Sponsored Links
বর্ষা (প্রমথ চৌধুরী)
বিখ্যাত প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী (বীরবল) রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'বর্ষা' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী (বীরবল) রচিত 'বর্ষা' প্রবন্ধের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. প্রবন্ধের বিষয়সংক্ষেপ
প্রকৃতিতে বর্ষার রূপ: লেখক প্রমথ চৌধুরী একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, চারদিকের আকাশ বর্ষায় ঢেকে গেছে। বৃষ্টির অবিরাম ধারা এবং বাতাসের শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বর্ষার আকাশ যেন ছায়ার রঙের পাখির পালক দিয়ে ঢাকা, যা চোখের ওপর এক অপূর্ব স্নিগ্ধ প্রলেপ বুলিয়ে দেয়। বাইরের গাছপালা, মাঠঘাট এক নূতন প্রাণে স্পন্দিত হচ্ছে। নারকেল গাছগুলি বাতাসে দুলছে, পাতার দল একে অপরের গায়ে ঢলে পড়ছে এবং খামখেয়ালি বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতিতে এক আনন্দ-চাঞ্চল্য বা পুলকের সৃষ্টি হয়েছে।
লেখকের মানসিক অবস্থা: প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ দেখে লেখকের মন অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে এবং তাঁর সমস্ত মনোযোগ চোখ ও কানে এসে ভর করে। এমন আনন্দ-বিষাদে মেশানো দিনে লেখকের মনে কোনো প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছা জাগে না, বরং তাঁর মনে হতে থাকে যে এমন দিনে কেবল কবিতাই লেখা সম্ভব। তিনি এদিন ইংরেজি ভাষা সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন, তাঁর মনে পড়ছে কেবল সংস্কৃত, বাংলা ও হিন্দি কবিতার নানা পুরোনো শ্লোক ও গানের কলি। জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদ এবং রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর কানে গুনগুন করছে।
সাহিত্যে বর্ষার স্থান: লেখক আক্ষেপ করেছেন যে, নবাবি আমলের বাঙালি কবিরা বা চণ্ডীদাসের মতো বৈষ্ণব কবিরা বর্ষাকে সাহিত্যে সেভাবে স্থান দেননি; তাঁরা বর্ষাকে কেবল 'অভিসার'-এর প্রয়োজনে কাব্যে এনেছেন। লেখকের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম বাংলার বর্ষাকে তাঁর সাহিত্যে আবিষ্কার করেছেন এবং সাকার করে তুলেছেন।
স্মৃতির জগৎ ও প্রবন্ধের অবসান: লেখকের মনে আজ অনেক এলোমেলো ভাব আনাগোনা করছে। তিনি মনে করেন যে, মানুষের মনের অনেক কথাই অব্যক্ত থেকে যায় এবং সেই অব্যক্তের মাঝেই কবিতার রহস্য (mystery) লুকিয়ে থাকে। তবে প্রবন্ধ লিখতে গেলে ভাবের এক শৃঙ্খলা বা 'ল অ্যান্ড অর্ডার' মেনে চলতে হয়, যা আজকের দিনে তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো দিনের শুকনো ফুল বা স্মৃতির মূল্য কেবল তার মালিকের কাছেই থাকে, অন্যের কাছে তা আবর্জনা। এমন দিনে সেই সব পুরোনো স্মৃতি মনে এলেও তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাই অন্ধকার ঘনিয়ে আসায় বাতির অপচয় না করে লেখক তাঁর লেখা শেষ করেছেন।
লেখকের মানসিক অবস্থা: প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ দেখে লেখকের মন অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে এবং তাঁর সমস্ত মনোযোগ চোখ ও কানে এসে ভর করে। এমন আনন্দ-বিষাদে মেশানো দিনে লেখকের মনে কোনো প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছা জাগে না, বরং তাঁর মনে হতে থাকে যে এমন দিনে কেবল কবিতাই লেখা সম্ভব। তিনি এদিন ইংরেজি ভাষা সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন, তাঁর মনে পড়ছে কেবল সংস্কৃত, বাংলা ও হিন্দি কবিতার নানা পুরোনো শ্লোক ও গানের কলি। জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদ এবং রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর কানে গুনগুন করছে।
