Chapter 5: জলবায়ু অঞ্চল ও নদীর কার্যাবলী (Climate Zones & River Systems)

নদীর উৎস ও মোহনা, উচ্চপ্রবাহ-মধ্যপ্রবাহ-নিম্নপ্রবাহ, ক্ষয়-বহন-সঞ্চয়, জলপ্রপাত, গিরিখাত, বদ্বীপ, জলবিভাজিকা, উপনদী ও শাখানদী | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 7 Geography Chapter 5 জলবায়ু অঞ্চল ও নদী

Chapter 5: জলবায়ু অঞ্চল ও নদীর কার্যাবলী

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 30 MCQ | 23 SAQ | 6 Broad Questions

নদীর উৎস উপনদী-শাখানদী উচ্চপ্রবাহ মধ্যপ্রবাহ নিম্নপ্রবাহ জলপ্রপাত গিরিখাত বদ্বীপ
⛰️

উচ্চপ্রবাহ

গোমুখ→হরিদ্বার | ক্ষয় প্রধান | গিরিখাত

🌊

মধ্যপ্রবাহ

হরিদ্বার→মিঠিপুর | বহন ও সঞ্চয়

🌾

নিম্নপ্রবাহ

মিঠিপুর→বঙ্গোপসাগর | বদ্বীপ

🗺️

নদী অববাহিকা

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র | আমাজন | নীল

গঙ্গা নদীর তিন প্রবাহ - একনজরে

প্রবাহবিস্তৃতিপ্রধান কাজসৃষ্ট ভূমিরূপ
উচ্চপ্রবাহগোমুখ → হরিদ্বারক্ষয়গিরিখাত, জলপ্রপাত
মধ্যপ্রবাহহরিদ্বার → মিঠিপুরবহন ও সঞ্চয়মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
নিম্নপ্রবাহমিঠিপুর → বঙ্গোপসাগরসঞ্চয়বদ্বীপ (সুন্দরবন)

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)

