Chapter 8: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ (Communalism to Partition)

আলিগড় আন্দোলন | দ্বি-জাতি তত্ত্ব | মুসলিম লিগ ও পাকিস্তান প্রস্তাব | ভারত ভাগ ও র্যাডক্লিফ লাইন | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sahina Sabnam
Sahina Sabnam
Uploaded: 01 March 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 8 History Chapter 8 সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ

Chapter 8: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ (Communalism to Partition)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 30 MCQ | 17 SAQ | 7 Broad Questions

মুসলিম লিগ পাকিস্তান প্রস্তাব দেশভাগ র্যাডক্লিফ লাইন
🕌

আলিগড় আন্দোলন

স্যার সৈয়দ আহমদ | মুসলিম আধুনিকীকরণ

📜

পাকিস্তান প্রস্তাব

১৯৪০ | লাহোর | দ্বি-জাতি তত্ত্ব

💔

দেশভাগ ১৯৪৭

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা | দাঙ্গা

🚶

উদ্বাস্তু বিপর্যয়

১.৫ কোটি শরণার্থী | র্যাডক্লিফ লাইন

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

30 টি
1. পাকিস্তান প্রস্তাব (Lahore Resolution) কবে উত্থাপিত হয়?
ক) ক) ১৯৩০
খ) খ) ১৯৩৭
গ) গ) ১৯৪০
ঘ) ঘ) ১৯৪৬
ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লিগের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবই 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বা 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত।
2. দ্বি-জাতি তত্ত্বের (Two-Nation Theory) প্রবক্তা কে?
ক) ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
খ) খ) মহম্মদ আলি জিন্নাহ
গ) গ) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
ঘ) ঘ) আল্লামা ইকবাল
ব্যাখ্যা: মহম্মদ আলি জিন্নাহ (Muhammad Ali Jinnah) ১৯৪০ সালে স্পষ্টভাবে দ্বি-জাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) প্রচার করেন— হিন্দু ও মুসলমান দুটি আলাদা জাতি, যাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, রীতিনীতি সবই ভিন্ন। তাই তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র আবশ্যক।
3. আলিগড় আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
ক) ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
খ) খ) মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ
গ) গ) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
ঘ) ঘ) খান আবদুল গফফর খান
ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান (Sir Syed Ahmed Khan) উনিশ শতকের শেষভাগে মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে আলিগড় আন্দোলন (Aligarh Movement) শুরু করেন। ১৮৭৫ সালে তিনি MAO কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
4. মুসলিম লিগ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক) ক) ১৮৮৫
খ) খ) ১৯০৫
গ) গ) ১৯০৬
ঘ) ঘ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা: মুসলিম লিগ (All India Muslim League) ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল মুসলমানদের স্বার্থ ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি নজর রাখা এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকা।
5. ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) কবে ভারতে আসে?
ক) ক) ১৯৪২
খ) খ) ১৯৪৫
গ) গ) ১৯৪৬
ঘ) ঘ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) ১৯৪৬ সালে ভারতে আসে। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের স্বাধীনতা প্রদানের পথরেখা নির্ধারণ করা এবং ভারতীয় নেতাদের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা। এর পরিকল্পনা অনুযায়ী কংগ্রেস অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেয়।
6. ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Action Day) কবে পালিত হয়?
ক) ক) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
খ) খ) ১৬ আগস্ট ১৯৪৬
গ) গ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
ঘ) ঘ) ৩ জুন ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: মুসলিম লিগ ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টকে 'ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে' (Direct Action Day) হিসেবে ঘোষণা করে। সেই দিন কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে নোয়াখালী, বিহার, পাঞ্জাবেও ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল দেশভাগের পটভূমির এক ভয়াবহ ঘটনা।
7. ভারত স্বাধীন আইন (Indian Independence Act) কবে পাস হয়?
ক) ক) ১৯৪৬
খ) খ) ১৯৪৭
গ) গ) ১৯৪৫
ঘ) ঘ) ১৯৫০
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট ১৯৪৭ (Indian Independence Act 1947) পাস করে। এই আইন অনুসারে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
8. র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line) কী?
ক) ক) ভারত-চীন সীমান্ত
খ) খ) ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী রেখা
গ) গ) কাশ্মীর সীমান্ত
ঘ) ঘ) ভারত-আফগানিস্তান সীমান্ত
ব্যাখ্যা: স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ (Sir Cyril Radcliffe) বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করেন। এই বিভাজন রেখাই র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line) নামে পরিচিত। চার সপ্তাহের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই মানচিত্র তৈরি করে ঘোষণা করা হয়।
9. মুসলিম লিগ প্রথম কবে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করে?
ক) ক) ১৯০৬
খ) খ) ১৯৩০
গ) গ) ১৯৪০
ঘ) ঘ) ১৯৪৬
ব্যাখ্যা: মুসলিম লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর অধিবেশনে মুসলমানদের জন্য পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি করে। এই প্রস্তাবই 'পাকিস্তান প্রস্তাব' নামে পরিচিত।
10. স্যার সৈয়দ আহমদ খান ভারতীয়দের মুসলিম ও হিন্দু— এই দুই সম্প্রদায় আলাদা জাতি বলে উল্লেখ করেছিলেন কোন্ ঘটনার পর?
ক) ক) সিপাহি বিদ্রোহের পর
খ) খ) হিন্দি-উর্দু বিতর্কের পর
গ) গ) বঙ্গভঙ্গের পর
ঘ) ঘ) অসহযোগ আন্দোলনের পর
ব্যাখ্যা: হিন্দি-উর্দু বিতর্কের (Hindi-Urdu Controversy) পর স্যার সৈয়দ আহমদ খান বলেন— হিন্দু ও মুসলমান আর একসাথে চলতে পারবে না। তিনি প্রথম দিকে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পক্ষে থাকলেও এই বিতর্কের পর তাঁর মত পরিবর্তিত হয়।
11. কৃষক প্রজা পার্টির নেতা কে ছিলেন?
ক) ক) এ.কে. ফজলুল হক
খ) খ) জিন্নাহ
গ) গ) ফজলুল হক
ঘ) ঘ) হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা: এ.কে. ফজলুল হক (A.K. Fazlul Huq) বাংলার কৃষক প্রজা পার্টির (Krishak Praja Party) নেতা ছিলেন। এই পার্টি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার পক্ষে সওয়াল করত।
12. মহম্মদ আলি জিন্নাহ কর্তৃক প্রথম 'দ্বি-জাতি তত্ত্ব' কবে প্রচারিত হয়?
ক) ক) ১৯৩০
খ) খ) ১৯৩৭
গ) গ) ১৯৪০
ঘ) ঘ) ১৯৪৬
ব্যাখ্যা: মহম্মদ আলি জিন্নাহ (M.A. Jinnah) দ্বি-জাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) প্রথম স্পষ্টভাবে প্রচার করেন ১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশনে। তিনি বলেন— 'হিন্দু ও মুসলমান আলাদা জাতি, সুতরাং তাদের জন্য পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দরকার'।
13. দেশভাগের সময় বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমান্ত কমিশনের সভাপতি কে ছিলেন?
ক) ক) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
খ) খ) স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ
গ) গ) লর্ড ওয়াভেল
ঘ) ঘ) স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
ব্যাখ্যা: স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ (Sir Cyril Radcliffe) একজন ব্রিটিশ আইনজীবী ছিলেন, যিনি ভারতবর্ষ সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজনের জন্য সীমান্ত কমিশনের সভাপতি নিযুক্ত হন এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহে সীমানা নির্ধারণ করে দেন।
14. মুসলিম লিগ কত সালে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়?
ক) ক) ১৯৪২
খ) খ) ১৯৪৫
গ) গ) ১৯৪৬
ঘ) ঘ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: মুসলিম লিগ ১৯৪৬ সালে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তানের দাবিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের (Direct Action) ডাক দেয়। ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে পালিত হয় এবং কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়।
15. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কবে ঘোষিত হয়?
