবাজি উৎসব' চালু করে বীরত্ব ও জাতীয় গৌরববোধ জাগ্রত করেন।
অর্থনৈতিক কর্মসূচি
- স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহার ও বিদেশি দ্রব্য বর্জন (বয়কট): বিলিতি কাপড়, নুন, চিনি পোড়ানো হয়। স্বদেশি মোটা খদ্দর কাপড় পরা জাতীয় কর্তব্য হয়ে ওঠে।
- স্বদেশি শিল্প স্থাপন: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের 'বেঙ্গল কেমিক্যালস', লক্ষ্মী কটন মিলস, টিনের পাত্রের কারখানা, সাবান ও দেশলাইয়ের কলকারখানা— স্বল্প পরিসরে গড়ে ওঠে।
- জাতীয় শিক্ষা: সরকারি স্কুল-কলেজ বর্জন করে 'বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজ' (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বসূরি) ও ঢাকার সোনারড জাতীয় বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
তবে মূলধনের অভাবে স্বদেশি শিল্প দীর্ঘমেয়াদী রূপ পায়নি এবং অধিকাংশ স্বদেশি পণ্য ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ গরিব মানুষদের উপর তা জোর করে চাপানো হয়েছিল— যা আন্দোলনের প্রতি অনীহা তৈরি করে।
6. বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) কী? এর সরকারি যুক্তি ও প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল? বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের ধারা ও চূড়ান্ত ফলাফল আলোচনা করো।
বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal, ১৯০৫)
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বড়োলাট লর্ড কার্জনের নির্দেশে বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত হয়— পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে একটি নয়া প্রদেশ (জনসংখ্যা ৩ কোটি ১০ লক্ষ, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ) এবং পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে অপর প্রদেশ (হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ)।
সরকারি যুক্তি
প্রশাসনিক সুবিধা (Administrative Convenience)— বাংলা প্রদেশ ৭ কোটি ৮০ লক্ষ জনসংখ্যার বিশালতা শাসনকার্য পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি করছিল।
প্রকৃত উদ্দেশ্য
জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব ও ইতিহাসবিদদের মতে— 'ভেদনীতি' (Divide and Rule)। ঐক্যবদ্ধ বাংলাই ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রাণকেন্দ্র। ধর্মীয় ভিত্তিতে বাংলা ভাগ করে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করাই ছিল প্রকৃত উদ্দেশ্য।
বিরোধী আন্দোলনের ধারা
- শোক দিবস: ১৬ অক্টোবর 'শোক দিবস' পালন। প্রতিবাদ সভা, হরতাল।
- রাখিবন্ধন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রাখি পরানো— হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির প্রতীক।
- স্বদেশি ও বয়কট: বিদেশি দ্রব্য বর্জন, স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহার।
- জাতীয় শিক্ষা: সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্জন, জাতীয় স্কুল ও কলেজ স্থাপন (১৯০৬)।
চূড়ান্ত ফলাফল
১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।
7. নরমপন্থী ও চরমপন্থী— কংগ্রেসের এই দুই ধারার মধ্যে আদর্শ, কৌশল ও লক্ষ্যের পার্থক্য কী ছিল? সুরাট অধিবেশন (১৯০৭) ও কংগ্রেস ভাঙনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।
তুলনামূলক পার্থক্য
| বিষয় | নরমপন্থী (Moderates) | চরমপন্থী (Extremists) |
| সময়কাল | ১৮৮৫-১৯০৫ | ১৯০৫-১৯২০ |
| লক্ষ্য | ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসন | স্বরাজ (পূর্ণ স্বাধীনতা) |
