Sponsored Links
ভাঙার গান (কাজী নজরুল ইসলাম)
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'ভাঙার গান' কবিতার সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ভাঙার গান' কবিতার সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. কবিতার বিষয়সংক্ষেপ ও মূলভাব
কারাগার ভাঙার ডাক: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'ভাঙার গান' কবিতায় পরাধীন ভারতবর্ষের স্বাধীনতাকামী তরুণ সমাজকে ব্রিটিশদের তৈরি কারাগার ধ্বংস করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকার বিপ্লবীদের অন্যায়ভাবে বন্দি করে যে 'লৌহ-কপাট' বা লোহার দরজা তৈরি করেছে, তা ভেঙে ফেলার ডাক দিয়েছেন কবি। এই কারাগার হলো রক্ত-জমাট করা পরাধীনতার প্রতীক, যাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন বা লোপাট করতে হবে।
শিবের প্রলয়ংকরী রূপের আহ্বান: কবি দেশের তরুণদের 'তরুণ ঈশান' (শিব) এবং 'পাগলা ভোলা'-র সঙ্গে তুলনা করেছেন। শিব যেমন তাঁর প্রলয়-বিষাণ (ধ্বংসের শিঙা) বাজিয়ে জগতের সমস্ত অশুভকে ধ্বংস করেন, তেমনি তরুণ সমাজকেও গাজনের বাজনা বাজিয়ে এই অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিতে হবে। কোনো বিদেশি শাসকই মুক্ত ও স্বাধীন সত্যকে বন্দি করে রাখতে পারে না। ভগবান বা চিরন্তন সত্যকে ফাঁসি দেওয়ার বৃথা আস্ফালন দেখে কবি বিদ্রুপের হাসি হেসেছেন।
মৃত্যুভয় জয় ও নতুনের আবাহন: কবি তরুণ বিপ্লবীদের বীর হজরত আলির মতো 'হৈদরী হাঁক' এবং যুদ্ধের দামামা বা 'দুন্দুভি ঢাক' কাঁধে নিতে বলেছেন। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে নতুন জীবনের পানে এগিয়ে যেতে হবে। কালবৈশাখী যেমন পুরনো জঞ্জাল উড়িয়ে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করে, তেমনি তরুণদের অলস বসে না থেকে লাথি মেরে কারার তালা ভাঙতে হবে। ব্রিটিশদের সমস্ত বন্দিশালায় আগুন জ্বেলে পরাধীনতার সমস্ত স্মৃতি ও কলঙ্ককে সমূলে উপড়ে ফেলার মাধ্যমেই এই কবিতার বিদ্রোহী সুর পূর্ণতা লাভ করেছে।
শিবের প্রলয়ংকরী রূপের আহ্বান: কবি দেশের তরুণদের 'তরুণ ঈশান' (শিব) এবং 'পাগলা ভোলা'-র সঙ্গে তুলনা করেছেন। শিব যেমন তাঁর প্রলয়-বিষাণ (ধ্বংসের শিঙা) বাজিয়ে জগতের সমস্ত অশুভকে ধ্বংস করেন, তেমনি তরুণ সমাজকেও গাজনের বাজনা বাজিয়ে এই অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিতে হবে। কোনো বিদেশি শাসকই মুক্ত ও স্বাধীন সত্যকে বন্দি করে রাখতে পারে না। ভগবান বা চিরন্তন সত্যকে ফাঁসি দেওয়ার বৃথা আস্ফালন দেখে কবি বিদ্রুপের হাসি হেসেছেন।
মৃত্যুভয় জয় ও নতুনের আবাহন: কবি তরুণ বিপ্লবীদের বীর হজরত আলির মতো 'হৈদরী হাঁক' এবং যুদ্ধের দামামা বা 'দুন্দুভি ঢাক' কাঁধে নিতে বলেছেন। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে নতুন জীবনের পানে এগিয়ে যেতে হবে। কালবৈশাখী যেমন পুরনো জঞ্জাল উড়িয়ে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করে, তেমনি তরুণদের অলস বসে না থেকে লাথি মেরে কারার তালা ভাঙতে হবে। ব্রিটিশদের সমস্ত বন্দিশালায় আগুন জ্বেলে পরাধীনতার সমস্ত স্মৃতি ও কলঙ্ককে সমূলে উপড়ে ফেলার মাধ্যমেই এই কবিতার বিদ্রোহী সুর পূর্ণতা লাভ করেছে।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| কারা | কারাগার / জেলখানা | প্রলয়-বিষাণ | ধ্বংসের শিঙা বা বাঁশি |
| লৌহ-কপাট | লোহার তৈরি দরজা | গাজন | চৈত্র মাসে শিবের আনন্দোৎসব |
| লোপাট | নিশ্চিহ্ন / সম্পূর্ণ ধ্বংস | গারদ | জেলখানার গরাদ বা শিক |
| পাষাণ-বেদী | পাথরের তৈরি পূজার স্থান | হৈদরী হাঁক | হজরত আলির মতো বীরদর্পে হুংকার |
| ঈশান | শিব / মহাদেব | দুন্দুভি | যুদ্ধের দামামা বা বড়ো ঢাক |
| পাগলা ভোলা | শিব (এখানে স্বাধীনতাকামী তরুণ) | ভীম | ভয়ংকর / ভীষণ |
| ভিত্তি | ভিত / মূল কাঠামো | উপাড়ি | উপড়ে ফেলা / সমূলে বিনাশ করা |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'ভাঙার গান' কবিতাটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য (গ) কাজী নজরুল ইসলাম (ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: (গ) কাজী নজরুল ইসলাম
২. কবি কী ভাঙতে বলেছেন?