ক) ক) ১৯৪৬
খ) খ) ৩ জুন ১৯৪৭
গ) গ) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
ঘ) ঘ) ১৪ আগস্ট ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: লর্ড মাউন্টব্যাটেন (Lord Mountbatten) ৩ জুন ১৯৪৭ তারিখে ভারত বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ উভয়েই এই পরিকল্পনা মেনে নেয়। এই অনুযায়ী ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীন হয়।
16. ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
ক) ক) উইনস্টন চার্চিল
খ) খ) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
গ) গ) নেভিল চেম্বারলেন
ঘ) ঘ) হ্যারল্ড উইলসন
ব্যাখ্যা: ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতার সময় (১৯৪৫-১৯৪৭) ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ক্লিমেন্ট অ্যাটলি (Clement Attlee)। তাঁরই নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সরকার ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
17. স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগদানের বিষয়ে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?
ক) ক) সকলে কংগ্রেসে যোগ দিতে বলেছিলেন
খ) খ) কংগ্রেস বর্জন করতে বলেছিলেন
গ) গ) কংগ্রেসের সাথে জোট গড়তে বলেছিলেন
ঘ) ঘ) কোনো পরামর্শ দেননি
ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের জাতীয় কংগ্রেসে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল— কংগ্রেস আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের প্রতিনিধি সভা, যেখানে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষিত হবে না।
18. পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস কবে?
ক) ক) ১৫ আগস্ট
খ) খ) ১৪ আগস্ট
গ) গ) ২৬ জানুয়ারি
ঘ) ঘ) ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা: পাকিস্তান ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে। অন্যদিকে ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন হয়। ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৪ আগস্ট করাচিতে এবং ১৫ আগস্ট দিল্লিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
19. মুসলিম সমাজে আধুনিকীকরণের মূল উদ্যোক্তা কে ছিলেন?
ক) ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
খ) খ) মহম্মদ আলি জিন্নাহ
গ) গ) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ
ঘ) ঘ) ইকবাল
ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সমাজে আধুনিকীকরণ ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আলিগড়ে গড়ে তোলা তাঁর MAO কলেজ পরবর্তীতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
20. কোন্ ঘটনা ভারত ভাগ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছিল?
ক) ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলন
খ) খ) ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
গ) গ) নৌ-বিদ্রোহ
ঘ) ঘ) সাইমন কমিশন
ব্যাখ্যা: ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে এবং তার পরবর্তী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (কলকাতা, নোয়াখালী, বিহার, পাঞ্জাব) পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ করে তোলে যে, দেশভাগ ছাড়া কোনো বিকল্প আর খোলা রইল না। দাঙ্গা ও গণহত্যাই দেশভাগকে বাস্তবে অনিবার্য করে তোলে।
21. পুনা চুক্তি (Poona Pact) কবে হয়?
ক) ক) ১৯১৬
খ) খ) ১৯৩২
গ) গ) ১৯৪০
ঘ) ঘ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: পুনা চুক্তি (Poona Pact) ১৯৩২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধি ও ড. বি.আর. আম্বেদকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচনের পরিবর্তে যৌথ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা গৃহীত হয়।
22. ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন?
ক) ক) লর্ড কার্জন
খ) খ) লর্ড ওয়াভেল
গ) গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ঘ) ঘ) লর্ড আরউইন
ব্যাখ্যা: লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন (Lord Louis Mountbatten) ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন। তাঁর সময়েই ভারত বিভাগ ও স্বাধীনতার কার্য সম্পন্ন হয়।
23. লিয়াকৎ আলি খান কে ছিলেন?
ক) ক) কংগ্রেস নেতা
খ) খ) মুসলিম লিগের নেতা, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেন
গ) গ) ব্রিটিশ গভর্নর
ঘ) ঘ) ভারতীয় সেনাপতি
ব্যাখ্যা: লিয়াকৎ আলি খান (Liaquat Ali Khan) ছিলেন মুসলিম লিগের সাধারণ সম্পাদক। ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারে কংগ্রেস-লিগ জোটে তিনি অর্থমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
24. সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিতে কোন্ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল?
ক) ক) ইলবার্ট বিল বিতর্ক
খ) খ) আদমশুমারি (Census) ও ধর্মীয় শ্রেণিবিভাগ
গ) গ) রেলপথ নির্মাণ
ঘ) ঘ) সিপাহি বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: উপনিবেশিক সরকার কর্তৃক দশ বছর অন্তর পরিচালিত আদমশুমারি (Census) ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়কে প্রাধান্য দিত। ১৮৭২ সালের আদমশুমারি থেকে ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার তথ্য প্রকাশিত হলে, প্রতিটি সম্প্রদায় সচেতন হয়ে ওঠে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সংখ্যালঘুতা নিয়ে। এর ফলেই সম্প্রদায়গুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায়।
25. কংগ্রেস কোন্ প্রাদেশিক নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করে?
ক) ক) ১৯৩৫
খ) খ) ১৯৩৭
গ) গ) ১৯৪৬
ঘ) ঘ) ১৯৫২
ব্যাখ্যা: ভারত শাসন আইন ১৯৩৫-এর অধীনে ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে কংগ্রেস ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে সরকার গঠন করে। মুসলিম লিগ তুলনামূলকভাবে খারাপ ফল করে।
26. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
ক) ক) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
খ) খ) সি. রাজাগোপালাচারী
গ) গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ঘ) ঘ) জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা: লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মহম্মদ আলি জিন্নাহ। পরে ১৯৪৮ সালে সি. রাজাগোপালাচারী ভারতীয় গভর্নর জেনারেল হন।
27. ক্যাবিনেট মিশনের সদস্য কতজন ছিলেন?
ক) ক) ২
খ) খ) ৩
গ) গ) ৫
ঘ) ঘ) ৭
ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) তিন সদস্যের একটি দল ছিল, যাঁরা ১৯৪৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে ভারতে আসেন। সদস্যরা ছিলেন— লর্ড পেথিক-লরেন্স (ভারত সচিব), স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ.ভি. আলেকজান্ডার।
28. মর্লে-মিন্টো সংস্কার (Morley-Minto Reforms) কবে হয়?
ক) ক) ১৮৯২
খ) খ) ১৯০৯
গ) গ) ১৯১৯
ঘ) ঘ) ১৯৩৫
ব্যাখ্যা: মর্লে-মিন্টো সংস্কার (Indian Councils Act 1909) ১৯০৯ সালে পাস হয়। এই সংস্কারে সর্বপ্রথম মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের (Separate Electorate) ব্যবস্থা করা হয়। এটি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত শক্ত করে।
29. ভারতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত শক্ত করে কোন্ ঘটনা?
ক) ক) বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)
খ) খ) মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯) ও পৃথক নির্বাচন
গ) গ) রাওলাট আইন
ঘ) ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা: মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯) মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ভারতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিকে পাকাপোক্ত করে দেয়। পরবর্তীতে ১৯১৯ (মন্টেগু-চেমসফোর্ড) ও ১৯৩৫ সালের শাসন আইনেও পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা বজায় থাকে।
30. কোন্ বিতর্কের পর স্যার সৈয়দ আহমদ খান হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ধারণা থেকে সরে আসেন?
ক) ক) বঙ্গভঙ্গ
খ) খ) হিন্দি-উর্দু বিতর্ক
গ) গ) ইলবার্ট বিল
ঘ) ঘ) নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: হিন্দি-উর্দু বিতর্ক (Hindi-Urdu Controversy, ১৮৬৭) ছিল ভাষা নিয়ে এক সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েন। উত্তর প্রদেশের হিন্দুরা উর্দুর বদলে হিন্দিকে সরকারি ভাষা করার দাবি জানায়। মুসলিমরা এর তীব্র বিরোধিতা করে। এই বিতর্কের পর স্যার সৈয়দ স্পষ্ট বলেন— 'হিন্দু ও মুসলমান আর একসাথে চলতে পারবে না'।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