30 টি
1. নদীর সৃষ্টি কোথায় হয়?
ক) ক) সমুদ্রে
খ) খ) পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গায়
গ) গ) মরুভূমিতে
ঘ) ঘ) বদ্বীপে
ব্যাখ্যা: নদীর সৃষ্টি সাধারণত পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গায় হয়। হিমবাহ গলা জল বা বৃষ্টির জল অসংখ্য ছোট ছোট জলধারা রূপে নেমে এসে পরস্পর মিলিত হয়ে নদীর সৃষ্টি করে। যেমন — গঙ্গার উৎপত্তি গোমুখ হিমবাহ থেকে।
2. নদীর উৎস কাকে বলে?
ক) ক) নদী যেখানে শেষ হয়
খ) খ) নদী যেখানে সৃষ্টি হয়
গ) গ) নদীর মাঝের অংশ
ঘ) ঘ) নদী ও সমুদ্রের মিলনস্থল
ব্যাখ্যা: নদী যেখানে সৃষ্টি হয়, সেই জায়গাকে নদীর উৎস (Source) বলে। সাধারণত পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গায় নদীর উৎপত্তি হয়। যেমন — গঙ্গা নদীর উৎস গোমুখ হিমবাহ (উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহে)।
3. নদীর মোহনা কাকে বলে?
ক) ক) নদীর উৎপত্তিস্থল
খ) খ) নদী যেখানে সাগর বা অন্য নদীতে মেশে
গ) গ) নদীর মাঝ পথ
ঘ) ঘ) পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা: যেখানে গিয়ে নদী শেষ হয় — অর্থাৎ নদী কোনো সাগর, উপসাগর, হ্রদ, জলাশয় বা অন্য কোনো নদীতে গিয়ে মেশে, সেই জায়গাকে মোহনা (Confluence বা Mouth) বলে। যেমন — পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে গঙ্গার মোহনা।
4. উপনদী (Tributary) কাকে বলে?
ক) ক) মূল নদী থেকে বেরিয়ে যাওয়া শাখা
খ) খ) অন্য নদীতে এসে মেশা নদী
গ) গ) সমুদ্রে পতিত নদী
ঘ) ঘ) পাহাড়ি ঝর্ণা
ব্যাখ্যা: উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে কোনো নদী যখন অন্য কোনো নদীতে এসে মেশে, তখন তাকে ঐ নদীটির উপনদী (Tributary) বলে। যেমন — যমুনা, গোমতী, ঘর্ঘরা, কোশী, গণ্ডক প্রভৃতি গঙ্গার উপনদী। উপনদী মূল নদীতে জল ও পলি যোগ করে।
5. শাখানদী (Distributary) কাকে বলে?
ক) ক) নদীতে মেশা ছোট নদী
খ) খ) মূল নদী থেকে বেরিয়ে যাওয়া শাখা
গ) গ) পাহাড়ি নদী
ঘ) ঘ) বৃষ্টির জলের ধারা
ব্যাখ্যা: মূল নদী থেকে যে সমস্ত নদী শাখার মতো বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে মেশে, তাদের শাখানদী (Distributary) বলে। যেমন — ভাগীরথী-হুগলী হল গঙ্গার প্রধান শাখানদী। নিম্নপ্রবাহে বদ্বীপ গঠনে শাখানদী গুরুত্বপূর্ণ।
6. নদী অববাহিকা (River Basin) কাকে বলে?
ক) ক) নদীর উৎস অঞ্চল
খ) খ) নদী তার উপনদী-শাখানদী সহ যে অঞ্চলে প্রবাহিত
গ) গ) নদীর মোহনা
ঘ) ঘ) সমুদ্রের তীর
ব্যাখ্যা: নদী তার উপনদী ও শাখানদী সহ উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে বিস্তীর্ণ ভূমিভাগের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা (River Basin) বলে। আমাজন নদীর অববাহিকা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা ভারতের বৃহত্তম।
7. জলবিভাজিকা (Watershed) কাকে বলে?
ক) ক) দুই নদীর মিলনস্থল
খ) খ) যে উঁচু ভূমি বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে
গ) গ) নদীর মোহনা
ঘ) ঘ) সমুদ্রের তীর
ব্যাখ্যা: কোনো পাহাড়ের চূড়ার অংশ বা উঁচু ভূমি বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে বা 'বিভাজন' করে দেয়, তাকে জলবিভাজিকা (Watershed) বলে। যেমন — বইয়ের মোটা মলাটের মতো উঁচু অংশ। জলবিভাজিকার বিভিন্ন দিকে বয়ে যাওয়া জল একাধিক জলধারায় মিলিত হয়ে মূল নদী তৈরি করে।
8. ধারণ অববাহিকা (Catchment Basin) কী?
ক) ক) সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল
খ) খ) যে অঞ্চলের জল মূল নদীতে এসে পড়ে
গ) গ) নদীর উৎপত্তিস্থল
ঘ) ঘ) মরুভূমি অঞ্চল
ব্যাখ্যা: উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলের বরফগলা বা বৃষ্টির জল অসংখ্য ছোট ছোট জলধারার মাধ্যমে বয়ে গিয়ে পর্বতের পাদদেশে এসে নদী তৈরি করে। পর্বতের উপর থেকে পাদদেশ পর্যন্ত যে বিরাট অঞ্চলের জল মূল নদীতে এসে পড়ে, সেই অঞ্চলই ওই নদীর ধারণ অববাহিকা (Catchment Basin)।
9. নদী উপত্যকা (River Valley) কী?
ক) ক) নদীর দুই তীরের সমতল ভূমি
খ) খ) উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে খাতের মধ্যে দিয়ে নদী প্রবাহিত
গ) গ) দুটি নদীর মাঝের স্থান
ঘ) ঘ) সমুদ্রের তীর
ব্যাখ্যা: 'উৎস' থেকে 'মোহনা' পর্যন্ত যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়, তাকে নদীর উপত্যকা (River Valley) বলে। উচ্চপ্রবাহে উপত্যকা গভীর ও সরু (I বা V আকৃতির — গিরিখাত), মধ্যপ্রবাহে চওড়া, নিম্নপ্রবাহে অত্যন্ত প্রশস্ত।
10. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ক) ক) আমাজন
খ) খ) নীল
গ) গ) ইয়াংসি কিয়াং
ঘ) ঘ) মিসিসিপি
ব্যাখ্যা: আফ্রিকার নীল নদ (নীল নদী — Nile River) পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী, দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় দীর্ঘতম আমাজন (৬,৩০০ কিমি), তৃতীয় ইয়াংসি কিয়াং (৫,৫৩০ কিমি)। প্রসঙ্গত, আমাজন জলপ্রবাহের পরিমাণের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম নদী।
11. দোয়াব কী?
ক) ক) দুই পর্বতের মাঝের স্থান
খ) খ) পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থান
গ) গ) নদী ও সমুদ্রের মিলন
ঘ) ঘ) নদীর উপনদী