(ক) লোহার শিকল (খ) কারার লৌহ-কপাট (গ) পাথরের দেওয়াল (ঘ) রাজপ্রাসাদ
উত্তর: (খ) কারার লৌহ-কপাট
৩. 'লৌহ-কপাট' শব্দের অর্থ কী?
(ক) লোহার জানলা (খ) লোহার সিন্দুক (গ) লোহার দরজা (ঘ) লোহার বেড়ি
উত্তর: (গ) লোহার দরজা
৪. পাষাণ-বেদী কী দিয়ে তৈরি?
(ক) রক্ত-জমাট শিকল-পুজোর (খ) লোহার (গ) ইটের (ঘ) মানুষের হাড়ের
উত্তর: (ক) রক্ত-জমাট শিকল-পুজোর
৫. কবি কাকে প্রলয়-বিষাণ বাজাতে বলেছেন?
(ক) তরুণ ঈশানকে (খ) কৃষকদের (গ) মাঝিদের (ঘ) রাজাকে
উত্তর: (ক) তরুণ ঈশানকে
৬. 'ঈশান' শব্দের অর্থ কী?
(ক) মেঘ (খ) ঝড় (গ) শিব বা মহাদেব (ঘ) আগুন
উত্তর: (গ) শিব বা মহাদেব
৭. কীসের বাজনা বাজাতে বলা হয়েছে?
(ক) পুজোর (খ) গাজনের (গ) বিয়ের (ঘ) মৃত্যুর
উত্তর: (খ) গাজনের
৮. কে সাজা দিতে পারে না?
(ক) রাজারা (খ) মুক্ত স্বাধীন সত্যকে (গ) ভগবানকে (ঘ) বন্দিদের
উত্তর: (খ) মুক্ত স্বাধীন সত্যকে
৯. 'ভগবান পরবে ফাঁসি' - কথাটি শুনে কী পায়?
(ক) দুঃখ (খ) ভয় (গ) রাগ (ঘ) হাসি
উত্তর: (ঘ) হাসি
১০. 'সর্বনাশী' শিখায় এ হীন তথ্য কে রে? - হীন তথ্যটি কী?
(ক) বিপ্লবীরা মরবে (খ) ভগবান ফাঁসি পরবে (গ) দেশ পরাধীন থাকবে (ঘ) রাজা সাজা দেবে
উত্তর: (খ) ভগবান ফাঁসি পরবে
১১. 'পাগলা ভোলা' কাকে বলা হয়েছে?
(ক) ইংরেজদের (খ) শিবরূপী তরুণ বিপ্লবীদের (গ) ভগবানকে (ঘ) রাজাকে
উত্তর: (খ) শিবরূপী তরুণ বিপ্লবীদের
১২. 'গারদগুলা' কীভাবে টানতে বলা হয়েছে?
(ক) আস্তে আস্তে (খ) জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে (গ) দড়ি দিয়ে (ঘ) ভেঙে চুরে
উত্তর: (খ) জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে
১৩. কোন্ হাঁক মারতে বলা হয়েছে?
