Sponsored Links
রাধারানী (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'রাধারানী' গল্পের (উপন্যাসের অংশবিশেষ) সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'রাধারানী' পাঠ্যাংশের (উপন্যাসের অংশবিশেষ) সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
দরিদ্র রাধারানীর রথযাত্রা: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'রাধারানী' উপন্যাসটির প্রথমাংশ আমাদের পাঠ্য। রাধারানীর বয়স এগারো বছরও পূর্ণ হয়নি। একসময় তারা বড়োলোকের পরিবারের অংশ ছিল, কিন্তু এক জ্ঞাতির সঙ্গে মোকদ্দমায় হেরে গিয়ে ডিক্রিদার তাদের ভদ্রাসন থেকে তাড়িয়ে দেয়। সর্বস্বান্ত হয়ে মা ও মেয়ে একটি কুটিরে আশ্রয় নেয়। কায়িক পরিশ্রম করে কোনোমতে দিন কাটছিল, কিন্তু রথের আগে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপবাস শুরু হয়। মায়ের পথ্য কেনার জন্য ছোট্ট রাধারানী বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথের মেলায় বিক্রি করতে যায়।
অন্ধকারে অচেনা সহৃদয় ব্যক্তি: রথের মেলায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় লোক ভেঙে যায়। রাধারানীর মালা আর বিক্রি হয় না। অন্ধকার ও কর্দমাক্ত পথ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে বাড়ি ফিরছিল। এমন সময় অন্ধকারে একজন অচেনা পুরুষ তার ঘাড়ে এসে পড়ে। লোকটির দয়ালু কণ্ঠস্বর শুনে রাধারানী তাকে সব খুলে বলে। লোকটি তাকে সাহায্য করার জন্য রথের মেলা থেকে কিনতে না পারা মালার অজুহাতে রাধারানীর মালাটি কিনে নেয় এবং চার পয়সার দামের বদলে ভুল করে অন্ধকারে চকচকে ডবল পয়সা (টাকা) দিয়ে দেয়। লোকটি পরম স্নেহে হাত ধরে রাধারানীকে তার শ্রীরামপুরের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
পদ্মলোচনের আগমন ও নোট প্রাপ্তি: বাড়িতে আলো জ্বালানোর পর রাধারানী বুঝতে পারে লোকটি পয়সার বদলে টাকা দিয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে সেই দয়ালু ব্যক্তি চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর পদ্মলোচন সাহা নামের এক কাপুড়ে ব্যবসায়ী একজোড়া নতুন শান্তিপুরী কাপড় নিয়ে তাদের কুটিরে আসে এবং জানায় এক বাবু রাধারানীর জন্য দাম চুকিয়ে এটি পাঠিয়েছেন। এরপর ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে রাধারানী মাটিতে পড়ে থাকা একটি নোট (টাকা) কুড়িয়ে পায়, যাতে নাম লেখা ছিল 'রুক্মিণীকুমার রায়'। রাধারানী ও তার মা দরিদ্র হলেও তারা লোভী ছিল না। তাই তারা সেই নোটটি না ভাঙিয়ে যত্ন করে তুলে রাখে। এই গল্পের মাধ্যমে মানুষের নিঃস্বার্থ পরোপকার এবং দরিদ্রের সততার এক অসামান্য চিত্র ফুটে উঠেছে।
অন্ধকারে অচেনা সহৃদয় ব্যক্তি: রথের মেলায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় লোক ভেঙে যায়। রাধারানীর মালা আর বিক্রি হয় না। অন্ধকার ও কর্দমাক্ত পথ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে বাড়ি ফিরছিল। এমন সময় অন্ধকারে একজন অচেনা পুরুষ তার ঘাড়ে এসে পড়ে। লোকটির দয়ালু কণ্ঠস্বর শুনে রাধারানী তাকে সব খুলে বলে। লোকটি তাকে সাহায্য করার জন্য রথের মেলা থেকে কিনতে না পারা মালার অজুহাতে রাধারানীর মালাটি কিনে নেয় এবং চার পয়সার দামের বদলে ভুল করে অন্ধকারে চকচকে ডবল পয়সা (টাকা) দিয়ে দেয়। লোকটি পরম স্নেহে হাত ধরে রাধারানীকে তার শ্রীরামপুরের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