ব্যাখ্যা: পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব (Doab) বলে। 'দো' = দুই, 'আব' = জল/নদী। ভারতের গঙ্গা ও যমুনা নদীর 'দোয়াব' অংশে আগ্রা, এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) প্রভৃতি শহর অবস্থিত। দোয়াব অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর।
12. অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে?
ক) ক) সমুদ্রে পতিত নদী
খ) খ) দেশের মধ্যেই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে মেশা নদী
গ) গ) একাধিক দেশে প্রবাহিত নদী
ঘ) ঘ) পাহাড়ি নদী
ব্যাখ্যা: যে নদী কোনো দেশের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশের মধ্যেই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে গিয়ে মেশে — সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছায় না, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী (Inland River) বলে। যেমন — ভারতের লুনি নদী (রাজস্থানের মরুভূমি), রাশিয়ার আমু দরিয়া।
13. আন্তর্জাতিক নদী কাকে বলে?
ক) ক) দেশের ভিতরে প্রবাহিত নদী
খ) খ) একাধিক দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদী
গ) গ) সমুদ্রে পতিত নদী
ঘ) ঘ) শুধু পাহাড়ি নদী
ব্যাখ্যা: যে নদী এক বা একাধিক দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে আন্তর্জাতিক নদী (International River) বলে। যেমন — সিন্ধু (ভারত-পাকিস্তান), ব্রহ্মপুত্র (চীন-ভারত-বাংলাদেশ), ইউরোপের রাইন ও দানিয়ুব নদী। আন্তর্জাতিক নদীর জলবণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়।
14. নদীর তিনটি প্রধান কাজ কী কী?
ক) ক) বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, বৃষ্টিপাত
খ) খ) ক্ষয়, বহন, সঞ্চয়
গ) গ) উত্তাপ, শীতলীকরণ, ঘূর্ণন
ঘ) ঘ) উৎপত্তি, প্রবাহ, মোহনা
ব্যাখ্যা: নদীর তিনটি প্রধান কাজ: (১) ক্ষয়কাজ (Erosion) — পাথর, মাটি ক্ষয় করে, (২) বহনকাজ (Transportation) — ক্ষয়িত পদার্থ বয়ে নিয়ে যায়, (৩) সঞ্চয়কাজ (Deposition) — গতি কমলে পলি, বালি জমিয়ে ফেলে। নদীর শক্তির উপর এই কাজ নির্ভর করে।
15. উচ্চপ্রবাহে নদীর প্রধান কাজ কী?
ক) ক) সঞ্চয়
খ) খ) বহন
গ) গ) ক্ষয়
ঘ) ঘ) পলি জমা
ব্যাখ্যা: পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল এবং উঁচু-নিচু ভাব খুব বেশি হওয়ার জন্য নদীর শক্তি বেশি থাকে। ফলে উচ্চপ্রবাহে নদীর প্রধান কাজ ক্ষয় (Erosion)। প্রবল জলস্রোতের আঘাতে নদী তার তলদেশ ক্ষয় করে গভীর গিরিখাত ও জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
16. মধ্যপ্রবাহে নদীর প্রধান কাজ কী?
ক) ক) ক্ষয়
খ) খ) বহন ও সঞ্চয়
গ) গ) গিরিখাত সৃষ্টি
ঘ) ঘ) জলপ্রপাত সৃষ্টি
ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কম থাকায় নদীর গতি ও শক্তি কমে যায়। ফলে নদী প্রধানত বহন (Transportation) ও সঞ্চয় (Deposition) কাজ করে। এই প্রবাহে নদী আঁকাবাঁকা পথে (মিয়েন্ডার) প্রবাহিত হয় এবং নদী উপত্যকা চওড়া হতে থাকে।
17. গিরিখাত (Gorge) কী?
ক) ক) চওড়া নদী উপত্যকা
খ) খ) সরু ও গভীর নদী উপত্যকা (I বা V আকৃতির)
গ) গ) নদী বাঁক
ঘ) ঘ) বদ্বীপ
ব্যাখ্যা: উচ্চপ্রবাহে নদী প্রবল বেগে তলদেশ ক্ষয় করে গভীর ও সরু উপত্যকা সৃষ্টি করে — ইংরেজি 'I' বা 'V' অক্ষরের মতো দেখতে হয় বলে একে গিরিখাত (Gorge) বলে। বৃষ্টিহীন পার্বত্য বা শুষ্ক অঞ্চলে এরকম সুগভীর গিরিখাতকে ক্যানিয়ন (Canyon) বলা হয়। যেমন — যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।
18. জলপ্রপাত (Waterfall) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) নদীর সঞ্চয়ে
খ) খ) শক্ত ও নরম পাথরের পার্থক্যজনিত ক্ষয়ে
গ) গ) বৃষ্টিপাতে
ঘ) ঘ) ভূমিকম্পে
ব্যাখ্যা: নদীর গতিপথে শক্ত ও নরম পাথর অনুভূমিকভাবে থাকলে, নদী নরম পাথরকে বেশি ক্ষয় করে। ফলে শক্ত ও নরম পাথরের মধ্যে ধাপের সৃষ্টি হয় এবং নদী শক্ত পাথরের ওপর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলপ্রপাত (Waterfall) সৃষ্টি করে। যেমন — পশ্চিমঘাট পর্বতের 'যোগ' জলপ্রপাত (২৬০ মিটার)।
19. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) ভূমিকম্পে
খ) খ) নদীর বাঁক অতিরিক্ত বেড়ে মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে
গ) গ) বৃষ্টির জলে
ঘ) ঘ) সমুদ্রের ঢেউয়ে
ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রবাহে নদীর বাঁক (মিয়েন্ডার) বাড়তে বাড়তে একসময় বাঁকের একটি অংশ মূল নদী থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই আলাদা অংশ ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে হয় বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake) বলে। পশ্চিমবঙ্গের অনেক স্থানে এরকম বিল দেখা যায়।
20. বদ্বীপ (Delta) কী?
ক) ক) পাহাড়ি উপত্যকা
খ) খ) নদীর মোহনায় পলি জমে সৃষ্ট ত্রিকোণা ভূমি
গ) গ) নদীর উৎসস্থল
ঘ) ঘ) মরুভূমি
ব্যাখ্যা: নিম্নপ্রবাহে নদী অত্যন্ত ধীর গতিতে প্রবাহিত হয় এবং মোহনার কাছে এসে পলি, বালি, কাঁকর জমিয়ে ত্রিকোণা আকৃতির (গ্রিক অক্ষর Δ-র মতো) যে ভূমি সৃষ্টি করে, তাকে বদ্বীপ (Delta) বলে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ (সুন্দরবন)।
21. গঙ্গার উচ্চপ্রবাহ কোথা পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক) ক) গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত
খ) খ) হরিদ্বার থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত
গ) গ) মুর্শিদাবাদ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত
ঘ) ঘ) এলাহাবাদ থেকে পাটনা পর্যন্ত
ব্যাখ্যা: গঙ্গার উচ্চপ্রবাহ: গোমুখ (উৎস, উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহ) থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত। এই অংশে গঙ্গা পার্বত্য অঞ্চলে প্রবাহিত — ভূমির ঢাল বেশি, নদীর গতি তীব্র, প্রধান কাজ ক্ষয়। এখানে গঙ্গার গিরিখাত ও জলপ্রপাত দেখা যায়।
22. গঙ্গার মধ্যপ্রবাহ কোথা পর্যন্ত বিস্তৃত?
ক) ক) গোমুখ থেকে হরিদ্বার
খ) খ) হরিদ্বার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মিঠিপুর পর্যন্ত
গ) গ) মুর্শিদাবাদ থেকে বঙ্গোপসাগর
ঘ) ঘ) পাটনা থেকে কলকাতা
ব্যাখ্যা: গঙ্গার মধ্যপ্রবাহ: হরিদ্বার থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মিঠিপুর পর্যন্ত। এই অংশে গঙ্গা সমভূমিতে প্রবাহিত — ভূমির ঢাল কম, নদীতে প্রচুর উপনদী এসে মেশে, নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। প্রধান কাজ বহন ও সঞ্চয়।
23. নিম্নপ্রবাহে নদীর প্রধান কাজ কী?
ক) ক) ক্ষয়
খ) খ) সঞ্চয়
গ) গ) গিরিখাত সৃষ্টি
ঘ) ঘ) জলপ্রপাত সৃষ্টি
ব্যাখ্যা: নিম্নপ্রবাহে ভূমির ঢাল অত্যন্ত কম — প্রায় সমতল। নদীর গতি খুবই ধীর হয়, ফলে নদী প্রধানত সঞ্চয়কাজ (Deposition) করে। পলি জমে চড়া, দ্বীপ ও বদ্বীপ সৃষ্টি হয়। গঙ্গার নিম্নপ্রবাহ মুর্শিদাবাদ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।
24. নদী শক্তির সাথে নদীর কাজের সম্পর্ক কী?
ক) ক) শক্তি বাড়লে সঞ্চয় বাড়ে
খ) খ) শক্তি বাড়লে ক্ষয় ও বহন বাড়ে, কমলে সঞ্চয় বাড়ে
গ) গ) শক্তির সাথে কোন সম্পর্ক নেই
ঘ) ঘ) শক্তি কমলে ক্ষয় বাড়ে
ব্যাখ্যা: নদীর শক্তি বেড়ে গেলে নদী বেশি করে ক্ষয় (Erosion) ও বহন (Transportation) কাজ করে। আবার নদীর শক্তি কমে গেলে নদী বেশি করে সঞ্চয় (Deposition) কাজ করে। নদীর জলের পরিমাণ, গতিবেগ, ভূমির ঢাল প্রভৃতি থেকে নদী শক্তি পায়।
25. যোগ জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
ক) ক) হিমালয়ে
খ) খ) পশ্চিমঘাট পর্বতে
গ) গ) বিন্ধ্য পর্বতে
ঘ) ঘ) আরাবল্লীতে
ব্যাখ্যা: 'যোগ' জলপ্রপাত (Jog Falls) কর্ণাটক রাজ্যের পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত। এটি ভারতের অন্যতম উচ্চতম জলপ্রপাত — উচ্চতা প্রায় ২৬০ মিটার (৮৫০ ফুট)। শেরাবতী নদী শক্ত পাথরের ওপর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই জলপ্রপাত সৃষ্টি করেছে।
26. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা কোনটি?
ক) ক) গঙ্গা অববাহিকা
খ) খ) আমাজন অববাহিকা
গ) গ) নীল অববাহিকা
ঘ) ঘ) মিসিসিপি অববাহিকা
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা — প্রায় ৭০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। দ্বিতীয় বৃহত্তম কঙ্গো অববাহিকা। আমাজন নদী জলপ্রবাহের পরিমাণেও পৃথিবীর বৃহত্তম।
27. মিয়েন্ডার (Meander) কী?
ক) ক) নদীর সোজা পথ
খ) খ) নদীর আঁকাবাঁকা পথ
গ) গ) নদীর মোহনা
ঘ) ঘ) জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা: মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ার ফলে নদী সোজা না বয়ে খুবই আঁকাবাঁকা পথে (মিয়েন্ডার) প্রবাহিত হয়। বাঁকের বাইরের দিকে (খাড়া পাড়) জলঘাত বেশি — ক্ষয় বেশি; ভিতরের দিকে (ঢালু পাড়) সঞ্চয় বেশি — একপাড় ভাঙে, অন্য পাড় গড়ে।
28. ইয়াংসি কিয়াং নদী কোন মহাদেশে অবস্থিত?
ক) ক) আফ্রিকা
খ) খ) এশিয়া
গ) গ) দক্ষিণ আমেরিকা
ঘ) ঘ) ইউরোপ
ব্যাখ্যা: ইয়াংসি কিয়াং (Yangtze) নদী এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম নদী এবং পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম নদী — দৈর্ঘ্য প্রায় ৫,৫৩০ কিমি। এটি চীনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত হয়েছে। থ্রি গর্জেস ড্যাম এই নদীর উপর অবস্থিত।
29. ক্যানিয়ন (Canyon) ও গিরিখাতের (Gorge) মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
ক) ক) উচ্চতার পার্থক্য
খ) খ) ক্যানিয়ন বৃষ্টিহীন অঞ্চলের সুগভীর গিরিখাত
গ) গ) দৈর্ঘ্যের পার্থক্য
ঘ) ঘ) কোন পার্থক্য নেই
ব্যাখ্যা: গিরিখাত (Gorge) হল সরু ও গভীর নদী উপত্যকা যা সাধারণত বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়। ক্যানিয়ন (Canyon) হল বৃষ্টিহীন বা শুষ্ক অঞ্চলের সুগভীর ও প্রসারিত গিরিখাত — যেমন যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (কলোরাডো নদী)।
30. ভারতের একটি অন্তর্বাহিনী নদীর উদাহরণ কোনটি?
ক) ক) গঙ্গা
খ) খ) লুনি
গ) গ) ব্রহ্মপুত্র
ঘ) ঘ) গোদাবরী
ব্যাখ্যা: লুনি নদী (Luni River) রাজস্থানের মরুভূমি অঞ্চলের একটি অন্তর্বাহিনী নদী। এটি আরাবল্লী পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে কচ্ছের রণের কাছে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায় — সমুদ্রে পৌঁছায় না। রাশিয়ার আমু দরিয়া ও সির দরিয়া অন্তর্বাহিনী নদীর অপর উদাহরণ (আরল সাগরে পতিত)।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)

