Chapter 4: পৃথিবীর অন্দরমহল (Interior of Earth & Landforms)

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বহির্জাত শক্তি, ভঙ্গিল পর্বত, স্তূপ পর্বত, আগ্নেয় পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, প্লেট টেকটনিক্স | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 7 Geography Chapter 4 পৃথিবীর অন্দরমহল

Chapter 4: পৃথিবীর অন্দরমহল (ভূমিরূপ)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 30 MCQ | 23 SAQ | 8 Broad Questions

অভ্যন্তরীণ শক্তি বহির্জাত শক্তি ভঙ্গিল পর্বত স্তূপ পর্বত আগ্নেয় পর্বত মালভূমি সমভূমি প্লেট টেকটনিক্স
⛰️

পর্বত

৯০০+ মি উঁচু | ভঙ্গিল, স্তূপ, আগ্নেয়

🏔️

মালভূমি

উঁচু সমতল | তিব্বত, পামীর, ছোটানাগপুর

🌾

সমভূমি

নিচু সমতল | সর্বাধিক জনবসতি

🌋

প্লেট সঞ্চালন

পাতের নড়াচড়া | ভূমিরূপ সৃষ্টি

পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি - তুলনামূলক সারণি

বিষয়পর্বতমালভূমিসমভূমি
উচ্চতা৯০০ মি+৩০০-৫০০০ মি৩০০ মি-
ঢালখুব খাড়াচারিদিকে খাড়া, উপরে কমসামান্য বা নেই
বিস্তৃতিঅপেক্ষাকৃত কমবিরাট এলাকা জুড়েবিরাট এলাকা জুড়ে
উদাহরণহিমালয়, আল্পস, ফুজিতিব্বত, পামীর, ছোটানাগপুরগাঙ্গেয়, প্রেইরি

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)