(ক) বাঘের হাঁক (খ) সিংহের হাঁক (গ) হৈদরী হাঁক (ঘ) ভৈরব হাঁক
উত্তর: (গ) হৈদরী হাঁক
১৪. 'হৈদরী হাঁক' কী?
(ক) হজরত আলির বীরত্বব্যঞ্জক হুংকার (খ) হাতির ডাক (গ) মেঘের গর্জন (ঘ) হায়েনার ডাক
উত্তর: (ক) হজরত আলির বীরত্বব্যঞ্জক হুংকার
১৫. কাঁধে কী নিতে বলা হয়েছে?
(ক) বন্দুক (খ) তলোয়ার (গ) দুন্দুভি ঢাক (ঘ) শিকল
উত্তর: (গ) দুন্দুভি ঢাক
১৬. মৃত্যুকে কোন্ দিকে ডাকতে বলা হয়েছে?
(ক) স্বর্গের পানে (খ) নরক পানে (গ) জীবন পানে (ঘ) যুদ্ধ পানে
উত্তর: (গ) জীবন পানে
১৭. আকাশে কী নাচছে?
(ক) মেঘ (খ) কাল-বোশেখি (গ) বিদ্যুৎ (ঘ) তারা
উত্তর: (খ) কাল-বোশেখি
১৮. 'ভীম কারার' কী নাড়তে বলা হয়েছে?
(ক) দেওয়াল (খ) ছাদ (গ) দরজা (ঘ) ভিত্তি
উত্তর: (ঘ) ভিত্তি
১৯. তালা কীভাবে ভাঙতে বলা হয়েছে?
(ক) চাবি দিয়ে (খ) পাথর দিয়ে (গ) লাথি মেরে (ঘ) হাতুড়ি দিয়ে
উত্তর: (গ) লাথি মেরে
২০. যত সব বন্দি-শালায় কী করতে বলা হয়েছে?
(ক) ভেঙে ফেলতে (খ) আগুন জ্বালাতে (গ) তালা দিতে (ঘ) রং করতে
উত্তর: (খ) আগুন জ্বালাতে
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. 'কারার ওই লৌহ-কপাট / ভেঙে ফেল' - লৌহ-কপাট ভাঙতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: কারার লৌহ-কপাট হলো পরাধীনতার প্রতীক। ব্রিটিশদের এই অত্যাচারী শাসনযন্ত্রকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ভারতের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্যই কবি এটি ভাঙতে বলেছেন।
২. 'রক্ত-জমাট শিকল-পুজোর পাষাণ-বেদী' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ব্রিটিশদের দেওয়া পরাধীনতার শৃঙ্খল বা শিকলকে পুজো করা বা বিনাবাক্যে মেনে নেওয়ার যে দীর্ঘস্থায়ী দাসত্ব-প্রবৃত্তি, তাকেই কবি রক্ত-জমাট পাষাণ-বেদী বলেছেন।
৩. 'ওরে ও তরুণ ঈশান!' - 'তরুণ ঈশান' বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'ঈশান' শব্দের অর্থ শিব বা মহাদেব। এখানে দেশের স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী তরুণ সমাজকে শিবের প্রলয়ংকরী রূপের প্রতীক হিসেবে 'তরুণ ঈশান' বলা হয়েছে।
৪. 'বাজা তোর প্রলয়-বিষাণ' - 'প্রলয়-বিষাণ' কী?
উত্তর: 'প্রলয়-বিষাণ' হলো ধ্বংসের শিঙা বা বাঁশি। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, শিব তাঁর প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে জগতের সমস্ত অশুভকে ধ্বংস করেন।
৫. 'গাজনের বাজনা বাজা!' - গাজনের বাজনার তাৎপর্য কী?
উত্তর: গাজন হলো শিবের উপাসনার আনন্দোৎসব। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে ভারতের যে মুক্তির আনন্দ ও প্রলয়ের উৎসব শুরু হবে, তাকেই কবি গাজনের বাজনার সাথে তুলনা করেছেন।
৬. 'কে দেয় সাজা / মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?' - কবি কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: সত্য অবিনশ্বর এবং স্বাধীন। ব্রিটিশ সরকার সাময়িকভাবে বিপ্লবীদের বন্দি করতে পারলেও ভারতের স্বাধীনতার স্পৃহাকে বা সত্যকে কোনোদিন সাজা দিয়ে দমিয়ে রাখতে পারবে না।
৭. 'ভগবান পরবে ফাঁসি? / সর্বনাশী / শিখায় এ হীন তথ্য কে রে?' - উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: ভগবান যেমন অমর ও অবিনশ্বর, দেশপ্রেমিক বিপ্লবীদের অন্তরের মুক্তি-আকাঙ্ক্ষাও তেমনি স্বাধীন। ব্রিটিশরা ফাঁসি দিয়ে মানুষের শরীর মারতে পারে, কিন্তু তাদের আত্মাকে মারতে পারে না।
৮. 'ওরে ও পাগলা ভোলা' - কবি কাকে, কেন 'পাগলা ভোলা' বলেছেন?
