Chapter 1: পৃথিবীর পরিক্রমণ (Earth's Revolution)

পৃথিবীর আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতি, দিন-রাত্রি, ঋতু পরিবর্তন, অনুসূর-অপসূর, সূর্যের আপাত গতি | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 7 Geography Chapter 1 পৃথিবীর পরিক্রমণ

Chapter 1: পৃথিবীর পরিক্রমণ (Earth's Revolution)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 25 MCQ | 20 SAQ | 6 Broad Questions

আহ্নিক গতি বার্ষিক গতি অনুসূর-অপসূর ঋতু পরিবর্তন দিন-রাত্রি রবিমার্গ সময় গণনা অধিবর্ষ
🔄

আহ্নিক গতি

নিজ অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় আবর্তন | দিন-রাত্রির কারণ

🌍

বার্ষিক গতি

সূর্য প্রদক্ষিণে ৩৬৫ দিন | বেগ: ৩০ কিমি/সে

☀️

অনুসূর-অপসূর

৩ জানুয়ারি নিকটতম | ৪ জুলাই দূরতম

🌡️

ঋতু পরিবর্তন

অক্ষের আনতি ২৩.৫° | ৪টি ঋতু

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য - একনজরে

তারিখ ঘটনা উত্তর গোলার্ধ দক্ষিণ গোলার্ধ
৩ জানুয়ারিঅনুসূর (Perihelion)শীতকালগ্রীষ্মকাল
২১ মার্চবসন্তকালীন বিষুবদিন-রাত্রি সমানদিন-রাত্রি সমান
২১ জুনকর্কটসংক্রান্তিসবচেয়ে বড় দিনসবচেয়ে ছোট দিন
৪ জুলাইঅপসূর (Aphelion)গ্রীষ্মকালশীতকাল
২৩ সেপ্টেম্বরশারদকালীন বিষুবদিন-রাত্রি সমানদিন-রাত্রি সমান
২২ ডিসেম্বরমকরসংক্রান্তিসবচেয়ে ছোট দিনসবচেয়ে বড় দিন

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)