পদ্মলোচনের আগমন ও নোট প্রাপ্তি: বাড়িতে আলো জ্বালানোর পর রাধারানী বুঝতে পারে লোকটি পয়সার বদলে টাকা দিয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে সেই দয়ালু ব্যক্তি চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর পদ্মলোচন সাহা নামের এক কাপুড়ে ব্যবসায়ী একজোড়া নতুন শান্তিপুরী কাপড় নিয়ে তাদের কুটিরে আসে এবং জানায় এক বাবু রাধারানীর জন্য দাম চুকিয়ে এটি পাঠিয়েছেন। এরপর ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে রাধারানী মাটিতে পড়ে থাকা একটি নোট (টাকা) কুড়িয়ে পায়, যাতে নাম লেখা ছিল 'রুক্মিণীকুমার রায়'। রাধারানী ও তার মা দরিদ্র হলেও তারা লোভী ছিল না। তাই তারা সেই নোটটি না ভাঙিয়ে যত্ন করে তুলে রাখে। এই গল্পের মাধ্যমে মানুষের নিঃস্বার্থ পরোপকার এবং দরিদ্রের সততার এক অসামান্য চিত্র ফুটে উঠেছে।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| জ্ঞাতি | রক্তের সম্পর্কযুক্ত আত্মীয় / জ্ঞাতিভাই | কর্দমময় | কাদায় ভরা |
| ভদ্রাসন | পৈতৃক বাসগৃহ বা বসতবাড়ি | গণ্ডবিলম্বী | গাল বেয়ে পড়ছে এমন |
| দিনপাত | দিন কাটানো / জীবনধারণ | কবরী | মাথার চুলের খোঁপা |
| পথ্য | অসুস্থ রোগীর উপযুক্ত খাবার | সমভিব্যাহারী | সঙ্গী / যে সাথে চলে |
| ডিক্রিদার | আদালতের রায়ে যে অধিকার পেয়েছে | যৎকিঞ্চিৎ | খুব সামান্য পরিমাণ |
| ওয়াশিলাত | খরচ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ দেয় টাকা | তল্লাশ | খোঁজ / সন্ধান |
| একাদশ | এগারো (১১) | অভিপ্রায় | উদ্দেশ্য / ইচ্ছা |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'রাধারানী' পাঠ্যাংশটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
২. রাধারানী কোথায় রথ দেখতে গিয়েছিল?
(ক) পুরীতে (খ) গুপ্তিপাড়ায় (গ) মাহেশে (ঘ) নবদ্বীপে
উত্তর: (গ) মাহেশে
৩. রাধারানীর বয়স কত ছিল?
(ক) দশ বছর (খ) এগারো বছর পূর্ণ হয়নি (গ) বারো বছর (ঘ) পনেরো বছর
উত্তর: (খ) এগারো বছর পূর্ণ হয়নি
৪. রাধারানীর মা কোন্ কোর্টে মোকদ্দমা হেরেছিল?
(ক) সুপ্রিম কোর্টে (খ) জজ কোর্টে (গ) হাইকোর্টে (ঘ) প্রিবি কৌন্সিলে
উত্তর: (গ) হাইকোর্টে
৫. রাধারানীর মা কোথায় আপিল করেছিল?
(ক) হাইকোর্টে (খ) সুপ্রিম কোর্টে (গ) প্রিবি কৌন্সিলে (ঘ) জজকোর্টে
উত্তর: (গ) প্রিবি কৌন্সিলে
৬. রথের আগে রাধারানীর মায়ের কী হয়েছিল?
(ক) কাজ পেয়েছিল (খ) ঘোরতর পীড়িতা (অসুস্থ) হয়েছিল (গ) বিদেশে গিয়েছিল (ঘ) মারা গিয়েছিল
উত্তর: (খ) ঘোরতর পীড়িতা (অসুস্থ) হয়েছিল
৭. রাধারানী কীসের মালা গেঁথেছিল?
(ক) জুঁই ফুলের (খ) গোলাপের (গ) বনফুলের (ঘ) বেলফুলের
উত্তর: (গ) বনফুলের
৮. রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই কী আরম্ভ হলো?
(ক) ঝড় (খ) বড়ো বৃষ্টি (গ) মেলা ভাঙা (ঘ) মারামারি
উত্তর: (খ) বড়ো বৃষ্টি
৯. অন্ধকারে কে এসে রাধারানীর ঘাড়ের ওপর পড়ল?
(ক) এক দয়ালু পুরুষ (খ) এক মহিলা (গ) এক সাধু (ঘ) এক পুলিশ
উত্তর: (ক) এক দয়ালু পুরুষ
১০. রাধারানীদের বাড়ি কোথায় ছিল?