উত্তর: কবি বিপ্লবী তরুণদের শিব বা 'পাগলা ভোলা' বলেছেন। কারণ শিব যেমন আপন খেয়ালে মত্ত হয়ে প্রলয়লীলা চালান, তরুণদেরও তেমনি সব হিসাব ভুলে বিপ্লবের প্রলয়-দোলা আনতে হবে।
৯. 'গারদগুলা / জোরসে-ধরে হেঁচকা টানে!' - এর অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, ব্রিটিশদের তৈরি জেলখানার লোহার গরাদ বা শিকগুলোকে প্রবল শক্তির সাথে হেঁচকা টান মেরে সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে।
১০. 'মার হাঁক হৈদরী হাঁক' - 'হৈদরী হাঁক' কী?
উত্তর: 'হৈদর' হলো ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলির আরেক নাম। তাঁর মতো অসীম সাহস ও বীরত্বব্যঞ্জক হুংকার দেওয়াকেই 'হৈদরী হাঁক' বলা হয়েছে।
১১. 'কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক' - দুন্দুভি ঢাক কীসের প্রতীক?
উত্তর: 'দুন্দুভি' হলো প্রাচীনকালের যুদ্ধের দামামা বা বড়ো ঢাক। এটি যুদ্ধের ডাক এবং বিপ্লবীদের সমবেত লড়াইয়ের প্রেরণার প্রতীক।
১২. 'মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!' - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো, মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে হাসিমুখে বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কারণ বিপ্লবীদের এই আত্মত্যাগ বা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই দেশ এক নতুন স্বাধীন জীবনের মুখ দেখবে।
১৩. 'নাচে ওই কাল-বোশেখি' - কাল-বোশেখি কীসের প্রতীক?
উত্তর: কালবৈশাখী ঝড় যেমন পুরোনো ও জীর্ণ জিনিসকে ধ্বংস করে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করে, তেমনি এখানে এটি ব্রিটিশ শাসনের প্রলয়ংকরী ধ্বংস এবং নতুনের আগমনের প্রতীক।
১৪. 'কাটাবি কাল বসে কি?' - কবি কাদের, কেন একথা বলেছেন?
উত্তর: কবি দেশের তরুণদের একথা বলেছেন। কারণ যখন স্বাধীনতার জন্য লড়াই বা কালবৈশাখী শুরু হয়ে গেছে, তখন অলস ও ভীত হয়ে বসে থাকা চরম লজ্জার।
১৫. 'যত সব বন্দি-শালায়- / আগুন জ্বালা' - বন্দিশালায় আগুন জ্বালতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: ব্রিটিশদের বন্দিশালা বা কারাগারগুলো হলো ভারতীয়দের প্রতি হওয়া অকথ্য অত্যাচার এবং পরাধীনতার কলঙ্কের প্রতীক। সেই সমস্ত স্মৃতি ও কলঙ্ককে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়ার জন্যই কবি আগুন জ্বালাতে বলেছেন।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'ভাঙার গান' কবিতায় কবির বিদ্রোহী মানসিকতা এবং পরাধীনতা মোচনের ডাক কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: 'বিদ্রোহী' কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'ভাঙার গান' কবিতায় পরাধীন ভারতবর্ষের মুক্তির জন্য এক আপসহীন ও উদ্দীপ্ত বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন।
কবিতার শুরুতেই কবি ব্রিটিশদের তৈরি কারাগারের লোহার দরজা বা 'লৌহ-কপাট' ভেঙে ফেলার তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসন যে ভয়ংকর জেলখানাগুলো তৈরি করেছে, তা ভারতীয়দের দাসত্ব ও শৃঙ্খল পুজোর প্রতীক। কবি দেশের তরুণদের মহাদেব শিবের প্রলয়ংকরী শক্তির সাথে (তরুণ ঈশান, পাগলা ভোলা) তুলনা করেছেন। শিব যেমন তাঁর প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে অশুভকে বিনাশ করেন, তরুণদেরও তেমনি বিদ্রোহের ঝড় তুলে অত্যাচারী শাসনের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিতে হবে।