17 টি
1. ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ সৃষ্টির কারণ কী ছিল?
ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ সৃষ্টির পিছনে একাধিক কারণ ছিল: (১) ঔপনিবেশিক সরকারের 'ভেদনীতি' (Divide and Rule)— মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন (মর্লে-মিন্টো সংস্কার, ১৯০৯) ও ধর্মীয় ভিত্তিতে আদমশুমারির মাধ্যমে পরিচয়করণ, (২) হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের সময় ভারতীয় ইতিহাসকে হিন্দু-গৌরবের ইতিহাস বলে চিত্রিত করা— যা মুসলমানদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে, (৩) স্বদেশি আন্দোলনের সময় হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের আধিক্য ও বন্দেমাতরম স্লোগানকে ঘিরে বিতর্ক, (৪) স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মতো নেতার ধারণা যে, কংগ্রেস আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের সংগঠন— মুসলমানদের স্বার্থ সেখানে নিরাপদ নয়, (৫) হিন্দি-উর্দু বিতর্কের মতো ঘটনা যা ভাষাগত পার্থক্যকে ধর্মীয় দ্বন্দ্বে রূপ দেয়। এসব মিলিয়ে ধীরে ধীরে সম্প্রদায়গত বিভাজন ভারতীয় রাজনীতিতে স্থায়ী রূপ নেয়।
2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান ও আলিগড় আন্দোলনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
স্যার সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ সালে আলিগড় মুহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল (MAO) কলেজ প্রতিষ্ঠা করে আলিগড় আন্দোলনের (Aligarh Movement) সূচনা করেন। মূল উদ্দেশ্য: (১) মুসলমান সমাজকে পাশ্চাত্য আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তাদের আর্থ-সামাজিক পশ্চাৎপদতা দূর করা, (২) মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং একইসাথে ইসলামীয় ধর্মতত্ত্বের সম্মিলন ঘটানো, (৩) কংগ্রেসের রাজনৈতিক আধিপত্য থেকে মুসলমানদের দূরে রেখে ব্রিটিশ সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ধীরে ধীরে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও উন্নয়ন সাধন করা, (৪) মুসলমান অভিজাত ও শিক্ষিত গোষ্ঠীর মধ্যে আত্মসচেতনতা ও নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। সৈয়দ আহমদ খান হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের ধারণা থেকে শেষ জীবনে কিছুটা সরে আসেন।
3. বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) কীভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশে প্রভাব ফেলেছিল?
বঙ্গভঙ্গ (Partition of Bengal, ১৯০৫) ছিল লর্ড কার্জনের এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে বাংলা দ্বিখণ্ডিত হয়— পূর্ববঙ্গ ও আসাম নিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রভাব: (১) বাংলার হিন্দু সমাজ বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে এবং স্বদেশি আন্দোলন শুরু করে, কিন্তু পূর্ববঙ্গের অনেক মুসলমান ভেবেছিল আলাদা প্রদেশে তারা বেশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাবে, (২) হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়— হিন্দু নেতৃত্ব বঙ্গভঙ্গ রদের দাবি জানালে মুসলিম নেতৃত্বের একাংশ তাতে একমত পোষণ করে না, (৩) ব্রিটিশ সরকার 'ভেদনীতি' প্রয়োগ করে মুসলমানদের একটি অংশকে 'পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়' হিসেবে অধিক সুযোগ দেখিয়ে হিন্দু-মুসলিম বিরোধকে আরও ঘনীভূত করে, (৪) এই ঘটনা মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনৈতিক পরিচয়ের চেতনা জোরদার করে, যা ১৯০৬ সালে মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে।
4. মুসলিম লিগ কবে ও কেন প্রতিষ্ঠিত হয়? এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
মুসলিম লিগ (All India Muslim League) ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া এডুকেশন কনফারেন্সের অধিবেশনে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার কারণ: (১) বঙ্গভঙ্গের পর হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়, (২) কংগ্রেসকে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের প্রতিনিধি সভা হিসেবে ভাবতে শুরু করে, (৩) মুসলমানদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি আলাদা সর্বভারতীয় সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। মূল উদ্দেশ্য: (১) ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি নজর রাখা, (২) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকা, (৩) ভারতীয় রাজনীতিতে মুসলমানদের জন্য যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা।
5. পাকিস্তান প্রস্তাব বা লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০) কী? কে উত্থাপন করেন?
পাকিস্তান প্রস্তাব (Pakistan Resolution) বা লাহোর প্রস্তাব (Lahore Resolution) ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লিগের বার্ষিক অধিবেশনে গৃহীত একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব। বঙ্গীয় নেতা এ.কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়: ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলিকে (পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান ও বাংলা) নিয়ে একটি বা একাধিক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিত হবে। মহম্মদ আলি জিন্নাহ এই অধিবেশনে প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে দ্বি-জাতি তত্ত্বের (Two-Nation Theory) পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। প্রস্তাবটিতে আরও বলা হয় যে, সেখানে সংখ্যালঘু (হিন্দু/অন্যরা)-দের ধর্মীয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার যথাযথভাবে সংরক্ষিত হবে। এটিকে সরকারিভাবে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বলা হয়।
6. দ্বি-জাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) কী?
দ্বি-জাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) হল সেই রাজনৈতিক ও দার্শনিক মতবাদ যা বলে— ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমানরা ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা, রীতিনীতি, ইতিহাস ও জীবনধারার নিরিখে দুটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতি। তাই তাদের একসাথে এক রাষ্ট্রের অধীনে বসবাস করা সম্ভব নয়। এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন মহম্মদ আলি জিন্নাহ। ১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশনে তিনি ঘোষণা করেন— 'হিন্দু ও মুসলমান এক জাতি নয়, এ কথা স্বীকার না করা হলে কোনো সাংবিধানিক পরিকল্পনাই কাজে আসবে না। মুসলমানরা একটি আলাদা জাতি, এবং তাদের নিজস্ব মাতৃভূমি, নিজস্ব রাজ্য ও নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা থাকতে হবে।' এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই পাকিস্তানের দাবি উত্থাপিত হয় এবং শেষপর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
7. খিলাফৎ আন্দোলন কী? এর সাথে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের সম্পর্ক কী ছিল?