(ক) শ্রীরামপুরে (খ) মাহেশে (গ) রিষড়ায় (ঘ) চুঁচুড়ায়
উত্তর: (ক) শ্রীরামপুরে
১১. দয়ালু লোকটি মালার দাম কত বলেছিল?
(ক) দুই পয়সা (খ) চার পয়সা (গ) আট পয়সা (ঘ) এক টাকা
উত্তর: (খ) চার পয়সা
১২. পয়সাগুলি অন্ধকারেও চকচক করছিল কেন বলে লোকটি জানিয়েছিল?
(ক) সোনার পয়সা তাই (খ) রুপোর পয়সা তাই (গ) নূতন কলের পয়সা তাই (ঘ) ধোয়া পয়সা তাই
উত্তর: (গ) নূতন কলের পয়সা তাই
১৩. ঘরে কী ছিল না বলে চালের খড় পেড়ে আগুন জ্বালতে হলো?
(ক) দেশলাই (খ) কাঠ (গ) তৈল বা তেল (ঘ) প্রদীপ
উত্তর: (গ) তৈল বা তেল
১৪. আলো জ্বেলে রাধারানী কী দেখল?
(ক) পয়সা (খ) মোহর (গ) টাকা (ঘ) গয়না
উত্তর: (গ) টাকা
১৫. পদ্মলোচন সাহা কীসের ব্যবসায়ী ছিলেন?
(ক) চালের (খ) কাপড়ের (গ) তেলের (ঘ) গহনার
উত্তর: (খ) কাপড়ের
১৬. পদ্মলোচন কীসের কাপড় এনেছিল?
(ক) সিল্কের (খ) কুঞ্জদার শান্তিপুরে (গ) ঢাকাই জামদানি (ঘ) সুতির
উত্তর: (খ) কুঞ্জদার শান্তিপুরে
১৭. পদ্মলোচন চার টাকার কাপড় কত টাকায় বিক্রি করেছিলেন?
(ক) চার টাকায় (খ) ছয় টাকায় (গ) আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনায় (ঘ) দশ টাকায়
উত্তর: (গ) আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনায়
১৮. ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে রাধারানী কী কুড়িয়ে পেয়েছিল?
(ক) একখানা চিঠি (খ) একখানা নোট (গ) মোহর (ঘ) আংটি
উত্তর: (খ) একখানা নোট
১৯. নোটটিতে কার নাম লেখা ছিল?
(ক) পদ্মলোচনের (খ) বঙ্কিমচন্দ্রের (গ) রুক্মিণীকুমার রায়ের (ঘ) রাধারানীর বাবার
উত্তর: (গ) রুক্মিণীকুমার রায়ের
২০. "তাহারা দরিদ্র, কিন্তু..." - কী নয়?
(ক) বোকা নয় (খ) লোভী নয় (গ) অকৃতজ্ঞ নয় (ঘ) অহংকারী নয়
উত্তর: (খ) লোভী নয়
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. রাধারানীদের অবস্থা পূর্বে কেমন ছিল এবং কেন তারা দরিদ্র হয়েছিল?
উত্তর: পূর্বে রাধারানীরা বড়োমানুষ বা ধনী ছিল। কিন্তু তার মায়ের সঙ্গে এক জ্ঞাতির মোকদ্দমা হয় এবং সেই মোকদ্দমায় হেরে যাওয়ার পর ডিক্রিদার তাদের ভদ্রাসন ও সর্বস্ব দখল করে নিলে তারা দরিদ্র হয়ে পড়ে।
২. রাধারানীর মা কীভাবে সংসার চালাত?
উত্তর: সর্বস্বান্ত হয়ে একটি কুটিরে আশ্রয় নেওয়ার পর রাধারানীর মা শারীরিক বা কায়িক পরিশ্রম করে কোনো প্রকারে সংসার চালাত ও দিনপাত করত।
৩. রথের দিন রাধারানীকে উপবাস করতে হয়েছিল কেন?
উত্তর: রথের আগে রাধারানীর মা ঘোরতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে খাবার জোটেনি, তাই রথের দিন অসুস্থ মায়ের সাথে ছোট্ট রাধারানীকেও উপবাস করতে হয়েছিল।
৪. রাধারানী বনফুলের মালা গেঁথে কী করতে চেয়েছিল?
উত্তর: রাধারানী বনফুলের মালাটি রথের মেলায় বিক্রি করে যে দু-এক পয়সা পাবে, তা দিয়ে অসুস্থ মায়ের জন্য পথ্য বা খাবার কিনতে চেয়েছিল।
৫. রথের মেলায় রাধারানীর মালা বিক্রি হলো না কেন?