30 টি
1. পৃথিবীর ভূমিরূপ সৃষ্টিকারী শক্তি প্রধানত কত প্রকার?
ক) ক) এক প্রকার
খ) খ) দুই প্রকার
গ) গ) তিন প্রকার
ঘ) ঘ) চার প্রকার
ব্যাখ্যা: ভূমিরূপ সৃষ্টিকারী শক্তি প্রধানত দুই প্রকার: (১) অভ্যন্তরীণ শক্তি বা ভিতরকার শক্তি (Endogenic Forces) — যেমন ভূ-আলোড়ন, আগ্নেয়গিরি, (২) বহির্জাত শক্তি বা বাইরের শক্তি (Exogenic Forces) — যেমন নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্র তরঙ্গের কাজ। অভ্যন্তরীণ শক্তি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, বহির্জাত শক্তি ক্ষয় ও সঞ্চয় করে।
2. পাহাড়-পর্বত সৃষ্টির জন্য দায়ী কোন শক্তি?
ক) ক) বাইরের শক্তি
খ) খ) অভ্যন্তরীণ শক্তি
গ) গ) নদীর শক্তি
ঘ) ঘ) বায়ুর শক্তি
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর ভিতরকার শক্তি বা অভ্যন্তরীণ শক্তির (Endogenic Forces) ফলেই পাহাড়, পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। ভূ-আলোড়ন ও পাত সঞ্চালনের মাধ্যমে ভঙ্গিল পর্বত, স্তূপ পর্বত ও আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়।
3. ভূপৃষ্ঠের ক্ষয় ও সঞ্চয়ের কাজ করে কোন শক্তি?
ক) ক) অভ্যন্তরীণ শক্তি
খ) খ) বহির্জাত শক্তি
গ) গ) মহাকর্ষ শক্তি
ঘ) ঘ) চৌম্বক শক্তি
ব্যাখ্যা: নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্র তরঙ্গ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিগুলো ভূমিরূপের ওপর সবসময় কাজ করে — কখনও ক্ষয় করে উচ্চতা কমিয়ে দেয়, আবার কোথাও সঞ্চয় করে ভূমিরূপের বৈচিত্র্য তৈরি করে। এগুলোই বহির্জাত শক্তি (Exogenic Forces)।
4. পর্বতের চূড়াগুলো সূচালো না হওয়ার কারণ কী?
ক) ক) কম উচ্চতা
খ) খ) দীর্ঘদিনের ক্ষয়
গ) গ) আগ্নেয়গিরি
ঘ) ঘ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা: হিমালয়, আল্পস ইত্যাদি নবীন পর্বতের চূড়া সূচালো হয়। কিন্তু আরাবল্লী, আপালেশিয়ানদের মতো প্রাচীন পর্বতগুলো দীর্ঘদিন ধরে নদী, বায়ু, বৃষ্টি প্রভৃতির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে — ফলে উচ্চতা কমে গেছে এবং চূড়াগুলো আর তেমন সূচালো নেই, গোলাকার হয়ে গেছে।
5. উৎপত্তি অনুযায়ী পর্বত প্রধানত কত প্রকার?
ক) ক) দুই প্রকার
খ) খ) তিন প্রকার
গ) গ) চার প্রকার
ঘ) ঘ) পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা: উৎপত্তি অনুযায়ী পর্বত প্রধানত তিন প্রকার: (১) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) — যেমন হিমালয়, আল্পস, (২) স্তূপ পর্বত (Block Mountain) — যেমন সাতপুরা, ব্ল্যাক ফরেস্ট, (৩) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) — যেমন ফুজিয়ামা, এটনা, কিলিমাঞ্জারো।
6. হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ কোন ধরনের পর্বত?
ক) ক) স্তূপ পর্বত
খ) খ) আগ্নেয় পর্বত
গ) গ) ভঙ্গিল পর্বত
ঘ) ঘ) লাভা পর্বত
ব্যাখ্যা: হিমালয় (এশিয়া), আল্পস (ইউরোপ), রকি (উত্তর আমেরিকা), আন্দিজ (দক্ষিণ আমেরিকা) — সবই ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain)। দুটি পাতের সংঘর্ষে ভূ-ভাগ ভাঁজ খেয়ে উঁচু হয়ে উঠলে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়।
7. ভঙ্গিল পর্বত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) অগ্নুৎপাতে
খ) খ) দুটি পাতের সংঘর্ষে ভাঁজ খেয়ে
গ) গ) নদীর ক্ষয়ে
ঘ) ঘ) বায়ুর সঞ্চয়ে
ব্যাখ্যা: দুটি ভূ-পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে এলে প্রবল চাপে মাঝখানের ভূ-ভাগ ভাঁজ খেয়ে উঁচু হয়ে উঠে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি করে। যেমন হাতের দুই পাশ থেকে টেবিলের কাগজ ঠেললে তা ভাঁজ হয়ে উপরে ওঠে — ঠিক তেমনই।
8. স্তূপ পর্বত (Block Mountain) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) অগ্নুৎপাতে
খ) খ) ভাঁজ খেয়ে
গ) গ) ভূ-আলোড়নে ভূপৃষ্ঠ ফেটে উঠে যাওয়ায়
ঘ) ঘ) নদী সঞ্চয়ে
ব্যাখ্যা: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে ফাটল সৃষ্টি হলে মাঝখানের ভূখণ্ড স্তূপ বা ব্লকের মতো উপরে উঠে আসে এবং স্তূপ পর্বত সৃষ্টি করে। ভারতের সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোজেস এর উদাহরণ।
9. ফুজিয়ামা, এটনা, কিলিমাঞ্জারো কোন ধরনের পর্বত?
ক) ক) ভঙ্গিল পর্বত
খ) খ) স্তূপ পর্বত
গ) গ) আগ্নেয় পর্বত
ঘ) ঘ) ক্ষয়জাত পর্বত
ব্যাখ্যা: আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাতের সময় লাভা, ছাই, ছোট পাথর বেরিয়ে এসে চারিদিকে জমা হয়ে ত্রিকোণা শঙ্কুর মতো যে পর্বত সৃষ্টি করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) বলে। জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির এটনা, আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো, ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া এর উদাহরণ।
10. সাতপুরা কোন ধরনের পর্বত?
ক) ক) ভঙ্গিল পর্বত
খ) খ) স্তূপ পর্বত
গ) গ) আগ্নেয় পর্বত
ঘ) ঘ) লাভা পর্বত
ব্যাখ্যা: ভারতের সাতপুরা পর্বত একটি স্তূপ পর্বত (Block Mountain)। ভূ-আলোড়নের ফলে ফাটল ধরে মাঝের ভূখণ্ড উপরে উঠে যাওয়ায় এটি সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্টও স্তূপ পর্বত।
11. পর্বত কাকে বলে?
ক) ক) ৩০০ মিটারের কম উঁচু ভূমি
খ) খ) ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু বিস্তৃত ভূমি
গ) গ) সমতল ভূমি
ঘ) ঘ) নদী উপত্যকা
ব্যাখ্যা: সাধারণত ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু, অনেকদূর বিস্তৃত, শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিভাগকে পর্বত (Mountain) বলে। পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পর্বতময়। পর্বতের বেশিরভাগ অংশই খাড়া ঢালযুক্ত ও খুব উঁচু-নিচু হয়।
12. পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
ক) ক) কাঞ্চনজঙ্ঘা
খ) খ) মাউন্ট এভারেস্ট
গ) গ) K2
ঘ) ঘ) মাউন্ট ফুজি
ব্যাখ্যা: হিমালয় পর্বতের মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মিটার বা ৮৮৪৮ মি) পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি নেপাল ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত। নেপালে একে 'সাগরমাথা' এবং তিব্বতে 'চোমোলুংমা' বলা হয়।
13. পর্বতশ্রেণি কাকে বলে?
ক) ক) একটি পর্বত
খ) খ) অনেকগুলি পর্বতশৃঙ্গ ও উপত্যকার সমষ্টি
গ) গ) নদী উপত্যকা
ঘ) ঘ) সমভূমি
ব্যাখ্যা: অনেকগুলো পর্বতশৃঙ্গ ও উপত্যকা বিরাট অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করলে পর্বতশ্রেণি (Mountain Range) তৈরি হয়। যেমন — হিমালয় পর্বতশ্রেণি, আল্পস পর্বতশ্রেণি। আবার বিভিন্ন দিক থেকে অনেকগুলো পর্বতশ্রেণি এসে মিলিত হলে পর্বতগ্রন্থি (Mountain Knot) সৃষ্টি হয়।
14. মালভূমি কাকে বলে?
ক) ক) সমতল নিচু ভূমি
খ) খ) চারিদিকে খাড়া ঢালযুক্ত উঁচু বিস্তীর্ণ ভূমি
গ) গ) পর্বতশৃঙ্গ
ঘ) ঘ) নদী উপত্যকা
ব্যাখ্যা: আশেপাশের অঞ্চলের সাপেক্ষে হঠাৎ উঁচু (সাধারণত ৩০০ মিটারের বেশি), বিস্তীর্ণ ভূভাগ যার চারিদিকে খাড়া ঢাল থাকে, তাকে মালভূমি (Plateau) বলে। উপরের অংশ সমতল বা কিছুটা উঁচু-নিচু। পৃথিবীর বেশিরভাগ স্থলভাগই মালভূমি দ্বারা গঠিত।
15. পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি কোনটি?
ক) ক) তিব্বত মালভূমি
খ) খ) ছোটানাগপুর মালভূমি
গ) গ) পামীর মালভূমি
ঘ) ঘ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি
ব্যাখ্যা: পামীর মালভূমি (৪,৮৭৩ মিটার উঁচু) পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি, একে 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the World) বলা হয়। তিব্বত মালভূমি (৩,৬৫৫ মি) পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি। লাদাখ মালভূমিও উচ্চ মালভূমি।