25 টি
1. পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে একবার ঘুরতে কত সময় নেয়?
ক) ক) ১২ ঘণ্টা
খ) খ) ২৪ ঘণ্টা
গ) গ) ৪৮ ঘণ্টা
ঘ) ঘ) ৩৬৫ দিন
ব্যাখ্যা: পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। একেই আহ্নিক গতি (Rotation) বলে। এই গতির ফলেই দিন ও রাত্রি সংঘটিত হয়।
2. পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে কী ঘটে?
ক) ক) ঋতু পরিবর্তন
খ) খ) দিন-রাত্রি
গ) গ) চন্দ্রগ্রহণ
ঘ) ঘ) সূর্যগ্রহণ
ব্যাখ্যা: পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে। এর ফলে পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং বিপরীত অংশে রাত্রি হয়।
3. পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরতে কত সময় নেয়?
ক) ক) ২৪ ঘণ্টা
খ) খ) ২৮ দিন
গ) গ) প্রায় ৩৬৫ দিন
ঘ) ঘ) ৩০ দিন
ব্যাখ্যা: পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে একবার পরিক্রমণ করতে প্রায় ৩৬৫ দিন (বা ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা) সময় নেয়। একেই বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি (Revolution) বলে।
4. পৃথিবীর বার্ষিক গতির বেগ কত?
ক) ক) প্রায় ২০ কিমি/সেকেন্ড
খ) খ) প্রায় ৩০ কিমি/সেকেন্ড
গ) গ) প্রায় ৪০ কিমি/সেকেন্ড
ঘ) ঘ) প্রায় ১০ কিমি/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা: পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে উপবৃত্তাকার পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে পরিক্রমণ করে। এই বিপুল বেগ সত্ত্বেও আমরা তা অনুভব করি না।
5. মুক্তিবেগ (Escape Velocity) কত?
ক) ক) ১১.২ মি/সেকেন্ড
খ) খ) ১১.২ কিমি/সেকেন্ড
গ) গ) ৩০ কিমি/সেকেন্ড
ঘ) ঘ) ৩০০,০০০ কিমি/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কাটিয়ে কোনো বস্তুকে মহাশূন্যে পাঠাতে হলে সেটিকে প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ১১.২ কিলোমিটার গতিবেগে উপরের দিকে ছুঁড়তে হবে। এই বেগকে মুক্তিবেগ (Escape Velocity) বলে।
6. অনুসূর (Perihelion) অবস্থানে পৃথিবী সূর্য থেকে কত দূরে থাকে?
ক) ক) প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি
খ) খ) প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি
গ) গ) প্রায় ১৩ কোটি কিমি
ঘ) ঘ) প্রায় ১৬ কোটি কিমি
ব্যাখ্যা: ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। এই অবস্থানকে অনুসূর (Perihelion) বলে। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পৃথিবী ক্রমশ সূর্য থেকে দূরে সরে যায়।
7. অপসূর (Aphelion) অবস্থান কোন তারিখে ঘটে?
ক) ক) ৩ জানুয়ারি
খ) খ) ২১ মার্চ
গ) গ) ৪ জুলাই
ঘ) ঘ) ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা: ৪ জুলাই পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। এই অবস্থানকে অপসূর (Aphelion) বলে। জুলাই থেকে বাকি ছয় মাস দূরত্ব ক্রমশ কমতে থাকে।
8. পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি কীরূপ?
ক) ক) বৃত্তাকার
খ) খ) উপবৃত্তাকার
গ) গ) ত্রিভুজাকার
ঘ) ঘ) বর্গাকার
ব্যাখ্যা: পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে একটি উপবৃত্তাকার (Elliptical) কক্ষপথে ঘোরে। উপবৃত্তের একটি ফোকাসে সূর্য অবস্থান করে। একারণেই পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না।
9. ২৪ ঘণ্টায় দিন-রাত্রি হওয়ার কারণ কী?
ক) ক) বার্ষিক গতি
খ) খ) আহ্নিক গতি
গ) গ) চাঁদের গতি
ঘ) ঘ) সূর্যের গতি
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর আহ্নিক গতির (Rotation) কারণে ২৪ ঘণ্টায় একবার দিন ও একবার রাত্রি হয়। পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে বলে সূর্যকে পূর্ব আকাশে উঠতে এবং পশ্চিম আকাশে অস্ত যেতে দেখা যায় — এটাই সূর্যের দৈনিক আপাত গতি।
10. ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ কী?
ক) ক) আহ্নিক গতি
খ) খ) পৃথিবীর অক্ষের আনতি ও বার্ষিক গতি
গ) গ) সূর্যের আকার
ঘ) ঘ) চাঁদের আকর্ষণ
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে (বা লম্বের সাথে ২৩.৫° কোণে) হেলে থাকার ফলে এবং বার্ষিক গতির কারণে বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। এর ফলেই ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
11. ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে কী হয়?
ক) ক) সবচেয়ে ছোট দিন
খ) খ) সবচেয়ে বড় দিন
গ) গ) দিন-রাত্রি সমান
ঘ) ঘ) শীতকাল শুরু
ব্যাখ্যা: ২১ জুন সূর্যের লম্বরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর) উপর পড়ে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও সবচেয়ে ছোট রাত হয়। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল। একে কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice) বলে।
12. ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে কী অবস্থা হয়?
ক) ক) সবচেয়ে ছোট দিন
খ) খ) সবচেয়ে বড় দিন
গ) গ) দিন-রাত্রি সমান
ঘ) ঘ) শরৎকাল শুরু
ব্যাখ্যা: ২২ ডিসেম্বর সূর্যের লম্বরশ্মি মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) উপর পড়ে। এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হয়। একে মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice) বলে।
13. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর কী ঘটে?
ক) ক) উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন
খ) খ) দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন
গ) গ) সারা পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সমান
ঘ) ঘ) শুধু নিরক্ষীয় অঞ্চলে দিন-রাত্রি সমান
ব্যাখ্যা: ২১ মার্চ (বসন্তকালীন বিষুব) ও ২৩ সেপ্টেম্বর (শারদকালীন বিষুব) — এই দুই দিন সূর্যের লম্বরশ্মি নিরক্ষরেখার উপর পড়ে। ফলে সারা পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সমান হয়। একে বিষুব (Equinox) বলে।
14. পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে?
