Chapter 2: ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 30 MCQ | 25 SAQ | 10 Broad Questions
অক্ষরেখা দ্রাঘিমারেখা নিরক্ষরেখা মূলমধ্যরেখা IST GPS IDL গ্রিড
🌐
অক্ষরেখা
নিরক্ষরেখার সমান্তরাল | ০°-৯০° উ/দ
📍
দ্রাঘিমারেখা
মেরুদ্বয় সংযোগকারী | ০°-১৮০° পূ/প
🕐
ভারতীয় সময়
IST = GMT + ৫:৩০ | ৮২°৩০' পূ
🛰️
GPS সিস্টেম
কৃত্রিম উপগ্রহ | নির্ভুল অবস্থান
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য - একনজরে
| বিষয় | অক্ষরেখা | দ্রাঘিমারেখা |
| দিক | পূর্ব-পশ্চিম | উত্তর-দক্ষিণ |
| আকৃতি | পূর্ণবৃত্ত | অর্ধবৃত্ত |
| সূচনা | নিরক্ষরেখা (০°) | মূলমধ্যরেখা / গ্রিনিচ (০°) |
| পরিধি | মেরুতে ক্রমশ কমে | সর্বত্র সমান |
| মোট সংখ্যা | ১৮০টি | ৩৬০টি |
| তাৎপর্য | জলবায়ু নির্ধারণ | সময় নির্ধারণ |
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)
30 টি
1. নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে কল্পিত রেখাগুলোকে কী বলে?
ক) ক) দ্রাঘিমারেখা
খ) খ) অক্ষরেখা
গ) গ) মূলমধ্যরেখা
ঘ) ঘ) তারিখ রেখা
ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিম দিকে প্রসারিত পূর্ণবৃত্তাকার রেখাগুলোকে অক্ষরেখা (Parallels of Latitude) বলে। এগুলো ০° নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত।
2. উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কল্পিত রেখাগুলোকে কী বলে?
ক) ক) অক্ষরেখা
খ) খ) দ্রাঘিমারেখা
গ) গ) নিরক্ষরেখা
ঘ) ঘ) ক্রান্তিরেখা
ব্যাখ্যা: উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কল্পিত অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলোকে দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude) বলে। এগুলো মেরুতে মিলিত হয় এবং প্রতিটি পূর্ণবৃত্ত ৩৬০°।
3. নিরক্ষরেখার মান কত ডিগ্রি?
ক) ক) ৯০°
খ) খ) ২৩.৫°
গ) গ) ০°
ঘ) ঘ) ৬৬.৫°
ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার (Equator) মান ০°। এটি পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করেছে। দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে অবস্থিত এবং এটি বৃহত্তম অক্ষরেখা।
4. উত্তর মেরুর অক্ষাংশ কত?
ক) ক) ০°
খ) খ) ২৩.৫°
গ) গ) ৬৬.৫°
ঘ) ঘ) ৯০°
ব্যাখ্যা: উত্তর মেরুর অক্ষাংশ ৯০° উত্তর। দক্ষিণ মেরুর অক্ষাংশ ৯০° দক্ষিণ। নিরক্ষরেখা থেকে মেরু পর্যন্ত অক্ষাংশ ০° থেকে ৯০° পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং অক্ষরেখাগুলো ক্রমশ ছোট হতে থাকে।
5. পৃথিবীর কেন্দ্রে নিরক্ষরেখা ও কোনো স্থানের সাথে যে কোণ তৈরি হয় তাকে কী বলে?
ক) ক) দ্রাঘিমাংশ
খ) খ) অক্ষাংশ
গ) গ) প্রতিসরাঙ্ক
ঘ) ঘ) উন্নতি কোণ
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখা বরাবর সরলরেখা এবং কোনো স্থান থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সরলরেখার মধ্যবর্তী কোণকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ (Latitude) বলে। একই অক্ষাংশের স্থানগুলোকে জুড়ে যে রেখা পাওয়া যায় তাই অক্ষরেখা।
6. মূলমধ্যরেখা কত ডিগ্রি দ্রাঘিমায় অবস্থিত?
ক) ক) ৯০°
খ) খ) ১৮০°
গ) গ) ০°
ঘ) ঘ) ৮২°৩০'
ব্যাখ্যা: ০° দ্রাঘিমারেখাকে মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian) বলে। এটি ইংল্যান্ডের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে গেছে। এর পূর্বের রেখাগুলো পূর্ব দ্রাঘিমা (০°-১৮০° পূ) এবং পশ্চিমেরগুলো পশ্চিম দ্রাঘিমা (০°-১৮০° প)।
7. একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত স্থানগুলোতে কী একই হয়?
ক) ক) অক্ষাংশ
খ) খ) স্থানীয় সময়
গ) গ) জলবায়ু
ঘ) ঘ) তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা: একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত সমস্ত স্থানের স্থানীয় সময় (Local Time) একই হয়। কারণ সূর্য একই সময়ে সেই দ্রাঘিমারেখার উপর লম্বভাবে থাকে। অক্ষরেখা বরাবর সময় পরিবর্তিত হয়।
8. ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা (Standard Meridian) কত?
ক) ক) ৮২°৩০' পূ
খ) খ) ৮২°৩০' প
গ) গ) ০°
ঘ) ঘ) ৯০° পূ
ব্যাখ্যা: ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা ৮২°৩০' পূর্ব। এলাহাবাদের (প্রয়াগরাজ) উপর দিয়ে এই রেখা গেছে। এই দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সারা ভারতের প্রমাণ সময় (IST) ধরা হয়। IST = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
9. IST ও GMT-এর মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
ক) ক) ৪ ঘণ্টা
খ) খ) ৫ ঘণ্টা
গ) গ) ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
ঘ) ঘ) ৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা: IST (Indian Standard Time) = GMT (Greenwich Mean Time) + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ভারত গ্রিনিচের পূর্বে ৮২°৩০' দ্রাঘিমায় অবস্থিত। প্রতি ১৫°-এ ১ ঘণ্টা হিসেবে ৮২.৫° ÷ ১৫ = ৫.৫ ঘণ্টা।
10. পৃথিবী ১° আবর্তন করতে কত সময় নেয়?
ক) ক) ১ মিনিট
খ) খ) ৪ মিনিট
গ) গ) ১৫ মিনিট
ঘ) ঘ) ৬০ মিনিট
ব্যাখ্যা: পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° আবর্তন করে। তাই ১° ঘুরতে সময় লাগে: ২৪×৬০ ÷ ৩৬০ = ৪ মিনিট। অর্থাৎ প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট। পূর্ব দিকে গেলে সময় বাড়ে, পশ্চিমে গেলে কমে।
11. পৃথিবী ১ ঘণ্টায় কত ডিগ্রি আবর্তন করে?
