Sponsored Links
নদীর বিদ্রোহ (মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়)
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, সারাংশ, এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'নদীর বিদ্রোহ' ছোটোগল্পটির সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি এবং পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ, Broad ও ব্যাকরণ) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও প্রকৃতিপ্রেমমূলক ছোটোগল্প। এই গল্পের মূল চরিত্র নদেরচাঁদ, যে পেশায় একজন স্টেশনমাস্টার, কিন্তু হৃদয়ে সে নদীর প্রতি এক গভীর, আদিম এবং প্রায় পাগলামি পর্যায়ে পৌঁছানো ভালোবাসার অধিকারী।
গল্পের শুরুতে আমরা দেখি, ৩০ বছর বয়সি নদেরচাঁদ তার স্টেশনে চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করিয়ে তার নতুন সহকারীর হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নদীর দিকে ছুটে যায়। টানা পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টির পর আজ নদী কেমন রূপ ধারণ করেছে, তা দেখার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। নদেরচাঁদের নদীর ধারে জন্ম, সেখানেই সে মানুষ হয়েছে। তার নিজের দেশের নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে যেমন কেঁদেছিল, ঠিক তেমনি চার বছর ধরে দেখা তার বর্তমান স্টেশনের কাছের এই নদীর জন্য তার মায়া অসীম।
এক মাইল দূরে ব্রিজের কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে যায়। পাঁচদিন আগের পরিপূর্ণ শান্ত নদী আজ যেন উন্মত্ত, বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। জলের ফেনিল আবর্ত তাকে মুগ্ধ করে। সে একটি ইট-সিমেন্টের ধারকস্তম্ভে বসে নদীর সাথে খেলার ছলে একটি পুরোনো চিঠি এবং পরে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দেয়। রাত নামলে এবং বৃষ্টি আবার শুরু হলে একটি ট্রেন যাওয়ার শব্দে তার ঘোর কাটে। হঠাৎ তার মনে হয়, মানুষের তৈরি ইট, লোহা ও সিমেন্টের ব্রিজ এবং বাঁধকে ভেঙে চুরমার করে নদী নিজের স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাওয়ার জন্যই যেন এমন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। অন্ধকারে লাইন ধরে ফেরার পথে এই মনস্তাত্ত্বিক ভাবনার মাঝেই, যে ব্রিজ নিয়ে সে এতকাল গর্ব করত, সেই সভ্যতারই প্রতীক '৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন'-এর চাকায় পিষ্ট হয়ে নদেরচাঁদ মর্মান্তিকভাবে মারা যায়।
গল্পের শুরুতে আমরা দেখি, ৩০ বছর বয়সি নদেরচাঁদ তার স্টেশনে চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করিয়ে তার নতুন সহকারীর হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নদীর দিকে ছুটে যায়। টানা পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টির পর আজ নদী কেমন রূপ ধারণ করেছে, তা দেখার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। নদেরচাঁদের নদীর ধারে জন্ম, সেখানেই সে মানুষ হয়েছে। তার নিজের দেশের নদীর ক্ষীণ স্রোতধারা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে যেমন কেঁদেছিল, ঠিক তেমনি চার বছর ধরে দেখা তার বর্তমান স্টেশনের কাছের এই নদীর জন্য তার মায়া অসীম।
এক মাইল দূরে ব্রিজের কাছে গিয়ে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে যায়। পাঁচদিন আগের পরিপূর্ণ শান্ত নদী আজ যেন উন্মত্ত, বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। জলের ফেনিল আবর্ত তাকে মুগ্ধ করে। সে একটি ইট-সিমেন্টের ধারকস্তম্ভে বসে নদীর সাথে খেলার ছলে একটি পুরোনো চিঠি এবং পরে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দেয়। রাত নামলে এবং বৃষ্টি আবার শুরু হলে একটি ট্রেন যাওয়ার শব্দে তার ঘোর কাটে। হঠাৎ তার মনে হয়, মানুষের তৈরি ইট, লোহা ও সিমেন্টের ব্রিজ এবং বাঁধকে ভেঙে চুরমার করে নদী নিজের স্বাভাবিক গতিতে ফিরে যাওয়ার জন্যই যেন এমন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। অন্ধকারে লাইন ধরে ফেরার পথে এই মনস্তাত্ত্বিক ভাবনার মাঝেই, যে ব্রিজ নিয়ে সে এতকাল গর্ব করত, সেই সভ্যতারই প্রতীক '৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন'-এর চাকায় পিষ্ট হয়ে নদেরচাঁদ মর্মান্তিকভাবে মারা যায়।
২. লেখক পরিচিতি
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬): জন্ম সাঁওতাল পরগনার দুমকায়। আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'মানিক' ছদ্মনামে সাহিত্যরচনা করেছেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অঙ্কে অনার্স নিয়ে পড়ার সময় তাঁর প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (১৯২৮)। একুশ বছর বয়সে তিনি প্রথম উপন্যাস 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন, যদিও তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে 'পুতুল নাচের ইতিকথা' এবং 'পদ্মানদীর মাঝি' সবচেয়ে সমাদৃত। এছাড়া তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— 'অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প', 'প্রাগৈতিহাসিক', 'সরীসৃপ', 'সমুদ্রের স্বাদ', 'আজকাল পরশুর গল্প', 'ছোটো বকুলপুরের যাত্রী' প্রভৃতি। 'লেখকের কথা' তাঁর লেখা প্রবন্ধের একটি উল্লেখযোগ্য সংকলন। 'নদীর বিদ্রোহ' তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক ছোটোগল্প।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে 'পুতুল নাচের ইতিকথা' এবং 'পদ্মানদীর মাঝি' সবচেয়ে সমাদৃত। এছাড়া তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে— 'অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প', 'প্রাগৈতিহাসিক', 'সরীসৃপ', 'সমুদ্রের স্বাদ', 'আজকাল পরশুর গল্প', 'ছোটো বকুলপুরের যাত্রী' প্রভৃতি। 'লেখকের কথা' তাঁর লেখা প্রবন্ধের একটি উল্লেখযোগ্য সংকলন। 'নদীর বিদ্রোহ' তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনস্তাত্ত্বিক ছোটোগল্প।
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ৩০+ টি প্রশ্ন
১. নদেরচাঁদ কোন ট্রেনটিকে রওনা করিয়েছিল?