সাহিত্যে বর্ষার স্থান: লেখক আক্ষেপ করেছেন যে, নবাবি আমলের বাঙালি কবিরা বা চণ্ডীদাসের মতো বৈষ্ণব কবিরা বর্ষাকে সাহিত্যে সেভাবে স্থান দেননি; তাঁরা বর্ষাকে কেবল 'অভিসার'-এর প্রয়োজনে কাব্যে এনেছেন। লেখকের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম বাংলার বর্ষাকে তাঁর সাহিত্যে আবিষ্কার করেছেন এবং সাকার করে তুলেছেন।
স্মৃতির জগৎ ও প্রবন্ধের অবসান: লেখকের মনে আজ অনেক এলোমেলো ভাব আনাগোনা করছে। তিনি মনে করেন যে, মানুষের মনের অনেক কথাই অব্যক্ত থেকে যায় এবং সেই অব্যক্তের মাঝেই কবিতার রহস্য (mystery) লুকিয়ে থাকে। তবে প্রবন্ধ লিখতে গেলে ভাবের এক শৃঙ্খলা বা 'ল অ্যান্ড অর্ডার' মেনে চলতে হয়, যা আজকের দিনে তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো দিনের শুকনো ফুল বা স্মৃতির মূল্য কেবল তার মালিকের কাছেই থাকে, অন্যের কাছে তা আবর্জনা। এমন দিনে সেই সব পুরোনো স্মৃতি মনে এলেও তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাই অন্ধকার ঘনিয়ে আসায় বাতির অপচয় না করে লেখক তাঁর লেখা শেষ করেছেন।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| অবিরল | যা বিরল নয় / একটানা / অবিরাম | কুলুধ্বনি | নদীর স্রোতের একটানা শব্দ |
| মর্মর | শুকনো পাতা বা গাছের পাতার শব্দ | স্নিগ্ধ প্রলেপ | কোমল বা আরামদায়ক প্রলেপ |
| হিল্লোল | ঢেউ / তরঙ্গের দোলা বা কম্পন | পত্রপুট | পাতার তৈরি পাত্র বা আঁজলা |
| ফটিকজল | চাতক পাখি / বৃষ্টির পরিষ্কার জল | শীৎকার | আনন্দ বা ঠান্ডায় উৎপন্ন মৃদু শব্দ |
| সমীরণ | বাতাস / হাওয়া | বিক্ষিপ্ত | ছড়ানো / এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকা |
| কান্তমূর্তি | সুন্দর বা কমনীয় রূপ | ভীমমূর্তি | ভয়ংকর রূপ |
| অভিসার | প্রেমিক বা প্রেমিকার উদ্দেশ্যে যাত্রা | আনুষঙ্গিক | গৌণ / অপ্রধান বিষয় হিসেবে |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'বর্ষা' প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) প্রমথ চৌধুরী (ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) প্রমথ চৌধুরী
২. সকালে উঠে লেখক দেখলেন আকাশ কীসে ভরে গেছে?
(ক) রোদে (খ) বর্ষায় (গ) মেঘে (ঘ) কুয়াশায়
উত্তর: (খ) বর্ষায়
৩. অবিরাম বৃষ্টির আওয়াজ কখনও কীসের মতো মনে হয়?
(ক) সাগরের গর্জনের মতো (খ) ঝরনার মতো (গ) নদীর কুলুধ্বনির মতো (ঘ) মেঘের ডাকের মতো
উত্তর: (গ) নদীর কুলুধ্বনির মতো
৪. আজকের দিনে জলের স্বর আর কিসের স্বর মিলেমিশে এক সুর হয়েছে?
(ক) মেঘের স্বর (খ) বাতাসের স্বর (গ) পাতার স্বর (ঘ) বৃষ্টির স্বর
উত্তর: (খ) বাতাসের স্বর
৫. লেখকের মতে এমন দিনে মানুষ কেন অন্যমনস্ক হয়?
(ক) মন আনন্দে ভরে যায় বলে (খ) মন চোখ ও কানে এসে ভর করে বলে (গ) বৃষ্টি পড়তে থাকে বলে (ঘ) ভয় পায় বলে
উত্তর: (খ) মন চোখ ও কানে এসে ভর করে বলে
৬. বর্ষার আকাশকে লেখক কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
(ক) ধূসর চাদরের সাথে (খ) মেঘের গালিচার সাথে (গ) ছায়ার রঙের পাখির পালকের সাথে (ঘ) অন্ধকার সমুদ্রের সাথে
উত্তর: (গ) ছায়ার রঙের পাখির পালকের সাথে
৭. কিসের আনন্দে নারকেল গাছগুলো দাঁড়িয়ে দুলছে?
(ক) বৃষ্টির আনন্দে (খ) বাতাসের আনন্দে (গ) নূতন প্রাণের হিল্লোলে (ঘ) ঝড়ের আনন্দে
উত্তর: (গ) নূতন প্রাণের হিল্লোলে
৮. বৃক্ষলতা সব পত্রপুটে কী পান করছে বলে লেখকের মনে হয়?
(ক) বৃষ্টির জল (খ) ফটিকজল (গ) শিশির (ঘ) নদীর জল
উত্তর: (খ) ফটিকজল
৯. মনের এমন বিক্ষিপ্ত অবস্থায় কী লেখা যায় না?
(ক) প্রবন্ধ (খ) কবিতা (গ) গান (ঘ) গল্প
উত্তর: (ক) প্রবন্ধ
১০. আজকের দিনে লেখক কোন্ ভাষা ভুলে গিয়েছেন?