কবি মনে করেন, মুক্ত ও স্বাধীন সত্যকে কেউ কখনও বন্দি করে রাখতে পারে না। তাই ভগবানকে ফাঁসি দেওয়ার মতো ঔদ্ধত্য ইংরেজদের সাজে না। কবি তরুণ বিপ্লবীদের 'হৈদরী হাঁক' বা বীর হুংকারে দুন্দুভি বাজিয়ে মৃত্যুভয়কে জয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। কালবৈশাখী ঝড়ের মতো ধ্বংসলীলা চালিয়ে কারার তালা ভাঙতে এবং পরাধীনতার কলঙ্কিত বন্দিশালাগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে সমূলে উপড়ে ফেলার ডাকের মধ্য দিয়েই কবির চরম বিদ্রোহী মানসিকতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছে।
কবিতার শুরুতেই কবি ব্রিটিশদের তৈরি কারাগারের লোহার দরজা বা 'লৌহ-কপাট' ভেঙে ফেলার তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসন যে ভয়ংকর জেলখানাগুলো তৈরি করেছে, তা ভারতীয়দের দাসত্ব ও শৃঙ্খল পুজোর প্রতীক। কবি দেশের তরুণদের মহাদেব শিবের প্রলয়ংকরী শক্তির সাথে (তরুণ ঈশান, পাগলা ভোলা) তুলনা করেছেন। শিব যেমন তাঁর প্রলয়-বিষাণ বাজিয়ে অশুভকে বিনাশ করেন, তরুণদেরও তেমনি বিদ্রোহের ঝড় তুলে অত্যাচারী শাসনের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিতে হবে।
কবি মনে করেন, মুক্ত ও স্বাধীন সত্যকে কেউ কখনও বন্দি করে রাখতে পারে না। তাই ভগবানকে ফাঁসি দেওয়ার মতো ঔদ্ধত্য ইংরেজদের সাজে না। কবি তরুণ বিপ্লবীদের 'হৈদরী হাঁক' বা বীর হুংকারে দুন্দুভি বাজিয়ে মৃত্যুভয়কে জয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। কালবৈশাখী ঝড়ের মতো ধ্বংসলীলা চালিয়ে কারার তালা ভাঙতে এবং পরাধীনতার কলঙ্কিত বন্দিশালাগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে সমূলে উপড়ে ফেলার ডাকের মধ্য দিয়েই কবির চরম বিদ্রোহী মানসিকতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে উঠেছে।
২. "কে দেয় সাজা / মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে?" - 'সত্য' কী? তাকে সাজা দেওয়া যায় না কেন? কবির এই উক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: 'সত্য'-এর পরিচয়: কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতায় 'সত্য' হলো মানবাত্মার চিরন্তন স্বাধীনতা, ন্যায় এবং শৃঙ্খলমুক্ত স্বাধীন ভারতবর্ষের অবিনশ্বর আদর্শ।
সাজা না দেওয়ার কারণ ও তাৎপর্য: ব্রিটিশ শাসকরা মনে করত যে, তারা ভারতের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের কারাগারে বন্দি করে বা ফাঁসি দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু কবি ব্রিটিশদের এই অহংকারকে বিদ্রুপ করেছেন। কারণ, মানুষের শরীরকে লোহার শিকল দিয়ে বন্দি করা গেলেও তার ভেতরের অদম্য চেতনা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্খারূপী 'সত্য'-কে কখনও বন্দি করা যায় না।
সত্য চিরকাল মুক্ত ও স্বাধীন। তাকে ভয় দেখিয়ে, জেলে পুরে বা ফাঁসি দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। ব্রিটিশদের এই বৃথা আস্ফালনকে কবি ভগবানকে ফাঁসি দেওয়ার মতো হাস্যকর ও 'হীন তথ্য' বলে উল্লেখ করেছেন। ভগবান যেমন অবিনশ্বর, দেশপ্রেমিকদের অন্তরের সত্য ও মুক্তির স্পৃহাও তেমনি অবিনশ্বর। তাই অত্যাচারী শাসকের কোনো সাজাই এই চিরন্তন সত্যের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না।