(ক) চারটা ত্রিশের প্যাসেঞ্জার (খ) চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার (গ) পাঁচটার মেল (ঘ) মালগাড়ি
উত্তর: (খ) চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার
২. নদেরচাঁদ কাকে ডেকে দায়িত্ব দিয়ে গেল?
(ক) স্টেশনমাস্টারকে (খ) পাহারাদারকে (গ) নূতন সহকারীকে (ঘ) স্ত্রীকে
উত্তর: (গ) নূতন সহকারীকে
৩. নদীটি স্টেশন থেকে কত দূরে ছিল?
(ক) আধ মাইল (খ) এক মাইল (গ) দুই মাইল (ঘ) পাঁচ মাইল
উত্তর: (খ) এক মাইল
৪. কতদিন অবিরত বৃষ্টি হয়েছিল?
(ক) তিনদিন (খ) চারদিন (গ) পাঁচদিন (ঘ) সাতদিন
উত্তর: (গ) পাঁচদিন
৫. নদেরচাঁদের বয়স কত?
(ক) পঁচিশ বছর (খ) আঠাশ বছর (গ) ত্রিশ বছর (ঘ) বত্রিশ বছর
উত্তর: (গ) ত্রিশ বছর
৬. নদেরচাঁদের পেশা কী ছিল?
(ক) রেলের গার্ড (খ) স্টেশনমাস্টার (গ) টিকিট কালেক্টর (ঘ) সিগন্যালম্যান
উত্তর: (খ) স্টেশনমাস্টার
৭. দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটিকে নদেরচাঁদ কার সঙ্গে তুলনা করেছে?
(ক) আপন সন্তানের সঙ্গে (খ) অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়ার সঙ্গে (গ) ছোটো বোনের সঙ্গে (ঘ) পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে
উত্তর: (খ) অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়ার সঙ্গে
৮. অনাবৃষ্টির বছরে দেশের নদীর স্রোত শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নদেরচাঁদের কী অবস্থা হয়েছিল?
(ক) সে খুব খুশি হয়েছিল (খ) সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল (গ) সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছিল (ঘ) সে ভয় পেয়েছিল
উত্তর: (খ) সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল
৯. পাঁচদিন আগে নদীর পঙ্কিল জলস্রোতে যে চাঞ্চল্য ছিল, তা কীসের প্রকাশ ছিল বলে নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল?
(ক) রাগের প্রকাশ (খ) বিদ্রোহের প্রকাশ (গ) পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ (ঘ) দুঃখের প্রকাশ
উত্তর: (খ) পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ
১০. নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করে নদেরচাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়ে গেল?
(ক) নদী শুকিয়ে গেছিল বলে (খ) নদীর জল খুব পরিষ্কার ছিল বলে (গ) নদী খেপে গিয়ে ফেনোচ্ছ্বাসিত হয়ে ছুটে চলছিল বলে (ঘ) নদীতে অনেক নৌকা ছিল বলে
উত্তর: (গ) নদী খেপে গিয়ে ফেনোচ্ছ্বাসিত হয়ে ছুটে চলছিল বলে
১১. নদেরচাঁদ প্রতিদিন ব্রিজের কোথায় গিয়ে বসে?
(ক) ব্রিজের রেলিংয়ে (খ) মাঝামাঝি ইট-সুরকির ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে (গ) নদীর তীরে (ঘ) রেললাইনের ওপর
উত্তর: (খ) মাঝামাঝি ইট-সুরকির ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে
১২. নদীর জল এত উঁচুতে উঠেছিল যে নদেরচাঁদের কী মনে হচ্ছিল?