(ক) বাংলা (খ) সংস্কৃত (গ) হিন্দি (ঘ) ইংরেজি
উত্তর: (ঘ) ইংরেজি
১১. "মেঘৈর্মেদুরম্বরং বনভূবশ্যামাস্তমালদ্রুমৈঃ" - এটি কোন্ কাব্যের প্রথম চরণ?
(ক) মেঘদূতম্ (খ) গীতগোবিন্দ (গ) কুমারসম্ভবম্ (ঘ) রঘুবংশম্
উত্তর: (খ) গীতগোবিন্দ
১২. লেখক কোন্ কবির গানের কথা স্মরণ করেছেন?
(ক) দ্বিজেন্দ্রলাল (খ) রজনীকান্ত (গ) রবীন্দ্রনাথ (ঘ) অতুলপ্রসাদ
উত্তর: (গ) রবীন্দ্রনাথ
১৩. "এমন দিনে তারে বলা যায়" - এটি কার লেখা?
(ক) বঙ্কিমচন্দ্র (খ) প্রমথ চৌধুরী (গ) চণ্ডীদাস (ঘ) রবীন্দ্রনাথ
উত্তর: (ঘ) রবীন্দ্রনাথ
১৪. লেখকের মতে, যে কথার ভিতর 'mystery' নেই, তা কী নয়?
(ক) প্রবন্ধ (খ) গদ্য (গ) কবিতা (ঘ) গল্প
উত্তর: (গ) কবিতা
১৫. লেখকের মতে, বাংলার বর্ষা কে আবিষ্কার করেছেন?
(ক) চণ্ডীদাস (খ) প্রমথ চৌধুরী (গ) বিদ্যাপতি (ঘ) রবীন্দ্রনাথ
উত্তর: (ঘ) রবীন্দ্রনাথ
১৬. বৈষ্ণব কবিরা তাঁদের কাব্যে বর্ষাকে কীসের খাতিরে এনেছেন?
(ক) অভিসারের খাতিরে (খ) যুদ্ধ বর্ণনার খাতিরে (গ) রূপ বর্ণনার খাতিরে (ঘ) প্রকৃতির খাতিরে
উত্তর: (ক) অভিসারের খাতিরে
১৭. 'রজনী শাওন ঘন ঘন দেয়া গরজন' - কবিতাটিকে লেখক কীসের শ্রেষ্ঠ বলেছেন?
(ক) সংগীত হিসেবে (খ) গদ্য হিসেবে (গ) কাব্য হিসেবে (ঘ) পদ্য হিসেবে
উত্তর: (গ) কাব্য হিসেবে
১৮. সাহিত্য বা সংবাদপত্রে লিখতে গেলে কী মান্য করতে হয়?
(ক) ব্যাকরণ (খ) ভাবের ল অ্যান্ড অর্ডার (গ) ছন্দের নিয়ম (ঘ) বাইরের আইন
উত্তর: (খ) ভাবের ল অ্যান্ড অর্ডার
১৯. শুষ্কপুষ্প বা শুকনো ফুলের মূল্য কার কাছে থাকে?
(ক) অপরের কাছে (খ) ঐতিহাসিকের কাছে (গ) যে তা সঞ্চিত করে রেখেছিল তার কাছে (ঘ) কবির কাছে
উত্তর: (গ) যে তা সঞ্চিত করে রেখেছিল তার কাছে
২০. লেখক কেন লেখা শেষ করলেন?
(ক) কলমের কালি ফুরিয়ে যাওয়ায় (খ) বাতির অপব্যয় রোধ করতে (গ) বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় (ঘ) ঘুম পাওয়ায়
উত্তর: (খ) বাতির অপব্যয় রোধ করতে
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. 'এমন দিনে কি লিখতে মন যায়?' - এমন দিন বলতে কেমন দিনের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এমন দিন বলতে বর্ষামুখর একটি দিনের কথা বলা হয়েছে, যেদিন সকাল থেকেই সমগ্র আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে এবং অবিরাম বৃষ্টি পড়তে থাকে।
২. অবিরাম বৃষ্টির একটানা আওয়াজকে লেখকের কী মনে হচ্ছিল?
উত্তর: অবিরাম বৃষ্টির একটানা আওয়াজ শুনে লেখকের কখনো মনে হচ্ছিল তা যেন নদীর স্রোতের কুলুধ্বনি, আবার কখনো মনে হচ্ছিল তা গাছের পাতার মর্মর শব্দ।
৩. এমন দিনে মানুষ কেন অন্যমনস্ক হয়?
উত্তর: বর্ষার স্নিগ্ধ ও সজীব রূপ দেখে মানুষের সমস্ত মন তার চোখ আর কানে এসে ভর করে, প্রকৃতির শব্দ ও দৃশ্য উপভোগ করতে গিয়ে মানুষ অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে।
৪. বর্ষার আকাশকে লেখক কীসের পালকের সাথে তুলনা করেছেন এবং কেন?