ক) ক) ২৩.৫°
খ) খ) ৪৫°
গ) গ) ৬৬.৫°
ঘ) ঘ) ৯০°
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের (Orbital Plane) সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে। অর্থাৎ পৃথিবীর অক্ষ লম্বের সাথে ২৩.৫° কোণে আনত থাকে। এই আনতিই ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ।
15. কর্কটক্রান্তি রেখার অবস্থান কত ডিগ্রিতে?
ক) ক) ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
খ) খ) ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
গ) গ) ০° অক্ষাংশ
ঘ) ঘ) ৬৬.৫° উত্তর অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা: কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত। ২১ জুন সূর্যের লম্বরশ্মি এই রেখার উপর পড়ে। এটি সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ সীমা।
16. মকরক্রান্তি রেখার অবস্থান কত ডিগ্রিতে?
ক) ক) ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ
খ) খ) ০° অক্ষাংশ
গ) গ) ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
ঘ) ঘ) ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা: মকরক্রান্তি রেখা (Tropic of Capricorn) ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত। ২২ ডিসেম্বর সূর্যের লম্বরশ্মি এই রেখার উপর পড়ে। এটি সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ সীমা।
17. আমরা কোন মাসে সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি?
ক) ক) জুলাই
খ) খ) জানুয়ারি
গ) গ) মার্চ
ঘ) ঘ) সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা: ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে — এই অবস্থানকে অনুসূর (Perihelion) বলে। তখন দূরত্ব প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি। জানুয়ারি মাসে আমরা সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি।
18. উত্তর গোলার্ধে কোন সময় দিন বড় হতে থাকে?
ক) ক) ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে
খ) খ) ২১ জুনের পর থেকে
গ) গ) ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে
ঘ) ঘ) ২১ মার্চের পর থেকে
ব্যাখ্যা: ২২ ডিসেম্বর মকরসংক্রান্তির পর থেকে সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হয়। এই সময় থেকে উত্তর গোলার্ধে দিন ক্রমশ বড় হতে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ছোট হতে থাকে।
19. গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর আকাশ থেকে একটু উত্তর দিকে ঘেঁষে ওঠে কেন?
ক) ক) সূর্যের দৈনিক আপাত গতির জন্য
খ) খ) সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি বা সূর্য রবিমার্গের জন্য
গ) গ) চাঁদের টানের জন্য
ঘ) ঘ) বায়ুমণ্ডলের প্রতিসরণের জন্য
ব্যাখ্যা: সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি বা রবিমার্গের (Ecliptic) কারণে ছয় মাস সূর্য উত্তরায়ণ এবং ছয় মাস দক্ষিণায়ন করে। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তরায়ণের সময় কর্কটক্রান্তি পর্যন্ত যায়, তাই সূর্যোদয় একটু উত্তর দিকে হয়।
20. কাল্পনিক অক্ষরেখা যে দুই বিন্দুতে পৃথিবীপৃষ্ঠ ছুঁয়েছে তাদের কী বলে?
ক) ক) নিরক্ষরেখা
খ) খ) মেরু
গ) গ) ক্রান্তিরেখা
ঘ) ঘ) দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণে যে দুই বিন্দুতে কল্পিত অক্ষদণ্ডটি পৃথিবীপৃষ্ঠ ছুঁয়েছে, তাদের মেরু (Pole) বলে। উপরেরটি উত্তর মেরু ও নীচেরটি দক্ষিণ মেরু। দুই মেরু থেকে সমান দূরে আছে নিরক্ষরেখা।
21. নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা কোথায় অবস্থিত?
ক) ক) ২৩.৫° উত্তরে
খ) খ) দুই মেরুর ঠিক মাঝে ০° অক্ষাংশে
গ) গ) ২৩.৫° দক্ষিণে
ঘ) ঘ) ৬৬.৫° উত্তরে
ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা (Equator) পৃথিবীর দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে, ০° অক্ষাংশে অবস্থিত। ভারত নিরক্ষরেখা ও উত্তর মেরুর মাঝের অঞ্চলে (উত্তর গোলার্ধে) অবস্থিত।
22. কোন মাসগুলোতে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল?
ক) ক) ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি
খ) খ) জুন-আগস্ট
গ) গ) মার্চ-মে
ঘ) ঘ) সেপ্টেম্বর-নভেম্বর
ব্যাখ্যা: জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন বড় হয়, তাপ বেশি পায় — গ্রীষ্মকাল। দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীতকাল। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে এর উল্টো অবস্থা হয়।
23. লিপ ইয়ার (অধিবর্ষ) কাকে বলে?
ক) ক) যে বছরে ৩৬৪ দিন
খ) খ) যে বছরে ৩৬৫ দিন
গ) গ) যে বছরে ৩৬৬ দিন
ঘ) ঘ) যে বছরে ৩৬৭ দিন
ব্যাখ্যা: পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ঠিক ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা সময় নেয়। এই ৬ ঘণ্টা জমা হয়ে প্রতি চার বছরে একবার ফেব্রুয়ারি মাসে ১ দিন যোগ হয় এবং বছরটি ৩৬৬ দিনের হয় — একে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) বলে।
24. সূর্যের দৈনিক আপাত গতি কী দিকে হয়?
ক) ক) উত্তর থেকে দক্ষিণে
খ) খ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে
গ) গ) পূর্ব থেকে পশ্চিমে
ঘ) ঘ) পশ্চিম থেকে পূর্বে
ব্যাখ্যা: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করার ফলে সূর্যকে আপাতভাবে পূর্ব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে চলাচল করতে দেখা যায়। এটাই সূর্যের দৈনিক আপাত গতি (Diurnal Apparent Motion)।
25. সুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার কখন থাকে?
ক) ক) ২১ জুন
খ) খ) ২২ ডিসেম্বর
গ) গ) ২১ মার্চ
ঘ) ঘ) ২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা: ২২ ডিসেম্বর মকরসংক্রান্তির দিন দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে। ফলে কুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা যায় এবং সুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকে।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)