উত্তর: রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই মুষলধারে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে মেলা থেকে সব লোক ভেঙে যায়, তাই রাধারানীর মালা আর বিক্রি হয়নি।
৬. অন্ধকারে রাধারানীর ঘাড়ের ওপর কে এসে পড়েছিল?
উত্তর: বৃষ্টি ও অন্ধকারে কর্দমাক্ত পথ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ একজন অপরিচিত দয়ালু পুরুষ এসে রাধারানীর ঘাড়ের ওপর পড়েছিলেন।
৭. লোকটি কীভাবে বুঝতে পেরেছিল যে রাধারানী বড়ো বালিকা?
উত্তর: অন্ধকারে বয়সের অনুমান করতে না পারলেও, রাধারানীর কথা বলার স্বর শুনে এবং তার হাত ধরার পর হাতের স্পর্শ থেকে লোকটি বুঝতে পেরেছিল যে রাধারানী বড়ো বালিকা।
৮. লোকটি রাধারানীর কাছ থেকে মালাটি কিনেছিল কেন?
উত্তর: রাধারানীর মুখে অসুস্থ মায়ের কথা ও তার দুঃখের কাহিনি শুনে লোকটি অত্যন্ত সমব্যথী হয়েছিল। তাই সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সে বাড়ির ঠাকুরের নাম করে মালাটি কিনে নিয়েছিল।
৯. 'নূতন কলের পয়সা, তাই চকচক করচে।' - কে, কাকে, কেন এ কথা বলেছিল?
উত্তর: অন্ধকারে লোকটি রাধারানীকে পয়সার বদলে টাকা দিলে রাধারানী বুঝতে পারে যে সেগুলো বড়ো বড়ো ঠেকছে এবং চকচক করছে। তখন নিজের পরিচয় ও দান গোপন রাখতে লোকটি এ কথা বলেছিল।
১০. রাধারানীদের ঘরে প্রদীপ জ্বালাতে বিলম্ব হয়েছিল কেন?
উত্তর: রাধারানীদের ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর মতো কোনো তেল ছিল না। তাই চালের খড় পেড়ে চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালাতে হয়েছিল বলে আলো করতে বিলম্ব হয়েছিল।
১১. আলো জ্বালানোর পর রাধারানী কী দেখল?
উত্তর: আলো জ্বালানোর পর রাধারানী দেখল যে দয়ালু লোকটি পয়সার বদলে তাকে টাকা দিয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে সেই অপরিচিত লোকটি তাদের কুটির থেকে চলে গেছে।
১২. রাধারানীর মা ওই লোকটির টাকা দেওয়াকে কীভাবে গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: রাধারানীর মা বুঝতে পেরেছিল যে লোকটি না জেনে টাকা দেয়নি। তিনি দাতা হিসেবে দুঃখ শুনে দান করেছেন, তাই ভিখারি হিসেবে সেই দান গ্রহণ করে খরচ করা দোষের নয় বলে মা মনে করেছিল।
১৩. পদ্মলোচন সাহা রাধারানীদের বাড়িতে কেন এসেছিল?
উত্তর: কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহা একজোড়া নতুন কুঞ্জদার শান্তিপুরী কাপড় নিয়ে রাধারানীদের বাড়িতে এসেছিল, কারণ এক বাবু নগদ দাম দিয়ে কাপড়টি রাধারানীকে দিয়ে আসতে বলেছিল।
১৪. ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে রাধারানী কী পেয়েছিল?
উত্তর: বাজার থেকে ফিরে ঘর ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করার সময় রাধারানী মেঝেতে পড়ে থাকা একখানা নোট (টাকা) কুড়িয়ে পেয়েছিল, যাতে রাধারানীর নাম লেখা ছিল।
১৫. নোটটিতে কার নাম লেখা ছিল এবং কেন?