খিলাফৎ আন্দোলন (Khilafat Movement, ১৯১৯-১৯২৪): প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেন ও তার মিত্রশক্তি তুরস্কের (উসমানীয় সাম্রাজ্য) সুলতানের ক্ষমতা খর্ব করে। ভারতীয় মুসলমানদের কাছে তুরস্কের সুলতান ছিলেন 'খলিফা'— ইসলামি বিশ্বের আধ্যাত্মিক নেতা। খলিফার মর্যাদা রক্ষা করতে ভারতীয় মুসলমানরা এই আন্দোলন শুরু করেন। মহাত্মা গান্ধি খিলাফৎ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। এর মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক ঐক্য গড়ে ওঠে— যা ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে যৌথ অংশগ্রহণের ভিত তৈরি করে। তবে ১৯২৪ সালে তুরস্কেই খলিফা পদ বিলুপ্ত হলে এবং ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত হলে এই ঐক্যে ফাটল ধরে। উগ্র হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের পুনরুত্থানও এই ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
8. হিন্দি-উর্দু বিতর্ক কী? এর গুরুত্ব কী ছিল?
হিন্দি-উর্দু বিতর্ক (Hindi-Urdu Controversy, ১৮৬৭): ঊনবিংশ শতকের শেষ ভাগে উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ ও বিহারের হিন্দু সম্প্রদায় দাবি তোলে যে, সরকারি কাজে প্রচলিত ফারসি লিপির উর্দুর পরিবর্তে দেবনাগরী লিপির হিন্দি ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হোক। মুসলমান সম্প্রদায় এর তীব্র বিরোধিতা করে— কারণ উর্দু ছিল তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। স্যার সৈয়দ আহমদ খান, যিনি আগে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পক্ষে ছিলেন, এই বিতর্কের পর স্পষ্ট বলে দেন— 'হিন্দু ও মুসলমান আর একত্রে চলতে পারে না'। গুরুত্ব: এই বিতর্কই ছিল প্রথম সুস্পষ্ট ইঙ্গিত, কীভাবে ভাষাগত সমস্যাও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতায় রূপ নিতে পারে। এর পর থেকেই মুসলমানদের মধ্যে পৃথক রাজনৈতিক পরিচয়ের চেতনা জোরালো হতে থাকে।
9. ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Action Day) কী? এর ফল কী হয়?
ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Action Day): ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে মুসলিম লিগ ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং জিন্নাহর নেতৃত্বে ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ তারিখে সারা ভারতে 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' (Direct Action Day) পালনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। উদ্দেশ্য ছিল— পাকিস্তানের দাবিতে জনতার জোরালো সমর্থন জাগিয়ে তোলা এবং ব্রিটিশ ও কংগ্রেসকে চাপে ফেলা। ফলাফল: কলকাতায় ১৬ আগস্ট শুরু হয়ে টানা কয়েকদিন ব্যাপী ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলে। এই দাঙ্গায় সহস্রাধিক মানুষ নিহত হন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হন। এরপর নোয়াখালী, বিহার, যুক্ত প্রদেশ, পাঞ্জাবেও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়াবহ ঘটনার জেরে বুঝিয়ে দেয় যে, দেশে আর একত্রে থাকা সম্ভব নয়— দেশভাগ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
10. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (Mountbatten Plan) কী?
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (Mountbatten Plan): ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলির সম্মতিক্রমে ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন ভারতীয় স্বাধীনতা ও বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। মূল বক্তব্য: (১) ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র— ভারত ও পাকিস্তান গঠিত হবে, (২) বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে ভাগ করার জন্য দুটি পৃথক সীমান্ত কমিশন গঠন করা হবে, (৩) দেশীয় রাজ্যগুলি ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান করবে, (৪) ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ উভয়েই এই পরিকল্পনা মেনে নেয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই 'ভারতীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭' (Indian Independence Act, 1947) পাস হয়।
11. র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line) কী? কী সমস্যা তৈরি হয়েছিল?
র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line): ভারত বিভাগের সময় বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমান্ত নির্ধারণের জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফকে সভাপতি করে সীমান্ত কমিশন গঠন করা হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মানচিত্রের ভিত্তিতে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সীমানা নির্ধারণ করে দেন, তা 'র্যাডক্লিফ লাইন' নামে পরিচিত। সমস্যা: (১) র্যাডক্লিফের ভারতবর্ষ সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল না— তিনি নিজে কখনো ভারত-পাকিস্তান অঞ্চলের মাটিতে পা রাখেননি, (২) সময়ের চরম অভাবে ও যোগাযোগহীনতার মধ্যে এই বিভাজন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সম্পন্ন করা হয়, (৩) গ্রাম, নদী, জমি, রাস্তা ও পারিবারিক সম্পর্কের কোনো মূল্য না দিয়ে মানচিত্রই ছিল একমাত্র গাইড— ফলে লাখ লাখ মানুষ রাতারাতি নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পড়েন। এর ফলেই দেখা দেয় ইতিহাসের অন্যতম বড়ো মানবিক বিপর্যয়— দাঙ্গা, ধর্ষণ, গণহত্যা ও শরণার্থী সঙ্কট।
12. ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) কী? এর প্রস্তাব কী ছিল?
ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission): ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সরকার ভারতের স্বাধীনতা প্রদানের পথরেখা নির্ধারণ করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন দল ভারতে প্রেরণ করে। সদস্যরা ছিলেন: লর্ড পেথিক-লরেন্স (ভারত সচিব), স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এ.ভি. আলেকজান্ডার। প্রস্তাব: (১) ভারত ঐক্যবদ্ধ থাকবে— ভেঙে আলাদা রাষ্ট্র হবে না, (২) একটি ত্রিস্তরীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো— প্রদেশগুলি স্বায়ত্তশাসিত হবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার শুধু প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করবে, (৩) প্রদেশগুলি ধর্মীয় ও ভাষাগত ভিত্তিতে তিনটি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হবে (Group A, B, C), (৪) ভারত একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে। কংগ্রেস প্রথমে প্রস্তাব মেনে নিলেও পরে কিছু বিষয়ে আপত্তি জানায়। মুসলিম লিগ প্রথমে মেনে নিলেও পরে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এবং পাকিস্তানের দাবিতে ডাইরেক্ট অ্যাকশনের ডাক দেয়। ফলে মিশন ব্যর্থ হয় এবং দেশভাগ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
13. মহম্মদ আলি জিন্নাহর নেতৃত্ব কীভাবে পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল?