20 টি
1. আহ্নিক গতি কাকে বলে?
আহ্নিক গতি (Rotation): পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারিদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে একবার আবর্তন করতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয় — একেই আহ্নিক গতি বা আবর্তন গতি বলে। এর ফলাফল: (১) দিন ও রাত্রি সংঘটিত হয়, (২) সূর্যের দৈনিক আপাত গতি সৃষ্টি হয়, (৩) জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত হয়।
2. বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি কাকে বলে?
বার্ষিক গতি (Revolution): পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টায় একবার পরিক্রমণ করে — একেই বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে। এই গতির বেগ প্রায় ৩০ কিমি/সেকেন্ড। এর ফলাফল: (১) ঋতু পরিবর্তন, (২) দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের তারতম্য, (৩) সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি।
3. অনুসূর ও অপসূর কাকে বলে?
অনুসূর (Perihelion): ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) — একে অনুসূর অবস্থান বলে। অপসূর (Aphelion): ৪ জুলাই পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে দূরে থাকে (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) — একে অপসূর অবস্থান বলে। পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণেই এই দূরত্বের তারতম্য ঘটে।
4. ঋতু পরিবর্তনের কারণ কী?
ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ দুটি: (১) পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে (বা লম্বের সাথে ২৩.৫° কোণে) হেলে থাকা — এই আনতির কারণে বছরের বিভিন্ন সময় দক্ষিণ বা উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। (২) পৃথিবীর বার্ষিক গতি — সূর্যের চারিদিকে পরিক্রমণের সময় বিভিন্ন অবস্থানে সূর্যের লম্বরশ্মি বিভিন্ন অক্ষাংশে পড়ে। এই দুই কারণেই ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
5. গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বা কর্কটসংক্রান্তি কী?
২১ জুন সূর্যের লম্বরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর) উপর লম্বভাবে পড়ে। একে কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice) বলে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে: (১) সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত হয়, (২) গ্রীষ্মকাল চরমে পৌঁছায়, (৩) সুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা যায় এবং কুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকে।
6. শীতকালীন অয়নান্ত বা মকরসংক্রান্তি কী?
২২ ডিসেম্বর সূর্যের লম্বরশ্মি মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) উপর পড়ে। একে মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice) বলে। এই দিন উত্তর গোলার্ধে: (১) সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত হয়, (২) শীতকাল চরমে থাকে, (৩) সুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার ও কুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা যায়। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এই সময়ই পালিত হয়।
7. বিষুব (Equinox) কাকে বলে? কখন ঘটে?
বিষুব (Equinox): যে দুই দিন সূর্যের লম্বরশ্মি নিরক্ষরেখার উপর পড়ে এবং সারা পৃথিবীতে দিন ও রাত্রি সমান হয়, সেই দিনকে বিষুব বলে। (১) বসন্তকালীন বিষুব — ২১ মার্চ (উত্তর গোলার্ধে বসন্ত, দক্ষিণে শরৎ)। (২) শারদকালীন বিষুব — ২৩ সেপ্টেম্বর (উত্তর গোলার্ধে শরৎ, দক্ষিণে বসন্ত)। ভারতীয় উৎসবের সাথে এর সম্পর্ক — দুর্গাপূজা শারদকালীন বিষুবের কাছাকাছি উদযাপিত হয়।
8. সূর্যের রবিমার্গ বা বার্ষিক আপাত গতি কী?
সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি: পৃথিবীর অক্ষের আনতির কারণে এবং বার্ষিক গতির ফলে সূর্যকে আপাতভাবে বছরের বিভিন্ন সময়ে নিরক্ষরেখা থেকে ২৩.৫° উত্তর (কর্কটক্রান্তি) পর্যন্ত এবং ২৩.৫° দক্ষিণ (মকরক্রান্তি) পর্যন্ত সরতে দেখা যায়। একেই সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি বা রবিমার্গ বলে। এর কারণেই সারা বছর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান পরিবর্তিত হয়।
9. দিন-রাত্রি কীভাবে সংঘটিত হয়?
পৃথিবী একটি গোলাকার গ্রহ যা নিজ অক্ষের চারিদিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে। পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে তা আলোকিত হয় — সেখানে দিন। যে অংশ সূর্যের বিপরীতে থাকে — সেখানে রাত্রি। পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তনের কারণে সূর্যকে প্রথমে পূর্ব আকাশে উঠতে ও পরে পশ্চিমে অস্ত যেতে দেখা যায়। এটি একটি অবিরাম প্রক্রিয়া।
10. সময় গণনার প্রাকৃতিক উপায়গুলি কী কী?
প্রাচীনকাল থেকে সময় গণনার তিনটি প্রাকৃতিক উপায়: (১) দিন-রাত্রি: ২৪ ঘণ্টার আবর্তনে দিন-রাতের হিসাব — সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন পদ্ধতি। (২) চান্দ্রমাস: চাঁদের পৃথিবী প্রদক্ষিণের সময় (প্রায় ২৮ দিন) ধরে এক মাসের ধারণা — বর্তমানে ২৮-৩১ দিনে এক মাস। (৩) সৌর বছর: পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণের সময় (প্রায় ৩৬৫ দিন) ধরে এক বছরের ধারণা।
11. অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার কী? কেন হয়?