উত্তর: নোটটিতে 'রুক্মিণীকুমার রায়' নাম লেখা ছিল। পাছে গরিবের ঘরে নোট দেখে কেউ চোরাই নোট বা চুরির টাকা বলে সন্দেহ করে, তাই দয়ালু ব্যক্তিটি নিজের নাম লিখে রেখে গিয়েছিলেন।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'রাধারানী' পাঠ্যাংশ অবলম্বনে রাধারানীর করুণ অবস্থা এবং তার মাহেশের রথের মেলায় যাওয়ার কারণ বর্ণনা করো।
উত্তর: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'রাধারানী' উপন্যাসের প্রথমাংশে রাধারানী নামে এক এগারো বছরের কিশোরীর করুণ জীবনসংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে।
রাধারানীরা একসময় ধনী পরিবারের অংশ ছিল। কিন্তু এক জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে মোকদ্দমা হারার পর, ডিক্রিদার তাদের ভদ্রাসন থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেয়। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে রাধারানী ও তার মা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রিবি কৌন্সিলে আপিল করলেও তাদের আহারের কোনো সংস্থান ছিল না। রাধারানীর মা কায়িক পরিশ্রম করে কোনোমতে দিন কাটাত।
কিন্তু রথযাত্রার আগে রাধারানীর মা ঘোরতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে খাবার জোটেনি, মা ও মেয়ে দুজনকেই উপবাস করতে হয়। অসুস্থ মায়ের পথ্য বা ওষুধের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ছোট্ট রাধারানী বাধ্য হয়ে বনফুলের একটি মালা গাঁথে। সে ভেবেছিল, মাহেশের রথের মেলায় গিয়ে মালাটি বিক্রি করে যে দু-এক পয়সা পাওয়া যাবে, তা দিয়েই সে তার রুগ্ন মায়ের জন্য পথ্য কিনে আনবে। মাতৃত্বের প্রতি ভালোবাসা ও দারিদ্র্যের এই নির্মম তাড়নাই তাকে মেলায় যেতে বাধ্য করেছিল।
রাধারানীরা একসময় ধনী পরিবারের অংশ ছিল। কিন্তু এক জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে হাইকোর্টে মোকদ্দমা হারার পর, ডিক্রিদার তাদের ভদ্রাসন থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেয়। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে রাধারানী ও তার মা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রিবি কৌন্সিলে আপিল করলেও তাদের আহারের কোনো সংস্থান ছিল না। রাধারানীর মা কায়িক পরিশ্রম করে কোনোমতে দিন কাটাত।
কিন্তু রথযাত্রার আগে রাধারানীর মা ঘোরতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে খাবার জোটেনি, মা ও মেয়ে দুজনকেই উপবাস করতে হয়। অসুস্থ মায়ের পথ্য বা ওষুধের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ছোট্ট রাধারানী বাধ্য হয়ে বনফুলের একটি মালা গাঁথে। সে ভেবেছিল, মাহেশের রথের মেলায় গিয়ে মালাটি বিক্রি করে যে দু-এক পয়সা পাওয়া যাবে, তা দিয়েই সে তার রুগ্ন মায়ের জন্য পথ্য কিনে আনবে। মাতৃত্বের প্রতি ভালোবাসা ও দারিদ্র্যের এই নির্মম তাড়নাই তাকে মেলায় যেতে বাধ্য করেছিল।
২. রথের মেলায় বৃষ্টি নামার পর অন্ধকার পথে রাধারানীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থার যে বিবরণ বঙ্কিমচন্দ্র দিয়েছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: মায়ের পথ্য কেনার আশায় রাধারানী বনফুলের মালা নিয়ে রথের মেলায় গিয়েছিল। কিন্তু তার দুর্ভাগ্যবশত, রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই মুষলধারে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে মেলার লোক ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং রাধারানীর মালা আর বিক্রি হয় না।