উত্তর: লেখক বর্ষার মেঘলা আকাশকে ছায়ার রঙের পাখির পালকের সাথে তুলনা করেছেন, কারণ সেই আকাশ আমাদের চোখের ওপর অত্যন্ত নরম ও মোলায়েম এক স্নিগ্ধ প্রলেপ বুলিয়ে দেয়।
৫. 'বৃক্ষলতা সব পত্রপুটে ফটিকজল পান করছে' - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: বৃষ্টির জলের স্পর্শে গাছের পাতাগুলি এমনভাবে বেঁকে-চুরে যাচ্ছিল যে, দেখলে মনে হচ্ছিল যেন তারা পাতার আঁজলা (পত্রপুট) তৈরি করে চাতক পাখির মতো বৃষ্টির পরিষ্কার জল পান করছে।
৬. খামখেয়ালি বাতাস কী খেলা খেলছিল?
উত্তর: খামখেয়ালি বাতাস লতাপাতাকে নাচিয়ে এবং বৃষ্টির ধারাকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতির বুকে এক অপূর্ব লুকোচুরি খেলা খেলছিল।
৭. এমন দিনে প্রবন্ধ না লিখে কবিতা লেখার কথা লেখক কেন বলেছেন?
উত্তর: প্রবন্ধ লিখতে গেলে মনে যুক্তির শৃঙ্খলা বা গোছানো চিন্তার প্রয়োজন হয়, কিন্তু বর্ষার দিনে মন বিক্ষিপ্ত ও আবেগপূর্ণ হয়ে থাকে, যা কেবল কবিতা লেখারই উপযোগী।
৮. আজকের দিনে লেখক কোন ভাষা ভুলে গিয়েছেন এবং কোন ভাষার কবিতা তাঁর মনে পড়ছে?
উত্তর: আজকের দিনে লেখক ইংরেজি ভাষা ভুলে গিয়েছেন। তাঁর মনে পড়ছে কেবল সংস্কৃত, বাংলা এবং হিন্দি ভাষার নানা কবিতা ও গানের শ্লোক।
৯. গীতগোবিন্দের কোন চরণটি বাঙালির চিরকাল মনে থাকে?
উত্তর: আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখলে গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রথম চরণ 'মেঘৈর্মেদুরম্বরং বনভূবশ্যামাস্তমালদ্রুমৈঃ' বাঙালি মাত্রেই মনে পড়ে যায়।
১০. কবিতায় 'অব্যক্তের ইঙ্গিত' বা mystery না থাকলে কী হয়?
উত্তর: লেখকের মতে, কবিতায় যদি না-বলা কথা বা অব্যক্তের ইঙ্গিত না থাকে, তবে তার মধ্যে কোনো রহস্য (mystery) থাকে না; তখন তা নিছক পদ্য হতে পারে, কিন্তু সার্থক কবিতা হতে পারে না।
১১. লেখকের মতে বাংলার বর্ষাকে কে আবিষ্কার করেছেন?
উত্তর: লেখকের মতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম বাংলার বর্ষাকে তাঁর সাহিত্যে আবিষ্কার করেছেন এবং বর্ষার সম্পূর্ণ রূপ-রস-গন্ধ তাঁর ভাষায় সাকার হয়ে উঠেছে।
১২. বৈষ্ণব কবিরা বর্ষাকে কীভাবে তাঁদের কাব্যে ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: চণ্ডীদাস প্রমুখ বৈষ্ণব কবিরা বর্ষাকে সরাসরি কোনো গুরুত্ব দেননি; তাঁরা কেবল রাধাকৃষ্ণের 'অভিসার' পালার খাতিরে আনুষঙ্গিকভাবে মেঘ বা বজ্রবিদ্যুতের বর্ণনা দিয়েছেন।
১৩. 'রজনী শাওন ঘন ঘন দেয়া গরজন' - এই কবিতাটি সম্পর্কে লেখক কী বলেছেন?
উত্তর: লেখক বলেছেন যে, সংগীত হিসেবে এই কবিতাটি গীতগোবিন্দের তুল্য হলেও, কাব্যগুণ বা সাহিত্য বিচারে এটি গীতগোবিন্দের চেয়েও শতগুণে শ্রেষ্ঠ।
১৪. 'ভাবের ল অ্যান্ড অর্ডার' বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: 'ভাবের ল অ্যান্ড অর্ডার' বলতে লেখক প্রবন্ধ বা গদ্য রচনার ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনার সুসংবদ্ধতা, ধারাবাহিকতা এবং যুক্তির শৃঙ্খলার কথা বুঝিয়েছেন।
১৫. লেখক কেন তাঁর প্রবন্ধটি হঠাৎ শেষ করে দিলেন?