অধিবর্ষ (Leap Year): পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে প্রকৃত সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা। এই বাড়তি ৬ ঘণ্টা প্রতি বছর জমা হয়ে ৪ বছরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা (১ দিন) হয়। তাই প্রতি চতুর্থ বছরে ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনের পরিবর্তে ২৯ দিনের হয় এবং বছরটি ৩৬৬ দিনের হয় — একে অধিবর্ষ বলে। যেমন — ২০২৪, ২০২৮।
12. পৃথিবীর অক্ষ কাকে বলে? মেরু কাকে বলে?
পৃথিবীর অক্ষ (Earth's Axis): পৃথিবীর কেন্দ্রভেদী একটি কল্পিত সরলরেখা যার চারিদিকে পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে — একে অক্ষ বলে। এই কল্পিত অক্ষদণ্ড যে দুই বিন্দুতে পৃথিবীপৃষ্ঠ ছুঁয়েছে, তাদের মেরু (Pole) বলে। উপরেরটি উত্তর মেরু (90° N), নীচেরটি দক্ষিণ মেরু (90° S)।
13. মহাকর্ষ কাকে বলে? পৃথিবীতে এর ভূমিকা কী?
মহাকর্ষ (Gravity): মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে — একে মহাকর্ষ বলে। বস্তুর ভর যত বেশি, আকর্ষণ তত বেশি। পৃথিবীর মহাকর্ষ: (১) পৃথিবীপৃষ্ঠের সবকিছুকে টেনে ধরে রাখে — আমরা ছিটকে যাই না, (২) উপরের দিকে যা ছোঁড়া হয় সব নীচে পড়ে। সূর্যের ভর পৃথিবীর ১৩ লক্ষ গুণ বেশি এবং কাছে থাকায় পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে।
14. মুক্তিবেগ (Escape Velocity) কাকে বলে?
মুক্তিবেগ (Escape Velocity): পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কাটিয়ে কোনো বস্তুকে মহাশূন্যে পাঠাতে যে ন্যূনতম গতিবেগের প্রয়োজন হয়, তাকে মুক্তিবেগ বলে। পৃথিবীর ক্ষেত্রে মুক্তিবেগ = ১১.২ কিমি/সেকেন্ড। বস্তুকে যদি প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কিলোমিটার বেগে উপরের দিকে ছোঁড়া যায়, তবে তা আর পৃথিবীতে ফিরে আসে না — কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণে এই নীতি ব্যবহৃত হয়।
15. উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধের ঋতু কেন উল্টো হয়?
পৃথিবীর অক্ষ হেলে থাকার কারণে যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে (জুন-আগস্ট), তখন সেখানে দিন বড় হয়, সূর্যের লম্বরশ্মি কর্কটক্রান্তির কাছাকাছি পড়ে — ফলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল। একই সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের বিপরীতে ঝুঁকে থাকে, সেখানে দিন ছোট ও তাপ কম পায় — শীতকাল। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে এর উল্টো অবস্থা হয়।
16. সুমেরুতে ২৪ ঘণ্টা সূর্য এবং ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার কখন থাকে?
পৃথিবীর অক্ষের আনতির কারণে: (১) ২১ জুন কর্কটসংক্রান্তির সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে — সুমেরু বৃত্তে (৬৬.৫° N) টানা ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা যায়, কুমেরুতে অন্ধকার। (২) ২২ ডিসেম্বর মকরসংক্রান্তির সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে — কুমেরু বৃত্তে ২৪ ঘণ্টা সূর্য এবং সুমেরুতে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকে।
17. পৃথিবী কেন সূর্যের দিকে ছিটকে যায় না বা দূরে সরে যায় না?
পৃথিবী একইসাথে সূর্যের মহাকর্ষীয় টানে সূর্যের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং নিজের গতির কারণে সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে চায়। এই দুই বিপরীতমুখী বলের ভারসাম্যের কারণেই পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যের চারিদিকে ঘুরছে — 'বন বন করে' ঘোরার মতো। খুঁটির সাথে দড়ি বাঁধা খেলনার মতো — দড়ির টান ও বেগের ভারসাম্যে পতন হয় না।
18. গ্রীষ্মকালে দিন বড় এবং শীতকালে দিন ছোট হয় কেন?
গ্রীষ্মকালে (জুন-আগস্ট) উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ২৩.৫° পর্যন্ত ঝুঁকে থাকে। ফলে সূর্যের লম্বরশ্মি কর্কটক্রান্তির কাছাকাছি পড়ে, উত্তর গোলার্ধে সূর্য দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে থাকে — দিন বড় হয়। শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) উত্তর গোলার্ধ সূর্যের বিপরীতে ঝুঁকে থাকে, লম্বরশ্মি দক্ষিণ গোলার্ধে পড়ে — ফলে দিন ছোট ও রাত বড় হয়।
19. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্য বড় দেখায় কেন?
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্য দিগন্তের কাছে থাকে। তখন সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের বেশি পুরু স্তর ভেদ করে আসে। বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের কারণে সূর্যকে চ্যাপ্টা ও বড় দেখায়। পাশাপাশি, দিগন্তের কাছে গাছপালা ও ভবনের সাথে তুলনীয় হওয়ায় দৃষ্টিভ্রমের (Ponzo Illusion) কারণেও সূর্যকে বড় মনে হয়। এটি পৃথিবীর পরিক্রমণ বা বায়ুমণ্ডলের ধর্ম সম্পর্কিত।
20. ভারতে কখন দক্ষিণায়ণ ও উত্তরায়ণ ঘটে?
উত্তরায়ণ (Uttarayan): ২২ ডিসেম্বর মকরসংক্রান্তির পর থেকে সূর্য উত্তর দিকে সরতে থাকে — কর্কটক্রান্তি পর্যন্ত। এই সময় ২২ ডিসেম্বর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত। মকরসংক্রান্তি থেকে উত্তরায়ণ শুরু। দক্ষিণায়ণ (Dakshinayan): ২১ জুন কর্কটসংক্রান্তির পর সূর্য দক্ষিণে সরতে থাকে — মকরক্রান্তি পর্যন্ত। ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে উত্তরায়ণ শুভ বলে বিবেচিত।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)