(ক) ব্রিজ ডুবে যাবে (খ) ইচ্ছা করলে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করা যায় (গ) সে জলে পড়ে যাবে (ঘ) ট্রেন চলাচল বন্ধ হবে
উত্তর: (খ) ইচ্ছা করলে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করা যায়
১৩. নদেরচাঁদ পকেট থেকে প্রথমে কী বের করে স্রোতের মধ্যে ছুড়ে দিল?
(ক) একটি পাথর (খ) একটি ফুল (গ) পুরাতন একটি চিঠি (ঘ) একটি কয়েন
উত্তর: (গ) পুরাতন একটি চিঠি
১৪. নদেরচাঁদ বউকে ক-পৃষ্ঠার বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল?
(ক) তিন পৃষ্ঠা (খ) চার পৃষ্ঠা (গ) পাঁচ পৃষ্ঠা (ঘ) দশ পৃষ্ঠা
উত্তর: (গ) পাঁচ পৃষ্ঠা
১৫. চিঠিটা সে কী করল?
(ক) পকেটে রেখে দিল (খ) ডাকে ফেলে দিল (গ) এক একখানি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে জলে ফেলে দিল (ঘ) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল
উত্তর: (গ) এক একখানি পাতা ছিঁড়ে দুমড়ে-মুচড়ে জলে ফেলে দিল
১৬. কীসের শব্দে নদেরচাঁদের ঘুম ভাঙার মতো একটা চেতনা হল?
(ক) মেঘের গর্জনে (খ) ব্রিজের ওপর দিয়ে একটা ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দে (গ) বৃষ্টির শব্দে (ঘ) সহকারীর ডাকে
উত্তর: (খ) ব্রিজের ওপর দিয়ে একটা ট্রেন চলে যাওয়ার শব্দে
১৭. নদেরচাঁদের মতে নদীর বিদ্রোহের কারণ কী?
(ক) বৃষ্টি না হওয়া (খ) মানুষের তৈরি ব্রিজ আর বাঁধ ভেঙে স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা (গ) বন্যা সৃষ্টি করা (ঘ) মাছের অভাব
উত্তর: (খ) মানুষের তৈরি ব্রিজ আর বাঁধ ভেঙে স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা
১৮. এতকাল নদেরচাঁদ কীসের জন্য গর্ব অনুভব করেছে?
(ক) তার চাকরির জন্য (খ) স্টেশনের নতুন রং করা ব্রিজের জন্য (গ) তার নিজের গ্রামের জন্য (ঘ) তার চিঠির জন্য
উত্তর: (খ) স্টেশনের নতুন রং করা ব্রিজের জন্য
১৯. নদেরচাঁদকে কোন ট্রেনটি পিষে দিয়ে চলে গেল?
(ক) ৭নং আপ প্যাসেঞ্জার (খ) ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার (গ) ৫নং ডাউন মেল (ঘ) মালগাড়ি
উত্তর: (খ) ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
২০. নদেরচাঁদ এই স্টেশনে কত বছর ধরে কাজ করছে?
(ক) দু-বছর (খ) তিন বছর (গ) চার বছর (ঘ) পাঁচ বছর
উত্তর: (গ) চার বছর
২১. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?
(ক) প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (খ) সুবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (ক) প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
২২. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) কলকাতায় (খ) সাঁওতাল পরগনার দুমকায় (গ) বাংলাদেশের ঢাকায় (ঘ) মেদিনীপুরে
উত্তর: (খ) সাঁওতাল পরগনার দুমকায়
২৩. তাঁর রচিত প্রথম গল্পটির নাম কী?
(ক) প্রাগৈতিহাসিক (খ) সরীসৃপ (গ) অতসী মামী (ঘ) হলুদ পোড়া
উত্তর: (গ) অতসী মামী
২৪. 'অতসী মামী' গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
(ক) ভারতী (খ) সবুজপত্র (গ) বিচিত্রা (ঘ) দেশ
উত্তর: (গ) বিচিত্রা
২৫. তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম কী?
(ক) দিবারাত্রির কাব্য (খ) জননী (গ) পদ্মানদীর মাঝি (ঘ) পুতুল নাচের ইতিকথা
উত্তর: (খ) জননী
২৬. নদীর জল ফুলিয়া ফাঁপিয়া কেমন হয়েছিল?
(ক) কালো (খ) স্বচ্ছ (গ) ফেনোচ্ছ্বাসিত (ঘ) শান্ত
উত্তর: (গ) ফেনোচ্ছ্বাসিত
২৭. নদেরচাঁদের ভারী কী বোধ হতে লাগল?
(ক) ভয় (খ) আমোদ (গ) দুঃখ (ঘ) ক্লান্তি
উত্তর: (খ) আমোদ
২৮. অন্ধকারে অতি সাবধানে লাইন ধরে হেঁটে নদেরচাঁদ কোথায় ফিরছিল?
(ক) নিজের গ্রামে (খ) স্টেশনের দিকে (গ) সহকারীর বাড়িতে (ঘ) নদীর ধারে
উত্তর: (খ) স্টেশনের দিকে
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫+ টি প্রশ্ন
১. নদেরচাঁদ নতুন সহকারীকে কী বলে বেরিয়েছিল?