16. 'পৃথিবীর ছাদ' কাকে বলা হয়?
ক) ক) তিব্বত মালভূমি
খ) খ) পামীর মালভূমি
গ) গ) মাউন্ট এভারেস্ট
ঘ) ঘ) হিমালয়
ব্যাখ্যা: পামীর মালভূমি (Pamir Plateau) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা ৪,৮৭৩ মিটার — পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি। তাই একে 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the World) বলা হয়। এটি তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও কিরগিজস্তানের সীমান্তে অবস্থিত।
17. তিব্বত মালভূমি কোথায় অবস্থিত?
ক) ক) হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে
খ) খ) বিন্ধ্য ও সাতপুরার মাঝে
গ) গ) আরাবল্লী ও নীলগিরির মাঝে
ঘ) ঘ) আল্পস ও পিরেনিজের মাঝে
ব্যাখ্যা: তিব্বত মালভূমি হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে অবস্থিত। এটি একটি আন্তঃপর্বত মালভূমি (Intermontane Plateau), উচ্চতা ৩,৬৫৫ মিটার এবং পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি। এর গড় উচ্চতা অনেক বেশি বলে একে 'বিশ্বের ছাদ' নামেও অভিহিত করা হয়।
18. লাভাগঠিত মালভূমির উদাহরণ কোনটি?
ক) ক) তিব্বত মালভূমি
খ) খ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি
গ) গ) পামীর মালভূমি
ঘ) ঘ) ছোটানাগপুর মালভূমি
ব্যাখ্যা: দাক্ষিণাত্য মালভূমি ও মালব মালভূমি লাভাগঠিত মালভূমির (Volcanic Plateau) উদাহরণ। অগ্ন্যুৎপাতের সময় গরম লাভা বেরিয়ে এসে অনেকদূর ছড়িয়ে পড়ে বিরাট মালভূমি সৃষ্টি করে। দাক্ষিণাত্যের বেসাল্ট শিলা এরূপ লাভা থেকে সৃষ্টি।
19. ছোটানাগপুর মালভূমি কোন ধরনের?
ক) ক) লাভাগঠিত
খ) খ) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি
গ) গ) আন্তঃপর্বত মালভূমি
ঘ) ঘ) মহাদেশীয় মালভূমি
ব্যাখ্যা: ছোটানাগপুর মালভূমি একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau)। নদী উপত্যকা দ্বারা এই মালভূমি বিচ্ছিন্ন বা বিভক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ এই মালভূমির অন্তর্গত। এখানকার মাটি লাল, কাঁকর বিছানো।
20. পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলাগুলো মালভূমি অঞ্চলে পড়ে?
ক) ক) কলকাতা, হাওড়া
খ) খ) বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া
গ) গ) দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি
ঘ) ঘ) নদিয়া, মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলো — বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ ছোটানাগপুর মালভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত। এখানকার ভূমি উঁচু-নিচু, লাল মাটি ও পাথুরে জমি, শাল-পলাশ-মহুয়ার বন।
21. সমভূমি কাকে বলে?
ক) ক) উঁচু বিস্তীর্ণ ভূমি
খ) খ) নিচু, সমতল, বিস্তীর্ণ ভূমি
গ) গ) পর্বতশৃঙ্গ
ঘ) ঘ) খাড়া ঢালযুক্ত ভূমি
ব্যাখ্যা: কোনো নিচু, সমতল, বিস্তীর্ণ ভূমিরূপকে সমভূমি (Plain) বলে। সমভূমির উচ্চতা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের কম হয়। উপরিভাগ সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো। পৃথিবীর বেশিরভাগ সমভূমি নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্টি — এখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে।
22. গাঙ্গেয় সমভূমি কোন ধরনের?
ক) ক) লাভা সমভূমি
খ) খ) পলিগঠিত সমভূমি
গ) গ) লোয়েস সমভূমি
ঘ) ঘ) হিমবাহ সমভূমি
ব্যাখ্যা: ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি নদীর পলি সঞ্চয়ে সৃষ্টি — এটি পলিগঠিত সমভূমি (Alluvial Plain)। এশিয়ার গাঙ্গেয় সমভূমি, আফ্রিকার নীলনদের সমভূমি, উত্তর আমেরিকার প্রেইরি — সবই বিখ্যাত পলি সমভূমি। এগুলো অত্যন্ত উর্বর ও জনবহুল।
23. সমভূমি অঞ্চলে মানুষ বেশি বাস করে কেন?
ক) ক) পাহাড়ি দৃশ্য ভালো লাগে
খ) খ) সমতল ও উর্বর জমি কৃষি ও বসবাসের উপযোগী
গ) গ) পানি না থাকায়
ঘ) ঘ) ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা: সমভূমি নিচু, সমতল ও বিস্তীর্ণ। নদীর পলি সঞ্চয়ে সৃষ্ট সমভূমি অত্যন্ত উর্বর — কৃষিকাজে উপযোগী। যাতায়াত, নগরায়ণ, শিল্প স্থাপনের জন্য সমতল ভূমি আদর্শ। তাই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ সমভূমি অঞ্চলে বসবাস করে। যেমন — গাঙ্গেয় সমভূমি।
24. লাভা সমভূমির উদাহরণ কোনটি?
ক) ক) গাঙ্গেয় সমভূমি
খ) খ) দাক্ষিণাত্যের উত্তরাংশের সমভূমি
গ) গ) নীলনদের সমভূমি
ঘ) ঘ) প্রেইরি সমভূমি
ব্যাখ্যা: আগ্নেয়গিরির লাভা জমে লাভা সমভূমি (Lava Plain) তৈরি হয়। ভারতের দাক্ষিণাত্যের উত্তরাংশের সমভূমি লাভা সমভূমির উদাহরণ। দাক্ষিণাত্যের বেসাল্ট স্তর (Deccan Traps) একসময়ের বিশাল লাভা প্রবাহের ফল।
25. লোয়েস সমভূমি কী?
ক) ক) নদী পলি সমভূমি
খ) খ) মরুভূমির বালি উড়ে গিয়ে সৃষ্ট সমভূমি
গ) গ) লাভা সমভূমি
ঘ) ঘ) হিমবাহ সৃষ্ট সমভূমি
ব্যাখ্যা: লোয়েস সমভূমি (Loess Plain): মরুভূমির বালি বায়ুপ্রবাহে বহুদূরে উড়ে গিয়ে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি তৈরি হয়, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। চীনের হোয়াংহো নদীর অববাহিকা পৃথিবীর বিখ্যাত লোয়েস সমভূমি। এই মাটি অত্যন্ত উর্বর কিন্তু ক্ষয়প্রবণ।
26. পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির উচ্চতা কীরূপ?
ক) ক) সমভূমি > মালভূমি > পর্বত
খ) খ) পর্বত > মালভূমি > সমভূমি
গ) গ) মালভূমি > পর্বত > সমভূমি
ঘ) ঘ) তিনটিই সমান
ব্যাখ্যা: উচ্চতার ক্রম: পর্বত (৯০০ মিটারের বেশি, সর্বোচ্চ ৮৮৪৮ মি) > মালভূমি (সাধারণত ৩০০-৫০০০ মি) > সমভূমি (সাধারণত ৩০০ মিটারের কম)। পর্বতের চূড়া সূচালো ও খাড়া, মালভূমির উপরটা সমতল ও চারিদিকে খাড়া ঢাল, সমভূমি সমতল।
27. কোন শক্তির প্রভাবে নদী, বায়ু, হিমবাহ ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়?
ক) ক) অভ্যন্তরীণ শক্তি
খ) খ) বহির্জাত শক্তি
গ) গ) মহাকর্ষ
ঘ) ঘ) সৌর শক্তি
ব্যাখ্যা: বহির্জাত শক্তি (Exogenic Forces) যেমন নদী, বায়ু, বৃষ্টি, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি ভূমিরূপের ওপর ক্রমাগত কাজ করে ক্ষয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়। নদী উপত্যকা সৃষ্টি, ব-দ্বীপ গঠন, মরুভূমির বালিয়াড়ি — সবই বহির্জাত শক্তির কাজ।
28. পর্বতশৃঙ্গ ও উপত্যকার সমষ্টিকে কী বলে?
ক) ক) পর্বতগ্রন্থি
খ) খ) পর্বতশ্রেণি
গ) গ) মালভূমি
ঘ) ঘ) সমভূমি
ব্যাখ্যা: অনেকগুলো পর্বতশৃঙ্গ আর উপত্যকা বিরাট অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করলে পর্বতশ্রেণি (Mountain Range) তৈরি হয়। যেমন — হিমালয় পর্বতশ্রেণি। আর বিভিন্ন দিক থেকে অনেকগুলো পর্বতশ্রেণি এসে এক জায়গায় মিলিত হলে তাকে পর্বতগ্রন্থি (Mountain Knot) বলে — যেমন পামীর গ্রন্থি।
29. ইউরোপের বিখ্যাত ভঙ্গিল পর্বত কোনটি?
ক) ক) ইউরাল
খ) খ) আল্পস
গ) গ) ব্ল্যাক ফরেস্ট
ঘ) ঘ) পিরেনিজ
ব্যাখ্যা: ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা একটি নবীন ভঙ্গিল পর্বত (Young Fold Mountain)। এটি ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, জার্মানি প্রভৃতি দেশে বিস্তৃত। মাউন্ট ব্লাঙ্ক (৪,৮০৮ মি) আল্পসের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
30. ভারতের প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত কোনটি?
ক) ক) হিমালয়
খ) খ) আরাবল্লী
গ) গ) সাতপুরা
ঘ) ঘ) বিন্ধ্য
ব্যাখ্যা: আরাবল্লী পর্বত ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত (Old Fold Mountain)। দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের ফলে এর উচ্চতা অনেক কমে গেছে — চূড়াগুলো গোলাকার। এটি গুজরাট থেকে দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত। গুরুশিখর (১,৭২২ মি) এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)