ক) ক) ১°
খ) খ) ৪°
গ) গ) ১৫°
ঘ) ঘ) ৩০°
ব্যাখ্যা: পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° ঘুরলে, ১ ঘণ্টায় ঘোরে ৩৬০° ÷ ২৪ = ১৫°। এই কারণেই প্রতি ১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ১ ঘণ্টা। বিশ্বের সময় অঞ্চলগুলো ১৫° অন্তর নির্ধারিত।
12. মূলমধ্যরেখা থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কীরূপ হয়?
ক) ক) সময় এগিয়ে যায়
খ) খ) সময় পিছিয়ে যায়
গ) গ) সময় এক থাকে
ঘ) ঘ) সময় বন্ধ হয়ে যায়
ব্যাখ্যা: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে বলে সূর্য প্রথমে পূর্ব দিকে ওঠে। মূলমধ্যরেখা থেকে পশ্চিমে গেলে সূর্যোদয় পরে হয় — তাই সময় পিছিয়ে যায়। পূর্ব দিকে গেলে সময় এগিয়ে যায়।
13. ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
ক) ক) ৩০ মিনিট
খ) খ) ১ ঘণ্টা
গ) গ) ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
ঘ) ঘ) ২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা: ভারতের পূর্ব সীমান্ত (প্রায় ৯৭° পূ) ও পশ্চিম সীমান্তের (প্রায় ৬৮° পূ) মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য প্রায় ২৯°। সময়ের পার্থক্য = ২৯ × ৪ = ১১৬ মিনিট ≈ ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। এই অসুবিধা দূর করতে IST চালু হয়েছে।
14. নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে অক্ষরেখাগুলোর কী পরিবর্তন হয়?
ক) ক) বড় হতে থাকে
খ) খ) ছোট হতে থাকে
গ) গ) একই থাকে
ঘ) ঘ) অদৃশ্য হয়
ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখা হল বৃহত্তম অক্ষরেখা (প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি পরিধি)। নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে গেলে অক্ষরেখাগুলোর পরিধি ক্রমশ ছোট হতে থাকে। ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে তা একটি বিন্দুতে পরিণত হয়।
15. দুটি দ্রাঘিমারেখার মধ্যে দূরত্ব কোথায় সবচেয়ে বেশি?
ক) ক) মেরুতে
খ) খ) নিরক্ষরেখায়
গ) গ) কর্কটক্রান্তিতে
ঘ) ঘ) সুমেরু বৃত্তে
ব্যাখ্যা: দ্রাঘিমারেখাগুলো মেরুতে মিলিত হয়। তাই দ্রাঘিমারেখার মধ্যবর্তী দূরত্ব নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১১১ কিমি প্রতি ১° অন্তর) এবং মেরুর দিকে ক্রমশ কমতে থাকে। মেরুতে এই দূরত্ব শূন্য হয়।
16. GPS-এর পূর্ণরূপ কী?
ক) ক) Global Positioning System
খ) খ) Geographic Point System
গ) গ) General Place Service
ঘ) ঘ) Grid Parallel System
ব্যাখ্যা: GPS-এর পূর্ণরূপ Global Positioning System (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)। এটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করে। জাহাজ, বিমান, মোবাইল ফোনে GPS ব্যবহৃত হয়।
17. কোন শহরের উপর দিয়ে মূলমধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমা) গেছে?
ক) ক) প্যারিস
খ) খ) গ্রিনিচ (লন্ডন)
গ) গ) নিউ ইয়র্ক
ঘ) ঘ) টোকিও
ব্যাখ্যা: ইংল্যান্ডের লন্ডনের কাছে গ্রিনিচের রাজকীয় মানমন্দিরের উপর দিয়ে ০° দ্রাঘিমারেখা বা মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian) গেছে। এখানে একটি ধাতুর দণ্ড রাখা আছে যা এই রেখা চিহ্নিত করে। পর্যটকরা দুই পা দুই গোলার্ধে রেখে ছবি তোলে।
18. ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখাকে কী বলে?
ক) ক) মূলমধ্যরেখা
খ) খ) আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
গ) গ) প্রমাণ দ্রাঘিমা
ঘ) ঘ) নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা: ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা একটিই রেখা — একে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line) বলে। এই রেখা অতিক্রম করলে তারিখ পরিবর্তিত হয়। পূর্ব থেকে পশ্চিমে গেলে ১ দিন বিয়োগ, পশ্চিম থেকে পূর্বে গেলে ১ দিন যোগ হয়।
19. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা মিলে পৃথিবীর উপর কী সৃষ্টি করে?
ক) ক) বৃত্ত
খ) খ) জালিকা বা গ্রিড
গ) গ) ত্রিভুজ
ঘ) ঘ) উপবৃত্ত
ব্যাখ্যা: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে পৃথিবীপৃষ্ঠে এক ধরনের জালিকা বা গ্রিড (Grid) সৃষ্টি করে। এই গ্রিডের সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়।
20. কলকাতার অক্ষাংশ কত?
ক) ক) ২০°৩৪' উ
খ) খ) ২৩°৩০' উ
গ) গ) ২৮°৩৪' উ
ঘ) ঘ) ২২°৩৪' উ
ব্যাখ্যা: কলকাতা ২০°৩৪' উত্তর অক্ষরেখার উপর অবস্থিত। অক্ষাংশ জানা থাকলে বোঝা যায় স্থানটি নিরক্ষরেখা থেকে কতটা উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত।
21. পৃথিবীতে মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা কত?
ক) ক) ১৮০
খ) খ) ৩৬০
গ) গ) ১৭৯
ঘ) ঘ) ৯০
ব্যাখ্যা: পৃথিবীতে মোট ৩৬০টি দ্রাঘিমারেখা আছে — ১৭৯টি পূর্ব, ১৭৯টি পশ্চিম, ১টি মূলমধ্যরেখা (০°) এবং ১টি ১৮০° রেখা (পূর্ব ও পশ্চিম একত্রে)। প্রতি ১° অন্তর একটি করে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়েছে।
22. অক্ষরেখার মান কোথা থেকে মাপা শুরু হয়?
ক) ক) মূলমধ্যরেখা
খ) খ) নিরক্ষরেখা
গ) গ) উত্তর মেরু
ঘ) ঘ) দক্ষিণ মেরু
ব্যাখ্যা: অক্ষরেখার মান নিরক্ষরেখা (০°) থেকে মাপা শুরু হয় এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে ৯০° পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ০° থেকে ৯০° উ ও ০° থেকে ৯০° দ — মোট ১৮০টি অক্ষরেখা কল্পনা করা হয়েছে।
23. যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অবস্থিত মানমন্দিরটির নাম কী?