| কৌশল | আবেদন-নিবেদন, প্রতিনিধিদল | গণআন্দোলন, বয়কট, স্বদেশি, নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ |
| ব্রিটিশের প্রতি দৃষ্টি | সহযোগিতাপূর্ণ, 'আইনের শাসনের বাহক' | বিরোধী, 'শোষক ও অবৈধ' |
| প্রধান নেতা | দাদাভাই নওরোজি, গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ | লাল-বাল-পাল, অরবিন্দ ঘোষ |
| সামাজিক ভিত্তি | শহুরে উচ্চবর্গীয় ভদ্রলোক | তরুণ, ছাত্র, মধ্যবিত্ত |
সুরাট অধিবেশন (১৯০৭)
১৯০৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে চরমপন্থীদের দাবির মুখে স্বরাজ, স্বদেশি, বয়কট ও জাতীয় শিক্ষা— এই চারটি কর্মসূচি গৃহীত হয়, যা নরমপন্থীদের অনেকেই সমর্থন করেননি। ১৯০৭ সালে সুরাট অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম সংঘর্ষ হয়। নরমপন্থী রাসবিহারী ঘোষকে সভাপতি করে চরমপন্থীদের বাদ দিয়ে নরমপন্থী পরিচালিত কংগ্রেস চলতে থাকে। চরমপন্থীরা তিলকের নেতৃত্বে পৃথক হয়ে পড়েন। সুরেন্দ্রনাথ ও তিলক ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও ফিরোজশাহ মেহতার কঠোর মনোভাবে তা ব্যর্থ হয়। ফলস্বরূপ কংগ্রেস ভেঙে যায়।
8. স্বদেশি আন্দোলনকে কেন 'ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রথম গণআন্দোলন' বলা হয়? এর সাফল্য ও ব্যর্থতার নিরিখে বক্তব্য রাখো।
প্রথম গণআন্দোলনের যৌক্তিকতা
স্বদেশি আন্দোলনকে (১৯০৫-১৯১১) ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রকৃত গণআন্দোলন বলা হয়, কারণ:
- গণঅংশগ্রহণ: নরমপন্থী যুগের সীমিত ভদ্রলোক রাজনীতির বাইরে এসে এই আন্দোলনে ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, শহুরে মধ্যবিত্ত ও কিছুটা হলেও গ্রামীণ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
- সাংস্কৃতিক মাত্রা: রাখিবন্ধন, বন্দেমাতরম, স্বদেশি গান, কবিতা, যাত্রাপালা— এসবের মাধ্যমে আন্দোলন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল।
- অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন: স্বদেশি শিল্প ও শিক্ষা বৈদেশিক নির্ভরতা কমানোর প্রথম প্রয়াস ছিল।
- সর্বভারতীয় প্রভাব: বোম্বাই, মাদ্রাজ, পাঞ্জাবেও স্বদেশি ভাবধারা বিস্তৃত হয়।
সাফল্য
- বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১)— ঔপনিবেশিক সরকারকে জনমতের জোরে পিছু হটতে বাধ্য করা।
- ভারতীয় শিল্প ও শিক্ষায় স্বাবলম্বনের ভিত স্থাপন।
- পরবর্তী জাতীয় আন্দোলনের (অসহযোগ, আইন অমান্য) পথপ্রদর্শক।
ব্যর্থতা
- নেতৃত্ব ছিল মূলত শহুরে শিক্ষিত ভদ্রলোকদের হাতে; কৃষক ও নিম্নবর্গের মানুষ স্থায়ীভাবে সংগঠিত হয়নি।
- হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের আধিক্যের ফলে মুসলমান সমাজের একটি বড় অংশ আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
- স্বদেশি পণ্যের উচ্চমূল্য ও নিম্নমান সাধারণ গরিব মানুষের পক্ষে কষ্টকর ছিল— জোরজবরদস্তি আন্দোলনের প্রতি অনীহা তৈরি করেছিল।
- নরমপন্থী ও চরমপন্থী ভাঙনের ফলে আন্দোলন বিভক্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
মনে রেখো!
সভাসমিতির যুগ: ১৮৫৭-১৮৮৫। কংগ্রেস (১৮৮৫): হিউম, উমেশচন্দ্র, বোম্বাই। নরমপন্থী: আবেদন-নিবেদন, অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ (দাদাভাই নওরোজি)। চরমপন্থী: লাল-বাল-পাল, স্বরাজ, স্বদেশি, বয়কট, জাতীয় শিক্ষা। বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫): কার্জন। সুরাট ভাঙন (১৯০৭)। মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯): পৃথক নির্বাচন। বিপ্লবী: ক্ষুদিরাম, অনুষীলন সমিতি।
PDF ডাউনলোড
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।
PDF ডাউনলোড