23 টি
1. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বহির্জাত শক্তি কী কী?
পৃথিবীর ভূমিরূপ সৃষ্টিকারী শক্তি দুই প্রকার: (১) অভ্যন্তরীণ শক্তি (Endogenic Forces): পৃথিবীর ভিতরকার শক্তি যা ভূ-আলোড়ন, পাত সঞ্চালন, আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পের মাধ্যমে পাহাড়-পর্বত, মালভূমি ইত্যাদি সৃষ্টি করে। (২) বহির্জাত শক্তি (Exogenic Forces): বাইরের প্রাকৃতিক শক্তি যেমন নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ, বৃষ্টি — এগুলো ভূমিরূপের উপর কাজ করে ক্ষয় ও সঞ্চয় ঘটায়।
2. পর্বত কাকে বলে? পর্বতের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
পর্বত (Mountain): সাধারণত ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু, অনেকদূর বিস্তৃত, শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিভাগকে পর্বত বলে। বৈশিষ্ট্য: (১) পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পর্বতময়, (২) বেশিরভাগ অংশই খাড়া ঢালযুক্ত ও উঁচু-নিচু, (৩) ওপরের দিকে সরু, সূচালো অংশকে পর্বতশৃঙ্গ বা চূড়া বলে, (৪) দুটি চূড়ার মাঝের নিচু অংশ উপত্যকা, (৫) মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮ মি) সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
3. ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) কীভাবে সৃষ্টি হয়? উদাহরণ দাও।
ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়া: দুটি ভূ-পাত (Tectonic Plates) পরস্পরের দিকে অগ্রসর হলে প্রবল চাপে মাঝখানের ভূ-ভাগে ভাঁজ পড়ে এবং তা উপরের দিকে উঁচু হয়ে ওঠে — একেই ভঙ্গিল পর্বত বলে। পরীক্ষা: টেবিলের উপর কয়েকটা কাগজ রেখে দুধার থেকে হাত দিয়ে মাঝখানের দিকে ঠেললে কাগজ ভাঁজ হয়ে উপরে ওঠে। উদাহরণ: হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ, আরাবল্লী। নবীন ভঙ্গিল পর্বতের চূড়া সূচালো, প্রাচীনের চূড়া ক্ষয়ে গোলাকার।
4. স্তূপ পর্বত (Block Mountain) কী? উদাহরণ দাও।
স্তূপ পর্বত (Block Mountain): ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং মাঝখানের ভূখণ্ড স্তূপ বা ব্লকের মতো উপরে উঠে আসে — একে স্তূপ পর্বত বলে। বৈশিষ্ট্য: এদের চূড়া সাধারণত সমতল ও খাড়া ঢালযুক্ত হয়। উদাহরণ: ভারতের সাতপুরা পর্বত, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট (Black Forest), ফ্রান্সের ভোজেস (Vosges)।
5. আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain): অগ্নুৎপাতের সময় ভূগর্ভ থেকে গরম লাভা, ছাই, ছোট ছোট পাথর বেরিয়ে এসে আগ্নেয়গিরির চারিদিকে জমা হয়ে ত্রিকোণা শঙ্কুর (Cone) মতো যে পর্বত সৃষ্টি করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে। উদাহরণ: ইতালির ইটালির এটনা ও ভিসুভিয়াস, আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো, জাপানের ফুজিয়ামা (মাউন্ট ফুজি), ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে অনেক আগ্নেয় পর্বত আছে — একে 'প্রশান্ত আগ্নেয় বলয়' (Pacific Ring of Fire) বলে।
6. নবীন ও প্রাচীন পর্বতের পার্থক্য কী?
নবীন পর্বত: সম্প্রতি সৃষ্টি হয়েছে — যেমন হিমালয়, আল্পস, আন্দিজ। উচ্চতা অনেক বেশি, চূড়া সূচালো, খাড়া ঢাল, ক্ষয় কম হয়েছে। প্রাচীন পর্বত: অনেক আগে সৃষ্টি — যেমন আরাবল্লী, আপালেশিয়ান, ইউরাল। দীর্ঘদিনের নদী-বায়ু-বৃষ্টির ক্ষয়ে উচ্চতা কমে গেছে, চূড়া গোলাকার, ঢাল কম খাড়া। নবীন পর্বতে ভূমিকম্প ও ভূ-আলোড়নের প্রভাব বেশি দেখা যায়।
7. মালভূমি কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য কী?
মালভূমি (Plateau): আশেপাশের অঞ্চলের সাপেক্ষে হঠাৎ উঁচু (সাধারণত ৩০০ মিটারের বেশি), বিস্তীর্ণ ভূভাগ যার চারিদিকে খাড়া ঢাল থাকে, তাকে মালভূমি বলে। বৈশিষ্ট্য: (১) উপরিভাগ সমতল বা কিছুটা উঁচু-নিচু হতে পারে, (২) পৃথিবীর বেশিরভাগ স্থলভাগই মালভূমি, (৩) এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার বেশিরভাগ অংশ মালভূমি, (৪) পামীর মালভূমি (৪,৮৭৩ মি) সর্বোচ্চ — 'পৃথিবীর ছাদ', (৫) তিব্বত মালভূমি (৩,৬৫৫ মি) বৃহত্তম।
8. মালভূমি কত প্রকার ও কী কী?
মালভূমি প্রধানত চার প্রকার: (১) আন্তঃপর্বত মালভূমি (Intermontane Plateau): পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত — যেমন তিব্বত মালভূমি, পামীর মালভূমি। (২) মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau): মহাদেশের বড় অংশ জুড়ে — যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। (৩) লাভাগঠিত মালভূমি (Volcanic Plateau): অগ্ন্যুৎপাতের লাভায় সৃষ্টি — যেমন দাক্ষিণাত্য মালভূমি, মালব মালভূমি। (৪) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau): নদী উপত্যকা দ্বারা বিভক্ত — যেমন ছোটানাগপুর মালভূমি।
9. তিব্বত মালভূমি সম্পর্কে কী জানো?
তিব্বত মালভূমি: হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে অবস্থিত একটি আন্তঃপর্বত মালভূমি। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি (প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি)। গড় উচ্চতা ৩,৬৫৫ মিটার — প্রায় ৪ কিমির বেশি উঁচু। একে 'বিশ্বের ছাদ' (Roof of the World) বলা হয়। এটি চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত। ইয়াংসি, হোয়াংহো, মেকং প্রভৃতি নদীর উৎস এখানে।
10. পামীর মালভূমির বিশেষত্ব কী?
পামীর মালভূমি (Pamir Plateau): মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি — গড় উচ্চতা ৪,৮৭৩ মিটার। একে 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the World) বলা হয়। তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও কিরগিজস্তানের সীমান্তে অবস্থিত। একাধিক পর্বতশ্রেণি এখানে মিলিত হওয়ায় একে 'পামীর গ্রন্থি' (Pamir Knot) বলে।
11. সমভূমি কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?
সমভূমি (Plain): কোনো নিচু, সমতল, বিস্তীর্ণ ভূমিরূপকে সমভূমি বলে। এর উচ্চতা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের কম। প্রকারভেদ: (১) পলিগঠিত সমভূমি (Alluvial Plain) — নদীর পলি সঞ্চয়ে সৃষ্টি, যেমন গাঙ্গেয় সমভূমি, নীলনদের সমভূমি। (২) লাভা সমভূমি (Lava Plain) — অগ্ন্যুৎপাতের লাভায় সৃষ্টি, যেমন দাক্ষিণাত্যের উত্তরাংশ। (৩) লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) — মরুভূমির বালি উড়ে সঞ্চয়ে সৃষ্টি, যেমন চীনের হোয়াংহো সমভূমি।
12. পলিগঠিত সমভূমির বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব কী?
পলিগঠিত সমভূমি (Alluvial Plain): নদী, সমুদ্র, হিমবাহ দীর্ঘদিন ধরে পলি জমিয়ে এই সমভূমি সৃষ্টি করে। বৈশিষ্ট্য: (১) মাটি অত্যন্ত উর্বর, (২) সমতল হওয়ায় কৃষিকাজ, যাতায়াত, বসবাস সহজ, (৩) পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ এই সমভূমিতে বাস করে। উদাহরণ: ভারতের সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি, আফ্রিকার নীলনদের সমভূমি, উত্তর আমেরিকার প্রেইরি সমভূমি।