সন্ধ্যার পর যখন ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে, তখন রাধারানী বাধ্য হয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ায়। শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টিতে পথ কাদায় মাখামাখি ও পিচ্ছিল হয়ে উঠেছিল। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তার ওপর অসুস্থ মায়ের আহার জুটবে না—এই চিন্তায় রাধারানীর বুক ফেটে কান্না আসছিল। সে পিচ্ছিল পথে বারবার আছাড় খাচ্ছিল আর কাঁদছিল। তার চোখের জলে তার গাল ও মাথার খোঁপা (কবরী) ভেসে যাচ্ছিল। শারীরিক কষ্ট এবং মায়ের জন্য মানসিক যন্ত্রণায় সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবুও, তার চরম দারিদ্র্য এবং দায়িত্ববোধের কারণে সে ওই অন্ধকারেও এক পয়সার বনফুলের মালাটি সযত্নে বুকে আগলে রেখেছিল, ফেলে দেয়নি। বঙ্কিমচন্দ্র অত্যন্ত দরদের সঙ্গে এক অসহায় বালিকার এই করুণ অবস্থার নিখুঁত চিত্র এঁকেছেন।
সন্ধ্যার পর যখন ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে, তখন রাধারানী বাধ্য হয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ায়। শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টিতে পথ কাদায় মাখামাখি ও পিচ্ছিল হয়ে উঠেছিল। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তার ওপর অসুস্থ মায়ের আহার জুটবে না—এই চিন্তায় রাধারানীর বুক ফেটে কান্না আসছিল। সে পিচ্ছিল পথে বারবার আছাড় খাচ্ছিল আর কাঁদছিল। তার চোখের জলে তার গাল ও মাথার খোঁপা (কবরী) ভেসে যাচ্ছিল। শারীরিক কষ্ট এবং মায়ের জন্য মানসিক যন্ত্রণায় সে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবুও, তার চরম দারিদ্র্য এবং দায়িত্ববোধের কারণে সে ওই অন্ধকারেও এক পয়সার বনফুলের মালাটি সযত্নে বুকে আগলে রেখেছিল, ফেলে দেয়নি। বঙ্কিমচন্দ্র অত্যন্ত দরদের সঙ্গে এক অসহায় বালিকার এই করুণ অবস্থার নিখুঁত চিত্র এঁকেছেন।
৩. অন্ধকার পথে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে রাধারানীর সাক্ষাৎ এবং সেই ব্যক্তির মহত্ত্বের পরিচয় দাও।
উত্তর: অন্ধকার ও বৃষ্টিস্নাত পথে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ এক অপরিচিত দয়ালু পুরুষ রাধারানীর ঘাড়ের ওপর এসে পড়েন। এই ব্যক্তিটিই ছিলেন রুক্মিণীকুমার রায়।
অচেনা পুরুষের গলার স্বর শুনে রাধারানী প্রথমে ভয় পেলেও, লোকটির দয়ালু কণ্ঠস্বর তাকে ভরসা জোগায়। লোকটি রাধারানীর মুখে তার অসহায়তা ও অসুস্থ মায়ের পথ্য কেনার কথা শুনে গভীরভাবে ব্যথিত হন। রাধারানীকে সাহায্য করার জন্য তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি সরাসরি দান না করে, বাড়ির ঠাকুরের নাম করে চার পয়সা দিয়ে মালাটি কিনে নেওয়ার কথা বলেন, যাতে রাধারানীর আত্মসম্মানে আঘাত না লাগে।
অন্ধকারে তিনি চার পয়সার বদলে ইচ্ছে করেই রাধারানীর হাতে ডবল পয়সা বা টাকার মুদ্রা গুঁজে দেন এবং রাধারানী সন্দেহ করলে তাকে বোঝান যে সেগুলো 'নূতন কলের পয়সা'। শুধু তাই নয়, তিনি পরম স্নেহে রাধারানীর হাত ধরে তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন এবং পরিচয় গোপন রাখতে রাধারানী আলো জ্বালানোর আগেই সেখান থেকে চলে যান। এই অজ্ঞাত ব্যক্তির নিঃস্বার্থ পরোপকার, সহানুভূতি এবং মানুষের আত্মসম্মান বাঁচিয়ে সাহায্য করার মহত্ত্ব গল্পটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
অচেনা পুরুষের গলার স্বর শুনে রাধারানী প্রথমে ভয় পেলেও, লোকটির দয়ালু কণ্ঠস্বর তাকে ভরসা জোগায়। লোকটি রাধারানীর মুখে তার অসহায়তা ও অসুস্থ মায়ের পথ্য কেনার কথা শুনে গভীরভাবে ব্যথিত হন। রাধারানীকে সাহায্য করার জন্য তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি সরাসরি দান না করে, বাড়ির ঠাকুরের নাম করে চার পয়সা দিয়ে মালাটি কিনে নেওয়ার কথা বলেন, যাতে রাধারানীর আত্মসম্মানে আঘাত না লাগে।
অন্ধকারে তিনি চার পয়সার বদলে ইচ্ছে করেই রাধারানীর হাতে ডবল পয়সা বা টাকার মুদ্রা গুঁজে দেন এবং রাধারানী সন্দেহ করলে তাকে বোঝান যে সেগুলো 'নূতন কলের পয়সা'। শুধু তাই নয়, তিনি পরম স্নেহে রাধারানীর হাত ধরে তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন এবং পরিচয় গোপন রাখতে রাধারানী আলো জ্বালানোর আগেই সেখান থেকে চলে যান। এই অজ্ঞাত ব্যক্তির নিঃস্বার্থ পরোপকার, সহানুভূতি এবং মানুষের আত্মসম্মান বাঁচিয়ে সাহায্য করার মহত্ত্ব গল্পটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