23 টি
1. নদী কীভাবে সৃষ্টি হয়?
পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত ছোট ছোট জলধারাগুলো যখন পরস্পর মিলিত হয়ে ভূমির ঢাল অনুসারে উঁচু থেকে নিচু স্থানের দিকে বয়ে চলে, তখন নদীর সৃষ্টি হয়। হিমবাহ গলা জল বা বৃষ্টির জল অসংখ্য ছোট জলধারা রূপে নেমে আসে এবং একত্রিত হয়ে একটি বড় জলধারা — 'নদী' তৈরি করে। যেমন — গঙ্গার উৎপত্তি গোমুখ হিমবাহে।
2. উৎস ও মোহনা কাকে বলে?
উৎস (Source): নদী যেখানে সৃষ্টি হয় — সাধারণত পাহাড়-পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গায় নদীর উৎপত্তি হয়। যেমন গঙ্গার উৎস গোমুখ হিমবাহ (গঙ্গোত্রী)। মোহনা (Confluence বা Mouth): যেখানে গিয়ে নদী শেষ হয় — অর্থাৎ কোনো সাগর, উপসাগর, হ্রদ, জলাশয় বা অন্য নদীতে মেশে। যেমন বঙ্গোপসাগরে গঙ্গার মোহনা।
3. উপনদী ও শাখানদীর মধ্যে পার্থক্য কী?
উপনদী (Tributary): উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে কোনো নদী যখন অন্য কোনো নদীতে এসে মেশে, তাকে উপনদী বলে — যেমন যমুনা, গোমতী গঙ্গার উপনদী। উপনদী মূল নদীতে জল যোগ করে। শাখানদী (Distributary): মূল নদী থেকে যখন কোনো নদী শাখার মতো বেরিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে মেশে, তাকে শাখানদী বলে — যেমন ভাগীরথী-হুগলী গঙ্গার শাখানদী। শাখানদী মূল নদী থেকে জল সরিয়ে নিয়ে যায়।
4. জলবিভাজিকা (Watershed) কী? উদাহরণ দাও।
জলবিভাজিকা (Watershed): কোনো পাহাড়ের চূড়ার অংশ বা উঁচু ভূমি বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেয় বা 'বিভাজন' করে — একে জলবিভাজিকা বলে। যেমন — বইয়ের মলাটের মতো উঁচু অংশে জল পড়লে দুদিকে ঢাল বরাবর গড়িয়ে যায়। জলবিভাজিকার বিভিন্ন দিকে বয়ে যাওয়া জল একাধিক ছোট জলধারায় মিলিত হয়ে মূল নদী তৈরি করে। যেমন — বিন্ধ্য পর্বত, পশ্চিমঘাট।
5. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?
ধারণ অববাহিকা (Catchment Basin): উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলের বরফগলা জল বা বৃষ্টির জল অসংখ্য ছোট ছোট জলধারার মাধ্যমে বয়ে গিয়ে পর্বতের পাদদেশে এসে নদী তৈরি করে। পর্বতের উপর থেকে পাদদেশ পর্যন্ত যে বিরাট অঞ্চলের জল মূল নদীতে এসে পড়ে, সেই অঞ্চলটিই ওই নদীর ধারণ অববাহিকা। এটি নদীর জলের প্রাথমিক উৎস অঞ্চল।
6. নদী অববাহিকা (River Basin) কাকে বলে? বৃহত্তম নদী অববাহিকা কোনটি?
নদী অববাহিকা (River Basin): নদী তার উপনদী ও শাখানদী সহ উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে বিস্তীর্ণ ভূমিভাগের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা বলে। এটি নদী ও তার সমস্ত উপনদী-শাখানদীর জলনিকাশি অঞ্চল। পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা: আমাজন নদীর অববাহিকা (প্রায় ৭০ লক্ষ বর্গকিমি)। ভারতের বৃহত্তম: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা।
7. দোয়াব (Doab) কী?
দোয়াব (Doab): পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থানকে দোয়াব বলে। ফার্সি শব্দ — 'দো' = দুই, 'আব' = জল/নদী। ভারতের গঙ্গা ও যমুনা নদীর দোয়াব অংশ অত্যন্ত উর্বর — এখানে আগ্রা, এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) প্রভৃতি ঐতিহাসিক শহর অবস্থিত। পাঞ্জাব (পঞ্জ + আব = পাঁচ নদীর দেশ) শব্দটিও এর থেকে এসেছে।
8. অন্তর্বাহিনী নদী ও আন্তর্জাতিক নদী কাকে বলে?
অন্তর্বাহিনী নদী (Inland River): যে নদী কোনো দেশের মধ্যে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশের মধ্যেই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে গিয়ে মেশে — সমুদ্রে পৌঁছায় না। যেমন — ভারতের লুনি নদী (কচ্ছের রণ), রাশিয়ার আমু দরিয়া (আরল সাগর)। আন্তর্জাতিক নদী (International River): যে নদী এক বা একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। যেমন — সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র, ইউরোপের রাইন ও দানিয়ুব।
9. নদীর তিনটি প্রধান কাজ কী কী? সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
নদীর তিনটি প্রধান কাজ: (১) ক্ষয়কাজ (Erosion): নদী তার জলস্রোতের ধাক্কায় পাথর, মাটি, বালি ক্ষয় করে — উচ্চপ্রবাহে এটি প্রধান। (২) বহনকাজ (Transportation): ক্ষয়িত পদার্থ যেমন নুড়ি, কাঁকর, বালি, পলি — সবই জলের সাথে ভেসে যায় — মধ্যপ্রবাহে প্রধান। (৩) সঞ্চয়কাজ (Deposition): গতি কমে গেলে নদী এই সব পদার্থ জমিয়ে ফেলে — নিম্নপ্রবাহে প্রধান। নদীর শক্তির উপর এই কাজ নির্ভর করে।
10. নদীর উচ্চপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য কী কী?
উচ্চপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য: (১) উৎস থেকে সমতলভূমিতে নামার আগে পর্যন্ত উচ্চপ্রবাহ — যেমন গোমুখ থেকে হরিদ্বার। (২) পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির ঢাল ও বন্ধুরতা বেশি → নদীর শক্তি বেশি → প্রধান কাজ ক্ষয়। (৩) উপনদীর সংখ্যা কম → উপত্যকা চওড়া নয়, সরু ও গভীর — 'I' বা 'V' আকৃতির গিরিখাত (Gorge) সৃষ্টি হয়। (৪) শক্ত ও নরম পাথরের পার্থক্যে জলপ্রপাত (Waterfall) সৃষ্টি হয় — যেমন যোগ জলপ্রপাত।
11. নদীর মধ্যপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য কী কী?
মধ্যপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য: (১) পার্বত্য অঞ্চলের পর মালভূমি বা সমভূমিতে নদীর মধ্যপ্রবাহ — যেমন হরিদ্বার থেকে মুর্শিদাবাদের মিঠিপুর পর্যন্ত গঙ্গার মধ্যপ্রবাহ। (২) ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় গতি ও শক্তি কম → প্রধান কাজ বহন ও সঞ্চয়। (৩) প্রচুর উপনদী এসে মেশে → জলের পরিমাণ বাড়ে → উপত্যকা চওড়া হয়। (৪) নদী আঁকাবাঁকা পথে (মিয়েন্ডার) প্রবাহিত হয়। (৫) বাঁক বাড়লে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake) সৃষ্টি।
12. নদীর নিম্নপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য কী কী?
নিম্নপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য: (১) সমুদ্রের কাছে — ভূমির ঢাল অত্যন্ত কম, প্রায় সমতল। (২) নদীর গতি খুব ধীর → প্রধান কাজ সঞ্চয়। (৩) পলি, বালি, নুড়ি জমে চড়া ও নদী-দ্বীপ সৃষ্টি হয়। (৪) পলি জমতে জমতে মোহনায় ত্রিকোণা আকৃতির বদ্বীপ (Delta) সৃষ্টি। (৫) গঙ্গার নিম্নপ্রবাহ মিঠিপুর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত — এখানে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ, সুন্দরবন সৃষ্টি হয়েছে।
13. গিরিখাত বা গর্জ (Gorge) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