13. পর্বতশৃঙ্গ ও পর্বতশ্রেণির মধ্যে পার্থক্য কী?
পর্বতশৃঙ্গ (Mountain Peak): পর্বতের উপরের দিকের সরু, সূচালো বা গোলাকার সর্বোচ্চ অংশকে পর্বতশৃঙ্গ বা চূড়া বলে। একটি পর্বতের একটিই চূড়া থাকে। উদাহরণ: মাউন্ট এভারেস্ট (হিমালয়ের একটি শৃঙ্গ)। পর্বতশ্রেণি (Mountain Range): অনেকগুলো পর্বতশৃঙ্গ ও উপত্যকার সমষ্টি যা বিরাট অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত — যেমন হিমালয় পর্বতশ্রেণি, আল্পস পর্বতশ্রেণি। অনেকগুলো পর্বতশ্রেণি মিলিত হলে পর্বতগ্রন্থি হয়।
14. ছোটানাগপুর মালভূমি সম্পর্কে একটি টীকা লেখো।
ছোটানাগপুর মালভূমি ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি। নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন ও ক্ষয়প্রাপ্ত। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ এই মালভূমির অন্তর্গত। বৈশিষ্ট্য: লাল, কাঁকর বিছানো মাটি; উঁচু-নিচু পাথুরে জমি; শাল, পলাশ, মহুয়ার বন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা ৩০০-৬০০ মিটার। প্রচুর খনিজ সম্পদ (লোহা, কয়লা, তামা) থাকায় এই অঞ্চল ভারতের 'খনিজ ভান্ডার' নামে পরিচিত।
15. পর্বত ও মালভূমির মধ্যে পার্থক্য কী?
পার্থক্য: (১) উচ্চতা: পর্বত ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু (সর্বোচ্চ ৮৮৪৮ মি), মালভূমির গড় উচ্চতা ৩০০-৫০০০ মি কিন্তু উপরের অংশ সমতল। (২) চূড়া: পর্বতের চূড়া সূচালো বা গোলাকার; মালভূমির উপরটা সমতল বা ঢেউ খেলানো। (৩) ঢাল: পর্বতের ঢাল খাড়া; মালভূমির চারিদিকে খাড়া ঢাল থাকলেও উপরটায় ঢাল কম। (৪) বিস্তৃতি: মালভূমি পর্বতের চেয়ে বেশি বিস্তৃত। (৫) উদাহরণ: পর্বত — হিমালয়; মালভূমি — তিব্বত মালভূমি।
16. মালভূমি ও সমভূমির মধ্যে পার্থক্য কী?
পার্থক্য: (১) উচ্চতা: মালভূমির গড় উচ্চতা ৩০০-৫০০০ মি; সমভূমি ৩০০ মিটারের কম উঁচু। (২) ভূমিরূপ: মালভূমি হঠাৎ উঁচু ও চারিদিকে খাড়া ঢালযুক্ত; সমভূমি সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো। (৩) অবস্থান: মালভূমি পাহাড়ের মধ্যে বা বিস্তীর্ণ মহাদেশীয় অঞ্চলে; সমভূমি নদী উপত্যকায়। (৪) উর্বরতা: সমভূমির মাটি অধিক উর্বর ও জনবহুল; মালভূমিতে মাটি কম উর্বর, মানুষ কম বাস করে। (৫) উদাহরণ: মালভূমি — দাক্ষিণাত্য; সমভূমি — গাঙ্গেয় সমভূমি।
17. প্লেট টেকটনিক্স বা পাত সঞ্চালন তত্ত্ব কী?
প্লেট টেকটনিক্স তত্ত্ব: ভূপৃষ্ঠ কতকগুলো ছোট-বড় পাতের (Plates) সমন্বয়ে গঠিত। মহাদেশ ও মহাসাগরগুলো এই পাতগুলোর উপর অবস্থিত। পাতগুলো একটি তরল স্তরের (অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার) উপর ভাসছে। ভাসতে ভাসতে পাতগুলো কখনো পরস্পরের দিকে এগিয়ে থাকে (সংঘর্ষ → ভঙ্গিল পর্বত), কখনো দূরে সরে যায় (→ ফাটল → স্তূপ পর্বত বা আগ্নেয়গিরি), কখনো পাশাপাশি ঘষা খায় (→ ভূমিকম্প)। পাত সঞ্চালনের ফলেই পাহাড়-পর্বত, মালভূমি, সমভূমি সৃষ্টি হয়।
18. ভূমিরূপের সাথে মানুষের জীবনের সম্পর্ক কী?
ভূমিরূপের সাথে মানুষের জীবন গভীরভাবে সম্পর্কিত: (১) সমভূমিতে কৃষি, বসবাস, যাতায়াত, শিল্প স্থাপন সহজ — তাই এখানে জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। (২) মালভূমি অঞ্চলে খনিজ সম্পদ (লোহা, কয়লা) বেশি — শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠে। (৩) পর্বত অঞ্চলে কৃষি সীমিত কিন্তু পর্যটন, বনজ সম্পদ, জলবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ। ভূমির প্রকৃতি যেরকম, মানুষ তেমনভাবেই জীবনযাত্রা গড়ে তোলে — এটি জীবিকা, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ধারক ও নিয়ন্ত্রক।
19. আন্তঃপর্বত মালভূমি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
আন্তঃপর্বত মালভূমি (Intermontane Plateau): দুই বা ততোধিক পর্বতশ্রেণির মাঝে অবস্থিত উচ্চ মালভূমিকে আন্তঃপর্বত মালভূমি বলে। এগুলো সাধারণত সবচেয়ে উঁচু ও বিস্তৃত হয়। উদাহরণ: (১) তিব্বত মালভূমি — হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে, পৃথিবীর বৃহত্তম, (২) পামীর মালভূমি — পৃথিবীর সর্বোচ্চ ('পৃথিবীর ছাদ')। আন্তঃপর্বত মালভূমিগুলো সাধারণত শুষ্ক ও শীতল এবং জনবিরল।
20. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে?
ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (Dissected Plateau): নদী ও তার উপনদীগুলো দীর্ঘদিন ধরে মালভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে মালভূমিটি ক্ষয়প্রাপ্ত ও কেটে খান-খান হয়ে যায়। একে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে। এই মালভূমিতে অনেক উপত্যকা, গিরিখাত সৃষ্টি হয়। উদাহরণ: ভারতের ছোটানাগপুর মালভূমি। এ ধরনের মালভূমির উপরিভাগ সমতল নয় — জায়গায় জায়গায় উঁচু-নিচু ও পাথুরে।
21. পর্বত ও সমভূমির মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
পার্থক্য: (১) উচ্চতা: পর্বত ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু (সর্বোচ্চ ৮৮৪৮ মি), সমভূমি ৩০০ মিটারের কম উঁচু। (২) ভূমিরূপ: পর্বতের ঢাল খাড়া ও চূড়া সূচালো বা গোলাকার; সমভূমি সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো, নিচু। (৩) জনবসতি: পর্বতে কম মানুষ বাস করে — যাতায়াত কঠিন; সমভূমিতে বেশি মানুষ বাস করে — কৃষি ও বসবাসের জন্য আদর্শ। (৪) সৃষ্টির কারণ: পর্বত অভ্যন্তরীণ শক্তির প্রভাবে সৃষ্টি; অধিকাংশ সমভূমি নদীর পলি সঞ্চয়ে সৃষ্টি।
22. পর্বতগ্রন্থি (Mountain Knot) কাকে বলে?
পর্বতগ্রন্থি (Mountain Knot): বিভিন্ন দিক থেকে অনেকগুলো পর্বতশ্রেণি এসে এক জায়গায় মিলিত বা কেন্দ্রীভূত হলে পর্বতগ্রন্থি সৃষ্টি হয়। যেমন — পামীর গ্রন্থি (Pamir Knot): এখানে হিমালয়, কুনলুন, কারাকোরাম, হিন্দুকুশ, তিয়েন শান প্রভৃতি পর্বতশ্রেণি মিলিত হয়েছে। একে 'পৃথিবীর ছাদ' বলে। আর্মেনীয় গ্রন্থি আরেকটি উদাহরণ যেখানে তোরোস, জাগ্রোস, ককেশাস প্রভৃতি পর্বত মিলিত হয়েছে।
23. পশ্চিমবঙ্গের ভূমিরূপের বৈচিত্র্য বর্ণনা করো।
পশ্চিমবঙ্গের ভূমিরূপ অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ: (১) উত্তরে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চল — হিমালয়ের অংশ, চা বাগান, পর্যটন (২) পশ্চিমের জেলাগুলো (বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া) — ছোটানাগপুর মালভূমির অংশ, লাল মাটি, উঁচু-নিচু পাথুরে জমি, শাল-পলাশের বন, কোপাই নদী, (৩) দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গ — গাঙ্গেয় পলিগঠিত সমভূমি, উর্বর জমি, ধান চাষ, (৪) দক্ষিণে সুন্দরবন — ব-দ্বীপ অঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বন। একই রাজ্যে পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ও ব-দ্বীপ — সব ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)