উত্তর: চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করিয়ে নদেরচাঁদ তার নতুন সহকারীকে ডেকে বলেছিল, "আমি চললাম হে!" এবং জানিয়েছিল যে আর বৃষ্টি হবে না।
২. নদীটি স্টেশন থেকে কত দূরে অবস্থিত ছিল?
উত্তর: নদীটি স্টেশন থেকে রেললাইন ধরে এক মাইল দূরে অবস্থিত ছিল।
৩. নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এত মায়ার কারণ কী?
উত্তর: নদেরচাঁদের জন্ম নদীর ধারে, সে নদীর ধারেই মানুষ হয়েছে এবং চিরদিন নদীকে সে গভীরভাবে ভালোবেসেছে, তাই নদীর প্রতি তার এত মায়া।
৪. দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীর শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নদেরচাঁদের কেমন লেগেছিল?
উত্তর: দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটিকে নদেরচাঁদ অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়ার মতো ভালোবাসত, তাই সেটি শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।
৫. পাঁচদিন আগে নদীর রূপ কেমন ছিল?
উত্তর: পাঁচদিন আগে নদীর পঙ্কিল জলস্রোতে যে চাঞ্চল্য দেখা গিয়েছিল, তা নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল যেন নদীর পরিপূর্ণতার আনন্দের প্রকাশ।
৬. পাঁচদিন পর নদীর রূপ দেখে নদেরচাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়ে গেল?
উত্তর: পাঁচদিন পর নদেরচাঁদ দেখল নদী যেন খেপে গিয়েছে, তার গাঢ়তর পঙ্কিল জল ফুলে-ফেঁপে ফেনোচ্ছ্বাসিত হয়ে উন্মত্তভাবে ছুটে চলেছে। এই অপরিচিত ও ভয়ংকর রূপ দেখেই সে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
৭. নদেরচাঁদ কোথায় বসে নদী দেখত?
উত্তর: নদেরচাঁদ প্রতিদিন ব্রিজের মাঝামাঝি ইট, সুরকি আর সিমেন্টে গাঁথা ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসে নদী দেখত।
৮. জলের উচ্চতা দেখে নদেরচাঁদের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: নদীর জল এত উঁচুতে উঠে এসেছিল যে, নদেরচাঁদের মনে হয়েছিল ইচ্ছা করলেই বুঝি হাত বাড়িয়ে জল স্পর্শ করা যায়।
৯. নদেরচাঁদ পকেট থেকে কী বের করে জলে ফেলেছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদ পকেট খুঁজে প্রথমে একটি পুরাতন চিঠি স্রোতের মধ্যে ছুড়ে দিয়েছিল, পরে বউকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ চিঠি ছিঁড়ে জলে ভাসিয়েছিল।
১০. বউকে লেখা চিঠিটা নিয়ে সে কী করল?
উত্তর: বউকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠিটার প্রতি একটু মমতা বোধ করলেও, নদীর সাথে খেলার লোভে সে চিঠির পাতাগুলো এক এক করে ছিঁড়ে, দুমড়ে-মুচড়ে জলে ফেলে দিয়েছিল।
১১. বৃষ্টি শুরু হলে নদেরচাঁদের কী অনুভূতি হচ্ছিল?
উত্তর: নদীর অশ্রুতপূর্ব শব্দ এবং বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ মিলে এমন এক সংগীত সৃষ্টি করেছিল যে, নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল সেই ভীষণ মধুর শব্দ শুনতে শুনতে তার সর্বাঙ্গ অবশ ও অবসন্ন হয়ে আসছে।
১২. নদেরচাঁদ হঠাৎ ভয় পেয়ে উঠল কেন?
উত্তর: যখন একটি ট্রেন ব্রিজের ওপর দিয়ে গেল, তখন ঘোর কাটতেই নদেরচাঁদ বুঝতে পারল যে রোষে-ক্ষোভে উন্মত্ত নদীর এত কাছে নিশ্চিন্তে বসে থাকা ঠিক হয়নি, কারণ এই খেপা নদীকে বিশ্বাস নেই।
১৩. নদীর বিদ্রোহের কারণ হিসেবে নদেরচাঁদ কী বুঝতে পেরেছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছিল যে, মানুষের তৈরি ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে চুরমার করে নদী নিজের স্বাভাবিক গতিতে বয়ে চলার পথ করে নিতে চায়, এটাই তার বিদ্রোহের কারণ।
১৪. নদেরচাঁদ এতদিন কোন জিনিসের জন্য গর্ব অনুভব করত?
উত্তর: নদেরচাঁদ এতদিন স্টেশনের কাছে নদীর ওপর তৈরি হওয়া নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য খুব গর্ব অনুভব করত।
১৫. নদেরচাঁদের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল?
উত্তর: অন্ধকারে লাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফেরার সময় পেছন থেকে আসা ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়, ফলে তার মৃত্যু হয়।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ৫ টি প্রশ্ন
১. "ত্রিশ বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক।" - নদেরচাঁদ কে? তার নদীর প্রতি মায়াকে 'অস্বাভাবিক' বলার কারণ কী এবং এই মায়ার পেছনের কৈফিয়ত কী ছিল?