গিরিখাত বা গর্জ (Gorge): উচ্চপ্রবাহে নদী প্রবল বেগে তার তলদেশ ক্ষয় করে গভীর ও সরু উপত্যকা সৃষ্টি করে। এই উপত্যকা ইংরেজি 'I' বা 'V' অক্ষরের মতো দেখতে হয়। একে গিরিখাত বলে। পার্বত্য বা বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে গিরিখাত হয়। বৃষ্টিহীন বা শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে এরকম সুগভীর গিরিখাতকে ক্যানিয়ন (Canyon) বলে — যেমন আমেরিকার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (কলোরাডো নদী), তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো গিরিখাত।
14. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake): মধ্যপ্রবাহে নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। বাঁকের বাইরের দিকে জলঘাত বেশি → ক্ষয় বেশি; ভিতরের দিকে সঞ্চয় বেশি → চড়া পড়ে। নদীর বাঁকের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে একসময় বাঁকের একটি অংশ মূল নদী থেকে আলাদা হয়ে যায়। এই আলাদা অংশ ঘোড়ার খুরের (Ox-bow) মতো দেখতে হয় বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে। পশ্চিমবঙ্গের বিল এ ধরনের — যেমন কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর।
15. জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়? ভারতের একটি জলপ্রপাতের নাম লেখো।
জলপ্রপাত সৃষ্টির প্রক্রিয়া: নদীর গতিপথে শক্ত ও নরম পাথর অনুভূমিকভাবে অবস্থান করলে, নদী নরম পাথরকে তুলনামূলক বেশি ক্ষয় করে ফেলে। ফলে শক্ত ও নরম পাথরের মাঝে ধাপ বা ধাপের সৃষ্টি হয় এবং নদী শক্ত পাথরের ওপর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলপ্রপাত (Waterfall) সৃষ্টি করে। ভারতের উদাহরণ: কর্ণাটকের পশ্চিমঘাট পর্বতে 'যোগ' জলপ্রপাত (২৬০ মি), ঝাড়খণ্ডের হুন্ড্রু জলপ্রপাত, তামিলনাড়ুর হোগেনাক্কাল জলপ্রপাত।
16. বদ্বীপ (Delta) কীভাবে সৃষ্টি হয়? পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ কী?
বদ্বীপ (Delta): নিম্নপ্রবাহে নদীর গতি অত্যন্ত ধীর। মোহনার কাছে এসে নদী পলি, বালি, নুড়ি জমিয়ে ত্রিকোণা আকৃতির (গ্রিক অক্ষর Δ-এর মতো) ভূমি সৃষ্টি করে — একে বদ্বীপ বলে। সময়ের সাথে পলি জমে বদ্বীপ ক্রমশ সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হয়। পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন)। নীলনদের বদ্বীপ, মিসিসিপি বদ্বীপ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বদ্বীপ।
17. নদীর ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজের সাথে নদীর শক্তির সম্পর্ক কী?
নদীর শক্তি নির্ভর করে জলের পরিমাণ, গতিবেগ ও ভূমির ঢালের উপর। উচ্চপ্রবাহে: ঢাল বেশি → শক্তি বেশি → প্রধানত ক্ষয় ও বহন কাজ করে। গিরিখাত, জলপ্রপাত সৃষ্টি। মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে: ঢাল কম → শক্তি কম → বহন ক্ষমতা কমে, সঞ্চয় কাজ বাড়ে → চড়া, দ্বীপ, বদ্বীপ সৃষ্টি। অর্থাৎ — নদীর শক্তি বাড়লে ক্ষয় ও বহন, শক্তি কমলে সঞ্চয়।
18. পৃথিবীর কয়েকটি প্রধান নদী ও তাদের দৈর্ঘ্য উল্লেখ করো।
পৃথিবীর প্রধান নদী (দৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে): (১) নীল (আফ্রিকা) — ৬,৬৫০ কিমি (পৃথিবীর দীর্ঘতম), (২) আমাজন (দক্ষিণ আমেরিকা) — ৬,৩০০ কিমি (জলপ্রবাহে বৃহত্তম), (৩) ইয়াংসি কিয়াং (এশিয়া, চীন) — ৫,৫৩০ কিমি, (৪) মিসিসিপি-মিসৌরি (উত্তর আমেরিকা) — ৪,০৯০ কিমি, (৫) ইয়েনিসি (এশিয়া, রাশিয়া) — ৩,৭৭০ কিমি, (৬) মারে-ডার্লিং (অস্ট্রেলিয়া) — ৩,৭২০ কিমি, (৭) ভলগা (ইউরোপ) — ৩,৭০০ কিমি।
19. গঙ্গা নদীর তিনটি প্রবাহের বিবরণ দাও।
গঙ্গা নদীর তিনটি প্রবাহ: (১) উচ্চপ্রবাহ: গোমুখ (গঙ্গোত্রী হিমবাহ) থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত — পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল বেগে প্রবাহিত, গিরিখাত সৃষ্টি, প্রধান কাজ ক্ষয়। (২) মধ্যপ্রবাহ: হরিদ্বার থেকে মুর্শিদাবাদের মিঠিপুর পর্যন্ত — সমতল ভূমি, গতি কম, উপনদী (যমুনা, গোমতী, ঘর্ঘরা) এসে মেশে, আঁকাবাঁকা পথ, প্রধান কাজ বহন ও সঞ্চয়। (৩) নিম্নপ্রবাহ: মিঠিপুর থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত — অতি ধীর গতি, বদ্বীপ সৃষ্টি, শাখানদী (ভাগীরথী-হুগলী) বেরিয়ে যায়, প্রধান কাজ সঞ্চয়।
20. মিয়েন্ডার বা নদীর আঁকাবাঁকা পথের কারণ কী?
মধ্যপ্রবাহে ভূমির ঢাল কমে যাওয়া এবং নদীতে জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে নদীর গতি অনিয়মিত হয়ে পড়ে। নদী তখন সোজা না বয়ে আঁকাবাঁকা পথে (Meander) প্রবাহিত হয়। বাঁকের একদিকে (খাড়া পাড় — বাইরের দিক) জলঘাত বেশি → ক্ষয় বেশি; অন্যদিকে (ঢালু পাড় — ভিতরের দিক) সঞ্চয় বেশি → চড়া পড়ে। একপাড় ভাঙে, অন্য পাড় গড়ে — এভাবেই আঁকাবাঁকা পথের সৃষ্টি।
21. নদী উপত্যকা (River Valley) কী? উচ্চ, মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে এর চেহারা কেমন?
নদী উপত্যকা (River Valley): উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়। উচ্চপ্রবাহে — গভীর ও সরু, 'I' বা 'V' আকৃতির (গিরিখাত)। মধ্যপ্রবাহে — চওড়া, অনেকটা 'U' আকৃতির, পার্শ্বক্ষয় বেশি, বন্যা সমভূমি সৃষ্টি। নিম্নপ্রবাহে — অত্যন্ত প্রশস্ত, প্রায় সমতল মাঠের মতো, পলিগঠিত বিস্তীর্ণ সমভূমি।
22. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদের সম্পর্কে টীকা লেখো।
নীল নদ (Nile River) আফ্রিকা মহাদেশের দীর্ঘতম নদী এবং ঐতিহ্যগতভাবে পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী — দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৬৫০ কিমি। এটি পূর্ব আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে সুদান ও মিশরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা এই নদের তীরেই গড়ে উঠেছিল — তাই নীলনদকে 'মিশরের প্রাণ' বলা হয়। আসোয়ান বাঁধ এর উপর অবস্থিত। বর্ষাকালে নীলনদের দুই তীরে পলি পড়ে কৃষিজমি উর্বর হয়।
23. আমাজন নদী সম্পর্কে টীকা লেখো।
আমাজন নদী (Amazon River) দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম নদী — দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৩০০ কিমি (কিছু গবেষণায় দীর্ঘতম)। পেরুর আন্দিজ পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে ব্রাজিলের মধ্য দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত। এটি জলপ্রবাহের পরিমাণের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম নদী। আমাজন অববাহিকা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা (~৭০ লক্ষ বর্গকিমি) এবং পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট (আমাজন বন) এই অববাহিকাতেই অবস্থিত।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)