উত্তর: বাইরে ঘোর অন্ধকার নেমে আসায় বাতি না জ্বালিয়ে লেখা সম্ভব হচ্ছিল না। আর লেখক মনে করেন কালির অপব্যয় করা সহজ হলেও বাতির অপব্যয় করা সহজ নয়, তাই তিনি লেখাটি সেখানেই শেষ করেন।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. প্রমথ চৌধুরীর 'বর্ষা' প্রবন্ধ অবলম্বনে বর্ষামুখর এক সজীব প্রকৃতির যে ছবি ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।
উত্তর: প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বর্ষা' প্রবন্ধে বাংলার বর্ষাকালের এক অপরূপ ও জীবন্ত রূপ ধরা পড়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে লেখক দেখেন, দিগন্তবিস্তৃত আকাশ বর্ষায় ভরে গেছে। আকাশ থেকে অবিরাম ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির সেই একটানা শব্দ লেখকের কানে কখনো নদীর স্রোতের কুলুধ্বনির মতো, আবার কখনো গাছের পাতার মর্মর শব্দের মতো মনে হচ্ছে।
বর্ষার আকাশ যেন ছায়ার রঙের নরম পাখির পালক দিয়ে মোড়ানো, যা চোখের ওপর এক অপূর্ব স্নিগ্ধ প্রলেপ বুলিয়ে দেয়। বৃষ্টির ছোঁয়ায় চারপাশের গাছপালা, মাঠঘাটে এক নূতন প্রাণের স্পন্দন বা হিল্লোল জেগে ওঠে। আনন্দে নারকেল গাছগুলো দুলতে থাকে, তাদের পাতার ঝাঁকড়া চুল কখনো এলিয়ে পড়ে আবার কখনো জড়িয়ে যায়। লতাপাতাগুলি একে অপরের গায়ে ঢলে পড়ে আলিঙ্গন করে। বৃষ্টির জলে সিক্ত পাতাগুলি বেঁকে গিয়ে এমন আকার ধারণ করে, যেন তারা পাতার আঁজলা ভরে তৃষ্ণার্ত চাতক পাখির মতো বৃষ্টির ফটিকজল পান করছে। বাতাসও যেন খামখেয়ালি হয়ে লতাপাতাকে নাচিয়ে, বৃষ্টির ধারাকে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতির বুকে এক অপূর্ব লুকোচুরি খেলা শুরু করে দেয়। বর্ষার এই সজীব ও প্রাণোচ্ছল রূপই প্রবন্ধে অসামান্য দক্ষতায় ফুটে উঠেছে।
বর্ষার আকাশ যেন ছায়ার রঙের নরম পাখির পালক দিয়ে মোড়ানো, যা চোখের ওপর এক অপূর্ব স্নিগ্ধ প্রলেপ বুলিয়ে দেয়। বৃষ্টির ছোঁয়ায় চারপাশের গাছপালা, মাঠঘাটে এক নূতন প্রাণের স্পন্দন বা হিল্লোল জেগে ওঠে। আনন্দে নারকেল গাছগুলো দুলতে থাকে, তাদের পাতার ঝাঁকড়া চুল কখনো এলিয়ে পড়ে আবার কখনো জড়িয়ে যায়। লতাপাতাগুলি একে অপরের গায়ে ঢলে পড়ে আলিঙ্গন করে। বৃষ্টির জলে সিক্ত পাতাগুলি বেঁকে গিয়ে এমন আকার ধারণ করে, যেন তারা পাতার আঁজলা ভরে তৃষ্ণার্ত চাতক পাখির মতো বৃষ্টির ফটিকজল পান করছে। বাতাসও যেন খামখেয়ালি হয়ে লতাপাতাকে নাচিয়ে, বৃষ্টির ধারাকে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতির বুকে এক অপূর্ব লুকোচুরি খেলা শুরু করে দেয়। বর্ষার এই সজীব ও প্রাণোচ্ছল রূপই প্রবন্ধে অসামান্য দক্ষতায় ফুটে উঠেছে।
২. বর্ষার দিনে লেখকের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল? এমন দিনে প্রবন্ধের বদলে তিনি কেন কবিতার পক্ষে মত দিয়েছেন?