উত্তর: নদেরচাঁদ কে: প্রখ্যাত কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো নদেরচাঁদ। সে ত্রিশ বছর বয়সি একজন যুবক এবং গত চার বছর ধরে একটি স্টেশনের স্টেশনমাস্টার হিসেবে কর্মরত।
অস্বাভাবিক বলার কারণ: নদেরচাঁদ কোনো সাধারণ বেকার যুবক বা কবি নয়, সে একজন দায়িত্বশীল স্টেশনমাস্টার। দিবারাত্রি প্যাসেঞ্জার, মেল ও মালগাড়িগুলোর প্রবল গতি নিয়ন্ত্রণ করাই তার কাজ। এমন একজন ত্রিশ বছর বয়সি বাস্তববাদী মানুষের নদীর জন্য পাগল হওয়া বা নদীর জল দেখতে পাওয়ার জন্য ছেলেমানুষের মতো ব্যাকুল হওয়া সমাজের চোখে বেমানান। তাই লেখক তার এই নদী-প্রীতিকে 'একটু অস্বাভাবিক' বলেছেন।
কৈফিয়ত: এই অস্বাভাবিক মায়ার পেছনে নদেরচাঁদের নিজের একটা কৈফিয়ত বা যুক্তি ছিল। তার জন্ম হয়েছিল নদীর ধারে, সে নদীর ধারেই বড়ো হয়েছে এবং চিরদিন নদীকে সে আপনজনের মতো ভালোবেসেছে। তার নিজের গ্রামের নদীটি ক্ষীণস্রোতা হলেও তাকে সে একজন 'অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়া'-র মতো মমতা করত। অনাবৃষ্টিতে সেই নদী শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে কেঁদে ফেলেছিল। শৈশব ও কৈশোরের এই নদীর প্রতি আদিম ও অকৃত্রিম টানই তার এই পাগলামির মূল কারণ।
অস্বাভাবিক বলার কারণ: নদেরচাঁদ কোনো সাধারণ বেকার যুবক বা কবি নয়, সে একজন দায়িত্বশীল স্টেশনমাস্টার। দিবারাত্রি প্যাসেঞ্জার, মেল ও মালগাড়িগুলোর প্রবল গতি নিয়ন্ত্রণ করাই তার কাজ। এমন একজন ত্রিশ বছর বয়সি বাস্তববাদী মানুষের নদীর জন্য পাগল হওয়া বা নদীর জল দেখতে পাওয়ার জন্য ছেলেমানুষের মতো ব্যাকুল হওয়া সমাজের চোখে বেমানান। তাই লেখক তার এই নদী-প্রীতিকে 'একটু অস্বাভাবিক' বলেছেন।
কৈফিয়ত: এই অস্বাভাবিক মায়ার পেছনে নদেরচাঁদের নিজের একটা কৈফিয়ত বা যুক্তি ছিল। তার জন্ম হয়েছিল নদীর ধারে, সে নদীর ধারেই বড়ো হয়েছে এবং চিরদিন নদীকে সে আপনজনের মতো ভালোবেসেছে। তার নিজের গ্রামের নদীটি ক্ষীণস্রোতা হলেও তাকে সে একজন 'অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়া'-র মতো মমতা করত। অনাবৃষ্টিতে সেই নদী শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সে কেঁদে ফেলেছিল। শৈশব ও কৈশোরের এই নদীর প্রতি আদিম ও অকৃত্রিম টানই তার এই পাগলামির মূল কারণ।
২. "নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।" - কে বুঝতে পেরেছে? নদীর বিদ্রোহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং এর কারণ কী?