মহম্মদ আলি জিন্নাহ (M.A. Jinnah, ১৮৭৬-১৯৪৮) প্রথম জীবনে 'হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত' (Ambassador of Hindu-Muslim Unity) নামে পরিচিত ছিলেন এবং কংগ্রেসের সাথেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের তীব্র সমর্থকে পরিণত হন। তাঁর নেতৃত্ব: (১) ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে স্পষ্ট দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রচার এবং পাকিস্তানের দাবি উত্থাপন, (২) ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লিগের হয়ে 'পাকিস্তান' স্লোগানকে একছত্র জনপ্রিয় করে তোলা, (৩) অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দিলেও কংগ্রেসের সাথে সমঝোতা নয়— বরং পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে অনড় থাকা, (৪) ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ডেকে গণচাপ সৃষ্টি, (৫) ১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা গ্রহণ করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পথ পরিষ্কার করা। জিন্নাহর অদম্য দৃঢ়তা ও রাজনৈতিক দক্ষতা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল।
14. হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন কীভাবে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছিল?
উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিংশ শতকের প্রথমার্ধে হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন (Hindu Revivalist Movement) যেমন— আর্য সমাজ, হিন্দু মহাসভা, শুদ্ধি ও সংগঠন আন্দোলন— হিন্দুদের মধ্যে নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গৌরববোধ জাগ্রত করতে থাকলেও, তা হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের ওপর কুপ্রভাব ফেলেছিল। প্রভাব: (১) ভারতীয় ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে 'হিন্দু সভ্যতার ইতিহাস' বলে চিত্রিত করে মুসলমান শাসনকে 'বিদেশি ও অত্যাচারী' বলে বর্ণনা করা হয়— যা মুসলমানদের গভীরভাবে আহত করে, (২) শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্বে ধর্মান্তরিত মুসলমানদের পুনরায় হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা মুসলমানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে, (৩) মদনমোহন মালব্যর মতো নেতারা কংগ্রেসের মঞ্চেও হিন্দুত্ববাদী চিন্তাধারার প্রচার করায় মুসলমান নেতৃত্ব ক্রমশ কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, (৪) এই সমস্ত ঘটনা মুসলিম লিগ ও জিন্নাহর হাতে যুক্তি তুলে দেয় যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা কখনোই মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করবে না— তাই আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন।
15. ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের সময় যে মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তার বর্ণনা দাও।
র্যাডক্লিফ লাইন ঘোষণা (১৭ আগস্ট ১৯৪৭) এবং ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সাথে সাথেই ইতিহাসের ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয়গুলির একটি শুরু হয়: (১) দুই পাঞ্জাব ও দুই বাংলার মধ্যে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে তৈরি হঠাৎ সীমানার জেরে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাতারাতি 'বিদেশি' হয়ে পড়েন, (২) প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ উভয় দিকেই শরণার্থী হয়ে সীমানা পেরোতে বাধ্য হন— রেলগাড়ি, পায়ে হেঁটে, গরুর গাড়িতে করে দলে দলে মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে দেশত্যাগ করেন, (৩) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও গণহত্যায় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান, (৪) নারীদের উপর ব্যাপক নির্যাতন— ধর্ষণ, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এক নারকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, (৫) র্যাডক্লিফ লাইনের নির্মম কৃত্রিমতায় একই পরিবারের ভাই-ভাই আলাদা দেশে থেকে যান, কৃষকের জমি একদেশে, বাড়ি আরেক দেশে পড়ে। এই বিভীষিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয় সংবিধানে পরবর্তীতে ধর্মনিরপেক্ষতা, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার বিধান রাখা হয়।
16. মুসলিম লিগের দুর্বলতা ও শক্তির উত্থান কীভাবে হয়েছিল?
প্রাথমিক দুর্বলতা: মুসলিম লিগ ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৩৭ সালের নির্বাচন পর্যন্ত তারা মুসলমানদের মধ্যে তেমন ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। বাংলায় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি, পাঞ্জাবে ইউনিয়নিস্ট পার্টি এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে খান আবদুল গফফর খানের কংগ্রেসপন্থী লালকুর্তা বাহিনী— এ সমস্ত সংগঠনই লিগের চেয়ে আলাদা এবং অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী ছিল। শক্তির উত্থান: (১) ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের সাফল্য ও মুসলিম লিগের খারাপ ফল দেখে লিগ মনে করে, কংগ্রেস মুসলমান স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে না— এর প্রতিক্রিয়াতেই লিগের পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে, (২) ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি মুসলমানদের মধ্যে লিগের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, (৩) ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লিগ বাংলা, সিন্ধু ও পাঞ্জাব ছাড়া অন্যত্র খুব সাফল্য না পেলেও মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশগুলিতে জোরালো অবস্থান তৈরি করে, (৪) জিন্নাহর ক্যারিশমা ও পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি শিক্ষিত মুসলিম ব্যবসায়ী ও পেশাদার গোষ্ঠীর পূর্ণ সমর্থন লাভ করে। ফলে দ্রুত লিগই ভারতীয় মুসলমানদের প্রধান প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়ায়।
17. মহাত্মা গান্ধির খিলাফৎ আন্দোলন সমর্থনের কারণ কী ছিল? এর সুফল কী হয়?
মহাত্মা গান্ধি খিলাফৎ আন্দোলনকে কেন সমর্থন করেছিলেন: (১) হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য এটি ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ— গান্ধি বিশ্বাস করতেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পূর্ণ ভারতবাসীর, শুধু হিন্দুদের নয়, (২) তুরস্কের খলিফার প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের যে গভীর ধর্মীয় অনুভূতি ছিল, তা অগ্রাহ্য না করে বরং সম্মান জানিয়ে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে বৃহত্তর স্বাধীনতা সংগ্রামে টেনে আনা, (৩) ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে এক যৌথ রাজনৈতিক লড়াই গড়ে তোলা। সুফল: (১) ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে হিন্দু ও মুসলমান পাশাপাশি একজোট হয়ে লড়াই করে— যা ছিল অভূতপূর্ব, (২) কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচি গৃহীত হয়, (৩) তবে ১৯২৪ সালে তুরস্কেই খলিফা পদ বিলুপ্ত হলে খিলাফৎ আন্দোলন অর্থহীন হয়ে পড়ে এবং যে সাম্প্রদায়িক ঐক্যের ভিত গড়ে উঠেছিল, পরে উগ্রপন্থী হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদ ও মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদের কাছে তা ধ্বংস হয়ে যায়।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর

7 টি
1. ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের কারণগুলি কী কী ছিল? হিন্দু-মুসলিম বিরোধ কতটা ঔপনিবেশিক নীতির ফসল ছিল বলে তুমি মনে করো?

সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের কারণ

  1. ঔপনিবেশিক ভেদনীতি (Divide and Rule): ব্রিটিশ সরকার ১৮৭২ সালের আদমশুমারি থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়কে প্রাধান্য দেয়। মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯) এবং মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার (১৯১৯) হিন্দু-মুসলমানের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে।
  2. হিন্দি-উর্দু বিতর্ক (১৮৬৭): ভাষাগত সমস্যাকে ধর্মীয় দ্বন্দ্বে রূপ দিয়ে স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রথমবার বলেন: 'হিন্দু ও মুসলমান আর একসাথে চলতে পারে না'।
  3. হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদ: আর্য সমাজ, হিন্দু মহাসভা ও শুদ্ধি আন্দোলন ভারতীয় ইতিহাসকে হিন্দু গৌরবের ইতিহাস হিসেবে চিত্রিত করে।
  4. স্বদেশি আন্দোলনের চরিত্র: চরমপন্থীদের ধর্মীয় প্রতীকের আধিক্য ও বন্দেমাতরম স্লোগান মুসলমান সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করে।
  5. কংগ্রেসের সীমাবদ্ধতা: কংগ্রেস প্রথমদিকে শুধু শিক্ষিত, উচ্চবর্ণীয় হিন্দু ভদ্রলোকের প্রতিনিধিত্ব করত।

মূল্যায়ন: ঔপনিবেশিক নীতি অবশ্যই বড়ো ভূমিকা রেখেছিল, তবে এর সাথে ভারতীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদ, ভোটব্যাংক রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা এবং একপেশে ইতিহাসচর্চাও দায়ী।

2. আলিগড় আন্দোলন এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মুসলিম রাজনীতি সম্পর্কে আলোচনা করো। তাঁর অবস্থান কীভাবে পরবর্তীকালে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত রচনা করেছিল?