ক) ক) গ্রিনিচ মানমন্দির
খ) খ) প্যারিস মানমন্দির
গ) গ) মাউন্ট উইলসন
ঘ) ঘ) আরেসিবো
ব্যাখ্যা: লন্ডনের গ্রিনিচে অবস্থিত রয়াল অবজারভেটরি (Royal Observatory, Greenwich) বিখ্যাত। এর উপর দিয়ে ০° দ্রাঘিমারেখা বা মূলমধ্যরেখা গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে এখান থেকে সময় (GMT) গণনা করা হয়।
24. একটি অক্ষরেখা ও একটি দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে কী কোণে ছেদ করে?
ক) ক) ৪৫°
খ) খ) ৬০°
গ) গ) ৯০° (সমকোণ)
ঘ) ঘ) ১৮০°
ব্যাখ্যা: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে ৯০° বা সমকোণে (Right Angle) ছেদ করে। নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখা বাদে অধিকাংশ ছেদ বিন্দুতে এই নিয়ম প্রযোজ্য। এই জ্যামিতিক সম্পর্ক মানচিত্র ও অবস্থান নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
25. লন্ডনে যখন বিকেল ৫টা, তখন ভারতে কয়টা বাজে?
ক) ক) সকাল ১০টা
খ) খ) দুপুর ১২টা
গ) গ) রাত ১০টা ৩০ মিনিট
ঘ) ঘ) রাত ১১টা
ব্যাখ্যা: IST = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। লন্ডনে GMT অনুযায়ী বিকেল ৫টা = ১৭:০০ ঘণ্টা। ভারতে সময় = ১৭:০০ + ৫:৩০ = ২২:৩০ = রাত ১০টা ৩০ মিনিট। তাই লন্ডনের সন্ধ্যার অনুষ্ঠান ভারতে রাতে দেখা যায়।
26. প্রতি ১° অক্ষরেখাকে কীভাবে ভাগ করা হয়েছে?
ক) ক) ৬০' (মিনিট) ও ৬০'' (সেকেন্ড)
খ) খ) ১০০ ভাগ
গ) গ) ২৪ ভাগ
ঘ) ঘ) ৩৬০ ভাগ
ব্যাখ্যা: প্রতি ১° অক্ষরেখা বা দ্রাঘিমারেখাকে ৬০ ভাগে ভাগ করা হয়েছে — প্রতি ভাগকে বলে ১ মিনিট (')। আবার প্রতি ১ মিনিটকে ৬০ ভাগ করলে পাওয়া যায় ১ সেকেন্ড ('')। এটি সময়ের মিনিট-সেকেন্ড নয়, কৌণিক পরিমাপ।
27. একই অক্ষাংশে অবস্থিত স্থানগুলোর কী একই হয়?
ক) ক) সময়
খ) খ) জলবায়ুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য
গ) গ) দিনের দৈর্ঘ্য (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)
ঘ) ঘ) ঋতু
ব্যাখ্যা: একই অক্ষরেখায় অবস্থিত স্থানগুলোতে সূর্যের লম্বরশ্মি প্রায় একই কোণে পড়ে, ফলে জলবায়ুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যও কাছাকাছি থাকে। কিন্তু একই অক্ষাংশে সময় ভিন্ন হয়।
28. কর্কটক্রান্তি রেখার অক্ষাংশ কত?
ক) ক) ০°
খ) খ) ২৩.৫° উ
গ) গ) ৬৬.৫° দ
ঘ) ঘ) ৯০° উ
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। এটি সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ সীমা। ভারতের মধ্যভাগ দিয়ে এই রেখা গেছে। ২১ জুন সূর্যের লম্বরশ্মি এই রেখার উপর পড়ে।
29. স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়ের মধ্যে পার্থক্য কেন হয়?
ক) ক) ঋতু পরিবর্তনের জন্য
খ) খ) দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য
গ) গ) অক্ষাংশের পার্থক্যের জন্য
ঘ) ঘ) উচ্চতার পার্থক্যের জন্য
ব্যাখ্যা: পৃথিবী প্রতি ৪ মিনিটে ১° দ্রাঘিমা অতিক্রম করে। তাই ভিন্ন দ্রাঘিমায় স্থানীয় সময় ভিন্ন হয়। কিন্তু একটি দেশে একাধিক স্থানীয় সময় অসুবিধাজনক, তাই একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে প্রমাণ সময় ধরা হয়।
30. কোন স্থানকে ০° অক্ষাংশ ও ০° দ্রাঘিমাংশ বলা যায়?
ক) ক) উত্তর মেরু
খ) খ) গ্রিনিচ
গ) গ) নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখার ছেদ বিন্দু (গিনি উপসাগর)
ঘ) ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা: যে বিন্দুতে নিরক্ষরেখা (০° অক্ষাংশ) ও মূলমধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমাংশ) পরস্পরকে ছেদ করে, তা পশ্চিম আফ্রিকার গিনি উপসাগরে (আটলান্টিক মহাসাগর) অবস্থিত। এটি ০° উত্তর ও ০° পূর্ব/পশ্চিম — একটি অনন্য ভৌগোলিক বিন্দু।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)
25 টি
1. অক্ষরেখা কাকে বলে?
অক্ষরেখা (Parallels of Latitude): নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত পূর্ণবৃত্তাকার কল্পিত রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বলে। নিরক্ষরেখার মান ০°, মেরু পর্যন্ত ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ। নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে এগুলোর পরিধি ক্রমশ কমতে থাকে। কোনো স্থানের অক্ষাংশ = কেন্দ্রে নিরক্ষরেখা ও ঐ স্থানের মধ্যে উৎপন্ন কোণ।
2. দ্রাঘিমারেখা কাকে বলে?
দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude): উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কল্পিত অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলোকে দ্রাঘিমারেখা বলে। মোট ৩৬০টি (১৭৯ পূ + ১৭৯ প + ০° + ১৮০°)। মূলমধ্যরেখা (০°) থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমাংশ বলে। একই দ্রাঘিমায় স্থানীয় সময় এক হয়।
3. অক্ষাংশ কাকে বলে? কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
অক্ষাংশ (Latitude): পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখা বরাবর সরলরেখা এবং কোনো স্থান থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সরলরেখার মধ্যবর্তী কোণকে ঐ স্থানের অক্ষাংশ বলে। উদাহরণ: কলকাতার অক্ষাংশ ২২°৩৪' উ — অর্থাৎ কেন্দ্রে নিরক্ষরেখার সাথে ২২°৩৪' কোণ উৎপন্ন হয়। একই অক্ষাংশের বিন্দুগুলোকে জুড়লে অক্ষরেখা পাওয়া যায়।
4. দ্রাঘিমাংশ কাকে বলে?
দ্রাঘিমাংশ (Longitude): পৃথিবীর কেন্দ্রে মূলমধ্যরেখা (০°) এবং কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখার মধ্যবর্তী কোণকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমাংশ বলে। মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্বে হলে 'পূ' (E) এবং পশ্চিমে হলে 'প' (W) লেখা হয়। মান ০° থেকে ১৮০° পর্যন্ত। কলকাতার দ্রাঘিমাংশ ৮৮°২২' পূ।
5. মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian) কী?