উত্তর: কে বুঝতে পেরেছে: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদ এই কথাটি বুঝতে পেরেছে।
নদীর বিদ্রোহ ও তার কারণ: 'বিদ্রোহ' বলতে সাধারণ নিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোকে বোঝায়। এখানে নদী মানুষের তৈরি সভ্যতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। পাঁচদিন ধরে একটানা বৃষ্টির পর নদীর জলে প্রবল স্ফীতি দেখা দেয়। নদী হয়ে ওঠে উন্মত্ত, ফুঁসতে থাকা ফেনিল আবর্তে সে যেন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। নদেরচাঁদ যখন অন্ধকারে একা রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফিরছিল, তখন সে উপলব্ধি করে যে নদীর এই ফুলে-ফেঁপে ওঠার পেছনে একটা তীব্র আক্রোশ লুকিয়ে আছে।
মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে নদীর বুকে পাথর, ইট, লোহা ও সিমেন্ট দিয়ে বড়ো বড়ো ব্রিজ তৈরি করেছে, দুই ধারে বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিকে বন্দি করেছে। নদী যেন আর বন্দি থাকতে চায় না। সে চায় মানুষের তৈরি এই অহংকারের প্রতীক ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে চুরমার করে নিজের আদিম ও স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যেতে। প্রকৃতির এই স্বাধীন হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের আধিপত্যকে অস্বীকার করার প্রবল চেষ্টাকেই নদেরচাঁদ 'নদীর বিদ্রোহ' বলে উপলব্ধি করেছে।
নদীর বিদ্রোহ ও তার কারণ: 'বিদ্রোহ' বলতে সাধারণ নিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোকে বোঝায়। এখানে নদী মানুষের তৈরি সভ্যতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। পাঁচদিন ধরে একটানা বৃষ্টির পর নদীর জলে প্রবল স্ফীতি দেখা দেয়। নদী হয়ে ওঠে উন্মত্ত, ফুঁসতে থাকা ফেনিল আবর্তে সে যেন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। নদেরচাঁদ যখন অন্ধকারে একা রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফিরছিল, তখন সে উপলব্ধি করে যে নদীর এই ফুলে-ফেঁপে ওঠার পেছনে একটা তীব্র আক্রোশ লুকিয়ে আছে।
মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে নদীর বুকে পাথর, ইট, লোহা ও সিমেন্ট দিয়ে বড়ো বড়ো ব্রিজ তৈরি করেছে, দুই ধারে বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিকে বন্দি করেছে। নদী যেন আর বন্দি থাকতে চায় না। সে চায় মানুষের তৈরি এই অহংকারের প্রতীক ব্রিজ ও বাঁধ ভেঙে চুরমার করে নিজের আদিম ও স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যেতে। প্রকৃতির এই স্বাধীন হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং মানুষের আধিপত্যকে অস্বীকার করার প্রবল চেষ্টাকেই নদেরচাঁদ 'নদীর বিদ্রোহ' বলে উপলব্ধি করেছে।
৩. পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টির পর নদীর রূপের যে বর্ণনা নদেরচাঁদ দেখেছিল, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টির পর নদীর এক ভয়ংকর ও উন্মত্ত রূপ ফুটে উঠেছে।
নদেরচাঁদ পাঁচদিন আগে নদীর যে রূপ দেখেছিল, তাতে নদীর পঙ্কিল জলস্রোতে একটা চাঞ্চল্য ছিল, যা তার কাছে নদীর পরিপূর্ণতার আনন্দ বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু টানা পাঁচদিনের বর্ষণের পর নদী সম্পূর্ণ পালটে যায়। এক মাইল হেঁটে ব্রিজের কাছে পৌঁছে নদেরচাঁদ দেখে, সেই শান্ত নদী আজ যেন পাগল হয়ে গিয়েছে। নদীর জল গাঢ়তর পঙ্কিল হয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে এবং ফেনোচ্ছ্বাসিত হয়ে উদ্দাম বেগে ছুটে চলেছে। ব্রিজের ইট-সুরকি আর সিমেন্টের ধারকস্তম্ভগুলোতে বাধা পেয়ে নদীর স্রোত যেন ফুঁসছে এবং ফেনিল আবর্ত বা ঘূর্ণি সৃষ্টি করছে। জলের উচ্চতা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসা নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল হাত বাড়ালেই যেন নদীকে স্পর্শ করা যাবে। নদীর বুক থেকে একটা অশ্রুতপূর্ব গম্ভীর গর্জন উঠছিল, যা বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের সাথে মিশে এক ভয়ংকর অথচ মধুর সংগীতের সৃষ্টি করেছিল। সব মিলিয়ে নদী হয়ে উঠেছিল এক ধ্বংসাত্মক, বিদ্রোহী ও বন্য শক্তির প্রতীক।