৪. "আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।" - বক্তা কে? কোন্ প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বক্তা ও প্রসঙ্গ: উদ্ধৃত কথাটি বঙ্কিমচন্দ্রের 'রাধারানী' পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া। উক্তিটির বক্তা হলেন রাধারানীর মা। অপরিচিত ব্যক্তিটি রাধারানীকে চার পয়সার মালার দাম হিসেবে অন্ধকারে ভুল বুঝিয়ে টাকা দিয়ে চলে যাওয়ার পর, রাধারানী যখন অসহায়ভাবে মায়ের কাছে জানতে চায় "এখন কী হবে?", তখন মা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে এ কথা বলেছিলেন।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: রাধারানীরা একসময় ধনী পরিবারের সদস্য ছিল, কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আজ তারা সর্বস্বান্ত। তাদের আত্মসম্মানবোধ অত্যন্ত প্রবল ছিল। কিন্তু যখন রাধারানীর মা বুঝতে পারেন যে সেই অপরিচিত লোকটি ভুল করে নয়, বরং জেনেশুনেই তাদের চরম দারিদ্র্যের কথা উপলব্ধি করে অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন, তখন তাঁর মাতৃহৃদয় সেই দয়াকে গ্রহণ করতে দ্বিধা করেনি। তিনি বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বলেন যে, যেহেতু তারা আজ কপর্দকশূন্য ও ভিখারির পর্যায়ে নেমে এসেছে, তাই একজন মহৎ হৃদয় দাতার নিঃস্বার্থ দান গ্রহণ করে রুগ্ন অবস্থার পথ্য জোগাড় করায় কোনো অপমান বা দোষ নেই। এই উক্তির মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কথা ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ পেয়েছে।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: রাধারানীরা একসময় ধনী পরিবারের সদস্য ছিল, কিন্তু ভাগ্যের ফেরে আজ তারা সর্বস্বান্ত। তাদের আত্মসম্মানবোধ অত্যন্ত প্রবল ছিল। কিন্তু যখন রাধারানীর মা বুঝতে পারেন যে সেই অপরিচিত লোকটি ভুল করে নয়, বরং জেনেশুনেই তাদের চরম দারিদ্র্যের কথা উপলব্ধি করে অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন, তখন তাঁর মাতৃহৃদয় সেই দয়াকে গ্রহণ করতে দ্বিধা করেনি। তিনি বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বলেন যে, যেহেতু তারা আজ কপর্দকশূন্য ও ভিখারির পর্যায়ে নেমে এসেছে, তাই একজন মহৎ হৃদয় দাতার নিঃস্বার্থ দান গ্রহণ করে রুগ্ন অবস্থার পথ্য জোগাড় করায় কোনো অপমান বা দোষ নেই। এই উক্তির মধ্যে দিয়ে একদিকে যেমন ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কথা ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ পেয়েছে।
৫. "তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।" - বঙ্কিমচন্দ্র কাদের সম্পর্কে এ কথা বলেছেন? পাঠ্যাংশ অবলম্বনে এই উক্তির সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: কাদের সম্পর্কে: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রাধারানী' পাঠ্যাংশে এ কথাটি রাধারানী এবং তার মায়ের চরিত্র সম্পর্কে বলেছেন।
সার্থকতা বিচার: রাধারানী ও তার মা জ্ঞাতির চক্রান্তে প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে সম্পূর্ণ কপর্দকশূন্য ও দরিদ্র হয়ে পড়েছিল। তাদের ঘরে আলো জ্বালানোর তেল ছিল না, অসুস্থ মায়ের পথ্য ছিল না। এই চরম দারিদ্র্যের মধ্যেই তাদের সততা ও আত্মমর্যাদার শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা হয়।