উত্তর: লেখকের মনের অবস্থা: বর্ষার স্নিগ্ধ ও মায়াময় রূপ লেখকের মনকে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। চারদিকের অবিরাম বৃষ্টি ও বাতাসের খেলা দেখে তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর সমস্ত মন যেন তাঁর চোখ আর কানে এসে ভর করেছিল। মনের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট ভাবনা বা চিন্তা ছিল না; বরং আনন্দ ও বিষাদে মেশানো এক অব্যক্ত অনুভূতিতে তাঁর মন পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর মনের এই বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ইংরেজি ভাষা একেবারে মুছে গিয়ে কেবল সংস্কৃত, বাংলা ও হিন্দি ভাষার নানা কবিতা ও গানের কলি তাঁর কানে গুনগুন করছিল।
প্রবন্ধের বদলে কবিতার পক্ষে মত দেওয়ার কারণ: লেখকের মতে, প্রবন্ধ লিখতে গেলে চিন্তাভাবনার এক সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা, যুক্তি ও ধারাবাহিকতা—যাকে তিনি 'ভাবের ল অ্যান্ড অর্ডার' বলেছেন—তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্ষার দিনে মানুষের মন থাকে এলোমেলো, বিক্ষিপ্ত ও আবেগে ভরপুর। আনন্দ-বিষাদের এই অনামিক অনুভূতির মধ্যে যুক্তির বাঁধন খাটে না। মনের এই বিক্ষিপ্ত ও আবেগপূর্ণ অবস্থা প্রবন্ধ রচনার পক্ষে উপযুক্ত নয়। এই এলোমেলো ভাব ও অব্যক্ত অনুভূতির প্রকাশ কেবল কবিতার ছন্দেই সুন্দরভাবে ফুটে উঠতে পারে। তাই তিনি মনে করেন, এমন দিনে প্রবন্ধ নয়, বরং কেবল কবিতাই লেখা যেতে পারে।
প্রবন্ধের বদলে কবিতার পক্ষে মত দেওয়ার কারণ: লেখকের মতে, প্রবন্ধ লিখতে গেলে চিন্তাভাবনার এক সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলা, যুক্তি ও ধারাবাহিকতা—যাকে তিনি 'ভাবের ল অ্যান্ড অর্ডার' বলেছেন—তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বর্ষার দিনে মানুষের মন থাকে এলোমেলো, বিক্ষিপ্ত ও আবেগে ভরপুর। আনন্দ-বিষাদের এই অনামিক অনুভূতির মধ্যে যুক্তির বাঁধন খাটে না। মনের এই বিক্ষিপ্ত ও আবেগপূর্ণ অবস্থা প্রবন্ধ রচনার পক্ষে উপযুক্ত নয়। এই এলোমেলো ভাব ও অব্যক্ত অনুভূতির প্রকাশ কেবল কবিতার ছন্দেই সুন্দরভাবে ফুটে উঠতে পারে। তাই তিনি মনে করেন, এমন দিনে প্রবন্ধ নয়, বরং কেবল কবিতাই লেখা যেতে পারে।
৩. বাংলা সাহিত্যে বর্ষা-বর্ণনার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ এবং প্রাচীন কবিদের মধ্যে লেখক কী পার্থক্য লক্ষ করেছেন?
উত্তর: 'বর্ষা' প্রবন্ধে লেখক প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে বর্ষার উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ এবং নবাবি আমলের কবিদের দৃষ্টিভঙ্গির এক সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
লেখকের মতে, নবাবি আমলের বাঙালি কবিরা বা প্রাচীন কবিরা বর্ষাকে সাহিত্যে সেভাবে কোনো গুরুত্ব দেননি বা একপ্রকার উপেক্ষাই করেছেন। বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের রচনায় বর্ষার তেমন কোনো স্বতন্ত্র রূপ পাওয়া যায় না। অন্যান্য বৈষ্ণব কবিরাও বর্ষাকে কেবল রাধাকৃষ্ণের 'অভিসার' পালার খাতিরে, নিতান্ত আনুষঙ্গিকভাবে কাব্যে ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ, প্রাচীন সাহিত্যে বর্ষার স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো রূপ ছিল না।
বিপরীত দিকে, লেখকের মতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই হলেন সেই স্রষ্টা যিনি বাংলা সাহিত্যে বর্ষাকে প্রকৃত অর্থে 'আবিষ্কার' করেছেন। রবীন্দ্রনাথের কাব্যে বর্ষার সম্পূর্ণ রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ মূর্ত হয়ে উঠেছে। বর্ষার কান্তমূর্তি (সুন্দর রূপ) এবং ভীমমূর্তি (ভয়ংকর রূপ)—এই দুটি দিকই তাঁর লেখায় সমানভাবে সাকার হয়েছে। তাই প্রাচীন কবিদের কাছে বর্ষা উপেক্ষিত হলেও, রবীন্দ্র-সাহিত্যে বর্ষা এক অপরূপ মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