8 টি
1. পর্বত কাকে বলে? উৎপত্তি অনুসারে পর্বত কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার পর্বতের বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করো।

পর্বত (Mountain)

সাধারণত ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু, অনেকদূর বিস্তৃত, শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিভাগকে পর্বত বলে। স্থলভাগের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পর্বতময়।

উৎপত্তি অনুসারে পর্বত তিন প্রকার:

১. ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain):

দুটি ভূ-পাতের সংঘর্ষে প্রবল চাপে ভূ-ভাগ ভাঁজ খেয়ে উঁচু হয়ে ওঠে। বৈশিষ্ট্য: বহু ভাঁজযুক্ত, দীর্ঘ পর্বতশ্রেণি, নবীন হলে চূড়া সূচালো, প্রাচীন হলে গোলাকার। উদাহরণ: হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ, আরাবল্লী।

২. স্তূপ পর্বত (Block Mountain):

ভূ-আলোড়নে ভূপৃষ্ঠে ফাটল ধরে মাঝখানের ভূখণ্ড ব্লকের মতো উপরে ওঠে। বৈশিষ্ট্য: চূড়া সমতল, পাশের ঢাল খাড়া। উদাহরণ: সাতপুরা (ভারত), ব্ল্যাক ফরেস্ট (জার্মানি), ভোজেস (ফ্রান্স)।

৩. আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain):

অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভা, ছাই, পাথর জমে শঙ্কুর মতো পর্বত সৃষ্টি হয়। বৈশিষ্ট্য: শঙ্কু আকৃতি, জ্বালামুখ থাকে। উদাহরণ: ফুজিয়ামা (জাপান), এটনা ও ভিসুভিয়াস (ইতালি), কিলিমাঞ্জারো (আফ্রিকা), ক্রাকাতোয়া (ইন্দোনেশিয়া)।

2. মালভূমি কাকে বলে? এর শ্রেণিবিভাগ ও বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। বিভিন্ন প্রকার মালভূমির উদাহরণ দাও।

মালভূমি (Plateau)

আশেপাশের অঞ্চলের সাপেক্ষে হঠাৎ উঁচু (৩০০ মিটারের বেশি), বিস্তীর্ণ ভূভাগ, যার চারিদিকে খাড়া ঢাল থাকে এবং উপরিভাগ সমতল বা কিছুটা উঁচু-নিচু — তাকে মালভূমি বলে।

প্রকারভেদ:

প্রকারবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
আন্তঃপর্বত মালভূমিদুই বা ততোধিক পর্বতের মাঝে, সর্বোচ্চ ও বিস্তৃততিব্বত (বৃহত্তম), পামীর (সর্বোচ্চ)
মহাদেশীয় মালভূমিমহাদেশের বড় অংশ জুড়েদক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া
লাভাগঠিত মালভূমিঅগ্ন্যুৎপাতের লাভায় সৃষ্টিদাক্ষিণাত্য, মালব মালভূমি
ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমিনদী উপত্যকা দ্বারা বিভক্ত ও ক্ষয়প্রাপ্তছোটানাগপুর মালভূমি
মনে রাখার মতো তথ্য:
  • সর্বোচ্চ মালভূমি: পামীর (৪,৮৭৩ মি) — 'পৃথিবীর ছাদ'
  • বৃহত্তম মালভূমি: তিব্বত (প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি)
  • পশ্চিমবঙ্গে: বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়ায় ছোটানাগপুর মালভূমির অংশ
3. সমভূমি কাকে বলে? সমভূমি কত প্রকার ও কী কী? পলিগঠিত সমভূমির গুরুত্ব আলোচনা করো।