আলিগড় আন্দোলন (Aligarh Movement)

স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সমাজের আধুনিকীকরণের জন্য ১৮৭৫ সালে আলিগড়ে MAO কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রধান উদ্দেশ্য: (১) পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে মুসলিমদের পরিচয় করানো, (২) ইসলামি ধর্মতত্ত্বের সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখে মুসলিম ছাত্রদের উপযুক্ত করে তোলা, (৩) মুসলিম সমাজ থেকে পিছিয়ে পড়ার মানসিকতা দূর করা।

রাজনৈতিক অবস্থান

  • হিন্দি-উর্দু বিতর্কের (১৮৬৭) পর তিনি বলেন— 'হিন্দু ও মুসলমান আর একসাথে চলতে পারে না'।
  • তিনি মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
  • তাঁর মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা কখনোই মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করবে না।

প্রভাব ও সমালোচনা

তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চাননি। কিন্তু তাঁর শিক্ষা ও নীতি পরবর্তীকালে মুসলিম লিগ ও জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত রচনা করে। ধীরে ধীরে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য ও ভিন্নতার বোধ আরও জোরালো হয়।

3. খিলাফৎ আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমান ঐক্য কীভাবে গড়ে উঠেছিল এবং কেন তা স্থায়ী হলো না?

ঐক্যের সূত্রপাত

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কে খলিফার পতন রোধে ভারতীয় মুসলমানরা খিলাফৎ আন্দোলন শুরু করে। মহাত্মা গান্ধি বুঝতে পারেন— এটি ভারতীয় মুসলমানদের সাথে হিন্দুদের একজোট করার অপূর্ব সুযোগ। ১৯২০ সালে কংগ্রেস খিলাফৎ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এবং ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি লড়াই করেন।

কেন স্থায়ী হলো না

  1. চৌরিচৌরার ঘটনা (১৯২২): গান্ধি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করলে মুসলিম নেতৃত্বে হতাশা।
  2. খলিফা পদের বিলোপ (১৯২৪): তুরস্কেই খলিফা পদ বিলুপ্ত হলে আন্দোলনের মূল ভিত্তি অর্থহীন হয়ে পড়ে।
  3. হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদের উত্থান: শুদ্ধি ও সঙ্গঠন আন্দোলন মুসলমানদের ক্ষুব্ধ করে।
  4. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা: ১৯২০-এর দশকে বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।

এইসব মিলিয়ে খিলাফৎ-অসহযোগের যৌথ আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হয়।

4. ১৯৪০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কীভাবে ভারত ভাগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল? মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ও র্যাডক্লিফ লাইন কী ভূমিকা পালন করেছিল?

ঘটনাক্রম

  • ১৯৪০: লাহোর প্রস্তাব / পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত; জিন্নাহ প্রথম দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রচার।
  • ১৯৪২: ভারত ছাড়ো আন্দোলন; ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা।
  • ১৯৪৫-৪৬: যুদ্ধ শেষ; লেবার সরকার ক্ষমতায়; আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচার; নৌ-বিদ্রোহ।
  • ১৯৪৬: ক্যাবিনেট মিশনের আগমন ও ব্যর্থতা। ১৬ আগস্ট— ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে, কলকাতায় ভয়াবহ দাঙ্গা; নোয়াখালী, বিহার, পাঞ্জাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা।
  • ১৯৪৭— ৩ জুন: মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ঘোষণা— ভারত ভাগের চূড়ান্ত নকশা।
  • ১৭ আগস্ট: র্যাডক্লিফ লাইন ঘোষণা।
  • ১৪-১৫ আগস্ট: পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীন।

ভূমিকা

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা: দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করে। কংগ্রেস ও লিগ উভয়কে গ্রহণ করায়। র্যাডক্লিফ লাইন: মাত্র ৪ সপ্তাহে নামমাত্র মানচিত্রের ভিত্তিতে সীমানা টেনে দেয়; যার জেরে শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়— দাঙ্গা, গণহত্যা ও শরণার্থী সঙ্কট।

5. মুসলিম লিগ ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কীভাবে ভারত ভাগের পথ প্রশস্ত করেছিল? ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন ও ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে কতটা দায়ী ছিল?

কংগ্রেস বনাম লিগ

  • একক প্রতিনিধিত্বের দাবি: কংগ্রেস নিজেকে সমগ্র ভারতের প্রতিনিধি বলে দাবি করত। মুসলিম লিগ ১৯৪০ সালের পর নিজেকে ভারতীয় মুসলমানদের একমাত্র প্রতিনিধি দাবি করে।
  • ১৯৩৭ সালের নির্বাচন: কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ সাফল্য; লিগের খারাপ ফল। এরপর থেকে লিগ কংগ্রেসকে 'হিন্দুদের দল' বলে প্রচার শুরু করে।
  • ক্যাবিনেট মিশন (১৯৪৬): ভারতের ঐক্য রক্ষার শেষ চেষ্টা; কংগ্রেস ও লিগ উভয়কেই কিছু ছাড় দিতে হবে। কংগ্রেস গোষ্ঠীভুক্তিকরণের (Grouping) বাধ্যবাধকতা মানতে নারাজ, লিগ পূর্ণ পাকিস্তানের দাবিতে অনড়। ফলে মিশন ব্যর্থ।
  • ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (১৬ আগস্ট ১৯৪৬): লিগ কর্তৃক ঘোষিত প্রত্যক্ষ সংগ্রাম। কলকাতার দাঙ্গা প্রমাণ করে— আর একসাথে থাকা সম্ভব নয়। দাঙ্গাই শেষমেশ দেশভাগ অনিবার্য করে তোলে।

সুতরাং রাষ্ট্রদ্রোহী আকাঙ্ক্ষা, আলোচনার ব্যর্থতা ও সাম্প্রদায়িক হিংসার চক্র— একসাথে ভারত ভাগের মঞ্চ তৈরি করেছিল।

6. ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মানবিক বিপর্যয় বর্ণনা করো। স্বাধীনতা ও দেশভাগ কেন একইসাথে ঘটেছিল? এ বিষয়ে তোমার নিজস্ব মতামত দাও।