6 টি
1. নদীর উৎস, মোহনা, উপনদী ও শাখানদী কাকে বলে? নদী অববাহিকা ও জলবিভাজিকার ধারণা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

নদী সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা:

  • উৎস (Source): নদী যেখানে সৃষ্টি হয় — পাহাড়, পর্বত বা মালভূমির মতো উঁচু জায়গা। যেমন — গঙ্গার উৎস গোমুখ হিমবাহ।
  • মোহনা (Mouth/Confluence): নদী যেখানে শেষ হয় — সাগর, উপসাগর, হ্রদ বা অন্য নদীতে মেশে। যেমন — বঙ্গোপসাগরে গঙ্গার মোহনা।
  • উপনদী (Tributary): অন্য নদীতে এসে মেশা নদী — যেমন যমুনা, গোমতী (গঙ্গার উপনদী)।
  • শাখানদী (Distributary): মূল নদী থেকে বেরিয়ে যাওয়া শাখা — যেমন ভাগীরথী-হুগলী (গঙ্গার শাখানদী)।

জলবিভাজিকা (Watershed):

যে উঁচু ভূমি (পাহাড়ের চূড়া বা মালভূমির কিনারা) বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেয়, তাকে জলবিভাজিকা বলে। যেমন — বইয়ের মলাটের মতো উঁচু অংশে জল পড়লে তা দুদিকে গড়িয়ে যায়। জলবিভাজিকার একদিকের জল এক নদী ব্যবস্থায় যায়, অন্যদিকের জল অন্য নদী ব্যবস্থায়।

নদী অববাহিকা (River Basin):

নদী তার সমস্ত উপনদী ও শাখানদী সহ মোট যে বিস্তীর্ণ ভূমিভাগ থেকে জল সংগ্রহ করে এবং যে অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে নদী অববাহিকা বলে। উদাহরণ: আমাজন অববাহিকা — পৃথিবীর বৃহত্তম (~৭০ লক্ষ বর্গকিমি)। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা — ভারতের বৃহত্তম।

2. নদীর তিনটি প্রধান কাজ কী কী? এই কাজগুলি নদীর বিভিন্ন প্রবাহে কীভাবে ঘটে তা বিস্তারিত আলোচনা করো।

নদীর তিনটি প্রধান কাজ:

  1. ক্ষয়কাজ (Erosion): জলস্রোতের আঘাতে নদীগর্ভ ও তীরের মাটি-পাথর ক্ষয় করে।
  2. বহনকাজ (Transportation): ক্ষয়িত পদার্থ (নুড়ি, বালি, পলি) স্রোতের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
  3. সঞ্চয়কাজ (Deposition): গতি কমলে বা ঢাল কমলে এই বস্তুগুলো জমিয়ে ফেলে।

প্রবাহভেদে কাজের পরিবর্তন:

প্রবাহঢাল/শক্তিপ্রধান কাজসৃষ্ট ভূমিরূপ
উচ্চপ্রবাহখুব বেশিক্ষয়গিরিখাত (Gorge), জলপ্রপাত
মধ্যপ্রবাহমাঝারিবহন ও সঞ্চয়মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
নিম্নপ্রবাহকমসঞ্চয়বদ্বীপ (Delta), চড়া, দ্বীপ

নদীর শক্তি = জলের পরিমাণ × গতিবেগ × ভূমির ঢাল। ঢাল বেশি → শক্তি বেশি → ক্ষয়; ঢাল কম → শক্তি কম → সঞ্চয়।

3. গিরিখাত, জলপ্রপাত ও বদ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়? এদের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণসহ আলোচনা করো।

১. গিরিখাত (Gorge):

সৃষ্টির প্রক্রিয়া: উচ্চপ্রবাহে নদী প্রবল বেগে তলদেশ ক্ষয় করে গভীর ও সরু উপত্যকা তৈরি করে — ইংরেজি 'I' বা 'V' আকৃতির।

উদাহরণ: সিন্ধু নদের গিরিখাত, গঙ্গার গিরিখাত (উত্তরাখণ্ড)। বৃষ্টিহীন অঞ্চলে একে ক্যানিয়ন বলে — যেমন কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (USA)।

২. জলপ্রপাত (Waterfall):

সৃষ্টির প্রক্রিয়া: নদীর গতিপথে শক্ত ও নরম পাথর অনুভূমিকভাবে থাকলে, নরম পাথর দ্রুত ক্ষয় হয় এবং শক্ত পাথরের সাথে উচ্চতার পার্থক্য তৈরি হয়। নদী সেই শক্ত পাথরের ওপর থেকে নীচে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

উদাহরণ: ভারতের যোগ জলপ্রপাত (২৬০ মি, কর্ণাটক), উত্তর আমেরিকার নায়াগ্রা জলপ্রপাত, দক্ষিণ আমেরিকার এঞ্জেল জলপ্রপাত (পৃথিবীর সর্বোচ্চ — ৯৭৯ মি)।

৩. বদ্বীপ (Delta):

সৃষ্টির প্রক্রিয়া: নিম্নপ্রবাহে নদীর গতি অত্যন্ত ধীর — বহন ক্ষমতা কমে যায়। মোহনার কাছে পলি, বালি জমতে জমতে ত্রিকোণা (Δ) আকৃতির ভূমি সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (পৃথিবীর বৃহত্তম, সুন্দরবন), নীলনদের বদ্বীপ, মিসিসিপি বদ্বীপ।

4. গঙ্গা নদীর উচ্চপ্রবাহ, মধ্যপ্রবাহ ও নিম্নপ্রবাহের বৈশিষ্ট্যগুলি টেবিল আকারে তুলনা করো। প্রতিটি প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ ও সৃষ্ট ভূমিরূপ আলোচনা করো।

গঙ্গা নদীর তিন প্রবাহের তুলনা:

বিষয়উচ্চপ্রবাহমধ্যপ্রবাহনিম্নপ্রবাহ
বিস্তৃতিগোমুখ → হরিদ্বারহরিদ্বার → মিঠিপুরমিঠিপুর → বঙ্গোপসাগর
ভূমিরূপপার্বত্যসমভূমিসমতল বদ্বীপ
ঢালখুব বেশিমাঝারিঅত্যন্ত কম
নদীর গতিপ্রবলধীরঅতি ধীর
প্রধান কাজক্ষয়বহন ও সঞ্চয়সঞ্চয়
উপত্যকাসরু, গভীর (গিরিখাত)চওড়াঅত্যন্ত প্রশস্ত
সৃষ্ট ভূমিরূপগিরিখাত, জলপ্রপাতমিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদবদ্বীপ, চড়া, দ্বীপ
উপনদীকমপ্রচুর (যমুনা, গোমতী)শাখানদী (ভাগীরথী-হুগলী)
বিশেষত্বগঙ্গোত্রী মন্দির, হৃষিকেশবারাণসী, প্রয়াগরাজসুন্দরবন, বঙ্গোপসাগর