6 টি
1. পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি কাকে বলে? এদের ফলাফলগুলি বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করো।

আহ্নিক গতি (Rotation)

পৃথিবী তার নিজ অক্ষের চারিদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে একবার আবর্তন করতে ২৪ ঘণ্টা সময় নেয় — একেই আহ্নিক গতি বা আবর্তন গতি বলে।

আহ্নিক গতির ফলাফল:
  1. দিন-রাত্রি সংঘটন: পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন, বিপরীত অংশে রাত্রি হয়। ২৪ ঘণ্টায় একদিন-একরাত্রি চক্র সম্পন্ন হয়।
  2. সূর্যের দৈনিক আপাত গতি: পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরায় সূর্যকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলতে দেখা যায়।
  3. জোয়ার-ভাটা: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা হয়, যা আহ্নিক গতির সাথে সম্পর্কিত।
  4. সময় গণনা: ২৪ ঘণ্টার আবর্তনের ভিত্তিতে ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড নির্ধারিত।

বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি (Revolution)

পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টায় (প্রায় ৩০ কিমি/সেকেন্ড বেগে) একবার পরিক্রমণ করে — একেই বার্ষিক গতি বলে।

বার্ষিক গতির ফলাফল:
  1. ঋতু পরিবর্তন: পৃথিবীর অক্ষের আনতি ও বার্ষিক গতির যৌথ প্রভাবে বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত ঋতু সৃষ্টি হয়।
  2. দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের তারতম্য: কর্কটসংক্রান্তি ও মকরসংক্রান্তির সময় দিন-রাতের দৈর্ঘ্যে বড় তারতম্য হয়।
  3. সূর্যের বার্ষিক আপাত গতি (রবিমার্গ): সূর্যকে বছরে কর্কটক্রান্তি থেকে মকরক্রান্তি পর্যন্ত সরতে দেখা যায়।
  4. বছর গণনা: সৌরবছর নির্ধারণে বার্ষিক গতিই ভিত্তি।
2. ঋতু পরিবর্তনের কারণ ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের ঋতুর পার্থক্য আলোচনা করো।

ঋতু পরিবর্তনের কারণ

পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ দুটি:

  1. পৃথিবীর অক্ষের আনতি: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে (লম্বের সাথে ২৩.৫°) হেলে থাকে। এর ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর বা দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে।
  2. পৃথিবীর বার্ষিক গতি: সূর্যের চারিদিকে পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থানে সূর্যের লম্বরশ্মি বিভিন্ন অক্ষাংশে পড়ে।

গুরুত্বপূর্ণ দিন ও ঋতু সম্পর্ক:

তারিখঘটনাউত্তর গোলার্ধদক্ষিণ গোলার্ধ
২১ মার্চবসন্তকালীন বিষুববসন্তকালশরৎকাল
২১ জুনকর্কটসংক্রান্তিগ্রীষ্মকাল (সবচেয়ে বড় দিন)শীতকাল (সবচেয়ে ছোট দিন)
২৩ সেপ্টেম্বরশারদকালীন বিষুবশরৎকালবসন্তকাল
২২ ডিসেম্বরমকরসংক্রান্তিশীতকাল (সবচেয়ে ছোট দিন)গ্রীষ্মকাল (সবচেয়ে বড় দিন)
উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের ঋতু কেন উল্টো হয়?