সমভূমি (Plain)

কোনো নিচু, সমতল, বিস্তীর্ণ ভূমিরূপকে সমভূমি বলে। এর উচ্চতা সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের কম। উপরিভাগ সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো।

প্রকারভেদ:

  1. পলিগঠিত সমভূমি (Alluvial Plain): নদী, সমুদ্র, হিমবাহের পলি সঞ্চয়ে সৃষ্টি — যেমন গাঙ্গেয় সমভূমি, নীলনদের সমভূমি, প্রেইরি।
  2. লাভা সমভূমি (Lava Plain): অগ্ন্যুৎপাতের লাভায় সৃষ্টি — যেমন দাক্ষিণাত্যের উত্তরাংশের সমভূমি।
  3. লোয়েস সমভূমি (Loess Plain): মরুভূমির বালি বায়ুপ্রবাহে উড়ে এসে জমে — যেমন চীনের হোয়াংহো অববাহিকা।

পলিগঠিত সমভূমির গুরুত্ব:

  • মাটি অত্যন্ত উর্বর — কৃষিকাজে সেরা
  • সমতল হওয়ায় যাতায়াত, রেলপথ, শহর নির্মাণ সহজ
  • জলসেচের জন্য নদীর জল সহজলভ্য
  • পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ এ ধরনের সমভূমিতে বাস করে
  • সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল
4. পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির মধ্যে পার্থক্যগুলি টেবিল আকারে দেখাও। এই তিন ধরনের ভূমিরূপ কীভাবে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করে?

পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির পার্থক্য:

বিষয়পর্বতমালভূমিসমভূমি
উচ্চতা৯০০ মিটারের বেশি৩০০-৫০০০ মি৩০০ মিটারের কম
ভূমিরূপখাড়া ঢাল, সূচালো/গোলাকার চূড়াচারিদিকে খাড়া ঢাল, উপরে সমতলসমতল বা সামান্য ঢেউ
সৃষ্টির কারণপাত সংঘর্ষ, আগ্নেয়গিরিপাত সঞ্চালন, লাভা, ক্ষয়নদীর পলি সঞ্চয়, লাভা
উদাহরণহিমালয়, আল্পস, ফুজিতিব্বত, ছোটানাগপুরগাঙ্গেয়, নীলনদ
জনবসতিকমমাঝারিসবচেয়ে বেশি

মানুষের জীবনে প্রভাব:

পর্বত: পর্যটন, চা-ফল চাষ, বনজ সম্পদ, জলবিদ্যুৎ — কিন্তু যাতায়াত কঠিন, কৃষিজমি সীমিত। মালভূমি: খনিজ সম্পদ (লোহা, কয়লা, তামা), শিল্পের কাঁচামাল — কিন্তু মাটি কম উর্বর, জলের অভাব। সমভূমি: কৃষি উৎপাদন, নগরায়ণ, শিল্প, সহজ যাতায়াত — সর্বাধিক জনবসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ভূমিরূপই মানুষকে জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির ধারা নির্ধারণ করে দেয়।

5. পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বহির্জাত শক্তি বলতে কী বোঝো? এই দুই শক্তি কীভাবে ভূমিরূপ সৃষ্টি ও পরিবর্তন করে? উদাহরণসহ আলোচনা করো।

অভ্যন্তরীণ শক্তি (Endogenic Forces)

পৃথিবীর ভিতর থেকে উৎপন্ন শক্তি — যেমন ভূ-আলোড়ন, পাত সঞ্চালন, আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্প।

  • ভঙ্গিল পর্বত: পাত সংঘর্ষে ভাঁজ খেয়ে তৈরি — হিমালয়, আল্পস
  • স্তূপ পর্বত: ফাটল ধরে ভূখণ্ড উপরে ওঠে — সাতপুরা
  • আগ্নেয় পর্বত: লাভা জমে শঙ্কু — ফুজিয়ামা, এটনা
  • মালভূমি: লাভা প্রবাহে — দাক্ষিণাত্য, পাত সঞ্চালনে — তিব্বত

বহির্জাত শক্তি (Exogenic Forces)

পৃথিবীর বাইরের প্রাকৃতিক শক্তি — নদী, বায়ু, বৃষ্টি, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ।

  • ক্ষয় (Erosion): নদী, বায়ু শিলার ক্ষয় করে উপত্যকা, গিরিখাত সৃষ্টি করে
  • সঞ্চয় (Deposition): পলি জমে পলিগঠিত সমভূমি (গাঙ্গেয় সমভূমি), ব-দ্বীপ (সুন্দরবন)
  • প্রাচীন পর্বত: দীর্ঘদিনের ক্ষয়ে উচ্চতা কমে — আরাবল্লী, আপালেশিয়ান

অভ্যন্তরীণ শক্তি ভূমিরূপ সৃষ্টি করে (গঠনমূলক), বহির্জাত শক্তি তা ক্ষয় ও সঞ্চয় করে পরিবর্তন আনে (ধ্বংসাত্মক ও গঠনমূলক)। দুই শক্তির যৌথ ক্রিয়াতেই ভূপৃষ্ঠের বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়েছে।

6. ভঙ্গিল পর্বত ও স্তূপ পর্বতের মধ্যে পার্থক্য কী? প্লেট টেকটনিক্স তত্ত্বের সাহায্যে এদের সৃষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

ভঙ্গিল ও স্তূপ পর্বতের পার্থক্য:

বিষয়ভঙ্গিল পর্বতস্তূপ পর্বত
সৃষ্টির প্রক্রিয়াদুটি পাতের সংঘর্ষে ভাঁজ পড়েফাটল ধরে মাঝের অংশ উপরে ওঠে
চূড়ার আকৃতিসূচালো বা গোলাকারচ্যাপ্টা বা সমতল
ঢালদুই পাশেই খাড়া ঢালপাশের ঢাল খুব খাড়া (ফল্ট লাইন)
পাতের গতিপরস্পরের দিকে (Convergent)পরস্পর থেকে দূরে বা টান (Divergent/Tension)
উদাহরণহিমালয়, আল্পস, আন্দিজসাতপুরা, ব্ল্যাক ফরেস্ট

প্লেট টেকটনিক্স তত্ত্ব:

ভূপৃষ্ঠ কতকগুলো ছোট-বড় পাতের (Plates) সমন্বয়ে গঠিত। পাতগুলো তরল অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের উপর ভাসছে এবং ক্রমাগত নড়ছে।