মানবিক বিপর্যয়

  • গণঅভিবাসন: প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ উভয় দিকে শরণার্থী— ইতিহাসের বৃহত্তম বাধ্যতামূলক স্থানান্তর।
  • গণহত্যা ও দাঙ্গা: পাঞ্জাব ও বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ নিহত।
  • নারীর উপর নির্যাতন: ধর্ষণ, অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর— প্রায় ৭৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ নারী সহিংসতার শিকার।
  • বাস্তুহারার যন্ত্রণা: রাতারাতি সম্পত্তি, জমি, পরিবার, পূর্বপুরুষের ভিটে— সব ছেড়ে উদ্বাস্তু জীবন।

কেন একইসাথে ঘটেছিল

ভারতের স্বাধীনতার আন্দোলন ও মুসলিম লিগের পাকিস্তান দাবি ছিল একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কংগ্রেসের কাছে স্বাধীনতা অর্থ ছিল সমগ্র ভারতের মুক্তি; লিগের কাছে স্বাধীনতা অর্থ ছিল মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র। শেষপর্যন্ত ব্রিটিশের কাছে একসাথে দুটি দাবি মেনে নেওয়াই ছিল ক্ষমতা হস্তান্তরের বাস্তবসম্মত সমাধান। ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইনেই ভারত ও পাকিস্তান— দুই রাষ্ট্রের জন্ম একইসাথে দেওয়া হয়।

মতামত: দেশভাগ ছিল ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক দাবার এক মর্মান্তিক পরিণতি। এর দায় কেবল কংগ্রেস বা লিগ কোনো একক পক্ষের নয়— বরং ঔপনিবেশিক ভেদনীতি, ভারতীয় নেতৃত্বের আপসকামিতা, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা এবং শেষপর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক ভয়াবহ বাস্তবতার সম্মিলিত ফল।

7. ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও কেন ভারত ভাগ হলো? একটি পর্যালোচনামূলক উত্তর দাও।

ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা

হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ছাড়া শক্তিশালী জাতীয় আন্দোলন সম্ভব নয়— এটা গান্ধি, মৌলানা আজাদ, আবদুল গফফর খান স্পষ্ট বুঝেছিলেন। অসহযোগ, খিলাফৎ, আইন অমান্য— সব আন্দোলনেই হিন্দু ও মুসলমান পাশাপাশি লড়েছেন।

কেন ভাগ হলো

  1. কাঠামোগত বৈষম্য: মুসলমান সমাজের এক বড় অংশ শিক্ষা, চাকরি ও রাজনীতিতে পিছিয়ে ছিল। এর প্রতিকারে 'আলাদা রাষ্ট্র'ই একমাত্র সমাধান বলে লিগ প্রচার করে।
  2. হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদ: স্বদেশি ও চরমপন্থী আন্দোলন হিন্দুত্ববাদী রং নিলে মুসলমানেরা আস্থা হারান।
  3. ঔপনিবেশিক ভেদনীতি: পৃথক নির্বাচন, সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্ব ও চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সম্প্রদায়গত পরিচয়কে খাড়া রাখে।
  4. নেতৃত্বের ব্যর্থতা: জিন্নাহর অনমনীয়তা ও কংগ্রেসের আপসহীন অবস্থান (বিশেষত নেহরুর) সমঝোতার পথ রুদ্ধ করে।
  5. ডাইরেক্ট অ্যাকশনের সহিংসতা: ১৯৪৬ সালের দাঙ্গা প্রমাণ করে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাস এতটাই ভেঙে পড়েছে যে, আর একসাথে থাকা অসম্ভব।

পর্যালোচনা: ঐক্য ছিল আদর্শ, কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন, লিগের উগ্র অবস্থান এবং কংগ্রেসের কিছু ভুলসিদ্ধান্ত শেষপর্যন্ত ভারত ভাগকে ঐতিহাসিক অনিবার্যতা করে তোলে।

মনে রেখো!

আলিগড় আন্দোলন: স্যার সৈয়দ আহমদ খান, MAO কলেজ (১৮৭৫)। মুসলিম লিগ (১৯০৬): ঢাকা, সলিমুল্লাহ। হিন্দি-উর্দু বিতর্ক (১৮৬৭): প্রথম সাম্প্রদায়িক ফাটল। পাকিস্তান প্রস্তাব (১৯৪০): লাহোর, ফজলুল হক উত্থাপন। ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (১৬ আগস্ট ১৯৪৬): কলকাতা দাঙ্গা। মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (৩ জুন ১৯৪৭)। র্যাডক্লিফ লাইন: বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজন। স্বাধীনতা: পাকিস্তান ১৪ আগস্ট, ভারত ১৫ আগস্ট ১৯৪৭।

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ

পাকিস্তান প্রস্তাব (লাহোর প্রস্তাব) ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লিগের অধিবেশনে গৃহীত হয়। বঙ্গীয় নেতা এ.কে. ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলির জন্য পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জানানো হয়।

ভারত ভাগের পিছনে একাধিক কারণ ছিল: (১) ঔপনিবেশিক ভেদনীতি ও পৃথক নির্বাচন, (২) হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলনের ফলে মুসলমানদের মধ্যে অস্বস্তি, (৩) মুসলিম লিগের দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও পাকিস্তানের দাবি, (৪) কংগ্রেস ও লিগের মধ্যে সমঝোতার ব্যর্থতা (ক্যাবিনেট মিশন), (৫) ১৯৪৬ সালের ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা— যা প্রমাণ করে দেয় যে একত্রে থাকা এখন আর সম্ভব নয়। শেষপর্যন্ত ১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা ও ভারতীয় স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারত ভাগ হয়।

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (Mountbatten Plan) ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন দ্বারা ঘোষিত ভারত বিভাগের পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতকে ভারত ও পাকিস্তান— দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রে ভাগ করে দ্রুত (১৫ আগস্ট ১৯৪৭) ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ উভয়েই এই পরিকল্পনা মেনে নিয়েছিল।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory) হল সেই রাজনৈতিক মতবাদ যা বলে— ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমানরা ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা, রীতিনীতি সব দিক থেকেই সম্পূর্ণ আলাদা জাতি। তাই তাদের পক্ষে এক রাষ্ট্রে একত্রে বসবাস করা সম্ভব নয়। মহম্মদ আলি জিন্নাহ এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা ছিলেন এবং ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে তিনি এর ভিত্তিতেই মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবি উত্থাপন করেন।