লেখকের মতে, নবাবি আমলের বাঙালি কবিরা বা প্রাচীন কবিরা বর্ষাকে সাহিত্যে সেভাবে কোনো গুরুত্ব দেননি বা একপ্রকার উপেক্ষাই করেছেন। বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের রচনায় বর্ষার তেমন কোনো স্বতন্ত্র রূপ পাওয়া যায় না। অন্যান্য বৈষ্ণব কবিরাও বর্ষাকে কেবল রাধাকৃষ্ণের 'অভিসার' পালার খাতিরে, নিতান্ত আনুষঙ্গিকভাবে কাব্যে ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ, প্রাচীন সাহিত্যে বর্ষার স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো রূপ ছিল না।
বিপরীত দিকে, লেখকের মতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই হলেন সেই স্রষ্টা যিনি বাংলা সাহিত্যে বর্ষাকে প্রকৃত অর্থে 'আবিষ্কার' করেছেন। রবীন্দ্রনাথের কাব্যে বর্ষার সম্পূর্ণ রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ মূর্ত হয়ে উঠেছে। বর্ষার কান্তমূর্তি (সুন্দর রূপ) এবং ভীমমূর্তি (ভয়ংকর রূপ)—এই দুটি দিকই তাঁর লেখায় সমানভাবে সাকার হয়েছে। তাই প্রাচীন কবিদের কাছে বর্ষা উপেক্ষিত হলেও, রবীন্দ্র-সাহিত্যে বর্ষা এক অপরূপ মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৪. "ভাষায় মনোভাব ব্যক্ত করবার জন্যই যাঁরা এ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছেন... তাঁরাও তাঁদের মনকে অর্ধেক প্রকাশ করেছেন, অর্ধেক গোপন রেখেছেন।" - উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উৎস: আলোচ্য উক্তিটি প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বর্ষা' প্রবন্ধ থেকে গৃহীত।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: বর্ষার দিনে লেখকের মনে নানা বিচ্ছিন্ন ও এলোমেলো ভাব ভিড় করে আসছিল। এই প্রসঙ্গে লেখক ভাষা এবং কবিতার মূল প্রকৃতি নিয়ে এক দার্শনিক মত প্রকাশ করেছেন। মানব মন অত্যন্ত জটিল এবং তার অনুভূতিগুলিও অসীম। মানুষের ভাষায় এমন ক্ষমতা নেই যে সে মনের সমস্ত কথা বা অনুভূতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে।
এমনকী যাঁরা জন্মগতভাবেই কবি বা সাহিত্যিক, যাঁরা ভাষা দিয়ে মানুষের মনোভাব প্রকাশ করার জন্যই পৃথিবীতে এসেছেন, তাঁরাও নিজেদের মনের সব কথা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারেন না। তাঁদের সৃষ্টির মধ্যেও অনেক কথা অব্যক্ত বা না-বলা থেকে যায়। লেখকের মতে, এই অর্ধেক প্রকাশ করা এবং অর্ধেক গোপন রাখার মধ্যেই কবিতার আসল সৌন্দর্য ও রহস্য (mystery) লুকিয়ে থাকে। যদি কোনো রচনায় সবই স্পষ্ট করে বলা হয়ে যায় এবং অব্যক্তের কোনো ইঙ্গিত না থাকে, তবে তা সাধারণ পদ্য হতে পারে, কিন্তু কখনোই সার্থক বা কালজয়ী কবিতা হতে পারে না। মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই অব্যক্ত রহস্যই কবিতাকে প্রাণ দান করে।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: বর্ষার দিনে লেখকের মনে নানা বিচ্ছিন্ন ও এলোমেলো ভাব ভিড় করে আসছিল। এই প্রসঙ্গে লেখক ভাষা এবং কবিতার মূল প্রকৃতি নিয়ে এক দার্শনিক মত প্রকাশ করেছেন। মানব মন অত্যন্ত জটিল এবং তার অনুভূতিগুলিও অসীম। মানুষের ভাষায় এমন ক্ষমতা নেই যে সে মনের সমস্ত কথা বা অনুভূতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারে।
এমনকী যাঁরা জন্মগতভাবেই কবি বা সাহিত্যিক, যাঁরা ভাষা দিয়ে মানুষের মনোভাব প্রকাশ করার জন্যই পৃথিবীতে এসেছেন, তাঁরাও নিজেদের মনের সব কথা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারেন না। তাঁদের সৃষ্টির মধ্যেও অনেক কথা অব্যক্ত বা না-বলা থেকে যায়। লেখকের মতে, এই অর্ধেক প্রকাশ করা এবং অর্ধেক গোপন রাখার মধ্যেই কবিতার আসল সৌন্দর্য ও রহস্য (mystery) লুকিয়ে থাকে। যদি কোনো রচনায় সবই স্পষ্ট করে বলা হয়ে যায় এবং অব্যক্তের কোনো ইঙ্গিত না থাকে, তবে তা সাধারণ পদ্য হতে পারে, কিন্তু কখনোই সার্থক বা কালজয়ী কবিতা হতে পারে না। মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই অব্যক্ত রহস্যই কবিতাকে প্রাণ দান করে।
৫. "মানুষের স্মৃতির ভিতরও এমন অনেক শুকনো ফুল সঞ্চিত থাকে যা অপরের কাছে বার করা যায় না।" - প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পঙ্ক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রসঙ্গ: 'বর্ষা' প্রবন্ধে লেখক প্রমথ চৌধুরী যখন তাঁর মনের এলোমেলো ভাবগুলিকে প্রবন্ধে লিপিবদ্ধ করার অক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখনই স্মৃতি ও অনুভূতির ব্যক্তিগত মূল্য বোঝাতে তিনি এই রূপক বা উপমাটি ব্যবহার করেছেন।