  • অভিসারী পাতসীমা (Convergent): দুটি পাত পরস্পরের দিকে এলে সংঘর্ষে ভাঁজ পড়ে → ভঙ্গিল পর্বত (হিমালয় — ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে)
  • প্রসারী পাতসীমা (Divergent): পাত পরস্পর থেকে দূরে সরলে ফাটল সৃষ্টি → মাঝের ভূখণ্ড উঁচু হয় বা ধসে যায় → স্তূপ পর্বত বা গ্রস্ত উপত্যকা
7. পৃথিবীর বিভিন্ন প্রকার মালভূমির বর্ণনা দাও। তিব্বত, পামীর ও ছোটানাগপুর মালভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।

মালভূমির প্রকারভেদ:

মালভূমি প্রধানত চার প্রকার — আন্তঃপর্বত, মহাদেশীয়, লাভাগঠিত ও ব্যবচ্ছিন্ন।

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মালভূমি:

১. তিব্বত মালভূমি:
  • অবস্থান: হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে, চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল
  • ধরন: আন্তঃপর্বত মালভূমি
  • গড় উচ্চতা: ৩,৬৫৫ মিটার
  • বিশেষত্ব: পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি (প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি), 'বিশ্বের ছাদ'
  • ইয়াংসি, হোয়াংহো, মেকং, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র — বহু নদীর উৎসস্থল
২. পামীর মালভূমি:
  • অবস্থান: মধ্য এশিয়া — তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন, কিরগিজস্তান সীমান্ত
  • গড় উচ্চতা: ৪,৮৭৩ মিটার
  • বিশেষত্ব: পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি — 'পৃথিবীর ছাদ'
  • একাধিক পর্বতশ্রেণি এখানে মিলিত → পামীর গ্রন্থি (Pamir Knot)
৩. ছোটানাগপুর মালভূমি:
  • অবস্থান: ভারতের পূর্বাঞ্চল — ঝাড়খণ্ড ও পার্শ্ববর্তী এলাকা
  • ধরন: ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি (নদী দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত)
  • পশ্চিমবঙ্গের অংশ: বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ
  • বৈশিষ্ট্য: লাল কাঁকর মাটি, পাথুরে জমি, শাল-পলাশ বন, প্রচুর খনিজ (লোহা, কয়লা) — 'ভারতের খনিজ ভান্ডার'
8. পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি টেবিল আকারে তুলনা করো। ভূমিরূপ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংস্কৃতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

তিনটি ভূমিরূপের তুলনা সারণি:

বিষয়পর্বত (Mountain)মালভূমি (Plateau)সমভূমি (Plain)
উচ্চতা৯০০ মি+৩০০-৫০০০ মি৩০০ মি-
ভূমির ঢালখুব খাড়াচারিদিকে খাড়া, উপরে কমসামান্য বা নেই
মাটিপাতলা, অগভীরলাল, কম উর্বরগভীর, উর্বর (পলি)
কৃষিসীমিত — ধাপ চাষ, চা, ফলমাঝারি — শুষ্ক চাষউৎকৃষ্ট — ধান, গম, আখ
খনিজকমপ্রচুর (লোহা, কয়লা, তামা)পেট্রোলিয়াম, গ্যাস
পরিবহনকঠিনআংশিক কঠিনসহজ
জনসংখ্যাকমমাঝারিসর্বোচ্চ
উদাহরণহিমালয়, আল্পসতিব্বত, ছোটানাগপুরগাঙ্গেয়, প্রেইরি

মানুষের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে প্রভাব:

পর্বত: পর্যটন শিল্প (দার্জিলিং, মানালি), বনজ দ্রব্য সংগ্রহ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, ফলের চাষ (আপেল, কমলালেবু), গৃহপালিত পশুপালন (ইয়াক, ভেড়া)। সংস্কৃতিতে — নির্জনতা, ধর্মীয় তীর্থ (অমরনাথ, কৈলাস), স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতি।

মালভূমি: খনিজনির্ভর শিল্প (জামশেদপুর, বোকারো — ইস্পাত), বনজ সম্পদ, ধাতব শিল্প। সাঁওতাল, মুন্ডা প্রভৃতি আদিবাসী সংস্কৃতির কেন্দ্র। ছৌ নাচ, করম উৎসব।

সমভূমি: সর্বাধিক কৃষি উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, সর্বোচ্চ নগরায়ণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সহজলভ্য। গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির পীঠস্থান — হরিদ্বার, বারাণসী, প্রয়াগরাজ।

class-7-geography-chapter-1

মনে রেখো!

পর্বত তিন প্রকার: ভঙ্গিল (হিমালয়), স্তূপ (সাতপুরা), আগ্নেয় (ফুজিয়ামা) | সর্বোচ্চ শৃঙ্গ: মাউন্ট এভারেস্ট (৮৮৪৮ মি) | সর্বোচ্চ মালভূমি: পামীর (৪৮৭৩ মি) — পৃথিবীর ছাদ | বৃহত্তম মালভূমি: তিব্বত | ছোটানাগপুর: ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল | সমভূমি: সবচেয়ে বেশি জনবসতি — গাঙ্গেয় সমভূমি

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - পৃথিবীর অন্দরমহল ও ভূমিরূপ

পর্বত হল ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু, অনেকদূর বিস্তৃত শিলা দ্বারা গঠিত ভূমিভাগ। উৎপত্তি অনুসারে পর্বত তিন প্রকার: (১) ভঙ্গিল পর্বত (পাতের সংঘর্ষে ভাঁজ খেয়ে — হিমালয়, আল্পস), (২) স্তূপ পর্বত (ফাটল ধরে ভূখণ্ড উপরে উঠে — সাতপুরা, ব্ল্যাক ফরেস্ট), (৩) আগ্নেয় পর্বত (লাভা-ছাই জমে — ফুজিয়ামা, এটনা, কিলিমাঞ্জারো)।

মালভূমি: ৩০০-৫০০০ মিটার উঁচু, চারিদিকে খাড়া ঢাল, উপরিভাগ সমতল। অপেক্ষাকৃত কম উর্বর, কম জনবসতি। উদাহরণ — তিব্বত, ছোটানাগপুর। সমভূমি: ৩০০ মিটারের কম উঁচু, সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো। বেশিরভাগই নদীর পলি সঞ্চয়ে সৃষ্ট। অত্যন্ত উর্বর ও সর্বোচ্চ জনবসতি। উদাহরণ — গাঙ্গেয় সমভূমি।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ: মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মিটার) — হিমালয় পর্বতশ্রেণিতে নেপাল ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত। পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি: পামীর মালভূমি (৪,৮৭৩ মিটার) — মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত, একে 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the World) বলে। পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি হল তিব্বত মালভূমি (৩,৬৫৫ মি)।

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলো — বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ ছোটানাগপুর মালভূমির অংশ। এটি একটি ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি। এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য: লাল কাঁকর বিছানো মাটি, উঁচু-নিচু পাথুরে জমি, শাল-পলাশ-মহুয়ার বন, কোপাই নদী। এটি ভারতের খনিজ ভান্ডার নামে পরিচিত।