মূলমধ্যরেখা: ইংল্যান্ডের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে যাওয়া ০° দ্রাঘিমারেখাই মূলমধ্যরেখা। আন্তর্জাতিকভাবে এটিকে প্রমাণ দ্রাঘিমা ধরা হয়। এর ভিত্তিতে GMT (Greenwich Mean Time) নির্ধারিত। পূর্বে ১° থেকে ১৭৯° পর্যন্ত পূর্ব দ্রাঘিমা এবং পশ্চিমে পশ্চিম দ্রাঘিমা গণনা করা হয়। ১৮৮৪ সালে আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে এটি গৃহীত হয়।
6. নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা কাকে বলে?
নিরক্ষরেখা (Equator): পৃথিবীর দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে, পৃথিবীর মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত কাল্পনিক রেখা। এটি ০° অক্ষাংশ। বৃহত্তম অক্ষরেখা (পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি)। পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে। ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্যের লম্বরশ্মি নিরক্ষরেখার উপর পড়ে — তখন দিন-রাত্রি সমান।
7. গ্রিড বা জালিকা কী?
গ্রিড (Grid): অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে সমকোণে ছেদ করে পৃথিবীপৃষ্ঠে এক ধরণের জাল বা জালিকা তৈরি করে — একেই গ্রিড বলে। এই গ্রিড ব্যবস্থার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের নির্ভুল অবস্থান অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায়। এটি একটি আন্তর্জাতিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা।
8. স্থানীয় সময় (Local Time) কাকে বলে?
স্থানীয় সময়: কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর (সর্বোচ্চ বিন্দুতে) আসে তখন সেখানে দুপুর ১২টা ধরে যে সময় গণনা করা হয়, তাকে স্থানীয় সময় বলে। একই দ্রাঘিমারেখার সকল স্থানের স্থানীয় সময় এক। দ্রাঘিমা পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থানীয় সময়ও পরিবর্তিত হয় — প্রতি ১° দ্রাঘিমায় ৪ মিনিট।
9. প্রমাণ সময় (Standard Time) কী? ভারতের প্রমাণ সময় কী?
প্রমাণ সময়: একটি দেশের বিভিন্ন দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়ের ভিন্নতার অসুবিধা দূর করার জন্য একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সমগ্র দেশের প্রমাণ সময় ধরা হয়। ভারতের প্রমাণ সময় (IST): ৮২°৩০' পূর্ব দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়। এলাহাবাদের কাছে এই রেখা যায়। IST = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ভারতের পূর্ব-পশ্চিমে সময়ের পার্থক্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
10. IST ও GMT-এর সম্পর্ক কী?
IST (Indian Standard Time) হল ভারতের প্রমাণ সময় যা ৮২°৩০' পূর্ব দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়। GMT (Greenwich Mean Time) হল ০° দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়। ভারত গ্রিনিচের পূর্বে — তাই IST = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অর্থাৎ গ্রিনিচে যখন সকাল ৬টা, ভারতে তখন সকাল ১১টা ৩০ মিনিট। গ্রিনিচে যখন দুপুর ১২টা, ভারতে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট।
11. সময় অঞ্চল (Time Zone) কীভাবে নির্ধারিত হয়?
পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° আবর্তন করে → ১ ঘণ্টায় ১৫°। তাই প্রতি ১৫° দ্রাঘিমা অন্তর এক একটি সময় অঞ্চল (Time Zone) নির্ধারিত। প্রতিটি অঞ্চলের সময় পার্থক্য ১ ঘণ্টা। সারা বিশ্বে ২৪টি সময় অঞ্চল আছে। দেশের আকার ও ভৌগোলিক সুবিধা অনুযায়ী কিছু দেশ একাধিক সময় অঞ্চল ব্যবহার করে (যেমন USA-তে ৪টি, রাশিয়ায় ১১টি)।
12. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL) কী?
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line): ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা একই রেখা — একেই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে এটি গেছে। পূর্ব থেকে পশ্চিমে IDL অতিক্রম করলে ১ দিন বিয়োগ করতে হয়, পশ্চিম থেকে পূর্বে গেলে ১ দিন যোগ হয়। ফিলিপাইন থেকে মেক্সিকো যেতে তারিখ ১ দিন পিছিয়ে যাবে।
13. GPS কী? এর ব্যবহার কী?
GPS (Global Positioning System): কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ভুলভাবে নির্ণয়ের একটি আধুনিক প্রযুক্তি। ব্যবহার: (১) জাহাজ ও বিমানের নেভিগেশন, (২) গাড়ির নেভিগেশন সিস্টেম, (৩) মোবাইল ম্যাপিং ও লোকেশন ট্র্যাকিং, (৪) ভূমি জরিপ ও মানচিত্রণ, (৫) দুর্যোগকালে উদ্ধারকাজে অবস্থান নির্ণয়।
14. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
পার্থক্য: (১) অক্ষরেখা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত পূর্ণবৃত্ত, দ্রাঘিমারেখা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত অর্ধবৃত্ত। (২) অক্ষরেখা পরস্পরের সমান্তরাল, দ্রাঘিমারেখা মেরুতে মিলিত হয়। (৩) অক্ষরেখার পরিধি নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে কমে, দ্রাঘিমারেখার পরিধি সব জায়গায় সমান (প্রায় ২০,০৩৭ কিমি)। (৪) অক্ষরেখা থেকে স্থানের তাপমাত্রা-জলবায়ু বোঝা যায়, দ্রাঘিমারেখা থেকে স্থানীয় সময় বোঝা যায়।
15. নিরক্ষরেখা ও মেরুতে দ্রাঘিমারেখার মধ্যবর্তী দূরত্ব কেমন?
দ্রাঘিমারেখাগুলো ধনুকের মতো মেরুতে মিলিত হয়। তাই দুটি দ্রাঘিমারেখার মধ্যে দূরত্ব: নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি — প্রতি ১° অন্তরে প্রায় ১১১ কিমি। মেরুর দিকে এই দূরত্ব ক্রমশ কমতে থাকে। ৪৫° অক্ষাংশে তা প্রায় ৭৯ কিমি। ৯০° মেরুতে গিয়ে সব দ্রাঘিমারেখা এক বিন্দুতে মিলিত হওয়ায় মধ্যবর্তী দূরত্ব শূন্য হয়। অক্ষরেখার ক্ষেত্রে পরিধিই ক্রমশ কমে।
16. কৌণিক পরিমাপে ডিগ্রি, মিনিট, সেকেন্ড কীভাবে ব্যবহৃত হয়?
অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ কৌণিক পরিমাপে (Degree) প্রকাশিত: (১) ১° (ডিগ্রি) = ৬০' (মিনিট), (২) ১' (মিনিট) = ৬০'' (সেকেন্ড)। এটি সময়ের মিনিট-সেকেন্ড নয়, কৌণিক একক। যেমন কলকাতা: ২২°৩৪' উ, ৮৮°২২' পূ। ১° অক্ষরেখার পার্থক্যে ভূপৃষ্ঠে দূরত্ব ≈ ১১১ কিমি, ১' ≈ ১.৮৫ কিমি, ১'' ≈ ৩১ মিটার। সমুদ্র ও বিমান চালনায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
17. ভারতে একাধিক স্থানীয় সময় ব্যবহার করা হলে কী অসুবিধা হতো?
ভারতের পূর্ব-পশ্চিম বিস্তৃতিতে প্রায় ২৯° দ্রাঘিমার পার্থক্য → সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের পার্থক্য। একাধিক স্থানীয় সময় থাকলে: (১) রেলওয়ে ও বিমানের সময়সূচি প্রণয়ন কঠিন হতো, (২) রেডিও-TV সম্প্রচারে জটিলতা, (৩) আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ও বাণিজ্যে সমস্যা, (৪) সরকারি অফিসের সময় নির্ধারণে অসুবিধা। এই কারণেই ৮২°৩০' পূ দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে IST হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
18. ০° অক্ষাংশ ও ০° দ্রাঘিমাংশ কোথায় ছেদ করেছে?
নিরক্ষরেখা (০° অক্ষাংশ) ও মূলমধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমাংশ) পশ্চিম আফ্রিকার গিনি উপসাগরে (Gulf of Guinea) আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে পরস্পরকে ছেদ করে। স্থানাঙ্ক: ০° N, ০° E/W — এটি একটি বিশেষ ভৌগোলিক বিন্দু যাকে 'নাল আইল্যান্ড' (Null Island) নামে ডাকা হয়। ডিজিটাল ম্যাপিং ত্রুটি নির্ণয়ে এই স্থানাঙ্ক ব্যবহৃত হয়।
19. পৃথিবীতে মোট অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা কত?
অক্ষরেখা: নিরক্ষরেখা থেকে ১° অন্তর উত্তর ও দক্ষিণে মোট ১৮০টি অক্ষরেখা (৯০টি উত্তর + ৯০টি দক্ষিণ, ০° নিরক্ষরেখা ধরে)। দ্রাঘিমারেখা: মূলমধ্যরেখা ও ১৮০° রেখাসহ মোট ৩৬০টি দ্রাঘিমারেখা (১৭৯টি পূর্ব + ১৭৯টি পশ্চিম + ০° + ১৮০°)। ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম একটিই রেখা। ১° অন্তর কল্পনা করলে মোট সম্ভাব্য অক্ষরেখা ১৭৯ + ১৭৯ + ১ = ৩৫৯টি (মেরুবিন্দু বাদে)।
20. গ্রিনিচ মানমন্দিরের গুরুত্ব কী?
গ্রিনিচ মানমন্দির (Royal Observatory, Greenwich, London) আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ: (১) এর উপর ০° দ্রাঘিমারেখা নির্ধারিত হয়েছে (আন্তর্জাতিক চুক্তি, ১৮৮৪), (২) GMT (Greenwich Mean Time) এখান থেকে গণনা করা হয় — যা বিশ্বের প্রমাণ সময়ের ভিত্তি, (৩) দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ের সূচনাবিন্দু, (৪) জ্যোতির্বিজ্ঞান ও নৌ চলাচলের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন এটি একটি জাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র।
21. সূর্য ও ঘড়ির সাহায্যে কীভাবে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়?
পদ্ধতি: (১) একটি ঘড়ি GMT সময়ে সেট করুন, (২) যেকোনো স্থানে সূর্যের অবস্থান দেখে স্থানীয় দুপুর ১২টা নির্ণয় করুন (যখন ছায়া সবচেয়ে ছোট), (৩) ঐ স্থানের স্থানীয় দুপুর ও GMT-র পার্থক্য বের করুন, (৪) প্রতি ৪ মিনিট = ১° হিসাবে দ্রাঘিমা নির্ণয়। GMT থেকে স্থানীয় সময় আগে → পূর্ব দ্রাঘিমা, GMT থেকে পিছে → পশ্চিম দ্রাঘিমা। প্রাচীন নাবিকরা এভাবেই দ্রাঘিমা নির্ণয় করতেন।
22. ৮২°৩০' দ্রাঘিমাকে ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা কেন বেছে নেওয়া হয়েছে?
কারণ: (১) ৮২°৩০' পূর্ব দ্রাঘিমা ভারতের আনুমানিক মধ্যভাগ দিয়ে গেছে (এলাহাবাদ/প্রয়াগরাজ), (২) ভারতের সর্ব-পূর্ব ও সর্ব-পশ্চিম বিন্দুর সময়ের পার্থক্যের মাঝামাঝি, (৩) দেশের সর্বোচ্চ জনসংখ্যা অঞ্চলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, (৪) ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট — একটি পূর্ণ সংখ্যার অর্ধেক (GMT থেকে সহজে গণনা করা যায়), (৫) স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে IST-র জন্য গৃহীত হয়।
23. জাহাজে বা বিমানে অবস্থান নির্ণয়ে দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশ কেন জরুরি?
মহাসাগর বা আকাশে কোনো স্থায়ী চিহ্ন নেই। তাই: (১) GPS ও সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের মাধ্যমে জাহাজের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করে সঠিক অবস্থান বোঝা সম্ভব হয়, (২) গন্তব্যের অবস্থানের সাথে বর্তমান অবস্থানের তুলনা করে দিক ও দূরত্ব নির্ধারণ করা যায়, (৩) নিরাপদ নৌ চলাচল ও বিমান চলাচলের জন্য নির্ভুল নেভিগেশন অত্যাবশ্যকীয়, (৪) আধুনিক স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন সিস্টেমও এই স্থানাঙ্কের উপর ভিত্তি করেই কাজ করে।
24. প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বাঁকা করে নেওয়ার কারণ কী?
কারণ: যদি সরল ১৮০° রেখা ধরা হতো, তাহলে এটি কিছু দ্বীপদেশের উপর দিয়ে যেত — ফলে একই দেশের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন তারিখ হতো। এই অসুবিধা দূর করতে IDL-কে কয়েকটি দ্বীপ (ফিজি, টোঙ্গা, অ্যালিউশিয়ান) থেকে বাঁকিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেমন — কিরিবাতি দেশে সব দ্বীপে একই তারিখ রাখতে IDL পূর্ব দিকে বাঁকানো হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্মতিক্রমে নির্ধারিত।
25. মানচিত্রে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা কী?