গঙ্গা নদী ভারতের দীর্ঘতম নদী — দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫২৫ কিমি। এটি উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

5. নদী অববাহিকা, ধারণ অববাহিকা ও জলবিভাজিকা — এদের মধ্যে পার্থক্য কী? নদী অববাহিকার গুরুত্ব আলোচনা করো।

পার্থক্য:

বিষয়জলবিভাজিকাধারণ অববাহিকানদী অববাহিকা
সংজ্ঞাউঁচু ভূমি যা জলকে ভাগ করেউৎসের কাছের জল সংগ্রহ অঞ্চলসমগ্র নদী ব্যবস্থার জলনিকাশি অঞ্চল
অবস্থানপাহাড়ের চূড়াপর্বতের উপর থেকে পাদদেশউৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত
আয়তনসরুমাঝারিবিরাট
উদাহরণপশ্চিমঘাট, বিন্ধ্যগঙ্গোত্রী অঞ্চলগঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা

নদী অববাহিকার গুরুত্ব:

  1. কৃষি: অববাহিকার পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর — গাঙ্গেয় অববাহিকা ভারতের 'খাদ্য ভান্ডার'।
  2. জনবসতি: জল ও উর্বর জমির প্রাচুর্যে অববাহিকা অঞ্চল ঘনবসতিপূর্ণ।
  3. জলসম্পদ: পানীয় জল, সেচ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন।
  4. পরিবহন: নদীপথে জল পরিবহন।
  5. জীববৈচিত্র্য: মাছ, পাখি, জলজ প্রাণীর আবাসস্থল — সুন্দরবন।
6. পৃথিবীর প্রধান নদীসমূহের দৈর্ঘ্য, অবস্থান ও বিশেষত্ব টেবিল আকারে দেখাও। নদী মানবসভ্যতার জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? আলোচনা করো।

পৃথিবীর প্রধান নদীসমূহ:

নদীর নামমহাদেশদৈর্ঘ্য (কিমি)বিশেষত্ব
নীলআফ্রিকা৬,৬৫০দীর্ঘতম নদী, 'মিশরের প্রাণ'
আমাজনদ. আমেরিকা৬,৩০০জলপ্রবাহে বৃহত্তম, বৃহত্তম অববাহিকা
ইয়াংসি কিয়াংএশিয়া৫,৫৩০এশিয়ার দীর্ঘতম, থ্রি গর্জেস ড্যাম
মিসিসিপি-মিসৌরিউ. আমেরিকা৪,০৯০উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম
ভলগাইউরোপ৩,৭০০ইউরোপের দীর্ঘতম নদী

নদী মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?

  1. প্রাচীন সভ্যতা: নীল, সিন্ধু, ইউফ্রেটিস-টাইগ্রিস নদীর তীরে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল — জল, খাদ্য ও পরিবহনের সুবিধায়।
  2. কৃষি: নদীর পলি উর্বর জমি সৃষ্টি করে — গাঙ্গেয় সমভূমি ভারতের কৃষি উৎপাদনের কেন্দ্র।
  3. পানীয় জল: নদীই বেশিরভাগ শহরের পানীয় জলের উৎস।
  4. শিল্প ও জলবিদ্যুৎ: কলকারখানার জল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নদী অপরিহার্য।
  5. পরিবহন: সস্তা জল পরিবহন ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়ক।
  6. ধর্ম ও সংস্কৃতি: গঙ্গা, যমুনা ভারতীয় ধর্ম ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ — গঙ্গাস্নান, কুম্ভমেলা।

মনে রেখো!

নদীর ৩টি কাজ: ক্ষয় (Erosion) • বহন (Transportation) • সঞ্চয় (Deposition) | উচ্চপ্রবাহ: ঢাল বেশি → শক্তি বেশি → ক্ষয় → গিরিখাত, জলপ্রপাত | মধ্যপ্রবাহ: ঢাল কম → বহন ও সঞ্চয় → মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ | নিম্নপ্রবাহ: ঢাল খুব কম → সঞ্চয় → বদ্বীপ | পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী: নীল (৬,৬৫০ কিমি) | বৃহত্তম অববাহিকা: আমাজন

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - নদী ও জলবায়ু অঞ্চল

উচ্চপ্রবাহে ভূমির ঢাল বেশি → নদীর শক্তি বেশি → প্রধান কাজ ক্ষয় (গিরিখাত, জলপ্রপাত)। মধ্যপ্রবাহে ঢাল কম → শক্তি কম → প্রধান কাজ বহন ও সঞ্চয় (মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ)। নিম্নপ্রবাহে ঢাল অতি কম → গতি ধীর → প্রধান কাজ সঞ্চয় (বদ্বীপ, চড়া, দ্বীপ)। গঙ্গার উচ্চপ্রবাহ গোমুখ-হরিদ্বার, মধ্যপ্রবাহ হরিদ্বার-মিঠিপুর, নিম্নপ্রবাহ মিঠিপুর-বঙ্গোপসাগর।

নিম্নপ্রবাহে নদীর গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে যায় এবং বহন ক্ষমতা কমে যায়। মোহনার কাছে এসে নদী বয়ে আনা পলি, বালি, নুড়ি জমিয়ে ত্রিকোণা (Δ) আকৃতির ভূমি সৃষ্টি করে — একেই বদ্বীপ বলে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ (সুন্দরবন)। অন্যান্য বদ্বীপ: নীলনদের বদ্বীপ, মিসিসিপি বদ্বীপ।

পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী: আফ্রিকার নীল নদ (Nile) — দৈর্ঘ্য ৬,৬৫০ কিমি। দ্বিতীয়: আমাজন (৬,৩০০ কিমি), তৃতীয়: ইয়াংসি কিয়াং (৫,৫৩০ কিমি)। গঙ্গা নদীর উৎস: উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ — সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৯০০ মিটার উচ্চতায়। গঙ্গার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৫২৫ কিমি এবং মোহনা বঙ্গোপসাগরে।

উপনদী (Tributary): যে নদী অন্য একটি মূল নদীতে এসে মেশে — যেমন যমুনা, গোমতী, কোশী গঙ্গার উপনদী। উপনদী মূল নদীতে জল ও পলি যোগ করে। শাখানদী (Distributary): মূল নদী থেকে যে নদী শাখা হিসেবে বেরিয়ে যায় — যেমন ভাগীরথী-হুগলী গঙ্গার শাখানদী। শাখানদী মূল নদী থেকে জল সরিয়ে নিয়ে যায় এবং বদ্বীপ গঠনে ভূমিকা রাখে।