রুক্মিণীকুমার রায় নামের সেই দয়ালু ব্যক্তিটি যখন অন্ধকারে মালার দাম হিসেবে টাকার মুদ্রা দিয়েছিলেন, রাধারানী তা চকচকে দেখে সন্দেহ করেছিল এবং আলো জ্বেলে পরীক্ষা করতে চেয়েছিল, যাতে ভুল করে কেউ ঠকে না যায়। পরে রুক্মিণীকুমার তাদের কুটিরে কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচনকে দিয়ে নতুন কাপড় পাঠিয়ে দেন এবং গোপনে ঘর ঝাঁট দেওয়ার জায়গায় একটি নোট (টাকা) ফেলে রেখে যান। রাধারানী নোটটি কুড়িয়ে পেয়ে মায়ের কাছে নিয়ে যায়। চরম অভাবের মধ্যে এমন একটি নোট পেলে যেকোনো মানুষই তা খরচ করতে প্রলুব্ধ হতো। কিন্তু রাধারানী বা তার মা তা করেনি। তারা বুঝতে পেরেছিল যে এটি দান, কিন্তু তাদের লোভ ছিল না। তাই তারা নোটটি না ভাঙিয়ে সযত্নে তুলে রেখেছিল। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তাদের এই সততা এবং লোভহীন মানসিকতাই বঙ্কিমচন্দ্রের উক্তিটিকে সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থকতা দান করেছে।
সার্থকতা বিচার: রাধারানী ও তার মা জ্ঞাতির চক্রান্তে প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে সম্পূর্ণ কপর্দকশূন্য ও দরিদ্র হয়ে পড়েছিল। তাদের ঘরে আলো জ্বালানোর তেল ছিল না, অসুস্থ মায়ের পথ্য ছিল না। এই চরম দারিদ্র্যের মধ্যেই তাদের সততা ও আত্মমর্যাদার শ্রেষ্ঠ পরীক্ষা হয়।
রুক্মিণীকুমার রায় নামের সেই দয়ালু ব্যক্তিটি যখন অন্ধকারে মালার দাম হিসেবে টাকার মুদ্রা দিয়েছিলেন, রাধারানী তা চকচকে দেখে সন্দেহ করেছিল এবং আলো জ্বেলে পরীক্ষা করতে চেয়েছিল, যাতে ভুল করে কেউ ঠকে না যায়। পরে রুক্মিণীকুমার তাদের কুটিরে কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচনকে দিয়ে নতুন কাপড় পাঠিয়ে দেন এবং গোপনে ঘর ঝাঁট দেওয়ার জায়গায় একটি নোট (টাকা) ফেলে রেখে যান। রাধারানী নোটটি কুড়িয়ে পেয়ে মায়ের কাছে নিয়ে যায়। চরম অভাবের মধ্যে এমন একটি নোট পেলে যেকোনো মানুষই তা খরচ করতে প্রলুব্ধ হতো। কিন্তু রাধারানী বা তার মা তা করেনি। তারা বুঝতে পেরেছিল যে এটি দান, কিন্তু তাদের লোভ ছিল না। তাই তারা নোটটি না ভাঙিয়ে সযত্নে তুলে রেখেছিল। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তাদের এই সততা এবং লোভহীন মানসিকতাই বঙ্কিমচন্দ্রের উক্তিটিকে সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থকতা দান করেছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- অলংকার = অলম্ + কার
- বৃষ্টি = বৃষ্ + তি
- অকস্মাৎ = তৎ + কাল (অকস্মাৎ শব্দটি সরাসরি সন্ধিবদ্ধ না হলেও, সমার্থক তৎকাল এর সন্ধি)। সঠিক সন্ধি: অকস্মাৎ (অকস্মাৎ শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ বা অব্যয় পদ)। বিকল্প: পরিষ্কার = পরিঃ + কার
- ইত্যাদি = ইতি + আদি
- অন্নাভাব = অন্ন + অভাব
সমাস নির্ণয়
- বনফুল: বনের ফুল (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- ডিক্রিদার: ডিক্রি ধারণ করে যে (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)
- রথহাট: রথের হাট (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- অন্নাভাব: অন্নের অভাব (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- পোড়ারমুখো: পোড়া মুখ যার (বহুব্রীহি সমাস)
পদ পরিবর্তন
- শরীর ➜ শারীরিক
- দিন ➜ দৈনিক
- অন্ধকার ➜ অন্ধকারাচ্ছন্ন
- দরিদ্র ➜ দারিদ্র্য
- বিক্রি ➜ বিক্রীত
রাধারানী গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
এই পাঠ্যাংশটি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা। এটি তাঁর রচিত বিখ্যাত 'রাধারানী' উপন্যাসের প্রথমাংশ থেকে সংগৃহীত।
রাধারানীরা অত্যন্ত দরিদ্র ছিল এবং রথের আগে তার মা ঘোরতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ মায়ের পথ্য বা খাবার কেনার জন্যই রাধারানী বনফুলের মালা গেঁথে তা বিক্রি করতে গিয়েছিল।
দয়ালু লোকটি অন্ধকারে রাধারানীর দুঃখের কথা শুনে তার আত্মসম্মান বজায় রেখে চার পয়সার মালার বদলে ভুল করে টাকা দেওয়ার ভান করে এবং তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে সে নতুন কাপড় ও একটি নোট পাঠিয়ে সাহায্য করে।