প্রয়োজনীয়তা: (১) এটি একটি সার্বজনীন স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা — বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে একই নিয়মে অবস্থান বোঝা যায়, (২) মানচিত্রে স্কেল ও দূরত্ব নির্ণয় সহজ হয়, (৩) জলবায়ু, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত বোঝায় এটি সাহায্য করে, (৪) সময় ও তারিখ নির্ধারণ, (৫) ভার্চুয়াল গ্লোব ও GIS ম্যাপিং সিস্টেম এই জালিকার উপর নির্ভরশীল। এটি ভূগোলের ভাষা হিসেবে কাজ করে।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)
10 টি
1. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা কাকে বলে? এদের বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। পৃথিবীর উপরিভাগে এরা কীভাবে গ্রিড বা জালিকা সৃষ্টি করে?
অক্ষরেখা (Parallels of Latitude)
নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিম দিকে প্রসারিত পূর্ণবৃত্তাকার কল্পিত রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বলে।
অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য:
- এরা পূর্ণবৃত্ত — প্রতিটি রেখাই পৃথিবীকে একবার বেষ্টন করে
- পরস্পরের সমান্তরাল — কখনো ছেদ করে না
- নিরক্ষরেখা (০°) বৃহত্তম, মেরুর দিকে পরিধি ক্রমশ কমে
- মোট ১৮০টি (উত্তর গোলার্ধে ৯০ + দক্ষিণে ৯০ + ০° নিরক্ষরেখা)
- মান: ০° থেকে ৯০° উত্তর ও দক্ষিণ
- ১° = ৬০' (মিনিট), ১' = ৬০'' (সেকেন্ড) — কৌণিক পরিমাপ
দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude)
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কল্পিত অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলোকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
দ্রাঘিমারেখার বৈশিষ্ট্য:
- এরা অর্ধবৃত্ত — প্রতিটি মেরুদ্বয়কে যুক্ত করে
- পরস্পর সমান্তরাল নয় — মেরুতে গিয়ে মিলিত হয়
- সকল দ্রাঘিমারেখার পরিধি সমান (প্রায় ২০,০৩৭ কিমি)
- মোট ৩৬০টি (১৭৯ পূ + ১৭৯ প + ০° + ১৮০°)
- মূলমধ্যরেখা (০°) গ্রিনিচের উপর দিয়ে
- একই দ্রাঘিমারেখায় স্থানীয় সময় এক
গ্রিড বা জালিকা:
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে সমকোণে (৯০°) ছেদ করে পৃথিবীপৃষ্ঠে গ্রিড বা জালিকা (Grid Network) তৈরি করে। এই জালিকা ব্যবস্থার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো বিন্দুর অবস্থান অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। এটি ভূগোলের সর্বজনীন ভাষা।
2. অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ কীভাবে নির্ণয় করা হয়? পৃথিবীর কেন্দ্র ও নিরক্ষরেখার সাপেক্ষে চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining Latitude)
পৃথিবীর কেন্দ্র (C) থেকে নিরক্ষরেখার দিকে একটি সরলরেখা (CR) টানা হয়। আবার ঐ কেন্দ্র (C) থেকে পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো স্থান P-এর দিকে আরেকটি সরলরেখা (CP) টানা হয়। CR ও CP-এর মধ্যবর্তী কোণই হল P স্থানের অক্ষাংশ।
উদাহরণ: যদি ∠PCR = ৪০° হয় এবং P বিন্দুটি নিরক্ষরেখার উত্তরে, তবে P-এর অক্ষাংশ = ৪০° উ। একই অক্ষাংশের সকল বিন্দুকে যুক্ত করে যে রেখা পাওয়া যায়, সেটাই ৪০° উ অক্ষরেখা।
দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় (Determining Longitude)
পৃথিবীর কেন্দ্রে মূলমধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমা) এবং কোনো স্থান P-এর দ্রাঘিমারেখার মধ্যবর্তী কোণই দ্রাঘিমাংশ।
উদাহরণ: যদি এই কোণ ৬০° হয় এবং P মূলমধ্যরেখার পশ্চিমে, তবে P-এর দ্রাঘিমাংশ = ৬০° প।
রান্নাঘরের পরীক্ষা:
- তরমুজ টুকরো করে কাটলে অক্ষাংশের ধারণা পাওয়া যায়
- আপেল বা লম্বা করে কাটলে দ্রাঘিমাংশের ধারণা পাওয়া যায় — দুটি খাড়া দেয়ালের মতো অংশ তৈরি হয়, এদের মধ্যবর্তী কোণই দ্রাঘিমাংশ
3. স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময় কাকে বলে? ভারতের প্রমাণ সময় (IST) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। কেন প্রমাণ সময় প্রয়োজন?
স্থানীয় সময় (Local Time)
কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় সূর্য যখন সর্বোচ্চ বিন্দুতে (ঠিক মাথার উপর) আসে, তখন সেখানে দুপুর ১২টা ধরে নেওয়া হয় — এই সময়ই স্থানীয় সময়।
- একই দ্রাঘিমায় সব স্থানের স্থানীয় সময় একই
- প্রতি ১° দ্রাঘিমায় ৪ মিনিটের পার্থক্য
- পূর্ব দিকে গেলে সময় বাড়ে, পশ্চিমে গেলে কমে
প্রমাণ সময় (Standard Time)
একটি দেশে ভিন্ন ভিন্ন দ্রাঘিমার জন্য বিভিন্ন স্থানীয় সময় থাকলে প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হয়। এই অসুবিধা দূর করতে একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সারা দেশের প্রমাণ সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
ভারতের প্রমাণ সময় (IST):
- প্রমাণ দ্রাঘিমা: ৮২°৩০' পূর্ব (এলাহাবাদ/প্রয়াগরাজের কাছে)
- IST = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
- ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের সময়ের পার্থক্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
- একটিই সময় অঞ্চল ব্যবহার করে ভারত
প্রমাণ সময়ের প্রয়োজনীয়তা:
- রেল ও বিমান চলাচলের সময়সূচি প্রণয়ন সহজ হয়
- সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় নির্ধারণ সহজ
- রেডিও-টেলিভিশন সম্প্রচারে সুবিধা
- দেশ-বিদেশের সময়ের সমন্বয়
4. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে পার্থক্যগুলি টেবিল আকারে লেখো। পৃথিবী আবর্তনের সাথে দ্রাঘিমারেখার সম্পর্ক আলোচনা করো।
অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য
| বিষয় | অক্ষরেখা | দ্রাঘিমারেখা |
| ১. দিক | পূর্ব-পশ্চিম | উত্তর-দক্ষিণ |
| ২. আকৃতি | পূর্ণবৃত্ত | অর্ধবৃত্ত |
| ৩. পরিধি | নিৰক্ষরেখা থেকে মেরুতে কমে | সকল স্থানে সমান |
| ৪. সমান্তরালতা | পরস্পর সমান্তরাল | মেরুতে মিলিত হয় |
| ৫. সংখ্যা | মোট ১৮০টি | মোট ৩৬০টি |
| ৬. মান | ০°-৯০° উ/দ | ০°-১৮০° পূ/প |
| ৭. নির্ণয় সূচনা | নিরক্ষরেখা (০°) | মূলমধ্যরেখা (০°) |
| ৮. তাৎপর্য | জলবায়ু ও তাপমাত্রা বোঝায় | স্থানীয় সময় বোঝায় |
| ৯. ছেদ | কখনো ছেদ করে না | মেরুতে পরস্পর ছেদ করে |
পৃথিবী আবর্তন ও দ্রাঘিমারেখা:
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° আবর্তন করে। তাই প্রতি ১৫° দ্রাঘিমা পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা। পূর্ব দ্রাঘিমায় সূর্য আগে ওঠে — তাই সময় এগিয়ে যায়। মূলমধ্যরেখায় যখন দুপুর ১২টা, ১৫° পূর্বে তখন ১টা, ১৫° পশ্চিমে তখন ১১টা। এর উপর ভিত্তি করেই বিশ্বের সময় অঞ্চল ও প্রমাণ সময় নির্ধারিত হয়েছে।
5. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL) কী? এটি কেন প্রয়োজন? IDL অতিক্রম করলে তারিখ কেন পরিবর্তিত হয়? উদাহরণ দাও।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (IDL)
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হল ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা বরাবর প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে যাওয়া একটি কাল্পনিক রেখা। ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম একই রেখা। কিছু দ্বীপদেশে তারিখের অসামঞ্জস্য দূর করতে একে বাঁকিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কেন প্রয়োজন?
পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সময় এগোয় বা পিছোয়। কোনো ব্যক্তি যদি ক্রমাগত পূর্ব দিকে ভ্রমণ করতে থাকেন, তাহলে মূলমধ্যরেখায় ফিরে আসার সময় তিনি ২৪ ঘণ্টা (১ দিন) এগিয়ে যাবেন। এই অসামঞ্জস্য দূর করতেই IDL প্রয়োজন।
তারিখ পরিবর্তনের নিয়ম:
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে IDL অতিক্রম করলে: ১ দিন বিয়োগ করতে হয় (একই দিন আবার শুরু)
- পশ্চিম থেকে পূর্বে IDL অতিক্রম করলে: ১ দিন যোগ করতে হয় (এক দিন লাফিয়ে পরের দিন)
উদাহরণ:
ফিলিপাইন (IDL-এর পশ্চিমে) থেকে মেক্সিকো (IDL-এর পূর্বে) যাওয়ার সময় IDL অতিক্রম করলে তারিখ ১ দিন পিছিয়ে যায়। ২৫ ডিসেম্বর সকালে রওনা দিয়ে পৌঁছালেন ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে!
6. GPS (Global Positioning System) কী? এটি কীভাবে কাজ করে? আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক প্রয়োগগুলি আলোচনা করো।
GPS (Global Positioning System)
GPS হল কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করার একটি আধুনিক প্রযুক্তি। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর কর্তৃক তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে ৩১টির বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ GPS ব্যবস্থায় কাজ করে।
কাজ করার নীতি:
- পৃথিবীর কক্ষপথে ২০,০০০ কিমি উপরে ২৪+ GPS উপগ্রহ অবস্থান করে
- প্রত্যেক উপগ্রহ থেকে ক্রমাগত সময় ও অবস্থানের সংকেত প্রেরিত হয়
- ভূমিতে GPS রিসিভার (মোবাইল/গাড়ি) কমপক্ষে ৪টি উপগ্রহ থেকে সংকেত গ্রহণ করে
- সংকেতের সময়ের পার্থক্য থেকে দূরত্ব নির্ণয় করে
- ট্রাইলেটারেশন (Trilateration) পদ্ধতিতে নির্ভুল অবস্থান (অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা) বের করা হয়
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার:
- নেভিগেশন: গাড়ি ও মোবাইলে ম্যাপে পথনির্দেশ (Google Maps, Ola, Uber)
- বিমান ও জাহাজ চলাচল: নিরাপদ যাত্রাপথ নির্ধারণ
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: ভূমিকম্প-বন্যার সময় উদ্ধারকাজ
- কৃষি: নির্ভুল চাষাবাদ ও ফসল পর্যবেক্ষণ
- খেলাধুলা: দৌড়, সাইক্লিং ট্র্যাকিং
- জরিপ: জমির সীমানা ও মানচিত্রণ
7. পৃথিবীর আবর্তনের সাথে দ্রাঘিমা ও সময়ের সম্পর্ক বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো। প্রতি ১৫° দ্রাঘিমায় ১ ঘণ্টা সময়ের পার্থক্য কেন হয়? উদাহরণ দাও।
পৃথিবীর আবর্তন ও সময়
পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে। এই ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবী ৩৬০° কোণ সম্পূর্ণ করে।
গণনা:
- ৩৬০° ঘুরতে সময় লাগে = ২৪ ঘণ্টা = ২৪ × ৬০ = ১,৪৪০ মিনিট
- ১° ঘুরতে সময় লাগে = ১,৪৪০ ÷ ৩৬০ = ৪ মিনিট
- ১৫° ঘুরতে সময় লাগে = ১৫ × ৪ = ৬০ মিনিট = ১ ঘণ্টা
তাই প্রতি ১৫° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ১ ঘণ্টা।
দিক ও সময়:
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরছে → পূর্ব দিকে সূর্য আগে ওঠে
- পূর্ব দিকে গেলে: সময় এগিয়ে যায় (যোগ করতে হয়)
- পশ্চিম দিকে গেলে: সময় পিছিয়ে যায় (বিয়োগ করতে হয়)
উদাহরণ:
গ্রিনিচে (০°) যখন দুপুর ১২টা: ১৫° পূর্বে (যেমন — কায়রো) সময় হবে ১টা; ১৫° পশ্চিমে (যেমন — ডাকার) সময় হবে সকাল ১১টা। ভারত ৮২°৩০' পূর্বে → সময় = GMT + ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তাই গ্রিনিচে দুপুর ১২টা → ভারতে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট।
8. নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখার গুরুত্ব বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো। এগুলি কীভাবে ভূপৃষ্ঠে অবস্থান নির্ণয়ে প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে?