সাজা না দেওয়ার কারণ ও তাৎপর্য: ব্রিটিশ শাসকরা মনে করত যে, তারা ভারতের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের কারাগারে বন্দি করে বা ফাঁসি দিয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু কবি ব্রিটিশদের এই অহংকারকে বিদ্রুপ করেছেন। কারণ, মানুষের শরীরকে লোহার শিকল দিয়ে বন্দি করা গেলেও তার ভেতরের অদম্য চেতনা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্খারূপী 'সত্য'-কে কখনও বন্দি করা যায় না।
সত্য চিরকাল মুক্ত ও স্বাধীন। তাকে ভয় দেখিয়ে, জেলে পুরে বা ফাঁসি দিয়ে ধ্বংস করা যায় না। ব্রিটিশদের এই বৃথা আস্ফালনকে কবি ভগবানকে ফাঁসি দেওয়ার মতো হাস্যকর ও 'হীন তথ্য' বলে উল্লেখ করেছেন। ভগবান যেমন অবিনশ্বর, দেশপ্রেমিকদের অন্তরের সত্য ও মুক্তির স্পৃহাও তেমনি অবিনশ্বর। তাই অত্যাচারী শাসকের কোনো সাজাই এই চিরন্তন সত্যের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না।
৩. কবিতায় 'তরুণ ঈশান' ও 'পাগলা ভোলা' রূপকের ব্যবহার কতখানি সার্থক হয়েছে তা বিচার করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর 'ভাঙার গান' কবিতায় পরাধীন দেশের মুক্তিকামী তরুণ সমাজকে জাগিয়ে তুলতে হিন্দু পুরাণের মহাদেব শিবের দুটি রূপক—'তরুণ ঈশান' এবং 'পাগলা ভোলা' অত্যন্ত সার্থকভাবে ব্যবহার করেছেন।
তরুণ ঈশান: 'ঈশান' হলেন শিব, যিনি প্রলয় বা ধ্বংসের দেবতা। যখন পৃথিবীতে অন্যায় ও অশুভ শক্তির বাড়াবাড়ি হয়, তখন শিব তাঁর প্রলয়-বিষাণ বা ধ্বংসের শিঙা বাজিয়ে তা বিনাশ করেন। কবি ভারতের তরুণদের সেই শিবের প্রলয়ংকরী মূর্তিতে অবতীর্ণ হতে বলেছেন, যাতে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্যায় শাসনকে ধ্বংস করতে পারে।
পাগলা ভোলা: অন্যদিকে 'পাগলা ভোলা' হলো শিবের সেই রূপ, যিনি নিজের খেয়ালে মত্ত থাকেন, হিসাব-নিকাশ বা ভয়-ভীতির তোয়াক্কা করেন না। ব্রিটিশদের অত্যাচারে যখন গোটা দেশ ভীত, তখন তরুণ বিপ্লবীদের শিবের মতোই ভয়ডরহীন বা 'পাগলা' হতে হবে। তবেই তারা মৃত্যুর পরোয়া না করে, প্রবল বিক্রমে গারদগুলোকে 'হেঁচকা টানে' উপড়ে ফেলতে পারবে। শিবের মতো অশুভ-বিনাশী ও আত্মভোলা চরিত্রের এই রূপক দুটি তরুণদের বিপ্লবের আগুনে ইন্ধন জোগাতে সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে।
তরুণ ঈশান: 'ঈশান' হলেন শিব, যিনি প্রলয় বা ধ্বংসের দেবতা। যখন পৃথিবীতে অন্যায় ও অশুভ শক্তির বাড়াবাড়ি হয়, তখন শিব তাঁর প্রলয়-বিষাণ বা ধ্বংসের শিঙা বাজিয়ে তা বিনাশ করেন। কবি ভারতের তরুণদের সেই শিবের প্রলয়ংকরী মূর্তিতে অবতীর্ণ হতে বলেছেন, যাতে তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অন্যায় শাসনকে ধ্বংস করতে পারে।
পাগলা ভোলা: অন্যদিকে 'পাগলা ভোলা' হলো শিবের সেই রূপ, যিনি নিজের খেয়ালে মত্ত থাকেন, হিসাব-নিকাশ বা ভয়-ভীতির তোয়াক্কা করেন না। ব্রিটিশদের অত্যাচারে যখন গোটা দেশ ভীত, তখন তরুণ বিপ্লবীদের শিবের মতোই ভয়ডরহীন বা 'পাগলা' হতে হবে। তবেই তারা মৃত্যুর পরোয়া না করে, প্রবল বিক্রমে গারদগুলোকে 'হেঁচকা টানে' উপড়ে ফেলতে পারবে। শিবের মতো অশুভ-বিনাশী ও আত্মভোলা চরিত্রের এই রূপক দুটি তরুণদের বিপ্লবের আগুনে ইন্ধন জোগাতে সম্পূর্ণ সার্থক হয়েছে।