নদেরচাঁদ পাঁচদিন আগে নদীর যে রূপ দেখেছিল, তাতে নদীর পঙ্কিল জলস্রোতে একটা চাঞ্চল্য ছিল, যা তার কাছে নদীর পরিপূর্ণতার আনন্দ বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু টানা পাঁচদিনের বর্ষণের পর নদী সম্পূর্ণ পালটে যায়। এক মাইল হেঁটে ব্রিজের কাছে পৌঁছে নদেরচাঁদ দেখে, সেই শান্ত নদী আজ যেন পাগল হয়ে গিয়েছে। নদীর জল গাঢ়তর পঙ্কিল হয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে এবং ফেনোচ্ছ্বাসিত হয়ে উদ্দাম বেগে ছুটে চলেছে। ব্রিজের ইট-সুরকি আর সিমেন্টের ধারকস্তম্ভগুলোতে বাধা পেয়ে নদীর স্রোত যেন ফুঁসছে এবং ফেনিল আবর্ত বা ঘূর্ণি সৃষ্টি করছে। জলের উচ্চতা এত বেড়ে গিয়েছিল যে, ধারকস্তম্ভের শেষপ্রান্তে বসা নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল হাত বাড়ালেই যেন নদীকে স্পর্শ করা যাবে। নদীর বুক থেকে একটা অশ্রুতপূর্ব গম্ভীর গর্জন উঠছিল, যা বৃষ্টির ঝমঝম শব্দের সাথে মিশে এক ভয়ংকর অথচ মধুর সংগীতের সৃষ্টি করেছিল। সব মিলিয়ে নদী হয়ে উঠেছিল এক ধ্বংসাত্মক, বিদ্রোহী ও বন্য শক্তির প্রতীক।
৪. নদেরচাঁদ ব্রিজের ওপর বসে চিঠি নিয়ে কী খেলা করেছিল এবং তার মনের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদীর প্রতি নদেরচাঁদের ভালোবাসা এক আদিম ও শিশুসুলভ রূপ পেয়েছে।
পাঁচদিনের বর্ষণে উন্মত্ত নদীর ধারকস্তম্ভের ওপর বসে নদেরচাঁদের মনে এক অদ্ভুত আমোদ বা আনন্দ জেগে ওঠে। সে প্রথমে নিজের পকেট থেকে একটি পুরোনো চিঠি বের করে নদীর স্রোতের মধ্যে ছুড়ে দেয়। নদীর তীব্র স্রোত চোখের পলকে সেই চিঠিটিকে কোথায় যেন অদৃশ্য করে দেয়। নদেরচাঁদের মনে হয়, এই খেপা নদী যেন জীবন্ত হয়ে তার সাথে খেলায় মেতে উঠেছে এবং চিঠিটা লুকিয়ে ফেলেছে।
এরপর সে তার পকেট থেকে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি লম্বা, বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি বের করে। টানা দুদিন ধরে বৃষ্টিতে বসে সে এই আবেগপূর্ণ চিঠিটি লিখেছিল। চিঠিটার প্রতি তার মনে একটু মমতা বোধ হলেও, জীবন্ত নদীর সাথে এই খেলা চালিয়ে যাওয়ার লোভ সে সামলাতে পারে না। সে ওই পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠির এক একখানি পাতা ছিঁড়ে, দুমড়ে-মুচড়ে জলের ঘূর্ণির মধ্যে ফেলে দিতে থাকে। নদীর এই বন্য শক্তির সামনে তার মানুষের তৈরি আবেগ বা সাংসারিক বন্ধন যেন তুচ্ছ হয়ে যায়, এবং সে সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির এই বিশালতার কাছে আত্মসমর্পণ করে।
পাঁচদিনের বর্ষণে উন্মত্ত নদীর ধারকস্তম্ভের ওপর বসে নদেরচাঁদের মনে এক অদ্ভুত আমোদ বা আনন্দ জেগে ওঠে। সে প্রথমে নিজের পকেট থেকে একটি পুরোনো চিঠি বের করে নদীর স্রোতের মধ্যে ছুড়ে দেয়। নদীর তীব্র স্রোত চোখের পলকে সেই চিঠিটিকে কোথায় যেন অদৃশ্য করে দেয়। নদেরচাঁদের মনে হয়, এই খেপা নদী যেন জীবন্ত হয়ে তার সাথে খেলায় মেতে উঠেছে এবং চিঠিটা লুকিয়ে ফেলেছে।
এরপর সে তার পকেট থেকে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার একটি লম্বা, বিরহ-বেদনাপূর্ণ চিঠি বের করে। টানা দুদিন ধরে বৃষ্টিতে বসে সে এই আবেগপূর্ণ চিঠিটি লিখেছিল। চিঠিটার প্রতি তার মনে একটু মমতা বোধ হলেও, জীবন্ত নদীর সাথে এই খেলা চালিয়ে যাওয়ার লোভ সে সামলাতে পারে না। সে ওই পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠির এক একখানি পাতা ছিঁড়ে, দুমড়ে-মুচড়ে জলের ঘূর্ণির মধ্যে ফেলে দিতে থাকে। নদীর এই বন্য শক্তির সামনে তার মানুষের তৈরি আবেগ বা সাংসারিক বন্ধন যেন তুচ্ছ হয়ে যায়, এবং সে সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির এই বিশালতার কাছে আত্মসমর্পণ করে।
৫. 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো এবং নদেরচাঁদের মৃত্যুর ট্র্যাজেডিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: নামকরণের সার্থকতা: 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পটিতে প্রকৃতি এবং মানুষের সভ্যতার এক চিরন্তন দ্বন্দ্বকে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ অহংকারবশত নদীর বুকে ইট-লোহার ব্রিজ ও বাঁধ তৈরি করে তাকে শাসন করতে চায়। কিন্তু নদী তার স্বাভাবিক স্বাধীনতা চায়। টানা বৃষ্টির সুযোগ পেয়ে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠে মানুষের তৈরি সেই বন্ধনকে ভেঙে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করে। নদীর এই রুখে দাঁড়ানো এবং স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যাওয়ার দুর্দম আকাঙ্ক্ষাই হলো 'নদীর বিদ্রোহ'। গল্পের পুরো কাহিনি এই বিদ্রোহকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত, তাই নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও ব্যঞ্জনাবাহী।