যখন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, তখন উত্তর গোলার্ধে দিন বড় ও তাপ বেশি পায় — গ্রীষ্মকাল। একই সময় দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের বিপরীতে থাকে, দিন ছোট ও তাপ কম — শীতকাল। ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে উল্টো অবস্থা। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছর দিন-রাত্রি প্রায় সমান থাকায় ঋতু পরিবর্তন তেমন লক্ষণীয় নয়।

3. অনুসূর ও অপসূর অবস্থান কী? পৃথিবীর কক্ষপথের উপবৃত্তাকার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করে এই দুই অবস্থানে সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্বের পার্থক্য ও প্রভাব আলোচনা করো।

পৃথিবীর কক্ষপথ

পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে যে পথে ঘোরে তা বৃত্তাকার নয়, উপবৃত্তাকার (Elliptical)। উপবৃত্তের একটি ফোকাসে সূর্য অবস্থান করে। এর ফলে সারা বছর সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব সমান থাকে না।

অনুসূর (Perihelion)

  • তারিখ: ৩ জানুয়ারি
  • দূরত্ব: প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার (সবচেয়ে কম)
  • অর্থ: Peri = নিকট, Helios = সূর্য → 'সূর্যের নিকটতম অবস্থান'

অপসূর (Aphelion)

  • তারিখ: ৪ জুলাই
  • দূরত্ব: প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিলোমিটার (সবচেয়ে বেশি)
  • অর্থ: Apo = দূর, Helios = সূর্য → 'সূর্য থেকে দূরতম অবস্থান'
জানতে হবে:
  • জানুয়ারিতে আমরা সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকি — তারপরও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল।
  • জুলাইয়ে আমরা সূর্যের সবচেয়ে দূরে থাকি — তারপরও উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল।
  • কারণ: ঋতু নির্ধারণে দূরত্ব নয়, পৃথিবীর অক্ষের আনতি ও সূর্যের লম্বরশ্মির অবস্থানই প্রধান ভূমিকা পালন করে।
4. দিন-রাত্রি কীভাবে সংঘটিত হয়? সুমেরু ও কুমেরুতে টানা ২৪ ঘণ্টার দিন ও রাতের কারণ ব্যাখ্যা করো।

দিন-রাত্রি সংঘটনের কারণ

পৃথিবী একটি গোলাকার গ্রহ এবং এটি নিজ অক্ষের চারিদিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে। সূর্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে থেকে আলো দেয়। পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে, তা আলোকিত হয় — সেখানে দিন। বিপরীত অংশ অন্ধকারে থাকে — সেখানে রাত্রি। এই আবর্তন অবিরাম চলতে থাকে বলেই দিন-রাত্রির চক্র সৃষ্টি হয়।

সুমেরু ও কুমেরুতে ২৪ ঘণ্টার দিন ও রাত

পৃথিবীর অক্ষ ২৩.৫° হেলে থাকার কারণে:

২১ জুন (কর্কটসংক্রান্তি):
  • উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে
  • সুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° N): সম্পূর্ণ সূর্যের আলোয় — ২৪ ঘণ্টা দিন
  • কুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° S): সম্পূর্ণ অন্ধকারে — ২৪ ঘণ্টা রাত
২২ ডিসেম্বর (মকরসংক্রান্তি):
  • দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে
  • কুমেরু বৃত্ত: ২৪ ঘণ্টা দিন
  • সুমেরু বৃত্ত: ২৪ ঘণ্টা রাত

এই ঘটনা 'মধ্যরাতের সূর্য' (Midnight Sun) নামে পরিচিত এবং এটি মেরু অঞ্চলে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

5. সূর্যের দৈনিক আপাত গতি ও বার্ষিক আপাত গতি (রবিমার্গ) কী? এদের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।

দৈনিক আপাত গতি (Diurnal Apparent Motion)

পৃথিবীর আহ্নিক গতির (পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন) কারণে আপাতভাবে সূর্যকে প্রতিদিন পূর্ব আকাশ থেকে পশ্চিম আকাশে চলাচল করতে দেখা যায়। এটি একটি দৈনিক ঘটনা।

বার্ষিক আপাত গতি বা রবিমার্গ (Annual Apparent Motion/Ecliptic)

পৃথিবীর অক্ষের আনতি ও বার্ষিক গতির ফলে সূর্যকে আপাতভাবে সারা বছর ধরে নিরক্ষরেখার উত্তর-দক্ষিণে সরতে দেখা যায়:

  • উত্তরায়ণ: ২২ ডিসেম্বর → ২১ জুন (কর্কটক্রান্তি পর্যন্ত)
  • দক্ষিণায়ণ: ২১ জুন → ২২ ডিসেম্বর (মকরক্রান্তি পর্যন্ত)
বিষয়দৈনিক আপাত গতিবার্ষিক আপাত গতি
কারণআহ্নিক গতিবার্ষিক গতি ও অক্ষের আনতি
সময়কাল২৪ ঘণ্টা (প্রতিদিন)৩৬৫ দিন (সারা বছর)
দিকপূর্ব → পশ্চিমউত্তর ↔ দক্ষিণ (নিরক্ষরেখা বরাবর)
প্রভাবদিন-রাত্রিঋতু পরিবর্তন ও দিন-রাতের তারতম্য
দুটি গতির সম্মিলিত প্রভাব:

গরমকালে সূর্য উত্তর-পূর্বে ওঠে এবং শীতকালে দক্ষিণ-পূর্বে ওঠে — এটি বার্ষিক আপাত গতির প্রকাশ। আবার সকালে ওঠা ও সন্ধ্যায় ডোবা — দৈনিক আপাত গতি। দুটোই একসাথে ঘটে।