৪. "ডাক ওরে ডাক / মৃত্যুকে ডাক জীবন পানে!" - কথাটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রসঙ্গ: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ভাঙার গান' কবিতায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস করার জন্য কবি যখন তরুণ বিপ্লবীদের বীরদর্পে হুংকার (হৈদরী হাঁক) এবং যুদ্ধের দামামা (দুন্দুভি) বাজাতে বলেছেন, ঠিক সেই প্রসঙ্গেই তিনি এই অসামান্য উক্তিটি করেছেন।
অন্তর্নিহিত তাৎপর্য: সাধারণ মানুষের কাছে মৃত্যু হলো ভয়ংকর, যা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা সংগ্রাম করে, সেই বিপ্লবীদের কাছে মৃত্যুর সংজ্ঞা সম্পূর্ণ আলাদা। কবি তরুণ সমাজকে মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন। কারণ, পরাধীন হয়ে দাসত্বের শৃঙ্খলে বেঁচে থাকার চেয়ে, স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করা অনেক বেশি গৌরবের।
যে বিপ্লবীরা দেশের জন্য প্রাণ দেন, তাঁদের সেই মৃত্যু বৃথা যায় না। তাঁদের ঝরা রক্তের বিনিময়েই একদিন দেশ পরাধীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে নতুন স্বাধীন জীবনের আলো দেখতে পাবে। অর্থাৎ, বিপ্লবীর মৃত্যুই আনবে জাতির নতুন জীবন। তাই কবি মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে, তাকে নতুন জীবনের আগমনী বার্তা হিসেবে 'জীবন পানে' ডাকার কথা বলেছেন।
অন্তর্নিহিত তাৎপর্য: সাধারণ মানুষের কাছে মৃত্যু হলো ভয়ংকর, যা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটায়। কিন্তু দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা সংগ্রাম করে, সেই বিপ্লবীদের কাছে মৃত্যুর সংজ্ঞা সম্পূর্ণ আলাদা। কবি তরুণ সমাজকে মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে বিপ্লবে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন। কারণ, পরাধীন হয়ে দাসত্বের শৃঙ্খলে বেঁচে থাকার চেয়ে, স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে হাসিমুখে মৃত্যুবরণ করা অনেক বেশি গৌরবের।
যে বিপ্লবীরা দেশের জন্য প্রাণ দেন, তাঁদের সেই মৃত্যু বৃথা যায় না। তাঁদের ঝরা রক্তের বিনিময়েই একদিন দেশ পরাধীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে নতুন স্বাধীন জীবনের আলো দেখতে পাবে। অর্থাৎ, বিপ্লবীর মৃত্যুই আনবে জাতির নতুন জীবন। তাই কবি মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে, তাকে নতুন জীবনের আগমনী বার্তা হিসেবে 'জীবন পানে' ডাকার কথা বলেছেন।
৫. 'ভাঙার গান' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণের মাধ্যমেই রচনার মূল সুর, বিষয়বস্তু এবং অন্তর্নিহিত আদর্শ পাঠকের কাছে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। কাজী নজরুল ইসলামের আলোচ্য কবিতাটির নাম 'ভাঙার গান'।
সমগ্র কবিতাটি জুড়েই একটি তীব্র ও প্রলয়ংকরী ভাঙনের সুর ধ্বনিত হয়েছে। কিন্তু এই ভাঙন নিছক ধ্বংসের জন্য নয়, এটি হলো নতুনের সৃষ্টির জন্য পুরনো জঞ্জালকে ভেঙে ফেলার আহ্বান। কবি শুরুতেই কারার 'লৌহ-কপাট' বা লোহার দরজা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন রক্ত-জমাট পাষাণ বেদী, পরাধীনতার শিকল এবং ব্রিটিশদের তৈরি ভীম কারার ভিত্তি ভেঙে চুরমার হয়ে যাক।