নদেরচাঁদের মৃত্যুর ট্র্যাজেডি: গল্পের শেষে নদেরচাঁদের মৃত্যু এক ভয়ংকর ট্র্যাজেডি বা মর্মান্তিক পরিহাসের সৃষ্টি করে। নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসত, নদীর বিদ্রোহের কারণ সে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পেরেছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে মানুষের তৈরি এই ব্রিজ নদীর জন্য কতটা কষ্টদায়ক। অথচ, যে নদেরচাঁদ এতদিন স্টেশনের নতুন রং করা ব্রিজটি নিয়ে গর্ব করত, নদীর রুদ্ররূপ দেখার পর তার মনে প্রশ্ন জাগে, "কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?" ঠিক সেই মুহূর্তেই, মানুষের তৈরি যান্ত্রিক সভ্যতার প্রতীক '৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন' তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। অর্থাৎ, প্রকৃতি নয়, মানুষের তৈরি যন্ত্রদানবই মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এখানেই গল্পের শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে।
নদেরচাঁদের মৃত্যুর ট্র্যাজেডি: গল্পের শেষে নদেরচাঁদের মৃত্যু এক ভয়ংকর ট্র্যাজেডি বা মর্মান্তিক পরিহাসের সৃষ্টি করে। নদেরচাঁদ নদীকে ভালোবাসত, নদীর বিদ্রোহের কারণ সে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পেরেছিল। সে বুঝতে পেরেছিল যে মানুষের তৈরি এই ব্রিজ নদীর জন্য কতটা কষ্টদায়ক। অথচ, যে নদেরচাঁদ এতদিন স্টেশনের নতুন রং করা ব্রিজটি নিয়ে গর্ব করত, নদীর রুদ্ররূপ দেখার পর তার মনে প্রশ্ন জাগে, "কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?" ঠিক সেই মুহূর্তেই, মানুষের তৈরি যান্ত্রিক সভ্যতার প্রতীক '৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন' তাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। অর্থাৎ, প্রকৃতি নয়, মানুষের তৈরি যন্ত্রদানবই মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এখানেই গল্পের শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar) ১০+ টি প্রশ্ন
কারক ও অকারক সম্পর্ক
- চারটা পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেনটিকে রওনা করাইয়া... - সম্বন্ধ পদে 'র' বিভক্তি।
- পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই। - কর্ম কারকে 'কে' বিভক্তি।
- নদেরচাঁদ পকেট খুঁজিয়া পুরাতন একটি চিঠি বাহির করিল। - অপাদান কারকে 'শূন্য' বিভক্তি (বা স্থানাধিকরণ)।
- অন্ধকারে অতি সাবধানে লাইন ধরিয়া... - অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
- সে প্রতিদিন নদীকে দেখে। - কর্ম কারকে 'কে' বিভক্তি।
সমাস নির্ণয়
- মেঘাচ্ছন্ন: মেঘ দ্বারা আচ্ছন্ন (করণ তৎপুরুষ সমাস)
- দিবারাত্রি: দিবা ও রাত্রি (দ্বন্দ্ব সমাস)
- ক্ষীণস্রোতা: ক্ষীণ স্রোত যার (বহুব্রীহি সমাস)
- জলময়: জলে ময় (তৎপুরুষ সমাস / উপপদ তৎপুরুষ)
- স্টেশনমাস্টার: স্টেশনের মাস্টার (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
বাক্য পরিবর্তন
- বাক্য: নদেরচাঁদ লাইন ধরিয়া এক মাইল দূরে নদীর উপরকার ব্রিজের দিকে হাঁটিতে লাগিল। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: নদেরচাঁদ লাইন ধরিয়া এক মাইল দূরে নদীর উপরে যে ব্রিজ আছে, তার দিকে হাঁটিতে লাগিল। - বাক্য: পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টি হইয়া আজ এই বিকালের দিকে বর্ষণ থামিয়াছে। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: পাঁচদিন অবিরত বৃষ্টি হইয়াছে এবং আজ এই বিকালের দিকে বর্ষণ থামিয়াছে। - বাক্য: অস্বাভাবিক হোক, নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: অস্বাভাবিক হলেও, নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত দিতে নদেরচাঁদ অক্ষম নয়। - বাচ্য: পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই। (কর্তৃবাচ্যে)
উত্তর: পাঁচদিন নদীকে দেখি নাই।
নদীর বিদ্রোহ গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
নদীর বিদ্রোহ গল্পটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত বাঙালি কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নদেরচাঁদের বয়স ত্রিশ বছর এবং সে পেশায় একজন স্টেশনের স্টেশনমাস্টার। সে চার বছর ধরে এই স্টেশনে কাজ করছে।
নদীর বিদ্রোহ বলতে মানুষের তৈরি ইট, লোহা ও সিমেন্টের ব্রিজ এবং বাঁধ ভেঙে চুরমার করে নদীর নিজের আদিম ও স্বাভাবিক গতিতে বয়ে চলার দুর্দম আকাঙ্ক্ষাকে বোঝানো হয়েছে।
অন্ধকারে রেললাইন ধরে স্টেশনে ফেরার পথে, পেছন থেকে আসা ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়, ফলে তার মৃত্যু হয়।