অন্তর্নিহিত অর্থ: বর্ষার স্নিগ্ধ দিনে লেখকের মনে অনেক পুরোনো কথা ও লুকানো ব্যথা ভেসে আসছিল। কিন্তু সেই অনুভূতিগুলি ছিল অত্যন্ত এলোমেলো, যা প্রবন্ধের শৃঙ্খলায় বাঁধা সম্ভব নয়। এই ব্যক্তিগত অনুভূতির মূল্য বোঝাতে গিয়ে লেখক শুকনো ফুলের প্রসঙ্গ এনেছেন। বহুকাল আগে বইয়ের পাতায় যত্ন করে রাখা কোনো শুকনো ফুল যখন হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তার কোনো রূপ বা সুগন্ধ অবশিষ্ট থাকে না। অন্যের কাছে তা নিছক বর্ণ-গন্ধহীন আবর্জনা মাত্র। কিন্তু যে ব্যক্তি ওই ফুলটি একসময় স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সযত্নে তুলে রেখেছিল, একমাত্র তার কাছেই সেই শুষ্ক ফুলের অসীম মানসিক ও আবেগপূর্ণ মূল্য রয়েছে।
ঠিক একইভাবে, মানুষের মনের গভীরে অনেক পুরোনো স্মৃতি বা অনুভূতি লুকিয়ে থাকে, যা অন্যের কাছে সম্পূর্ণ অর্থহীন বা বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। তাই সেই ব্যক্তিগত স্মৃতি বা 'শুকনো ফুল'গুলি অপরের সামনে প্রকাশ করা যায় না, কেবল বর্ষার মতো কোনো আবেগঘন দিনে মানুষ নিজের মনেই সেই স্মৃতির রোমন্থন করে তৃপ্তি লাভ করে।
অন্তর্নিহিত অর্থ: বর্ষার স্নিগ্ধ দিনে লেখকের মনে অনেক পুরোনো কথা ও লুকানো ব্যথা ভেসে আসছিল। কিন্তু সেই অনুভূতিগুলি ছিল অত্যন্ত এলোমেলো, যা প্রবন্ধের শৃঙ্খলায় বাঁধা সম্ভব নয়। এই ব্যক্তিগত অনুভূতির মূল্য বোঝাতে গিয়ে লেখক শুকনো ফুলের প্রসঙ্গ এনেছেন। বহুকাল আগে বইয়ের পাতায় যত্ন করে রাখা কোনো শুকনো ফুল যখন হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তার কোনো রূপ বা সুগন্ধ অবশিষ্ট থাকে না। অন্যের কাছে তা নিছক বর্ণ-গন্ধহীন আবর্জনা মাত্র। কিন্তু যে ব্যক্তি ওই ফুলটি একসময় স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সযত্নে তুলে রেখেছিল, একমাত্র তার কাছেই সেই শুষ্ক ফুলের অসীম মানসিক ও আবেগপূর্ণ মূল্য রয়েছে।
ঠিক একইভাবে, মানুষের মনের গভীরে অনেক পুরোনো স্মৃতি বা অনুভূতি লুকিয়ে থাকে, যা অন্যের কাছে সম্পূর্ণ অর্থহীন বা বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে। তাই সেই ব্যক্তিগত স্মৃতি বা 'শুকনো ফুল'গুলি অপরের সামনে প্রকাশ করা যায় না, কেবল বর্ষার মতো কোনো আবেগঘন দিনে মানুষ নিজের মনেই সেই স্মৃতির রোমন্থন করে তৃপ্তি লাভ করে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- অবিচ্ছিন্ন = অ + বি + ছিন্ন
- অন্যমনস্ক = অন্য + মনস্ক
- আবিষ্কার = আবিঃ + কার
- উপেক্ষা = উপ + ঈক্ষা
- অব্যক্ত = অ + বি + উক্ত
সমাস নির্ণয়
- মাঠঘাট: মাঠ ও ঘাট (দ্বন্দ্ব সমাস)
- অন্যমনস্ক: অন্য দিকে মন যার (বহুব্রীহি সমাস)
- পত্রপুট: পত্র নির্মিত পুট (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- ফটিকজল: ফটিকের মতো স্বচ্ছ জল (উপমান কর্মধারয়)
- অনামিক: নাই নাম যার (নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস)
পদ পরিবর্তন
- বর্ষা ➜ বার্ষিক
- জল ➜ জলীয়
- প্রবন্ধ ➜ প্রাবন্ধিক
- স্মৃতি ➜ স্মার্ত
- স্নিগ্ধ ➜ স্নিগ্ধতা
বর্ষা প্রবন্ধ সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
এই রচনাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর লেখা। এটি একটি ব্যক্তিগত বা মননশীল প্রবন্ধ, যেখানে বর্ষার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি লেখকের নিজস্ব অনুভূতি ও স্মৃতি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
লেখকের মতে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম বাংলার বর্ষাকে তাঁর সাহিত্যে আবিষ্কার করেছেন এবং বর্ষার সম্পূর্ণ রূপ-রস তাঁর ভাষায় সাকার হয়ে উঠেছে।
বাইরে ঘোর অন্ধকার নেমে আসায় বাতি না জ্বালিয়ে লেখা সম্ভব হচ্ছিল না। লেখক মনে করেন কালির অপব্যয় করা সহজ হলেও বাতির অপব্যয় করা সহজ নয়, তাই তিনি তাঁর লেখাটি সেখানেই শেষ করেন।