কালবৈশাখী যেমন পুরনোকে ধ্বংস করে নতুন বৃষ্টির পথ তৈরি করে, তেমনি তরুণদের প্রলয় দোলা দিয়ে কারাগারের তালা ভাঙতে হবে এবং বন্দিশালায় আগুন জ্বেলে তা উপড়ে ফেলতে হবে। এই ভাঙনের মধ্য দিয়েই দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ভারতমাতার মুক্তি আসবে। যেহেতু পরাধীনতার প্রতীকগুলি ভেঙে ফেলার এই বজ্রকঠিন হুংকার ও বিদ্রোহের সুরই কবিতার আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত ব্যাপ্ত হয়ে আছে, তাই 'ভাঙার গান' নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও অত্যন্ত ব্যঞ্জনাময় হয়েছে।
সমগ্র কবিতাটি জুড়েই একটি তীব্র ও প্রলয়ংকরী ভাঙনের সুর ধ্বনিত হয়েছে। কিন্তু এই ভাঙন নিছক ধ্বংসের জন্য নয়, এটি হলো নতুনের সৃষ্টির জন্য পুরনো জঞ্জালকে ভেঙে ফেলার আহ্বান। কবি শুরুতেই কারার 'লৌহ-কপাট' বা লোহার দরজা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন রক্ত-জমাট পাষাণ বেদী, পরাধীনতার শিকল এবং ব্রিটিশদের তৈরি ভীম কারার ভিত্তি ভেঙে চুরমার হয়ে যাক।
কালবৈশাখী যেমন পুরনোকে ধ্বংস করে নতুন বৃষ্টির পথ তৈরি করে, তেমনি তরুণদের প্রলয় দোলা দিয়ে কারাগারের তালা ভাঙতে হবে এবং বন্দিশালায় আগুন জ্বেলে তা উপড়ে ফেলতে হবে। এই ভাঙনের মধ্য দিয়েই দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ভারতমাতার মুক্তি আসবে। যেহেতু পরাধীনতার প্রতীকগুলি ভেঙে ফেলার এই বজ্রকঠিন হুংকার ও বিদ্রোহের সুরই কবিতার আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত ব্যাপ্ত হয়ে আছে, তাই 'ভাঙার গান' নামকরণটি সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও অত্যন্ত ব্যঞ্জনাময় হয়েছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- স্বাধীন = স্ব + অধীন
- পাষাণ = পাষ + আন
- ভগবান = ভগ + বান
- উদ্ধার = উৎ + হার
- উচ্ছৃঙ্খল = উৎ + শৃঙ্খল
সমাস নির্ণয়
- লৌহ-কপাট: লৌহ নির্মিত কপাট (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- পাষাণ-বেদী: পাষাণ নির্মিত বেদী (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- কাল-বোশেখি: কাল রূপ যে বৈশাখী (রূপক কর্মধারয় সমাস)
- তরুণ-ঈশান: তরুণ যে ঈশান (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- বন্দিশালা: বন্দিদের শালা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
পদ পরিবর্তন
- রক্ত ➜ রক্তিম
- ধ্বংস ➜ ধ্বংসিত
- তরুণ ➜ তারুণ্য
- মুক্ত ➜ মুক্তি
- মৃত্যু ➜ মৃত
ভাঙার গান কবিতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা। এই কবিতার মূল সুর হলো ব্রিটিশদের পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচন, নির্ভীক দেশপ্রেম এবং কারার লৌহ-কপাট ভেঙে স্বাধীনতার জন্য তীব্র লড়াইয়ের আহ্বান।
ঈশান বা পাগলা ভোলা হলেন মহাদেব শিব, যিনি প্রলয়ংকরী শক্তি দিয়ে অশুভকে ধ্বংস করেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ধ্বংস করার জন্য তরুণদেরও শিবের মতো ভয়ডরহীন ও প্রলয়ংকরী হতে হবে, তাই কবি এই রূপক ব্যবহার করেছেন।
কবি দেশের তরুণ বিপ্লবীদের লাথি মেরে ব্রিটিশদের কারার তালা ভাঙতে এবং পরাধীনতার কলঙ্কস্বরূপ সমস্ত বন্দিশালায় আগুন জ্বেলে তা সমূলে উপড়ে ফেলতে বলেছেন।