নিরক্ষরেখা (Equator)
গুরুত্ব:
- এটি ০° অক্ষাংশ — অক্ষাংশ পরিমাপের সূচনাবিন্দু
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে
- বৃহত্তম অক্ষরেখা — পরিধি প্রায় ৪০,০৭৫ কিমি
- এখানে সারা বছর দিন-রাত্রি প্রায় ১২ ঘণ্টা করে
- সূর্যের লম্বরশ্মি ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর এখানে পড়ে (বিষুব)
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য নির্ধারণ করে
মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian)
গুরুত্ব:
- এটি ০° দ্রাঘিমা — দ্রাঘিমা পরিমাপের সূচনাবিন্দু
- পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করে
- ইংল্যান্ডের গ্রিনিচের উপর দিয়ে যায় (আন্তর্জাতিক চুক্তি, ১৮৮৪)
- GMT (Greenwich Mean Time) নির্ধারণের ভিত্তি
- সময় গণনা ও সময় অঞ্চলের প্রাথমিক সূচনা
- আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বিমান চলাচলের জন্য অপরিহার্য
অবস্থান নির্ণয়ে ভূমিকা:
নিরক্ষরেখা ও মূলমধ্যরেখা পরস্পরকে ছেদ করে পশ্চিম আফ্রিকার গিনি উপসাগরে। এদের সাপেক্ষেই পৃথিবীর সকল স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ণীত হয়। এই দুই রেখার সাহায্যে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রিড ব্যবস্থা (Geographic Coordinate System) তৈরি হয় যা পৃথিবীর যেকোনো বিন্দুর অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ণয় করে। যেমন — কলকাতা: ২২°৩৪' উ, ৮৮°২২' পূ — অর্থাৎ নিরক্ষরেখা থেকে ২২°৩৪' উত্তরে এবং মূলমধ্যরেখা থেকে ৮৮°২২' পূর্বে।
9. বিভিন্ন দেশের প্রমাণ সময়ের ধারণা ব্যাখ্যা করো। কিছু বড় দেশ একাধিক প্রমাণ সময় ব্যবহার করে কেন? ভারত কেন একটি মাত্র প্রমাণ সময় ব্যবহার করে?
প্রমাণ সময় (Standard Time)
প্রত্যেক দেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে সমগ্র দেশের প্রমাণ সময় ধরা হয়। এই দ্রাঘিমাকে প্রমাণ দ্রাঘিমা (Standard Meridian) বলে।
একাধিক প্রমাণ সময় ব্যবহারকারী দেশ:
| দেশ | সময় অঞ্চলের সংখ্যা | কারণ |
| রাশিয়া | ১১টি | বিশাল পূর্ব-পশ্চিম বিস্তৃতি (১৭০° দ্রাঘিমা) |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | ৪টি (মূল ভূখণ্ড) | প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আটলান্টিক পর্যন্ত বিস্তৃত |
| কানাডা | ৬টি | বৃহৎ ভৌগোলিক বিস্তৃতি |
| অস্ট্রেলিয়া | ৩টি | মহাদেশীয় বিস্তৃতি |
ভারত কেন একটিই প্রমাণ সময় ব্যবহার করে?
- ভারতের পূর্ব-পশ্চিম বিস্তৃতি অপেক্ষাকৃত কম — প্রায় ২৯° দ্রাঘিমা
- প্রমাণ দ্রাঘিমা ৮২°৩০' পূর্ব ভারতের মধ্যভাগ দিয়ে যায়
- প্রশাসনিক সুবিধার্থে — একাধিক সময় ব্যবস্থা জটিলতা বাড়ায়
- রেলপথ, বিমান, টেলিযোগাযোগের সমন্বয় সহজ হয়
- জাতীয় সংহতি বজায় রাখতে — এক সময়ে এক জাতি
অন্যান্য দেশের প্রমাণ সময়ের উদাহরণ:
- বাংলাদেশ: ৯০° পূর্ব — BST = GMT + ৬ ঘণ্টা
- জাপান: ১৩৫° পূর্ব — JST = GMT + ৯ ঘণ্টা
- যুক্তরাজ্য: ০° — GMT (শীতকাল) / BST = GMT + ১ (গ্রীষ্মকাল)
10. ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ কীভাবে কোনো স্থানের 'ঠিকানা' নির্ধারণ করে?
অবস্থান নির্ণয় প্রক্রিয়া
পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করতে দুটি মৌলিক তথ্য প্রয়োজন — অক্ষাংশ (Latitude) ও দ্রাঘিমাংশ (Longitude)। এদের সম্মিলিত পাঠই কোনো স্থানের নির্ভুল ভৌগোলিক ঠিকানা।
ধাপ ১: অক্ষাংশ নির্ণয়
যে স্থানের অবস্থান নির্ণয় করতে হবে, সেই স্থান নিরক্ষরেখা (০°) থেকে কতটা উত্তরে বা দক্ষিণে তা মাপা হয়। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখা ও ঐ স্থানের মধ্যবর্তী কোণই অক্ষাংশ। যেমন — কলকাতা নিরক্ষরেখা থেকে ২২°৩৪' উত্তরে → অক্ষাংশ = ২২°৩৪' উ।
ধাপ ২: দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়
ঐ স্থান মূলমধ্যরেখা (০° - গ্রিনিচ) থেকে কতটা পূর্বে বা পশ্চিমে তা মাপা হয়। কেন্দ্রে মূলমধ্যরেখা ও ঐ স্থানের দ্রাঘিমারেখার মধ্যবর্তী কোণই দ্রাঘিমাংশ। যেমন — কলকাতা গ্রিনিচ থেকে ৮৮°২২' পূর্বে → দ্রাঘিমাংশ = ৮৮°২২' পূ।
ধাপ ৩: গ্রিডে ছেদ বিন্দু
কলকাতার অক্ষরেখা (২২°৩৪' উ) ও দ্রাঘিমারেখা (৮৮°২২' পূ) পরস্পর যেখানে ছেদ করে, সেটাই মানচিত্রে কলকাতার অবস্থান।
এটি কীভাবে 'ঠিকানা' হিসেবে কাজ করে?
যেমন ডাকযোগে চিঠি পাঠাতে গৃহের নির্দিষ্ট ঠিকানা প্রয়োজন — গলির নাম, শহর, পিন কোড; তেমনি ভূপৃষ্ঠে কোনো স্থান চিহ্নিত করতে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশই তার সার্বজনীন ঠিকানা। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই স্থানাঙ্ক দিয়ে নির্ভুলভাবে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানো যায় — GPS, জাহাজ, বিমান এভাবেই কাজ করে। পিন কোডের মতো নির্দিষ্ট, কিন্তু সারা বিশ্বে প্রযোজ্য।
মনে রেখো!
অক্ষাংশ: কেন্দ্রে নিরক্ষরেখা ও স্থানের মধ্যবর্তী কোণ | দ্রাঘিমাংশ: কেন্দ্রে মূলমধ্যরেখা ও স্থানের মধ্যবর্তী কোণ |
১° দ্রাঘিমা = ৪ মিনিট | ১৫° = ১ ঘণ্টা | IST = GMT + ৫:৩০ |
IDL: ১৮০° দ্রাঘিমা — পূর্ব→পশ্চিমে ১ দিন বিয়োগ, পশ্চিম→পূর্বে ১ দিন যোগ |
GPS: উপগ্রহের মাধ্যমে অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ-উচ্চতা নির্ণয়