6. সময় গণনার প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলি কী কী? সুর্যঘড়ি কীভাবে সময় নির্ণয় করে? আধুনিক সময় গণনার সাথে প্রাচীন পদ্ধতির সম্পর্ক আলোচনা করো।

সময় গণনার তিনটি প্রাকৃতিক উপায়

  1. দিন-রাত্রি চক্র (আহ্নিক গতি): ২৪ ঘণ্টার আবর্তন — সবচেয়ে প্রাচীন ও সহজ পদ্ধতি। ছায়ার দৈর্ঘ্য দেখে দিনের বিভিন্ন ভাগে সময় অনুমান করা হত।
  2. চান্দ্রমাস (চাঁদের গতি): চাঁদের পৃথিবী প্রদক্ষিণের সময় (প্রায় ২৮ দিন) ধরে মাস গণনা। বর্তমানে ২৮-৩১ দিনের মাসের ধারণা এখান থেকেই এসেছে।
  3. সৌর বছর (বার্ষিক গতি): পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণ (প্রায় ৩৬৫ দিন) — বছরের ধারণা। ঋতু পরিবর্তন ও কৃষিকাজের সময় নির্ধারণে ব্যবহৃত।

সুর্যঘড়ি (Sundial):

সুর্যঘড়ি হল প্রাচীনতম সময় মাপার যন্ত্র। একটি খাড়া লাঠির ছায়া একটি নির্দিষ্ট তলে পড়ে এবং সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী ছায়ার দৈর্ঘ্য ও দিক পরিবর্তিত হয়। ছায়া সবচেয়ে ছোট হয় দুপুরে।

আধুনিক ও প্রাচীন পদ্ধতির সম্পর্ক:

  • প্রাচীনকালে দিনকে প্রহর, দণ্ড, পল ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হত
  • আধুনিক ২৪ ঘণ্টা, ৬০ মিনিট, ৬০ সেকেন্ডে ভাগ — সবই আহ্নিক গতির উপর ভিত্তি করে
  • ক্যালেন্ডারের তারিখ, মাস, বছর — বার্ষিক গতি ও চান্দ্রমাসের উপর নির্ভরশীল
  • অধিবর্ষ ধারণা — সৌর বছরের নির্ভুল গণনার প্রয়াস

বৈজ্ঞানিক উন্নতির সাথে সাথে সময় গণনা আরও নির্ভুল হয়েছে — অ্যাটমিক ক্লক বা পরমাণু ঘড়ি এখন প্রতি সেকেন্ডের বিলিয়ন ভাগ পর্যন্ত মাপতে পারে।

মনে রেখো!

আহ্নিক গতি: নিজ অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় আবর্তন → দিন-রাত্রি | বার্ষিক গতি: সূর্যকে ৩৬৫ দিনে প্রদক্ষিণ → ঋতু পরিবর্তন | অক্ষের আনতি: ২৩.৫° (লম্বের সাথে) → দিন-রাতের তারতম্য | অনুসূর: ৩ জানুয়ারি (নিকটতম) | অপসূর: ৪ জুলাই (দূরতম) | মুক্তিবেগ: ১১.২ কিমি/সেকেন্ড | অধিবর্ষ: প্রতি ৪ বছরে ৩৬৬ দিন

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - পৃথিবীর পরিক্রমণ

আহ্নিক গতি: পৃথিবী নিজ অক্ষের চারিদিকে ২৪ ঘণ্টায় একবার আবর্তন করে, এর ফলে দিন-রাত্রি হয়। বার্ষিক গতি: পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে উপবৃত্তাকার পথে ৩৬৫ দিনে একবার পরিক্রমণ করে (বেগ প্রায় ৩০ কিমি/সেকেন্ড), এর ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।

অনুসূর (Perihelion): ৩ জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি)। অপসূর (Aphelion): ৪ জুলাই পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে দূরে থাকে (প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি)। পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণে এই তারতম্য ঘটে। জানুয়ারিতে কাছে থাকলেও উত্তর গোলার্ধে শীতকাল — কারণ ঋতুর জন্য অক্ষের আনতিই প্রধান।

কর্কটসংক্রান্তি (Summer Solstice): ২১ জুন সূর্যের লম্বরশ্মি কর্কটক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° N) পড়ে — উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন। মকরসংক্রান্তি (Winter Solstice): ২২ ডিসেম্বর সূর্যের লম্বরশ্মি মকরক্রান্তি রেখায় (২৩.৫° S) পড়ে — উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন। দুই গোলার্ধের ঋতু পরস্পর উল্টো হয়।

পৃথিবীর অক্ষ ২৩.৫° হেলে থাকার কারণে ২১ জুন সুমেরু বৃত্ত সূর্যের দিকে সর্বাধিক ঝুঁকে থাকে — ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা যায় (Midnight Sun)। ২২ ডিসেম্বর উল্টো — সুমেরুতে ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার এবং কুমেরুতে ২৪ ঘণ্টা সূর্য থাকে।